Showing posts with label Astrology. Show all posts
Showing posts with label Astrology. Show all posts

Monday, July 6, 2020

দ্বাদশ রাশি বুঝে পৃথক মেনু

স্বাস্থ্যই সম্পদ। কথাটি বহু ব্যবহৃত হলেও এর গুরুত্ব চিরকালীন। আর ভালো স্বাস্থ্যের জন্য প্রধান প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর খাবার। রাশি অনুযায়ী আপনার শরীরে খাদ্য ও পুষ্টির প্রয়োজনে তারতম্য ঘটে। তাই পরের বার ডিনার টেবিল সাজানোর আগে জেনে নিন আপনার রাশির জন্য উপযুক্ত খাবার।

★ মেষ - মেষ রাশির জাতকদের প্রধান উপাদান আগুন। তাই এদের বেশি ঝাল ও মশলাদাখাবর এড়িয়ে যাওয়া উচিত। না হলে অম্বল ও পেটের গোলমাল হতে পারে। শরীর ঠাণ্ডা রাখে এমন খাবার মেষ রাশির উপযুক্ত। মেষের জাতকদের উপযুক্ত খাবার - ব্রাউন রাইস, কলা, ফলের রস, জলপাই, টমেটো, পেঁয়াজ, লেটুস পাতা, শসা, পালং শাক, ব্রকোলি, বিনস, কুমড়ো, আদা, সর্ষে এড়িয়ে যান - মশলাদার খাবার, নুন ও অ্যালকোহল।

★ বৃষ - পাশ্চাত্য জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, বৃষের জাতকদের প্রধান উপদান পৃথিবী। সেইজন্য তাঁদের এমন খাবার খাওয়া উচিত, যাতে থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাঁদের খাবারে নুন একটু বেশি দিলেও ভালো। সঙ্গে ওজন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি।বৃষের জাতকদের উপযোগী খাবার - বিট, ফুলকপি, শসা, পালং শাক, পেঁয়াজ, কুমড়ো, বাদাম, বিনস। দূরে রাখুন - খুব বেশি মশালাদার খাবার ও বেশি পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এমন যে কোনও খাবার।

★ মিথুন - মিথুন রাশির জাতকদের প্রধান উপাদান বাতাস। তাঁদের এমন খাবার খাওয়া উচিত যা তাঁদের স্নায়ুতন্ত্র ও ফুসফুসকে ভালো রাখতে সাহায্য করবে। এরা অনেকেই কোলা ও কফি পছন্দ করেন। কিন্তু এই দুটো মিথুনের জাতকদের জন্য খুবই ক্ষতিকর। 
মিথুনের জন্য উপযোগী খাবার - কমলালেবু, আঙুর, আঙুরের রস, আপেল, লেটুস পাতা, ফুলকপি, পালং শাক, গাজর, বিনস, টমেটো, ইয়োগার্ট, আমন্ড, আদা, রসুন। দূরে রাখুন - কফি, আলু বা অন্য যে কোনও শিকড় জাতীয় সবজি, চিনি।

★ কর্কট - এই রাশির জাতকদের হজমপ্রক্রিয়া সহজে খারাপ হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। এদের তাই এমন খাবার খাওয়া উচিত যাতে অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভর্তি থাকে। এর ফলে দুটো খাবারের মাঝখানে সময়ের ব্যবধান রাখা সম্ভব। এরা অ্যালকোহল ও মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য খেতে খুবই ভালোবাসে। কিন্তু কর্কটের জাতকদের সহজে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই অ্যালকোহল ও মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
কর্কটের জন্য উপযোগী খাবার - গম, দানাশস্য, ভাত, ওটমিল, ফল, সেদ্ধ সবজি, ব্রকোলি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, কুমড়ো, শসা, ইয়োগার্ট, বিনস। দূরে রাখুন - তেলতেলে খাবার, অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার, মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য।

★ সিংহ - সিংহ রাশির জাতকদের প্রধান উপাদান আগুন। এরা সাধারণত খুবই কর্মব্যস্ত জীবন যাপন করেন। তাই সিংহ রাশির জাতকদের খাবারে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকা জরুরি। ছাগলের দুধ নিয়মিত পান করলে এরা কাজে নতুন শক্তি ও উদ্যম পাবে। এছাড়া হৃদযন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্র সুস্থ থাকে, এমন খাবার সিংহ রাশির জন্য উপযোগী। 
সিংহ রাশির উপযোগী খাবার - গোটা শস্য, ভাত, লেবু জাতীয় ফল, আপেল, আলু, গাজরের মতো শিকড় জাতীয় সবজি, পালং শাক, ব্রকোলি, উচ্ছে, করলার মতো তেতো সবজি, বাদাম,আমন্ড।দূরে রাখুন - মশালাদার খাবার ও ডেয়ারি দ্রব্য।

★ কন্যা - কন্যা রাশির জাতকদের স্নায়ুতন্ত্র ও তলপেটে নানা ধরনের সমস্যার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণে এদের দুধ, আইসক্রিমের মতো ডেয়ারিজাত খাবার এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। ফাইবার জাতীয় ও অমেগা ফ্যাট বেশি পরিমাণ রয়েছে এমমন খাবার কন্যা রাশির জাতকদের জন্য উপকারী। এদের মস্কিষ্ক সদাসর্বদা ক্রিয়াশীল হয়। তাই ওমেগা ফ্যাট এদের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যও উন্নত করবে।
কন্যা রাশির জন্য উপযোগী খাবার - গোটাশস্য ও দানাশস্য, ওটমিল, ফল, স্যালাড, ফলের রস, পাতওয়ালা সবজি, স্যুপ, চা, আমন্ড। দূরে রাখুন - বেশি মশলাদার, হাই ক্যালোরিযুক্ত খাবার, চকোলেট।

★ তুলা - তুলা রাশির জাতকদের প্রধান উপাদান বাতাস। সাধারণত তুলা রাশির জাতকদের স্নায়ুতন্ত্র দুর্বল হয় এবং মেজাজের ওঠানামা ঘনঘন হয়। এদের অ্যালকোহল ও কফি থেকে দূরে থাকা ভালো। রক্তচাপ যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেদিকে নজর রাখা ভালো। খুব বেশি পরিমাণ সবুজ শাকসবজি খাওয়া তুলা রাশির জাতকদের জন্য উপকারী।
তুলার জাতকদের উপযোগী খাবার - গোটা শস্য, ওটমিল, আপেল, আঙুর, স্ট্রবেরি, ভাপানো সবজি, পালং শাক, টমেটো, মটরসুটি, গাজর, ভুট্টা, বাদাম, আমন্ড। দূরে রাখুন - অ্যালকোহল, নরম পানীয়, মিষ্টি খাবার।

★ বৃশ্চিক - বৃশ্চিক রাশির জাতকদের প্রধান উপাদান জল। এদের অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা বাঞ্ছনীয়। দিনে অন্তত আট গ্লাস জল খাওয়া দরকার। এরা ঝিনুক, শামুক ইত্যাদি খেতে ভালোবাসেন। বেশি করে ব্ল্যাক চেরি খেলে বৃশ্চিক রাশির জাতকদের মেজাজের ওঠানামা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।
বৃশ্চিক রাশির উপযোগী খাবার - কলা, ব্ল্যাক চেরি, নারকোল, ভাপানো সবজি, স্যালাড, ফুলকপি, পেঁয়াজ, টমেটো, শসা, বিট, বিনস, আমল্ড। দূরে রাখুন - তেলতেলে খাবার, অতিরিক্ত ভাজাভুজি, মিষ্টি জাতীয় খাবার।

★ ধনু - ধনু রাশির জাতকদের লিভারের সমস্যা একটি সাধারণ বিষয়। তাই তাঁদের এমন খাবার খাওয়া দরকার যা লিভারকে সুস্থ রাখে। পরিমিত খাদ্য গ্রহণ এদের জন্য খুবই জরুরী। এরা সস, চকোলেট ও মিষ্টি খেতে ভালোবাসে। কিন্তু সে সব খাবার এদের জন্য এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। প্রোটিনের পরিমাণ বেশি এমন খাবার এদের জন্য উপকারী।
ধনু রাশির উপযোগী খাবার - গোটাশস্য, আপেল, কমলালেবু, স্ট্রবেরি, আলু, রাঙাআলু, গাজরের মতো শিকড় জাতীয় সবজি। এড়িয়ে চলুন - মশলাদার খাবার, মিষ্টি, অ্যালকোহল।

★ মকর - মকর রাশির উপাদান মাটি। এদের হাড় ও দাঁত শক্তিশালী রাখে এমন খাবার খাওয়া ভালো। তাই ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার এদের জন্য প্রয়োজনীয়। এছাড়া লেবু, পালং শাক, ভুট্টা, ব্রাউন রাইস খাওয়া এদের জন্য ভালো। 
মকর রাশির জন্য উপযোগী খাবার - ফল, স্যালাড, লেবু, বাঁধাকপি, ভুট্টা, আলু, স্যুপ, চা। দূরে রাখুন - হাই ক্যালোরি মশলাদার খাবার, চকোলেট।

★ কুম্ভ - বাতাস হল কুম্ভ রাশির জাতকদের প্রধান উপাদান। এদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে বাতাস। কুম্ভ রাশির জাতকেরা কোলা ও কেক খেতে ভালোবাসে। কিন্তু এই সব খাবার কুম্ভ রাশির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সামুদ্রিক মাছ বেশি পরিমাণে খেয়ে এদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরী।
কুম্ভ রাশির উপযোগী খাবার - আপেল, কমলালেবু, ভাপানো সবজি, বাঁধাকপি, ভুট্টা, গাজর, টমেটো, ব্রকোলি, সোয়া ইয়োগার্ট, বাদাম, আদা, রসুন। দূরে রাখুন - কফি, মিষ্টি, কোলা।

★ মীন - মীন রাশির জাতকদের প্রধান উপাদান হল জল। সেই জন্য এদের এমন খাবার খাওয়া উচিত যা তাঁদের রক্ত, লিভার ও মস্তিষ্কের ক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এই রাশির প্রধান গ্রহ হল নেপচুন। এদের মধ্যে সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলার প্রবণতা দেখা যায়। লোহার ভাগ রয়েছে এমন খাবার এদের খাওয়া ভালো।
মীন রাশির জাতকদের উপযোগী খাবার - গোটা শস্য, ভাত, আপেল, আঙুর, কমলালেবু, পাতিলেবু, পালং শাক, পেঁয়াজ। দূরে রাখুন - কফি, তেলে ভাজা খাবার, নুন, চিনি।

Thursday, January 23, 2020

সামুদ্রিক শাস্ত্রে আমাদের হাতের আঙুল

প্রবাদে আছে, চোখ নাকি মনের আয়না! কিন্তু অনেকেরই জানা নেই, হাতের গড়ন দেখেও একজন মানুষ সম্বন্ধে অনেক কিছু জানা যায়।বৃদ্ধাঙ্গুল ছাড়া বাকি চারটে আঙুল, তর্জনী, মধ্যমা, অনামিকা আর কনিষ্ঠা - প্রত্যেকটি একেকটি গ্রহের প্রতিনিধি। এই আঙুলের আকার-প্রকারের বিভিন্নতা মানুষের চরিত্রেও ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
আঙুলের গড়ন দেখে মানুষ চেনার আগে জেনে নিন, কোন আঙুল কোন গ্রহের প্রতিনিধি। তর্জনী - গুরু বা বৃহস্পতি, মধ্যমা - শনি, অনামিকা - রবি বা সূর্য আর কনিষ্ঠা - বুধ গ্রহের প্রতীক।

★ তর্জনী -- এই আঙুল মানুষের উচ্চাকাঙ্খা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা আর 'অহম'-এর প্রতীক। এর সাহায্যে কে, কতটা ভাগ্যবান এবং কাজে উন্নতি করবে তা-ও জানা যায়। তর্জনী সাধারণত উচ্চতায় মধ্যমা-র মধ্যভাগ-কে ছুঁয়ে থাকে। কারও আঙুল এর থেকে সামান্য লম্বা হলে বলা হয়, তার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। আর তার বৃহস্পতি গ্রহ খুবই শক্তিশালী। আঙুল ছোটো হলে অন্যের দেখানো পথে চলতে কিংবা একা কাজ করতে ভালোবাসে সেই মানুষটি। তর্জনী স্বাভাবিকের থেকে বেশি বড়ো হলে সব বিষয়ে অবহেলা ও ঔদ্ধত্য বেড়ে যায়। আর ছোটো হলে এই বৈশিষ্ট্যগুলোই আর থাকে না। তর্জনী বাঁকা যার, সে খুব চালাক, স্বার্থপর আর খল প্রকৃতির। এই আঙুলের ঠিক নীচেই বৃহস্পতির অবস্থান। গ্রহটি হাতে পূর্ণভাবে বিকশিত (উঁচু) হলে মানুষের মধ্যে নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা, নীতিপরায়ণতা ও আত্মাভিমান দেখা যায়। বেশি উঁচু হলে অহঙ্কারী, রাগী, ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে ওঠে। নীচস্থ হলে বৃহস্পতির কোনও মৌলিক গুণ ব্যক্তির মধ্যে দেখা যায় না।
★ মধ্যমা -- এই আঙুলের নীচে শনি গ্রহের অবস্থান। এটি সত্য, ন্যায়পরায়ণ, নিয়মানুবর্তিতার প্রতীক। অন্যান্য আঙুলের চাইতে তুলনায় একটু বেশি বড়ো হলে ব্যক্তিটি দায়িত্ববান, গভীর ব্যক্তিত্বশালী এবং উচ্চাকাঙ্খী হবে। আঙুলের উচ্চতা বেশি হওয়া মানে একাকীত্ব পছন্দ। এবং অনেক সময় বাজে কাজেও জড়িয়ে পড়তে পারে। উচ্চতায় ছোটো হলে অলস প্রকৃতির হয়। মধ্যমার প্রথম ভাগ লম্বা হলে আধ্যাত্মবাদের প্রতি আগ্রহ থাকবে। আঙুলের মধ্য ভাগ লম্বা হলে রসায়ন, লোহা সহ নানা ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যবসায়-র সঙ্গে যুক্ত থাকবে। তৃতীয় ভাগ লম্বা হলে সেই ব্যক্তি চালাক, স্বার্থপর হয়। খারাপ কাজের সঙ্গে ষুক্ত থাকে। আঙুলের নীচে স্থিত শনিগ্রহের অবস্থান উঁচুতে হলে সেই মানুষ জ্ঞানী হয়। বিচারশক্তির ক্ষমতা প্রবল থাকে এবং ইন্দ্রিয় নিজের বশে থাকে।
★ অনামিকা -- এই আঙুল রবি-র ধারক। এটি আমাদের যশ লাভ, বুদ্ধি ও সৃষ্টিশীল কাজ করতে সাহায্য করে। তর্জনী-র থেকে অনামিকা লম্বা হলে সেই ব্যক্তির যে কোনও বিষয়ে ঝুঁকি নেওয়ার অদ্ভূত ক্ষমতা থাকে। এছাড়া, ফ্যাশন বা ছবির জগতে কাজ করার আগ্রহ দেখা যায়। লম্বায় ছোটো হলে সব অবস্থাতেই সে সন্তুষ্ট। যশ লাভের খুব ইচ্ছাও তার থাকে না। যদিও তর্জনী থেকে অনামিকা লম্বায় ছোটো খুব কমই দেখা যায়। অনামিকার নীচে অবস্থিত রবি গ্রহ পূর্ণ মাত্রায় (উঁচু) থাকলে সব কাজেই সাফল্য, যশ, প্রতিষ্ঠা আসে। ব্যক্তিটি পরিশ্রমী হয় এবং ব্যবসায় উন্নতি করে। ধার্মিক হলেও ধর্মান্ধ হয় না। নিজের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল থাকে। এরা যেমন চট করে রেগে যায় তেমনি আবার খুব তাড়াতড়ি শান্তও হয়।
★ কনিষ্ঠা -- বুধ গ্রহের ধারক এই আঙুল। এর মাধ্যমে ব্যক্তির বাকপটুতা, জ্ঞান, বুদ্ধি ও চাতুর্য বোঝা যায়। কণিষ্ঠা অনামিকার প্রথম ভাগের সমান এর উচ্চতা হলে যে কোনও বিষয়েই ব্যক্তির অভিব্যক্তি কম প্রকাশ পায়। ভাবনা এবং কথায় নিজের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ছেলেমানুষী স্বভাবে এর আরও একটি বৈশিষ্ট্য। আর লম্বা হলে আই কিউ তীক্ষ্ণ হয়। খুব ভালো লেখক ও সুবক্তা হয়। কনিষ্ঠা-র নীচু ভাগ চওড়া মানেই খুব বিলাসী।
এছাড়াও, হাতের আঙুলগুলি থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তির মনের ইচ্ছা, আয়ু সম্বন্ধেও জানা যায়। যেমন, যে কোনও আঙুলের অগ্রভাগ দেখে সেই ব্যক্তির ইচ্ছাশক্তি, দ্বিতীয় ভাগ তর্ক করার ক্ষমতা জানা যায়। আঙুলগুলি টান টান সোজা মানেই মানুষটি প্রচণ্ড কঠোর ও জেদি হবেই। এই ধরনের মানুষ অত্যন্ত বিশ্বাসী হলেও কঠোর ও জেদি স্বভাবে জন্য বেশি বন্ধু থাকে না।
আবার হাতের আঙুল খুব নরম মানেই সেই ব্যক্তি অত্যন্ত খরুচে। তবে সহজে এই লোককে বিশ্বাস না করাই ভালো। জেদি হওয়ায় এদের বন্ধুর সংখ্যা কম। নরম মানসিকতার জন্য অনেকেই বন্ধুত্বের আগ্রহ দেখায়। যদিও এরা কঠিন কাজ বা দায়িত্ব নিতে পারে না। বোহেমিয়ন স্বভাবের জন্য এরা নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনাও নিতে পারে না।
হাত মেলে ধরার সময় যাদের সব আঙুল ৬০ ডিগ্রি-র কোণে খোলা যায় না তারা জ্ঞানী ও কর্ম নিপুণ হয়। যাদের ৯০ ডিগ্রি কোণ পর্যন্তু খোলে তারা অনায়েসে ঝুঁকি নিতে পারে। ১২০ডিগ্রি কোণের আঙুলধারীরা সব সময় অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে অভ্যস্ত। আঙুলের গঠন কোমর-এর মতো হলে সেই ব্যক্তি তর্কে পারদর্শী হলেও শারীরিক সুস্থতা কম থাকে।
আঙুলের ডগা ছুঁচালো হলে প্রখর বুদ্ধিমান হবে। আঙুল আগা-গোড়া চওড়া হলে প্রচণ্ড জেদি হবে। আঙুলের ডগা চৌকো হলে বাজে কাজে জড়িয়ে জেলে যাওয়ারও অসম্ভব নয়। যদিও এরা খুবই বাস্তব মেনে থাকে।

