আমরা অনেক সময়ে দামী scent কিনে, ব্যবহার করে, মনোক্ষুণ্ণ হই, কারণ তাঁর গন্ধ বেশিক্ষন থাকছে না বলে। এর কারণ হিসেবে আগে আপনাকে জানতে হবে আপনি কোন ধরনের scent ক্রয় করেছেন।Scent বা fragrance কে তাঁর strength/ক্ষমতা অনুযায়ী নিম্নলিখিত ভাবে ভাগ করা হয়ে থাকে।
উপরোক্ত ছবি দেখে আপনি নিশ্চই একটা ধারণা পেয়েছেন। Fragrance কে মোটামুটিভাবে, পারফিউম ওয়েলের ঘনত্বের ওপর বিচার করে, এই চার ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
Eau de Parfum এ, এই ওয়েল থাকে মোটামুটি ১০–২০%, তাই এর গন্ধ প্রায় ৭-৮ ঘন্টা থাকে। Eau de Toilette, যেটা সবথেকে widely ব্যবহ্রত হয়, এতে পারফিউম ওয়েল থাকে ওই ৫-১৫% এবং এটির ৪-৫ ঘন্টা মত গন্ধ থাকে। এরপর আসে, Eau de Cologne, এটা মূলত after shave splash, cologne। এতে পারফিউম ওয়েল থাকে ২-৪%, এবং তা ২-৩ ঘন্টার বেশী গন্ধ থাকে না।যাদের smell এলার্জি বা গন্ধ সহ্য হয় না, তাঁদের জন্য খুব mild ধরনের scent পাওয়া যায়, যাতে পারফিউম ওয়েল নামমাত্র থাকে এবং এঁকে Eau Fraiche বলা হয়।
এবার আসুন দেখেনি, Fragrance Family কে।
Fragrance কে গন্ধের বিচারে মূলত Fresh, Floral, Oriental আর Woody এই চারভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে, বাকি গুলো এদেরই derivatives।
একটা ভালো fragrance এর মূলত তিনটে note থাকে। Top, Middle/Heart আর Base।
স্প্রে করার সাথে সাথেই যে গন্ধ প্রথমেই আপনি পান, সেটাই হল Top note। Top note আসতে আসতে মিলিয়ে গেলে, অন্য যে গন্ধ আসে সেটা হল Middle। এই middle বা heart note ই হল পারফিউমের আসল গন্ধ যা top note মিলিয়ে গেলেও অনেকক্ষণ থাকে। এই দুই যখন মিলিয়ে যায়,সবশেষে থাকে Base note, যেটা আপনার নাসিকারন্ধ্র অনেক্ষন ধরে রাখে।
এবারে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, এই Top, Middle আর Base notes এ কি ব্যবহার করা হয়? নিচের ছবিটা দেখলে আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে এই ব্যাপার।
এতক্ষন যা আলোচনা করা হল, তা মূলত একটা ভালো scent তৈরীর ক্ষেত্রে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে, সেগুলো। এবার, এই ব্যবহৃত ingredients, যেটা যত দুষ্প্রাপ্য, এবং তাঁর blend বা mixing যত appropriate, সেই পারফিউমের দাম তত বেশী।
আমি বিশাল কিছু দামী পারফিউমের উদাহরণ দেব না, বরং দুটো অত্যন্ত জনপ্ৰিয় এবং বহুল ব্যবহ্রত পারফিউমের উদাহরণ দেব।
Ladies first, তাই প্রথম উদাহরণ মহিলাদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় Chanel N°5 ।
এই পারফিউম ১৯২১ সালে Coco Chanel বাজারে launch করেন এবং এর কম্পোজিশন তৈরী করেন Ernest Beaux। এবারে এক ঝলক দেখে নি, এতে ব্যবহার করা notes।
এর দাম, ১.৭ আউন্স বা ৫০ মিলি বোতলের, ১০৫ মার্কিন ডলার। আমি যখন কিনেছিলাম, তখন অবশ্য একটু কম ছিল, ৮০ ডলার মত, এক্সচেঞ্জ রেটও কম ছিল।
