Friday, September 4, 2020

শম্ভু শব্দ নিয়ে কৃৈষ্ণবদের নোংরামীর জবাব

 নিম্নগানাং যথা গঙ্গা দেবানামচ্যুতো যথা।

বৈষ্ণবানাং যথা শম্ভুঃ পুরাণানামিদং তথা।।

অর্থঃ নদীগণের মধ্যে গঙ্গা, দেবগণের মধ্যে বিষ্ণু এবং বৈষ্ণবগণের মধ্যে শম্ভু(শিব) যেরুপ শ্রেষ্ঠ, সেইরুপ পুরাণগণের মধ্যে এই শ্রীমদ্ভাগবত শ্রেষ্ঠ হইয়া থাকে। (ভাগবত- ১২/১৩/১৬)

কলির ভন্ড বৈষ্ণব যাদের আমরা কৃৈষ্ণব বলে জানি এরা সবাই মিলে পরমেশ্বর শিবের নিন্দায় মুখর হয়ে শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ হতে এই শ্লোকটি আওড়ায়।  কিন্তু ভন্ড কৃৈষ্ণবগণ বার বার এই শম্ভু কে শিব বলে শিব বিদ্বেষী দক্ষের ধারাই বজায় রাখে। 
আসুন দেখে নেই ভাগবত থেকে সেই শ্লোক। 


উপোরক্ত স্ক্রীনশটটি গৌড়ীয় ভাষ্যে রয়েছে। তাই উনাদের বই থেকেই দেখালাম।  এখানে দেখা যাচ্ছে বৈষ্ণবগণের মধ্যে শম্ভু শ্রেষ্ঠ কথাটা দেখা যাচ্ছে। যেহেতু কৃৈষ্ণবগণ অজ্ঞতার  নিগুড় অন্ধকারে নিমজ্জিত তাই এরা শম্ভু শব্দের অর্থ শিব বলে জানে। কিন্তু মূর্খ লোকেরা এখানেই ভুল করে। 
ভন্ড কৃৈষ্ণবেরা ঠিক এর পরের শ্লোকটা আর কাউকে দেখায় না বা পড়ে না। দেখুন স্ক্রীনশট। 
ভাগবত পুরাণ গৌড়ীয় ভাষ্য ১২/১৩/১৭



কাশীধাম সবথেকে শ্রেষ্ঠ তীর্থ বলা হচ্ছে। মানে শিবের সেই স্থান শ্রেষ্ঠ। পরমেশ্বর শিব যে আমাদের সকলের উপাস্য ভাগবত পুরাণ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছেন।  তাছাড়া ভাগবতের স্থানে স্থানে শিব প্রশংসা আছে এবং ভাগবতেই বলা হচ্ছে শিব উপাসনা করতে। 

এবার আসি বৈষ্ণব কি আসলেই শিব? 
শম্ভু বলতে কি আসলেই শিবকে বোঝানো হয়েছে? 
এবার একটু উপ পুরাণ গুলির দিকে তাকাই। এবার কিছু অতি চালাক কৃৈষ্ণব বলবে উপপুরান মানবো কেন? বা উপরের শ্লকেই বলা হচ্ছে ভাগবত শ্রেষ্ঠ । তাহলে বাকি পুরাণ মানবো কেন?  এখানে এঁদের বলে রাখি ভাগবতের মতন শিব পুরাণেও আছে যে শিব পুরাণ সর্ব শ্রেষ্ঠ । তাছাড়া উপ পুরাণের মাঝে নারদীয় পুরাণও আছে যা আপনারা মানেন। তো নারদ পুরাণের বেলায় নিয়ম উল্টে যায় আর সৌর পুরাণের বেলায় নিয়ম ?? এই ধরনের স্বেচ্ছাচারীতা মুর্খদের শোভা পায়। যাইহোক কথা না বাড়িয়ে দেখে নেই সৌর পুরাণ কি বলে। 
সৌর পুরাণ ২৭/৩ দেখুন। 

                                         

ভাল করে খেয়াল করে দেখুন এখানে কোন শম্ভু বৈষ্ণব? 
পাঠক  আপনারাই বলুন শিব কি এখানে দেখতে পাচ্ছেন? বা এই শম্ভু কি শিব? 
আপনি বা আমি যদি আমার সন্তানের নাম বিষ্ণুপদ বা নারায়ণ রাখলে সে কি স্বয়ং নারায়ণ ? 
আমি যা বলছি তা যে ভুয়া না এর জন্য এর পরের শ্লোক দেখুন। 


এখানে দেখাই যাচ্ছে যে শিব নামের কোন এক ব্যাক্তি বংশ পরম্পরায় ছিলেন। এখন কি কৃৈষ্ণবেরা বলবেন যে এই শিব হলেন কৈলাসপতি শিব? এখানে যে মনুর বংশ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে তা পূর্বের অধ্যায় তে বলা। 
আশা করি ভাগবতের এই শম্ভু যে স্বয়ং শিব নন তা পরিষ্কার হয়েছে। 
ভন্ড কৃৈষ্ণব থেকে সাবধান থাকুন। 
হর হর মহাদেব। 

Wednesday, August 19, 2020

শিব এবং শিব নাম নিয়ে কৃৈষ্ণবদের ভন্ডামি বৈষ্ণব পুরান থেকে প্রমান।

 শিব নাম নিলে বা শিব নিয়ে কিছু প্রকাশ করলেই যেন কৃৈষ্ণবদের শরীর জ্বালা করে। আর করবে নাই বা কেন বলুন, কারন এরা তো দক্ষেরই অবতার এই কলিতে। এরা যে ঘোর পাপী এবং ভন্ড তা আমি না ক্ষোদ শাস্ত্র বলছে। আমার ব্লগ নিয়েও এঁদের চুলকানীর শেষ নেই। কারণ আমি যা যা লিখেছি এরা এর কিছুই উল্টাতে পারে না। তাই আমার বানান নিয়ে লেগেছে। 

যাইহোক আসুন কিছু আলোচনা করা যাক এঁদের নিয়ে। প্রথমেই আসছি সৌর পুরাণ নিয়ে। 

কলিকালে বৈষ্ণব চরিত্রঃ

কলিকালে মধুদর্শিতা পথানুসারী পাপিষ্ঠ বৈষ্ণব অনেক হইবে'অনন্তর জাতিভ্রষ্ট শূদ্র-ম্লেচ্ছাগণ এই বৈষ্ণব পথাবলম্বী হইবে।

(সৌরপুরাণ-৩৯/৭৯)।


বলা বাহুল্য এইখানে সমগ্র বৈষ্ণবগোষ্ঠিকে কিছু বলা হচ্ছে না। বরং ভন্ডদের নির্দেশ করতে এই কথা বলা হচ্ছে। অর্থ্যাৎ ভন্ডরা নিজেদের বৈষ্ণব বলে আখ্যায়িত করবে। কিন্তু আসলে এরা বৈষ্ণব না। এরা হল কলির চর। যারা মধু মাখা হরি নাম( আদতে শ্রী হরির নাম না) বিক্রি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে এবং মানুষকে শাস্ত্র বিমুখ তথা ধর্ম বিমুখ করবে। এই গৌড়িয় কৃৈষ্ণব সম্প্রদায় তাই করছে এর মাঝে ইস্কন অন্যতম। 

এবার আসি অন্যতম এক স্মৃতি শাস্ত্র অত্রি সংহিতা নিয়ে। মনু সংহিতার পরেই এই সংহিতার স্থান যা ঋষি অত্রি বলেছেন। সে সংহিতার ৩৭৫ নং শ্লোক দেখুন। স্ক্রীনশট। মূর্খরা বেদ পাঠে বিফল হলে পুরাণ পড়ে। সেটাতেও বিফল হলে কৃষিকাজে নিযুক্ত হয়।এতেও বিফল হলে ভন্ড বৈষ্ণব ধর্ম অবলম্বন করে। অর্থ্যাৎ যেইগুলা সমাজের চরম অকর্মণ্য এইগুলাই এই ভন্ড বৈষ্ণব ধর্ম অর্থ্যাৎ কৃৈষ্ণববাদে ঝুকে ইস্কনে যায়।   


কিন্তু এর মানে কি সব বৈষ্ণব খারাপ?? মোটেই না। এখানে তাৎপর্য হল। ভন্ডরাই বৈষ্ণববাদ কে ব্যাবহার করে নিজেদের টাকা ইনকামের ধান্দা করবে। ইস্কন বা গৌড়ীয় কৃৈষ্ণব সম্প্রদায় তা-ই করছে। কাজেই বুঝতেই পারছেন এটা আমার কথা না শাস্ত্র বচন যে এই ইস্কনীরা চরম ভন্ড। 

এবার আসি আমার মুল প্রসঙ্গে । কৃৈষ্ণবরা নিজেদের অবস্থান পাকা পোক্ত করার জন্য সহজ সরল শাস্ত্র না জানা হিন্দুদের টার্গেট করে। আর এর জন্যই এরা বিভিন্ন বৈষ্ণব পুরাণের অর্ধেক শ্লোক আওড়িয়ে বলে এরাই একমাত্র ঠিক। এই ক্ষেত্রে এরা বৃহদনারদীয় পুরাণের একটা শ্লোক আওড়ায় কিন্তু এরপর আর কিছুই বলে না। যেমনঃ

হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবলম।


কলৌ নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব গতিরন্যথা।


সরলার্থঃ এই কলিযুগে কেবল হরির নাম, হরির নাম, হরির নামই একমাত্র আছে। এই ছাড়া আর কোনও গতি নেই , আর কোনও গতি নেই, আর কোন গতি নেই।