Tuesday, January 7, 2020

মন্ত্র' গুণে দাম্পত্য সুখ

ঝগড়া, মান-অভিমান ছাড়া আবার স্বামী-স্ত্রী-র সম্পর্ক হয় নাকি! তা বলে কোনও জিনিসটাই তো বেশি ভালো নয়। এমন অনেক দম্পতি আছেন, যাঁরা মানসিক শান্তি বিসর্জন দিয়ে কেবল লোকলজ্জা বা সমাজের ভয়ে দীর্ঘদিন এক ছাদের তলায় বাস করে যাচ্ছেন। এটা একেবারেই কাম্য নয়। রোজের দাম্পত্য-কলহ এড়িয়ে বৈবাহিক সম্পর্ককে সুখী করার জন্য এমন কিছু মন্ত্র রয়েছে যা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উপকার মেলে।
-
রোজ যাঁদের মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকে তাঁরা সূর্য ওঠার আগে স্নান সেরে প্রতিষ্ঠিত শিব মন্দিরে গিয়ে মন্ত্র জপ করতে করতে শিব লিঙ্গে নিয়মিত জল ঢালুন। মন্ত্রটি হল -----
-
'ওং নমঃ সম্ভবায় চ ময়ো ভবায় চ নমঃ।
শংকরায় চ ময়স্করায় চ নমঃ শিবায় চ শিবতরায় চ।।'
-
এবং প্রতি সোমবার ভোরে স্নান সেরে 'ওঁ সোমেশ্বরায় নমঃ' মন্ত্র জপ করতে করতে শিবলিঙ্গের মাথায় দুধ মিশ্রিত জল ঢাললেও উপকার পাওয়া যাওয়া। জল ঢালার পর মন্দিরে বসে রুদ্রাক্ষের জপমালা নিয়ে দেবাদিদেব মহাদেবের স্মরণ নিন। পাঁচটি নারকেল শিবমূর্তির সামনে রেখে জপ করুন-- 'ওঁ শ্রী বর প্রদায় শ্রী নমঃ' মন্ত্র। স্ফটিক বা রুদ্রাক্ষের জপমালা হাতে নিয়ে এই মন্ত্র মোট পাঁচ মালা (জপের সময় জপমালার সমস্ত রুদ্রাক্ষ গুণতে হবে। পুরোটা একবার গোণা হলে এক মালা গোণা হল। জপ শেষে নারকেল দেবতার উদ্দেশ্য নিবেদন করুন। (এক মালা = ১০৮ বার)
-
আবার অনেকের মধ্যে ঝগড়া-ঝাঁটি তেমন না হলেও মতের মিল হয় না কখনও। সকালে স্নান সেরে দেবী দুর্গার ছবির সামনে প্রদীপ, ধূপ আর ফুল দিন। এরপর নীচে বলা মন্ত্র ১০৮ বার জপ করুন। ভক্তি ভরে নিয়ম মানলে ২১ দিনের মধ্যে সুফল পাওয়া সম্ভব।
-
মন্ত্র -----
'ধাং ধীং ধুং ধূর্জটে পত্নী
বাং বীং বূং বাগধীশ্বরী।
ক্রাং ক্রীং ক্রূং কালিকা দেবী
শাং শীং শূং মেং শুভং কুরু।।
-
দুঃখ-দারিদ্র্যে জর্জরিত? বা পারিবারিক কলহ রাতের ঘুম কেড়েছে? অর্থের কারণে রোজের দাম্পত্য-কলহ বৈবাহিক সম্পর্ককে কলুষিত করছে? তা হলে এই দুর্গা মন্ত্র জপ করলে সমস্ত বিপত্তি দূর হবে। পরিবারে সুখের বাস হবে।
-
দারিদ্রতা এবং দুঃখ ইত্যাদি দূর করতে মন্ত্র ------
-
দুর্গে স্মৃতা হরসি ভীতিমশেষজন্তোঃ
স্বস্থৈঃ স্মৃতা মতিমতীব শুভাং দদাসি।
দারিদ্র্যদুঃখভয়হারিণি কা ত্বদন্যা সর্বোপকারকরণায় সদার্দ্রচিত্তা।।
-
***প্রত্যেক দিন শ্রী শ্রী চণ্ডীর 'কুঞ্জিকা স্তোত্রম্' পাঠ করতে ভুলবেন না যেন।

Tuesday, September 24, 2019

কোন স্বপ্ন দেখলে কি ফল হয়

স্বপ্ন আমরা সবাই দেখি।
 মানুষের মন দুই প্রকার --
১. চেতন মন বা কনসাস মাইন্ড
২. অবচেতন মন বা সাব কনসাস মাইন্ড।
মানুষ যখন জাগ্রত অবস্থায় চলাফেরা, খাওয়া দাওয়া, সমস্থ ধরনের কাজ সম্পাদন করে চলে তখন তাদের মন চেতন বা কনসাস মাইন্ডের থাকে। এইসময় অবচেতন বা সাব কনসাস মাইন্ড নিস্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। আর মানুষ যখন ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে তখন অবচেতন মনের ক্রিয়া শুরু হয়। এই অবচেতন মনই স্বপ্নের মূল কারন। মানুশের সচেতন মন জাগ্রত অবস্থাই যা যা করে, দেখে বা অনুমান করে অবচেতন মন তা নিদ্রিত অবস্থাই সচেতন মন দৃষ্ট বিষয় বস্তুকে স্বপ্নের মাধ্যমে প্রকাশ করায়। এই প্রকাশই স্বপ্ন।
কি স্বপ্ন দেখলে কি ফল হয় ----(কিছু স্বপ্নের ফলাদেশ দেওয়া হল)
* আকাশ- উন্নতি, খুশি, সুখ
*আকাশে উড়া- ইচ্ছা পূরন।
* আগুন- কোন ভালবাসার মানুষের সাথে মিলিত হওয়া।
* আয়না - কোন ভালবাসার মানুশের সাথে ছিন্ন হওয়া।
* সূর্য- সম্পদ লাভ ও উন্নতি।
* অন্ধ মানুশ- ভ্রমন ভয় যুক্ত।
* বৃষ্টি- ঝগড়া, রোগ
* চুলকাটা - তর্কের অবসান
* মেঘ- ভ্রমন, যোগাযোগ ছিন্ন।
* দরজা বন্ধ করা- ভয় ও হারানো।
* নারী বা পরুষ (ক্রন্দনরত)- সুখবর প্রপ্তি ও বাধা বিঘ্ন অতিক্রম করার প্রচেষ্টা
* বিবাহ- ভয় ও বিপদ
* দৈহিক মিলন- প্রাপ্তি
* বাথটব- সন্মানসূচক আলোচনা।
* নৃত্যশালা- ভাল সময়ের আগমন বার্তা।
* সাঁতার- উন্নতি ( বিশেষ ভাবে কর্মক্ষেত্রে)
* মাটি কোপান- ভয়ের বার্তা।
* সর্প ধরা- শত্রুজয় সুনিশ্চিত।
* সাপে কামড়নো- ভয় ও আতঙ্ক।
* সাপ দেখার স্বপ্ন- শত্রুর ধংসাত্মক পরিকল্পনা।
* নৌকায় চড়া- বদনাম ও ভয়
* নৌকাহতে নামা- ভয় ও ভীতির মুক্তি
* চুমু খাওয়া- সুন্দর পরিকল্পনার লাভদায়ক ফলাফল।
* চুমু নেওয়া- ভাল বন্ধুত্তের প্রাপ্তি
* নদীতে সাঁতার- রোগমুক্তি
* মৃতদেহ- রোগমুক্তি:



* মাছ-স্বপ্নে মাছ দেখাটা সৌভাগ্যের লক্ষণ। বিশেষ করে যদি স্বপ্নে যদি দেখেন মাছ ধরছেন, তাহলে অর্থ প্রাপ্তি হবে। আর যদি মাছ ফসকে যায় তাহলে টাকা আসবে, তবে তা খরচও হয়ে যাবে।
* গরু -স্বপ্নে নিজের গরু দেখা মানে হল ধনসম্পত্তি প্রাপ্তি হবে। আর যদি মরা গরু দেখেন তাহলে সম্পদ হাতছাড়া হবে।
শারিরিক সম্পর্ক-স্বপ্নে কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে দেখলে বা কারও সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হতে দেখলে বুঝবেন যে আপনি নিঃসঙ্গ বোধ করছেন।
* দাঁত নড়া- স্বপ্নে দাঁত নড়তে দেখলে নিকট আত্মিয় কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বে। আর দাঁত পড়ে যাওয়া দেখলে নিকট আত্মীয় কেউ মারা যাবে। নতুন দাঁত গজাতে দেখলে সম্পত্তি লাভ হবে।
* গাছ- ফলভরতি গাছ দেখার অর্থ হল ধনসম্পত্তি লাভ। গাছ থেকে নিজেকে ফল পাড়তে দেখলে অর্থ প্রাপ্তি হবে।
* আগুন লাগা- গায়ে আগুন লাগা দেখলে পেটের সমস্যা হয়। সেটা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও হতে পারে। এর আরেকটি অর্থ হলো বিপদগ্রস্ত হওয়া।
* পড়ে যাওয়া- স্বপ্নে উপর থেকে নিচে পড়ে যেতে দেখার অর্থ হল কাজে অবনতি। এর আরেকটি অর্থ রয়েছে, তা হল মানুষটি মানসিক চাপে রয়েছে এবং বিষণ্নতায় ভুগছেন।
* জলে ডুবে যাওয়া- স্বপ্নে জলে ডুবে যাওয়ার অর্থ হল বিপদগ্রস্ত হওয়ার আভাস। তবে বৃষ্টি হতে দেখা মানে নতুন কিছু পাওয়া বা আগমনের পূর্বাভাস।
* সাপ- স্বপ্নে সাপ দেখার অর্থ হলো শত্রু বৃদ্ধি। তবে সাপ মেরে ফেলতে দেখা মানে আপনি শত্রুকে পরাস্ত করতে পারবেন। স্বপ্নে সাদা সাপ দেখা সৌভাগ্য ও বংশবৃদ্ধির লক্ষণ।
* নগ্ন-নিজেকে নগ্ন দেখার অর্থ হলো সম্মানহানি। অন্য কাউকে নগ্ন দেখার অর্থ হল তার সম্মানহানি।
* নক্ষত্র- বয়স্কদের হতে প্রাপ্তি।
* এরোপ্লেন- পরিবেশের পরিবর্তন।
* প্লেনে চড়া- কাজের সময় সতর্ক্তা জরুরি।
* শিশু- ব্যবসাতে উন্নতি ও সুখি জীবন
* পিতা- ভাল সময়ের সূচনা
* আচেনা মাঠ দেখ- সুফল যুক্ত ভ্রমন
* অজগর দেখা- বিবাদের চিহ্ন।
* অলঙ্কার দেখা- সন্মান
* অগ্নি জ্বালতে গিয়ে বিপদে পড়া- চোখের রোগ হয়।

রাশি অনুযায়ী গণেশ মন্ত্র পাঠ করুন, সমস্যার সমাধান হবে

গণেশের সাধনা করে জীবনের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব। গণেশের কৃপালাভ করলে সমস্ত কাজেই সিদ্ধিলাভ হয়। পুরাণে বলা হয়েছে যে, গণেশজির ১২টি নামের অসীম মাহাত্ম্য। এই ১২টি নামের সঙ্গে ১২টি রাশি যুক্ত। এখন দেখে নেওয়া যাক আপনার রাশি অনুযায়ী কে কোন মন্ত্র পাঠ করবেন ---

রাশি গণেশজির নাম গণেশজির মন্ত্র
--- ---- ------ ------ ----- ---- ------ --- ----- -----

মেষ -- বক্রতুণ্ড -- ওঁ বক্রতুণ্ডায় নমঃ

বৃষ -- একদন্ত  -- ওঁ একদন্তায় নমঃ

মিথুন -- কৃষ্ণপিঙ্গাক্ষ -- ওঁ কৃষ্ণপিঙ্গাক্ষায় নমঃ

কর্কট -- গজবক্ত্র -- ওঁ গজবক্ত্রায় নমঃ

সিংহ -- লম্বোদর -- ওঁ লম্বোদরায় নমঃ

কন্যা -- বিকট -- ওঁ বিকটায় নমঃ

তুলা -- বিঘ্নরাজেন্দ্র -- ওঁ বিঘ্নরাজেন্দ্রায় নমঃ

বৃশ্চিক -- ধূম্রবর্ণ -- ওঁ ধূম্রবর্ণায় নমঃ

ধনু --  মহোদর -- ওঁ মহোদরায় নমঃ

মকর -- বিনায়ক -- ওঁ বিনায়কায় নমঃ

কুম্ভ -- গণপতি -- ওঁ গণপতয়ে নমঃ

মীন -- গজানন -- ওঁ গজাননায় নমঃ

ক্রিয়াটি কী ভাবে সম্পন্ন করবেন --- প্রথমে শ্রী গণেশের পূজা করুন। তারপর প্রতি দিন প্রথমে উপরে লেখা ১২টি গণেশ-মন্ত্র এক বার করে পাঠ করুন। তার পর আপনি আপনার রাশি অনুসারে গণেশজির মন্ত্র ১০৮ বার জপ করুন। ভক্তিভরে এই ভাবে জপ করলে জীবনের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব।




গণেশের ধ্যান –

“খর্বং স্থূলতনুং গজেন্দ্রবদনং লম্বোদরং সুন্দরং
প্রস্যন্দন্মদ্গন্ধলুব্ধমধুপব্যালোলগণ্ডস্থলম্।
দন্তাঘাতবিদারিতারিরুধিরৈঃ সিন্দূরশোভাকরং
বন্দে শৈলসুতাসুতং গণপতিং সিদ্ধিপ্রদং কামদম্।।”

------- অর্থাৎ, “যিনি খর্বাকৃতি, স্থূলশরীর, লম্বোদর, গজেন্দ্রবদন অথচ সুন্দর; বদন হইতে নিঃসৃত মদগন্ধে প্রলুব্ধ ভ্রমরসমূহের দ্বারা যাঁহার গণ্ডস্থল ব্যাকুলিত; যিনি দন্তাঘাতে শত্রুর দেহ বিদারিত করিয়া তাহার দন্ত দ্বারা নিজ দেহে সিন্দূরের শোভা ধারণ করিয়াছেন; সেই পার্বতীপুত্র সিদ্ধিদাতা ও কামদাতা গণপতিকে বন্দনা করি।”

গণেশের প্রণামমন্ত্র –

"একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদরং গজাননং।
বিঘ্ননাশকরং দেবং হেরম্বং প্রণমাম্যহম্।।"

--------- অর্থাৎ, “যিনি একদন্ত, মহাকায়, লম্বোদর, গজানন এবং বিঘ্ননাশকারী সেই হেরম্বদেবকে আমি প্রণাম করি।”

গণেশের প্রার্থনামন্ত্র –

দেবেন্দ্রমৌলিমন্দারমকরন্দকণারুণাঃ।
বিঘ্নং হরন্তু হেরম্বচরণাম্বুজরেণবঃ।।

---------- অর্থাৎ, “দেবরাজ ইন্দ্রের মস্তকে বিরাজিত মন্দারপুষ্পের পরাগসমূহের দ্বারা রক্তিম হেরম্বের পাদপদ্মের রেণুসমূহ আমার বিঘ্নহরণ 

Monday, April 29, 2019

সামুদ্রিক শাস্ত্র অথবা জ্যোতিষ শাস্ত্র

ছয়টি বেদাঙ্গের একটি জ্যোতিষ। প্রাচীনকালে জ্যোতিষ অনুসারে শুভ তিথি অনুযায়ী যজ্ঞ করা হত। জ্যোতিঃ অর্থ আলো। বিভিন্ন গ্রহ-নক্ষত্র দীপ্তিমান অর্থাৎ এদের জ্যোতি বা আলো রয়েছে। পরবর্তী কালে মানব-জীবনে বিভিন্ন গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব সম্পর্কে চর্চা শুরু হয় এবং সেই সংক্রান্ত জ্ঞান বা বিদ্যাই জ্যোতিষ বিজ্ঞান বলে পৃথিবীতে পরিচিতি লাভ করে। ভৃগু, পরাশর, জৈমিনি আদি প্রাচীন ঋষিগণকে জ্যোতিষ বিজ্ঞানের প্রবর্তক বলা চলে। তাঁরা জ্যোতিষবিদ্যা বিভিন্ন অঙ্গ বা শাখা-প্রশাখা সৃষ্টি করে গেছেন। তাঁরা উপলব্ধি করেছেন যে, পৃথিবীর নিকটবর্তী নয়টি গ্রহ, বারটি রাশি ও সাতাশটি নক্ষত্র মানুষের জীবনের উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং এই প্রভাবই ফলিত জ্যোতিষ বিজ্ঞানের মুখ্য আলোচ্য বিষয়। জাতক ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় এই সব গ্রহ, রাশি ও নক্ষত্রের অবস্থান অনুসারে জাতকের ভাগ্য নিয়ন্ত্রিত হয়। জ্যোতিষ বিজ্ঞান বলে গ্রহগণ নিছক জড় বস্তু নয়। জ্যোতিষ শান্ত্রে গ্রহগণকে দেবতা জ্ঞান করা হয়েছে -- 'গ্রহরূপী জনার্দনঃ'। গ্রহগণ সর্বদা ঘুর্ণায়মান। সনাতনী জ্যোতিষমতে প্রত্যেক মানুষ কোন না কোন গ্রহ দ্বারা প্রভাবিত। গ্রহেরা ঘুরতে ঘুরতে যখন শুভ অবস্থানে থাকে তখন জাতকের শুভ হয় এবং গ্রহগণ যখন অশুভ অবস্থানে থাকে তখন জাতকের অশুভ হয়। নবগ্রহের নাম- ১) রবি, ২) সোম, ৩) মঙ্গল, ৪) বুধ, ৫) বৃহস্পতি, ৬) শুক্র, ৭) শনি, ৮) রাহু ও ৯) কেতু। এই নবগ্রহের মধ্যে সোম, বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্র এই চারটি গ্রহ অধিকাংশ সময় শুভফল প্রদান করে বলে এদেরকে শুভ গ্রহ এবং রবি, মঙ্গল, শনি, রাহু ও কেতু এই পাঁচটি গ্রহ অধিকাংশ সময় অশুভফল প্রদান করে বলে এদেরকে অশুভ গ্রহ বা পাপ গ্রহ বলে। নবগ্রহের রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতি পুরুষ, চন্দ্র ও শুক্র স্ত্রী এবং বুধ ও শনি ক্লীব বা নপুংসক। রবি একটি রাশিতে ত্রিশ দিন, চন্দ্র সোয়া দুই দিন, মঙ্গল পয়তাল্লিশ দিন, বুধ আঠার দিন, বৃহস্পতি এক বছর, শুক্র আটাশ দিন, শনি আড়াই বছর এবং রাহু-কেতু দেড় বছর অবস্থান করে।
জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে রবি -- আত্মা, পিতা, রক্ত বর্ণ, কটু (ঝাল) রস, পিত্ত ধাতু, স্বভাব, যশ-খ্যাতি, প্রতিষ্ঠা প্রভৃতির কারক।
চন্দ্র -- মন, মাতা, জল, শুভ্রবর্ণ, লবণ রস, শ্লেষ্মা ধাতু, চঞ্চলতা, চিন্তাশক্তি, সাহিত্য প্রভৃতির কারক।
মঙ্গল -- শক্তি, ভ্রাতৃ, ভূমি, সম্পত্তি, সাহস, পরাক্রম, অগ্নি, লাল বর্ণ, তিক্ত রস, পিত্ত ধাতু প্রভৃতির কারক। 
বুধ -- বুদ্ধি, মাতুল, বাণিজ্য, বাক্-শক্তি, মিশ্র রস, সম ধাতু, হাস্য, শিল্প, সাহিত্য, সবুজ বর্ণ প্রভৃতির কারক।
বৃহস্পতি -- ধর্ম, পুত্র, ধন, জ্ঞান, মিষ্টি রস, কফ ধাতু, হলুদ বর্ণ প্রভৃতির কারক।
শুক্র -- প্রেম, কাম, স্ত্রী, সুখ, অম্ল রস, কফ ধাতু, গীত, কাব্য, শুভ্র বর্ণ প্রভৃতির কারক।
শনি -- দুঃখ, মৃত্যু, বিপদ, কষায় রস, বায়ু ধাতু, অস্ত্র, আধ্যাত্মিকতা, গুপ্তবিদ্যা প্রভৃতির কারক নীল বর্ণ প্রভৃতির কারক।
রাহু -- শত্রু, নিদ্রা, চৌর্য, বিষক্রিয়া, পিতামহ, দ্যুত-ক্রিড়া, বায়ু ধাতু, কাল বর্ণ প্রভৃতির কারক।
কেতু -- মাতামহ, সর্প, দংশন, ক্ষুধা, ধুম্র বর্ণ, ব্রণ ও চর্ম রোগ প্রভৃতির কারক।