আমি আমার প্রাক্তন প্রেমিকাকে এটা দিয়েছিলাম, ও খুব চেয়েছিল এটা। ওকে এই পারফিউমের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে বলত, মনে হয় সদ্য বৃষ্টিতে ভেজা কোন বাগানের মধ্যে দিয়ে হেঁটে গেলে যেমন লাগে, এর গন্ধ নাকি ওইরকম।
ছেলেদের জন্য আমার নিজের ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো পারফিউম ছিল, Dior Fahrenheit।
১.৭ আউন্স বা ৫০ মিলি বোতলের দাম এখন বোধহয় ৭৫ মার্কিন ডলার।
‘পাগড়ি’ শব্দটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটু সেকেলেই বলা চলে। কিন্তু ইতিহাসের বইয়ের পাতায় আর বিয়ে বাড়িতে বরের মাথায় পাগড়ির শোভা এখনও কোন অংশে মলিন নয়। সে প্রেক্ষিতে এই পাগড়ির ছবি আমাদের সকলের চোখেই মূর্তিমান। সে কাবুলিওয়ালা হোক আর কোন দেশের রাজাই হোক, পাগড়ির বাহ্যিক জৌলুস কোন অংশেই কম নয়। দেশ বা অঞ্চলভেদে পাগড়ি বাঁধার নিয়ম-কানুন আলাদা, ভিন্ন তার কাপড়ের বুনন, রঙের বৈচিত্রতাও অপার সেখানে।
বিভিন্ন সিনেমাতে নায়কদের মাথায় পাগড়ির শোভাবর্ধনকারক চিত্র; Image Source: http://nguoitapviet.info
আভিধানিক অর্থের দিকে লক্ষ্য করলে মনে হবে এ তো মাথায় এক ফালি কাপড় জড়ানো ছাড়া অন্যকিছু নয়। কিন্তু তা বললে চলবে কেন? এর পেছনের ইতিহাস এত মলিন নয়। সেই প্রাচীনকাল থেকে পাগড়ি ব্যবহারের হদিস মেলে। মরুভূমি অঞ্চলে সূর্যের তাপ থেকে রক্ষা পেতে আরব অঞ্চলে পাগড়ির ব্যবহার শুরু হয়। আঁকা সংস্কৃতির বদৌলতে আপাতপক্ষে এমন মনেই হতে পারে যে পাগড়ি শুধু শিখ বা পাঞ্জাবিদের মধ্যেই প্রচলিত। তা কিন্তু নয়। প্রায় প্রতিটি ধর্ম ও সংস্কৃতির অনুগামী ব্যক্তিদের মধ্যে পাগড়ির ব্যবহার রয়েছে। প্রাচীন ব্যাবিলন সভ্যতার আমলে ব্যাবিলনীয়রা যেমন পাগড়ি ব্যবহার করতেন, তেমনি খ্রিস্টধর্ম, ইসলাম এবং হিন্দুধর্মের মানুষদের মধ্যেও পাগড়ির ব্যাপক ব্যবহার দর্শনীয়।
মুসলমানদের পাগড়ির সঙ্গে একটি ঐতিহ্যগত সম্পর্ক রয়েছে। আরব দেশে জাতীয় পোশাকের অপরিহার্য অংশ এই পাগড়ি। পরে তা অন্যান্য মুসলিম দেশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় প্রত্যেক মুসলিম শাসকই পাগড়ি পরতেন, পরবর্তী সময় মুসলিম সামরিক কর্মচারী এবং বেসামরিক লোকজনও পাগড়ি পরতে শুরু করেন।
প্রাচীনকালে আইন-আদালত যখন চালু হয়নি কিংবা পুলিশ-প্রশাসন বলতে তেমন কিছু ছিল না তখন শত্রু বা অপরাধীদের ধরে আনার জন্য এই পাগড়ি ব্যবহার করা হত। রাজস্থানের অধিকাংশ লোকেরা পাগড়িকে একটি ছোট স্টোর হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। রাজস্থানীরা তাদের বিশেষ ‘গাভারিয়া’ পাগড়ির ভিতর আয়না, চিরুনি, তামাক প্রভৃতি অনেক ছোটখাটো জিনিস রেখে ঘোরাফেরা করেন।
পাগড়ির আকার আয়তনের দিক থেকে তুরস্কের নাম প্রথমে চলে আসে। একসময় তুরস্কের সম্রাটদের পাগড়ি বিশাল আকারের জন্য বিখ্যাত ছিল। উচ্চ পদস্থ ও অভিজাত সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা বিশাল গম্বুজ আকৃতির পাগড়ি ব্যবহার করতেন। এসব পাগড়ি সাধারণত পাতলা বেতের তৈরি গোলাকৃতির কাঠামোর হত, ভিতরটা থাকত ফাঁকা। আর কাঠামোর উপর দামী কাপড় জড়িয়ে শিল্প সমৃদ্ধভাবে তৈরি হত এই পাগড়ি। এই পাগড়ির শীর্ষদেশটির নাম ‘সারিক’।
