Friday, April 26, 2019

আধুনিক অর্থনীতি নাকি শুভংকরের ফাঁকি

পৃথিবীর মোট সম্পদের মূল্যমান।।
পাঁচশো বছর আগে গোটা পৃথিবীর মোট সম্পদের মূল্যমান ছিল ২৫০ বিলিয়ন ডলারের মত। আজ সেটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ ট্রিলিয়ন ডলার।
কেবল মানুষ বাড়সে বলেই কি সম্পদের এই বিস্ফোরণ? উহুঁ।
সেসময় মাথা পিছু মানুষের উৎপাদন ছিল বছর প্রতি ৫৫০ ডলার। এখন যেটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ৮,৮০০ ডলার।
এই যে ভয়ানক গ্রোথ, এর পেছনে কারণটা কী?
কারণটা আর কিছুই না, আধুনিক অর্থনীতি। আধুনিক অর্থনীতি খুব জটিল একটা ব্যাপার। জটিল ব্যাপারকে সহজ করার জন্য একটা গল্প শোনাই বরং।
অনেকগুলা ক্যারেক্টার আছে এই গল্পে। দেইখেন, ট্র্যাক হারায়ে ফেইলেন না আবার:P
সৈয়দ সাহেব খুবই উঁচু বংশের লোক। ঢাকা শহরে উনার একটা ব্যাঙ্ক আছে।
চৌধুরী সাহেব ঢাকা শহরেরই একজন উঠতি কন্ট্র্যাক্টর। একটা প্রজেক্টে উনি বিরাট লাভ করলেন। সেই লাভের ১ কোটি টাকা উনি সৈয়দ সাহেবের ব্যাঙ্কে রাখলেন। তার মানে সেই ব্যাঙ্কে এখন ১ কোটি টাকার ক্যাপিটাল আছে।
টমি মিয়া তখন ঢাকায় এলেন। এসে খেয়াল করলেন, তিনি শহরের যে অংশে থাকেন, ঐ অংশে কোন ভালো ভাতের হোটেল নাই। সব স্যান্ডউইচ, বার্গার আর ফ্রাইড রাইসে ভর্তি।। নিখাদ ভাত-মাছের দোকান নাই কোন।
টমি মিয়া ঠিক করলেন, এইখানে একটা ভাতের হোটেল দিবেন। কিন্তু হোটেল যে দিবেন, তার জন্য তো টাকা লাগবে। সেই টাকা সে পাবে কই? সে গেলো ব্যাঙ্কের কাছে। ব্যাংকে ভুজুং ভাজুং দিয়ে বুঝাতে সক্ষম হল, যে এইখানে ভাতের হোটেল দিলে বেশ চলবে।
ব্যাঙ্ক তাকে ১ কোটি টাকা লোন দিল। সেই লোন দিয়ে সে কনট্রাক্টর ভাড়া করলো। কাকে করলো? সেই চৌধুরী সাহবেকে যে কিনা ব্যাঙ্কে টাকা রাখসিলো।
চৌধুরী সাহেব সেই টাকা ব্যাঙ্কে ডিপোজিট করলো। এইখান ঠেকে সে দরকারমত চেক ভাঙিয়ে ইট-বালু, রড-সিমেন্ট যা দরকার কিনবে।
মজার ব্যাপার হল, চৌধুরী সাহেবের টাকাই আবার তার এ্যাকাউন্টে ফেরত আসছে। ব্যাঙ্কের হিসাব খাতা দেখাচ্ছে, চৌধুরী সাহেবের এ্যাকাউন্টে এখন ২ কোটি টাকা আছে। সত্যিকার ক্যাশ কিন্তু ঐ ১ কোটিই রয়ে গেছে। টাকা কিন্তু বাচ্চা দেয় নাই।
ঘটনা এইখানেই শেষ না। ২ মাস শেষে কিছুদূর কাজ আগানোর পর কনট্রাক্টর সাহেবের মনে হইলো, যে কাজটা শেষ করতে আরো টাকা লাগবে। সে আরো ১ কোটি টাকার বিল ধরায়ে দিল।
টমি মিয়া বিল দেখে বেজার হইলো। কিন্তু কাজ অনেকখানি আগায়ে গেছে। এখন আর ফেরৎ আসাও ঠিক হবে না। সে আবার ব্যাঙ্কে দৌড় দিলো। ম্যানেজারকে বুঝায়ে সুঝায়ে আরো ১ কোটি টাকা লোনের বন্দোবস্ত করলো। এই ১ কোটি কিন্তু সেই ১ কোটি যেটা কন্ট্র্যাক্টর রড-সিমেন্ট কিনবে বলে ব্যাঙ্কে ডিপোজিট করে রেখেছিল।
যাই হোক, এই লোনের টাকা সে আবার কন্ট্রাক্টরের এ্যাকাউন্টে পাঠালো।
তো, কন্ট্রাক্টরের এ্যাকাউন্টে এখন কতো টাকা হল?
৩ কোটি টাকা। শুরুতে নিজের জমা করা ১ কোটি আর টমি মিয়ার দেয়া ২ কোটি।
আর ব্যাঙ্কে সত্যিকার অর্থে ক্যাশ টাকা আছে কত? সেই ১ কোটিই। যেই ১ কোটি চৌধুরী সাহেব বহু আগে জমা করসিলো।
এই কাজটাই বর্তমান আমেরিকান ব্যাঙ্কিং সিস্টেমে ১০ বার করা যাবে। (বাংলাদেশের সিস্টেমে ক’বার করা যাবে—আমি জানি না। কেউ জানলে জানাবেন, প্লিজ) মানে কন্ট্রাক্টরের এ্যাকাউন্টে ১০ কোটি টাকা দেখানোর জন্য ব্যাঙ্কের ভল্টে ১০ কোটি টাকা থাকা লাগবে না। ১ কোটি টাকা থাকলেই চলবে।
সোজা কথা, আমাদের সবার এ্যাকাউন্টে যে পরিমাণ টাকা আছে, ঐ পরিমাণ ক্যাশ ব্যাঙ্কে নাই। এখন দেশে যদি একটা গুজব উঠে যে সামনে যুদ্ধ, ব্যাঙ্ক সব কল্যাপ্স করবে, ব্যাঙ্কে যার যত টাকা আছে সব উঠায়ে নেও আর দেশের সব মানুষ সেটা বিশ্বাস করে ব্যাঙ্কে টাকা উঠাতে যায়, ব্যাঙ্ক কিন্তু সবার টাকা ফেরত দিতে পারবে না। দিবে কোথ থেকে? থাকলে না দিবে!
এই ব্যাপারটাই ঘটসিলো It’s a wonderful life এর নায়কের সাথে। তার ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে শুনে সবাই টাকা উঠাইতে চলে আসলো। এখন তার কাছে তো টাকা নাই। সে কাস্টোমারদয়ের বুঝাইতেই পারে না, যে সে কোন টাকার ম্যাশিন না । সে একটা সিস্টেম মাত্র। সে X এর টাকা Y কে, Y এর টাকা Z কে আর Z এর টাকা X কে ধার দিয়ে এই সিস্টেমটা চালু রাখসে মাত্র।
এখন এইটাকে আপনি ভণ্ডামি বলতে পারেন। তাহলে গোটা আধুনিক অর্থনীতিই একটা বিরাট ভণ্ডামি।
এক ভণ্ডামি না বলে বরং বলা যায়, ভবিষ্যতের উপর আমাদের অগাধ বিশ্বাস। সৈয়দ সাহেব বিশ্বাস করে যে, টমি মিয়ার হোটেল একবার চালু হয়ে গেলে সেখান থেকে লাখ লাখ টাকা মুনাফা আসবে। সেই প্রফিট থেকে সে আস্তে আস্তে তার ঋণ সুদাসলে শোধ করবে। এক বোল ভাতও সিদ্ধ হয় নাই—তার আগেই সে তাই এই ঝুঁকি নিতে রাজি হইসে।
এই ব্যাপারটাকে আজ আমরা বলি Credit. ল্যাটিন Credo শব্দ থেকে এটা আসছে। এর মানে I trust you. বিশ্বাসটা যতোটা না একজন মানুষের উপর আরেকজনের, তার চেয়ে অনেক বেশি একটা সুখী, সম্‌দ্ধ ভবিষ্যতের। ব্যাঙ্কার আর হোটেলওয়ালা—দুই জনই একই স্বপ্নে বিশ্বাস করে বলেই এই গোটা সিস্টেমটা কাজ করতেসে। ঐ বিশ্বাসটুকু না থাকলে সিস্টেমটা মুহূর্তে ধ্বসে পড়বে।
ব্যাঙ্ক যদি টমি মিয়াকে লোন না দিত, তখন সে কী করতো? সে এমন কোন কনট্রাক্টর খুঁজে বের করতো, যে কিনা নিজের টাকায় তার হোটেলটা করে দিবে। পরে হোটেল লাভ করা শুরু করলে তার পেমেন্টটা নিবে। সমস্যা হল, এমন কনট্রাক্টর পাওয়া ভূভারতে সম্ভব না। কাজেই, তার হোটেলও বানানো হবে না। হোটেল না হলে মানুষ খেতে আসবে না। তার ট্যাঁকে পয়সা আসবে না। পয়সা ছাড়া সে কন্ট্রাক্টর পাবে না। আর কনট্রাক্টর ছাড়া তার স্বপ্নের হোটেলও হবে না।
যুগের পর যুগ ধরে মানুষ ‘না হবার’ এই দুষ্টচক্রে বন্দী হয়ে ছিল। ইতালির কিছু মানুষ সামান্য Bench এ বসে ধার দেবার যে কালচার শুরু করেছিল, সেই কালচারই ফুলেফেঁপে Bank এর রূপ ধারণ করে মানুষকে এই দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত করেছে। আমরা মনে করি, যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ। ব্যাংকারদের ফিলোসফি উলটা। তাদের কথা হচ্ছে—আজকের দিন যেমন তেমন, সামনের দিন সোনার মতন।
ব্যাঙ্কগুলো আমাদের টাকা ধার দেয় না। ধার দেয় স্বপ্ন। এই স্বপ্নের কেনাবেঁচা করেই আমরা গড়ে তুলি আধুনিক সভ্যতা। বর্তমানকে বিক্রি করে কিনি সোনালী ভবিষ্যৎ।
১৭৭৬ সালে আমেরিকা স্বাধীন হয়। ঐ বছরই এডাম স্মিথ একটা দুর্দান্ত বই লেখেন। বইয়ের নাম The Wealth of Nations, নিউটনের প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা বাদ দিলে এইটা আধুনিক প্‌থিবীর সবচেয়ে গ্রুত্বপূর্ণ বই।
এই বইয়ের আট নম্বর চ্যাপ্টারে স্মিথ একটা সম্পূর্ণ নতুন আইডিয়া নিয়ে হাজির হন। আইডিয়াটা এমনঃ ধরা যাক, পুরান ঢাকার ফজলু মামার মত আপনার একটা ছোটখাটো পিঠার দোকান আছে। নিজেই পিঠা বানান, নিজেই সেটা বেঁচেন। পিঠা বেঁচে আপনার কিছু লাভও হল।
এখন এই লাভ দিয়ে আপনি কী করবেন? বিড়ি-সিগারেট খেয়ে শেষ করবেন? না দোকানের বেচাবিক্রি বাড়ানোর জন্য কোন পিচ্চি আকা কুদ্দুস আকা বাবুল নিয়োগ করবেন?
যুগ যুগ ধরে ফজলু মামারা লাভের টাকা দিয়ে গাঁজায় দম দিয়ে সেটা উড়িয়ে আসতো। এডাম স্মিথ এসে মামাকে বললেন, তুমি এই টাকা দিয়ে একটা এ্যাসিস্ট্যান্ট রাখো, ব্যবসা বড় করো। লাভের টাকা দিয়ে মৌজ না করে সেটা আবার ইনভেস্ট করো। তাইলে খালি তোমার একার লাভ তা না, আশেপাশের দশটা মানুষেরও লাভ।
শুনে মনে হতে পারে, আরে, এ আর এমন কী আইডিয়া! এই আইডিয়া তো আমিও দিতে পারি। এডাম স্মিথের জায়গায় আমি থাকলে আজকে আমি অর্থনীতির জনক হইতে পারতাম।
আমাদের এমনটা মনে হচ্ছে। কারণ, আমরা ঠিক এই ক্যাপিটালিস্টিক সমাজের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। প্রাচীন মানুষ কিন্তু একটু টাকাপয়সা হলেই এই মৌজমাস্তির খপ্পরে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছিল। সেটা রোম সম্রাট ক্যালিগুলা থেকে শুরু করে মোগল বাদশা শাহজাহান পর্যন্ত সবাই। এডাম স্মিথ এসে এই দুষ্টচক্র ভাঙেন। তিনি আমাদের সূত্র দেনঃ সমাজের মোট সম্পদ স্ট্যাটিক কিছু না। বরং চেষ্টাচরিত্র করে একে বাড়ানো যেতেই পারে। নিউটনের ত্‌তীয় সূত্রের চেয়ে এই সূত্র তাই কোন অংশে কম শক্তিশালী না।
আমাদের ধর্মে, মিথোলজিতে সবসময়ই লোভকে খারাপ চোখে দেখা হয়েছে। বলা হয়েছে, লোভে পাপ, পাপে ম্‌ত্যু। স্মিথই প্রথমা আমাদের বলেন—Greed is good. তুমি যদি নিজের লাভের জন্য খাটো, লোভের জন্য খাটো— তাইলে খালি নিজের না, সমাজেরই লাভ।
আচ্ছা, আমার ইচ্ছা আমি গরিব থাকবো। কার কী সমস্যা?
সমস্যা আছে। আমি গরিব থাকলে আমি বাজারের সেরা মোবাইলটা কিনতে পারবো না। তাইলে যেই লোক কষ্ট করে মোবাইলটা বানাইসে, সেও গরিব থাকবে। কারণ তার তো বিক্রি হচ্ছে না। আর আমি বড়লোক হইলে আপনিও বড়লোক হবেন। কারণ, আপনার বানানো জিনিস তখন আমি কিনতে পারবো। এটাকে বলে উইন উইন সিচুয়েশন।
ধনবানদের পাপী হিসেবে দেখা আমাদের আরেকটা ট্রাডিশন। ধন আর পাপ মোটামুটি সমার্থক ব্যাপার। স্মিথ এইসব ট্রাডিশনাল ধারণার মূলে কুঠারাঘাত করেন। তিনি বলেন, বড়লোক মানেই পাপী না। বরং বড়লোক-ই ভালো। সে দশটা লোকের চাকরির বন্দোবস্ত করে দিচ্ছে। স্বর্গের দরজা যদি খোলা হয়, তবে এই লোকটাই সবার আগে ঢুকবে। দিনরাত ইবাদত করা লোকটা তার পেছনেই থাকবে।
আমাদের অবশ্য ধারণা, আমি বড়লোক হতে হলে আশেপাশের সবাইকে দাবায়ে বড়লোক হতে হবে। স্মিথ এটারও বিরোধিতা করেন। স্মিথ বলেন, চাইলেই তুমি আশেপাশের সবাইকে নিয়েই বড়লোক হতে পারবা। লাভের গুড়টা নিজের পকেটে না পুরে সেই গূড় দিয়ে ফ্যাক্টরির সাইজ বাড়াও। নতুন প্রডাক্ট বানাও। নতুন প্রডাক্ট নিয়ে আসলে মানুষ সেটা খাবেই। তুমি দুধ-চা বানাতে। একজন এ্যাসিস্ট্যান্ট রেখে মাল্টা চা-ও বানানো শুরু করো। দুধ চা-র বিক্রি তাতে কমবে না।
এইভাবে প্রডাক্ট ডাইভার্সিটি তৈরি করে মানুষের কনজামশন বাড়ানো সম্ভব। এটাই ক্যাপিটালিজম। এটাই পুঁজিবাদ। পুঁজির সাথে সম্পদের এইখানে পার্থক্য। মিশরের ফারাওরা পুঁজিবাদী ছিলেন না। তারা ছিলেন সম্পদবাদী। স্প্যানিশ যে নাবিকটা আমেরিকায় এসে কাড়ি কাড়ি স্বর্ণ লুট করে গেছে, সেও পুঁজিবাদী না। যে লোকটা কষ্ট করে মাস শেষে কিছু টাকা জমিয়ে সেই টাকা আবার শেয়ার বাজারে রি-ইনভেস্ট করে, সেই প্রক্‌ত পুঁজিবাদী।