বৃহদনারদীয় পুরান। পূর্বভাগ ৪১ অধ্যায় , ১১৫ নং শ্লোক। (বিষ্ণু নাম মহিমা) গীতাপ্রেস কতৃক সংস্কৃত পুরান থেকে।


কিন্তু এই চতুর এবং চালাক দক্ষের অনুচরেরা এর পরের শ্লোক বলে না আর নিজেদের বইয়ে দেখায় না। আসুন শ্লোকগুলো দেখে নেই। 

আমরা জানি নারায়নের হাজার নাম, উনি অনন্ত বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের পালন কর্তা তথা শিবাংস। মানে উনি আর শিবে ভেদ নেই।তো এইখানে হরির নাম বলতে কোথায় ওদের উপনিষদের বিকৃত মন্ত্র বলা আছে?? সেরকম কিছুই এই পুরানে আছে? দেখে নিচ্ছি। 

একই অধ্যায়ের ১০৭নং শ্লোকে প্রভু বিষ্ণুর সেই নাম বলা হচ্ছে যা নিলে আমাদের কলির প্রভাব কাটবে। হরি, কেশব, গোবিন্দ, বাসুদেব জগন্ময়।।

ইতি রয়ন্তি এ নিত্যমনহি বাধতে কলিঃ

সরলার্থঃ এই নাম গুলো ব্যাক্তি যদি জপ করে , বা স্বরন মনন করে তাহলে কলি তাঁকে বাধা প্রদান করেন না। 

পাঠক, এখানে ওদের বিকৃত নাম যা তাঁরা হরি নাম বলে চালায় সেটা কই? 

এবার আসি পরের যুক্তিতে যা এই গৌড়িয় কৃৈষ্ণবরা কখনও দেখায় না। 

 একই অধ্যায়ের আরেক শ্লোক ১০৮ কি বলছে?

শিব শংকর রুদ্রেশ নিলকন্ঠ ত্রিলোচন

ইতি জপন্তিয়ে ইয়াপি

কলি স্তন্যাপিবাধতে

সরলার্থঃ শিব শংকর রুদ্রেশ নিলকন্ঠ ত্রিলোচন এই নামগুলো যে জপেন কলি তাঁদেরকেও বাধা দেন না।

এবার ১১২ নং শ্লোকে আসুন

হরির নাম স্বরণ করা ব্যাক্তি এবং শিব নাম স্বরন করা ব্যাক্তির সকল মনকামনা পূর্ণ হয়ে যায়। 


স্ক্রীনশটে দেখেতেই পাচ্ছেন শাস্ত্র বচন কি। 

এরা সাধারণত শিব প্রসাদ খায় না। বা শিবকে কৃষ্ণের উচ্ছিষ্ঠ ভোগ লাগায় এবং পরে সেটা গ্রহণ করে। মানে শিব এঁদের কাছে কোন পরমেশ্বরই না। এঁদের শিব বিদ্বেষ চরম মাত্রায় এবং এরাই যে দক্ষের অবতার সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু বৈষ্ণব পুরান বা নারদ বানী কি তাই ? আসুন একই পুরান থেকে নারদের মুখের কথা দেখে নেই। 

কলি কালে কি শিব পূজা পাপ? 




মানে, কলিতে যে নারায়ণ পূজা বা শিব পূজা করবে কলি তাঁকেও স্পর্শ করবে না। এবং জীব যে শিব পূজা করবে সে শিব তুল্য হবে। 

এই পুরানেও হরি এবং হর অভেদ তত্ত্ব আনা হয়েছে। এমনকি মহাদেব পরমেশ্বর শিবকে সাক্ষাৎ ঈশ্বর বলা হয়েছে। স্ক্রীনশট।

১১৫ নং সেই শ্লোকের আগে কি বলা আছে দেখুন। স্ক্রীনশট। 




২য় স্ক্রীনশট দেখুনঃ 







মানে হর -হরি অভেদ যে মানে সেই সাধু বলার যোগ্য এবং যে শিব বিষ্ণু এক তত্ত্ব মানে তা এই ঘোর কলিতেও পূন্য লাভ হয়।
এবার পাঠক, আপনারা বলুন। ইস্কন তথা গৌড়ীয় সমাজ কি দেবর্ষী নারদের থেকে উর্ধ্বে ? এরা কি এমন সাধু যে নারদের কথার উপেক্ষা করে শিব অপমান করে এবং শিবকে কৃষ্ণ থেকে আলাদা করে?? 
অত্রি সংহিতা এবং সৌর পুরাণের বচন অনুযায়ী এরাই যে মহা পাপী এবং ঘোর কলির চর এতে কি আর সন্দেহ রইলো?? 

এঁদের হিন্দু সমাজ থেকে সামাজিকভাবে বয়কট করুন। তবেই সমাজ এবং জাতির মঙ্গল। 

ইস্কন নিপাত যাক 

সনাতন মুক্তি পাক।

হর হর মহাদেব। 


Sunday, August 9, 2020

ভগবান আদি শংকরের বৃহদারন্যক উপনিষদ ভাষ্যে ৬/ ৪/ ১৮ যে গরুর মাংস খাবার কথা বলা হচ্ছে সেই সম্পর্কে আপনার মতামত বা খণ্ডন কি?

 হোক তা বিধর্মী ষড়যন্ত্রকারী কিংবা হোক মুর্তি পূজা বা প্রতীক পূজা বিরোধী কতিপয় ব্যাক্তি। সবার সেই এক কথা। আপনাদের ধর্মে তো গরু খাওয়া আছে কিংবা, আপনাদের মতন যারা শৈব বা অদ্বৈতবাদী আছেন যারা আদি শঙ্করকে মানেন বা শ্রদ্ধা করেন এরা কি পারবেন বৃহদারন্যক উপনিষদ ভাষ্যে ৬/ ৪/ ১৮ যে গরুর মাংস খাবার কথা বলা হচ্ছে তার খণ্ডন দিতে? কলার উচিয়ে অনেকেই বলে থাকেন তমুকই একমাত্র এর খণ্ডন দিয়েছেন বা সহজ কথায় শ্লোকের  মাঝে অন্য কিছু খুঁজে পেয়েছেন ।

আসুন প্রথমেই দেখে নেই সেখানে কি বলা আছে। মানে রামকৃষ্ণ মিশন কতৃক প্রকাশিত গ্রন্থে কি লেখা। 














শুধুমাত্র এই লেখাগুলোকে দেখিয়ে কিছু কতিপয় অসাধু ব্যাক্তি প্রমাণ করতে চায় যে আদি গুরু শংকরপন্থিরা গরুর মাংস খাবার সমর্থন করেন এবং এরা বেদ বিমুখ কার্য করে থাকেন। বলা বাহুল্য এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা বা গ্রন্থ অধ্যয়ন না করেই এরা যেকোনো উপসংহারে এসে দাড়িয়ে যান। কিছু প্রশ্ন করলে তোতা পাখির মতন একটাই কথা আওড়াতে থাকেন আর তা হল " এইগুলা মধ্যযুগে বিকৃত হয়েছে আর তাই সব প্রক্ষিপ্ত"। যদিও এর বিপরীতে কোন প্রমান এরা উপস্থাপন করতে পারেন না। 
যেমন ভাগবত পুরান নিয়ে এঁদের দাবী ইহা নাকি বোপদেব রচিত অথচ। আদিগুরু ভগবান শঙ্করাচার্যের গুরু গোবিন্দপাদের গুরু গৌড়পাদ।(অর্থাৎ শঙ্করাচার্যের গুরুর গুরু) তাঁর "উওর গীতা" ভাষ্যে এবং "সাংখ্য কারিকা বৃত্তি" গ্রন্থে শ্রীমদ্ভাগবতমের নাম এবং একাধিক শ্লোক উল্লেখ করেছেন।গৌড়পাদ শুধুমাত্র শ্লোক নয়,শ্রীমদ্ভাগবতের নামসমেত ১০/১৪/৪ শ্লোক উল্লেখ করেছেন।
এছাড়াও গৌড়পাদ শ্রীমদ্ভাগবতমে ১/৩/১ এর "জগৃহে পৌরুষং রুপং" শ্লোকটি তার পঞ্জীকরণ ব্যাখ্যা গ্রন্থে উল্লেখ করেছে।
শঙ্করাচার্যের জন্ম উইকিপিডিয়া মতে ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে।শঙ্করাচার্যের গুরুর গুরু এক্ষেত্রে কমপক্ষে হলেও ১৫০-২০০ বছর পূর্বে অর্থাৎ ৫০০ খ্রীস্টাব্দে শ্রীমদ্ভাগবতের কোটেশন ব্যবহার করে গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন।সুতরাং এখানে এটা প্রমাণ হয় যে শ্রীমদ্ভাগবত ১৪০০-১৫০০ খ্রীস্টাব্দের মোঘলদের দ্বারা বা বৈষ্ণবদের দ্বারা রচিত গ্রন্থ নয় বরং শ্রীমদ্ভাগবতের আর্বিভাবের ইতিহাস আরোও অনেক পুরোনো।