তুর্কি অটোম্যান সুলতান সুলেমান বিখ্যাত ছিলেন তার বিশালাকার পাগড়ির জন্য। সুলতানের পাগড়িটি দেখতে ছিল অনেকটা কুমড়ো সদৃশ। প্রায় ৪-৫ ফুট উঁচু ছিল এই পাগড়ি। দূর থেকে দেখলে মনে হত একটি বিশাল হাড়ি মাথার উপরে চাপানো রয়েছে। ষোড়শ শতাব্দীতে তুরস্কের সুলতান যুবরাজ সালিম প্রায় ৩৯ ফুট দামী মখমলের কাপড় দিয়ে তৈরি পাগড়ি ব্যবহার করতেন।
মোঘল সাম্রাজ্যে পাগড়ির কদর বিশেষভাবে লক্ষনীয়। মোঘল সম্রাট বাবর যখন আগ্রা দখল করেন তখন সেই রাজ্যের রাজাকে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদানের জন্য এক মহামূল্যবান হিরে উপহার পান। বাবর সেই হিরে পাগড়ির শীর্ষদেশে ধারন করতেন যা তাকে আরও বেশি মহিমান্বিত করে রাখতো।
পরবর্তীতে মোঘল সম্রাট শাহ রঙ্গিলা (১৭১৯-১৭৪৮) অত্যন্ত মহার্ঘ ‘কোহিনুর’ হিরাটিকে তার পাগড়ির সামনের দিকে লাগিয়ে রাখতেন। তারও পরবর্তী সময়ে নাদির শাহ কৌশলে ‘পাগড়ির বিনিময় সৌহার্দের প্রতীক’ এই ছলে পাগড়ি বিনিময় করেন এবং কোহিনুরটি হস্তগত করেন।
তুখোড় সম্রাট আহমদ শাহ আহমদ শাহ দুররানি; Image Source: Wikimedia
খ্রিস্টান এবং ইহুদীদের মধ্যেও পাগড়ি ব্যবহারের প্রচলন ছিল। হারুন-উর রশীদের সময় খ্রীস্টানদের পাগড়ি ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়। তবে শর্ত ছিল যে, তারা শুধু হলুদ রঙের পাগড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। কোনভাবেই সাদা বা অন্যকোনো রঙের পাগড়ি ব্যবহার করতে পারবেন না। অন্যদিকে ফাতেমীয় বংশের খলিফা হাকিম খ্রীস্টানদের কালো রঙের পাগড়ি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন।
রাজস্থানের লোকদের মধ্যে আবার নানা ধরনের পাগড়ির প্রচলন রয়েছে। ১২ মাইল অন্তর অন্তর এসব এলাকার মানুষের পাগড়ির স্টাইল পরিবর্তিত হয়। এমনকি ঋতুভেদে পাগড়ির রঙও পরিবর্তিত হয়। এসব পাগড়ির নামও যেমন অদ্ভূত, তেমনি এগুলোর তৈরি এবং ব্যবহারেও বৈচিত্র্যময়তা বেশ লক্ষণীয়।
রাজস্থানের অধিবাসীদের ব্যবহৃত রঙবেরঙের পাগড়ি; Image Source: Rajasthan Diary
বসন্তকালে রাজস্থানীরা সাদা ও লালরঙের পাগড়ি পরেন যাকে বলা হয় ‘ফাল্গুনিয়া’ আর বর্ষাকালে তারা পরেন রঙিন ঢেউ খেলানো পাগড়ি। এই পাগড়িকে বলা হয় ‘লহরিয়া’। রাজস্থানীরা শুভ ও আনন্দময় অনুষ্ঠানে রঙিন, দামি সিল্কের কাপড় দিয়ে তৈরি সৌন্দর্যমন্ডিত পাগড়ি পরিধারণ করে থাকেন। তারা অনেক সময় এধরনের পাগড়িতে রঙিন চুনরি ব্যবহার করেন। তবে, দু:খ বা শোকের অনুষ্ঠানে সাদা-কালো রঙের পাগড়ি পরাই এসব এলাকার রীতি।
দেবতাকে সন্তুষ্ট করার জন্য এ স্থানের লোকদের মধ্যে ‘দেশান্তরী’ নামের পাগড়ি পরিধানের প্রচলন রয়েছে। রাজস্থানের লোকেরা সাধারণ যে পাগড়ি পরেন তা ৮০ ফুট লম্বা এবং ৮ ইঞ্চি চওড়া কাপড় দিয়ে তৈরি হয়। ‘সাফা’ নামের একরকম পাগড়ি এসব এলাকার মানুষ ব্যবহার করে থাকেন যা ৩৫ ফুট লম্বা ও ৩ ফুট চওড়া কাপড় দিয়ে তৈরি। ‘বলধিয়াভাট পাগড়ি’ নামক রাজস্থানের লোকেরা ধাতুর তৈরি এক ধরণের পাগড়ি পরিধান করেন। এটি একটি হেলমেটের মতন বস্তুর উপর বাঁধা হয়।