মধ্যযুগ পর্যন্ত এই পুঁজিবাদীদের দেখা পাওয়া ছিল বিরল। মধ্যযুগের বড়লোকদের দেখেন। কী জমকালো পোশাক পরে ঘুরে বেড়াইতো। আর এখনকার টাকার মেশিনদের দেখেন। সামান্য জিন্স আর টি-শার্ট পরে ঘুরে বেড়ায়। অথচ আজকের জাকারবার্গদের সম্পদের পরিমাণ কিন্তু মিশরের যে কোন ফারাওর চেয়ে অনেক বেশিই হবে। সেসময় মানুষ দান খয়রাত করে পুণ্য কামাইতো। পকেটে টাকা বেশি হয়ে গেলে বউয়ের জন্য তাজমহল বানাইতো। আজকের পুঁজিপতিরা সেটাই করে লাভের টাকা আবার খাটিয়ে। সমাজে টাকার ফ্লো-টা ঠিক রেখে।
ফলাফল—মধ্যযুগে অভিজাত সমাজের কেন্দ্রে থাকা ডিউক আর নবাবদের সরিয়ে সেই জায়গাটা আজ দখল করে নিয়েছে ব্যবসায়ী আর পুঁজিপতিরা। যে মিডল ক্লাসের সুখ-দুঃখ আবেগ নিয়ে আমরা দিনরাত জিকির করি, সেই মিডল ক্লাসের জন্মও দিয়েছে আধুনিক পুঁজিবাদ।
পুঁজিবাদের সবচেয়ে বড় আছর পড়সে বোধয় আধুনিক বিজ্ঞানের উপর। একটা রিসার্চ গ্রান্ট যখন লেখা হয়, তখন প্রথম যে প্রশ্নটা ফেস করতে হয়, তা হল—এই প্রজেক্টটার ইকোনমিক ইমপ্যাক্ট কী? এইটা সমাজকে নতুন কিছু দিবে কিনা। বিজ্ঞানের জন্য বিজ্ঞান তখন মন খারাপ করে সাইড বেঞ্চে বসে থাকে।
আজ আমেরিকা, চীন অলমোস্ট শূন্য থেকে টাকা ছাপায়ে বাজারে ছাড়তেসে। এতো যে টাকা ছাড়তেসে—সমাজে সেই পরিমাণ সম্পদ তো তৈরি হচ্ছে না। তারপরও তারা কেন এই ঝুঁকিটা নিচ্ছে? তার কারণও বিজ্ঞানের উপর এই অগাধ বিশ্বাস। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, শিগগিরই ল্যাবগুলো থেকে নতুন নতুন সব ব্রেকথ্রু টেকনোলজি বের হবে। জন্ম নিবে নতুনতর সব ইন্ডাস্ট্রি। সামনে বাবল অবশ্যম্ভাবী। আর তা ঠেকানোর পুরো দায়িত্ব এখন এই বিজ্ঞানীদের। সারা দুনিয়া তাই তাকায়া আছে এই ল্যাবগুলোর দিকে। কখন তারা নতুন কিছু নিয়া আসবে আমাদের জন্য?
ব্যাঙ্কগুলো তো টাকা ছাপায়েই খালাস। এই টাকার আসল মূল্য তৈরি করে বিজ্ঞানী আর ইঞ্জিনিয়াররাই।
ইউরোপেই প্রথম ব্যবসায়ীরা ক্ষমতার কেন্দ্রে আসতে শুরু করে। ব্যাপারটা এতো সহজে হয়নি। এর পেছনে কাজ করেছে এদের ক্রেডিট ইকোনমির সাফল্য।
কোন এক দুঃসাহসী লোক হয়তো মানুষজনের কাছে ধারকর্জ করে অজানার পথে পাড়ি দিল। সেখান থেকে সোনাদানা নিয়ে এসে আগের ধার ফেরত দিল। ফলে ব্যবসায়ী মহলে তার একটা ক্রেডিবিলিটি গড়ে উঠলো। পরে যখন সে আরো বড় অংকের ক্রেডিট এর জন্য এ্যাপ্লাই করলো, সেটা সহজেই মিললো। সেই টাকা দিয়ে আবার যাত্রা, আবারো লাভ, আবারো যাত্রা—এইভাবে চলতেই থাকলো। এমনকি সে নিজের লাভের টাকা থেকে অন্যকে ধারকর্জ দিতেও শুরু করলো। এইভাবে গোটা সমাজে একটা ক্রেডিট ফ্লো গড়ে উঠলো।
যে ক্রেডিট সিস্টেমের কথা আমরা বলছি, সেই ক্রেডিট সিস্টেম যে ইউরোপীয়দের একক আবিষ্কার—তা না। চায়না, ভারত এমনকি মুসলিম জাহানেও এর চল ছিল। আ্ঠারো শতক পর্যন্ত তো প্‌থিবীতে পুঁজির ভরকেন্দ্র এশিয়ার দিকেই হেলে ছিল।
কিন্তু প্রাচ্যের সমাজে ক্রেডিট সেই সম্মানটা পায়নি, যা সে পেয়েছে পশ্চিমে এসে। প্রাচ্যের হিরো ছিল নাদির শাহ’র মত খুনী। কিংবা অটোম্যানদের মত ব্যুরোক্র্যাটেরা। যাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল জনগণের কাছ থেকে আদায় করা ট্যাক্স। ক্রেডিট আর বণিক—দুটোকেই এখানে খুব হেয় চোখে দেখা হত।
ইউরোপের রাজারা ওদিকে প্রাচ্যের শাসকদের মত ‘খেয়ে ছেড়ে দিব’ টাইপ চিন্তাভাবনা থেকে সরে এসে ব্যবসায়ীদের মত চিন্তাভাবনা শুরু করেন। কোথায় ইনভেস্ট করলে লাভ হবে, কারে ধার দিলে সেটা দ্বিগুণ ফেরত আসবে—এই ওয়েতে। রাষ্ট্রকে তারা আর স্রেফ রাষ্ট্র রাখলেন না। একে একটা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের আদলে চালাতে শুরু করলেন। যার মূল লক্ষ হচ্ছে প্রফিট।
শুরুটা করেন স্পেনের রাণী ইসাবেলা। কলম্বাসের যাত্রার পুরোটাই স্পন্সর করেন তিনি। কলম্বাস অবশ্য ফার্স্টেই ইসাবেলার দরবারে যাননি। তিনি গেছিলান পর্তুগাল রাজার দরবারে। পর্তুগাল সম্রাটকে কনভিন্স করতে ব্যর্থ অন তিনি। একজন সফল উদ্যোক্তার মতই তিনি থেমে যাননি। সাতঘাট ঘুরে অবশেষে ইসাবেলার মন জয় করতে সক্ষ্ম হন তিনি। বোঝান, প্‌থিবী গোল—এই তত্ত্বে যেহেতু আমাদের ঈমান আছে, সেহেতু পশ্চিমে যাত্রা করলে একদিন ঠিকই স্বর্গের ভারতে যাওয়া যাবে।
আজ আমরা জানি, স্পেন সেইবার বাজিমাৎ করেছিল। কলম্বাসের সফল অভিযানের পর ব্যাংকাররা এইসব অভিযানে ইনভেস্ট করতে আরো সাহস পান। স্পেন পবশ্য বেশিদিন এই সেক্টরে রাজত্ব করতে পারেনি। স্পেনের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে কিছুদিনের মধ্যে স্পেনেরই অধীনস্থ ডাচরা এই ক্রেডিট সেক্টরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।
ডাচরা ছিল স্পেনের খুবই ছোট্ট একটা উপনিবেশ। কেউ তাদের গোনাতেই ধরতো না। ১৫৬৮ সালে তারা স্পেনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। মাত্র আট বছরের মধ্যেই তারা স্বাধীনতা তো পায়ই, সেই সাথে স্প্যানিশদের হটিয়ে পায় সমুদ্রপথে আধিপত্য।
এই আধিপত্য কোন নাদির শাহ বা কলম্বাস এনে দেয়নি ডাচদের। এনে দিয়েছে ডাচ ব্যাংকার আর ব্যবসায়ীরা। টাকাপয়সার ব্যাপারে ডাচদের একটা সুনাম ছিল ইউরোপে। ডাচরা ছিল ইউরোপের আল-আমিন। তাই কোন যাত্রা করার আগে তারা সহজেই ধার পেত। নিজেদের কোন স্থায়ী সৈন্যবাহিনী ছিল না তাদের। ধারের টাকা দিয়ে সৈন্যবাহিনী ভাড়া করতো তারা। যাত্রা শেষে লাভের টাকা দিয়ে ধার ফেরত দিত। এই করে করে তারা গোটা ইউরোপের মহাজনদের আস্থা অর্জন করে। স্পেনের রাজপরিবার যেখানে অযথা যুদ্ধবিবাদ করে সর্বস্বান্ত হচ্ছে, দেনার সমুদ্রে ডুবছে, ডাচরা সেখানে পুঁজির পাহাড় গড়ে তুলছে। ডাচ সাম্রাজ্য কোন রাজাধিরাজ গড়ে তুলেনি। তুলেছে এর ব্যাংকার আর ব্যবসায়ীরা।
কীভাবে? একটা উদাহরণ দিচ্ছি।
ধরা যাক, আপনার বাবা জার্মানির বিরাট মহাজন। উনি দেখলেন, ইউরোপের বাজার বড় হচ্ছে। কাজেই, তার ব্যবসাও বড় করা দরকার। তিনি আপনাকে পাঠালেন আমস্টারডাম আর আপনার ছোট ভাইকে পাঠালেন মাদ্রিদ। সাথে দিলেন ১০,০০০ করে স্বর্ণমুদ্রা।
আপনার ভাই তার টাকাটা স্পেনের রাজাকে ধার দিল। সে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যুদ্ধের রসদপাতি লাগবে না? আর আপনি দিলেন হল্যান্ডের এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীকে। সে আটলান্টিকের ঐপারে ব্যবসা করে। তার ইচ্ছা, ম্যানহাটন নামে এক জায়গায় কিছু জমি কিনে রাখার। তার প্রেডিকশন বলে, কয় দিনের মধেয়ি এই জমির দাম হু হু করে বেড়ে যাবে। তখন সে বেশি দামে বেঁচে লাভ করবে।
ক্যালেণ্ডারের পাতা ওল্টালো। হাডসন নদীর তীর শূন্য বিরানভূমি থেকে জনবহুল ট্রেড রুটে পরিণত হলো। ডাচ ব্যবসায়ী কড়া দামে তার জমি বেঁচে ধারের টাকা ইন্টারেস্ট সহ ফেরত দিল। আপনি খুশি, আপনার বাপও খুশি।
এদিকে স্পেনের রাজাও যুদ্ধে জিতসে। কিন্তু এই ফাঁকে তুর্কীদের সাথে তার লেগে গেছে। তুর্কীদের একটা শিক্ষা দেয়া দরকার। তার যে ঋণ আছে–এটা তার মাথায় আছে। কিন্তু এই মুহূর্তে ঋণ শোধ করার চেয়ে তুর্কীদের সাইজ করাটা বেশি ইম্পর্ট্যান্ট।
আপনার ভাই ঠিকই চেষ্টাচরিত্র চালিয়ে যাচ্ছে টাকাটা উদ্ধার করার জন্য। রাজপ্রাসাদে তার যে লিঙ্ক-টিঙ্ক আছে, ওদের দিয়ে ওদের দিয়ে ট্রাই করে যাচ্ছে। এই করে তার পায়ের জুতাই ক্ষয় হল কেবল, টাকা আর ফেরত এলো না।
অবস্থা আরো খারাপ হল যখন সে আপনার ছোট ভাইর আগের ঋণ তো শোধ করলোই না, উলটা আরো ১০,০০০ স্বর্ণমুদ্রা ধার চেয়ে বসলো। এখন জলে নেমে তো আর কুমিরের কথা অমান্য করলে চলে না। আপনার ছোট ভাই আপনার বাপকে বলে আরো ১০০০০ মুদ্রা আনায়ে রাজার হাতে তুলে দিল।
আপনার ব্যবসা এদিকে ভালোই যাচ্ছে। ধার দিচ্ছেন, ফেরত পাচ্ছেন। বেশ মোটা অংকের লাভ হচ্ছে মাসে মাসে। দিন তো আর সবসময় সমান যায় না। এক ক্লায়েন্ট আপনাকে কনভিন্স করলো যে, সামনে কাঠের জুতার ট্রেন্ড আসতেসে বাজারে। এই বাজার ধরতে হলে এখনই একটা কাঠের জুতার ফ্যাক্টরি দিতে হবে। আপনি তার কথায় ইম্প্রেসড হয়ে ধার দিলেন। দুর্ভাগ্যনকভাবে, কাঠের জুতা মানুষের মন জয় করতে ব্যর্থ হইলো। সে ধার তো ফেরত দিতে পারলোই না। ফেরত চাইলে ধারের কথা বেমালুম অস্বীকার করলো।
আপনার পিতা মহাশয় গেলেন ক্ষেপে। তিনি আপনাদের দু’জনকেই বললেন আইনের আশ্রয় নিতে। কথামত আপনি আইনের দরবারে গেলেন। নেদারল্যান্ডের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন। কাজেই, আইন আপনার কথা শুনলো। শুনে আপনার পক্ষেই রায় দিল। ঐ ব্যাটা জুতাখোরকে আপনার পয়সা ফেরত দিতে বাধ্য করলো। স্পেনে কী হইলো?
স্পেনের আইন আদালত তো আর সেপারেট কোন প্রতিষ্ঠান না। সবই রাজার অঙ্গুলি হেলনে চলে। বিচারক পয়সা ফেরতের কোন বন্দোবস্ত তো করলোই না, উলটা কয়দিন পর রাজা আপনার ছোট ভাইর কাছে ২০০০০ স্বর্ণমুদ্রা চাইলো। দিতে পারলে ভালো। না পারলে তাকে জেলে পুরে রাখবে। কোন কারণে তার ধারণা হইসে, আপনার ছোট ভাই হচ্ছে টাকার খনি। যখনই চাইবো, তখনই পাওয়া যাবে।
সব শুনে আপনার বাপ সিদ্ধান্ত নিলেন, ইনাফ ইজ ইনাফ। স্পেন দেশে আর কোন বিজনেস নয়। এইসব রাজাগজার সাথে তো নয়ই। উনি ছেলের মুক্তিপণটুকু দিয়ে স্পেন থেকে তার ব্যবসা উঠায়ে নিলেন। দুই ভাইকেই আমস্টারডামে বসালেন দুটো ব্রাঞ্চের দায়িত্ব দিয়ে। অবস্থা তখন এতোই শোচনীয় তখন যে খোদ স্পেনের বণিকেরাও আর সেখানে ইনভেস্ট করার সাহস পাচ্ছে না। তারাও তাদের পুঁজি স্পেন থেকে সরিয়ে হল্যান্ডে এনে খাটাচ্ছে।
একটা শিক্ষা তো হল। পকেটে টাকা থাকলেই সেই টাকা বাচ্চা দেয় না। কিন্তু আইনের শাসন থাকলে মানুষ এসে তোমার পকেট ভর্তি করে টাকা দিয়ে যাবে।
ডাচরা তাদের এই সততা আর বিশ্বস্ততা দিয়েই হাডসনের তীরে একটা চমৎকার শহর গড়ে তুলেছিল। নিজেদের রাজধানীর নামে এর নাম দিয়েছিল নিউ আমস্টারডাম। চতুর ইংরেজরা পরে অবশ্য এটা দখল করে নেয়। আকিকা দিয়ে এর নতুন নাম রাখে নিউ ইয়র্ক।
ব্রিটিশদের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য ডাচরা শহরে একটা দেয়াল গড়ে তোলে। সেই দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ-ই কালক্রমে পরিণত হয়েছে আজকের দুনিয়ার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়। যার নাম ওয়াল স্ট্রীট।
ব্যবসায়ীদের হাতে, বা ব্যবসায়ী মাইন্ডেড লোকেদের হাতে দেশের পলিসি তুলে দেবার কিছু সমস্যাও আছে।
গল্পের শুরুটা একটা জয়েন্ট স্টক কোম্পানি দিয়ে।
কোম্পানির নাম মিসিসিপি কোম্পানি। মিসিসিপি তখন ছিল আটলান্টিকের ওপারের জলা জনমানবশূন্য একটা দেশ। এক কুমির ছাড়া এখানে বলার মত কিছু ছিল না। এই জলা জনমানবহীন জায়গা নিয়েই এই কোম্পানি তখন কল্পকাহিনী ছড়াতে শুরু করে। একে তো আমেরিকা তখন মানুষের কাছে ল্যান্ড অফ অপরচুনিটি। আর সেই সময় এই গালগপ্পো ভেরিফাই করার কোন উপায়ও ছিল না। কাজেই, ফ্রান্সের মানুষ গোগ্রাসে এই গপ্পো খেতে শুরু করে।
এই কোম্পানির যে ডিরেক্টর, উনি আবার ছিলেন ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্ণর। নিজের প্রভার আর কানেকাশান খাটিয়ে উনি প্যারিস স্টক এক্সচেঞ্জে তার কোম্পানির শেয়ার ছাড়েন। মিসিসিপি হাইপ তখন চরমে। এই হাইপকে কাজে লাগিয়ে সেই শেয়ারের দাম হু হু করে বাড়িয়ে নেন। যে শেয়ারের দাম ছিল ১০০০ টাকা, তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০,০০০ টাকা। ফ্রান্সের এলিট শ্রেণী তো তার এই ফাঁদে পড়েই, সাধারণ মানুষ জায়গাজমি বেঁচে এই কোম্পানির শেয়ার কেনা শুরু করে। বড়লোক হবার এতো সোজা রাস্তা পেলে কে ছাড়ে?
কিছুদিনের মধ্যেই প্যানিক শুরু হয়। বুদ্ধিমান দুই – একজন বুঝতে পারে, শেয়ারের দাম তো এতো হবার কথা না। মিসিসিপিতে যতো সোনাদানাই থাক না কেনো, মানুষজন যে দামে শেয়ার কিনতেসে, এই পরিমাণ সম্পদ ওখানে নাই। তারা দাম বেশি থাকতে থাকতে শেয়ার বেঁচে দেয়া শুরু করে। তাদের দেখাদেখি আরো লোক দাম কমার আগেই শেয়ার হাত থেকে ঝেড়ে দিতে শুরু করে। পুরো বাজারে একটা হিস্টিরিয়া তৈরি হয়। যে শেয়ারের দাম ১০,০০০ উঠসিলো, সেটা আবার ১০০০ এ নেমে আসলো। পাকা খেলোয়াড়্ররা তথা পুঁজিপতিরা ঠিকই তাদের আখের গোছায়ে নিল। মারা খেলো সাধারণ মানুষ। অনেকে আত্নহত্যাও করলো। (আমাদের শেয়ার বাজারের কথা মনে পড়ে কি?)
মিসিসিপি বাবলের ফলাফল দুইটা। এক, এই যে ফ্রান্সের অর্থনীতি কল্যাপ্স করসিলো, প্রায় এক শতাব্দী তা আর এর ধকল কাটায়ে উঠতে পারে নাই। ফ্রান্সের অভিজাতদের দেখে আমাদের ভুল ধারণা হইতে পারে। সাধারণ মানুষের অবস্থা ছিল খুব খারাপ। খুব খারাপ মানে খুবই খারাপ। এক টুকরা রুটির জন্য একজন আরেকজনকে খুন করতো—এই অবস্থা। আই ক্রাইসিসই পরে ফ্রেঞ্চ রেভোল্যুশনের রাস্তা তৈরি করে দেয়।
দুই, ফ্রেঞ্চ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর গোটা ইউরোপের আস্থা উঠে গেলো। এরা আর আগের মত বড় বড় মহাজনদের কাছ থেকে ধার পাইলো না। ফলে, উপনিবেশ নিয়া ফ্রান্স আর ব্রিটেনের মধ্যে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলতেসিলো, তাতে আগায়ে গেলো ব্রিটেন। কিছুদিনের মধ্যেই অর্ধেক প্‌থিবীর সম্রাট হিসবে আবির্ভাব ঘটলো ব্রিটিশদের।
ব্রিটিশ পুঁজিপতিরাও প্‌থিবীকে শান্তি দেয়নি। ব্রিটিশ নাবিকেরা দেশে দেশে তাদের নৌতরী ভিড়িয়েছে। আর ব্রিটিশরাজ চোখ বুজে তার বণিকদের স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে। পলাশীর যুদ্ধের কাহিনী তো আমরা সবাই জানি। পলাশীর যুদ্ধ থাক। আজ আমরা আরেকটা যুদ্ধের গল্প শুনি।
ঊনিশ শতকের শুরুর দিক। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তখন চায়নায় আফিম বেঁচে বেশ দুই পয়সা কামাচ্ছে। এক সময় দেখা গেলো, গোটা জাতি আফিমের নেশায় বুঁদ হয়ে আছে। চাইনিজ সরকার নড়েচড়ে বসে। আইন করে আফিম নিষিদ্ধ করে। ব্রিটিশরা তো আর কারো কথা শুনে না। তারা চাইনিজদের মধ্যাঙ্গুল দেখিয়ে ঠিকই ড্রাগের চালান পাঠাচ্ছিল।
গভর্ণমেন্ট তখন কঠোর অবস্থানে যায়। ব্রিটিশ জাহাজগুলোকে জব্দ করা শুরু করে। অনেকগুলো ধ্বংসও করে দেয়। এদিকে ড্রাগ কোম্পানিগুলোতে এমপি-দের একটা বড় শেয়ার ছিল।
এমপি-রা নিজের পেট বাঁচাতে একজোট হয়। ব্রিটিশরাজকে কনভিন্স করে চায়নার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণায়। মুক্ত বাণিজ্যের নামে এ যুদ্ধ হলেও আসলে এটা ছিল অর্থনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ। যার মূল বক্তব্য হল—আমি তোকে ভাত খাইতে বললে তুই ভাত খাবি। আর আমি তোকে গাঁজা খাইতে দিলে তুই গাঁজা খাবি। দিন শেষে আমার প্রোডাক্টই তোর বাজারে থাকবে।
অসম এ যুদ্ধে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ব্রিটিশরা অনায়াসে জয়ী হয়। চাইনিজরা নাকে খত দিয়ে আফিমের অবাধ ট্রানজিট মেনে নিতে বাধ্য হয়। হংকং তো ব্রিটিশরা পুরোটাই দখল নিয়ে নেয়। দীর্ঘদন এই হংকং ছিল চায়নায় ব্রিটিশ ড্রাগ কার্টেলের মূল বেস।
পুঁজিবাদ এইভাবে গুটিকতক লোকের পকেট ভারি করতে গয়ে সাধারণ মানুষকে বলির পাঁঠা বানিয়েছে। কখনো খোলাখুলি প্রফিটের নামে করেছে। কখনো সেবার নামে। যদিও দুনিয়ায় নন প্রফিট অর্গানাইজেশন বলে কিছু নাই। সবই মানুষকে একটা বুঝ দিয়ে নিজেদের প্রফিট অর্গানাইজেশনের লাভ বাড়ানোর ধান্দা। ট্যাক্স না দেবার ধান্দা।
১৮৭৬ সালে বেলজিয়ামের রাজা মধ্য আফ্রিকার কঙ্গোয় একটা নন প্রফিট অর্গানাইজেশন খুলেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল আফ্রিকা নিয়ে গবেষণা করা আর এখানে যে দাস বাণিজ্য হয়, লাখ লাখ দাসকে যে জাহাজে করে আটলান্টিকের ঐপারে পাঠানো হয়—তা বন্ধ করা। আফ্রিকার জনমানুষের জন্য স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল করাও ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য।
কয়েক বছরের মধ্যে এই মানবিক প্রতিষ্ঠানটি দানবিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। যার মূল লক্ষ হয়ে দাঁড়ায় গ্রোথা আর প্রফিট। স্কুল-কলেজ লাটে উঠলো। তার জাউগায় বসানো হল কয়লার খনি আর রাবার বাগান। রাবার ছিল কঙ্গোর প্রধান রপ্তানি পণ্য। পুঁজিবাদের নিয়ম অনুযায়ী, মালিকেরা প্রতি বছর রাবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়তো। আর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে তার দায় মেটাতে হতো ক্‌ষকদের তাদের জীবন দিয়ে।
ধারণা করা হয়, ১৮৮৫ থেকে ১৯০৮ সালের মধ্যে ৬০ লক্ষ লোকের ম্‌ত্যু ঘটে বেলজিয়ান আর্মির হাতে। কারো কারো মতে, এই সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।
এইভাবে পুঁজিবাদ মানুষকে বারবার ব্যর্থ করেছে। তাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। তার পরও মানুষ পুঁজিবাদকে ছাড়তে পারেনি। এর কারণ বোধয়, তার কাছে এর চেয়ে ভালো কোন অপশন এখনো আসেনি।
কিংবা পুঁজিবাদ অনেকটা ক্‌ষির মত একটা টেকনোলজি। শিকারী মানুষ যেমন একবার হাল ধরার পর শত অভাব-অভিযোগ সত্ত্বেও আর শিকারী জীবনে ফিরে যেতে পারেনি, আমরাও পুঁজিবাদের হাজারটা ফাঁক-ফোকড় জেনেও একে ডিভোর্স দিতে পারছি না। আমাদের অর্থনীতি এখন এতোই কমপ্লেক্স যে, চাইলেই আমরা ‘গ্রামে ফিরে যাই’ নীতিতে সবকিছু ছেঁড়েছুঁড়ে সহজ একটা জীবন যাপন করতে পারবো না। বড়জোর যেটা করতে পারি, পুঁজিবাদের গলদ্গুলো শুধরে বেটার কোন মডেলে প্‌থিবীটাকে দাঁড় করাতে, যেন কঙ্গোর কালো মানুষটা কিংবা চা বাগানের শ্রমিকেরাও তাদের বেসিক চাহিদাগুলো মেটাতে পারে।
মনুষ্যজাতির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।
ইউভাল নোয়া হারারি।
ভাবানুবাদ : আশফাক আহমেদ