আবার, পঞ্চম শতকে রচিত জৈনধর্মগ্রন্থ "নন্দী সূত্র" এ শ্রীমদ্ভাগবতের নাম আছে।এই গ্রন্থে জৈনধর্মে নিষিদ্ধ গ্রন্থসমূহের তালিকা দেওয়া হয়েছে।এটিতে সরাসরি রামায়ণ,মহাভারত,ভাগবত পুরাণ,সাংখ্যকারিকা ইত্যাদির কথা বলা হয়েছে।ইহার রচয়িতা বল্লভী।তিনি মহাবীর জৈনের ৯৮০ বছর পরের ব্যাক্তিত্ব।
সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর সময়কাল পঞ্চম শতাব্দীতে মানা হয়।এটি প্রমাণ করে শ্রীমদ্ভাগবতম একাদশ শতাব্দীর বোপদেব রচিত নয়।বরং ইহা শঙ্করাচার্যের বহু পূর্ববর্তী।
সুতরাং আবারও প্রমাণিত হলো যে শ্রীমদ্ভাগবত বোপদেব কিংবা বৈষ্ণবদের দ্বারা রচিত গ্রন্থ নয় বরং শ্রীমদ্ভাগবতের আর্বিভাবের ইতিহাস আরোও অনেক পুরোনো।
তাহলে বোঝাই যাচ্ছে আসল ইতিহাস পর্যালোচনা করলে পুরাণাদি শাস্ত্র তথা স্মৃতিগুলো যে অক্ষত এবং ভুল নয় তা বোঝা যায়। কিন্তু মুর্খের চোখ, যত না পড়ে দোষারোপ করতে পারে ততই এঁদের সুবিধা হয়। 
তো আসুন একটু বৃহদারন্যক উপনিষদ ভাষ্যে ৬/ ৪/ ১৮ যে গরুর মাংস খাবার কথা বলা হচ্ছে সেই বিষয়ে পর্যালচনা করা যাক। 
যদি আমরা আমাদের সবথেকে অথেন্টিক (বিশ্বাসযোগ্য) পাব্লিকেশন গীতাপ্রেসের বৃহদারন্যক উপনিষদ ভাষ্যে ৬/ ৪/ ১৮ এর দিকে তাকাই তাহলে কি দেখতে পাই? 
নিম্নের স্ক্রীনশট দেখুন। যারা হিন্দি বোঝেন তাঁরা সহজেই ধরতে পারবেন। 

এই দুই স্ক্রীনশট পর্যালোচনা করছি। 

শ্লোকের মূল অনুবাদঃ 

যিনি চান তার পুত্র প্রখ্যাত পন্ডিত, বিদ্যানদের সভায় নির্ভয়ে প্রবেশকারী তথা শ্রবনমুখী বানী বলার যোগ্য, সম্পূর্ণ বেদের সাধ্যায় করে এবং পুরো শতবছর জিবিত থাকে, সেই পুরুষ এবং তার পত্নী ঔষধীর শাঁস এবং চাউল রান্না করে তাতে ঘি মিশিয়ে খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে। এর দ্বারা উক্ত যোগ্যবান পুত্র জন্ম দিতে সমর্থ হয়। 

ঋষভ নামক ঔষধির (ফলের শাঁস) খাওয়ার নিয়ম আছে বা রয়েছে। 


মূল শংকর ভাষ্যঃ বিবিধং গীতো বিগীতোঃ প্রখ্যাত ইত্তর্থঃ। 

সমির্বিগমঃ সভাং গচ্ছতীতি প্রগল্ম ইত্তর্থঃ ।পান্ডীত্যস্য পৃথগ গ্রহণাৎ ।শুশ্রুশীতাং শ্রতুমিষ্টং রমণীয়াং বাচং ভাষিতা সঙ্গস্কৃতায়া অর্থবত্যা বাচঃ ভাপিতেত্যর্থঃ মাংসমিশ্রমুদং মাংসৌদনম তন্মাংস নিয়মার্থ মাহ ঔখেন বা মাংসেন উক্ষ্যা সেচনসমর্থঃ পুংগস্থদীয়ং মাংসম । ঋষভস্ততোহপ্য ধীক্বয়াস্ত দীয়মার্ষভং মাংসম।


ভাষ্যানুবাদঃ নানা প্রকারে যার মহত্ব গীত হয় তাঁকেই বিগীত   বলা হয়।  বিগীত অর্থ্যাত প্রখ্যাত। সমিতিঙ্গম - বিদ্যান্দের সভায় যেতে পারে এমন নির্ভীক। " সমিতিঙ্গমঃ" - অর্থ হল বিদ্যান অথবা পন্ডিত এই জন্য করা হয় নি। কারণ মন্ত্রে পাণ্ডিত্যের পৃথকভাবে গ্রহণ হয় এমনটা দেখা যায়। শুশ্রুশিতা- অর্থ শুনতে প্রিয় বা শ্রুতিমধুর রমণীয় বাণীর বক্তা , অর্থ্যাত সংস্কারযুক্ত স্বার্থক বানীর বক্তা । ঔষধি অথবা ফলের শাঁসকে মাংস বলা হয় । এর সাথে মিশ্রিত ভাত কে এখানে " মাংসৌদন" বলা হয়েছে। এই ঔষধীর শাঁসকে নিয়মের জন্য বলা হচ্ছে- উক্ষ্যার শাঁসের সাথে। গর্ভাদানের সমর্থ ষাঁড়কে উক্ষ্যা বলা হয়। ষাড়ের সমান শক্তিশালী হওয়ায় ঔষধী বিশেষের নামও উক্ষ্যা। সেটারই শাঁস এখানে অভিষ্ঠ আছে। পূর্বোক্ত ষাঁড় হতেও অধিক শক্তিশালী হলে তাঁকে ঋষভ বলা হয়ে থাকে। তার সমান শক্তিশালী ঔষধি বিশেষের নামও ঋষভ। তারই শাঁস এখানে " আরষভ" বুঝতে হবে। 

গীতাপ্রেসের ভাষ্য বিবৃতিঃ উক্ষ্যা শব্দের অভিধানে   ২ প্রকার অর্থ পাওয়া যায়। কলকাতা হয়ে প্রকাশিত বাচসপত্ত নামক বৃহৎ সংস্কৃত অভিধানে এইটিকে অষ্টবর্গান্তরগত ঋষভ নামক ঔষধির পর্যায়ে মানা হয়েছে। " ঋষভ ঔষধি চ " ।  প্রসিদ্ধ ইংরেজ বিদ্বান মনিয়র উলিমসন তার নিজের বৃহৎ সংস্কৃত - ইংরেজী কোষ অভিধানে " সোম " নামক বৃক্ষের পর্যায়ে মেনেছেন। 

" ঋষভ" নামক ঔষধির আয়ুর্বেদে অত্যন্ত প্রাচীন এবং প্রামানিক গ্রন্থ শুশ্রুত সংহিতাএর শুত্রস্থান নামক প্রথম খন্ডের ৩৮তম অধ্যায়ে ৩৭ প্রকার দ্রব্যগণের অন্তর্গত বলে উক্ত ঋষভ শব্দের  উল্লেখ আছে। ভাবপ্রকাশ নামক প্রশিদ্ধ সংগ্রহ গ্রন্থে এর বর্ণন এইধরণের আছে- 

জীবকর্ষভকৌ গেঔ হিমাদ্রীশিখরো দ্রবৌ রশদকন্দবৎ কন্দৌ নিশ্বারৌ সুক্ষ্মপত্রকৌ ................. ঋষভ বৃষশৃংগবৎ .............

ঋষভ বৃষভ বীরো বিষানী ব্রাহ্ম ইত্যপি জীভকর্ষভকৌ   বল্লৌ শিতৌ শুক্রকফপ্রদৌ মধুরৌ পিত্তদাহধ্নৌং কাষবাথক্ষয়ান্নৌ।। 

জীবক এবং ঋষভক (ঋষভ) নামের ঔষধি হিমালয়ের শিখরে উৎপন্ন হয়। এর জড় বা শিকড় রসুনের মতন হয়ে থাকে। গাছের ছোট ছোট পাতা হয় । এর মধ্যে ঋষভ ষাঁড়ের শিংএর আকৃতির মতন হয়। এর জন্য এই ঔষধির নাম ঋষভ।       

এর দ্বিতীয় নাম " বৃষভ", বীর , বিষানী ব্রাহ্ম ইত্যাদি। জীবক এবং বৃষভ ২ টাই শক্তিবর্ধক । শীত, বীর্য এবং কফ মধুর পিত্ত এবং দাহের প্রশমনকারী তথা কাশী এবং বাথ রোগের নাশকারী। ঋষভকে প্রশিদ্ধ অষ্টবর্গ নামক ঔষধীয়তে গন্য করা হয়। ভাবপ্রকাশকারী বলেন, 

জীবকর্ষভকৌ মেদে কাকোল্যৌ ঋদ্ধিবৃদ্ধির অষ্টবর্গোহষ্টমির্দ্রব্যৈঃ কথিতক্ষরকাদিভিঃ ।

আরও বিস্তারিত জানার জন্য পুজ্যপাদ জগতগুরু নিশ্চলানন্দ সরস্বতীর এই ভিডিওটি দেখার আমন্ত্রন রইলো। 


তাহলে এইখানে প্রমাণিত হল যে এই চক্রান্তকারীরা সনাতন ধর্মের শাস্ত্র  তথা মহান আচার্য্যদের নিন্দা করে সহজ সরল হিন্দুদের বিভ্রান্ত করতেই মুলত এইসব বলে থাকে। আসলে এইখানে অল্প শাস্ত্র অধ্যয়ন করে নিজেদের বিশাল কিছু ভেবে বসা এইসব ষড়যন্ত্রকারীরা মূলত কিছুই জানে না এবং শাস্ত্রের নিগুঢ় তত্ত্ব উপলব্ধি করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যার্থ। তাই এদের থেকে  সবার সাবধান থাকার বিকল্প নেই। 

হর হর মহাদেব 

Tuesday, August 4, 2020

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দাহকার্য

অনেকেই বলে থাকেন শ্রীকৃষ্ণের দেহ নাকি পোড়ানো হয় নাই। আবার অনেকে এও মনে করে থাকেন যে শ্রীকৃষ্ণের দেহ দিব্য তাই উনার আবার কিসের দেহ সৎকার?