শিখদের মধ্যে পাগড়ি পরাটা দায়িত্ববোধের পরিচায়ক। শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে ‘শিখ পাগড়ি’ বা ‘দাসতার’ পরা বাধ্যতামূলক।
ভারত সহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে পাগড়ি বাঁধার ধরন ও ব্যবহার ভিন্নরকম। শুনলে আশ্চর্য হতে পারেন এই জেনে, পাগড়ির কাপড়, তার বাঁধার ধরন দেখে বোঝা যায় সেই ব্যক্তি কোন অঞ্চলে বাস করেন, তার পেশা বা সে কোন সমাজের প্রতিনিধি।
শিখ সম্প্রদায়ের পাগড়ি পরিধানের স্টাইল; Image Source: RDB Music Band
পাগড়ি বাঁধার বিষয়ে যোধপুরবাসীদের জুড়ি মেলা ভার। এটা যে একটা শিল্প তা এখানে এলে আপনি বুঝতে পারবেন। পাগড়ি বেঁধে দেয়ার জন্য যোধপুরে রয়েছে অনেক পাগড়ি বিশেষজ্ঞ যাদের বলা হয় ‘পাগড়ি ব্যান্ড’। জনশ্রুতি রয়েছে, এই বিশেষজ্ঞদের পূর্বসূরীরা কোন এক সময় এই এলাকার রাজ পরিবারের সদস্য ছিলেন।
রাজস্থানে পাগড়ি বাঁধা উপলক্ষে প্রতিবছর এক বড় ধরনের উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই উৎসবকে বলা হয় ‘পুষ্কর উৎসব’। এই জনপ্রিয় উৎসবে বিভিন্ন স্থান থেকে পাগড়ি বাঁধায় দক্ষ এমন প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করে।
উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতেও পাগড়ি বাঁধার এক জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের প্রচলন রয়েছে। সেই উৎসবটির নাম ‘রসম পাগড়ি’। মহীশূরের মানুষ যে পাগড়ি পরেন, সেই পাগড়ির নাম ‘মাইশোর পেতা’।
বিশ্বে বড় আকারের পাগড়ির প্রচলন রয়েছে মূলত ভারতীয়দের মধ্যে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাগড়ির রেকর্ডটাও তাই তাদেরই ঘরে। পাগড়িটি তৈরিতে ৪০০ মিটার (১৩০০ ফুট) দৈর্ঘ্যের কাপড় ব্যবহার করা হয়েছিল এবং ওজন ৩৫ ছিল কিলোগ্রাম। ভারতের উদয়পুরে ‘Bagore Ki Haveli’ মিউজিয়ামে এটি সংরক্ষিত আছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকারের পাগড়ী; Image Source: Home
পাগড়ি অনেক গুনী ও বিখ্যাত ব্যক্তিদের বিশেষত্ব হয়ে আছে। এখন এক প্রবাদ পুরুষের কথা বলব যার বাহ্যিক অবয়বে পাগড়ির এক বিশেষ স্থান আছে আর তিনি হলেন স্বামী বিবেকানন্দ। এই নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে গেরুয়া পরিহিত, মাথায় পাগড়ি দেয়া আত্মবিশ্বাসী এক দৃঢ় পুরুষ যার কণ্ঠে উচ্চারিত হয় মানবধর্মের কথা।
এভাবেই সারা পৃথিবীতে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে, ধর্মীয় বাধ্যবাধকতায়, আবার নিজেদের সামাজিক মযার্দা প্রকাশ করার জন্য পাগড়ি ব্যবহার করে আসছেন। আর এভাবেই সংস্কৃতির অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই পাগড়ি।
অর্থঃ নদীগণের মধ্যে গঙ্গা, দেবগণের মধ্যে বিষ্ণু এবং বৈষ্ণবগণের মধ্যে শম্ভু(শিব) যেরুপ শ্রেষ্ঠ, সেইরুপ পুরাণগণের মধ্যে এই শ্রীমদ্ভাগবত শ্রেষ্ঠ হইয়া থাকে। (ভাগবত- ১২/১৩/১৬)