Friday, April 19, 2019

রাহু

আজ আমি আপনাদের জন্য ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা একটি গ্ৰহ রাহুর রাশিচক্রে শুভ ও অশুভ ফলাফল প্রকাশ করব। সঙ্গে প্রতিবিধান সম্পর্কে আলোচনাও করব।
হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী মতে - রাহু দানব বিশেষ। দানব বিপ্রচিত্তির ঔরসে ও সিংহিকার গর্ভে এঁর জন্ম হয়। উল্লেখ্য, সমুদ্রমন্থন শেষে উত্থিত অমৃত অসুরদের বঞ্চিত করে দেবতারা পান করেছিল। ইনি কৌশলে গোপনে অমৃতপান করতে থাকলে চন্দ্র ও সূর্য এঁকে চিনতে পেরে অন্যান্য দেবতাদের জানান। এই সময় বিষ্ণু এঁর দুই বাহু মাথা কেটে দেন। কিছুটা অমৃত পান করায় এই দানব ছিন্নমস্তক হয়ে অমরত্ব লাভ করেন। এঁর মস্তকভাগ রাহু ও দেহভাগ কেতু নামে পরিচিত।
রাশিচক্রের দ্বাদশ ভাবে অবস্থানভেদে রাহু গ্রহের অশুভ ফলাফল দেখুন ---
১) রাহু লগ্নভাবে থাকলে জাতক শত্রু কৃতকার্য হয় অপরের সাহায্যে কৌশলে কার্যসাধন এ তৎপর হয় তবে এই রাহু পত্নী বিষয়ে বা নিজ দৈহিক সুখের ক্ষেত্রে বিঘ্ন কারক হয় রবি চন্দ্র মঙ্গল শুক্রবা শনি লগ্নপতি হলে এই রাহু আর্থিকভাবে সচ্ছলতা দানে সমর্থ হয়।
২) রাহু ধন ভাবে বা দ্বিতীয়ে থাকলে জাতক আমিষ প্রিয় হয় আমিষ সংক্রান্ত ব্যবসায় সহজে সফলতা পায়। অনিশ্চিত পথে অর্থ আয় বা অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের উৎসাহী হয়। জাতককে ভ্রমণবিলাসী বাকপটু ও নীচসংসর্গ যুক্ত করতে পারে।
৩) রাহু ভ্রাতৃ ভাবে বা তৃতীয়ে থাকলে জাতক বহু শত্রু বিশিষ্ট পরাক্রমী বহু বন্ধু যুক্ত ও যশস্বী হয় তবে এই রাহু ভ্রাতা ভগিনী বিষয়ে অশুভ ফল দান করে।
৪) রাহু পুত্র ভাবে বা পঞ্চমে থাকলে জাতকের চারিত্রিক দুর্বলতা আনয়ন করে। গৃহ মাতা পুত্র ইত্যাদি বিষয়ে অশুভফল দান করে। মঙ্গল, চন্দ্র, বুধ, শুক্র চতুর্থপতি হলে চতুর্থভাবে রাহু অপেক্ষাকৃত শুভ ফলদায়ক হয়।‌
৫) রাহু পুত্র ভাবে বা পঞ্চমে থাকলে জাতক পেটের রোগে আক্রান্ত হয় সন্তান এবং স্ত্রীর বিষয়ে মানসিক অশান্তির ভোগ করে। প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়ে এই রাহু জাতককে ভাবপ্রবণ করে তোলে।
৬) রাহু শত্রু ভাব এ বা ষষ্ঠে থাকলে জাতক শত্রু জয়ী ও সুস্বাস্ব্যবান হয় ভিন্নধর্মী লোকেদের মাধ্যমে বহু উপকৃত হয় তবে এই রাহু জাতকের কটিদেশে রোগ সৃষ্টি করে নিম্নস্থ হলে গোপন শত্রু দ্বারা বিষ প্রয়োগের সম্ভাবনা থাকে।
৭) রাহু স্ত্রী ভাবে বা সপ্তমে থাকলে জাতক নিজের শরীর ও স্ত্রীর বিষয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়। দাম্পত্য সুখে এই রাহু নিঃসন্দেহে বিঘ্ন কারক হয়। অবৈধ প্রণয় নারীসঙ্গে জাতকের আসক্ত হবার সম্ভাবনা থাকে।
৮) রাহু মৃত্যু ভাবে বা অষ্টমে থাকলে জাতক রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে বা সরকারি কর্মে বিশেষ মর্যাদা পায় তবে এই রাহু গুপ্তরোগ বা গুহ্য
সংক্রান্ত রোগে কষ্ট প্রদান করে। স্ত্রী ও সন্তান বিষয়ে অশুভ ফল দিতে পারে।
৯) রাহু ভাগ্যভাবে বা নবমে থাকলে জাতক নিজ যোগ্যতায় যশ পায় বুদ্ধিবলে বহু সুকর্মে সফলতা লাভ করে। তবে নিম্নস্থ হলে ভাগ্যের বিষয়ে অশুভ ফল পায়।
১০) রাহু কর্ম ভাবে বা দশমে থাকলে জাতক ভিন্নধর্মের লোকেদের মাধ্যমে উপকৃত হয়। উচ্চপদ প্রাপ্তিতে বা বিশেষ সম্মান প্রাপ্তিতে এই রাহু যথেষ্ট সাহায্য করে। নিম্নস্থ হলে বিপরীত ফল দান করে।
১১) রাহু আয় ভাবে বা একাদশে থাকলে জাতক পরাক্রমী বা প্রতিপত্তিশালী হয়। ব্যবসা বা কর্মে অধিক সফলতা পায় । স্ব শ্রমের বাইরে অর্থ-সম্পত্তি লাভে এই রাহু বিশেষ সাহায্যকারী হয়। তবে সন্তান বিষয়ে জাতক সর্বদা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়।
১২) রাহু ব্যয় ভাবে বা দ্বাদশে থাকলে জাতক কুসঙ্গে বা কুকর্মে লিপ্ত হয়। অসৎ পথে বা নিন্দনীয় গোপন পথে অর্থ উপার্জনের প্রয়াসী হয়। চোখ বা চোখ পা বা গুহ্য দেশের রোগ এই রাহু প্রদান করে।
জন্ম রাশিচক্রে অবস্থানভেদে রাহুর ফলাফল
---------------------------------------------------------------------
১। লগ্নে রাহুর জাতকের প্রচুর প্রাণশক্তি হয়। এরা উদ্যমী, বিভিন্ন গুণসম্পন্ন হয়। হাসতে ও হাসাতে এরা ভালবাসে। প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন, প্রেমে পটু, একের অধিক প্রেম করতে সক্ষম, নেতৃত্ব দিতে ভালবাসে, আকর্ষণ ক্ষমতা প্রচুর।
২। লগ্নের দ্বিতীয়ে রাহু অর্থপ্রিয়, তর্কপ্রিয়, বাক্যপটু, চাকরিজীবী হয়। সম্মোহনী কথায় এরা কাজ হাসিল করার ক্ষমতা রাখে। আত্মীয়দের থেকে এদের লাভবান হওয়ার সুযোগ আসে। এরা কিছুটা অপরিষ্কার থাকতে ভালবাসে।
৩। লগ্নের তৃতীয়ে রাহু উদ্যমী, জনপ্রিয়, হস্তশিল্পে দক্ষ হয়। যে কোন উপায়ে কার্যসিদ্ধি করতে এরা পটু হয়। এরা লড়াকু ও সাহসী মানসিকতার হয়। অভিনয়ে পারদর্শী হয়।
৪। লগ্নের চতুর্থে রাহু ঘুরতে ও বেড়াতে ভালবাসে। একাধিক গাড়ি বাড়ির ইচ্ছা, পরিবারের সূত্রে লাভ, দৃঢ় মানসিকতার ও ভূসম্পত্তি প্রিয় হয়।
৫। লগ্নের পঞ্চমে রাহু অতি রোমান্টিক, যৌনকলায় পারদর্শী, তীক্ষবুদ্ধি দ্বারা কাউকে ফাঁসানো সক্ষম হয়। ব্যবসায়ে সফল, সব কাজে মধ্যস্থতা করে। এরা হঠাৎ বিখ্যাত হয়ে যায়। বহু সন্তানের পিতা বা মাতা হয়।
৬। লগ্নের ষষ্ঠে রাহু প্রচন্ড উদ্যমী, জেদী, পরিশ্রমী, চাকরিজীবী, রস জ্ঞান সম্পন্ন হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে যে কোনও ভাবে বুঝিয়ে তার প্রিয়পাত্র হতে পারে এরা। এদের আইনি জ্ঞান থাকে। এরা শত্রুজয়ী হয়।
৭। লগ্নের সপ্তমে রাহু অলস প্রকৃতির হলেও নানা উপায়ে অর্থশালী, জনপ্রিয়, সকল কামনা বাসনা তৃপ্ত, ইন্দ্রিয়সুখে সুখী হয়। এদের একের অধিক ব্যবসা থাকে।
৮। লগ্নের অষ্টমে রাহু অর্থ বা সম্পত্তি কেনা বেচা ব্যবসায়ে লাভবান হয়। এরা উগ্রকামুক ও শয্যাসঙ্গীকে সুখদানে সক্ষম হয়। পারিবারিক সূত্রে এরা অর্থবান হয়।
৯। লগ্নের নবমে রাহুর হঠাৎ সৌভাগ্যের যোগ থাকে। পিতার দ্বারা সৌভাগ্যশালী, বহু তীর্থ ভ্রমণে সক্ষম হয় এরা। এরা প্রচণ্ড যুক্তিবাদী, একাধিক কর্মে সফল হয়। প্রেমে সাফল্য পায় এরা।
১০। লগ্নের দশমে রাহু বহু কর্মে যুক্ত, পিতৃধনে ধনী হয়। এদের কর্মক্ষেত্র হয় পরিবর্তনশীল। এরা বাকপটু হয়। উপরি অর্থ প্রাপ্তির সুযোগ আসে এদের।
১১। লগ্নের একাদশে রাহু হঠাৎ প্রচুর ধনপ্রাপ্তির সুযোগ এনে দেয়। এদের প্রচুর ভ্রমণ হয়। এদের ভ্রমণ সূত্রে অর্থ লাভ হয়।
১২। লগ্নের দ্বাদশে রাহু শয্যাসুখে সুখী করে। এরা অর্থলগ্নি সূত্রে বহু আয় করে। বিবাহ সংক্রান্ত মামলা থেকে আয় বেশী(আইনজীবী) করে।
★ রাহু শুভ হলে -- উচ্চ পদের চাকুরি, ব্যবসায় সাফল্য, রাজনীতিতে সাফল্য, হঠাৎ বিপুল অর্থপ্রাপ্তি, শেয়ার ব্যবসায় অর্থ লাভ, সৃজনশীলতা, বৈদেশিক ভাষায় দক্ষতা, সমাজ কল্যাণমুলক কাজে আগ্রহ ও সাফল্য, উচ্চশিক্ষা, কারিগরি কাজ/বিদ্যায় দক্ষতা।
রাহু অশুভ হলে -- উৎকণ্ঠা, অর্থনাশ, স্বাস্থ্যহানি, আতঙ্ক, মর্যাদাহানী, বিব্রতকর পরিস্থিতির স্বীকার, ক্ষমতার অপব্যবহার, মাদকাসক্ততা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা, উৎসাহ উদ্যমের ঘাটতি, আইনগত ঝামেলা/হয়রানী, কারাবরন, চোরের উপদ্রপ, ক্রমাগত দুঃস্বপ্ন দেখা, প্রবাস জীবন, প্রবাসে সমস্যা, অশুভ শক্তি- ভুত-প্রেতাত্মা-ব্ল্যাক ম্যাজিক দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া, চর্মরোগ, কুষ্ঠ, উন্মাদ, অশান্তি, এমন রোগ যার কারন শনাক্ত করা যাচ্ছে না, একাকীত্ব, মানসিক সমস্যা, দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পাওয়া।



প্রতিবিধান ---
১) রত্ন গোমেদ -- ৯-১০ রতি।
২) মূল -- শ্বেত চন্দন মূল বা দূর্বা মূল।
৩) দেবী ছিন্নমস্তার পূজা।
রাহু বীজ মন্ত্র – ওঁ ঐং হ্রীং রাহবে। বা
রাহু বীজ মন্ত্র - ওঁ ভ্রাঁ ভ্রীং ভ্রৌং সঃ রাহবে নমঃ
জপ সংখ্যা – ১২০০০ বার।
গায়ত্রী– ওঁ শিরোরূপায় বিদ্মহে অমৃতেশায় ধীমহিঃ তন্নঃ রাহুঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম মন্ত্র --
ওঁ অর্দ্ধকায়ং মহাঘোরং চন্দ্রাদিত্যবিমর্দকম্।
সিংহিকায়াঃ সুতং রৌদ্রং তং রাহুং প্রণমাম্যহম্॥
ইষ্টদেবতা – ছিন্নমস্তা।
ধারণরত্ন – গোমেদ,
ধূপ – দারুচিনি,
বার – শনি/মঙ্গল বার,
প্রশস্ত সময় – সন্ধ্যাবেলা।

কালসর্প যোগ

ভারতীয় জ্যোতিষ শাস্ত্রে গ্রহগণের অবস্থান অনুযায়ী শুভ ও অশুভ যোগ সৃষ্টি হয়। এমনি এক অশুভ যোগ হল কালসর্প যোগ। রাহু এবং কেতু সব সময় নিজেদের সম সপ্তমে অর্থাৎ ১৮০ ডিগ্রি দুরত্বে অবস্থান করে। রাহু ও কেতুর মাঝখানে যখন সমস্ত গ্রহ চলে আসে তখন এই যোগ হয়। রাহু কে সাপের মুখ ও কেতুকে সাপের লেজ মান্য করা হয়। এর মধ্যে অর্থাৎ (সাপের পেটে) সমস্ত গ্রহ চলে আসে তখন এই যোগ সৃষ্টি হয়। এই যোগ খুব পীড়াদায়ক হয়। বিশেষ করে রাহু, কেতুর দশা মহাদশায় এবং গোচরে রাহু, কেতু যখন নিজ ভাব দিয়ে পাস করবে। রাহু ও কেতুর অবস্থান অনুযায়ী ১২ টি ভাবের জন্য ১২ রকম কালসর্প যোগ হয় এবং প্রত্যেক কালসর্প যোগ আলাদা আলাদা ফল দেয়।


১> অনন্ত নাগ কালসর্প যোগ
-------------------------------------------
রাহু লগ্নে ও কেতু সপ্তমে থাকলে অনন্ত কালসর্প যোগ হয়। এই যোগে পীড়িত ব্যাক্তিরা শারিরিক ও মানসিক ভাবে খুব বিব্রত থাকেন এবং মামলা মকদ্দমায় জড়িয়ে পড়েন এই যোগের ব্যাক্তিরা খুব সাহসী হয়ে থাকেন ।
২> কুলিক কালসর্প যোগ
--------------------------------------
রাহু দ্বিতীয়ে ও কেতু অষ্টমে থাকলে কুলিক কালসর্প যোগ হয়। এই যোগে প্রভাবিত ব্যাক্তিরা আর্থিক কষ্টে ভোগেন। পারিবারিক অশান্তি লেগেই থাকে এবং সামজিক ভাবে ও কর্মে প্রতিষ্ঠা পায়না।
৩> বাসুকি নাগ কালসর্প যোগ
-------------------------------------------
রাহু তৃতীয়ে ও কেতু নবমে থাকলে এই কালসর্প যোগ হয়। এই যোগে প্রভাবিত ব্যাক্তিদের জীবন খুব সংঘর্ষ ময় হয়। চাকরি এবং ব্যাবসায় সমস্যা লেগেই থাকে। ভাতৃ সুখের অভাব হয়। ভাগ্য এদের কখনও সাথ দেয় না।
৪> শঙ্খপাল কালসর্প যোগ
---------------------------------------
রাহু চতুর্থে এবং কেতু দশমে অবস্থান করলে এই যোগ হয়। এই যোগে প্রভাবিত ব্যাক্তিদের কিছুটা অর্থ কষ্ট ভোগ করতে হয়। মানসিক ভাবে এবং পরিবার পরিজনের কাছ থেকে এরা কষ্ট পেয়ে থাকে। এদের মাতৃ সুখ হয় না। জমি, বাড়ি নিয়ে এরা সমস্যায় থাকেন।
৫> পদ্মনাগ কালসর্প যোগ
-------------------------------------
পঞ্চমে রাহু ও একাদশে কেতু থাকলে পদ্মনাগ কালসর্প যোগ হয় । এই যোগে প্রভাবিত ব্যাক্তিদের মিথ্যা বদনাম হয় । সন্তান সুখে বাধা । উচ্চ শিক্ষা ও ধন প্রাপ্তিতে বাধা হয় ।
৬> মহাপদ্ম নাগ কালসর্প যোগ
------------------------------------------
ষষ্ঠে রাহু ও দ্বাদশে কেতু থাকলে এই যোগ হয়। এদের মাতুল সুখ হয় না বা মাতুল থেকে কষ্ট পেয়ে থাকেন। প্রেমে সাফল্য আসে না। এবং অনেক লম্বা সময় পর্যন্ত এরা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগে থাকে।
৭> তক্ষক কালসর্প যোগ
-----------------------------------
এই যোগ অনন্ত কাল যোগের ঠিক উল্টো অর্থাৎ কেতু লগ্নে ও রাহু সপ্তমে অবস্থান করে। এই যোগে প্রভাবিত ব্যাক্তিদের বিবাহিত জীবন খুব অশান্তি পূর্ণ হয়ে থাকে এবং চাকরি ও ব্যাবসায় বার বার ক্ষতি হয়। এবং মানসিক অশান্তি হয়।
৮> কর্কটক কালসর্প যোগ
------------------------------------
দ্বিতিয়ে কেতু ও অষ্টমে রাহু থাকলে এই যোগ হয়। এই যোগে প্রভাবিত ব্যাক্তিরা খুব ছোটখাটো সমস্যা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করেন। এরা কখনও শান্ত ভাবে থাকতে পারেনা। পর্যাপ্ত টাকা পয়সা কখনও এদের হাতে থাকে না।
৯> শঙ্খচূড় কালসর্প যোগ
-------------------------------------
তৃতীয়ে কেতু ও নবমে রাহু অবস্থান করলে এই যোগ সৃষ্টি হয়। এই যোগে প্রভাবিত ব্যাক্তিদের পিতৃ সুখ হয় না। ভাগ্য সবসময় নিজের অনুকুলে থকে না। নিজের ব্যবসায় লোকসান হয়ে থাকে।
১০> ঘাতক কালসর্প যোগ
-------------------------------------
কোষ্ঠীতে চতুর্থে কেতু ও দশমে রাহু থাকলে এই যোগ হয়ে থাকে। এই যোগে গৃহে কলহ অশান্তি লেগে থাকে। কর্ম ক্ষেত্রে খুব সংঘর্ষ করতে হয়।
১১> বিষধর কালসর্প যোগ
-------------------------------------
কেতু পঞ্চমে ও রাহু একাদশে অবস্থান করলে এই যোগ হয়। এই যোগে প্রভাবিত ব্যাক্তিরা নিজের সন্তানের কাছ থেকে কষ্ট পেয়ে থাকেন। এদের নেত্র ও হৃদ রোগ হতে পারে। এদের স্মরণ শক্তি খুব দুর্বল হয়। উচ্চ শিক্ষায় বাধা এবং সামজিক ভাবে এরা প্রতিষ্ঠা পায় না।
১২> শেষনাগ কালসর্প যোগ
--------------------------------------
ষষ্ঠে কেতু ও দ্বাদশে রাহু থাকলে এই যোগ হয়। এই যোগের ব্যাক্তিদের প্রচুর গুপ্ত শত্রু থাকে যারা এদের প্রতি সবসময় ষড়যন্ত্র করতে থাকে এমনকি শত্রুরা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়। এই যোগে মানসিক অশান্তি ও মিথ্যা বদনাম হয়। এই যোগের ব্যাক্তিদের মৃত্যুর পরে মানুষ খুব গুণগান করে।
আপনার কোষ্ঠীতে কালসর্প যোগ থাকলেই যে সব সময় অশুভ ঘটনা ঘটবে তা কিন্তু নয়। কিছু শুভ গ্রহের বা শুভ ভাবের দৃষ্টি অথবা প্রেক্ষা পেলে অশুভ ভাব কিছুটা কাটবে। মনে রাখবেন জন্মগত জ্যোতিষীক যোগ বা ভাব কখনোই কোনও প্রতিকারে দূরীভূত হয় না শুধুমাত্র প্রশমিত হয় মাত্র।