মহাভারত এবং বৈষ্ণব পুরাণ থেকে আজ প্রমান দিচ্ছি।

প্রথমেই আসি মহাভারতের মৌসল পর্বের সপ্তম অধ্যায় , শ্লোক সংখ্যা ৩১ এবং ৩২ ।

 ততঃ শবীরে বামস্য বাহুদেবস্য চোভযোঃ।

অন্বিষ্য দাহযামাস পুরুষৈরাপ্তকারিভিঃ ৩১।। 

স তেষাং বিধিবৎ কত্বা প্রেতকার্য্যাণি পান্ডবঃ ।

সপ্তমে দিবসে  প্রাযাদবথমারুহ্য সত্বরঃ ॥৩২॥

সরলার্থঃ  তাহার পর অর্জ্জুন, রাম ও কৃষ্ণের শবীর দুইটি অন্বেষণ করিয়া বিশ্বস্ত ঔর্ধ্বদেহিক ক্রিয়াধিকারী পুরুষগণদ্বারা সেই শরীব দুইটি দাহ করাইলেন ৩১

অর্জ্জুন যথাবিধানে তাঁহাদের প্রেতকার্য্য করাইয়া সপ্তম দিবসে রথে আরোহণ করিয়া সত্বর দ্বারকা হইতে প্রস্থান করিলেন।৩২॥

 

এবার আসি বিষ্ণু পুরাণে। যা অতি প্রাচীন পুরাণগুলির মাঝে অন্যতম। তো এই পুরাণের পঞ্চম অংশের ৩৮ তম অধ্যায়ের ১নং এবং ৫ নং শ্লোক দেখুন।

 

 অর্জ্জুনোহপি তদান্বিষ্য  কৃষ্ণরামকলেবরে।

সংস্কারং লম্ভয়ামাস তথা  ন্যেষামনুক্রমাৎ ॥ ১

অষ্টৌ মহিষ কথিতা রুক্মিনীপ্রমুখাস্তু যাঃ

উপগৃহ হরের্দেহং বিবিশুস্তা হতাশনম। ২.

সরলার্থঃ  শ্রীপরাশর কহিলেন অর্জ্জুন, কৃষ্ণ ও রামের কলেবরদ্বয় এবং অনন্য প্রধান প্রধান যাদবগণের দেহ সকল অন্বেষণ করিয়া সংস্কার করাইলেন। রুক্মিণী -প্রমুখা কৃষ্ণের যে আটটী মহিষী কথিত হইয়াছেন, তাঁহারা সকলেই হরির দেহ আলিঙ্গন করিয়া অগ্নিতে প্রবেশ করিলেন। .

 


 ততোহর্জ্জুনঃ প্রেতকার্য্যং কৃত্বা তেষাৎ .যথাবধি।

নিশ্চক্রাম জনং সর্ব্বং গৃহীত্বা বজ্রমেব চ॥ ৫

সরলার্থঃ অনন্তর অজ্জুন যথাবিধি প্রেতকার্যা-সমাপনান্তে বজ্র ও অন্যান্য কৃষ্ণমহিষী” 'প্রভৃতিকে লইয়া দ্বারকা হইতে নিশক্রান্ত হইলেন। 

 


তাহলে দেখলেন কিভাবে অর্জুন কতৃক ভগবান কৃষ্ণের স্থুল শরীরকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করা হল। এখন প্রশ্ন হল ভগবানের তো জন্ম মৃত্যু কিছুই হয় না। তাহলে এই কৃষ্ণ কি ভগবান নন বা ঈশ্বর নন? (যেহেতু অনেকেই ভগবান কে ঈশ্বর সাদৃশ মনে করেন)

উত্তর হল, সূর্য্যের উদয় অস্ত কিছুই হয় না কিন্তু মানুষ তা দেখছে যে সূর্য উঠছে আর অস্ত যাচ্ছে। তেমনি আত্মার বিনাশ নেই। যেহেতু শ্রীকৃষ্ণ একজন যোগী ছিলেন এবং পরমাত্মার জ্ঞান উনার ছিল তাই উনি ভগবান অবশ্যই। কিন্তু সেই উপাধি আমরা দিচ্ছি শুধু উনার আত্মাকে। উনার পঞ্চভূতের শরীরকে নয়। শ্রীকৃষ্ণ(আত্মা বলা হচ্ছে) নিজেই বলেছেন আমি অজ (জন্ম রহিত) অব্যয় ( মৃত্যু রহিত) আবার ভাগবতেও বলা হচ্ছে উনার পিতা মাতা নেই। মানে উনি সেই চিন্ময় পরমাত্মা যিনি ইহ-জগতের  মায়ার উর্ধ্বে। কিন্তু যখন তিনি জড় শরীরে আসেন তখন তিনি প্রকৃতি আশ্রয় করে প্রকট হন। আর এই কথা গীতাতেই আছে। তাই অবতার অতি মানব কিছু এমনটা নয়। অবতারেরা সব কিছুর অধীনে থেকেই লীলা করেন। তাই তাঁদের সাধারণ মানুষ ভাবা যাবে না অবশ্যই। তিনি লোকশিক্ষার জন্য দেহ ধারণ করেন আর জীব জগতকে ধর্ম শিক্ষা দিয়ে থাকেন।

নমস্কার। 

হর হর মহাদেব। জয় শ্রীকৃষ্ণ। 


Tuesday, July 21, 2020

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য শ্রী সরস্বতী মন্ত্র ও টোটকা

(কামরূপ-কামাখ্যায় একজন বৃদ্ধ সাধু মানুষের থেকে শোনা)
আজ আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো,  'ভারতীয় জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে' ছাত্রদের বিভিন্ন শিক্ষা সংক্রান্ত মূল্যবান  তথ্য গুলো। এখানে লিপিবদ্ধ করে দিলাম।

  • প্রাথমিক শিক্ষামূলক (উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত) পড়াশুনার ক্ষেত্রে পড়াশুনার ঘরের মধ্যে সর্বদা উত্তর দিক কিংবা উত্তর-পূর্ব কোণের (ঈশান কোণ) দিকে মুখ করে বসা উচিৎ, তবে উত্তর-পূর্ব কোণটাই গুরুত্বপূর্ণ।
  • পড়াশুনার ঘর সর্বদা সবুজ রঙ করা প্রয়োজন কারন সবুজ রঙ বুধ গ্রহের রঙ আর এই রঙ থেকে আমাদের সবচেয়ে বেশী মনঃসংযোগ বাড়ে।
  • পড়াশুনা করতে হলে সবসময় চেয়ার-টেবিল ব্যবহার করে তাতে বসে পড়াশুনা করা উচিৎ এবং তার সাথে যদি পাশে সাদা রঙের একটা টেবিল ল্যাম্প থাকে তাহলে সেটা শুভফলদায়ক।
  • উচ্চতর শিক্ষামূলক পড়াশুনা (উচ্চমাধ্যমিকের পরবর্তী শিক্ষা কিংবা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কিংবা কোনো টেকনোলজি কিংবা গবেষণা সংক্রান্ত শিক্ষা) উচ্চতর শিক্ষামূলক পড়াশুনার ক্ষেত্রে সর্বদা দক্ষিন-পূর্ব কোণ (অগ্নি কোণ) বরাবর মুখ করে প্রতিদিন পড়াশুনা করতে হবে।
  • উচ্চতর বিদ্যার ক্ষেত্রে আপনার জন্ম কুন্ডলী (Horoscope) অনুযায়ী যে দিক শুভ, বাড়ীর সেই দিকের ঘরে পড়াশুনা করা উচিৎ। উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও পড়াশুনার ঘরের রঙ সবুজ করতে হবে।
  • গবেষনা মূলক কিংবা টেকনোলজি শিক্ষার ক্ষেত্রে নীল, গোলাপী ইত্যাদি রঙও করা যেতে পারে।
  • পড়াশুনার ঘরে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যে একটি করে চন্দনের ধুপ জ্বালানো উচিৎ কারন একমাত্র চন্দনের ধূপের মধ্যে মনঃসংযোগ করার অধিক ক্ষমতা আছে।
  • আপনাদের বাড়ীর মধ্যে যদি একটা গ্লোব রাখতে পারেন তাহলে এটা সেই বাড়ীর শিক্ষার্থীদের উপর শুভ প্রভাব ফেলতে বাধ্য।
  • আপনাদের শোবার ঘরে যেদিকে আপনি মাথা রেখে ঘুমান সেই দিকে আমাদের দেশের একটা বড় আকৃতির কাগজের ম্যাপ (Map) বা মানচিত্র দেওয়ালে পেরেক দিয়ে কিংবা আঠা লাগিয়ে শুধু টাঙিয়ে রাখবেন, এতে আশাকরি আপনাদের বাচ্চার মনঃসংযোগ অবশ্যই বৃদ্ধি পাবে।
  • যেসব ছাত্ররা উচ্চতর শিক্ষামূলক পড়াশুনা করছেন তারা তাদের পড়ার টেবিলে একটি পরিস্কার কাঁচের গ্লাসে চারটি সবুজ রঙের (মাথা ছোলা) পেন্সিল নিয়ে সেগুলিকে একটি সবুজ সুতো দিয়ে ৩ প্যাঁচে বেঁধে পেন্সিল গুলোর ছোলা দিকটা উপরের দিকে করে কাঁচের গ্লাসে রেখে দিন এবং সেই পেন্সিল সমেত গ্লাসটি পড়ার টেবিলে রেখে দিন, এতে আশা করি আপনাদের পড়াশুনার প্রতি মনঃসংযোগ বৃদ্ধি পাবে.. আর এই কাজটি করতে হবে শুক্ল পক্ষ্যের মধ্যে শুক্রবার।
  • আপনাদের বাচ্চার পড়ার বই গুলোর মধ্যে শুক্লপক্ষের শনিবার একটি করে লবঙ্গ প্রতিটি বইয়ের মধ্যে রেখে দিন এতে ছাত্রের পড়ায় মনঃসংযোগ বাড়বে।
  • পরীক্ষার সময় যদি আপনারা আপনাদের বাচ্চার হাতের অনামিকা আঙ্গুল (Ring Finger) দিয়ে টক দইয়ের ফোটা কিংবা হনুমানজীর মন্দিরে গিয়ে তাঁর ডান কাঁধের থেকে কিছুটা মেটে সিন্দুর অনামিকা আঙ্গুল (Ring Finger) দিয়ে কপালে এবং গলায় তিলক দিয়ে তারপর পরীক্ষা দিতে যায় তাহলে পরীক্ষাকেন্দ্রে আপনার বাচ্চা মনঃসংযোগ সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারবে।
  • আপনাদের বাড়ীর শৌচালয় ঘরের (Toilet Room) পাশে অথবা শৌচালয় ঘরের দেওয়ালের সাথে সংযুক্ত কোনো ঘরে পড়াশুনা করা উচিৎ নয়।
  • আপনাদের বাড়ীর শোওয়ার বিছানার উপর বসে পড়াশুনা করা কখনোও উচিৎ নয়, এটা ভারতীয় বাস্তুমতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, তবে এই বাস্তুদোষের জন্য হয়তো প্রথম প্রথম আপনারা আপনাদের পড়াশুনার ক্ষেত্রে বাস্তুর কুপ্রভাব বুঝতে নাও পারেন কিন্তু পরবর্তীকালে উচ্চ শিক্ষার সময় ৯৯% নিশ্চিতভাবে অবশ্যই আপনারা কুপ্রভাব আপনাদের বাচ্চার পড়াশুনার ক্ষেত্রে পাবেন।