কলির ভন্ড বৈষ্ণব যাদের আমরা কৃৈষ্ণব বলে জানি এরা সবাই মিলে পরমেশ্বর শিবের নিন্দায় মুখর হয়ে শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ হতে এই শ্লোকটি আওড়ায়। কিন্তু ভন্ড কৃৈষ্ণবগণ বার বার এই শম্ভু কে শিব বলে শিব বিদ্বেষী দক্ষের ধারাই বজায় রাখে।
আসুন দেখে নেই ভাগবত থেকে সেই শ্লোক।
উপোরক্ত স্ক্রীনশটটি গৌড়ীয় ভাষ্যে রয়েছে। তাই উনাদের বই থেকেই দেখালাম। এখানে দেখা যাচ্ছে বৈষ্ণবগণের মধ্যে শম্ভু শ্রেষ্ঠ কথাটা দেখা যাচ্ছে। যেহেতু কৃৈষ্ণবগণ অজ্ঞতার নিগুড় অন্ধকারে নিমজ্জিত তাই এরা শম্ভু শব্দের অর্থ শিব বলে জানে। কিন্তু মূর্খ লোকেরা এখানেই ভুল করে।
ভন্ড কৃৈষ্ণবেরা ঠিক এর পরের শ্লোকটা আর কাউকে দেখায় না বা পড়ে না। দেখুন স্ক্রীনশট। ভাগবত পুরাণ গৌড়ীয় ভাষ্য ১২/১৩/১৭
কাশীধাম সবথেকে শ্রেষ্ঠ তীর্থ বলা হচ্ছে। মানে শিবের সেই স্থান শ্রেষ্ঠ। পরমেশ্বর শিব যে আমাদের সকলের উপাস্য ভাগবত পুরাণ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তাছাড়া ভাগবতের স্থানে স্থানে শিব প্রশংসা আছে এবং ভাগবতেই বলা হচ্ছে শিব উপাসনা করতে।
এবার আসি বৈষ্ণব কি আসলেই শিব? শম্ভু বলতে কি আসলেই শিবকে বোঝানো হয়েছে?
এবার একটু উপ পুরাণ গুলির দিকে তাকাই। এবার কিছু অতি চালাক কৃৈষ্ণব বলবে উপপুরান মানবো কেন? বা উপরের শ্লকেই বলা হচ্ছে ভাগবত শ্রেষ্ঠ । তাহলে বাকি পুরাণ মানবো কেন? এখানে এঁদের বলে রাখি ভাগবতের মতন শিব পুরাণেও আছে যে শিব পুরাণ সর্ব শ্রেষ্ঠ । তাছাড়া উপ পুরাণের মাঝে নারদীয় পুরাণও আছে যা আপনারা মানেন। তো নারদ পুরাণের বেলায় নিয়ম উল্টে যায় আর সৌর পুরাণের বেলায় নিয়ম ?? এই ধরনের স্বেচ্ছাচারীতা মুর্খদের শোভা পায়। যাইহোক কথা না বাড়িয়ে দেখে নেই সৌর পুরাণ কি বলে।
সৌর পুরাণ ২৭/৩ দেখুন।
ভাল করে খেয়াল করে দেখুন এখানে কোন শম্ভু বৈষ্ণব? পাঠক আপনারাই বলুন শিব কি এখানে দেখতে পাচ্ছেন? বা এই শম্ভু কি শিব? আপনি বা আমি যদি আমার সন্তানের নাম বিষ্ণুপদ বা নারায়ণ রাখলে সে কি স্বয়ং নারায়ণ ? আমি যা বলছি তা যে ভুয়া না এর জন্য এর পরের শ্লোক দেখুন।
এখানে দেখাই যাচ্ছে যে শিব নামের কোন এক ব্যাক্তি বংশ পরম্পরায় ছিলেন। এখন কি কৃৈষ্ণবেরা বলবেন যে এই শিব হলেন কৈলাসপতি শিব? এখানে যে মনুর বংশ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে তা পূর্বের অধ্যায় তে বলা।
আশা করি ভাগবতের এই শম্ভু যে স্বয়ং শিব নন তা পরিষ্কার হয়েছে।
শিব নাম নিলে বা শিব নিয়ে কিছু প্রকাশ করলেই যেন কৃৈষ্ণবদের শরীর জ্বালা করে। আর করবে নাই বা কেন বলুন, কারন এরা তো দক্ষেরই অবতার এই কলিতে। এরা যে ঘোর পাপী এবং ভন্ড তা আমি না ক্ষোদ শাস্ত্র বলছে। আমার ব্লগ নিয়েও এঁদের চুলকানীর শেষ নেই। কারণ আমি যা যা লিখেছি এরা এর কিছুই উল্টাতে পারে না। তাই আমার বানান নিয়ে লেগেছে।
যাইহোক আসুন কিছু আলোচনা করা যাক এঁদের নিয়ে। প্রথমেই আসছি সৌর পুরাণ নিয়ে।
কলিকালে বৈষ্ণব চরিত্রঃ