Wednesday, April 17, 2019

রাশি অনুযায়ী গণেশ মন্ত্র পাঠ করুন, সমস্যার সমাধান হবে

গণেশের সাধনা করে জীবনের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব। গণেশের কৃপালাভ করলে সমস্ত কাজেই সিদ্ধিলাভ হয়। পুরাণে বলা হয়েছে যে, গণেশজির ১২টি নামের অসীম মাহাত্ম্য। এই ১২টি নামের সঙ্গে ১২টি রাশি যুক্ত। এখন দেখে নেওয়া যাক আপনার রাশি অনুযায়ী কে কোন মন্ত্র পাঠ করবেন ---
রাশি গণেশজির নাম গণেশজির মন্ত্র
--- ---- ------ ------ ----- ---- ------ --- ----- -----
মেষ -- বক্রতুণ্ড -- ওঁ বক্রতুণ্ডায় নমঃ
বৃষ -- একদন্ত -- ওঁ একদন্তায় নমঃ
মিথুন -- কৃষ্ণপিঙ্গাক্ষ -- ওঁ কৃষ্ণপিঙ্গাক্ষায় নমঃ
কর্কট -- গজবক্ত্র -- ওঁ গজবক্ত্রায় নমঃ
সিংহ -- লম্বোদর -- ওঁ লম্বোদরায় নমঃ
কন্যা -- বিকট -- ওঁ বিকটায় নমঃ
তুলা -- বিঘ্নরাজেন্দ্র -- ওঁ বিঘ্নরাজেন্দ্রায় নমঃ
বৃশ্চিক -- ধূম্রবর্ণ -- ওঁ ধূম্রবর্ণায় নমঃ
ধনু -- মহোদর -- ওঁ মহোদরায় নমঃ
মকর -- বিনায়ক -- ওঁ বিনায়কায় নমঃ
কুম্ভ -- গণপতি -- ওঁ গণপতয়ে নমঃ
মীন -- গজানন -- ওঁ গজাননায় নমঃ
ক্রিয়াটি কী ভাবে সম্পন্ন করবেন --- প্রথমে শ্রী গণেশের পূজা করুন। তারপর প্রতি দিন প্রথমে উপরে লেখা ১২টি গণেশ-মন্ত্র এক বার করে পাঠ করুন। তার পর আপনি আপনার রাশি অনুসারে গণেশজির মন্ত্র ১০৮ বার জপ করুন। ভক্তিভরে এই ভাবে জপ করলে জীবনের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব।
-
গণেশের ধ্যান –
“খর্বং স্থূলতনুং গজেন্দ্রবদনং লম্বোদরং সুন্দরং
প্রস্যন্দন্মদ্গন্ধলুব্ধমধুপব্যালোলগণ্ডস্থলম্।
দন্তাঘাতবিদারিতারিরুধিরৈঃ সিন্দূরশোভাকরং
বন্দে শৈলসুতাসুতং গণপতিং সিদ্ধিপ্রদং কামদম্।।”
------- অর্থাৎ, “যিনি খর্বাকৃতি, স্থূলশরীর, লম্বোদর, গজেন্দ্রবদন অথচ সুন্দর; বদন হইতে নিঃসৃত মদগন্ধে প্রলুব্ধ ভ্রমরসমূহের দ্বারা যাঁহার গণ্ডস্থল ব্যাকুলিত; যিনি দন্তাঘাতে শত্রুর দেহ বিদারিত করিয়া তাহার দন্ত দ্বারা নিজ দেহে সিন্দূরের শোভা ধারণ করিয়াছেন; সেই পার্বতীপুত্র সিদ্ধিদাতা ও কামদাতা গণপতিকে বন্দনা করি।”
গণেশের প্রণামমন্ত্র –
"একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদরং গজাননং।
বিঘ্ননাশকরং দেবং হেরম্বং প্রণমাম্যহম্।।"
--------- অর্থাৎ, “যিনি একদন্ত, মহাকায়, লম্বোদর, গজানন এবং বিঘ্ননাশকারী সেই হেরম্বদেবকে আমি প্রণাম করি।”
গণেশের প্রার্থনামন্ত্র –
দেবেন্দ্রমৌলিমন্দারমকরন্দকণারুণাঃ।
বিঘ্নং হরন্তু হেরম্বচরণাম্বুজরেণবঃ।।
---------- অর্থাৎ, “দেবরাজ ইন্দ্রের মস্তকে বিরাজিত মন্দারপুষ্পের পরাগসমূহের দ্বারা রক্তিম হেরম্বের পাদপদ্মের রেণুসমূহ আমার বিঘ্নহরণ করুক।”

Sunday, April 14, 2019

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পরম শিবভক্ত।

গিরীধারী, গোপীজনবল্লভ। তিনি সুদর্শনধারী, রুক্ষ্মিণীপতি, যোগেশ্বর। তিনি সর্বগুণের আশ্রয় এবং শিবমন্ত্রে দীক্ষিত।

★"সান্দীপনিং সমাসাদ্য ততশ্চ শিবমন্ত্রকম্।
সম্প্রাপ্য তৎপ্রভাবেন বিদ্যাঃ সর্ব্বাঃ স্বয়ং প্রভুঃ।।"
------ জ্ঞান সংহিতা।
অর্থাৎ " প্রভু কৃষ্ণ গুরু সান্দীপনির আশ্রমে গমন করে তাঁর নিকট হতে শিবমন্ত্রে দীক্ষা গ্রহন করেন। শ্রীকৃষ্ণ অল্পকালের মধ্যেই শিবমন্ত্র প্রভাবে সর্ব বিদ্যা আয়ত্ব করেন।"

সুতরাং শ্রীকৃষ্ণ পরম শৈব ছিলেন। তিনি শিবারাধনা করতেন। শ্রীকৃষ্ণ শিবের কৃপাতেই সর্বশক্তি প্রাপ্ত হন। কেননা শাস্ত্রে বলা হয়েছে--

★"বরাংশ্চ বিবিধান্ লব্ধা তম্মাদ্দেবান্মহেশ্বরাৎ।
অজেয়স্ত্রিষু লোকেষু দেবদেবো জনার্দ্দনঃ।।"
-----সৌরপুরান।

--- "দেবদেব জনার্দন, সেই দেবাদিদেব মহেশ্বরের নিকট থেকে বিবিধ বর লাভ করে ত্রিলোকে অজেয় হয়েছেন।"

শ্রীকৃষ্ণ যে শিবভক্ত ছিলেন, তা তো অন্ধরা স্বীকার করবে না। কারন তাদের জ্ঞান মায়ার দ্বারা অপহৃত হয়েছে। ভক্তিহীন মোহিত অন্ধরা শিবকে কৃষ্ণের দাসানুদাস, আজ্ঞাবহ এই রকম অপকথা প্রচার করছে।  পরমেশ্বর শিবকে দাস প্রমাণ করার জন্য শাস্ত্রের অপব্যাখ্যা করেই চলেছে। আর তাদের অমার্জিত ভাষা আর কি বলব!!!! তারা শাস্ত্রজ্ঞানে অনভিজ্ঞ সহজ সরল মানুষদের, অর্ধশিক্ষিতদের, সম্মানলোভীদের সহজেই তোষামোদ আর অপব্যাখ্যায় ভ্রমিত করে দল ভারী করতে নিজ দলে অন্তর্ভূক্ত করে নেয়।
এইসব শিব বিরোধীরা "বৈষ্ণবানাং যথা শম্ভু" কিংবা "ক্ষীরং যথা দধি বিকার বিশেষ যোগাৎ" কিংবা " ঈশ্বর পরম কৃষ্ণ" প্রভৃতি শ্লোকের অপব্যাখ্যা করে শিব ও শৈব বিরোধী মতবাদ প্রচার করছে।

শাস্ত্র তাই বলেছেন-
★"সমুৎপতস্যন্তি দৈত্যাশ্চ ঘোরেহস্মিন্ বৈ কলৌ যুগে।।
শিবোক্তং কর্ম্মযোগঞ্চ দ্বেষন্তশ্চ কুযুক্তিভিঃ।।"

--- "এই ঘোর কলিযুগে নিহত দৈত্যরা পুনরায় জন্মগ্রহণ করে কুযুক্তি দিয়ে শিবোক্ত কর্মযোগের বিদ্বেষ করবে।"

হচ্ছেও তাই। সেজন্য স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ এইসব শিব বিদ্বেষীদের প্রসঙ্গে বলেছেন-

★"যো মাং সমর্চ্চয়েন্নিত্যমেকান্তং ভাবমাশ্রিতঃ।
বিনিন্দন দেবমীশানং স যাতি নরকাযুতম্।।"
---------- কুর্ম্ম পুরানম্।

----- "যে ব্যক্তি একান্ত ভক্তি সহকারে প্রতিদিন আমার অর্চনা করে কিন্তু মহেশ্বরের নিন্দা করে, তাকে সহস্র সহস্র নরকে গমন করতে হয়।"

জানি এইসব কথায় অসাধুরা সংযত হবেনা, বরং ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে উঠবে। তারা যে কত শিব বিদ্বেষী তা বুঝা যায় যখন শিবের প্রসাদকে তারা অবজ্ঞা করে। কত নিকৃষ্ট তাদের ভাবনা!!!!! এরা পরম শৈব কৃষ্ণকে দেয়া ভোগ উনারই আরাধ্য শিবকে দেয়। মানে কৃষ্ণের উচ্ছিষ্ঠ এরা শিবকে নিবেদন করে। ক্তবড় মহাপাপী!!!! 
পক্ষান্তরে শৈবরা ভক্তিভরে কৃষ্ণের প্রসাদ গ্রহণ করেন। শৈবরা জানেন কৃষ্ণ হচ্ছেন শিবেরই রূপভেদ।

ভগবান কৃষ্ণ সর্বদাই শিবকে আশ্রয় করে থাকেন। তিনি শিবেরই পরম ভক্ত। শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং বলেছেন-

★"স্থানং প্রাহুরনাদিমধ্যনিধনং যস্মাদিদং জায়তে।
নিত্যং ত্বাহমুপৈমি সত্যং বিভবং বিশ্বেশ্বরং তং শিবম্।।"
-------কুর্ম্ম পুরাণম্।

---"যিনি অনাদি-মধ্য-নিধনস্থানরূপ এবং সমস্ত জগৎ যা হতে উৎপন্ন হয়েছে, আমি সেই সত্য বিভব বিশ্বেশ্বর শিবকে প্রতিনিয়ত আশ্রয় করি।"

প্রভু শ্রীকৃষ্ণ এমনই ভক্ত যে তিনি ভক্তি বিনম্র চিত্তে শিব দর্শনের জন্য আকুল হয়ে মহামুনি উপমন্যুকে বলেছিলেন-

★"ধন্যস্ত্বমসি বিপ্রেন্দ্র কস্ত্বত্তেহস্তীহ পুণ্যকৃৎ।
যস্য দেবাদিদেবস্তে সান্নিধ্যং কুরুতে শ্রমে।।
দর্শনং মুনিশার্দ্দূল দদ্যাৎ স ভগবান শিবঃ।
অপি তাবন্মমাপ্যেবং প্রসাদং বা করোত্বসৌ।।
--------------ধর্ম সংহিতা।

------ " হে বিপ্রেন্দ্র! আপনিই ধন্য, এ জগতে কোন ব্যক্তি আপনা অপেক্ষা পুণ্যবান আছে? দেবদেবও যাঁর আশ্রমে সন্নিহিত থাকেন। হে মুনিশ্রেষ্ঠ! সেই ভগবান শিব কি আমাকে দেখা দিবেন? তিনি কি আমার প্রতি এরূপ অনুগ্রহ করবেন?"

শিবকৃপা লাভের জন্য মহামুনি উপমন্যু আশ্রমে শিবকথা শ্রবনে আট দিন অতিবাহিত হলে শ্রীকৃষ্ণ নবম দিবসে গুরু উপমন্যুর নিকটে শৈবমন্ত্রে দীক্ষা নিয়েছিলেন। যথাঃ-

★"নবমে তু দিনে প্রাপ্তে মুনিনা স চ দীক্ষিতঃ।
মন্ত্রমধ্যাপিতঃ শার্ব্বমথর্ব্বশিরসং মহৎ।।"
------------বায়বীয় সংহিতা।

ভগবান শিব পরম ভক্তবৎসল। তিনি শ্রীকৃষ্ণকে পরম ভক্ত রূপে গ্রহণ করেছেন।

★"পার্বত্যাশ্চ মুখং প্রেক্ষ্য ভগবান ভক্তবৎসলঃ।
উবাচ কেশবং তুষ্টো রুদ্রশ্চাথ বিড়ৌজসঃ।।
কৃষ্ণ জানামি ভক্তং ত্বাং ময়ি নিত্যং দৃঢ়ব্রতঃ।
বৃণীস্বাষ্টৌ বরান মত্তঃ পুণ্যাংস্ত্রৈলোক্যদুর্লভান।।"
-------- বায়বীয় সংহিতা।

---"ভক্তবৎসল ভগবান শঙ্কর পার্বতীর প্রতি দৃষ্টিপাত করে কেশবকে বললেন, হে কৃষ্ণ! তোমার প্রতি অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়েছি এবং তোমাকে দৃঢ়ব্রত ও নিত্য ভক্ত বলে জানি। আমার নিকট হতে পবিত্র ও ত্রৈলোক্য-দুর্লভ আটটি বর প্রার্থনা কর।"

সুতরাং শাস্ত্র স্পষ্ট ভাষায়ই বলেছেন যে, শ্রীকৃষ্ণ পরম শৈব।

★"ন কৃষ্ণাদধিকস্তস্মাদস্তি মাহেশ্বরাগ্রণী।।"

অর্থাৎ "কৃষ্ণ অপেক্ষা শৈবশ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই।"

যাই হোক, শিবভক্তিই পরম প্রাপ্তি। আর শিবভক্তি পরম দুর্লভ। কোটি কোটি জন্মের অর্জিত পুণ্যফলেই কারো হৃদয়ে শিব ভক্তির সঞ্চার হয়। অসৎ কর্মের জন্য যাদের কোটি কোটি জন্মের পাপরাশি সঞ্চিত রয়েছে, সেই রকম মোহান্ধ ব্যক্তিদের হৃদয়ে শিব ভক্তি সঞ্চারিত হয় না। কিন্তু পরম প্রভু সর্বশক্তিমান, ভক্তবৎসল, পরম করুণাময়। তিনি সকলের হৃদয়ে প্রেমভক্তি সঞ্চার করুন।

Friday, April 12, 2019

রাশি অনুযায়ী ঘুম

আহার, নিদ্রা, বিশ্রাম, মনের শান্তি এসব সুস্থতার জন্য প্রয়োজন। আসলে
মানুষের শরীরটাই চলে এক বিশাল কম্পিউটারের মতো। মানব শরীরের বিভিন্ন যন্ত্রের কর্মক্ষমতা যদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায় তাহলে দেখা যাবে একটি সুক্ষ্ম অত্যাধুনিক কম্পিউটারের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানব শরীরের এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চলছে বিরামহীনভাবে।
তাই মানব শরীরকে যথাযথ কর্ম করতে হলে প্রয়োজন নিয়মিত বিশ্রাম ও ঘুম। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। আর পরিমিত ঘুম হলে শরীর, মন, মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে কাজ করার জন্য প্রস্তুত হয়। ফলে কাজের পারফরম্যান্স বা আউটপুট ভালো হয়।
এ ছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পরিমিত ঘুমের পাশাপাশি সকালে ঘুম থেকে ওঠেন, জগিং করেন, প্রার্থনা করেন, তাদের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা কম হয়, কাজের গতি বাড়ে ও আউটপুট ভালো হয়। তাই দৈনিক অন্তত: ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমাতে চেষ্টা করুন ও সুস্থ থাকুন।
মনোবিজ্ঞানীদের গবেষণা থেকে দৈনন্দিন জীবনে ব্যক্তির আচরণ এবং নিজেকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতার সঙ্গে ঘুমের যোগসূত্রের বিষয়টি উঠে এসেছে। গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ঘুমের অভ্যাস ও আত্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়টি একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত এবং এই দুটোকে কাজে লাগিয়ে প্রতিদিনের কাজকর্ম ঠিকঠাক রাখা যায়। ঘুমের অভ্যাস ঠিক করতে পারলে সারা দিনের কর্মশক্তি বাড়ে, আচরণ সাবলীল হয়, কাজে মনোযোগ বেশি থাকে এবং ঠিকঠাক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়। ফলে প্রতিদিনের জীবনে নিজেকে নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ঘুমের অভ্যাস ঠিকঠাক করার বিষয়ে আমাদের মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।
ঘুম বা নিদ্রা হচ্ছে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর দৈনন্দিন কর্মকান্ডের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যখন সচেতন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া স্তিমিত থাকে। নিষ্ক্রিয় জাগ্রত অবস্থার সাথে ঘুমন্ত অবস্থার পার্থক্য হল এ সময় উত্তেজনায় সাড়া দেবার ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং শীতনিদ্রা বা কোমার চেয়ে সহজেই জাগ্রত অবস্থায় ফেরত আসা যায়। সকল স্তন্যপায়ী ও পাখি এবং বহু সরীসৃপ, উভচর এবং মাছের মধ্যে ঘুমানোর প্রক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। মানুষ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী এবং অন্য বেশ কিছু প্রানীর (যেমন কিছু প্রজাতির মাছ, পাখি, পিঁপড়া এবং ফ্রুটফ্লাই) অস্তিত্ব রক্ষার জন্যে নিয়ম মত ঘুম আবশ্যক। ঘুমানোর কারণ সম্বন্ধে বিজ্ঞানীরা এখনো পুরোপুরি জানতে পারেননি এবং তা নিয়ে বর্তমানে গবেষণা চলছে। আর একটি ব্যপার। ঘুমন্ত মানুষের চেহারা কোন এক অজানা অতিরিক্ত আবেগ অনুভূতি কাজ করে। যা তার গোপন এক প্রাকৃতিক নিরাপত্তা দেয়।
বয়স অনুপাতে আপনার ভিন্ন ধরনের ঘুম দরকার। বাচ্চাদের – ১৬ ঘন্টা, ৩ থেকে ১২ বছর – ১০ ঘন্টা, ১৩ থেকে ১৮ বছর – ১০ ঘন্টা, ১৯ থেকে ৫৫ বছর – ৮ ঘন্টা, ৬৫ বছরের উপরে – ৬ ঘন্টা।
ঘুম কম হওয়াটা চলতেই থাকে, তাহলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও মুটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, নিয়মিত অতিরিক্ত ঘুমালেও স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলো বেড়ে যেতে পারে।
আসুন, জেনে নিই কোন রাশি অনুযায়ী কোনও ব্যক্তির কতটুকু ঘুম হয় বা হওয়া উচিত।
মেষ - এই রাশির জাতক-জাতিকারা অতিমাত্রায় সক্রিয় এবং উত্তেজিত। সারাদিন নানা কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখে মেষ। এদের চোখে ঘুম নেই বললেই চলে। ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করায় বিশ্বাসী নয়। এরা দেরি করে শুতে যায়। উঠে পড়ে অনেক সকালে।
বৃষ - ঘুম এদের মারাত্মক প্রিয় কাজ। এরা যেখানে-সেখানে যখন-তখন ঘুমিয়ে পড়তে পারে। বৃষ রাশির গ্রহ শুক্র। ফলত, শুক্রের প্রভাবে এরা ঘুমোয় বেশি। সুযোগ পেলে এরা সারাদিন ঘুমোতে পারে।
মিথুন - ঘুমের সমস্যা থাকে মিথুন রাশির জাতক-জাতিকাদের। এরা ইনসমনিয়ার শিকার। জীবনের যাবতীয় সমস্যা এরা রাতে শুতে যাওয়ার সময়ও সঙ্গে করে নিয়ে যায়। ফলত, দুশ্চিন্তায় এদের ঘুম আসতে চায় না। আবার অনেক মিথুনই ঘুম কাতুরে।
কর্কট - মিথুনের মতো কর্কটও ইনসমনিয়ায় ভোগে। কারোর কারোর আবার ঘুম বেশি। কিছু কর্কট জাতক-জাতিকা রাতে দুঃস্বপ্নও দেখে। ভয়ের স্বপ্ন দেখে লাফিয়ে জেগে ওঠে।
সিংহ - কোলবালিশ ছাড়া ঘুমোতে পারে না সিংহ রাশির নারীপুরুষ। এদের ঘুমোতে সময় লাগে। কিন্তু একবার ঘুমোলে চট করে ওঠে না। এরা রাত জেগে থাকতে পারে না। দিনের শেষে চায় পরিপূর্ণ ঘুম।
কন্যা - স্বাস্থ্য ও ঘুম নিয়ে আপোস করে না কন্যা রাশির নারীপুরুষ। এরা ঘড়ি মিলিয়ে ৮ ঘণ্টা ঘুমোনোর পক্ষপাতি। কিন্তু মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগত সমস্যা ও অফিসের টেনশন এদের ঠিকমতো ঘুমোতে দেয় না।
তুলা রাশি - এরা সব ব্যাপারে ব্যালেন্স করে চলতে পছন্দ করে। একদিন রাতে ৩ ঘণ্টা ঘুমোলে পরদিন ১২ ঘণ্টা ঘুমিয়ে ক্ষতিপূরণ করে নেয়।
বৃশ্চিক - রহস্য ঘিরে থাকে বৃশ্চিকদের। এদের ঘুমের কোনও নির্দিষ্ট থাকে। যখন-তখন ঘুমিয়ে পড়তে পারে। এরা সারারাত জেগে গুরুত্বপূর্ণ কাজে মগ্ন থাকতে পারে।
ধনু - এরা রোমাঞ্চপ্রিয়। দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসে। পার্টিপ্রিয়। মাঝেমধ্যে ক্লান্ত হলে লম্বা ঘুম দেয়। চঞ্চল হওয়ার কারণে খুব তাড়াতাড়ি শক্তি হারিয়ে যায়। এরা স্বপ্ন সত্যি করায় বিশ্বাসী।
মকর - খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্বভাবের হয় মকর রাশির নারীপুরুষ। কাজে সাফল্য পেলে ভালো ঘুম হয় এদের। বিলাসিতা করতে পছন্দ করে। সুন্দর পালঙ্কে নিদ্রা এদের ভালো লাগে।
কুম্ভ - ঘুম-এ বিশ্বাস করে কুম্ভ রাশির নারীপুরুষ। এরা অবাস্তব স্বপ্ন দেখে না। মাঝেমধ্যে এদের ঘুম উড়ে যায়। রাতে শুয়ে জীবনের সমস্যার সমাধান করে কুম্ভ রাশির নারীপুরুষ। তাই ঘুমের বারোটা বেজে যায় সহজে।
মীন - মীনরা ঘুমোতে ও স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। আনন্দের সময় মীনদের ঘুমের পরিমাণ কমে যায়। কিন্তু দুঃখ পেলে এরা অনেক ঘুমোতে পারে। তাই মেজাজ এদের ঘুমকে নিয়ন্ত্রণ করে।

Monday, March 25, 2019

ইস্কনী অসুরদের কিছু প্রশ্নের উত্তর!