অবশ্য করে মনে রাখবেন ,পড়াশুনা করার প্রতি মনঃসংযোগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে এতক্ষন যে আলোচনা করলাম, এই পড়াশুনা, কে কতটা ভালোবেসে করবে সেটা পুরোটাই তার ব্যক্তিগত ব্যাপার, একজন ছাত্র সে নিজে থেকে কতটা পড়াশুনাকে ভালোবাসবে সেটা ব্যক্তিগত জন্ম-কুন্ডলী দেখে বিচার করতে হয়। কোনো ছাত্র যদি নিজে বা পরিবার থেকে তার মধ্যে পড়াশুনার প্রতি ভালোবাসা না থাকে তাহলে কিন্তু সেই ক্ষেত্রে আমার এই তথ্য কিংবা আমি তার কাছে দায়ী থাকব না।
এবার পড়াশুনায় খুব ভালো ফল করবার জন্য শ্রী সরস্বতী মন্ত্র নিয়ে বলছি। দীপাবলীর আগের দিন, দীপাবলীর দিন, দীপাবলীর পরের দিন – এই তিনদিন (অথবা যে কোনও পূর্ণিমার দিন, তার আগের দিন ও তার পরের দিন) উত্তর দিকে মুখ করে সাদা বস্ত্র পরে, সাদা আসনে, সাদা মালা পরে, স্ফটিক মালায় প্রতিদিন ৪০০০ করে মোট ১২০০০ বার নীচে লেখা সরস্বতী মন্ত্র জপ করতে হবে। সামনে শ্রী সরস্বতী দেবীর মুর্তি বা ছবি (সরস্বতী ধারণ যন্ত্র) রাখতে হবে। এর ফলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি হয়ে পড়াশুনা মনে থাকবে। এর সাথে সাথে একটি চারমুখী রুদ্রাক্ষ, একটি পান্না ও সরস্বতী কবচ্ ধারণেও পড়াশুনায় ভালো ফল পাওয়া যাবে। মনে রাখতে হবে -- পাথর, কবচ্, শিকড় ইত্যাদি সাহায্যকারীর ভুমিকা পালন করে মাত্র, পড়াশুনায় আরও ভালো ফল করায় মাত্র, পাশ করায় না।
.
শ্রী সরস্বতী মন্ত্র ---- ও শ্রীং হ্রীং ... বাগ্বাদিনী ভগবতী অর্হনমুখনিবাসিনী সরস্বতী মমাংসে প্রকাশং কুরু স্বাহা

Saturday, July 18, 2020

ভাগবত পুরান নিয়ে কৃৈষ্ণবদের ভন্ডামি

অনেকেই বলে থাকেন যে ব্যাসদেব নাকি সর্ব শাস্ত্র রচনা এবং বেদ কে পরিবর্ধন করে শান্তি পাচ্ছিলেন না। অর্থ্যাৎ উনি নাকি সকল বেদ (উপনিষদ সহ), পুরান লিখেও নাকি শান্তি পাচ্ছিলেন না। পরে উনি নাকি ভাগবত রচনা করেন। ভাগবত ব্যাবসায়ীরা এও বলে থাকেন যে উনি নাকি আত্মপলব্ধির চরম পর্যায়ে এসে নাকি ভাগবত রচনা করেন। তাই ইহা সর্ব শাস্ত্রের সার(!!!!) । আজ দেখবো এই বাক্য কতটুকু সত্য আর কতটুকু মিথ্যা।

ইস্কনের বিশাল এক পন্ডিত উনাদের এক ভিডিওতে  আমার উপোরক্ত কথাগুলই বলেছেন। উনি এ-ও বলেছিলেন যে ব্যাসদেব নাকি ১০৮ খানা উপনিষদ রচনা করেছেন। আবার কোন কোন স্থানে লেখা ১০০৮ খানা উপনিষদ। আসল উপনিষদ কয়টি তা আজও আমি জানি না।  আল্লাহপনিষদও আজকাল ব্যাসদেবের রচনা বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। তো আমার ইস্কনি প্রভু বলেছেন যে ১৮টি মহাপুরান রচনার পর উনি নাকি অমল পুরান বা ভাগবত রচনা করেন। তাহলে ১৮ পুরানের মাঝে তো ভাগবত একটি। তাহলে ১৮ পুরান রচনার পর উনি আবার কোন ভাগবত রচনা করেন? আমার মাথায় ঢুকছে না।

তো উনার স্লিপ অফ টাং হয়েছে মানে ১৭ এর স্থানে প্রভু উত্তেজনা বসত ১৮ বলে ফেলেছেন মেনে আমি উনার কথা মেনে নিচ্ছি। আর ১৮ নাম্বার পুরান হিসাবে ভাগবত কে মেনে নিচ্ছি। এবার দেখি শাস্ত্র কি বলে? আসুন শুরু করা যাক।

প্রথমেই উনাদের প্রানপ্রিয় ভাগবত পুরানে দেখি।

ভাগবত ১২/১৩/ শ্লোক ৪-১০



 

আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি যে বিভিন্ন পুরানের শ্লোক সংখ্যা দেয়া হয়েছে । এখানে ৪ এবং ৫ নং শ্লোক খেয়াল করুন। ভাগবত পুরান আসছে ৫ নম্বরে। ব্রহ্ম, পদ্ম, বিষ্ণু, শিব এবং এরপর ভাগবত। মানে ভভাগবত পুরান মতেই ভাগবত ৫ নম্বর পুরান। মানে ১৭ পুরান পরে ১৮ নম্বরে গিয়ে ইহা রচনা হয় নাই। শুধু এখানেই না আরও আছে।

আসুন বিষ্ণু পুরানের ৩য় অংশের, ষষ্ঠ অধ্যায়, ২১-২৫ নম্বর শ্লোকে তাকাই।




স্ক্রীনশট খেয়াল করুন। এইখানে স্পষ্ট বলা আছে যে কোন পুরান কিভাবে রচনা হয়েছে। তার আগে ২০ নম্বর শ্লোক দেখে নেই। পুরানজ্ঞ পুরুষ ১৮ টি পুরানের কথা বলেন এর মধ্যে প্রাচীনতম হল ব্রহ্ম পুরান। ব্রহ্ম, পদ্ম, বিষ্ণু, শিব এবং এরপর ভাগবত এখানেও তাই। তাহলে লেটেষ্ট কি? এখানে বা আগের শ্লোক মতে ব্রম্মান্ড পুরান হল ১৮নং পুরান। তাহলে আমার কৃৈষ্ণব প্রভুজি কি বলেছিলেন? আর এখানে কি দেখতে পাচ্ছি?
এরপর শেষে আসছি লিঙ্গ পুরানে। যা ১৮ পুরানের একটি। লিঙ্গ পুরানের পূর্বভাগের ৩৯ তম অধ্যায়, ৬১- ৬৩ নং শ্লোক পড়ে নিতে পারেন।


সেখানেও বলা হচ্ছে একই কথা। ভাগবত পুরান এখানেও পঞ্চম। আর সর্বশেষ পুরানের নাম এখানেও ব্রহ্মাণ্ড পুরান।    