সনাতনী জ্যোতিষ বিজ্ঞান বলে গ্রহদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও মিত্রতা রয়েছে। 
  • রবির মিত্র- চন্দ্র, মঙ্গল ও বৃহস্পতি, শত্রু- শুক্র ও শনি এবং সম- বুধ। 
  • চন্দ্রের মিত্র- রবি ও বুধ, শত্রু- নেই এবং সম- মঙ্গল, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনি।
  • মঙ্গলের মিত্র- রবি, চন্দ্র ও বৃহস্পতি, শত্রু- বুধ এবং সম- শুক্র ও শনি। 
  • বুধেরমিত্র- রবি ও শুক্র, শত্রু- চন্দ্র এবং সম- শনি, মঙ্গল ও বৃহস্পতি।
  •  বৃহস্পতির মিত্র- রবি, চন্দ্র ও মঙ্গল,শত্রু- বুধ ও শুক্র এবং সম- শনি। 
  • শুক্রের মিত্র- বুধ ও শনি, শত্রু- রবি ও চন্দ্র এবং সম- মঙ্গল ও বৃহস্পতি। 
  • শনির মিত্র- বুধ ও শুক্র, শত্রু- রবি, চন্দ্র ও মঙ্গল এবং সম- বৃহস্পতি। 
  • রাহুর মিত্র- শুক্র ও শনি, শত্রু- রবি, চন্দ্র ও মঙ্গল এবং সম- বুধ ও বৃহস্পতি। 
  • কেতুর মিত্র- রবি ও চন্দ্র, শত্রু- শুক্র ও শনি এবং সম- বুধ ও বৃহস্পতি।
এবার আসুন রাশিদের একটি জেনারেল গুন-দোষ আলোচনা করা যাক। 

  • মেষ রাশির জাতক ভাবপ্রবণ, চঞ্চল, জেদী, ক্রোধী, সামান্য কারণে আনন্দিত বা বিষাদগ্রস্ত, মিষ্টান্নপ্রিয়, ত্যাগী, ধনী, নিজ কর্মে বিশ্বাসী, প্রবল আত্মবোধ ও ইন্দ্রিয়ানুভূতির অধিকারী। 
  •  বৃষ রাশির জাতক স্থুল নেত্রযুক্ত, স্বল্পভাষী, ধীর-স্থীর, ধার্মিক, কুলজনের হিতকারী, তীক্ষ্ণ-বুদ্ধিযুক্ত, অধ্যবসায়ী, পরিশ্রমী, স্থির-প্রতিজ্ঞ, বাস্তববাদী, আধিপত্য বিস্তারকারী ও হিসাবী। 
  • মিথুন রাশির জাতক ধীর-গতিসম্পন্ন, স্পষ্টবাক, পরহিতৈষী, তীক্ষ্ণ-বুদ্ধিযুক্ত, পণ্ডিত, হাস্যযুক্ত, কৌতুকপ্রিয়, আত্ম-প্রশংসাকামী, সমালোচক, গীতবাদ্য অনুরাগী।
  • কর্কট রাশির জাতক চিন্তাশীল, ভাবুক, কল্পনাপ্রবন, উদার, সত্যবাদী, দয়ালু, দেবদ্বিজে ভক্তিপরায়ণ, পণ্ডিত, প্রগতিশীল হলেও পুরাতনপন্থী, দৃঢ়-প্রতীজ্ঞ, ভ্রমণপ্রিয়, আশ্চর্যজনক বিষয়ে আগ্রহশীল, মাতা-পিতার প্রতি ভক্তিপরায়ণ এবং সাহিত্য ও গীতবাদ্যে অনুরাগী।
  • সিংহ রাশির জাতকবিশ্বাসী, ক্রোধী, বন্ধুহীন, উন্নত-বক্ষবিশিষ্ট, খেয়ালী, কর্তৃত্বপ্রিয়, স্বাধীনচেতা, বিলাসী, স্পষ্টবক্তা, অন্যায়ের বিরুদ্ধাচারী, আত্ম-সচেতন ও অমিতব্যয়ী।
  • কন্যা রাশির জাতক ধার্মিক, বালক-স্বভাবযুক্ত, ক্ষমাপরায়ণ, একমনা, তীক্ষ্ণ-বুদ্ধিযুক্ত, সমালোচক, সৎ হলেও ক্ষেত্র বিশেষে কুটিল-স্বভাবযুক্ত, মাতৃভক্ত, সাহিত্য-রসিক এবং রমণীগণের প্রিয়। 
  • তুলা রাশির জাতক কোমল শরীর-বিশিষ্ট, দাতা, বন্ধুবৎসল, সদালাপী, অতিভাষী, দৈব-প্রভাবযুক্ত, বুদ্ধিমান, সামাজিক, ভোগী, বিলাসী, শাস্ত্রজ্ঞ, সঙ্গীতজ্ঞ ও রমণীগণের প্রিয়।
  • বৃশ্চিক রাশির জাতক পণ্ডিত, দৃঢ়মতি, বলশালী, আত্মনির্ভরশীল, কর্মদক্ষ, গম্ভীর, জেদী, ক্রোধী, পরমত অসহিষ্ণু, সর্বদা উদ্বেগযুক্ত ও খলবুদ্ধিসম্পন্ন। 
  • ধনু রাশির জাতক নানা কীর্তিপরায়ণ, কুলগৌরবযুক্ত, বন্ধুলোকের হিতকামী, সূক্ষ্মদৃষ্টিসম্পন্ন, প্রভূত ধন-সম্পদযুক্ত, ধীর গতিসম্পন্ন, ধার্মিক, স্বাধীনচেতা, উচ্চাভিলাসী, কর্তৃত্বপ্রিয়, অহংকারী, ক্ষণক্রোধী, পিতৃধন ত্যাগী, গীতপ্রিয়, মীতব্যয়ী, কখনও ধীর আবার কখনও স্থীর, দ্বিধাভাবগ্রস্ত ও সন্দিগ্ধমনা। 
  •  মকর রাশির জাতক তীক্ষ্ণ-বুদ্ধিযুক্ত, ধীর, আত্মাভিমানী, পরাক্রমযুক্ত, বন্ধুবৎসল, দ্বায়িত্বসম্পন্ন, ভোগবিলাসী, মন্ত্রণা ও বাদানুবাদে দক্ষ, সুনামপ্রিয়, পরদারাসক্ত এবং বাইরে থেকে সহজ-সরল মনে হলেও অমত্মরে কুটিল। 
  • কুম্ভ রাশির জাতক উদ্যমী, একাগ্র চিত্তের অধিকারী, ভাবুক, ধার্মিক, নির্জনতাপ্রিয়, সংস্কারপ্রিয়, জ্ঞাতিবর্গসহ আমোদকারী, পরদারাসক্ত, ধনশালী, গম্ভীর, কুটিল স্বভাবযুক্ত ও নিদ্রাপ্রিয়। 
  • মীন রাশির জাতক ধৈর্যশালী, শামিত্মপ্রিয়, একাগ্র, জ্ঞানী, মানী, আশাবাদী, উদ্ভাবনী শক্তিসম্পন্ন, উদার, ধার্মিক, দ্বিধাভাবগ্রস্ত, স্ত্রী-জয়ী, রমণীপ্রিয়, সাহিত্যরসিক ও ধনেজনে সুখভোগী।
এবার জানা যাক সমুদ্রিক শাস্ত্র মতে জন্ম লগ্ন কি? জন্মের সময় পৃথিবীর নিকটস্থ রাশিকে অর্থাৎ পৃথিবী যে রাশিকে অতিক্রম করছিল সে রাশিকে জন্ম-লগ্ন বলে। এখানে সংক্ষিপ্তাকারে দ্বাদশ প্রকার জন্ম-লগ্নের ফল দেওয়া হল।
  • মেষ লগ্নের জাতক যশস্বী, মানী, পরবৎসল, জ্ঞানী, পরাক্রমশালী, সাহসী, ক্রোধী, কুটচিন্তাশীল, ভোগী ও স্ত্রীপুত্র সুখে সুখী হয়ে থাকে।
  •  বৃষ লগ্নের জাতক গুরুভক্ত, প্রিয়ভাষী, গুণবান, কৃতী, তেজস্বী, সর্বজনপ্রিয়, সুরতক্রিয়া নিপুন, লোভী ও পরস্ত্রীতে অনুরক্ত হয়ে থাকে। 
  •  মিথুন লগ্নের জাতক মান্যগণ্য, যশস্বী, শিক্ষিত, আত্মীয়বৎসল, ত্যাগী, ভোগী, ধনী, কামী, দীর্ঘসূত্রী, সাহিত্যরসিক, সঙ্গীতজ্ঞ, সুবক্তা হয়ে থাকে। 
  •  কর্কট লগ্নের জাতক সর্বজনপ্রিয়, স্বজনপ্রিয়, ধার্মিক, ধনী, ভোগী, পণ্ডিত, ভাষাবিদ, জনসেবক এবং মিষ্টান্ন ও পানীয় দ্রব্যপ্রিয় হয়ে থাকে। 
  •  সিংহ লগ্নের জাতক শত্রুজয়ী, বুদ্ধিমান, উৎসাহী, বলশালী, পরদ্রব্যভোগী, ক্রোধী, স্বল্পপুত্রবিশিষ্ট, জনপ্রিয় ও স্বার্থহীন হয়ে থাকে। 
  •  কন্যা লগ্নের জাতক ধার্মিক, জ্ঞানী, শাস্ত্রজ্ঞ, বিচক্ষণ, অহংকারী, পর্যটক, বক্তা, কামকলাপ্রিয়, সৌভাগ্যশালী ও স্বল্পাহারী হয়ে থাকে।
  •  তুলা লগ্নের জাতক ধীর-স্থির, বহুজনের হিতকারী, বিদ্বান, সৎকর্মে অনুরক্ত, ধনী, মানী, শিল্পকলায় পরিদর্শী ও অল্পভোগী হয়ে থাকে। 
  •  বৃশ্চিক লগ্নের জাতক শৌর্যশালী, বুদ্ধিমান, সৌভাগ্যযুক্ত, ক্রোধী, কামুক, সাহসী, ক্ষুধাতুর, বিবাদকারী ও দুষ্টবুদ্ধিযুক্ত হয়ে থাকে।
  • ধনু লগ্নের জাতক নীতিপরায়ণ, ধার্মিক, শাণিতবাক, বিদ্বান, ধনী, সুখী, জ্ঞানী, বহুলোকের হিতকারী, চাপা-স্বভাব, অহংকারী ও উচ্চাভিলাসী হয়ে থাকে। 
  •  মকর লগ্নের জাতক যশস্বী, ধনী, বহুসন্তানযুক্ত, কপট, কর্মঠ, কষ্টসহিষ্ণু, লোভী, হীনকর্মযুক্ত ও স্বকার্যে তৎপর হয়ে থাকে। 
  •  কুম্ভ লগ্নের জাতক বলশালী, সুখী, বন্ধুযুক্ত, বেদজ্ঞ, সূক্ষ্ম অনুভূতিশীল, তপস্বী, ক্রোধী, চঞ্চল, পরস্ত্রীতে আসক্ত ও নিদ্রালু হয়ে থাকে। 
  •  মীন লগ্নের জাতক অতিশয় জ্ঞানী, দেবতা ও গুরু-পূজক, মানী, ধনী, স্পর্শকাতর, নিঃসঙ্গ জীবনীশক্তিযুক্ত, স্বল্প রোমবিশিষ্ট ও বহুকাল পরীক্ষাকারী হয়ে থাকে।
  •  মিথুন লগ্নের জাতক মান্যগণ্য, যশস্বী, শিক্ষিত, আত্মীয়বৎসল, ত্যাগী, ভোগী, ধনী, কামী, দীর্ঘসূত্রী, সাহিত্যরসিক, সঙ্গীতজ্ঞ, সুবক্তা হয়ে থাকে। 


 জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে নক্ষত্র পরিচয়। মহাকাশে অগণিত নক্ষত্র রয়েছে। তার মধ্যে পৃথিবীর উপর সাতাশটি নক্ষত্রের প্রভাব বিদ্যমান। জ্যোতিষ শাস্ত্রে উল্লিখিত সাতাশটি নক্ষত্রের নাম- ১) অশ্বিনী, 
২) ভরণী, 
৩) কৃত্তিকা, 
৪) রোহিণী,
৫) মৃগশিরা,
৬) আর্দ্রা,
৭) পুনর্বসু,
৮) পুষ্যা,
৯) অশ্লেষা,
১০) মঘা,
১১) পূর্ব-ফাল্গুনী,
১২) উত্তর-ফাল্গুনী,
১৩) হস্তা,
১৪) চিত্রা,
১৫) স্বাতী,
১৬) বিশাখা,
১৭) অনুরাধা,
১৮) জ্যেষ্ঠা,
১৯) মূলা,
২০) পূর্বাষাঢ়া,
২১) উত্তরাষাঢ়া,
২২) শ্রবণা,
২৩) ধনিষ্ঠা,
২৪) শতভিষা,
২৫) পূর্ব-ভাদ্রপদ,
২৬) উত্তর-ভাদ্রপদ ও
২৭) রেবতী।
হিন্দু-পুরাণ মতে এই সাতাশটি নক্ষত্র কোন দীপ্তিমান জড় বস্ত্ত নয়। প্রকৃতক্ষে এই সাতাশটি নক্ষত্র মূলত দক্ষরাজার সাতাশটি কন্যা। চন্দ্র এই সাতাশজন কন্যাকে বিবাহ করেছেন। যা হোক, চন্দ্র পর্যায়ক্রমে একটি রাশিতে আড়াই দিন অবস্থান করেন। চন্দ্র ব্যতীত অন্যান্য গ্রহগণও সাতাশটি নক্ষত্রকে পর্যায়ক্রমে নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে অতিক্রম করেন। নক্ষত্রসমূহকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করা হয়েছে। যেমন ---
উগ্রগণ- পূর্ব-ফাল্গুনী, পূর্বাষাঢ়া, পূর্ব-ভাদ্রপদ, মঘা ও ভরণী নক্ষত্র।
ধ্রুবগণ- উত্তর-ফাল্গুনী, উত্তরাষাঢ়া, উত্তর-ভাদ্রপদ ও রোহিণী নক্ষত্র।
চরগণ- স্বাতী, পুনর্বসু, শ্রবণা, ধনিষ্ঠা ও শতভিষা নক্ষত্র।
ক্ষিপ্রগণ- পুষ্যা, অশ্বিনী ও হস্তা নক্ষত্র।
মৃদুগণ- চিত্রা, অনুরাধা, মৃগশিরা ও রেবতী নক্ষত্র।
তীক্ষ্ণগণ- আর্দ্রা, অশ্লেষা, জ্যেষ্ঠা ও মূলা নক্ষত্র।
মিশ্রগণ-কৃত্তিকা ও বিশাখা।
জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে, জন্ম-নক্ষত্র অনুসারে জাতককে বিভিন্ন গ্রহের দশা ভোগ করতে হয়। জ্যোতিষ-শাস্ত্রে দুই প্রকার দশা প্রচলিত, যথা- অষ্টোত্তরী ও বিংশোত্তরী দশা। জাতক কৃষ্ণপক্ষে দিনে ও শুক্লপক্ষে রাতে জন্মগ্রহণ করলে বিংশোত্তরী দশা এবং কৃষ্ণপক্ষে রাতে ও শুক্লপক্ষে দিনে জন্মগ্রহণ করলে অষ্টোত্তরী দশা প্রযোজ্য হবে। অষ্টোত্তরী নিয়মে জাতক রবি (৬ বছর), চন্দ্র (১৫ বছর), মঙ্গল (৮ বছর), বুধ (১৭ বছর), শনি (১০ বছর), বৃহস্পতি (১৯ বছর), রাহু (১২ বছর) ও শুক্র (২১ বছর) এই আটটি গ্রহের দশা নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে উক্ত ক্রমে ভোগ করবে। যেমন- কেউ রবির দশায় জন্মগ্রহণ করলে তাকে রবির দশার ভোগ্যকাল শেষে ১৫ বছর চন্দ্রের দশা ভোগ করতে হবে এবং এরপর তাকে ৮ বছর মঙ্গলের দশা ভোগ করতে হবে, এভাবে মৃত্যর পূর্ব পর্যমত্ম তাকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন গ্রহের দশা ভোগ করে যেতে হবে।
অষ্টোত্তরী মতে জন্ম-নক্ষত্র কৃত্তিকা, রোহিণী ও মৃগশিরা হলে প্রথমে রবির দশা হবে, আর্দ্রা, পুনর্বসু, পুষ্যা ও অশেস্নষা হলে প্রথমে চন্দ্রের দশা হবে, মঘা, পূর্ব-ফাল্গুনী ও উত্তর-ফাল্গুনী হলে প্রথমে মঙ্গলের দশা হবে, হস্তা, চিত্রা, স্বাতী ও বিশাখা হলে প্রথমে বুধের দশা হবে, অনুরাধা, জ্যেষ্ঠা ও মূলা হলে প্রথমে শনির দশা হবে, পূর্বাষাঢ়া, উত্তরাষাঢ়া, শ্রবণা হলে প্রথমে বৃহস্পতির দশা হবে, ধনিষ্ঠা, শতভিষা ও পূর্ব-ভাদ্রপদ হলে প্রথমে রাহুর দশা হবে এবং উত্তর-ভাদ্রপদ, রেবতী, অশ্বিনী ও ভরণী হলে প্রথমে শুক্রের দশা হবে।
বিংশোত্তরী মতে, জাতক রবি (৬ বছর), চন্দ্র (১০ বছর), মঙ্গল (৭ বছর), রাহু (১৮ বছর), বৃহস্পতি (১৬ বছর), শনি (১৯ বছর), বুধ (১৭ বছর), কেতু (৭ বছর) ও শুক্র (২০ বছর) এই নয়টি গ্রহের দশা নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে উক্ত ক্রমে ভোগ করবে। কৃত্তিকা, উত্তর-ফাল্গুনী ও উত্তরাষাঢ়া জন্ম-নক্ষত্র হলে প্রথমে রবির দশা হবে, রোহিণী, হসত্মা ও শ্রবণা হলে প্রথমে চন্দ্রের দশা হবে, মৃগশিরা, চিত্রা ও ধনিষ্ঠা হলে প্রথমে মঙ্গলের দশা হবে, আর্দ্রা, স্বাতী ও শতভিষা হলে প্রথমে রাহুর দশা হবে, পুনর্বসু, বিশাখা ও পূর্ব-ভাদ্রপদ হলে প্রথমে বৃহস্পতির দশা হবে, পুষ্যা, অনুরাধা ও উত্তর-ভাদ্রপদ হলে প্রথমে শনির দশা হবে, অশ্লেষা, জ্যেষ্ঠা ও রেবতী হলে প্রথমে বুধের দশা হবে, মঘা, মূলা ও অশ্বিনী হলে প্রথমে কেতুর দশা হবে এবং পূর্ব-ফাল্গুনী, পূর্বাষাঢ়া ও ভরণী হলে প্রথমে শুক্রের দশা হবে।
এখন অষ্টোত্তরী মতে প্রথম দশার ভোগ্যকাল নির্ণয় প্রসঙ্গে আসা যাক। ধরা যাক, কোন জাতক রোহিণী নক্ষত্রের ৩০ দণ্ডে (১২ ঘণ্টা) জন্মগ্রহণ করেছেন। যেহেতু কৃত্তিকা, রোহিণী ও মৃগশিরা নক্ষত্রে জন্মগ্রহণ করলে জাতকের প্রথমে রবির দশা হয় সেহেতু ঐ জাতক রোহিণী নক্ষত্রে জন্মগ্রহণ করায় তাকে প্রথমে রবির দশা ভোগ করতে হবে। এখন ৩টি নক্ষত্রের জন্য রবির মোট ভোগ্য বছর ৬। তাহলে প্রতিটি নক্ষত্রকে রবি ৬/৩ = ২ বছর করে ভোগ করে। রোহিনী নক্ষত্রের স্থিতিকাল ৬০ দণ্ড (২৪ ঘণ্টা)। বর্তমান নক্ষত্র যে সময় পর্যমত্ম অবস্থান করে তা থেকে পূর্ববর্তী নক্ষত্র যে সময় পর্যন্ত অবস্থান করেছিল তা বিয়োগ করলেই নক্ষত্রে স্থিতিকাল পাওয়া যাবে। যেহেতু ৩০ দণ্ড পর জন্ম হয়েছে সেহেতু সে ৬০ - ৩০ = ৩০ দণ্ড ভোগ করবে। এখন সম্পূর্ণ নক্ষত্র ভোগের জন্য অর্থাৎ ৬০ দণ্ডের জন্য রবির ভোগ্যকাল ২ বছর হলে ৩০ দণ্ডের জন্য রবির ভোগ্যকাল হবে ১ বছর। জন্মের ১ বছর পর রবির ভোগ্যকাল শেষে চন্দ্রের দশা শুরু হবে যা ১০ বছর পর্যন্ত থাকবে। 
বিংশোত্তরী মতে কোন জাতকের জন্ম রোহিনী নক্ষত্রে হলে তাকে প্রথমে চন্দ্রের দশা ভোগ করতে হবে। রোহিনী নক্ষত্রের ২৪ দ-- জন্ম হলে তার নক্ষত্র ভোগ্যকাল হবে ৬০ - ২৪ = ৩৬ দণ্ড। এখন ৬০ দণ্ডের জন্য চন্দ্রের ভোগ্যকাল ১০ বছর হলে ৩৬ দণ্ডের জন্য চন্দ্রের ভোগ্যকাল হবে ৬ বছর। জন্মের ৬ বছর পর চন্দ্রের ভোগ্যকাল শেষে মঙ্গলের দশা শুরু হবে যা ৭ বছর পর্যন্ত থাকবে এবং এভাবে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দশা ভোগ চলতে থাকবে।
জন্ম-রাশি বা জন্ম-লগ্নকে ১ম স্থান ধরে অবশিষ্ট এগারোটি রাশিগুলোকে ২য়, ৩য়, ৪র্থ এই ক্রমে গণনা করে শেষ পর্যমত্ম যে ১২টি স্থান পাওয়া যায় ঐ ১২টি স্থান দ্বারা ১২ প্রকার ভাব ফল নির্ণয় করা হয়। জন্ম-লগ্নের ১ম, ৪র্থ, ৭ম ও ১০ম স্থানকে কেন্দ্র বলে। যেমন মেষ লগ্নের নক্ষত্রে ১ম স্থানে মেষ, ৪র্থ স্থান কর্কট, ৭ম স্থানে তুলা এবং ১০ম স্থানে মকর রয়েছে। সুতরাং ১ম স্থানে, কর্কটের স্থানে, তুলার স্থানে এবং মকরের স্থানে কোন গ্রহ থাকলে তা কেন্দ্রে আছে ধরা হয়। লগ্ন, ৯ম ও ৫ম স্থানকে কোণ বলে এবং ৩য়, ৬ষ্ঠ, ৮ম স্থানকে দুঃস্থান বলে। গ্রহগণ জন্ম-লগ্নের কেন্দ্র ও কোণে বলশালী হয় এবং শুভ ফল প্রদান করে কিন্তুডএূ দুঃস্থানে অশুভ ফল প্রদান করে।
১ম অর্থাৎ জন্ম-লগ্ন ও জন্ম-রাশি থেকে দেহভাব, ৩য় স্থান থেকে ভ্রাতৃভাব, ৪র্থ স্থান থেকে বন্ধুভাব, ৫ম স্থান থেকে পুত্রভাব, ৬ষ্ঠ স্থান থেকে শত্রুভাব, ৭ম স্থান থেকে পতি বা পত্নীভাব, ৮ম স্থান থেকে আয়ু বা নিধনভাব, ৯ম স্থান থেকে ভাগ্য বা ধর্মভাব, ১০ম স্থান থেকে কর্মভাব, ১১শ স্থান থেকে আয়ভাব এবং ১২শ স্থান থেকে ব্যয়ভাব বিচার করা হয়। যেমন- মেষ রাশি বা মেষ লগ্নের ৭ম স্থানে তুলা রাশি অবস্থিত। ৭ম স্থান দ্বারা পতি বা পত্নীযোগ, বিবাহ ও দাম্পত্য-জীবন বিচার করা হয়। এখন মেষ রাশির ৭ম স্থানে অর্থাৎ তুলা রাশিতে যদি শুভ, উচ্চস্থ ও মিত্র গ্রহ অবস্থান করে এবং শুভ গ্রহের দৃষ্টি থাকে তবে ঐ জাতকের পতি বা পত্নী, বিবাহ ও দাম্পত্য-জীবন সুন্দর হবে। এর বিপরীত হলে বিপরীত ফল প্রসব করবে। এভাবে দ্বাদশ স্থানে গ্রহ-নক্ষত্রে অবস্থান অনুসারে দ্বাদশ প্রকার ভাব বিচার করা হয়। দ্বাদশ স্থানের অধিপতি গ্রহের অবস্থান অনুসারেও দ্বাদশ ভাব নির্ণয় করা হয়। যেমন- মেষ রাশির অধিপতি মঙ্গল তাই মঙ্গল হবে লগ্নপতি। মেষ রাশির ২য় স্থানে বৃষ রাশি রয়েছে। বৃষ রাশির অধিপতি শুক্র তাই শুক্র হবে তনুপতি। এই শুক্রের শুভ বা অশুভ দ্বারা তনু বা দেহভাবের শুভাশুভ বিচার করা হয়।
সবশেষে আলোচনা করবো মানুষের হাতের গড়ন নিয়ে। সামুদ্রিক শাস্ত্র মানুষের হাতের গড়ন দেখে তাঁর স্বভাব বলে দেবার অসাধারণ বিদ্যা দান করেছে। 
 
বৃদ্ধাঙ্গুল ছাড়া বাকি চারটে আঙুল, তর্জনী, মধ্যমা, অনামিকা আর কনিষ্ঠা - প্রত্যেকটি একেকটি গ্রহের প্রতিনিধি। এই আঙুলের আকার-প্রকারের বিভিন্নতা মানুষের চরিত্রেও ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
আঙুলের গড়ন দেখে মানুষ চেনার আগে জেনে নিন, কোন আঙুল কোন গ্রহের প্রতিনিধি। তর্জনী - গুরু বা বৃহস্পতি, মধ্যমা - শনি, অনামিকা - রবি বা সূর্য আর কনিষ্ঠা - বুধ গ্রহের প্রতীক।
★ তর্জনী -- এই আঙুল মানুষের উচ্চাকাঙ্খা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা আর 'অহম'-এর প্রতীক। এর সাহায্যে কে, কতটা ভাগ্যবান এবং কাজে উন্নতি করবে তা-ও জানা যায়। তর্জনী সাধারণত উচ্চতায় মধ্যমা-র মধ্যভাগ-কে ছুঁয়ে থাকে। কারও আঙুল এর থেকে সামান্য লম্বা হলে বলা হয়, তার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। আর তার বৃহস্পতি গ্রহ খুবই শক্তিশালী। আঙুল ছোটো হলে অন্যের দেখানো পথে চলতে কিংবা একা কাজ করতে ভালোবাসে সেই মানুষটি। তর্জনী স্বাভাবিকের থেকে বেশি বড়ো হলে সব বিষয়ে অবহেলা ও ঔদ্ধত্য বেড়ে যায়। আর ছোটো হলে এই বৈশিষ্ট্যগুলোই আর থাকে না। তর্জনী বাঁকা যার, সে খুব চালাক, স্বার্থপর আর খল প্রকৃতির। এই আঙুলের ঠিক নীচেই বৃহস্পতির অবস্থান। গ্রহটি হাতে পূর্ণভাবে বিকশিত (উঁচু) হলে মানুষের মধ্যে নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা, নীতিপরায়ণতা ও আত্মাভিমান দেখা যায়। বেশি উঁচু হলে অহঙ্কারী, রাগী, ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে ওঠে। নীচস্থ হলে বৃহস্পতির কোনও মৌলিক গুণ ব্যক্তির মধ্যে দেখা যায় না।
★ মধ্যমা -- এই আঙুলের নীচে শনি গ্রহের অবস্থান। এটি সত্য, ন্যায়পরায়ণ, নিয়মানুবর্তিতার প্রতীক। অন্যান্য আঙুলের চাইতে তুলনায় একটু বেশি বড়ো হলে ব্যক্তিটি দায়িত্ববান, গভীর ব্যক্তিত্বশালী এবং উচ্চাকাঙ্খী হবে। আঙুলের উচ্চতা বেশি হওয়া মানে একাকীত্ব পছন্দ। এবং অনেক সময় বাজে কাজেও জড়িয়ে পড়তে পারে। উচ্চতায় ছোটো হলে অলস প্রকৃতির হয়। মধ্যমার প্রথম ভাগ লম্বা হলে আধ্যাত্মবাদের প্রতি আগ্রহ থাকবে। আঙুলের মধ্য ভাগ লম্বা হলে রসায়ন, লোহা সহ নানা ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যবসায়-র সঙ্গে যুক্ত থাকবে। তৃতীয় ভাগ লম্বা হলে সেই ব্যক্তি চালাক, স্বার্থপর হয়। খারাপ কাজের সঙ্গে ষুক্ত থাকে। আঙুলের নীচে স্থিত শনিগ্রহের অবস্থান উঁচুতে হলে সেই মানুষ জ্ঞানী হয়। বিচারশক্তির ক্ষমতা প্রবল থাকে এবং ইন্দ্রিয় নিজের বশে থাকে।
★ অনামিকা -- এই আঙুল রবি-র ধারক। এটি আমাদের যশ লাভ, বুদ্ধি ও সৃষ্টিশীল কাজ করতে সাহায্য করে। তর্জনী-র থেকে অনামিকা লম্বা হলে সেই ব্যক্তির যে কোনও বিষয়ে ঝুঁকি নেওয়ার অদ্ভূত ক্ষমতা থাকে। এছাড়া, ফ্যাশন বা ছবির জগতে কাজ করার আগ্রহ দেখা যায়। লম্বায় ছোটো হলে সব অবস্থাতেই সে সন্তুষ্ট। যশ লাভের খুব ইচ্ছাও তার থাকে না। যদিও তর্জনী থেকে অনামিকা লম্বায় ছোটো খুব কমই দেখা যায়। অনামিকার নীচে অবস্থিত রবি গ্রহ পূর্ণ মাত্রায় (উঁচু) থাকলে সব কাজেই সাফল্য, যশ, প্রতিষ্ঠা আসে। ব্যক্তিটি পরিশ্রমী হয় এবং ব্যবসায় উন্নতি করে। ধার্মিক হলেও ধর্মান্ধ হয় না। নিজের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল থাকে। এরা যেমন চট করে রেগে যায় তেমনি আবার খুব তাড়াতড়ি শান্তও হয়।
★ কনিষ্ঠা -- বুধ গ্রহের ধারক এই আঙুল। এর মাধ্যমে ব্যক্তির বাকপটুতা, জ্ঞান, বুদ্ধি ও চাতুর্য বোঝা যায়। কণিষ্ঠা অনামিকার প্রথম ভাগের সমান এর উচ্চতা হলে যে কোনও বিষয়েই ব্যক্তির অভিব্যক্তি কম প্রকাশ পায়। ভাবনা এবং কথায় নিজের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ছেলেমানুষী স্বভাবে এর আরও একটি বৈশিষ্ট্য। আর লম্বা হলে আই কিউ তীক্ষ্ণ হয়। খুব ভালো লেখক ও সুবক্তা হয়। কনিষ্ঠা-র নীচু ভাগ চওড়া মানেই খুব বিলাসী।
এছাড়াও, হাতের আঙুলগুলি থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তির মনের ইচ্ছা, আয়ু সম্বন্ধেও জানা যায়। যেমন, যে কোনও আঙুলের অগ্রভাগ দেখে সেই ব্যক্তির ইচ্ছাশক্তি, দ্বিতীয় ভাগ তর্ক করার ক্ষমতা জানা যায়। আঙুলগুলি টান টান সোজা মানেই মানুষটি প্রচণ্ড কঠোর ও জেদি হবেই। এই ধরনের মানুষ অত্যন্ত বিশ্বাসী হলেও কঠোর ও জেদি স্বভাবে জন্য বেশি বন্ধু থাকে না।
আবার হাতের আঙুল খুব নরম মানেই সেই ব্যক্তি অত্যন্ত খরুচে। তবে সহজে এই লোককে বিশ্বাস না করাই ভালো। জেদি হওয়ায় এদের বন্ধুর সংখ্যা কম। নরম মানসিকতার জন্য অনেকেই বন্ধুত্বের আগ্রহ দেখায়। যদিও এরা কঠিন কাজ বা দায়িত্ব নিতে পারে না। বোহেমিয়ন স্বভাবের জন্য এরা নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনাও নিতে পারে না।
হাত মেলে ধরার সময় যাদের সব আঙুল ৬০ ডিগ্রি-র কোণে খোলা যায় না তারা জ্ঞানী ও কর্ম নিপুণ হয়। যাদের ৯০ ডিগ্রি কোণ পর্যন্তু খোলে তারা অনায়েসে ঝুঁকি নিতে পারে। ১২০ডিগ্রি কোণের আঙুলধারীরা সব সময় অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে অভ্যস্ত। আঙুলের গঠন কোমর-এর মতো হলে সেই ব্যক্তি তর্কে পারদর্শী হলেও শারীরিক সুস্থতা কম থাকে।
আঙুলের ডগা ছুঁচালো হলে প্রখর বুদ্ধিমান হবে। আঙুল আগা-গোড়া চওড়া হলে প্রচণ্ড জেদি হবে। আঙুলের ডগা চৌকো হলে বাজে কাজে জড়িয়ে জেলে যাওয়ারও অসম্ভব নয়। যদিও এরা খুবই বাস্তব মেনে থাকে।