যারা অনলাইনে নিয়মিত এরা দেখে থাকবেন অনেক মুসলিম পেজে একটা হিন্দু বিদ্বেষী পোস্ট খুব ঘুরে বেড়ায় । হিন্দু ভায়েরা মন খারাপ করবেন না। আমি শুধু জানতে চাই..... (https://www.facebook.com/biswahinduporishad/posts/906298112741835

যারা দেখেন নাই দেখে নিন। ঠিক একি ভাবে হিন্দুদের মাঝে আরও বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য ইস্কনের কৃৈষ্ণবরা পাগলের প্রলাপের মতন একটি পোষ্ট ভাইরাসের মতন ছড়িয়ে যাচ্ছেন। যাতে মানুষের মাঝে ইস্কন নিয়ে কোন সন্দেহ না থাকে। আর এরা এদের নোংরা ধর্ম ব্যাবসা আরও দ্বিগুণ গতিতে ছড়াতে পারে। যারা দেখেন নাই দেখে নিন (https://www.facebook.com/UnitedHinduBengali/posts/480507685407083:0) বলা বাহুল্য ফেসবুকে যত হিন্দু পেজ দেখেন তাঁর ৮০-৯০% পেজ ইস্কনের হয়ে কাজ করে থাকে। এর মাঝে সবথেকে বড় ইস্কনী পেজ হল United Hindu concern নামে এই পেজটি।
যাইহোক এদের এসব ছ্যাব্লামির উচিৎ দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেবার তাগিত অনুভব করলাম।  যে যেভাবে পারেন কপি করেন। কারন আমাদের উদ্দেশ্য নিজেদের নাম ফাটানো নয়। আসুরিক সচেতনতা তৈরি করা। তাই আমাদের কোন কপিরাইট নেই। অনুমুতি ছাড়াই কপি করেন।





যেসব হিন্দু ইসকনকে সহ্য করতে পারে না
তাদের উদ্দেশ্যে লেখা:-

1. আপনি পারবেন পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে মিথি
নগরীতে নগর কীর্তন করতে?

উত্তরঃ প্রথমত কীর্তন কোন শাস্ত্রীয় কাজ না। আর যদি করা না করা হয়ে থাকে
তাহলে বলবো টাকা বা ডলার দিলে অসামা বিন লাদেনও পাকিস্তানে আস্তানা গাড়তে পারে।

2. পারবেন পাকিস্তানে ভক্তিবেদান্ত ট্রাস্ট, ইসকন
মন্দির গড়তে?

উত্তরঃ ইসকন কোন মন্দির না। যেখানে পরমেশ্বর শিবের অপমান হয় তা অসুরদের আস্তানা। তাই মন্দির বলে মন্দিরকে অপমান করার কোন মানে হয় না। আর ডলার থাকলে ইস্কন কেন? অনেক টেররিষ্ট অরগানাইজেসন বানানো যায়। আপনারা নিজেদের দেখেই বুঝে নিন।

3. ইরানে রথযাত্রা করতে পারবেন?

উত্তরঃ টাকা থাকলে কেন নয়?

4. যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে পারবেন রথযাত্রা,
জন্মাষ্টমী পালন করতে?

উত্তরঃ প্রাসদের লোভ দেখিয়ে সবই সম্ভব। যেমন আফ্রিকা তে খ্রিষ্টানরা বাইবেল বিলাচ্ছে। আর ঐখানে রথযাত্রা আর জন্মাষ্টমি পালন হয় মানে এই নয় এইখানে অন্যনায় পূজা হয়। ঐসব জায়গায় লাষ্ট কবে কালী পূজা বা দুর্গা পূজা হয়েছে? জানাবেন কিন্তু !

5. ইসলামী রাজতন্ত্র সৌদি আরবে পারবেন বাদশা
আব্দুল্লাহ'কে বেদ উপহার দিতে?

উত্তরঃ কোন ইস্কনী ছাগল এই কাজ করলো ছবি সহ প্রমান দিন। ইস্কন বেদ অস্বীকার করে। বেদ মানলে অশাস্ত্রীয় হরে কৃষ্ণ নাম আর কাল্পনিক রাধার পূজা করতো না।

6. অতীতের হিন্দু দেশ আজারবাইজানে পুনরায়
বৈদিক সনাতন ধর্ম প্রচার করতে?

উত্তরঃ আজারবাইজান হিন্দু দেশ ছিল প্রমান দিন ফ্রবু। আর হ্যাঁ সনাতন বৈদিক ধর্ম হল পঞ্চমতের পূজা আর তাঁর সম্মান। ইস্কন কাল্পনিক রাধার উপাসনা আর কৃষ্ণ নামক অবতারকে ঈশ্বর মানে যা মটেও বৈদিক নয়। তাই ফালতু প্যান প্যান বন্ধ করেন।

7. সাহস আছে ইসরাইলের তেল আবিবে নামহট্ট
মন্দির ও নগর কীর্তন করতে?

উত্তরঃ কেন নয়? ইসরাইল একটি উদার রাষ্ট্র। সেখানে আপনি আপনি হিন্দু ধর্মের নাম করে ইস্কন যা অপকর্ম করে যাচ্ছে তা টের পেলে তখন সাহসটা আপনাদের উপর ভারী হয়ে পড়তে পারে ফ্রবু। নামহট্ট মন্দির নামে কোন কিছু প্রাচীন ত্রেতা যুগ বা দ্বাপর যুগে ছিল কিনা দেখান তো? রেফারেন্স সহ । এসব অশাস্ত্রীয় ফালতু কাজ কারবার আপনাদের দ্বারাই সম্ভব। কীর্তন নিয়ে আগেই বলেছি। তাই এই নিয়ে খামাকা কথা বলছি না।

8. হরিনাম ছড়াতে পারবেন বানিজ্যিক রাজধানী
দুবাইয়ে?

উত্তরঃ হরিনাম না। অশাস্ত্রীয় হরে কৃষ্ণ নাম যার শাস্ত্রগত কোন ভিত্তি নেই।
শুধু যা করছেন তা টাকার জোরে। আপনাদের শাস্ত্রগত কোন ভিত্তি নেই।

9. বাহারাইনে পারবেন মন্দির তৈরী ও রাজপথে
কীর্তন করতে?

উত্তরঃমন্দির বানিয়ে আমরা যাগ যজ্ঞ করবো। রাস্তায় বগল তুলে নাচার কাম বাঁদরের। আমাদের মতন আর্যদের না।

10. কুয়েতে পারবেন রথযাত্রা র্যালি করতে?

উত্তরঃ আগেই এরকম ফালতু প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। তাই খামাকা একি ত্যানা পেচ্যানো বন্ধ করেন।

11. মিসরে পারবেন নামহট্ট মন্দির করার প্রস্তাব
করতে?
উত্তরঃনামহট্ট মন্দির নামে কোন কিছু প্রাচীন ত্রেতা যুগ বা দ্বাপর যুগে ছিল কিনা দেখান তো? রেফারেন্স সহ । এসব অশাস্ত্রীয় ফালতু কাজ কারবার আপনাদের দ্বারাই সম্ভব। কীর্তন নিয়ে আগেই বলেছি। তাই এই নিয়ে খামাকা কথা বলছি না।

12. সুদানে পারবেন জন্মাষ্টমী করতে?

উত্তরঃএরকম ভুগি চুগি মার্কা উত্তর আগেই দেয়া হয়েছে। শুধু দেশের নাম চেঞ্জ করে একি কথা আর কত?

১৩. আরব জাহানে গীতার আলো ছড়িয়ে দিতে ?

উত্তরঃউহু! গীতার আলো না। আপনারা গীতার অপব্যাখ্যা ছড়াচ্ছেন। আপনাদের মতে গীতা কৃষ্ণ আমি বলতে নিজেকে বলছেন। যা একদম ভুয়া কথা আর তা মহাভারত পড়লেই দেখা যায় যে উনি আমি বলতে নিজেকে বুঝান নাই। তাই নিজেদের ব্যাবসার জন্য আপনারা গীতাকে ব্যাবহার করছেন মাত্র।

১৪. কমুনিস্ট রাশিয়ায় প্রচন্ড বরফ উফেখা করে রথ
যাত্রা করতে ?

উত্তরঃএরকম ভুগি চুগি মার্কা উত্তর আগেই দেয়া হয়েছে। শুধু দেশের নাম চেঞ্জ করে একি কথা আর কত?

১৫ ঘানার রাজপথে হরিনাম করতে ?

উত্তরঃবার বার একি ভুল। হরি নাম না। বলেন অশাস্ত্রীয় হরে কৃষ্ণ নাম। যার সাথে শ্রী হরির কোন সম্পর্ক নেই।

১৫. পারবেন সাদা-কালো -বাদামী-হলুদ বর্ণ বা
জাতিভেদ ভুলে মানুষ হিসেবে সকলকে একই
প্লাটফর্মে দাড় করাতে ?

উত্তরঃহা হা হা হা এটা সবথেকে আত্মঘাতী ছিল ফ্রবু! আপনাদের পুরান পাপী, মহা বদ ফ্রবুফাদ নিজেই বর্নবাদী ছিল প্রমান চান?
এই নিন মিলিয়ে দেখে নিন।

Prabhupada: Sudra is to be controlled only. They are never given to be freedom. Just like in America. The blacks were slaves. They were under control. And since you have given them equal rights they are disturbing, most disturbing, always creating a fearful situation, uncultured and drunkards. What training they have got? They have got equal right. That is best, to keep them under control as slaves but give them sufficient food, sufficient cloth, not more than that. Then they will be satisfied.

Room Conversation, October 5, 1975, Mauritius ‒

Prabhupada: So here, this man was cheating. Because here it is said: nrpa-linga-dharam. He was dressed like a king. Just like king is very gorgeously dressed. But his bodily feature, he was a black man. The black man means sudra.

Room Conversation, January 21, 1977, Bhuvanesvara ‒

Ramesvara: That’s the trend, then, everywhere, because unemployment is increasing.

Prabhupada: And especially in your country it will be dangerous because these blacks, if they don’t get employment, they will create havoc, these blacks. And they are not civilized. They want money, and if they don’t get money, then they will create havoc.
শুধু তাই না। নারী বিদ্বেষী অনেক অনেক কথা বা কমেন্ট এই বরাহ তার সারাজীবনে করে গেছে। প্রমান লাগলে ববেন কিন্তু ফ্রবু! তাই আর যাইহোক এই একজাতি বা সম-অধিকারের বুলি আপনার নোংরা পাপী মুখে মানায় না।

না , আপনি পারবেন না। এসব একমাত্র ইসকনই করতে
পারে।

উত্তরঃ কেন পারবো না? আমার আপনার পকেটে এরকম হিপ্পি পথভ্রষ্ট সাদাদের টাকা ভরে দিন। রিটার্ন অন ইনভেষ্টমেন্ট হিসাবে আপনি আমিও আমাদের নাম প্রচার করবো। টাকা সব পারে ফ্রবু! প্রমান আপনারা নিজে।

ইসকনকে পছন্দ করেন না ঠিক আছে।
কিন্তু দয়া করে তাঁদের নামে অপপ্রচার করবেন না।

উত্তরঃকোন অপ-প্রচার না। যা সত্যি তাই বলা হয়েছে।

সারা পৃথিবীর মানুষের মাথায় গোবর পুরা না।

উত্তরঃ হ্যাঁ । একদম ঠিক । তাই এখনও অনেক হিন্দু আছে যারা ইস্কন দেখতে পারে না।

ইস্কনের অনেক বিদেশী গুরু উচ্চ শিক্ষিত,
পিএইচডি ডিগ্রী ধারী। অনেক হিন্দু গুরু আমেরিকা
বা বৃটেনের সংসদে বক্তৃতা দেয়ার জন্য
আমন্ত্রিত হন।

উত্তরঃ বিল গেটস সহ অনেক ব্যাবসায়ীও অনেক জায়গায় বক্তৃতা দেন। এরমানে কি এই উনারা হিন্দু ধর্মের পন্ডিত? ভুগি চুগি মার্কা কথা বলার কিছু লিমিট থাকে। শিক্ষিত মানেই সচেতন না ফ্রবু! আমি ডাক্তার মানেই এই নয় যে আমি রসায়ন বুঝবো বা ফার্মেসি বিদ্যা জানবো। এরা উচ্চ শিক্ষিত হতে পারে। কিন্তু ধর্ম জানে না। যে দিন জানবে সেদিন আপনাদের ইস্কন ধসে পড়বে।

পারলে যুক্তি দিয়ে তাদের মুখেমুখি হন !
ধন্যবাদ

কেন? নিজেদের মুরদ নেই? যুক্তি দিয়েই বলেছি যা এতক্ষন বললাম। পাড়লে খন্ডান।

হর হর মহাদেব !

Thursday, March 14, 2019

অষ্টসিদ্ধির প্রকাশ বর্ণনা

অষ্টসিদ্ধি হলো এমন এক শক্তি যা যোগীরা কঠোর তপস্যার পরে অর্জন করতে সক্ষম হয়। এই অষ্টসিদ্ধি অর্জনে প্রথমে সদগুরুর আশ্রিত হতে হয় এবং নিজেকে শুদ্ধ, সূচী, একনিষ্ঠ, তপপ্রকোর ও অনাহারী হিসেবে তৈরী করতে হয়। যে যেই গুরুর আশ্রিত হয় তদ্বপর সেই শিষ্য একটি শুভদিনে দীক্ষা গ্রহন করে নিজের স্থান গুরুর কাছে পাকাপোক্ত বা শক্ত করে গুরুকে এই বিশ্বাস দেখাতে হবে যে, হ্যা আমি পারবো আর আমিই উক্ত তপের জন্য পারদর্শী। যখন পরমাধ্য গুরুদেব বুঝতে পারবেন যে, তাঁর শিষ্য তপস্যার জন্য প্রস্তুত; তখনই তিনি যোগাসন পদ্ধতি ও ধ্যান প্রণালীর প্রস্তুতি সম্বন্ধে শিষ্যকে অভ্যাস শুরু করাবে। তখন অভ্যাস যখন নীতি ও ভক্তিতে রুপান্তর হয় তখন যোগী একটি নীরব স্থান সন্ধান করে নিজের কার্যসিদ্ধি পূরণের লক্ষ্যে। অতঃপর যোগী নিজের যোগ অভ্যাস শুরু করে, এই যোগ তপস্যা অনেকের কাছে পাঁচবছর, অনেকের কাছে সাতবছর, অনেকের কাছে দশবছর বা তারও বেশি সময় লেগে যায়। তপস্যা ধ্যান পূর্ণ হয় যোগীর দৃঢ়তা, একনিষ্ঠতা, ধ্যানস্থ সমাধীর তেজোদীপ্তের উপর নির্ভর করে। যখন যোগী অষ্টসিদ্ধি অর্জনে পারদর্শী হয় তখন তিনি মহাযোগীর স্থান অর্জন করে। তখন ঐ মহাযোগী নিজের চাহিদা অনুসারে নিজের তপোবল বাড়াতে চাইলেও পারে এবং নিজেকে সৃষ্টির মহা এক উচ্চ স্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। সৃষ্টির এই চৌদ্দ ভুবনের যেকোনো লোকে তিনি নিজেকে স্থায়ী বাসিন্দা করতে সক্ষম হয়।





ঋগবেদ মতে আমাদের ব্রহ্মান্ডের ১৪টি ভুবন

১। সত্যলোক

২। তপোলোক

৩। জনলোক

৪। মহর্লোক

৫। সপ্তর্ষিলোক

৬। ধ্রুববোক

৭। স্বর্গলোক

০। ভূলোক(পৃথিবী)

৮। অতল

৯। বিতল

১০। সুতল

১১। তলাতল

১২। মহাতল

১৩। রসাতল

১৪। পাতাল

এখন মূল আলাপ হচ্ছে ধ্যানের প্রথম স্তর যাকে অষ্টসিদ্ধি বলা হয়, সেই অষ্টসিদ্ধি কত প্রকার ও কি

কি?