তাহলে দেখতে পাচ্ছি সকল পুরান একই কথা বলছে। বিষ্ণু পুরানে তো স্পষ্ট করে বলেই দেয়া হচ্ছে যে প্রথমে রচনা  হয়েছিল ব্রহ্ম পুরান, এরপরে পদ্ম, বিষ্ণু, শিব এরপর ভাগবত। মানে সেখানে রচনা পর্জন্ত ক্রনলজিকাল অর্ডারে বলেই দেয়া হয়েছে। এমনকি নারদ পুরানও যদি ঘেটে দেখেন তাহলে পাবেন একই কথা। একই লিষ্ট। কোথাও লেখা নেই যে সর্বশেষ হল ভাগবত পুরান। সকল স্থানেই সর্বশেষ ব্রহ্মাণ্ড পুরানকে বলা হয়েছে।

তাহলে প্রমানিত হল যে জনৈক কৃৈষ্ণব যে মিথ্যা এবং নিজের মনের বানোয়াট কথা বলছেন। উনাদের যে দাবী মিথ্যা তা পুরান থেকেই প্রমান হল। এবার উনারা কি দেখাতে পারবেন যে সর্বশেষ পুরান হল ভাগবত পুরান। ভন্ড ইস্কন তথা কৃৈষ্ণব থেকে সাবধান হন। 

হর হর মহাদেব। 


Friday, July 17, 2020

শিবলিঙ্গ পূজার সূত প্রকরণ ও তার তাৎপর্য

স্থান :- নদী অথবা পুকুরের ধারে অথবা পর্বতে অথবা বনে অথবা শিবালয়ে অথবা কোনাে পবিত্র স্থানে শিবলিঙ্গ নির্মাণ করে তার পূজা করা উচিত।

কাল :- যেকোনো শুভদিন।

পাত্র :- ব্রাহ্মণ থেকে শূদ্র সবার জন্য প্রযোজ্য। ভক্তকে নিজেই সমস্ত ক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, এছাড়া অতিরিক্ত ভাবে কোনো পুরোহিতের প্রয়োজন নেই৷

তথ্যসূত্র :- উল্লেখিত বিধিটি শিবমহাপুরাণের অন্তর্গত বিদ্যেশ্বরসংহিতার ২০ নং অধ্যায় থেকে সংগৃহীত৷ বিধিটিকে আরো সহজ ভাবে তুলে ধরার জন্য লেখক বিধির নিচে সেই অংশের তাৎপর্য যোগ করেছেন মাত্র, মূল অংশের কোনো পরিবর্তন করেননি।

পুরাণে উল্লেখিত প্রকরণ ও তার তাৎপর্য :-

সূতদেব বলেন - ব্রাহ্মণগণ! এখানে বৈদিক বিধিতে যে পূজার ক্রম বলা হয়েছে, তাকে পূর্ণ ভাবে সম্মান করে আমি পূজার আর একটি নিয়ম জানাচ্ছি, যা উত্তম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সর্বসাধারণের জন্য উপযুক্ত। মুনিবরগণ! পার্থিব লিঙ্গের পূজা ভগবান শিবের নামে বলা হয়েছে। সেই পূজা সমস্ত অভীষ্ট প্রদানকারী। আমি তা বলছি, শােনাে!

হরাে মহেশ্বরঃ শম্ভুঃ শূলপাণিঃ পিনাকধৃক। শিবঃ পশুপতিশ্চৈব মহাদেব ইতি ক্ৰমাৎ৷৷  মৃদাহরণসংঘট্টপ্রতিষ্ঠাহ্বানমেব চ। স্নপনং পূজনং চৈব ক্ষমস্বেতি বিসর্জনম।। ওঁকারাদিচতুর্থ্যন্তৈর্নমােহন্তৈর্নামভিঃ ক্ৰমাৎ। কর্তব্যাশ্চ ক্রিয়াঃ সর্বা ভক্ত্যা পরময়া মুদা৷৷

(শিবপুরাণ, বি .২০।৪৭ - ৪৯)

অর্থ্যাৎ হর, মহেশ্বর, শম্ভু, শূলপাণি, পিনাকধৃক, শিব, পশুপতি ও মহাদেব — শিবের এই আটটি নাম বলা হয়েছে। প্রত্যেক নামের আগে ওঁকার এবং শেষে চতুর্থী বিভক্তির সঙ্গে ‘নমঃ' পদ দিয়ে অত্যন্ত আনন্দ এবং ভক্তিভাব সহকারে পূজা সম্বন্ধীয় কাজ সম্পন্ন করা উচিত।



এর মধ্যে প্রথম নামে অর্থাৎ 'ওঁ হরায় নমঃ' উচ্চারণ করে পার্থিব লিঙ্গ তৈরি করার জন্য মাটি আনবে।

[তাৎপর্য - উক্ত মন্ত্রটি জপ করতে করতে শুদ্ধ স্থান থেকে মাটি নিয়ে আসতে হবে এবং পূজা নদী বা পুকুরের ধারে, পর্বতে, বনে, শিবালয়ে অথবা কোনাে পবিত্র স্থানেই করা উচিত।]

দ্বিতীয় নাম অর্থাৎ 'ওঁ মহেশ্বরায় নমঃ' উচ্চারণ করে লিঙ্গ নির্মাণ করবে।

[তাৎপর্য - উক্ত মন্ত্রটি মনে মনে উচ্চারণ করতে হবে এবং মাটির দলা দিয়ে শিবলিঙ্গের নির্মাণ করতে হবে।]

পরে 'ওঁ শম্ভবে নমঃ' বলে সেই পার্থিব লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করবে।

[তাৎপর্য - যে স্থানে পূজা হবে সবার প্রথমে তার ক্ষেত্রশুদ্ধি করতে হবে, এরজন্য হাতে কিছুটা পঞ্চামৃত নিয়ে উক্ত মন্ত্রটি উচ্চারণ করতে করতে সেই স্থানে প্রক্ষেপ করতে হবে। এরপর সেখানে একই মন্ত্র দ্বিতীয়বার উচ্চারণ করতে করতে নির্মিত শিবলিঙ্গটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।]

তারপর ‘ওঁ শূলপাণয়ে নমঃ' বলে সেই পার্থিব লিঙ্গে ভগবান শিবের আবাহন করবে।

[তাৎপর্য - আহ্বান দুই প্রকারের হয়, এক ভৌতিক অপরটি আধ্যাত্মিক। তাই সবার প্রথমে ডান হাতের মধ্যমা আঙুলটিকে শিবলিঙ্গের লিঙ্গ ভাগে স্পর্শ করে উক্ত মন্ত্রটি মনে মনে পাঠ করতে হবে। এরপর ধ্যানমগ্ন অবস্থায় উক্ত মন্ত্রটি আবার মনে মনে পাঠ করতে হবে এবং মনে মনে ভগবান শিবের কাছে প্রার্থনা করতে হবে তিনি জাগরিত হন। মহাদেব সর্বব্যাপী আবার জীবের অন্তরেও বিদ্যমান, তার সর্বব্যাপী স্বরূপ যজ্ঞের মাধ্যমে পূজিত হয় এবং প্রতীকের মাধ্যমে অন্তরস্থ স্বরূপ। এই আহ্বান প্রক্রিয়ার তাৎপর্য নিজ মনকে স্থির করে, তার চিত্তশুদ্ধি করে, কেন্দ্রীভূত করে, অন্তরস্থ মহাদেবের জাগরণ। এই জাগরিত মহাদেবের প্রতীক হল মাটির তৈরি বিগ্রহটি তথা শিবলিঙ্গটি। তাই অন্তরস্থ মহাদেব জাগরিত হলে, মাটির তৈরি বিগ্রহও উপাসনা যোগ্য হয়, নচেৎ নয়।]

'ওঁ পিনাকধৃষে নমঃ' বলে সেই শিবলিঙ্গকে স্নান করাবে।

[তাৎপর্য - উক্ত মন্ত্রটি জপ করতে করতে শিবলিঙ্গের উপরে জল অথবা দুধ অথবা পঞ্চামৃত অর্পণ করবে।]

'ওঁ শিবায় নমঃ' বলে তাঁর পূজা করবে।

[তাৎপর্য - সুগন্ধি দ্রব্য, ধূপ, দীপ ও পুষ্প দ্বারা নির্মিত শিবলিঙ্গের পূজা করবে, উক্ত মন্ত্রটি উচ্চারণ করতে করতে৷]

পরে ‘ওঁ পশুপতয়ে নমঃ' বলে ক্ষমা প্রার্থনা চাইবে এবং শেষে ‘ওঁ মহাদেবায় নমঃ' বলে আরাধ্য দেবতাকে বিসর্জন দেবে।

[তাৎপর্য - আমরা বর্তমান দিনের সাধারণ মানুষেরা প্রাচীন ঋষিমুনিদের ন্যায় অথবা শুদ্ধ শৈব সাধকদের ন্যায় অতোটা তত্ত্বজ্ঞ নই! তাই পূজার নিয়মাচার পালনে কোনো ত্রুটি হতে পারে, এরজন্য পূজার শেষে উক্ত মন্ত্রটি উচ্চারণ করে মনে মনে ভগবানের কাছে ক্ষমা চাইবে৷ এরপর সমগ্র ক্রিয়া সম্পন্ন হলে পূজা করা শিবলিঙ্গটি কোনো জলাশয়ে বিসর্জন দেবে দ্বিতীয় মন্ত্রটি উচ্চারণ করতে করতে।]