Friday, April 19, 2019

রাহু

আজ আমি আপনাদের জন্য ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা একটি গ্ৰহ রাহুর রাশিচক্রে শুভ ও অশুভ ফলাফল প্রকাশ করব। সঙ্গে প্রতিবিধান সম্পর্কে আলোচনাও করব।
হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী মতে - রাহু দানব বিশেষ। দানব বিপ্রচিত্তির ঔরসে ও সিংহিকার গর্ভে এঁর জন্ম হয়। উল্লেখ্য, সমুদ্রমন্থন শেষে উত্থিত অমৃত অসুরদের বঞ্চিত করে দেবতারা পান করেছিল। ইনি কৌশলে গোপনে অমৃতপান করতে থাকলে চন্দ্র ও সূর্য এঁকে চিনতে পেরে অন্যান্য দেবতাদের জানান। এই সময় বিষ্ণু এঁর দুই বাহু মাথা কেটে দেন। কিছুটা অমৃত পান করায় এই দানব ছিন্নমস্তক হয়ে অমরত্ব লাভ করেন। এঁর মস্তকভাগ রাহু ও দেহভাগ কেতু নামে পরিচিত।
রাশিচক্রের দ্বাদশ ভাবে অবস্থানভেদে রাহু গ্রহের অশুভ ফলাফল দেখুন ---
১) রাহু লগ্নভাবে থাকলে জাতক শত্রু কৃতকার্য হয় অপরের সাহায্যে কৌশলে কার্যসাধন এ তৎপর হয় তবে এই রাহু পত্নী বিষয়ে বা নিজ দৈহিক সুখের ক্ষেত্রে বিঘ্ন কারক হয় রবি চন্দ্র মঙ্গল শুক্রবা শনি লগ্নপতি হলে এই রাহু আর্থিকভাবে সচ্ছলতা দানে সমর্থ হয়।
২) রাহু ধন ভাবে বা দ্বিতীয়ে থাকলে জাতক আমিষ প্রিয় হয় আমিষ সংক্রান্ত ব্যবসায় সহজে সফলতা পায়। অনিশ্চিত পথে অর্থ আয় বা অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের উৎসাহী হয়। জাতককে ভ্রমণবিলাসী বাকপটু ও নীচসংসর্গ যুক্ত করতে পারে।
৩) রাহু ভ্রাতৃ ভাবে বা তৃতীয়ে থাকলে জাতক বহু শত্রু বিশিষ্ট পরাক্রমী বহু বন্ধু যুক্ত ও যশস্বী হয় তবে এই রাহু ভ্রাতা ভগিনী বিষয়ে অশুভ ফল দান করে।
৪) রাহু পুত্র ভাবে বা পঞ্চমে থাকলে জাতকের চারিত্রিক দুর্বলতা আনয়ন করে। গৃহ মাতা পুত্র ইত্যাদি বিষয়ে অশুভফল দান করে। মঙ্গল, চন্দ্র, বুধ, শুক্র চতুর্থপতি হলে চতুর্থভাবে রাহু অপেক্ষাকৃত শুভ ফলদায়ক হয়।‌
৫) রাহু পুত্র ভাবে বা পঞ্চমে থাকলে জাতক পেটের রোগে আক্রান্ত হয় সন্তান এবং স্ত্রীর বিষয়ে মানসিক অশান্তির ভোগ করে। প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়ে এই রাহু জাতককে ভাবপ্রবণ করে তোলে।
৬) রাহু শত্রু ভাব এ বা ষষ্ঠে থাকলে জাতক শত্রু জয়ী ও সুস্বাস্ব্যবান হয় ভিন্নধর্মী লোকেদের মাধ্যমে বহু উপকৃত হয় তবে এই রাহু জাতকের কটিদেশে রোগ সৃষ্টি করে নিম্নস্থ হলে গোপন শত্রু দ্বারা বিষ প্রয়োগের সম্ভাবনা থাকে।
৭) রাহু স্ত্রী ভাবে বা সপ্তমে থাকলে জাতক নিজের শরীর ও স্ত্রীর বিষয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়। দাম্পত্য সুখে এই রাহু নিঃসন্দেহে বিঘ্ন কারক হয়। অবৈধ প্রণয় নারীসঙ্গে জাতকের আসক্ত হবার সম্ভাবনা থাকে।
৮) রাহু মৃত্যু ভাবে বা অষ্টমে থাকলে জাতক রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে বা সরকারি কর্মে বিশেষ মর্যাদা পায় তবে এই রাহু গুপ্তরোগ বা গুহ্য
সংক্রান্ত রোগে কষ্ট প্রদান করে। স্ত্রী ও সন্তান বিষয়ে অশুভ ফল দিতে পারে।
৯) রাহু ভাগ্যভাবে বা নবমে থাকলে জাতক নিজ যোগ্যতায় যশ পায় বুদ্ধিবলে বহু সুকর্মে সফলতা লাভ করে। তবে নিম্নস্থ হলে ভাগ্যের বিষয়ে অশুভ ফল পায়।
১০) রাহু কর্ম ভাবে বা দশমে থাকলে জাতক ভিন্নধর্মের লোকেদের মাধ্যমে উপকৃত হয়। উচ্চপদ প্রাপ্তিতে বা বিশেষ সম্মান প্রাপ্তিতে এই রাহু যথেষ্ট সাহায্য করে। নিম্নস্থ হলে বিপরীত ফল দান করে।
১১) রাহু আয় ভাবে বা একাদশে থাকলে জাতক পরাক্রমী বা প্রতিপত্তিশালী হয়। ব্যবসা বা কর্মে অধিক সফলতা পায় । স্ব শ্রমের বাইরে অর্থ-সম্পত্তি লাভে এই রাহু বিশেষ সাহায্যকারী হয়। তবে সন্তান বিষয়ে জাতক সর্বদা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়।
১২) রাহু ব্যয় ভাবে বা দ্বাদশে থাকলে জাতক কুসঙ্গে বা কুকর্মে লিপ্ত হয়। অসৎ পথে বা নিন্দনীয় গোপন পথে অর্থ উপার্জনের প্রয়াসী হয়। চোখ বা চোখ পা বা গুহ্য দেশের রোগ এই রাহু প্রদান করে।
জন্ম রাশিচক্রে অবস্থানভেদে রাহুর ফলাফল
---------------------------------------------------------------------
১। লগ্নে রাহুর জাতকের প্রচুর প্রাণশক্তি হয়। এরা উদ্যমী, বিভিন্ন গুণসম্পন্ন হয়। হাসতে ও হাসাতে এরা ভালবাসে। প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন, প্রেমে পটু, একের অধিক প্রেম করতে সক্ষম, নেতৃত্ব দিতে ভালবাসে, আকর্ষণ ক্ষমতা প্রচুর।
২। লগ্নের দ্বিতীয়ে রাহু অর্থপ্রিয়, তর্কপ্রিয়, বাক্যপটু, চাকরিজীবী হয়। সম্মোহনী কথায় এরা কাজ হাসিল করার ক্ষমতা রাখে। আত্মীয়দের থেকে এদের লাভবান হওয়ার সুযোগ আসে। এরা কিছুটা অপরিষ্কার থাকতে ভালবাসে।
৩। লগ্নের তৃতীয়ে রাহু উদ্যমী, জনপ্রিয়, হস্তশিল্পে দক্ষ হয়। যে কোন উপায়ে কার্যসিদ্ধি করতে এরা পটু হয়। এরা লড়াকু ও সাহসী মানসিকতার হয়। অভিনয়ে পারদর্শী হয়।
৪। লগ্নের চতুর্থে রাহু ঘুরতে ও বেড়াতে ভালবাসে। একাধিক গাড়ি বাড়ির ইচ্ছা, পরিবারের সূত্রে লাভ, দৃঢ় মানসিকতার ও ভূসম্পত্তি প্রিয় হয়।
৫। লগ্নের পঞ্চমে রাহু অতি রোমান্টিক, যৌনকলায় পারদর্শী, তীক্ষবুদ্ধি দ্বারা কাউকে ফাঁসানো সক্ষম হয়। ব্যবসায়ে সফল, সব কাজে মধ্যস্থতা করে। এরা হঠাৎ বিখ্যাত হয়ে যায়। বহু সন্তানের পিতা বা মাতা হয়।
৬। লগ্নের ষষ্ঠে রাহু প্রচন্ড উদ্যমী, জেদী, পরিশ্রমী, চাকরিজীবী, রস জ্ঞান সম্পন্ন হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে যে কোনও ভাবে বুঝিয়ে তার প্রিয়পাত্র হতে পারে এরা। এদের আইনি জ্ঞান থাকে। এরা শত্রুজয়ী হয়।
৭। লগ্নের সপ্তমে রাহু অলস প্রকৃতির হলেও নানা উপায়ে অর্থশালী, জনপ্রিয়, সকল কামনা বাসনা তৃপ্ত, ইন্দ্রিয়সুখে সুখী হয়। এদের একের অধিক ব্যবসা থাকে।
৮। লগ্নের অষ্টমে রাহু অর্থ বা সম্পত্তি কেনা বেচা ব্যবসায়ে লাভবান হয়। এরা উগ্রকামুক ও শয্যাসঙ্গীকে সুখদানে সক্ষম হয়। পারিবারিক সূত্রে এরা অর্থবান হয়।
৯। লগ্নের নবমে রাহুর হঠাৎ সৌভাগ্যের যোগ থাকে। পিতার দ্বারা সৌভাগ্যশালী, বহু তীর্থ ভ্রমণে সক্ষম হয় এরা। এরা প্রচণ্ড যুক্তিবাদী, একাধিক কর্মে সফল হয়। প্রেমে সাফল্য পায় এরা।
১০। লগ্নের দশমে রাহু বহু কর্মে যুক্ত, পিতৃধনে ধনী হয়। এদের কর্মক্ষেত্র হয় পরিবর্তনশীল। এরা বাকপটু হয়। উপরি অর্থ প্রাপ্তির সুযোগ আসে এদের।
১১। লগ্নের একাদশে রাহু হঠাৎ প্রচুর ধনপ্রাপ্তির সুযোগ এনে দেয়। এদের প্রচুর ভ্রমণ হয়। এদের ভ্রমণ সূত্রে অর্থ লাভ হয়।
১২। লগ্নের দ্বাদশে রাহু শয্যাসুখে সুখী করে। এরা অর্থলগ্নি সূত্রে বহু আয় করে। বিবাহ সংক্রান্ত মামলা থেকে আয় বেশী(আইনজীবী) করে।
★ রাহু শুভ হলে -- উচ্চ পদের চাকুরি, ব্যবসায় সাফল্য, রাজনীতিতে সাফল্য, হঠাৎ বিপুল অর্থপ্রাপ্তি, শেয়ার ব্যবসায় অর্থ লাভ, সৃজনশীলতা, বৈদেশিক ভাষায় দক্ষতা, সমাজ কল্যাণমুলক কাজে আগ্রহ ও সাফল্য, উচ্চশিক্ষা, কারিগরি কাজ/বিদ্যায় দক্ষতা।
রাহু অশুভ হলে -- উৎকণ্ঠা, অর্থনাশ, স্বাস্থ্যহানি, আতঙ্ক, মর্যাদাহানী, বিব্রতকর পরিস্থিতির স্বীকার, ক্ষমতার অপব্যবহার, মাদকাসক্ততা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা, উৎসাহ উদ্যমের ঘাটতি, আইনগত ঝামেলা/হয়রানী, কারাবরন, চোরের উপদ্রপ, ক্রমাগত দুঃস্বপ্ন দেখা, প্রবাস জীবন, প্রবাসে সমস্যা, অশুভ শক্তি- ভুত-প্রেতাত্মা-ব্ল্যাক ম্যাজিক দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া, চর্মরোগ, কুষ্ঠ, উন্মাদ, অশান্তি, এমন রোগ যার কারন শনাক্ত করা যাচ্ছে না, একাকীত্ব, মানসিক সমস্যা, দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পাওয়া।



প্রতিবিধান ---
১) রত্ন গোমেদ -- ৯-১০ রতি।
২) মূল -- শ্বেত চন্দন মূল বা দূর্বা মূল।
৩) দেবী ছিন্নমস্তার পূজা।
রাহু বীজ মন্ত্র – ওঁ ঐং হ্রীং রাহবে। বা
রাহু বীজ মন্ত্র - ওঁ ভ্রাঁ ভ্রীং ভ্রৌং সঃ রাহবে নমঃ
জপ সংখ্যা – ১২০০০ বার।
গায়ত্রী– ওঁ শিরোরূপায় বিদ্মহে অমৃতেশায় ধীমহিঃ তন্নঃ রাহুঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম মন্ত্র --
ওঁ অর্দ্ধকায়ং মহাঘোরং চন্দ্রাদিত্যবিমর্দকম্।
সিংহিকায়াঃ সুতং রৌদ্রং তং রাহুং প্রণমাম্যহম্॥
ইষ্টদেবতা – ছিন্নমস্তা।
ধারণরত্ন – গোমেদ,
ধূপ – দারুচিনি,
বার – শনি/মঙ্গল বার,
প্রশস্ত সময় – সন্ধ্যাবেলা।

কালসর্প যোগ

ভারতীয় জ্যোতিষ শাস্ত্রে গ্রহগণের অবস্থান অনুযায়ী শুভ ও অশুভ যোগ সৃষ্টি হয়। এমনি এক অশুভ যোগ হল কালসর্প যোগ। রাহু এবং কেতু সব সময় নিজেদের সম সপ্তমে অর্থাৎ ১৮০ ডিগ্রি দুরত্বে অবস্থান করে। রাহু ও কেতুর মাঝখানে যখন সমস্ত গ্রহ চলে আসে তখন এই যোগ হয়। রাহু কে সাপের মুখ ও কেতুকে সাপের লেজ মান্য করা হয়। এর মধ্যে অর্থাৎ (সাপের পেটে) সমস্ত গ্রহ চলে আসে তখন এই যোগ সৃষ্টি হয়। এই যোগ খুব পীড়াদায়ক হয়। বিশেষ করে রাহু, কেতুর দশা মহাদশায় এবং গোচরে রাহু, কেতু যখন নিজ ভাব দিয়ে পাস করবে। রাহু ও কেতুর অবস্থান অনুযায়ী ১২ টি ভাবের জন্য ১২ রকম কালসর্প যোগ হয় এবং প্রত্যেক কালসর্প যোগ আলাদা আলাদা ফল দেয়।


১> অনন্ত নাগ কালসর্প যোগ
-------------------------------------------
রাহু লগ্নে ও কেতু সপ্তমে থাকলে অনন্ত কালসর্প যোগ হয়। এই যোগে পীড়িত ব্যাক্তিরা শারিরিক ও মানসিক ভাবে খুব বিব্রত থাকেন এবং মামলা মকদ্দমায় জড়িয়ে পড়েন এই যোগের ব্যাক্তিরা খুব সাহসী হয়ে থাকেন ।
২> কুলিক কালসর্প যোগ
--------------------------------------
রাহু দ্বিতীয়ে ও কেতু অষ্টমে থাকলে কুলিক কালসর্প যোগ হয়। এই যোগে প্রভাবিত ব্যাক্তিরা আর্থিক কষ্টে ভোগেন। পারিবারিক অশান্তি লেগেই থাকে এবং সামজিক ভাবে ও কর্মে প্রতিষ্ঠা পায়না।
৩> বাসুকি নাগ কালসর্প যোগ
-------------------------------------------
রাহু তৃতীয়ে ও কেতু নবমে থাকলে এই কালসর্প যোগ হয়। এই যোগে প্রভাবিত ব্যাক্তিদের জীবন খুব সংঘর্ষ ময় হয়। চাকরি এবং ব্যাবসায় সমস্যা লেগেই থাকে। ভাতৃ সুখের অভাব হয়। ভাগ্য এদের কখনও সাথ দেয় না।
৪> শঙ্খপাল কালসর্প যোগ
---------------------------------------
রাহু চতুর্থে এবং কেতু দশমে অবস্থান করলে এই যোগ হয়। এই যোগে প্রভাবিত ব্যাক্তিদের কিছুটা অর্থ কষ্ট ভোগ করতে হয়। মানসিক ভাবে এবং পরিবার পরিজনের কাছ থেকে এরা কষ্ট পেয়ে থাকে। এদের মাতৃ সুখ হয় না। জমি, বাড়ি নিয়ে এরা সমস্যায় থাকেন।
৫> পদ্মনাগ কালসর্প যোগ
-------------------------------------
পঞ্চমে রাহু ও একাদশে কেতু থাকলে পদ্মনাগ কালসর্প যোগ হয় । এই যোগে প্রভাবিত ব্যাক্তিদের মিথ্যা বদনাম হয় । সন্তান সুখে বাধা । উচ্চ শিক্ষা ও ধন প্রাপ্তিতে বাধা হয় ।
৬> মহাপদ্ম নাগ কালসর্প যোগ
------------------------------------------
ষষ্ঠে রাহু ও দ্বাদশে কেতু থাকলে এই যোগ হয়। এদের মাতুল সুখ হয় না বা মাতুল থেকে কষ্ট পেয়ে থাকেন। প্রেমে সাফল্য আসে না। এবং অনেক লম্বা সময় পর্যন্ত এরা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগে থাকে।
৭> তক্ষক কালসর্প যোগ
-----------------------------------
এই যোগ অনন্ত কাল যোগের ঠিক উল্টো অর্থাৎ কেতু লগ্নে ও রাহু সপ্তমে অবস্থান করে। এই যোগে প্রভাবিত ব্যাক্তিদের বিবাহিত জীবন খুব অশান্তি পূর্ণ হয়ে থাকে এবং চাকরি ও ব্যাবসায় বার বার ক্ষতি হয়। এবং মানসিক অশান্তি হয়।
৮> কর্কটক কালসর্প যোগ
------------------------------------
দ্বিতিয়ে কেতু ও অষ্টমে রাহু থাকলে এই যোগ হয়। এই যোগে প্রভাবিত ব্যাক্তিরা খুব ছোটখাটো সমস্যা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করেন। এরা কখনও শান্ত ভাবে থাকতে পারেনা। পর্যাপ্ত টাকা পয়সা কখনও এদের হাতে থাকে না।
৯> শঙ্খচূড় কালসর্প যোগ
-------------------------------------
তৃতীয়ে কেতু ও নবমে রাহু অবস্থান করলে এই যোগ সৃষ্টি হয়। এই যোগে প্রভাবিত ব্যাক্তিদের পিতৃ সুখ হয় না। ভাগ্য সবসময় নিজের অনুকুলে থকে না। নিজের ব্যবসায় লোকসান হয়ে থাকে।
১০> ঘাতক কালসর্প যোগ
-------------------------------------
কোষ্ঠীতে চতুর্থে কেতু ও দশমে রাহু থাকলে এই যোগ হয়ে থাকে। এই যোগে গৃহে কলহ অশান্তি লেগে থাকে। কর্ম ক্ষেত্রে খুব সংঘর্ষ করতে হয়।
১১> বিষধর কালসর্প যোগ
-------------------------------------
কেতু পঞ্চমে ও রাহু একাদশে অবস্থান করলে এই যোগ হয়। এই যোগে প্রভাবিত ব্যাক্তিরা নিজের সন্তানের কাছ থেকে কষ্ট পেয়ে থাকেন। এদের নেত্র ও হৃদ রোগ হতে পারে। এদের স্মরণ শক্তি খুব দুর্বল হয়। উচ্চ শিক্ষায় বাধা এবং সামজিক ভাবে এরা প্রতিষ্ঠা পায় না।
১২> শেষনাগ কালসর্প যোগ
--------------------------------------
ষষ্ঠে কেতু ও দ্বাদশে রাহু থাকলে এই যোগ হয়। এই যোগের ব্যাক্তিদের প্রচুর গুপ্ত শত্রু থাকে যারা এদের প্রতি সবসময় ষড়যন্ত্র করতে থাকে এমনকি শত্রুরা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়। এই যোগে মানসিক অশান্তি ও মিথ্যা বদনাম হয়। এই যোগের ব্যাক্তিদের মৃত্যুর পরে মানুষ খুব গুণগান করে।
আপনার কোষ্ঠীতে কালসর্প যোগ থাকলেই যে সব সময় অশুভ ঘটনা ঘটবে তা কিন্তু নয়। কিছু শুভ গ্রহের বা শুভ ভাবের দৃষ্টি অথবা প্রেক্ষা পেলে অশুভ ভাব কিছুটা কাটবে। মনে রাখবেন জন্মগত জ্যোতিষীক যোগ বা ভাব কখনোই কোনও প্রতিকারে দূরীভূত হয় না শুধুমাত্র প্রশমিত হয় মাত্র।