অষ্টসিদ্ধি আট প্রকার যেমনঃ-

১) অণিমা

২) লঘিমা

৩) গরিমা

৪) প্রাপ্তি

৫) প্রাকাম্য

৬) মহিমা বা কামাবসায়িতা

৭) ঈশিত্ব বা ঈশিতা

৮) বশিত্ব বা বশিতা

এই আট প্রকার অষ্টসিদ্ধির প্রকাশ গুলো হলোঃ-

১)অনিমা:- তারা ইচ্ছা করলে অনুর মত ক্ষুদ্র আকার ধারন করতে পারেন অথবা নিজেকে শূণ্য রুপে

পরিণত করতে পারেন। এরকম সিদ্ধি অর্জনকে বলে অনিমা।

২)লঘিমা:- ইচ্ছামতো হালকা জলের উপর হেঁটে যেতে বা শূন্যে ঘুরে বেড়াতে পারেন। এরকম

সিদ্ধি অর্জনকে বলে লঘিমা।

৩)গরিমা:- অত্যন্ত ভারী হতে পারেন, লঘুকরণ ধারণ করা মুহুর্তের ব্যাপার মাত্র। এই সিদ্ধি অর্জনকে
বলে গরিমা।

৪)প্রাপ্তি:- যে কোনও স্থান থেকে যা ইচ্ছা! তাই প্ৰাপ্ত হতে পারেন। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ
জ্ঞান নিজের মুষ্টিবদ্ধ করা শক্তি অর্জন। এরকম সিদ্ধি অর্জনকে বলে প্ৰাপ্তি।

৫)প্রাকাম্য:- কোনও বাসনা চরিতাৰ্থ করতে এবং কখনও নিরাশ না হওয়ার জন্য যে সিদ্ধি অর্জন তাঁকে বলে প্রাকাম্য।

৬)মহিমা বা কামাবসায়িতা:- ইচ্ছামতো বা খামখেয়ালী ভাবে যে কোনও জড়রুপ ধারণ করতে পারেন। নিজের ঐশ্বর্য শক্তি ও তেজ শক্তির প্রভাবকে ক্ষমতাবদ্ধ করা, এই ধরনের সিদ্ধি অর্জনকে বলে মহিমা বা কামাবসায়িতা।

৭)ঈশিতা:- কোনও স্থানে কিছু অদ্ভুত জিনিষ সৃষ্টি করতে পারেন বা ইচ্ছানুসারে কোন জিনিস ধ্বংসও
করতে পারেন। সৃষ্টির নবকিছু আর্বিভাব ও ধ্বংস যাঁর ক্ষমতার আওতায়, এরকম সিদ্ধি অর্জনকে বলে
ঈশিতা।

৮)বশিতা:- জড় উপাদান গুলোকে কেবল ইচ্ছা অনুসারে নিয়ন্ত্ৰণ করতে পারেন। সৃষ্টির প্রতিটি
জীবকে নিজের বশীভূত করা যাঁর একটি দৃষ্টি প্রক্ষেপ মাত্র, এরকম সিদ্ধি অর্জনকে বলে বশিতা।

Thursday, February 14, 2019

হস্তরেখায় হাতের রং


হস্তরেখা বিজ্ঞানে যেমন রেখা এবং চিহ্নের সঙ্গে হাত বা নখের বিভিন্ন প্রকার গুরুত্বপূর্ণ। তেমনই হাতের রংও আপনার সম্পর্কে কিছু না কিছু বলে দিতে পারে। যেমন ---

লাল রং - যাঁদের হাত এই রঙের, তাঁরা জীবনে সমস্ত সুখ ভোগ করেন। এঁরা ভাবুক এবং রাগী স্বভাবের হয়ে থাকেন।

গাঢ় গোলাপী - এঁরা সাধারণত ধনী। এঁরা রাগী। এঁদের বুদ্ধি স্থির থাকে না। এঁরা তাড়াতাড়ি খুশি হয়ে যান আবার তাড়াতাড়ি রেগেও যান। এঁদের চিন্তা, ভাবনা পছন্দ, অপছন্দ, সমস্ত কিছু পরিবর্তনশীল। মধ্য আয়ু পর্ন্ত এঁদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকে।

হাল্কা গোলাপী - এঁরা উত্তম মানবীয় গুণ সম্পন্ন, ধনী এবং ঐশ্বর্যশালী। এঁদের মধ্যে প্রবল উত্‍‌সাহ থাকে। এদের ধৈর্য অনেক বেশি। দয়া, ক্ষমা এবং প্রেম এঁদের স্বভাবের মূল আধার। এঁরা আশাবাদী এবং প্রসন্নচিত্তের হয়ে থাকেন। এঁরা শিল্প এবং প্রকৃতি প্রেমী।

হলুদ - এঁরা দৃঢ় বিচারের হন না। মানসিক দিক দিয়ে নিরাশাবাদী হয়ে থাকেন। স্বভাবে মধুরতার অভাব থাকে। পায়ের রোগে কষ্ট পান। আলস্যের কারণ উন্নতি করতে পারেন না। জীবন সংঘর্ষপূর্ণ।

বেগুনি অথবা নীল - যাঁদের হাতের রং নীল বা বেগুনি, তাঁরা নিরাশাবাদী। এঁরা জীবনে অনেক সংঘর্ষ করেন। এঁরা একাকীত্ব পছন্দ করেন। রক্ত বিকারে কষ্ট পেয়ে থাকেন। মদ্যপান অথবা অন্যান্য বাসনার কারণে কার্যক্ষমতা বা প্রতিষ্ঠা নষ্ট হতে থাকে। এঁরা সমাজের প্রতি নিজের দায়িত্ব থেকে দূরে থাকেন। এঁরা রুক্ষ স্বভাবের।

হালকা কালো রং - এই রঙের হাতের ব্যক্তিরা কর্মঠ হন না। এঁরা অত্যন্ত রহস্যবাদী। কথাবার্তায় অসত্য তথ্যের সাহায্য নেন। পুরুষার্থের অভাব থাকে। এঁদের ব্যক্তিত্ব নিস্তেজ হয়ে থাকে। এই জাতকেরা স্বাস্থ্য সমস্যায় ঘিরে থাকেন। অর্থের অভাব থাকে। রক্ত বা কফ সম্পর্কিত সমস্যায় জর্জিরত।

নিস্তেজ সাদা - সাদা হাতের লোকেরা উত্‍‌সাহহীন। মানসিক শক্তির অভাব থাকে। এঁরা কর্মঠ হন না।

চমকদার সাদা - এই রঙের যাঁদের হাত, তাঁরা আলৌকিক শক্তির অধিকারী। এঁদের পরাশক্তির জ্ঞান থাকে। বিচারধারায় এঁরা খুব ভারসাম্য বজায় রাখেন। এঁদের বিচারধারা আধ্যাত্মিক। এঁরা শান্তির দূত এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।

হাতের রঙের পরীক্ষা করার আগে হাতের স্পর্শ করা উচিত নয়। কারণ হাতের ঘর্ষণ, স্পর্শ, ব্যায়াম, কঠিন শ্রমের ফলে কিছু ক্ষণের জন্য হাতের রং বদলে যেতে পারে। ব্যক্তি যখন সুস্থ থাকে, কোনও সমস্যায় না-থাকে, তখনই পরীক্ষা করা উচিত।

* Prediction করতে আরও বেশ কিছু তথ্যের প্রয়োজন হয় ।

[এই রং চেনা ব্যাপার টা বেশ জটিল, অনেক Practical Experience না থাকলে বোঝা যায় না]

রাশি অনুযায়ী যৌন আকর্ষন

প্রেম, ভালবাসার মতোই যৌনতাও জীবনের সঙ্গে জড়িত৷ তবে, সকলে এই বিষয়ে পারদর্শী হন না৷ তবে, জ্যোতিষশাস্ত্র মতে রাশি বিশেষে যৌনতার তারতম্য ঘটতে পারে৷ কোন রাশি যৌনতায় কতবেশি পারদর্শী তা জেনে নিন৷


মেষ রাশি: মেশ রাশির জাতক জাতিকার জীবনে যৌনতা প্রবল৷ দৈহিক প্রেমের ক্ষেত্রে এই রাশি যেমন শক্তি প্রযোগ করতে পারেন, তেমনই এরা দুর্দান্ত প্রেমিক হিসেবেই পরিচিত হন৷ তবে, যৌনতা টিকিয়ে রাখতে এরা সঙ্গীর সঙ্গে সমান তালে পাল্লা বেশ ভালই দিতে পারেন৷
বৃষ রাশি: এই রাশির জাতক জাতিকারা ভালবাসাকেই জীবনে সবকিছু বলে মনে করেন৷ যৌনতার ক্ষেত্রে এরা খুবই সংবেদনশীল৷ যৌনতা ধরে রাখা বা শক্তি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে এদের জুরি মেলা ভার৷ সহবাসের দিক থেকে এই রাশির মানুষরা ক্লান্তিবিহীন, সদাপ্রস্তুত থাকেন৷
মিথুন রাশি: বুধ গ্রহের প্রভাবে এই রাশির জাতক জাতিকারা সতর্ক, মিষ্টভাষী, আদুরে প্রকৃতির হয়ে থাকেন৷ মুখের কথা দিয়েই অপরকে বশ করতে পারেন এরা৷ এই রাশির মানুষেরা এক্সপেরিমেন্ট্রাল সেক্সে বিশ্বাস করেন৷ এই রাশির প্রেমিক বা প্রেমিকাকে আপনি যেভাবে চান, সেভাবেই আপনার শয্যায় পেতে পারেন৷
কর্কট রাশি: যৌনতার ক্ষেত্রে এই রাশি জাতক-জাতিকার কোন স্থিরতা নেই৷ এরা হঠাৎ করেই উত্তেজনার শিখরে পৌঁছে যান৷ আবার হঠাৎ করেই শান্ত হয়ে যান৷ তাই এই রাশির প্রেমিক বা প্রেমিকার কাছ থেকে প্রচুর সারপ্রাইজ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে৷
সিংহ রাশি: প্রেমিক-প্রেমিকা হিসেবে সিংহরাশির এমনিতেই বেশ নাম রয়েছে৷ তবে, এই রাশির জাতক-জাতিকারা দৈহিক সম্পর্কেও বেশ পারদর্শী৷ যে কোন গাঢ় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই রাশির ইতিবাচক মনোভাব, হাস্যরস ও শারীরিক দক্ষতা অতুলনীয়৷ সিংহ রাশির কাউকে ভালবাসার মানুষ হিসেবে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার৷
কন্যা রাশি: এই রাশির জাতক-জাতিকার ভালবাসায় কোন খাদ যেমন থাকে না৷ তেমনই দুর্দান্ত সেক্সেও এরা পারদর্শী হন৷ কান, ঠোঁট ও স্তনের অংশে এই রাশির মানুষের সংবেদনশীলতা অতিরিক্ত মাত্রায় বেশি৷ দেহজ ভালবাসার ক্ষেত্রে কোমলতা ও রুক্ষতার মিশেল পছন্দ করেন এরা৷
তুলা রাশি: এই রাশির জাতক-জাতিকারা ‘‘ইউ আর জাস্ট ফ্রেন্ড’ তত্ত্বে বিশ্বাসী৷ শুক্রের প্রভাবে এরা সাধারণত সৌন্দর্য, রহস্যময়তা ও দৈহিক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন৷ প্রেমিক বা প্রেমিকাকে সামান্য স্পর্শ, হাসি বা চোখের চাহনিতেই পটিয়ে ফেলতে পারেন এরা৷ যৌনতার এরা আপনাকে বশে আনতে চাইবে না বরং এরা আপনাকে প্রেমে পড়তে বাধ্য করবে৷
বৃশ্চিক রাশি: প্রবল আবেগ এই রাশির একটি দুর্বলতা৷ এরা কাউকে খুব সহজেই এড়িয়ে চলতে পারেন না৷ এর প্রায় তাদের যৌন জীবনে পড়ে৷ এদের যৌন জীবন উত্তেজনা, যন্ত্রণা ও উচ্ছ্বাসের একটি মিশেল৷ এই রাশির জাতক-জাতিকা খুব সহজেই যে কাউকে বশীভূত করতে পারে৷
ধনু রাশি: এই রাশির জাতক বা জাতিকাকে সঙ্গী হিসেবে পেলে জীবনে মজার অভিজ্ঞতার সূচনা করবে৷ এই রাশির মানুষরা রসিক, এনার্জেটিক ও আশাবাদী হয়ে থাকেন৷ অন্তরঙ্গ মুহুর্তে তারা এই ধরনের গুণের প্রকাশ করে থাকেন৷
মকর রাশি:মকর রাশির জাতক-জাতিকা যেকোন কাজে খুব ভেবে-চিন্তে পা ফেলেন৷ আর যৌনতা হলে তো কথাই নেই৷ প্রথমদিকে অপর সঙ্গীকে আগ্রহ প্রকাশ করতে হলেও পরে তা আনন্দে পরিণত হবে৷ কারণ, এই রাশির মানুষরা যৌনতার দিক থেকে ভীষণ মনোযোগী হয়ে থাকেন৷ এই রাশির প্রেমিক বা প্রেমিকের নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসী মানুষ খুঁজে পাওয়া খুব মুশকিল৷
কুম্ভ রাশি: এই রাশির জাতক-জাতিকারা বিশেষ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন৷ নিজের মনের মানুষের প্রতি এরা খুব যত্নবান হয়ে থাকেন৷ আপনি যেভাবে তাদের পেতে চান এরা ঠিক সেভাবেই আপনার কাছে ধরা দেবে৷
মীন রাশি: এই রাশির জাতক-জাতিকারা কথায় পারদর্শী৷ এছাড়াও এই রাশির মানুষেরা দৈহিক আকর্ষণে পরিপূর্ণ৷ এদের সামান্য স্পর্শেও আপনি উত্তেজিত হয়ে উঠতে বাধ্য৷ এদের ভালবাসা আপনাকে নিয়ে যেতে পারে অন্য এক জগতে৷

Monday, February 11, 2019

ত্রাটক সাধনায় আত্মচেতনার রহস্য

আগেই বলে নিচ্ছি গুরু ছাড়া এই সাধনা ভুলেও করতে যাবেন না।  যোগ্য যোগগুরু ছাড়া এই অভ্যাস কখনই করা 
উচিৎ নয়, চোখের ক্ষতি হতে পারে।

আত্মচেতনার পর্যালোচনা বিশাল পরিসরে করা যায়। দেশ ও জাতি ভেদে আত্মচেতনা সবারই এক। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটাই সত্য। কিন্তু ব্যক্তি বিশেষে আত্মচেতনা অন্য ক্ষেত্রে নানা রকম হয়ে থাকে। প্রতিটি মন ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা করতে পারে। কারণ মনের জগতে বাক স্বাধীনতা রুখতে পারে এমন ক্ষমতাসীন কেউ বসে নেই।
এই যে ধরুন, একজন নগণ্য মানুষ (অবস্থান ও সামাজিক মর্যাদার ভিত্তিতে) নানা রকম ভাবনা-চিন্তা করতে পারে। সেও একটা পরিবারের প্রধান হতে পারে। সেই পরিবারকে সে নিজের রাষ্ট্র মনে করতে পারে। নিজের কথা পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রতি চাপিয়ে দিতে পারে। এটা তার স্বৈরাচারি মনোভাব। আবার পরিবারের সব সদস্যের মতামত নিয়েই যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই নিজস্ব জগত সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ করা যায়। এক্ষেত্রে পৃথিবীর ধনীর দুলালরাও আলাদা নয়।
যে ব্যক্তি একবেলা খাবার জোগাড় করতে পারে না, সে চিন্তা করে ধনী মানুষের সহানুভূতি সে পাচ্ছে না। এজন্য টাকার অহং নিয়ে যারা আশপাশে বসবাস করে তাদের সে দেখতে পারে না। আবার যারা প্রতিবেলায় প্রচুর খাবার নষ্ট করে কিংবা তাদের কুকুর ডলির খবারে যে খরচ হয় তার হিসাব তারা কষে না। পাশেই এক ব্যক্তির একবেলা খাবার জোটে না তা তার মনোজগতে আঘাত করে না।
হাজার হাজার টাকা খরচ করে যারা প্রতিদিন মাতাল হওয়ার জন্য বারে যায়, যাদের এই পন্থায় টাকা খরচ না করলে রাতের ঘুমটুকু হয় না, তাদের আত্মচেতনাও সেরকম। তারা মনে করে মিডিয়ার কোন সুন্দরীর সঙ্গে রাত কাটালে রাতের সময়টা মূল্যবান হবে, কিভাবে কোন কৌশলে কাজ করলে আরো ৫টা সুন্দরী পরের সপ্তাহে কাছে পাওয়া যাবে-এসব তাদেরই ভাবনা। আত্মচেতনা তাদের এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কারণ তারা বিশাল সম্পদশালী কিংবা বিশাল ক্ষমতাশালীদের কাছের বা হৃদয়ের লোক।
জীবন যাপনের এই ভিন্নতা মানুষকে কাছে টেনে নেয়, আবার মানুষকে দূরেও ঠেলে দেয়। এরমধ্যে মৃত্যু বাসা বাধে ক্ষণে ক্ষণে। অভিনয়স্থল ঠিকই থাকে, অভিনেতারা নতুন হয়। আত্মচেতনার জগতটা ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলাতে থাকে। এসবের পেছনে ক্ষমতাশালী মানুষেরাই সম্পদশালী মানুষেরাই অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
তবে মন মানবিকতা হারিয়ে ফেললে তা সমাজের সুখকে কেড়ে নেয়। মানবিকতার অভাবেই আজকের যুবক তরুণ সমাজ আনন্দ খোজে বিলাসবহুল শপিংমলে। সৃজনশীলতা তাদের টানে না। তাদের কাছ থেকে অপর আত্মা সুখ পায় না। তারা প্রতিনিয়ত অপরকে অবহেলা করে চলে। চেতনার এই যে টানাপোড়েন তা বড়ই বিচিত্র। এজন্যই সাম্য দরকার। যার গান গেয়েছেন মহামানবগণ।
'আত্মচেতনা' হল সেই শক্তি যা নিজে নিজেই কাজ করে চলে। একে ইংরেজীতে (Instinctive Mind) বলা হয়। এই আত্মচেতনা কোন কিছুর বিচার করে না বা সিদ্ধান্তও নেয় না। কিন্তু প্রথম থেকেই এটি সহজবু্দ্ধিতে কাজ করে যায়। কেউ অসুস্থ হলে এটি তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করে। যদি আপনি ভীত হন ও হৃৎপিণ্ড দ্রুত লয়ে চলছে এমন হয় তবে এটি হৃৎপিণ্ডের গতিকে ধীর করবে। এটি সবসময় সাধককে ভাল রাখার ও সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করে।
'আত্মচেতনা' সাধকের মানসিক শক্তির স্রোত। যখন সাধকের কোন বিপদের আশঙ্কা আসে তখন সে তার আভাস পূর্ব থেকেই দিয়ে দেয়। কখনো কখনো আত্মচেতনা শক্তি তার অতীন্দ্রিয় দৃষ্টির দ্বারা ভবিষ্যৎ- এর বিপদ সম্পর্কে, তা শারীরিক হোক বা মানসিক, সাধককে হুঁশিয়ার করে দেয়।
কোন কাজ করার আগে সেই কাজ সাধকের দ্বারা হবে কিনা সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হলে তখনই আত্মচেতনা শক্তি দ্বারা সে কাজ সহজেই সম্পন্ন করা যাবে। কিন্তু যদি সাধক উক্ত কাজ সম্পূর্ণ করতে পারার ব্যাপারে সন্দিহান হন তবে ঐ শক্তি কিন্তু কাজ করবে না।
যে কোনও প্রকার কঠিন ও আশ্চর্য কাজ করার ক্ষমতা আমাদের মধ্যে সকল সময়ই সুপ্ত অবস্থায় আছে কিন্তু আমরা তাকে জাগাবার চেষ্টাই করি না। সম্মোহিত অবস্থায় কিন্তু সম্মোহনকর্তা আমাদের সেই লুকানো শক্তিকে সজাগ করে অনেক আপাত কঠিন কাজ আমাদের কে দিয়ে করিয়ে নেন। সে কারণে আমাদের জানতে হবে যে সজ্ঞান অবস্থায় আমরা কি ভাবে আমাদের ঐ সুপ্ত শক্তিকে জাগিয়ে তাকে দিয়ে ইচ্ছানুসারে কাজ করাতে পারব।
সম্মোহিত অবস্থায় থাককালীন সমস্ত ইন্দ্রিয়ই অসাধারণ কাজ করে দেখাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে কোন অঙ্গের পীড়াও একদম ঠিক হয়ে যেতে পারে। এইভাবে দর্শনেন্দ্রিয়, স্বাদেন্দ্রিয়, ঘ্রাণেন্দ্রিয় শক্তি এত অধিক শক্তিশালী করা যায় যে --- যে কোন প্রকার সুক্ষ্ম পার্থক্যও বুঝতে অসুবিধা হয় না। এমন কি এর দ্বারা জলের পরিবর্তনও বুঝতে পারা যায় অতি সহজে। অতীতের কোন স্মৃতিও মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়। এতএব যে মানসিক শক্তি মানুষকে মানুষ্যোত্তর শক্তি প্রদান করে তা মানুষের মধ্যে পূর্ব থেকেই থাকে, কিন্তু মানুষের চেতন শক্তি/মন তা প্রয়োগ করতে বাধা দেয়।
একথা ঠিক নয় যে যেকোন অদ্ভুত বা চমৎকার কাজ শুধুমাত্র সম্মোহিত অবস্থাতে সফল হবে এমন কোন কথা নেই। জাগরিত অবস্থাতেও এমন করা সম্ভব। শুধুমাত্র বিশ্বাসের উপর ভর করে বহু রোগ দূর করা যায়। কোন বাড়ি বা হাসপাতালে আগুন লাগলে সেখানে বছর বছর ধরে পড়ে থাকে প্যারালাইসিস রোগী (চলৎশক্তিহীন) দৌড়ে বাইরে চলে আসে। এটি আত্মচেতনা জাগরিত হবার উদাহরণ মাত্র। মানুষ তার চেতন মনে দৈনিক জীবনের সমস্যার বিষয়ে আবশ্যক সতর্কতা বজায় রখে তবে এরও একটা সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু বিপদকালে সেই সীমাবদ্ধতার গণ্ডী আত্মচেতনার জাগণের সাথে সাথে সক্রিয় হয়ে অতিক্রম করে যায়। ফলে আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব কাজকে মানুষ সম্ভব করতে পারে। যে ব্যক্তির 'আত্মচেতনা' জাগরিত হয়েছে সে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফলতা লাভ করে। কোন বিষয়ে যদি বিশেষ চেষ্টা নেওয়া যায় এবং তা যদি অত্যন্ত গভীর হয় তবে অবশ্যই সফলতা পাওয়া যায়। প্রত্যেক ব্যক্তির মনোবৈজ্ঞানিক ব্যবহার তার কোন কাজে সফলতা লাভের ক্ষমতার উপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। মানুষ তার ব্যক্তিত্বের বিকাশে যতই সচেষ্ট হবে ততই তার মানসিক ক্ষমতার বিকাশ ঘটবে।
অবচেতন মনে শুধুমাত্র ব্যক্তির জ্ঞান এবং অনুভব শক্তিই নেই, তাতে আছে চেতনমন দ্বারা সঞ্চিত বিশাল ভাণ্ডার। মানুষের অধিকারে যে জ্ঞান ও অনুভব শক্তি আছে তা তার চেতনমন দ্বারা অর্জিত। অন্য ব্যক্তি দ্বারা সম্মোহনের সাহায্যে ও নিজ ত্রাটক বিদ্যা অর্জনের মাধ্যমে এই ভাণ্ডারের বিষমতাকে দূর করা যায়।
মানুষ তার প্রতিভার দ্বারা অদ্ভুত মানসিক কাজ করে দেখাতে পারে। তবে এজন্য তাকে মনোবৈজ্ঞানিক বন্ধন থেকে মুক্ত হতে হবে যা মানুষের 'আত্মচেতনা'-কে বেঁধে রাখে। যদি মানুষ তার লক্ষ্য নির্ধারিত করে নেয় তখন সে তার 'আত্মচেতনা'-কে ঠিক সেরূপই জাগরিত করে নিতে পারে যেমনটা সম্মোহিত অবস্থায় হয়। কারণ প্রতিটি ব্যক্তি সম্মোহিত অবস্থায় অবচেতনমনের দ্বারা যে সব কাজ করতে পারে তা সে জাগরিত অবস্থাতেও করতে পারে, সে ক্ষমতা ও তার মধ্যে আছে। যখন এই ক্ষমতা মানুষ পাবে তখন কোন কাজই তার কাছে অসম্ভব বলে মনে হবে না। যদি সে এই ব্যাপারে আংশিক সফলতাও পায় তবু তার স্থান সাধারণ মানুষের থেকে উঁচু স্থানে থাকবে। আত্মচেতনাকে নিয়ন্ত্রণে রেখে মানুষ তার সাহায্যে অনেক অসম্ভব কাজকে সম্ভব করতে পারে। তবে তা তখনই সম্ভব হবে যখন মানুষ তার আত্মচেতনাশক্তিকে অবচেতন বা চেতন মনের অন্তনিহিত প্রভাব থেকে মুক্ত করতে পারবে।
পুরো নিষ্ঠার সঙ্গে স্বাভাবিক ও সহজ ভাবে নিজের 'আত্মচেতন' শক্তির সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রতিদিন নিয়ম মতো চেষ্টা করতে হবে। যখনই তা সম্ভব হতে শুরু করবে তখনই সব দিয়ে আরো অধিক সফলতা মিলতে শুরু করবে। এই ভাবে আত্মচেতনার উপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ যত বাড়তে থাকবে ততই মানুষ অসম্ভব কাজ অনায়াসে করতে পারবে।
যেমন অভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক দেহচর্চার দ্বারা মাংসপেশী সবল হয় তেমনি মানুষের মানসিক শক্তির বিকাশও সম্ভব হয়। এর জন্য মানুষ তার প্রত্যেক ভাবনা ও ইচ্ছাকে নিজের অধীনে রাখবে এবং 'আত্মচেতনা' শক্তি দ্বারা তা বাস্তবায়িত করবে। এর ফলে কোথাও কোন প্রকার বাধার সম্মুখীন হতে হবে না। এই ভাবে মানুষ নিজের চারিপাশে অনুকূল পরিবেশের সৃষ্টি করতে পারে। আসলে 'আত্মচেতনা' হলে সেই শক্তি যা মানবকে মহামানবে পরিণত করে।
বিভিন্ন আসন বা ব্যায়াম অভ্যাসে শরীরের বিভিন্ন উন্নতি সাধন হলেও ত্রাটক অভ্যাসের মাধ্যমে চোখের দৃষ্টি যতোটা বৃদ্ধি করা সম্ভব তা অন্য কোন পদ্ধতির দ্বারা সম্ভব নয়। চোখ হচ্ছে দেহের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের শ্রেষ্ঠ ইন্দ্রিয়। তাই ত্রাটক অভ্যাসের সময় চোখের উপর বা চোখের সূক্ষ্ম স্নায়ুমণ্ডলী এবং মাংসপেশীর উপর যেন কোন রকম চাপ না পড়ে সেদিকে অবশ্যই সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিত।