কলিকালে মধুদর্শিতা পথানুসারী পাপিষ্ঠ বৈষ্ণব অনেক হইবে'অনন্তর জাতিভ্রষ্ট শূদ্র-ম্লেচ্ছাগণ এই বৈষ্ণব পথাবলম্বী হইবে।
(সৌরপুরাণ-৩৯/৭৯)।
বলা বাহুল্য এইখানে সমগ্র বৈষ্ণবগোষ্ঠিকে কিছু বলা হচ্ছে না। বরং ভন্ডদের নির্দেশ করতে এই কথা বলা হচ্ছে। অর্থ্যাৎ ভন্ডরা নিজেদের বৈষ্ণব বলে আখ্যায়িত করবে। কিন্তু আসলে এরা বৈষ্ণব না। এরা হল কলির চর। যারা মধু মাখা হরি নাম( আদতে শ্রী হরির নাম না) বিক্রি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে এবং মানুষকে শাস্ত্র বিমুখ তথা ধর্ম বিমুখ করবে। এই গৌড়িয় কৃৈষ্ণব সম্প্রদায় তাই করছে এর মাঝে ইস্কন অন্যতম।
এবার আসি অন্যতম এক স্মৃতি শাস্ত্র অত্রি সংহিতা নিয়ে। মনু সংহিতার পরেই এই সংহিতার স্থান যা ঋষি অত্রি বলেছেন। সে সংহিতার ৩৭৫ নং শ্লোক দেখুন। স্ক্রীনশট। মূর্খরা বেদ পাঠে বিফল হলে পুরাণ পড়ে। সেটাতেও বিফল হলে কৃষিকাজে নিযুক্ত হয়।এতেও বিফল হলে ভন্ড বৈষ্ণব ধর্ম অবলম্বন করে। অর্থ্যাৎ যেইগুলা সমাজের চরম অকর্মণ্য এইগুলাই এই ভন্ড বৈষ্ণব ধর্ম অর্থ্যাৎ কৃৈষ্ণববাদে ঝুকে ইস্কনে যায়।
কিন্তু এর মানে কি সব বৈষ্ণব খারাপ?? মোটেই না। এখানে তাৎপর্য হল। ভন্ডরাই বৈষ্ণববাদ কে ব্যাবহার করে নিজেদের টাকা ইনকামের ধান্দা করবে। ইস্কন বা গৌড়ীয় কৃৈষ্ণব সম্প্রদায় তা-ই করছে। কাজেই বুঝতেই পারছেন এটা আমার কথা না শাস্ত্র বচন যে এই ইস্কনীরা চরম ভন্ড।
এবার আসি আমার মুল প্রসঙ্গে । কৃৈষ্ণবরা নিজেদের অবস্থান পাকা পোক্ত করার জন্য সহজ সরল শাস্ত্র না জানা হিন্দুদের টার্গেট করে। আর এর জন্যই এরা বিভিন্ন বৈষ্ণব পুরাণের অর্ধেক শ্লোক আওড়িয়ে বলে এরাই একমাত্র ঠিক। এই ক্ষেত্রে এরা বৃহদনারদীয় পুরাণের একটা শ্লোক আওড়ায় কিন্তু এরপর আর কিছুই বলে না। যেমনঃ
হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবলম।
কলৌ নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব গতিরন্যথা।
সরলার্থঃ এই কলিযুগে কেবল হরির নাম, হরির নাম, হরির নামই একমাত্র আছে। এই ছাড়া আর কোনও গতি নেই , আর কোনও গতি নেই, আর কোন গতি নেই।
বৃহদনারদীয় পুরান। পূর্বভাগ ৪১ অধ্যায় , ১১৫ নং শ্লোক। (বিষ্ণু নাম মহিমা) গীতাপ্রেস কতৃক সংস্কৃত পুরান থেকে।
কিন্তু এই চতুর এবং চালাক দক্ষের অনুচরেরা এর পরের শ্লোক বলে না আর নিজেদের বইয়ে দেখায় না। আসুন শ্লোকগুলো দেখে নেই।
আমরা জানি নারায়নের হাজার নাম, উনি অনন্ত বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের পালন কর্তা তথা শিবাংস। মানে উনি আর শিবে ভেদ নেই।তো এইখানে হরির নাম বলতে কোথায় ওদের উপনিষদের বিকৃত মন্ত্র বলা আছে?? সেরকম কিছুই এই পুরানে আছে? দেখে নিচ্ছি।
একই অধ্যায়ের ১০৭নং শ্লোকে প্রভু বিষ্ণুর সেই নাম বলা হচ্ছে যা নিলে আমাদের কলির প্রভাব কাটবে। হরি, কেশব, গোবিন্দ, বাসুদেব জগন্ময়।।
ইতি রয়ন্তি এ নিত্যমনহি বাধতে কলিঃ
সরলার্থঃ এই নাম গুলো ব্যাক্তি যদি জপ করে , বা স্বরন মনন করে তাহলে কলি তাঁকে বাধা প্রদান করেন না।
পাঠক, এখানে ওদের বিকৃত নাম যা তাঁরা হরি নাম বলে চালায় সেটা কই?