Wednesday, April 17, 2019

রাশি অনুযায়ী গণেশ মন্ত্র পাঠ করুন, সমস্যার সমাধান হবে

গণেশের সাধনা করে জীবনের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব। গণেশের কৃপালাভ করলে সমস্ত কাজেই সিদ্ধিলাভ হয়। পুরাণে বলা হয়েছে যে, গণেশজির ১২টি নামের অসীম মাহাত্ম্য। এই ১২টি নামের সঙ্গে ১২টি রাশি যুক্ত। এখন দেখে নেওয়া যাক আপনার রাশি অনুযায়ী কে কোন মন্ত্র পাঠ করবেন ---
রাশি গণেশজির নাম গণেশজির মন্ত্র
--- ---- ------ ------ ----- ---- ------ --- ----- -----
মেষ -- বক্রতুণ্ড -- ওঁ বক্রতুণ্ডায় নমঃ
বৃষ -- একদন্ত -- ওঁ একদন্তায় নমঃ
মিথুন -- কৃষ্ণপিঙ্গাক্ষ -- ওঁ কৃষ্ণপিঙ্গাক্ষায় নমঃ
কর্কট -- গজবক্ত্র -- ওঁ গজবক্ত্রায় নমঃ
সিংহ -- লম্বোদর -- ওঁ লম্বোদরায় নমঃ
কন্যা -- বিকট -- ওঁ বিকটায় নমঃ
তুলা -- বিঘ্নরাজেন্দ্র -- ওঁ বিঘ্নরাজেন্দ্রায় নমঃ
বৃশ্চিক -- ধূম্রবর্ণ -- ওঁ ধূম্রবর্ণায় নমঃ
ধনু -- মহোদর -- ওঁ মহোদরায় নমঃ
মকর -- বিনায়ক -- ওঁ বিনায়কায় নমঃ
কুম্ভ -- গণপতি -- ওঁ গণপতয়ে নমঃ
মীন -- গজানন -- ওঁ গজাননায় নমঃ
ক্রিয়াটি কী ভাবে সম্পন্ন করবেন --- প্রথমে শ্রী গণেশের পূজা করুন। তারপর প্রতি দিন প্রথমে উপরে লেখা ১২টি গণেশ-মন্ত্র এক বার করে পাঠ করুন। তার পর আপনি আপনার রাশি অনুসারে গণেশজির মন্ত্র ১০৮ বার জপ করুন। ভক্তিভরে এই ভাবে জপ করলে জীবনের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব।
-
গণেশের ধ্যান –
“খর্বং স্থূলতনুং গজেন্দ্রবদনং লম্বোদরং সুন্দরং
প্রস্যন্দন্মদ্গন্ধলুব্ধমধুপব্যালোলগণ্ডস্থলম্।
দন্তাঘাতবিদারিতারিরুধিরৈঃ সিন্দূরশোভাকরং
বন্দে শৈলসুতাসুতং গণপতিং সিদ্ধিপ্রদং কামদম্।।”
------- অর্থাৎ, “যিনি খর্বাকৃতি, স্থূলশরীর, লম্বোদর, গজেন্দ্রবদন অথচ সুন্দর; বদন হইতে নিঃসৃত মদগন্ধে প্রলুব্ধ ভ্রমরসমূহের দ্বারা যাঁহার গণ্ডস্থল ব্যাকুলিত; যিনি দন্তাঘাতে শত্রুর দেহ বিদারিত করিয়া তাহার দন্ত দ্বারা নিজ দেহে সিন্দূরের শোভা ধারণ করিয়াছেন; সেই পার্বতীপুত্র সিদ্ধিদাতা ও কামদাতা গণপতিকে বন্দনা করি।”
গণেশের প্রণামমন্ত্র –
"একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদরং গজাননং।
বিঘ্ননাশকরং দেবং হেরম্বং প্রণমাম্যহম্।।"
--------- অর্থাৎ, “যিনি একদন্ত, মহাকায়, লম্বোদর, গজানন এবং বিঘ্ননাশকারী সেই হেরম্বদেবকে আমি প্রণাম করি।”
গণেশের প্রার্থনামন্ত্র –
দেবেন্দ্রমৌলিমন্দারমকরন্দকণারুণাঃ।
বিঘ্নং হরন্তু হেরম্বচরণাম্বুজরেণবঃ।।
---------- অর্থাৎ, “দেবরাজ ইন্দ্রের মস্তকে বিরাজিত মন্দারপুষ্পের পরাগসমূহের দ্বারা রক্তিম হেরম্বের পাদপদ্মের রেণুসমূহ আমার বিঘ্নহরণ করুক।”

Friday, April 12, 2019

রাশি অনুযায়ী ঘুম

আহার, নিদ্রা, বিশ্রাম, মনের শান্তি এসব সুস্থতার জন্য প্রয়োজন। আসলে
মানুষের শরীরটাই চলে এক বিশাল কম্পিউটারের মতো। মানব শরীরের বিভিন্ন যন্ত্রের কর্মক্ষমতা যদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায় তাহলে দেখা যাবে একটি সুক্ষ্ম অত্যাধুনিক কম্পিউটারের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানব শরীরের এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চলছে বিরামহীনভাবে।
তাই মানব শরীরকে যথাযথ কর্ম করতে হলে প্রয়োজন নিয়মিত বিশ্রাম ও ঘুম। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। আর পরিমিত ঘুম হলে শরীর, মন, মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে কাজ করার জন্য প্রস্তুত হয়। ফলে কাজের পারফরম্যান্স বা আউটপুট ভালো হয়।
এ ছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পরিমিত ঘুমের পাশাপাশি সকালে ঘুম থেকে ওঠেন, জগিং করেন, প্রার্থনা করেন, তাদের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা কম হয়, কাজের গতি বাড়ে ও আউটপুট ভালো হয়। তাই দৈনিক অন্তত: ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমাতে চেষ্টা করুন ও সুস্থ থাকুন।
মনোবিজ্ঞানীদের গবেষণা থেকে দৈনন্দিন জীবনে ব্যক্তির আচরণ এবং নিজেকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতার সঙ্গে ঘুমের যোগসূত্রের বিষয়টি উঠে এসেছে। গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ঘুমের অভ্যাস ও আত্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়টি একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত এবং এই দুটোকে কাজে লাগিয়ে প্রতিদিনের কাজকর্ম ঠিকঠাক রাখা যায়। ঘুমের অভ্যাস ঠিক করতে পারলে সারা দিনের কর্মশক্তি বাড়ে, আচরণ সাবলীল হয়, কাজে মনোযোগ বেশি থাকে এবং ঠিকঠাক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়। ফলে প্রতিদিনের জীবনে নিজেকে নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ঘুমের অভ্যাস ঠিকঠাক করার বিষয়ে আমাদের মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।
ঘুম বা নিদ্রা হচ্ছে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর দৈনন্দিন কর্মকান্ডের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যখন সচেতন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া স্তিমিত থাকে। নিষ্ক্রিয় জাগ্রত অবস্থার সাথে ঘুমন্ত অবস্থার পার্থক্য হল এ সময় উত্তেজনায় সাড়া দেবার ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং শীতনিদ্রা বা কোমার চেয়ে সহজেই জাগ্রত অবস্থায় ফেরত আসা যায়। সকল স্তন্যপায়ী ও পাখি এবং বহু সরীসৃপ, উভচর এবং মাছের মধ্যে ঘুমানোর প্রক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। মানুষ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী এবং অন্য বেশ কিছু প্রানীর (যেমন কিছু প্রজাতির মাছ, পাখি, পিঁপড়া এবং ফ্রুটফ্লাই) অস্তিত্ব রক্ষার জন্যে নিয়ম মত ঘুম আবশ্যক। ঘুমানোর কারণ সম্বন্ধে বিজ্ঞানীরা এখনো পুরোপুরি জানতে পারেননি এবং তা নিয়ে বর্তমানে গবেষণা চলছে। আর একটি ব্যপার। ঘুমন্ত মানুষের চেহারা কোন এক অজানা অতিরিক্ত আবেগ অনুভূতি কাজ করে। যা তার গোপন এক প্রাকৃতিক নিরাপত্তা দেয়।
বয়স অনুপাতে আপনার ভিন্ন ধরনের ঘুম দরকার। বাচ্চাদের – ১৬ ঘন্টা, ৩ থেকে ১২ বছর – ১০ ঘন্টা, ১৩ থেকে ১৮ বছর – ১০ ঘন্টা, ১৯ থেকে ৫৫ বছর – ৮ ঘন্টা, ৬৫ বছরের উপরে – ৬ ঘন্টা।
ঘুম কম হওয়াটা চলতেই থাকে, তাহলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও মুটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, নিয়মিত অতিরিক্ত ঘুমালেও স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলো বেড়ে যেতে পারে।
আসুন, জেনে নিই কোন রাশি অনুযায়ী কোনও ব্যক্তির কতটুকু ঘুম হয় বা হওয়া উচিত।
মেষ - এই রাশির জাতক-জাতিকারা অতিমাত্রায় সক্রিয় এবং উত্তেজিত। সারাদিন নানা কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখে মেষ। এদের চোখে ঘুম নেই বললেই চলে। ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করায় বিশ্বাসী নয়। এরা দেরি করে শুতে যায়। উঠে পড়ে অনেক সকালে।
বৃষ - ঘুম এদের মারাত্মক প্রিয় কাজ। এরা যেখানে-সেখানে যখন-তখন ঘুমিয়ে পড়তে পারে। বৃষ রাশির গ্রহ শুক্র। ফলত, শুক্রের প্রভাবে এরা ঘুমোয় বেশি। সুযোগ পেলে এরা সারাদিন ঘুমোতে পারে।
মিথুন - ঘুমের সমস্যা থাকে মিথুন রাশির জাতক-জাতিকাদের। এরা ইনসমনিয়ার শিকার। জীবনের যাবতীয় সমস্যা এরা রাতে শুতে যাওয়ার সময়ও সঙ্গে করে নিয়ে যায়। ফলত, দুশ্চিন্তায় এদের ঘুম আসতে চায় না। আবার অনেক মিথুনই ঘুম কাতুরে।
কর্কট - মিথুনের মতো কর্কটও ইনসমনিয়ায় ভোগে। কারোর কারোর আবার ঘুম বেশি। কিছু কর্কট জাতক-জাতিকা রাতে দুঃস্বপ্নও দেখে। ভয়ের স্বপ্ন দেখে লাফিয়ে জেগে ওঠে।
সিংহ - কোলবালিশ ছাড়া ঘুমোতে পারে না সিংহ রাশির নারীপুরুষ। এদের ঘুমোতে সময় লাগে। কিন্তু একবার ঘুমোলে চট করে ওঠে না। এরা রাত জেগে থাকতে পারে না। দিনের শেষে চায় পরিপূর্ণ ঘুম।
কন্যা - স্বাস্থ্য ও ঘুম নিয়ে আপোস করে না কন্যা রাশির নারীপুরুষ। এরা ঘড়ি মিলিয়ে ৮ ঘণ্টা ঘুমোনোর পক্ষপাতি। কিন্তু মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগত সমস্যা ও অফিসের টেনশন এদের ঠিকমতো ঘুমোতে দেয় না।
তুলা রাশি - এরা সব ব্যাপারে ব্যালেন্স করে চলতে পছন্দ করে। একদিন রাতে ৩ ঘণ্টা ঘুমোলে পরদিন ১২ ঘণ্টা ঘুমিয়ে ক্ষতিপূরণ করে নেয়।
বৃশ্চিক - রহস্য ঘিরে থাকে বৃশ্চিকদের। এদের ঘুমের কোনও নির্দিষ্ট থাকে। যখন-তখন ঘুমিয়ে পড়তে পারে। এরা সারারাত জেগে গুরুত্বপূর্ণ কাজে মগ্ন থাকতে পারে।
ধনু - এরা রোমাঞ্চপ্রিয়। দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসে। পার্টিপ্রিয়। মাঝেমধ্যে ক্লান্ত হলে লম্বা ঘুম দেয়। চঞ্চল হওয়ার কারণে খুব তাড়াতাড়ি শক্তি হারিয়ে যায়। এরা স্বপ্ন সত্যি করায় বিশ্বাসী।
মকর - খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্বভাবের হয় মকর রাশির নারীপুরুষ। কাজে সাফল্য পেলে ভালো ঘুম হয় এদের। বিলাসিতা করতে পছন্দ করে। সুন্দর পালঙ্কে নিদ্রা এদের ভালো লাগে।
কুম্ভ - ঘুম-এ বিশ্বাস করে কুম্ভ রাশির নারীপুরুষ। এরা অবাস্তব স্বপ্ন দেখে না। মাঝেমধ্যে এদের ঘুম উড়ে যায়। রাতে শুয়ে জীবনের সমস্যার সমাধান করে কুম্ভ রাশির নারীপুরুষ। তাই ঘুমের বারোটা বেজে যায় সহজে।
মীন - মীনরা ঘুমোতে ও স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। আনন্দের সময় মীনদের ঘুমের পরিমাণ কমে যায়। কিন্তু দুঃখ পেলে এরা অনেক ঘুমোতে পারে। তাই মেজাজ এদের ঘুমকে নিয়ন্ত্রণ করে।

Thursday, March 14, 2019

অষ্টসিদ্ধির প্রকাশ বর্ণনা

অষ্টসিদ্ধি হলো এমন এক শক্তি যা যোগীরা কঠোর তপস্যার পরে অর্জন করতে সক্ষম হয়। এই অষ্টসিদ্ধি অর্জনে প্রথমে সদগুরুর আশ্রিত হতে হয় এবং নিজেকে শুদ্ধ, সূচী, একনিষ্ঠ, তপপ্রকোর ও অনাহারী হিসেবে তৈরী করতে হয়। যে যেই গুরুর আশ্রিত হয় তদ্বপর সেই শিষ্য একটি শুভদিনে দীক্ষা গ্রহন করে নিজের স্থান গুরুর কাছে পাকাপোক্ত বা শক্ত করে গুরুকে এই বিশ্বাস দেখাতে হবে যে, হ্যা আমি পারবো আর আমিই উক্ত তপের জন্য পারদর্শী। যখন পরমাধ্য গুরুদেব বুঝতে পারবেন যে, তাঁর শিষ্য তপস্যার জন্য প্রস্তুত; তখনই তিনি যোগাসন পদ্ধতি ও ধ্যান প্রণালীর প্রস্তুতি সম্বন্ধে শিষ্যকে অভ্যাস শুরু করাবে। তখন অভ্যাস যখন নীতি ও ভক্তিতে রুপান্তর হয় তখন যোগী একটি নীরব স্থান সন্ধান করে নিজের কার্যসিদ্ধি পূরণের লক্ষ্যে। অতঃপর যোগী নিজের যোগ অভ্যাস শুরু করে, এই যোগ তপস্যা অনেকের কাছে পাঁচবছর, অনেকের কাছে সাতবছর, অনেকের কাছে দশবছর বা তারও বেশি সময় লেগে যায়। তপস্যা ধ্যান পূর্ণ হয় যোগীর দৃঢ়তা, একনিষ্ঠতা, ধ্যানস্থ সমাধীর তেজোদীপ্তের উপর নির্ভর করে। যখন যোগী অষ্টসিদ্ধি অর্জনে পারদর্শী হয় তখন তিনি মহাযোগীর স্থান অর্জন করে। তখন ঐ মহাযোগী নিজের চাহিদা অনুসারে নিজের তপোবল বাড়াতে চাইলেও পারে এবং নিজেকে সৃষ্টির মহা এক উচ্চ স্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। সৃষ্টির এই চৌদ্দ ভুবনের যেকোনো লোকে তিনি নিজেকে স্থায়ী বাসিন্দা করতে সক্ষম হয়।





ঋগবেদ মতে আমাদের ব্রহ্মান্ডের ১৪টি ভুবন

১। সত্যলোক

২। তপোলোক

৩। জনলোক

৪। মহর্লোক

৫। সপ্তর্ষিলোক

৬। ধ্রুববোক

৭। স্বর্গলোক

০। ভূলোক(পৃথিবী)

৮। অতল

৯। বিতল

১০। সুতল

১১। তলাতল

১২। মহাতল

১৩। রসাতল

১৪। পাতাল

এখন মূল আলাপ হচ্ছে ধ্যানের প্রথম স্তর যাকে অষ্টসিদ্ধি বলা হয়, সেই অষ্টসিদ্ধি কত প্রকার ও কি

কি?