পদ্ধতি
---------
যে কোন ধ্যানাসনে বসে প্রথমে মনটাকে সুস্থির করুন। এবার সামনের পরিষ্কার দেয়ালে একটি কালো বিন্দু কিংবা মোমবাতির আলোর সামনে বসে এক নিবিষ্টে তাকিয়ে থাকুন। কিছু সময় পর চোখ দিয়ে অল্প অল্প জল বেরিয়ে আসতে পারে। এজন্যে চিন্তার কোন কারণ নেই। শুধু খেয়াল রাখতে হবে, আশপাশ থেকে অন্য কোন আলো যাতে বেশি পরিমাণে চোখের উপর এসে না পড়ে। এভাবে নির্দিষ্ট দিকে সামর্থ্য অনুযায়ী ৪/৫ মিনিট তাকিয়ে থাকার অভ্যাস করুন।
কিছুদিন এই প্রক্রিয়ায় অভ্যাসের পর যে কোন ধ্যানাসনে বসে শরীর সুস্থির রেখে এবার শুধুমাত্র চোখের মণি’কে ধীরে ধীরে একবার ডানদিকে, পরে বামদিকে এবং একবার উপর দিকে, পরে নিচের দিকে নিতে থাকুন। তবে একদিক থেকে অপর দিকে যাবার সময় চোখের মণি’কে সামনের দিকে স্বাভাবিক অবস্থায় অল্প কিছুক্ষণ রাখতে হবে। এভাবে প্রতিটি দিকে সামর্থ্য অনুযায়ী ৫/৬ বার চোখের মণি ঘুরানোর অভ্যাস করুন।
আরো কিছুদিন এরকম অভ্যাসের পর এবার চোখের মণি একবার ঘড়ির কাঁটার দিকে কক-ওয়াইজ ঘুরিয়ে এবপর আবার উল্টোদিকে একবার এন্টি কক-ওয়াইজ ঘোরাতে থাকুন। নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ৫/৬ বার এই প্রক্রিয়াটি অভ্যাস করুন।
যা-ই করুন, কিছুতেই যেন মাত্রাধিক্য না হয়। পরিমাণে কম সংখ্যকবার করা যেতে পারে, কিন্তু বেশি বার করা মোটেও উচিত হবে না। এভাবে অভ্যাসের পর হাতের তালু দিয়ে চোখের উপর হালকা মালিশ করে নিন।
উপকারিতা
-----------------
এই ত্রাটক অভ্যাসে চোখের অনেক রোগ সেরে যায় এবং দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়। কোন আবেগীয় কারণ ছাড়াই যাদের চোখ দিয়ে জল পড়ে কিংবা ঘুম থেকে উঠার পর চোখে যন্ত্রণা হয়, তাদের জন্য ত্রাটক অভ্যাস বিশেষ ফলদায়ক।

Wednesday, January 30, 2019

বিবাহে সাবধান


বর্ণ চার প্রকার- বিপ্র, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শুদ্র।
গোত্র- গো-শব্দের উৎপত্তি গম্-ধাতু থেকে, অর্থ-
গতি। আর 'ত্র' হ'ল ত্রৈ-ধাতু থেকে, মানে ত্রাণ করা।
তাই গোত্র মানে দাঁড়াবে বংশের ধারা বা গতি যাঁর
মাধ্যমে রক্ষিত হয় সেই স্মরনীয় পিতৃপুরুষ বা ঋষি।
তিনিই গোত্র পিতা।
প্রবর- প্রত্যেক গোত্রেরই একাধিক প্রবর থাকে। প্রবর
মানে বংশের মধ্যে প্রকৃষ্ট বরণীয় ব্যক্তি।
গোত্র প্রবর্ত্তক ঋষির ঔরসজাত সন্তান বা কৃষ্টিজাত সন্তানদের মধ্যে যিনি বা যাঁরা ভক্তি, জ্ঞান, গুণ, চরিত্র, কর্মদক্ষ, সাধনার দিক দিয়ে সবচেয়ে প্রকৃষ্ট বরণীয় তিনি বা তাঁরাই প্রবরনামে অভিহিত হয়ে থাকেন।
এখানে মনে রাখতে হবে ভিন্ন গোত্র হলেও প্রবর এক হতে পারে। যেমন, বাৎস ও সাবর্ণ্য আলাদা গোত্র। কিন্তু এই দুই গোত্রের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ, কারন এই দুই গোত্রের প্রবর একই। অনেক সময় এমন হয় -কারো গোত্রের পাঁচটি প্রবর, তার মধ্যে কোন একটি প্রবর অন্য গোত্রের সাথে মিলে যাচ্ছে। সেখানে ঐ গোত্র দুটি ভিন্ন হলেও বিবাহ নিষিদ্ধ। যেমন, অত্রি ও কাত্যায়ন এই
দু'টি গোত্রের তিনটি করে প্রবর, তার মধ্যে একটি প্রবর
উভয়ের এক। অতএব, অত্রি গোত্রের সাথে কাত্যায়ন
গোত্রের বিবাহ অবিধেয়। যদি একটি প্রবরও মিলে যায়
তবে বুঝতে হবে অতীতে দুটি বংশধারা কোনওসময়
এসে মিলে গিয়েছিল। এইভাবে রক্তের মিল হলে,
ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে হলে যা হওয়ার তাই হবে।
ফলে এই বিবাহ নিষিদ্ধ।
তাই শ্রীশ্রীঠাকুর- বললেন-"
আপৎকালেও জনন-অনুশাসনকে অগ্রাহ্য
ক'রো না।"(বিবাহ-বিধায়না,১৪৯)।
-------------------------
★ চারপ্রকার বর্ণের প্রতিলোমজাত সন্তানদের ছয়
ভাগ করা হয়েছে।
১। ক্ষত্রিয়ের বিপ্রজাত কন্যাতে= সূত
২। বৈশ্যের ক্ষত্রিয়জাত কন্যাতে= মাগধ
৩। বৈশ্যের বিপ্রজাত কন্যাতে = বৈদেহ
৪। শুদ্রের বৈশ্যাজাত সন্তান = আয়োগব
৫। শুদ্রের ক্ষত্রিয়জাত সন্তান। = ক্ষতা
৬। শুদ্রের বিপ্রজাত কন্যাতে সন্তান=চন্ডাল।
প্রতিলোমজাত ছেলে সন্তানদের বিবাহ নিষিদ্ধ।
কিন্তু কন্যার বিবাহ দেয়া যাবে তবে তা অবশ্যই
উচুবর্ণে।পরপর সাত পুরুষ ঐরকম শ্রেয় বরে বিবাহ হবার পর প্রতিলোম কন্যার প্রতিলোমের কুপ্রভাব দুর
হতে পারে।(যাজ্ঞবল্ক-সংহিতা,১ম অধ্যায়)
★ চার বর্ণের অনুলোমজ সন্তানদের ছয়টিভাগ।
১। বিপ্রের ক্ষত্রিয়জাত সন্তান = মূর্ধাভিষিক্ত
২। বিপ্রের বৈশ্যাজাত সন্তান। = অম্বষ্ঠ
৩। বিপ্রের শুদ্রজাত সন্তান = পারশব
৪। ক্ষত্রিয়ের বৈশ্যজাত সন্তান_= মাহিষ্য
৫। ক্ষত্রিয়ের শুদ্রাজাত সন্তান = উগ্রক্ষত্রিয়
৬।বৈশ্যের শুদ্রজাত সন্তান। = করণ।
অনুলোমজাত সন্তানদের বিবাহ সম্পর্কে ঠাকুর
বলেছেন- অনুলোমজাত ছেলেদের বিবাহ হবে সমান
থাকে অর্থাৎ মাতৃবর্ণ যেমন তেমন ঘরে। আর মেয়েদের
বিবাহ হবে কমপক্ষে পিতৃবর্ণে। এর উল্টোপাল্টা করলে প্রতিলোম ঢুকে যাবার সম্ভাবনা। সমান-সমাণ বর্ণে বিবাহ - সদৃশ (শ্রেষ্ঠ)।।
পুরুষের বর্ণ উচ্চ এবং নারীর বংশ নীচু-অনুলোম।।
নারীর বংশ উচু এবং পুরুষের বর্ণ নীচু প্রতিলোম।।
বংশানুক্রমিক কিছু ব্যাধি আছে সেগুলো নিয়ে খোজখবর নেয়া দরকার।
যে বংশের সাথে বিয়ে হবে তার অন্ততঃ তিন পুরুষের
মধ্যে কেউ পাগল আছে কিনা দেখতে হবে, বিশেষত
মাতৃকুলে। যদি থাকে তবে সেই বংশে বিয়ে দিলে সন্তানদের মধ্যে পাগল হবার সম্ভাবনা স্বীকার
করে নিয়ে তবে বিয়ে দিতে হবে।
আমরা ঘোড়া-গরুর প্রজননের ব্যাপারে কখনই
নিকৃষ্টজাতের ঘোড়া-ষাঁড় দ্বারা প্রজননক্রিয়া সম্পন্ন
করাই না। সেখানে বীজের উকৃষ্টতা রক্ষা করে চলি।
কারন সেটাই জীববিজ্ঞানেরর নিয়ম। অথচ মানুষের
বেলায় আধুনিকতার দোহাই দিয়ে সৃষ্টিকে করে তুলি নিগৃহীত ও বিনিন্দিত।
সব পাপের প্রায়শ্চিত আছে কিন্তু প্রতিলোমের কোন
উপায় নেই। এটাই বিধির বিধান।
একই বিপ্র বর্ণের মধ্যে দুইটি থাক― কুলীন ওবংশজ। বংশজগন কুলীন বিপ্রদের চাইতে কোন কোন গুনে হীন। কুলীন বিপ্রসন্তান বংশজ মেয়েকে বিয়ে করতে পারে, কিন্তুু কখনও বংশজের ঘরে মেয়ে দিতে পারে না,
দিলে প্রতিলোম হয়ে যাবে।
বারেন্দ্রশ্রেনীর বিপ্রদের মধ্যেও দুটি ভাগ আছে―কুলীন ও কাপ। রাঢ়ী ও ও বারেন্দ্রশ্রনীর মধ্যে পরস্পর কন্যা আদানপ্রদানে কোন বাধা নেই। কারন এরা আদিতে একই ছিল। বিপ্রদের মধ্যে আরেকটি থাক হল 'শ্রোত্রিয়'। এরা নিম্নকৃষ্টিসম্পন্ন। রাঢ়ী, বারেন্দ্রশ্রেনীর কুলীন, ভঙ্গ কুলীন, কাপগন শ্রোত্রিয়ের মেয়ে নিতে পারেন কিন্তু শ্রোত্রিয়ের ঘরে মেয়ে দিতে পারেন না।
বাংলার কায়স্থদের মধ্যে আছে কুলীন ও মৌলিক।
এখানেও কুলীনেরা মৌলিকের মেয়ে নিতে পারে,
কিন্তু মৌলিক কখনই কুলীনের মেয়ে বিয়ে করতে পারে না। ঘোষ,বসু,গুহ ও মিত্র উপাধি যাঁদের তাঁরাই কুলীন। মৌলিক কায়স্থদের আবার দুটি ভাগ- আটঘর এবং বাহাত্তরঘর। আটঘরের মৌলিকদের বলা হয় 'সিদ্ধ মৌলিক', এঁদের মধ্যে আছেন- সেন, সিংহ, দত্ত, দাস, কর, গুহ, পালিত, দেব। আর বাহাত্তরঘরেরর মধ্যে আছেন -হোড়, আইচ, সুর, ভঞ্জ, লোধ, হুই, রুদ্র, রক্ষিত, রাউত,তেজ,আশ,গুণ , বর্দ্ধন প্রভৃতি উপাধি।
আটঘরের কায়স্থগন বাহাত্তরঘরেরর থেকে উচু।
তাই আটঘরেরা বাহাত্তরঘর থেকে মেয়ে আনতে পারেন,
কিন্তু দিতে পারবেন না। দিলে প্রতিলোম হবে।
আবার শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন - "যজমান তার নিজের
ঋত্বিকের কন্যাকে বিবাহ করতে পারে না,
অন্যদিকে ঋত্বিক তার স্বীয় যজমানকে বিয়ে করতে পারে না, কারন যজমান শিষ্যা ও কন্যাসমা।"
মেয়েদের বিয়ে দেরী হলেও ভাল কিন্তু নীচু বংশে বিয়ে দেয়া ভাল নয়।
বিপ্র বা বামুনদের মধ্যে এক ধরনের পতিত বামুন
আছে যাদের জেলের বামুন, কৈবর্ত্তের বামুন,
মাহিষ্যের বামুন ইত্যাদি।
বৈশ্য যদি শুদ্রের মেয়ে বিয়ে করে, তার সন্তান হয়
করণ। আর করনের মেয়ে যদি বামুনে বিয়ে করে তাহলে তার সন্তান হয় তাম্বুলি। আবার তাম্বুলির মেয়ে যদি বামুনে বিয়ে করে তবে তাদের সন্তান হয় বারুজীবী।
পারশবগণ বঙ্গদেশে নমঃশুদ্র নামে পরিচিত। এদের
চারটি ভাগ। শ্রীপালী(শিউলি), ধানী, মগা, জিয়েনী। এদের মধ্যে শ্রীপালী যারা তাঁরাই পারশব। অন্য ৩টি থাকের সাথে শ্রীপালীদের বিবাহাদি চলবে না।
শ্রীপালী ছেলেরা কেবল স্ব-সম্প্রদায়ের মধ্যে বিয়ে করতে পারবে।
বাইরে কোথাও করতে হলে উগ্রক্ষত্রিয়, করণ ও শুদ্র
কন্যাকে বিয়ে করতে পারবে।
পারশবরা বৈশ্য বা ক্ষত্রিয়ের মেয়ে বিয়ে করলে সেটা মায়ের দিক থেকে প্রতিলোম হবে। পারশব মেয়েদের
স্ব-সম্প্রদায়ের মধ্যে বিয়ে দিতে হবে।
এছাড়া একমাত্র বিপ্রের সাথে দেয়া যায় অনুলোম বিধিতে।
মাহিষ্য,উগ্রক্ষত্রিয়(আগুরী), করণ -এইসব অনুলোমজ
সন্তানদের বিবাহ হবে অবশ্যই স্বঘরে অথবা ইষৎ
অনুলোমক্রমিক হ'তে হবে।
আবার অনুলোম বিয়ে করলেই তাতে সুফল ফলে না। এরও নীতি আছে, বিধি আছে। শ্রীশ্রীঠাকুর
বললেন -প্রথমে সবর্ণা বিবাহ করতে হবে। সেই সবর্ণা স্ত্রীর পুত্রসন্তান জাত হওয়া চাই। তারপর পুরুষ অসবর্ণা স্ত্রী গ্রহন করতে পারে। এমনতর ব্যবস্থার কারন, ঐ সবর্ণা স্ত্রীতে জাত পুত্রের মধ্য দিয়েই মানুষের পুরুষপরম্পরাগত বংশবৈশিষ্ট অবিকৃত ও অক্ষুন্ন
থেকে প্রবাহিত হ'তে পারে। কিন্তু অনুলোমজাত
ঐধারা ঠিক-ঠিক অবিকৃত থাকে না।
অসবর্ণাজাত সন্তান সবর্ণাজাত সন্তান থেকে একটু
নেমে যায়।
সবর্ণাজাত পুত্রের মত তাদের দেবকার্য্য ও পিতৃকার্য্যে অধিকার থাকে না।
এছাড়া -আবৃত(বিপ্রকর্ত্তক উগ্রকন্যায় জাত), আভীর
( বিপ্রকর্ত্তক অম্বষ্ঠ কন্যায় জাত), ঝল্ল-মল্ল(ব্রাত
্যক্ষত্রিয় কর্ত্তক সবর্ণা স্ত্রীতে জাত সন্তান),
কোনাই চাষী, খড়িয়া, সূত্রধর, রথকার, শঙ্খবনিক এদের বর্ণ নির্ণীত না হওয়া পর্যন্ত্য সবারই বিবাহ
স্বঘরে করতে হবে।
"নবসায়ক" নামে ৯টি সম্প্রদায় আছে ― গোপ, মালী,
তন্ত্রী (তাঁতী), মোদক, বারুজীবী, কুম্ভকার, কর্ম্মকার,
ও নাপিত এদের সম্পর্কে শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন-
"যতদিন এদের বর্ণ নিঃসন্দিগ্ধভাবে স্থিরীকৃত
না হচ্ছে ততদিন এদের বিয়ে-থাওয়া অবশ্যই নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে করতে হবে।
"যত্র ত্বেতে পরিধ্বংসা জায়ন্তে বর্ণদূষকাঃ।
রাষ্ট্রিকৈঃ সহ তদ্রাষ্টাং ক্ষিপ্রমেব বিনশ্যতি।"
- যে রাষ্ট্রে সমাজধ্বংসকারী বর্ণদূষক জাতক জন্ম
গ্রহন করে, রাজ্যবাসী সমস্ত প্রজাবর্গের সাথে
সেই রাষ্ট্র অচিরেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।।(১০/৬১,মনুসংহিতা)