বিঃদ্রঃ - উল্লেখিত মন্ত্র গুলো কমপক্ষে ১১ বার এবং সর্বোচ্চ ১০৮ জপ করতে পারেন, এর মধ্যে যেটা আপনার সুবিধা হবে।


Tuesday, July 7, 2020

২০১৬ সালে আমার দেয়া সহজ শিব পূজা পদ্ধতি

শিবপূজার সাধারণ পদ্ধতি এখানে বর্ণিত হল। এই পদ্ধতি অনুসারে প্রতিদিন বা প্রতি সোমবার প্রতিষ্ঠিত শিবলিঙ্গ বা বাণেশ্বর শিবলিঙ্গে শিবের পূজা করতে পারেন। যাঁরা ‘সোমবার ব্রত’ করেন, তাঁরাও এই পদ্ধতি অনুসারে শিবপূজা করে ব্রতকথা পাঠ করতে পারেন। মনে রাখবেন, সাধারণ শিবলিঙ্গ ও বাণেশ্বর শিবলিঙ্গে পূজার মন্ত্র আলাদা। যাঁদের বাড়িতে বাণেশ্বর আছেন, তাঁরাই বাণেশ্বর মন্ত্রে শিবের পূজা করবেন। অন্যান্য ক্ষেত্রে সাধারণ শিবপূজার মন্ত্রেই পূজা করবেন। শিবরাত্রির দিন বিশেষভাবে পূজা করার নিয়ম আছে। সেই পদ্ধতি পরে দেওয়া হবে।
সকালে সূর্যোদয়ের তিন ঘণ্টার মধ্যে পূজা সেরে নেওয়াই উচিত। একান্ত অসমর্থ হলে খেয়াল রাখতে হবে যেন বেলা বারোটার মধ্যেই পূজা সেরে ফেলা যায়। তারপর সকালের পূজা করা উচিত নয়। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তি ছাড়া অন্যেরা কিছু না খেয়েই পূজা করবেন। সকালে স্নান ও আহ্নিক উপাসনা সেরে শিবপূজায় বসবেন। প্রথমে পূজার সামগ্রীগুলি একত্রিত করে গুছিয়ে নিন। প্রতিদিন শিবপূজা করলে অনেক সময় ফুল-বেলপাতা ইত্যাদি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। সেক্ষেত্রে ওই সব উপাচারের নাম ও মন্ত্র উচ্চারণ করে সামান্যার্ঘ্য (জলশুদ্ধি) জল দিয়ে পূজা করলেই চলে। ধূপ ও প্রদীপ জ্বেলে নিন। শিব, শ্রীগুরু ও ইষ্টদেবতাকে প্রণাম করে তিন জনকে অভিন্ন চিন্তা করতে করতে যথাশক্তি দীক্ষামন্ত্র জপ করবেন। তারপর করজোড়ে এই মন্ত্রটি পাঠ করবেন—
ওঁ  সর্বমঙ্গলমাঙ্গল্যং বরেণ্যং বরদং শুভম্।
নারায়ণং নমস্কৃত্য সর্বকর্মাণি কারয়েৎ।।

আচমন

ডান হাতের তালু গোকর্ণাকৃতি করে মাষকলাই ডুবতে পারে এই পরিমাণ জল নিয়ে ‘ওঁ বিষ্ণু’ মন্ত্রটি পাঠ করে পান করুন। এইভাবে মোট তিন বার জলপান করে আচমন করার পর হাত জোড় করে এই মন্ত্রটি পাঠ করুন—

ওঁ তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ

দিবীব চক্ষুরাততম্।

ওঁ অপবিত্রঃ পবিত্রো বা সর্বাবস্থাং গতোঽপি বা।

যঃ স্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষং স বাহ্যাভ্যন্তরঃ শুচিঃ।।

আচমন ২ প্রকার তান্ত্রিক (শাক্ত) এবং বৈষ্ণব নিম্নে শাক্ত পদ্ধতি দেয়া হল:



প্রতি আচমন শেষে বিষ্ণু স্মরণ করতে হয়। নিম্নে অব্রাহ্মণদের বিষ্ণু স্মরণ দেয়া হল। বলা বাহুল্য এই আচমন শাক্ত এবংবৈষ্ণব আলাদা হলেও

ওঁ তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ

দিবীব চক্ষুরাততম্।

ওঁ অপবিত্রঃ পবিত্রো বা সর্বাবস্থাং গতোঽপি বা।

যঃ স্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষং স বাহ্যাভ্যন্তরঃ শুচিঃ।। এই মন্ত্র আচমন শেষে বিষ্ণু স্মরণ অবশ্যই করতে হবে। অনেকেই বলবেন ২ বার এক মন্ত্র কেন পড়বো। কারণ প্রথমবার আপনি আচমন করেছেন এরপর আপনি বিষ্ণুকে স্মরণ করেছেন। ২ ক্ষেত্রে মন্ত্র এক হলেও কার্য ভিন্ন ভিন্ন।




জলশুদ্ধি

তাম্রপাত্রে বা কোশায় গঙ্গাজল বা পরিষ্কার জল নিয়ে মধ্যমা দ্বারা সেই জল স্পর্শ করে এই মন্ত্রটি পাঠ করুন—

ওঁ  গঙ্গে চ যমুনে চৈব গোদাবরি সরস্বতি।

নর্মদে সিন্ধু-কাবেরি জলেঽস্মিন সন্নিধিং কুরু।

সূর্যমণ্ডল থেকে সকল তীর্থ সেই পার্শ্বস্থ জলে এসে উপস্থিত হয়েছেন এই চিন্তা করতে করতে সেই জলে একটি ফুল দিয়ে তীর্থপূজা করুন। তীর্থপূজার মন্ত্রটি হল—

ওঁ  এতে গন্ধপুষ্পে তীর্থেভ্যো নমঃ।

এরপর এই জল সামান্য কুশীতে নিয়ে পূজাদ্রব্যের উপর ও নিজের মাথায় ছিটিয়ে দিন।

আসনশুদ্ধি

যে আসনে বসেছেন, সেই আসনটিতে একটি ফুল দিয়ে হাত জোড় করে এই মন্ত্রটি পাঠ করুন—

ওঁ পৃথ্বি ত্বয়া ধৃতা লোকা দেবি ত্বং বিষ্ণুনা ধৃতা।

ত্বঞ্চ ধারায় মাং নিত্যং পবিত্রং কুরু চাসনম্।।

পুষ্পশুদ্ধি

পুষ্প স্পর্শ করে এই মন্ত্রটি পাঠ করুন—

ওঁ পুষ্পে পুষ্পে মহাপুষ্পে সুপুষ্পে পুষ্পসম্ভবে। পুষ্পাচয়াবকীর্ণে চ হুঁ ফট্ স্বাহা।

ভূতশুদ্ধি

হাত জোড় করে মনে মনে এই চারটি মন্ত্র পাঠ করুন—

ওঁ ভূতশৃঙ্গাটাচ্ছিরঃ সুষুম্নাপথেন জীবশিবং

পরমশিবপদে যোজয়ামি স্বাহা ।। ১ ।।

ওঁ যং লিঙ্গশরীরং শোষয় শোষয় স্বাহা ।। ২ ।।

ওঁ রং সংকোচশরীরং দহ দহ স্বাহা ।। ৩ ।।

ওঁ পরমশিব সুষুম্নাপথেন মূলশৃঙ্গাটমুল্লসোল্লস

জ্বল জ্বল প্রজ্জ্বল প্রজ্জ্বল সোঽহং হংসঃ স্বাহা ।। ৪ ।।

প্রাণায়ম

‘ওঁ’ বা গুরুপ্রদত্ত বীজমন্ত্রে (বাণেশ্বর শিবের ক্ষেত্রে ‘ঐঁ’ মন্ত্রে) চার বার ৪/১৬/৮ ক্রমে পূরক, কুম্ভক ও রেচক করে প্রাণায়ম করুন।

শ্রীগুর্বাদিপূজা

এরপর একটি একটি করে গন্ধপুষ্পদ্বারা শ্রীগুরু ও অন্যান্য দেবতাদের পূজা করুন। মন্ত্রগুলি হল—

ঐঁ এতে গন্ধপুষ্পে শ্রীগুরবে নমঃ।

ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে গণেশাদিপঞ্চদেবতাভ্যো নমঃ।

ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে আদিত্যাদিনবগ্রহেভ্যো নমঃ।

ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ইন্দ্রাদিদশদিকপালেভ্যো নমঃ।

ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে কাল্যাদিদশমহাবিদ্যাভ্যো নমঃ।

ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে মৎস্যাদিদশাবতারেভ্যো নমঃ।

ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে মৎস্যাদিদশাবতারেভ্যো নমঃ।

ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে সর্বেভ্যো দেবেভ্যো নমঃ।

ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে সর্বাভ্যো দেবীভ্যো নমঃ।

ধ্যান

এরপর একটি ফুল নিয়ে (সম্ভব হলে কূর্মমুদ্রায় ফুলটি নেবেন) শিবের ধ্যান করবেন। শিবের সাধারণ ধ্যানমন্ত্র ও বাণেশ্বর ধ্যানমন্ত্র দুটি নিচে দেওয়া হল—

(সাধারণ ধ্যানমন্ত্র)—

ওঁ ধ্যায়েন্নিত্যং মহেশং রজতগিরিনিভং চারুচন্দ্রাবতংসং রত্নাকল্পোজ্জ্বলাঙ্গং পরশুমৃগবরাভীতিহস্তং প্রসন্নম্।