অষ্টসিদ্ধি আট প্রকার যেমনঃ-

১) অণিমা

২) লঘিমা

৩) গরিমা

৪) প্রাপ্তি

৫) প্রাকাম্য

৬) মহিমা বা কামাবসায়িতা

৭) ঈশিত্ব বা ঈশিতা

৮) বশিত্ব বা বশিতা

এই আট প্রকার অষ্টসিদ্ধির প্রকাশ গুলো হলোঃ-

১)অনিমা:- তারা ইচ্ছা করলে অনুর মত ক্ষুদ্র আকার ধারন করতে পারেন অথবা নিজেকে শূণ্য রুপে

পরিণত করতে পারেন। এরকম সিদ্ধি অর্জনকে বলে অনিমা।

২)লঘিমা:- ইচ্ছামতো হালকা জলের উপর হেঁটে যেতে বা শূন্যে ঘুরে বেড়াতে পারেন। এরকম

সিদ্ধি অর্জনকে বলে লঘিমা।

৩)গরিমা:- অত্যন্ত ভারী হতে পারেন, লঘুকরণ ধারণ করা মুহুর্তের ব্যাপার মাত্র। এই সিদ্ধি অর্জনকে
বলে গরিমা।

৪)প্রাপ্তি:- যে কোনও স্থান থেকে যা ইচ্ছা! তাই প্ৰাপ্ত হতে পারেন। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ
জ্ঞান নিজের মুষ্টিবদ্ধ করা শক্তি অর্জন। এরকম সিদ্ধি অর্জনকে বলে প্ৰাপ্তি।

৫)প্রাকাম্য:- কোনও বাসনা চরিতাৰ্থ করতে এবং কখনও নিরাশ না হওয়ার জন্য যে সিদ্ধি অর্জন তাঁকে বলে প্রাকাম্য।

৬)মহিমা বা কামাবসায়িতা:- ইচ্ছামতো বা খামখেয়ালী ভাবে যে কোনও জড়রুপ ধারণ করতে পারেন। নিজের ঐশ্বর্য শক্তি ও তেজ শক্তির প্রভাবকে ক্ষমতাবদ্ধ করা, এই ধরনের সিদ্ধি অর্জনকে বলে মহিমা বা কামাবসায়িতা।

৭)ঈশিতা:- কোনও স্থানে কিছু অদ্ভুত জিনিষ সৃষ্টি করতে পারেন বা ইচ্ছানুসারে কোন জিনিস ধ্বংসও
করতে পারেন। সৃষ্টির নবকিছু আর্বিভাব ও ধ্বংস যাঁর ক্ষমতার আওতায়, এরকম সিদ্ধি অর্জনকে বলে
ঈশিতা।

৮)বশিতা:- জড় উপাদান গুলোকে কেবল ইচ্ছা অনুসারে নিয়ন্ত্ৰণ করতে পারেন। সৃষ্টির প্রতিটি
জীবকে নিজের বশীভূত করা যাঁর একটি দৃষ্টি প্রক্ষেপ মাত্র, এরকম সিদ্ধি অর্জনকে বলে বশিতা।

Thursday, February 14, 2019

হস্তরেখায় হাতের রং


হস্তরেখা বিজ্ঞানে যেমন রেখা এবং চিহ্নের সঙ্গে হাত বা নখের বিভিন্ন প্রকার গুরুত্বপূর্ণ। তেমনই হাতের রংও আপনার সম্পর্কে কিছু না কিছু বলে দিতে পারে। যেমন ---

লাল রং - যাঁদের হাত এই রঙের, তাঁরা জীবনে সমস্ত সুখ ভোগ করেন। এঁরা ভাবুক এবং রাগী স্বভাবের হয়ে থাকেন।

গাঢ় গোলাপী - এঁরা সাধারণত ধনী। এঁরা রাগী। এঁদের বুদ্ধি স্থির থাকে না। এঁরা তাড়াতাড়ি খুশি হয়ে যান আবার তাড়াতাড়ি রেগেও যান। এঁদের চিন্তা, ভাবনা পছন্দ, অপছন্দ, সমস্ত কিছু পরিবর্তনশীল। মধ্য আয়ু পর্ন্ত এঁদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকে।

হাল্কা গোলাপী - এঁরা উত্তম মানবীয় গুণ সম্পন্ন, ধনী এবং ঐশ্বর্যশালী। এঁদের মধ্যে প্রবল উত্‍‌সাহ থাকে। এদের ধৈর্য অনেক বেশি। দয়া, ক্ষমা এবং প্রেম এঁদের স্বভাবের মূল আধার। এঁরা আশাবাদী এবং প্রসন্নচিত্তের হয়ে থাকেন। এঁরা শিল্প এবং প্রকৃতি প্রেমী।

হলুদ - এঁরা দৃঢ় বিচারের হন না। মানসিক দিক দিয়ে নিরাশাবাদী হয়ে থাকেন। স্বভাবে মধুরতার অভাব থাকে। পায়ের রোগে কষ্ট পান। আলস্যের কারণ উন্নতি করতে পারেন না। জীবন সংঘর্ষপূর্ণ।

বেগুনি অথবা নীল - যাঁদের হাতের রং নীল বা বেগুনি, তাঁরা নিরাশাবাদী। এঁরা জীবনে অনেক সংঘর্ষ করেন। এঁরা একাকীত্ব পছন্দ করেন। রক্ত বিকারে কষ্ট পেয়ে থাকেন। মদ্যপান অথবা অন্যান্য বাসনার কারণে কার্যক্ষমতা বা প্রতিষ্ঠা নষ্ট হতে থাকে। এঁরা সমাজের প্রতি নিজের দায়িত্ব থেকে দূরে থাকেন। এঁরা রুক্ষ স্বভাবের।

হালকা কালো রং - এই রঙের হাতের ব্যক্তিরা কর্মঠ হন না। এঁরা অত্যন্ত রহস্যবাদী। কথাবার্তায় অসত্য তথ্যের সাহায্য নেন। পুরুষার্থের অভাব থাকে। এঁদের ব্যক্তিত্ব নিস্তেজ হয়ে থাকে। এই জাতকেরা স্বাস্থ্য সমস্যায় ঘিরে থাকেন। অর্থের অভাব থাকে। রক্ত বা কফ সম্পর্কিত সমস্যায় জর্জিরত।

নিস্তেজ সাদা - সাদা হাতের লোকেরা উত্‍‌সাহহীন। মানসিক শক্তির অভাব থাকে। এঁরা কর্মঠ হন না।

চমকদার সাদা - এই রঙের যাঁদের হাত, তাঁরা আলৌকিক শক্তির অধিকারী। এঁদের পরাশক্তির জ্ঞান থাকে। বিচারধারায় এঁরা খুব ভারসাম্য বজায় রাখেন। এঁদের বিচারধারা আধ্যাত্মিক। এঁরা শান্তির দূত এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।

হাতের রঙের পরীক্ষা করার আগে হাতের স্পর্শ করা উচিত নয়। কারণ হাতের ঘর্ষণ, স্পর্শ, ব্যায়াম, কঠিন শ্রমের ফলে কিছু ক্ষণের জন্য হাতের রং বদলে যেতে পারে। ব্যক্তি যখন সুস্থ থাকে, কোনও সমস্যায় না-থাকে, তখনই পরীক্ষা করা উচিত।

* Prediction করতে আরও বেশ কিছু তথ্যের প্রয়োজন হয় ।

[এই রং চেনা ব্যাপার টা বেশ জটিল, অনেক Practical Experience না থাকলে বোঝা যায় না]

রাশি অনুযায়ী যৌন আকর্ষন

প্রেম, ভালবাসার মতোই যৌনতাও জীবনের সঙ্গে জড়িত৷ তবে, সকলে এই বিষয়ে পারদর্শী হন না৷ তবে, জ্যোতিষশাস্ত্র মতে রাশি বিশেষে যৌনতার তারতম্য ঘটতে পারে৷ কোন রাশি যৌনতায় কতবেশি পারদর্শী তা জেনে নিন৷


মেষ রাশি: মেশ রাশির জাতক জাতিকার জীবনে যৌনতা প্রবল৷ দৈহিক প্রেমের ক্ষেত্রে এই রাশি যেমন শক্তি প্রযোগ করতে পারেন, তেমনই এরা দুর্দান্ত প্রেমিক হিসেবেই পরিচিত হন৷ তবে, যৌনতা টিকিয়ে রাখতে এরা সঙ্গীর সঙ্গে সমান তালে পাল্লা বেশ ভালই দিতে পারেন৷
বৃষ রাশি: এই রাশির জাতক জাতিকারা ভালবাসাকেই জীবনে সবকিছু বলে মনে করেন৷ যৌনতার ক্ষেত্রে এরা খুবই সংবেদনশীল৷ যৌনতা ধরে রাখা বা শক্তি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে এদের জুরি মেলা ভার৷ সহবাসের দিক থেকে এই রাশির মানুষরা ক্লান্তিবিহীন, সদাপ্রস্তুত থাকেন৷
মিথুন রাশি: বুধ গ্রহের প্রভাবে এই রাশির জাতক জাতিকারা সতর্ক, মিষ্টভাষী, আদুরে প্রকৃতির হয়ে থাকেন৷ মুখের কথা দিয়েই অপরকে বশ করতে পারেন এরা৷ এই রাশির মানুষেরা এক্সপেরিমেন্ট্রাল সেক্সে বিশ্বাস করেন৷ এই রাশির প্রেমিক বা প্রেমিকাকে আপনি যেভাবে চান, সেভাবেই আপনার শয্যায় পেতে পারেন৷
কর্কট রাশি: যৌনতার ক্ষেত্রে এই রাশি জাতক-জাতিকার কোন স্থিরতা নেই৷ এরা হঠাৎ করেই উত্তেজনার শিখরে পৌঁছে যান৷ আবার হঠাৎ করেই শান্ত হয়ে যান৷ তাই এই রাশির প্রেমিক বা প্রেমিকার কাছ থেকে প্রচুর সারপ্রাইজ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে৷
সিংহ রাশি: প্রেমিক-প্রেমিকা হিসেবে সিংহরাশির এমনিতেই বেশ নাম রয়েছে৷ তবে, এই রাশির জাতক-জাতিকারা দৈহিক সম্পর্কেও বেশ পারদর্শী৷ যে কোন গাঢ় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই রাশির ইতিবাচক মনোভাব, হাস্যরস ও শারীরিক দক্ষতা অতুলনীয়৷ সিংহ রাশির কাউকে ভালবাসার মানুষ হিসেবে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার৷
কন্যা রাশি: এই রাশির জাতক-জাতিকার ভালবাসায় কোন খাদ যেমন থাকে না৷ তেমনই দুর্দান্ত সেক্সেও এরা পারদর্শী হন৷ কান, ঠোঁট ও স্তনের অংশে এই রাশির মানুষের সংবেদনশীলতা অতিরিক্ত মাত্রায় বেশি৷ দেহজ ভালবাসার ক্ষেত্রে কোমলতা ও রুক্ষতার মিশেল পছন্দ করেন এরা৷
তুলা রাশি: এই রাশির জাতক-জাতিকারা ‘‘ইউ আর জাস্ট ফ্রেন্ড’ তত্ত্বে বিশ্বাসী৷ শুক্রের প্রভাবে এরা সাধারণত সৌন্দর্য, রহস্যময়তা ও দৈহিক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন৷ প্রেমিক বা প্রেমিকাকে সামান্য স্পর্শ, হাসি বা চোখের চাহনিতেই পটিয়ে ফেলতে পারেন এরা৷ যৌনতার এরা আপনাকে বশে আনতে চাইবে না বরং এরা আপনাকে প্রেমে পড়তে বাধ্য করবে৷
বৃশ্চিক রাশি: প্রবল আবেগ এই রাশির একটি দুর্বলতা৷ এরা কাউকে খুব সহজেই এড়িয়ে চলতে পারেন না৷ এর প্রায় তাদের যৌন জীবনে পড়ে৷ এদের যৌন জীবন উত্তেজনা, যন্ত্রণা ও উচ্ছ্বাসের একটি মিশেল৷ এই রাশির জাতক-জাতিকা খুব সহজেই যে কাউকে বশীভূত করতে পারে৷
ধনু রাশি: এই রাশির জাতক বা জাতিকাকে সঙ্গী হিসেবে পেলে জীবনে মজার অভিজ্ঞতার সূচনা করবে৷ এই রাশির মানুষরা রসিক, এনার্জেটিক ও আশাবাদী হয়ে থাকেন৷ অন্তরঙ্গ মুহুর্তে তারা এই ধরনের গুণের প্রকাশ করে থাকেন৷
মকর রাশি:মকর রাশির জাতক-জাতিকা যেকোন কাজে খুব ভেবে-চিন্তে পা ফেলেন৷ আর যৌনতা হলে তো কথাই নেই৷ প্রথমদিকে অপর সঙ্গীকে আগ্রহ প্রকাশ করতে হলেও পরে তা আনন্দে পরিণত হবে৷ কারণ, এই রাশির মানুষরা যৌনতার দিক থেকে ভীষণ মনোযোগী হয়ে থাকেন৷ এই রাশির প্রেমিক বা প্রেমিকের নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসী মানুষ খুঁজে পাওয়া খুব মুশকিল৷
কুম্ভ রাশি: এই রাশির জাতক-জাতিকারা বিশেষ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন৷ নিজের মনের মানুষের প্রতি এরা খুব যত্নবান হয়ে থাকেন৷ আপনি যেভাবে তাদের পেতে চান এরা ঠিক সেভাবেই আপনার কাছে ধরা দেবে৷
মীন রাশি: এই রাশির জাতক-জাতিকারা কথায় পারদর্শী৷ এছাড়াও এই রাশির মানুষেরা দৈহিক আকর্ষণে পরিপূর্ণ৷ এদের সামান্য স্পর্শেও আপনি উত্তেজিত হয়ে উঠতে বাধ্য৷ এদের ভালবাসা আপনাকে নিয়ে যেতে পারে অন্য এক জগতে৷