যুক্তির আলোয় গীতা

গীতা বইটি আমি মোটামুটি পড়েছি ।  আমি শ্রদ্ধা নিয়েই বইটি পড়েছি এবং এর কাব্যিক গুণ উপভোগ করেছি। গীতা একটি অতুলনীয় গ্রন্থ বলে আমি মনে করি, তবে তা সমালোচনার উর্দ্ধে নয়। গীতা মানুষের লেখা, ইহা অলৌকিকভাবে পৃথিবীতে আসেনি। গীতাকে বুঝতে হবে যুক্তির আলোয়। অন্ধভক্তি যেমন ক্ষতিকারক হতে পারে, তেমনি কেবলই সমালোচনা করার মানসিকতা নিয়ে গীতা পড়লে গীতার মর্ম্ম বুঝতে অসুবিধা হবে।
ইদানীং ফেসবুকে আমাদের বিশিষ্ট বন্ধু শ্রীমানব্রহ্মদ্বিট ঘোষ মহাশয় (নাম পরিবর্ত্তিত) আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে গীতার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ফেসবুকে তাঁর অনেক অনুগামী তার সঙ্গে সায় দিয়ে গীতাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে চলেছেন। আমি এখানে গীতা সম্বন্ধে তাঁর এবং আরও কারও কারও কতকগুলি অভিযোগ এবং সেসম্বন্ধে আমার বক্তব্য খুব সংক্ষেপে আলোচনা করছি।
গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেকে নক্ষত্রদের মধ্যে চন্দ্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন। শ্রীমানব্রহ্মদ্বিট ঘোষ মহাশয় এর মানে করেছেন যে কৃষ্ণ এখানে চাঁদকে একটি নক্ষত্র বলে মনে করেছেন। কিন্তু চাঁদ যেহেতু নক্ষত্র নয়, একটি উপগ্রহমাত্র, সেহেতু কৃষ্ণের এই বাণী তাঁর বিজ্ঞান বিষয়ে অজ্ঞানতাকে প্রকাশ করছে বলে শ্রীঘোষের মনে হয়েছে। গীতায় কৃষ্ণ, সাধককে পরমাত্মার ধ্যানে বায়ুহীন স্থানে নিষ্কম্প প্রদীপশিখার মতো অচঞ্চল থাকতে বলেছেন। কিন্তু বায়ুশূন্য স্থানে অক্সিজেনের অভাবে প্রদীপ তো জ্বলতেই পারে না, অতএব এখানেও কৃষ্ণের বিজ্ঞান বিষয়ে অজ্ঞানতা প্রকট বলে ঘোষ মহাশয় ঘোষণা করে দিয়েছেন। এছাড়া কৃষ্ণের অর্জ্জুনকে বিশ্বরূপ দেখানোর ব্যাপারটিতে এবং আরও কিছু কিছু ব্যাপারেও তার গুরুতর আপত্তি আছে। তার সমস্ত লেখাটির মধ্যে গীতার প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাও নাই। তার সঙ্গে সায় দিয়ে তার বহু অনুগামী সদলবলে গীতার মুণ্ডপাত করার চেষ্টা করে চলেছেন। আমি এই প্রশ্নগুলির উত্তর দিয়ে গীতার দর্শন সম্বন্ধে আরও কিছু কথা বলতে চাই, অবশ্যই আমার যোগ্যতা অনুযায়ী।


গীতায় চাঁদকে আদৌ নক্ষত্র বলা হয় নি। নক্ষত্রদের মধ্যে চাঁদ শোভা পায় এবং চাঁদকে তারাপতি বলে, সেই প্রসঙ্গই গীতায় উল্লিখিত হয়েছে। প্রসঙ্গত, রাশিচক্রে চাঁদের গতিপথে সাতাশ নক্ষত্র রয়েছে এবং চাঁদ রোজ এক এক নক্ষত্রে রাত কাটায়। এই জন্য চাঁদকে তারাপতি বলে। যে কেউ চাঁদের এই সাতাশ নক্ষত্রকে খালি চোখে আকাশে পর্য্যবেক্ষণ করতে পারেন। এই নক্ষত্রগুলির নাম অশ্বিনী, ভরণী, কৃত্তিকা, রোহিণী, মৃগশিরা ইত্যাদি। চাঁদ কবে কোন নক্ষত্রে থাকে তা পঞ্জিকায় লেখা থাকে। ‘’ছাত্রে ভর্ত্তি ক্লাসের মধ্যে শিক্ষক প্রবেশ করলেন’’ বললে যেমন শিক্ষককে ছাত্র বলা হয় না তেমনি ‘’নক্ষত্রদের মধ্যে চাঁদ’’ বললে চাঁদকে নক্ষত্র বলা হয় না। জ্যোতির্বিজ্ঞান না জানার ফলে শ্রীঘোষ বিষয়টি ভুল বুঝেছেন।
বায়ুহীন স্থানে প্রদীপশিখার মতো পরমাত্মার ধ্যানে অচঞ্চল থাকার কথা গীতায় রয়েছে। এখানে ''বায়ুহীন'' বলতে বায়ুপ্রবাহ হীন বলেই বুঝতে হবে। বায়ুপ্রবাহে প্রদীপ শিখা নিভে যায়।‘’নিবাত-নিষ্কম্প প্রদীপশিখা’’ কথাটির প্রয়োগ বাংলায় আছে এবং এখানে নিবাত মানে বায়ুপ্রবাহহীন। অক্সিজেন ছাড়া প্রদীপশিখা জ্বলে না, কৃষ্ণ এইটুকু বিজ্ঞানও জানেন বলে অভিযোগ করলে নিজের মূর্খামিই প্রকাশিত হয়। আত্মা ও পরমাত্মার ধারণা আসে পৃথিবীতে প্রাণের প্রবাহকে বুঝে নিতে গিয়ে। আগ্রহী পাঠক এ ব্যাপারে বঙ্কিমবাবুর মনোজ্ঞ আলোচনা পড়ে নিতে পারেন।
গীতায় কৃষ্ণ বলছেন চন্দ্র ও সূর্য্য তাঁর দুই চোখ। এ'টি একটি কাব্যিক তুলনা। কিন্তু এতেও শ্রীমানব্রহ্মদ্বিট ঘোষ মহাশয়ের আপত্তি। প্রসঙ্গত, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য বলেছিলেন, ‘পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।’ বাস্তবে রুটি একটি খাদ্য, চাঁদ একটি উপগ্রহ এবং চাঁদ রুটির চেয়ে অনেক বড়। তবুও সুকান্ত অমন লিখেছেন। কবিদের অমন তুলনা করার দরকার হয়। শুধু বিজ্ঞান নয়, কবিতাও আমাদের দরকার। কবি সুকান্তর চাঁদকে রুটির সঙ্গে তুলনা করাটা ভাল হয়েছে না মন্দ হয়েছে সে সমালোচনা চলতেই পারে, কিন্তু কবির কথার মর্ম্মও বোঝা দরকার। প্রসঙ্গত, প্রাচীন কবিরা কাব্যপ্রতিভা ও কল্পনাশক্তিতে ন্যূন ছিলেন না।
প্রসঙ্গক্রমে আরও একটা কথা এখানে বলে রাখি। ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানে পঞ্চগ্রহ বলতে মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনি; সপ্তগ্রহ বলতে রবি (সূর্য), সোম (চন্দ্র), মঙ্গল,বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনি; নবগ্রহ বলতে রবি, সোম, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি, রাহু ও কেতুকে বোঝায়। ইউরেনাস, নেপচুন প্লুটোকে খালি চোখে দেখাই যায় না। বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় বইয়ে ‘নয়ে নবগ্রহ’ বলতে রবি, সোম, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি, রাহু ও কেতুকেই বুঝতে হবে। বিদ্যাসাগরের সময়ে নেপচুন প্লুটো ইত্যাদি আবিষ্কৃতই হয় নি। কেউ যদি বলেন যে বিদ্যাসাগর মহাশয় ‘পাঁচে পঞ্চগ্রহ’ না বলে ‘নয়ে নবগ্রহ’ বলে ভুল করেছেন তাহলে বিদ্যাসাগরের নয়, তার নিজের অজ্ঞতাই প্রকাশিত হবে। গীতায় শ্রীকৃষ্ণও বলেছেন যে তার শরীরে পঞ্চগ্রহের অধিষ্ঠান। এখানে পঞ্চগ্রহ কথাটা বলায় গীতাকারের কোনো ভুল হয় নি এবং সমগ্র বিশ্বকেই কৃষ্ণের শরীর বলে ধরতে হবে। ঈশ্বর বলতে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকেই বুঝতে হবে, এটা গীতাকার বুঝতেন বলেই আমার মনে হয়েছে।
সূর্য্য ও চন্দ্রকে গ্রহ বলার কারণ হল ওরাও রাশিচক্রে (zodiac-এ) পশ্চিম থেকে পূর্ব্বে ঘূর্ণায়মান। আকাশে চোখ রাখলে খালি চোখেই আপনারা যে কেউ এসব দেখতে পাবেন। আজকের দিনে নিজস্ব আলোহীন এবং সূর্য্যের চারদিকে ঘূর্ণায়মান বৃহৎ জ্যোতিষ্কগুলিকে গ্রহ বলা হয়। আমাদের ভূগোল বইগুলিতে সূর্য্য ও চাঁদকে আর গ্রহ বলা হয় না। সেক্ষেত্রে আমরা সূর্য্যের চারদিকে ঘূর্ণায়মান বৃহৎ জ্যোতিষ্কগুলিকে বোঝাতে গ্রহ শব্দটির বদলে অন্য কোনো নতুন শব্দ সৃষ্টি করে নিতে পারতাম। কিন্তু তা আমরা করি নি। প্রাচীনদের সৃষ্টি করা গ্রহ শব্দটিই আমরা ব্যবহার করব এবং সূর্য্যচন্দ্রকে গ্রহ বলার জন্য তাদেরই দোষ দেব --- এমনটা করা অন্যায়। এখানে এত কথা বলছি কারণ বহু আত্মবিস্মৃত ব্যক্তি জ্যোতিষে ও পঞ্জিকায় সূর্য্যচন্দ্রকে গ্রহ বলার জন্য প্রাচীনদের তাচ্ছিল্য করে থাকেন। এরা ইতিহাস ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের কোনোটাই না জেনে, সরেজমিনে আকাশ না চিনে নিজেদের বিজ্ঞ ও প্রাচীনদের অজ্ঞ বলে মনে করে থাকেন। রাহু-কেতুকে গ্রহ বলার জন্য প্রাচীনদের তাচ্ছিল্য করে এরা গানও লিখেছেন (অবশ্য তাদের উদ্দেশ্য সাধু, তা হল জ্যোতিষীদের বুজরুকির বিরোধিতা করা)। এরা জানেন না যে রাহু মানে ascending node of lunar orbit এবং কেতু মানে descending node of lunar orbit। এই দুটি বিন্দু (ক্রান্তিবৃত্ত ও চন্দ্রকক্ষের দুই ছেদবিন্দু) সূর্য্য ও চন্দ্রের বিপরীতে প্রতি ১৮ বছরে রাশিচক্রে এক পাক খায়। রাহকেতুর সাহায্য নিয়ে সূর্য্য ও চন্দ্রগ্রহণের সঠিক ভবিষ্যতবাণী প্রাচীনেরা করতে পারতেন যা আজকের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকেরাও পারেন না।
এবার আসি কৃষ্ণ কর্তৃক অর্জ্জুনকে বিশ্বরূপ দর্শন করানোর প্রসঙ্গে। গীতার এই অধ্যায়টি কাব্যিক সৌন্দর্য্যে অসাধারণ। এর সঙ্গে তুলনীয় উৎকৃষ্ট মানের কবিতার উদাহরণ আমার আর একটিও জানা নাই। এই বিশ্বরূপ দর্শন হল মনোজগতে বিশ্বতত্ত্বকে উপলব্ধি করার একটি রূপক। ভাষার আলোতেও বিশ্বরূপ দর্শন সম্ভব। শব্দব্রহ্মের উপলব্ধিই ব্যাকরণবিদের বিশ্বরূপ দর্শন তথা মোক্ষলাভ। আমার ''বর্ণসঙ্গীত'' গ্রন্থে বিষয়টি বিস্তারিত বলা হয়েছে। সেখানে বর্ণমালার আলোয় পুরাণাদি উদ্ভাসিত করে ভারতের ইতিহাসকে দেখানো হয়েছে এবং এক অখণ্ড বিশ্ববীক্ষার সন্ধান দেওয়া হয়েছে। আপনারা যে কেউ বিশ্বরূপ দর্শন করতে চাইলে বর্ণমালার জপ করে দেখতে পারেন। মৎপ্রণীত 'বর্ণসঙ্গীত' গ্রন্থে এই ব্যাপারে বলা হয়েছে যে,''বর্ণমালার জপ কর যদি শীঘ্র মোক্ষ পাবে।'' প্রসঙ্গত, অক্ষর শব্দের একটি অর্থ হল পরমব্রহ্ম। অক্ষর পরিচয় হলে (বর্ণমালার প্রতিবর্ণের অর্থ বুঝলে) ব্রহ্মজ্ঞান হয়।
অনেকে গীতাকে বর্ণাশ্রম প্রথার ধারক ও বাহক বলে মনে করেন। গীতায় গুণ অনুযায়ী বর্ণবিভাজন বা কর্ম্মবিভাগের কথা আছে। বর্ণবিভাজন (division of labor) ভালই, কিন্তু জন্মসূত্রে বর্ণ বিভাজন মোটেই কাম্য নয়। গীতা জন্মসূত্রে বর্ণবিভাজনকে সমর্থন করেছে বলে তো আমার মনে হয় নি। গীতার মতে যেকোনো বর্ণের মানুষই কৃষ্ণকে জানতে বা ঈশ্বর লাভ করতে পারেন। সে ব্যাপারে বাধা নাই। গীতায় কৃষ্ণের পদ থেকে শূদ্রের ও মুখ থেকে ব্রাহ্মণের জন্মের ব্য়াখ্যা আছে। এখানে মুখ মানে mouth এবং পদ মানে leg বুঝলে চলবে না (মানুষের মুখ থেকে বা পদ থেকে মানুষ জন্মায় না)। পদ মানে যা পালন (প) দান (দ) করে, মুখ মানে মুখ্য অংশ --- এইভাবে ভাবুন। আর কৃষ্ণ বলতে সমাজশরীরকে বুঝতে হবে। তাহলে শূদ্ররা সমাজকে গতি দেয়, চলনা করে। ব্রাহ্মণরা বুদ্ধি দেয়। আমরা গীতাকে বুঝলে গীতাকে কাজে লাগিয়ে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা আমাদের শোষণ করতে পারবে না। ব্রাহ্মণ, শূদ্র, মুসলমান, খ্রীষ্টান --- যে কেউ গীতা পড়তে পারেন। স্ত্রী এবং শূদ্ররাও গীতা পড়ে পরাগতি লাভ করতে পারেন বলে গীতায় বলা হয়েছে। তাদের ছোটো করার জন্য এমন বলা হয়েছে বলে তো আমার মনে হয়নি। আমি চাই জাতপাত নিপাত যাক। জন্মসূত্রে বর্ণবিভাজন দুর হলেও সনাতন হিন্দুধর্ম্মের অনেক কিছুই অবশিষ্ট থাকে। কেউ যদি মনে করেন যে গীতা জন্মসূত্রে বর্ণবিভাজনকে সমর্থন করছে, তবে গীতার ওই অংশটি তাকে মানতে হবে না । মন্দকে মন্দ বললে তাতে দোষ দেখি না। আমাদের উচিৎ হবে পূর্ব্বসূরীদের শ্রদ্ধা জানিয়ে আরও এগিয়ে যাওয়া।
গীতায় কৃষ্ণ অর্জ্জুনকে যুদ্ধে প্ররোচনা দিয়েছেন বলেও কেউ কেউ অভিযোগ করতে পারেন। সে অভিযোগ চলতেই পারে। একইভাবে মার্কসের শ্রেণী সংগ্রামের তত্ত্বটির বিরদ্ধেও অনেকে অভিযোগ করেছেন এবং সে অভিযোগ অসঙ্গত কিছু নয়। রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আমরা অনেকেই মানতে পারি না। তবু এখানে গীতাকারের বক্তব্যটাও বোঝার চেষ্টা করতে হবে। সেটা হল অপশাসনের অবসান ঘটাতেই হবে, এজন্য সব রকম মোহ পরিত্যাগ করা ও পুরুষকার অবলম্বন করা দরকার। বিবেকানন্দ বলেন, ''গীতা পাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলিলে তোমরা স্বর্গের অধিকতর নিকটবর্ত্তী হইবে।'' কিন্তু তার পরের লাইনটা অনেকেই জানেন না। সেটা হল, ''কারণ ফুটবল খেলিয়া দেহমন শক্তপোক্ত হইলে তোমরা গীতার অর্থ সহজে বুঝিবে।'' এইভাবে ফুটবল খেলে দেহমন শক্তপোক্ত করে গীতার অর্থ বুঝে মোক্ষ লাভ করা যাবে, এই হল বিবেকানন্দের বক্তব্য। এখানে বলে রাখি বিবেকানন্দ রচনাবলী এখন হাতে না থাকায় বিবেকানন্দের ঐ লাইন দুটি এখানে ঠিক ঠিক ভাবে উদ্ধৃত করা গেল না। আপনারা কেউ সংশোধন করে দিলে ভাল হয়। তবে বিবেকানন্দের বক্তব্যটা এইরকমই বটে । গীতায় কৃষ্ণও বলতে চাইছেন যে নির্বীর্য্য ও দুর্বল হলে আমাদের চলবে না।
এখানে আর একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে রাখতে চাই। সেটা হল গীতার কৃষ্ণ ও অর্জ্জুন ঐতিহাসিক ব্যক্তিবিশেষ নন এবং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধটাও কোনো ঐতিহাসিক যুদ্ধবিশেষ নয়। রামায়ণ-মহাভারত-পুরাণাদিতে ব্যক্তি চরিত্রগুলি নয়, তাদের ক্রিয়াগুলিই প্রধান। কৌরবদের পরাজয় আর পাণ্ডবদের জয় মানে এক শাসন ব্যব্যস্থা গিয়ে আর এক শাসনব্যবস্থা আসার কাহিনী। কৌরবরা ছিল প্রাচীনপন্থী এবং সেতুলনায় পাণ্ডবরা ছিল উদীয়মান (এবং ফলত পাণ্ডুর) ধনতন্ত্রের প্রতিভু। অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র কোনো ব্যক্তিবিশেষ নয়, যেসব অন্ধ আইন রাষ্ট্রকে ধরে রাখে ধৃতরাষ্ট্র বলতে সেগুলিকেই বুঝতে হবে। অর্জ্জুন মানে যে শুক্ল ধন অর্জ্জন করে, তাকে ধনঞ্জয়ও (ধন জয় করে যে) বলে। দুঃশাসেনর রক্তপান মানে অপশাসনের শক্তি শোষণ করা, blood drink করা নয়। মহাভারত ক্রিয়াভিত্তিক ভাষায় লিখিত ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস যার কিছু কিছু ব্যাখ্যা আমরা ফেসবুকের ‘’বঙ্গযান’’ পেজে দিয়েছি। কৃষ্ণ বিষ্ণুর অবতার। বিষ্ণু বলতে নগদ নারায়ণকে বুঝতে হবে। আসলে বিষ্ণুর দশাবতার পুঁজির দশবিধ রূপ। দশাবতারের কাহিনীতে আছে ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশের ইতিহাস। দশাবতারের আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা থাকতেই পারে, কিন্তু এর অর্থনৈতিক ব্যাখ্যাটাও বুঝে নেওয়া দরকার।
আমি শ্রীমানব্রহ্মদ্বিট ঘোষ মহাশয়ের গীতা সমালোচনাকে বালখিল্য আচরণ বলে উড়িয়ে দিতে পারতাম, কিন্তু ফেসবুকে তার অনেক অনুগামী এবং তাদের মধ্যে প্রথাগত শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত বহু ব্যক্তি রয়েছেন যারা এই ধরণের সমালোচনাকে বাহবা দিচ্ছেন এবং ভুলগুলি ধরে দিতে গেলে ফোঁস করে উঠছেন। এজন্য আমাকে এখানে বিষয়টি কিঞ্চিত ব্যাখ্যা করতে হল। গীতার সমালোচনা চলতেই পারে। কিন্তু ভাল করে না বুঝে এবং মনে মনে শ্রদ্ধা না নিয়ে গীতার বা আর কোনো ধর্ম্মগ্রন্থের এই ধরণের সমালোচনা করতে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
গীতা বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং বিদেশেও বহু মানুষ গীতা পড়েন। ইহা একটি দর্শনের বই যা পৃথিবীর সবাই পড়তে পারেন এবং তার রস আস্বাদন করতে পারেন।
যেসব আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিবাদী পাঠক গীতার মর্ম্ম বুঝতে চান তারা শ্রীবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের লেখা গীতার টীকা পড়তে পারেন। অন্ধভক্তি নয়, আধুনিক পাঠকের উপযুক্ত যুক্তি দিয়েই সাহিত্যসম্রাট গীতার ব্যাখ্যা করেছেন। এখন আপনাদের মতামত কাম্য।

'অচিন্ত্যভেদাভেদ' পদের কতিপয় যৌক্তিক অসঙ্গতি বিংশ শতাব্দীর অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি পর্যালোচনা

  ভূমিকা গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনের কেন্দ্রীয় মতবাদ হলো 'অচিন্ত্যভেদাভেদ'। শ্রীচৈতন্যের ভাবধারা থেকে উদ্ভূত এই দার্শনিক অবস্থানটি ঈশ্...

Popular Posts