পদ্মাসীনং সমন্তাৎ স্তুতমমরগণৈর্ব্যাঘ্রকৃত্তিং বসানং বিশ্বাদ্যং বিশ্ববীজং নিখিলভয়হরং পঞ্চবক্ত্রং ত্রিনেত্রম্।।

(বাণেশ্বর শিবের ধ্যান)—

ঐঁ প্রমত্তং শক্তিসংযুক্তং বাণাখ্যঞ্চ মহাপ্রভাং।

কামবাণান্বিতং দেবং সংসারদহনক্ষমম্।।

শৃঙ্গারাদি-রসোল্লাসং বাণাখ্যং পরমেশ্বরম্।

এবং ধ্যাত্বা বাণলিঙ্গং যজেত্তং পরমং শিবম্।।

স্নান

এরপর শিবকে স্নান করাবেন। গঙ্গাজলে শুদ্ধজলে চন্দন মিশ্রিত করে ঘণ্টা বাজাতে বাজাতে শিবকে স্নান করাবেন এই মন্ত্রে শিবকে স্নান করাবেন—

ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্।

উর্বারুকমিব বন্ধনান্মৃত্যোর্মুক্ষীয় মাঽমৃতাৎ।।

ওঁ  তৎপুরুষায় বিদ্মহে মহাদেবায় ধীমহি

তন্নো রুদ্রঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ।

বিঃ দ্রঃ সাধারণ শিবলিঙ্গ ও বাণেশ্বর—উভয়ক্ষেত্রেই স্নান মন্ত্র এক।

প্রধান পূজা

স্নানের পর আরেকবার আগের ধ্যানমন্ত্রটি পাঠ করে শিবের ধ্যান করবেন। তারপর মনে মনে উপচারগুলি শিবকে উৎসর্গ করে মানসপূজা করবেন। মানসপূজার পর একে একে উপচারগুলি বাহ্যিকভাবে শিবকে সমর্পণ করবেন।

(সাধারণ শিবলিঙ্গে দশোপচার পূজার মন্ত্র)—

ওঁ নমো শিবায় এতৎ পাদ্যং শিবায় নমঃ। (সামান্যার্ঘ্য জল একটু দিন)

ওঁ নমো শিবায় এষঃ অর্ঘ্যঃ শিবায় নমঃ। (আতপচাল ও দূর্বা একটি সচন্দন বেলপাতায় করে ফুল সহ দিন)

ওঁ নমো শিবায় ইদমাচমনীয়ং শিবায় নমঃ। (সামান্যার্ঘ্য জল একটু দিন)

ওঁ নমো শিবায় ইদং স্নানীয়ং শিবায় নমঃ। (সামান্যার্ঘ্য জল একটু দিন)

ওঁ নমো শিবায় এষ গন্ধঃ শিবায় নমঃ। (চন্দনের ফোঁটা দিন)

ওঁ নমো শিবায় ইদং সচন্দনপুষ্পং শিবায় নমঃ। (একটি চন্দনমাখানো ফুল দিন)

ওঁ নমো শিবায় ইদং সচন্দনবিল্বপত্রং শিবায় নমঃ। (একটি চন্দনমাখানো বেলপাতা দিন)

ওঁ নমো শিবায় এষ ধূপঃ শিবায় নমঃ। (ধূপটি শিবের সামনে তিনবার ঘুরিয়ে দেবতার বাঁদিকে, অর্থাৎ নিজের ডানদিকে রাখুন)

ওঁ নমো শিবায় এষ দীপঃ শিবায় নমঃ। (প্রদীপটি শিবের সামনে তিনবার ঘুরিয়ে দেবতার ডানদিকে, অর্থাৎ নিজের বাঁদিকে রাখুন)

ওঁ নমো শিবায় ইদং সোপকরণনৈবেদ্যং শিবায় নিবেদয়ামি।

(নৈবেদ্যের উপর অল্প সামান্যার্ঘ্য জল ছিটিয়ে দিন)

ওঁ নমো শিবায় ইদং পানার্থোদকং শিবায় নমঃ।

(পানীয় জলের উপর অল্প সামান্যার্ঘ্য জল ছিটিয়ে দিন)

ওঁ নমো শিবায় ইদং পুনরাচমনীয়ং শিবায় নমঃ।

(সামান্যার্ঘ্য জল একটু দিন)

ওঁ নমো শিবায় ইদং তাম্বুলং শিবায় নমঃ। (একটি পান দিন, অভাবে সামান্যার্ঘ্য জল একটু দিন।)

ওঁ নমো শিবায় ইদং মাল্যং শিবায় নমঃ। (মালা থাকলে মালাটি পরিয়ে দিন)

(বাণেশ্বর শিবলিঙ্গে দশোপচার পূজার মন্ত্র)—

বিঃ দ্রঃ উপচার দেওয়ার নিয়ম সাধারণ শিবলিঙ্গে পূজার অনুরূপ।

ঐঁ এতৎ পাদ্যং বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।

ঐঁ এষঃ অর্ঘ্যঃ বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।

ঐঁ ইদমাচমনীয়ং বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।

ঐঁ ইদং স্নানীয়ং বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।

ঐঁ এষ গন্ধঃ বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।

ঐঁ ইদং সচন্দনপুষ্পং বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।

ঐঁ ইদং সচন্দনবিল্বপত্রং বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।

ঐঁ এষ ধূপঃ বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।

ঐঁ এষ দীপঃ বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।

ঐঁ ইদং সোপকরণনৈবেদ্যং বাণেশ্বরশিবায় নিবেদয়ামি।

ঐঁ ইদং পানার্থোদকং বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।

ঐঁ ইদং পুনরাচমনীয়ং বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।

ঐঁ ইদং তাম্বুলং বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।

ঐঁ ইদং মাল্যং বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।

পুষ্পাঞ্জলি

সচন্দন পুষ্প ও বেলপাতা নিয়ে এই মন্ত্রে এক, তিন অথবা পাঁচ বার অঞ্জলি দেবেন—

(সাধারণ পুষ্পাঞ্জলি)—

ওঁ নমো শিবায় এষ সচন্দনপুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলি নমো শিবায় নমঃ।

(বাণেশ্বর শিবের পুষ্পাঞ্জলি)—

ঐঁ এষ সচন্দনপুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলি বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।

গৌরীপূজা

এইভাবে শিবপূজা শেষ করে শিবলিঙ্গের গৌরীপীঠ বা পিনেটে একটি ফুল দিয়ে এই মন্ত্রে গৌরীর পূজা করুন—

ওঁ হ্রীঁ এতে গন্ধপুষ্পে গৌর্যৈ নমঃ।

অষ্টমূর্তি পূজা

বাণেশ্বর শিবে অষ্টমূর্তির পূজা করতে হয় না। কিন্তু অন্যান্য শিবলিঙ্গের ক্ষেত্রে করতে হয়। একটি ফুল দিয়ে এই মন্ত্রে অষ্টমূর্তির পূজা করুন—

ওঁ  এতে গন্ধপুষ্পে অষ্টমূর্তিভ্যো নমঃ।

জপ ও জপসমর্পণ

এরপর ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ বা দীক্ষামন্ত্র ১০৮ বার জপ করে এই মন্ত্রে এক গণ্ডুষ জল শিবের নিচের দিকের ডান হাতের উদ্দেশ্যে প্রদান করুন—

ওঁ গুহ্যাতিগুহ্যগোপ্তা ত্বং গৃহাণাস্মৎকৃতং জপম্।

সিদ্ধির্ভবতু মে দেব ত্বৎপ্রসাদান্মহেশ্বর।।

প্রণাম

এইবার এই মন্ত্রটি পড়ে সাষ্টাঙ্গে শিবকে প্রণাম করে পূজা সমাপ্ত করুন—

(সাধারণ শিবলিঙ্গের ক্ষেত্রে)—

ওঁ নমঃ শিবায় শান্তায় কারণত্রয়হেতবে।

নিবেদয়ামি চাত্মানং গতিস্তং পরমেশ্বরম্।।

(বাণেশ্বর শিবের ক্ষেত্রে)—

ওঁ বাণেশ্বরং নরকার্ণবতারণায়

জ্ঞানপ্রদায় করুণাময়সাগরায়।

কর্পূরকুন্দধবলেন্দুজটাধরায়

দারিদ্র্যদুঃখদহনায় নমঃ শিবায়।।

 

সবশেষে

মন্ত্রহীনং ক্রিয়াহীনং ভক্তিহীনং মহেশ্বরো যত পুজিতং ময়া দেব,পরিপুর্ন্নং তদস্তুমে আবাহনং ন জনামি,নৈব জনামি পুজনম বিসর্জনং ন জনামি,ক্ষমশ্বো মহেশ্বরো

বিঃ দ্রঃ এটি সাধারণ নিয়ম। দীক্ষাগুরু বিশেষ নিয়ম কিছু বলে দিলে, সেই মতো পূজা করবেন। নতুবা এই নিয়মেই পূজা করা যেতে পারে।

—ইতি শিবপূজাপদ্ধতি সমাপ্ত—


'অচিন্ত্যভেদাভেদ' পদের কতিপয় যৌক্তিক অসঙ্গতি বিংশ শতাব্দীর অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি পর্যালোচনা

  ভূমিকা গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনের কেন্দ্রীয় মতবাদ হলো 'অচিন্ত্যভেদাভেদ'। শ্রীচৈতন্যের ভাবধারা থেকে উদ্ভূত এই দার্শনিক অবস্থানটি ঈশ্...

Popular Posts