Sunday, September 30, 2018

জ্যোতিষ শাস্ত্রে ২৭ নক্ষত্র এবং এর জাতক জাতিকাদের লক্ষণ।

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রের সম্পূর্ণ রাশিচক্রে মোট ২৭টা নক্ষত্র আাছে। জাতক/জাতিকার জন্মসময়ে চন্দ্র যে নক্ষত্রে বিচরণ করে সেই নক্ষত্র অনুযায়ী জন্ম নক্ষত্র ফল ---
১। অশ্বিনী - অশ্বিনী নক্ষত্রের অধকর্তা কেতু। এই নক্ষত্রে জন্ম জাতকহয় বুদ্ধিমান, মেধাবী,তীক্ষ্ম বুদ্ধিসম্পন্ন এবং নিজের চেষ্টায় জীবনে উন্নতি করে। প্রথম জীবনে বিদ্যা লাভ হয়। মধ্যবর্তী জীবনে কিছু কষ্টে ও ব্যায়ের মধ্যে দিয়ে ভাল বসতি করে। কর্ম ক্ষেত্র শুভ হয়। অনেকে তাকে মান্য করে নেতৃত্ব করতে পারে। আত্মীয় স্বজনদের জন্য চিন্তা থাকে। সন্তান প্রায়ই প্রতিষ্ঠিত হয়। দাম্পত্যক্ষেত্র মধ্যম। জীবনে মাঝে মাঝে হঠাৎ উন্নতি আসে। মাঝ বয়েসে বা শেষ বয়েসে কয়েক বছর ব্যয়বাহূল্যে কিছুটা কষ্ট পেতেও পারে। শুভবর্ষ - ৭, ১৬, ২৫, ৩৪, ৪৩, ৫২, ৬১, ৭০
২। ভরণী– ভরনী নক্ষত্রের অধিকর্তা শুক্র। এদের জীবনে শুভাশুভ মিশ্র ভাব এ কাটে। এরা পরিশমী কমহয়, তবে মেধা খাটিয়ে কর্ম পরিচালনা দ্বারা জীবনে উন্নতি করিতে পারে। জীবনে সুযোগ মন্দ পায়না। জীবনের প্রথম দিকে অশুভভাবে কাটে। মধ্য বয়েস থেকে শুভ ভাব চলে। তখন অর্থ সঞ্চয় করলে শেষ জীবন সুখে কাটে। অর্থ বেশী অপচয় করলে বেশী বয়েসে আর্থিক দূশ্চিন্তায় ভোগে। দাম্পত্য জীবন বেশী সুখের নয়। শুভবর্ষ- ৬, ১৫, ২৪, ৩৩, ৪২, ৫১, ৬০, ৬৯,
৩। কৃত্তিকা- কৃত্তিকা নক্ষত্রের অধিকর্তা রবি। এরা যথেষ্ঠ পরিশ্রমী হয়। স্পষ্ট সত্যকথা বলতে ভালো বাসে।এদের জীবনে মাঝে মাঝেই বাধাবিঘ্ন আসে। অনেকেই এদের ভুল বোঝে। জীবনে অনেক বাধা বিঘ্ন আসলেও শ্রম দ্বারা এরা উন্নতি করতে সফল হয়। মাঝে মাঝে পাড়া প্রতিবেশী বা আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে বিবাদ হতে পারে অন্যের প্রতি ভাল কাজ করলেও যশ বা প্রতিদান কম পায়। দাম্পত্যক্ষেত্র মোটামুটি শুভ। শুভবর্ষ- ১৯, ২৮, ৩৭, ৪৬, ৫৫, ৬৪, ৭৩,
৪। রোহিনী- রোহিনী নক্ষত্রের অধিকর্তা চন্দ্র। চন্দ্রের প্রকৃতি কিছুটা এদের মধ্যে থাকে। এরা শান্তিপ্রিয় এবং সবকিছু সমস্যার সমাধান ধীরে ধীরে করতে চায়। লোকের উপর প্রভাব বিস্তার করতে চায়। অনেক সময় এরা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি প্রিয় হয়। এরা সরল লোক ভালবাসে। নানা কাজে পার্গত হয়।
শুভবর্ষ- ১৩, ১৬, ২২, ২৫, ৩১, ৪০, ৪৯, ৫২, ৫৮, ৬১, ৬৭, ৭০,
৫। মৃগশিরা- মৃগশিরা নক্ষত্রর অধিকর্তা মঙ্গল। এরা ধীর স্থির কিন্তু কোন অন্যায় দেখলে এদের মাথা গরম হতে পারে। এদের মধ্যে মাঝে মাজে একটু দ্বিমনা ভাব দেখা যায়। অনেকে এদের শ্রদ্ধা করে। এবং এরা মিশুকে হয়। এদের জীবনে মাঝে মাঝে কর্মোন্নতির শুভ যোগ আসে। কিন্তু আত্মীয় ও পরিবেশ থেকে মনে আঘাত পায়। শুভবর্ষ - ৩, ৫, ১২, ১৪, ২১, ২৩, ৩০, ৩২, ৩৯, ৪১, ৪৮, ৫০, ৫৭, ৫৯, ৬৬, ৬৮,
৬। আদ্রা- আদ্রা নক্ষত্রের অধিকর্তা রাহু। এদের নিজ শ্রমদ্বারা উন্নতি করার চেষ্টা থাকে। তবে কাজে সফল হয়না। আকস্মিক প্রাপ্তিযোগথাকে। মানসিক চাঞ্চল্য ও দূশ্চিন্তার ভাব থাকে। দাম্পত্যক্ষেত্র শুভনয়। মাঝে মাঝে নানা রোগ ভয়। শুভবর্ষ- ৪, ৬, ১৩, ১৫, ২২, ২৪, ৩১, ৩৩, ৪০, ৪২, ৪৯, ৫১ ,৫৮, ৬০, ৬৭, ৬৯,
৭। পুনর্বসু- পুনর্নবসু নক্ষত্রর অধিকর্তা বৃহস্পতি। এরা মেধাবী হয় ও জীবনে উন্নতি করিতে পারে। প্রচুর সন্মান ও অর্থ লাভ করে থাকে। প্রায়ই মানসিক শান্তি ও আনন্দে থাকে। ভাই বোনদের জন্য কিছু চিন্তা হতে পারে। অনেকের বন্ধুত্ব ও সাহায্য লাভ করে। ব্যাবসা ও চাকরি দুটোই শুভ।
শুভবর্ষ ৭, ৯, ১৬, ১৮, ২৫, ২৭, ৩৪, ৩৬, ৪৩, ৪৫, ৫২, ৫৪, ৬১, ৬৩, ৭০, ৭২,
৮। পুষ্যা- পুষ্যা নক্ষত্রর অধিকর্তা শনি। এরা খুব ধার্মিক হয়। সংসারে আসক্তি কম থাকে। আধ্যাত্মিকভাব প্রবল হয়। মনুষ্যের মঙ্গল করতে ভালো বাসে। এদের মধ্যে যোগ জ্যোতিষ আধিভৌতিক প্রভৃতির দিকে আকর্ষণ থাকে। ভাগ্য শুভ, কর্মলাভ অর্থলাভ ও নানা দিকে উন্নতি হয়। গুরুজন ব্যাক্তিদের জন্যে চিন্তা থাকে। শুভবর্ষ ৬, ৮, ১৫, ১৭, ২৪, ২৬, ৩৩, ৩৫, ৪২, ৪৪, ৫১, ৫৩, ৬০, ৬২, ৬৯, ৭১,
৯। অশ্লেষা- অশ্লেষা নক্ষত্রর অধিপতি বুধ। এদের জীবনে সব সময় দ্বিধা ও দ্বন্দ্ব ভাব থাকে দ্বিমনা ভাবের থাকে। অনেক কাজ শুরু করে শেষ করতে পারেনা। তাই জীবনে অতৃপ্তি আসে। তবে শ্রম করলে উন্নতি হবেই। দাম্পত্য শুভ হয়। মাঝে মাঝে বাধা বিপত্তি ও চিন্তা হতাশায় জীবন উত্থান, পতন, হতেই থাকবে
শুভবর্ষ ৬, ৯, ১৫, ১৮, ২৪, ২৭, ৩৩, ৩৬, ৪২, ৪৫, ৫১, ৫৪, ৬০, ৬৩, ৬৯, ৭২,
১০। মঘা- মঘা নক্ষত্রর অধিকর্তা কেতু। এরা খুব তেজী হয় এবং আত্ম অভিমান প্রবল হয়। এরা স্পষ্ট কথা বলতে ভাল বাসে। তাই অনেকের অপ্রিয় হয়। এদের মেধাশক্তি খুব উচ্চ নাও হতে পারে। মধ্যম ভাবে জীবন কাটে। নানা বাধার মধ্যদিয়ে উন্নতি হয়। কিন্তু সময়ে হতাশা দেখাদেবে। মনে আবেগ প্রবনতা থাকে। শুভবর্ষ- ১০, ১২, ১৯, ২১, ২৮, ৩০, ৩৭, ৩৯, ৪৬, ৪৮, ৫৫, ৫৭, ৬৪, ৬৭,
১১। পুর্বফল্গুনী- পুর্ব্বফাল্গুনী নক্ষত্রর অধিকর্তা শুক্র এরা মিষ্টিভাষী ও ধীর স্থির এবং একটুগম্ভীর প্রকৃতির হয়। যা করবে মন স্থির করে নেয় সময় বিশেষ কখন প্রকাশ করেনা। অন্যের সমালোচনা করে নির্ভীক ভাবে। ভয় কম থাকে। মাঝেসময়ে কিছু স্বার্থ ভাবদেখা যায়। নারীর প্রতি আকর্ষণ থাকে। এদের জীবনে শুভযোগ অর্থ, আনন্দলাভ,ও সাংসারিক দিকে উন্নতি হয়। শুভবর্ষ- ১১, ১৫, ২০, ২৪, ২৯, ৩৩, ৩৮, ৪২, ৪৭, ৫১, ৫৬, ৬০, ৬৫, ৬৯,
১২। উত্তরফল্গুনী- উত্তরফাল্গুনী নক্ষত্রর অধিকর্তা রবি। এরা খুব ভক্তিমান হয়। এবং ঈশ্বরের কৃপালাভ করে। এরা স্ত্রীর বশীভূত হতে পারে। সত্য ও সৎ পথে থেকেই এরা উন্নতিসাধন করে। জাতক সুহৃদয়শীল হয় অনেককে সাহার্য্যও করতে ভাল বাসে। এরা সৎবুদ্ধিযুক্ত এবং সদ্ভাবনার হয়।
শুভবর্ষ- ৩, ৭, ১২, ১৬, ২১, ২৫, ৩০, ৩৪, ৩৯, ৪৩, ৪৮, ৫২, ৫৭, ৬১, ৬৬, ৭০,
১৩। হস্তা- হস্তা নক্ষত্রর অধিকর্তা চন্দ্র, এরা চোখের রোগ,বাত, পিত্তরোগ, সর্দিকাশি, প্রভৃতিতে কষ্ট পেতে পারে। এরা জ্ঞানী, বিচক্ষণ, বুদ্ধীমান, চতুর ও মেধাবী হয়। জাতক দীর্ঘায়ূহয়। পারিপার্শিক বাধা না এলে এরা বিরাট শিক্ষিত হয়। নিজ বুদ্ধির দ্বারা প্রচুরঅর্থ উপার্জন করে।
শুভবর্ষ ৪, ১২, ১৩, ২১, ২২, ৩০, ৩১, ৩৯, ৪০, ৪২, ৪৯,. ৫৭, ৫৮, ৬৬, ৬৭,
১৪। চিত্রা-চিত্রা নক্ষত্রর অধিকর্তা মঙ্গল। এরা সত্যবাদী, বিচক্ষণ ও অল্পাহারী হয়। ছোটখাট রোগ ব্যাধি অনেক হয়। অর্থ উপার্জন করে মধ্যম। বহূ কুটুম্ব থাকে। ক্ষমতাশালী হলেও একটু অলস হয়। স্থূলকপাল লোম যুক্তদেহ। দাতের রোগের ভয়।এরা মাঝে মাঝে জণসাধারনের প্রিয় হয়। কখন আবার অপ্রিয় হয়। উত্থান পতনের মধ্যদিয়ে জীবন। তবে এদের তেজ ও সাহস থাকে মনের জোর প্রচুর। শুভবর্ষ- ১৪, ২১, ৩২, ৩৯, ৪১, ৪৮, ৫৭, ৫৯, ৬৬, ৬৮, ৭৫,



১৫। স্বাতী- স্বাতী নক্ষত্রর অধিকর্তা রাহু। এদের মধ্যে শান্তভাব থাকবে। তবে কখন বা হঠাৎ করে রেগে ওঠে। এদের কপালস্থূল, দ্বাতা,সুবুদ্ধিমান, সৎপরামর্শ দাতা, বিদ্বানহয়। এরাধনবান হলেও মনে বৈরাগ্য ভাব থাকে। এরা হয় শুরেশ, দেবদ্বিজে ভক্তিপরায়ণ। সন্তানদের জন্য বিশেষ চিন্তাথাকে। দাঁত ও পেটের রোগের ভয়। শুভবর্ষ-৪, ৬, ১৩, ১৫, ২২, ২৪, ৩১, ৩৩, ৩৪, ৪০, ৪২, ৪৯, ৫১, ৫৮, ৬০, ৬৭, ৬৯,
১৬। বিশাখা- বিষাখা নক্ষত্রর অধিকর্তা বৃহস্পতি। এদের মাথাভার মাথাব্যাথা, পিত্তরোগ হতে পারে। এরা হয় দেবভক্ত, সত্যবাদী, এবং জিতেন্দ্রিয়। ধার্মিক ভাব থাকে প্রায়ই জ্ঞাণী হয়। অজীর্ণরোগ হয়। মোটামুটি সন্দেহ যুক্ত, কামী হয়। তবে এরা নিজ চেষ্টাদ্বারা ধনীহয়। এদের হৃদয়ে সদ্ভাবনা প্রচুর থাকে। কারো সঙ্গে ঝমেলা পছন্দ করে না। তবে রেগে গলে মাথা খুব গরম হয়। শুভবর্ষ- ৭, ৯, ১৬, ১৮, ২২, ২৫, ২৭, ৩৩, ৩৪, ৩৬, ৪৩, ৪৫, ৫২, ৫৪, ৬১, ৭০, ৭২,
১৭। অনুরাধা- অনুরাধা নক্ষত্রর অধিকর্তা শনিদেব। এদের দেহ শ্যামবর্ণ হয়, এরা খুবগভীর ও দয়ালু প্রকৃতির হয়। ধর্মে মতি থাকে। চেষ্টাকরলে যথেষ্ঠ জ্ঞাণলাভ করতে পারে। এদের পেটের বা লিভারের রোগ হয়। এরা সুদেহী, কামভাব বেশি। শ্রমদ্বারা ভাল অর্থ উপার্জন করতে পারে। মনন শীলতা থাকে, তবেঅব্যয় খরচ দেখলে মাথাগরম হয়। শুভবর্ষ-৬,৮,১৫, ১৭, ২৪, ২৬, ৩৩, ৩৫, ৪২, ৪৪, ৫১, ৫৩, ৬০, ৬২, ৬৯, ৭১,
১৮। জেষ্ঠা- জেষ্ঠা নক্ষত্রর অধিকর্তা বুধ, এরা খুব দয়ালু হৃদয়বান থাকে।‌ চেষ্টাকরলে এরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারে। বাতরোগ পিত্তরোগ মাথার রোগ হতে পারে। এদের মধ্যে অল্প বয়েসে বেশী বুদ্ধির বিকাশ হয় এরা খুব বাস্তববাদী ও শ্রমশীল। তবে প্রচুর আয় করে গরীব দঃখীদের সাহার্য্য করে থাকে।
শুভবর্ষ-৬, ৯, ১৫, ১৮, ২৪, ২৭, ৩৩, ৩৬, ৪২, ৪৫, ৫১, ৫৪, ৬০, ৬৩, ৬৯, ৭২,
১৯। মূলা- মূলা নক্ষত্রর অধিকর্তা কেতু। এদের কপালহয় গজের মতো। শীতলদেহ বিপরীত লিঙ্গের বশীভূত হয়। এরা গান বাজনা ভাল শিখতে পারে। এরা খুব আড়াম্বরপ্রিয় হয়। চোখ একটু রক্তাভ। এদের বহূ আত্মীয় কুটুম্ব থাকে। এরা প্রায়ই একটু কৃপণ হয়। সন্তানের জন্য বিশেষ চিন্তাথাকে। দাম্পত্য মধ্যম, এরা নিজ মনের কথা প্রায় লুকিয়ে রাখে। শুভবর্ষ - ৭, ১০, ১৬, ১৯, ২৫, ২৮, ৩৪, ৩৭, ৪৩, ৪৬, ৫২, ৫৫, ৬১, ৬৪, ৭০, ৭৩,
২০। পূর্বাষাঢ়া-পূর্ব্বাষাঢ়া নক্ষত্রর অধিকর্তা শুক্র,এদের কপালস্থূল মতো। এরা লেখাপড়া ভাল শিখতে পারে। একটু আড়ম্বরপ্রিয় চোখ একটু রক্তাভ। এদের বহূত আত্মীয় কুটুম্ব থাকে। একটু খরচী হয়। এরা গৌরবর্ণর শুচিবদন জাতক দীর্ঘায়ূ এবং বাবা মার প্রিয় হয়। বহূ লোকের ও আপন আত্মীয়র আশ্রয়দাতা হয়। তবে প্রশংসা কম পায়। শুভবর্ষ- ৩, ৬, ১২, ১৫, ২১, ২৪, ৩০, ৩৩, ৩৯, ৪২, ৪৮, ৫১, ৫৭, ৬০, ৬৬, ৬৯,
২১। উত্তরষাঢ়া- উত্তরষাঢ়া নক্ষত্রর অধিকর্তা রবি। এদের দেহ একটু স্থূল মতো মনে গর্বিত ভাব থাকে। জাতকের যশ লাভহয়। গান বাজনা ও শিল্পে পার্গত হয়। এদের অজীর্ণ উদারময় বাতরোগ লিভার রোগঅম্লরোগ দেখা দেয়। পিঠ একটু কুঁজো ভাব, এরা অনেকের শ্রদ্ধালাভকরে এবং সন্মানিত হয়। এদের কাছেথেকে সবাই সমান সাহায্য পায়না। ৩, ১০, ১২, ১৯, ২১, ২৮, ৩০, ৩৭, ৩৯, ৪৬, ৪৮, ৫৫, ৫৭, ৬৪, ৬৬, ৭৩,
২২। শ্রবনা- শ্রবনা নক্ষত্রের অধিকর্তা চন্দ্র। এদের দেহ একটু কঠিন হয়। চাপা গজ কপাল, শ্যামবর্ণ হয়। এদের বাতরোগ, লিভাররোগ, অম্ল, অজীর্ণ, রোগ হয়। চোখ একটু রক্তাভ হয়। এরা বেশ সু-রসিকহয়। পরিশ্রমী ও বুদ্ধিমান শ্রমদ্বারা জীবনে উন্নতি করে। খরচা বেশী করতে চায় না।
শুভবর্ষ- ১৩, ১৬, ২২, ২৫, ৩১, ৩৪, ৪০, ৪৩, ৪৯, ৫২, ৫৮, ৬১, ৬৭, ৭০,
২৩। ধনিষ্ঠা- ধনিষ্ঠা নক্ষত্রর অধিকর্তা মঙ্গল। এরা গৌরবর্ণ ধার্মিক ও দেবভক্ত হয়। পেটেররোজ ও অজীর্ণ রোগ হয়। উপার্জন মধ্যমহয়। মন খুব চঞ্চল, খেতে ভাল বাসে। মাঝে সময়ে ভ্রমনে খুশী হয়। অনেক সময় ধনী ও দাতাহয়। মাঝ বয়েস থেকে সুখী হয় প্রথম জীবনে সংগ্রাম।
শুভবর্ষ- ১৪, ২১, ২৩, ৩০, ৩২, ৩৯, ৪১, ৪৮, ৫০, ৫৭, ৫৯, ৬৬, ৬৮, ৭৫,
২৪। শতভিষা- শতভিষা নক্ষত্রর অধিকর্তা রাহু। এদের মন বেশ পবিত্র এবং সত্যনিষ্ঠ হয়। জীবনে অনেক অর্থ উপার্জন করতে পারে। শ্যামবর্ণ হয়। এদের আমবাত এলার্জি স্নায়বিক ও চোখেররোগ হয়। এরা বিবেকি এবং বৈরাগ্য ভাবের হয়। শেষ জীবনে সন্ন্যাস ধর্ম লাভ করিতে পারে। ব্যাবহার মধুর তবে স্বভাব চাপা। শুভবর্ষ-৪, ৬, ১৩, ১৫, ২২, ২৪, ৩১, ৩৩, ৪০, ৪২, ৪৯, ৫১, ৫৮, ৬০, ৬৭, ৬৯,
২৫।- পূর্বভাদ্রপদ- নক্ষত্র অধিকর্তা বৃহস্পতি। এদের কপাল প্রশস্ত নাসা উন্নত হয়। দেহ তাম্রবর্ণ। বিপরীত লিঙ্গের বশীভূত হয়। এরা পরোপকারী এবং দয়ালু প্রকৃতির হয়। রূপ সুন্দর হয়, রাজভক্ত রাজসেবক হতে পারে। জীবনে প্রচুর অর্থ উপার্জন যেমন করে তেমন খরচও অত্যাধিক করে। গৃহ নির্মাণ যোগ আছে। জাতক বিদ্বানও হয়। শুভবর্ষ-৭, ৯, ১৬, ১৮, ২৫, ২৭, ৩৪, ৩৬, ৪৩, ৪৫, ৫২, ৫৪, ৬১, ৬৩, ৭০, ৭২,
২৬। উত্তরভাদ্রপদ- উত্তর ভাদ্রপদ নক্ষত্র অধিকর্তা শনিদেব। এরা গৌরবর্ণ ও রূপবান হয়। গম্ভীর ভাব থাকে,সরকারী কাজ করলে প্রচুর উন্নতি করে। এরা নির্জনতা পছন্দ করে যাদুবিদ্যা, জ্যোতিষ, গভীর জ্ঞাণের পুস্তকপাঠ প্রভৃতি ভাল বাসে। হালকা ভাব সদায় পছন্দ করে। এদের মন বাইরে বোঝা কঠিন।
শুভবর্ষ- ৬, ৮, ১৫, ১৭, ২৪, ২৬, ৩৩, ৩৫, ৪২, ৪৪, ৫১, ৫৩, ৬০, ৬২, ৬৯, ৭১,
২৭। রেবতী নক্ষত্র অধিকর্তা বুধ। এরা সুন্দর চেহেরা বিশিষ্ট, এরা সুন্দর চেহেরা বিশিষ্ট, গৌর বর্ণ জ্ঞাণী মানী এবং বিরাট যশস্বী হতে পারে। এদের কেশ দীর্ঘ ও কাম ভাব বেশী থাকে এবং একাধিক নারীতে আকৃষ্ট হতে পারে। এরা বাইরে হালকা স্বভাব কিন্তু ভিতরে ভীষণ চতুর। মাঝে মাঝে দ্বিমনা ভাব দেখা যায়। অনেক সময় খেয়ালের বশে অনেক কাজ করে । বৃদ্ধি ও শিল্পী কাজে এরা প্রচুর উপার্জন করে।
শুভবর্ষ-৬, ৯, ১৫, ১৮, ২৪, ২৭, ৩৩, ৩৬, ৪২, ৪৫, ৫১, ৫৪, ৬০, ৬৩, ৬৯, ৭২,

'অচিন্ত্যভেদাভেদ' পদের কতিপয় যৌক্তিক অসঙ্গতি বিংশ শতাব্দীর অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি পর্যালোচনা

  ভূমিকা গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনের কেন্দ্রীয় মতবাদ হলো 'অচিন্ত্যভেদাভেদ'। শ্রীচৈতন্যের ভাবধারা থেকে উদ্ভূত এই দার্শনিক অবস্থানটি ঈশ্...

Popular Posts