এবার আসি পরের যুক্তিতে যা এই গৌড়িয় কৃৈষ্ণবরা কখনও দেখায় না।
একই অধ্যায়ের আরেক শ্লোক ১০৮ কি বলছে?
শিব শংকর রুদ্রেশ নিলকন্ঠ ত্রিলোচন
ইতি জপন্তিয়ে ইয়াপি
কলি স্তন্যাপিবাধতে
সরলার্থঃ শিব শংকর রুদ্রেশ নিলকন্ঠ ত্রিলোচন এই নামগুলো যে জপেন কলি তাঁদেরকেও বাধা দেন না।
এবার ১১২ নং শ্লোকে আসুন
হরির নাম স্বরণ করা ব্যাক্তি এবং শিব নাম স্বরন করা ব্যাক্তির সকল মনকামনা পূর্ণ হয়ে যায়।
স্ক্রীনশটে দেখেতেই পাচ্ছেন শাস্ত্র বচন কি।
এরা সাধারণত শিব প্রসাদ খায় না। বা শিবকে কৃষ্ণের উচ্ছিষ্ঠ ভোগ লাগায় এবং পরে সেটা গ্রহণ করে। মানে শিব এঁদের কাছে কোন পরমেশ্বরই না। এঁদের শিব বিদ্বেষ চরম মাত্রায় এবং এরাই যে দক্ষের অবতার সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু বৈষ্ণব পুরান বা নারদ বানী কি তাই ? আসুন একই পুরান থেকে নারদের মুখের কথা দেখে নেই।
কলি কালে কি শিব পূজা পাপ?
মানে, কলিতে যে নারায়ণ পূজা বা শিব পূজা করবে কলি তাঁকেও স্পর্শ করবে না। এবং জীব যে শিব পূজা করবে সে শিব তুল্য হবে।
এই পুরানেও হরি এবং হর অভেদ তত্ত্ব আনা হয়েছে। এমনকি মহাদেব পরমেশ্বর শিবকে সাক্ষাৎ ঈশ্বর বলা হয়েছে। স্ক্রীনশট।
১১৫ নং সেই শ্লোকের আগে কি বলা আছে দেখুন। স্ক্রীনশট।
২য় স্ক্রীনশট দেখুনঃ
মানে হর -হরি অভেদ যে মানে সেই সাধু বলার যোগ্য এবং যে শিব বিষ্ণু এক তত্ত্ব মানে তা এই ঘোর কলিতেও পূন্য লাভ হয়। এবার পাঠক, আপনারা বলুন। ইস্কন তথা গৌড়ীয় সমাজ কি দেবর্ষী নারদের থেকে উর্ধ্বে ? এরা কি এমন সাধু যে নারদের কথার উপেক্ষা করে শিব অপমান করে এবং শিবকে কৃষ্ণ থেকে আলাদা করে?? অত্রি সংহিতা এবং সৌর পুরাণের বচন অনুযায়ী এরাই যে মহা পাপী এবং ঘোর কলির চর এতে কি আর সন্দেহ রইলো??
এঁদের হিন্দু সমাজ থেকে সামাজিকভাবে বয়কট করুন। তবেই সমাজ এবং জাতির মঙ্গল।
হোক তা বিধর্মী ষড়যন্ত্রকারী কিংবা হোক মুর্তি পূজা বা প্রতীক পূজা বিরোধী কতিপয় ব্যাক্তি। সবার সেই এক কথা। আপনাদের ধর্মে তো গরু খাওয়া আছে কিংবা, আপনাদের মতন যারা শৈব বা অদ্বৈতবাদী আছেন যারা আদি শঙ্করকে মানেন বা শ্রদ্ধা করেন এরা কি পারবেন বৃহদারন্যক উপনিষদ ভাষ্যে ৬/ ৪/ ১৮ যে গরুর মাংস খাবার কথা বলা হচ্ছে তার খণ্ডন দিতে? কলার উচিয়ে অনেকেই বলে থাকেন তমুকই একমাত্র এর খণ্ডন দিয়েছেন বা সহজ কথায় শ্লোকের মাঝে অন্য কিছু খুঁজে পেয়েছেন ।
আসুন প্রথমেই দেখে নেই সেখানে কি বলা আছে। মানে রামকৃষ্ণ মিশন কতৃক প্রকাশিত গ্রন্থে কি লেখা।
শুধুমাত্র এই লেখাগুলোকে দেখিয়ে কিছু কতিপয় অসাধু ব্যাক্তি প্রমাণ করতে চায় যে আদি গুরু শংকরপন্থিরা গরুর মাংস খাবার সমর্থন করেন এবং এরা বেদ বিমুখ কার্য করে থাকেন। বলা বাহুল্য এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা বা গ্রন্থ অধ্যয়ন না করেই এরা যেকোনো উপসংহারে এসে দাড়িয়ে যান। কিছু প্রশ্ন করলে তোতা পাখির মতন একটাই কথা আওড়াতে থাকেন আর তা হল " এইগুলা মধ্যযুগে বিকৃত হয়েছে আর তাই সব প্রক্ষিপ্ত"। যদিও এর বিপরীতে কোন প্রমান এরা উপস্থাপন করতে পারেন না।
যেমন ভাগবত পুরান নিয়ে এঁদের দাবী ইহা নাকি বোপদেব রচিত অথচ। আদিগুরু ভগবান শঙ্করাচার্যের গুরু গোবিন্দপাদের গুরু গৌড়পাদ।(অর্থাৎ শঙ্করাচার্যের গুরুর গুরু) তাঁর "উওর গীতা" ভাষ্যে এবং "সাংখ্য কারিকা বৃত্তি" গ্রন্থে শ্রীমদ্ভাগবতমের নাম এবং একাধিক শ্লোক উল্লেখ করেছেন।গৌড়পাদ শুধুমাত্র শ্লোক নয়,শ্রীমদ্ভাগবতের নামসমেত ১০/১৪/৪ শ্লোক উল্লেখ করেছেন।
এছাড়াও গৌড়পাদ শ্রীমদ্ভাগবতমে ১/৩/১ এর "জগৃহে পৌরুষং রুপং" শ্লোকটি তার পঞ্জীকরণ ব্যাখ্যা গ্রন্থে উল্লেখ করেছে।
শঙ্করাচার্যের জন্ম উইকিপিডিয়া মতে ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে।শঙ্করাচার্যের গুরুর গুরু এক্ষেত্রে কমপক্ষে হলেও ১৫০-২০০ বছর পূর্বে অর্থাৎ ৫০০ খ্রীস্টাব্দে শ্রীমদ্ভাগবতের কোটেশন ব্যবহার করে গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন।সুতরাং এখানে এটা প্রমাণ হয় যে শ্রীমদ্ভাগবত ১৪০০-১৫০০ খ্রীস্টাব্দের মোঘলদের দ্বারা বা বৈষ্ণবদের দ্বারা রচিত গ্রন্থ নয় বরং শ্রীমদ্ভাগবতের আর্বিভাবের ইতিহাস আরোও অনেক পুরোনো।
আবার, পঞ্চম শতকে রচিত জৈনধর্মগ্রন্থ "নন্দী সূত্র" এ শ্রীমদ্ভাগবতের নাম আছে।এই গ্রন্থে জৈনধর্মে নিষিদ্ধ গ্রন্থসমূহের তালিকা দেওয়া হয়েছে।এটিতে সরাসরি রামায়ণ,মহাভারত,ভাগবত পুরাণ,সাংখ্যকারিকা ইত্যাদির কথা বলা হয়েছে।ইহার রচয়িতা বল্লভী।তিনি মহাবীর জৈনের ৯৮০ বছর পরের ব্যাক্তিত্ব।
সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর সময়কাল পঞ্চম শতাব্দীতে মানা হয়।এটি প্রমাণ করে শ্রীমদ্ভাগবতম একাদশ শতাব্দীর বোপদেব রচিত নয়।বরং ইহা শঙ্করাচার্যের বহু পূর্ববর্তী।
সুতরাং আবারও প্রমাণিত হলো যে শ্রীমদ্ভাগবত বোপদেব কিংবা বৈষ্ণবদের দ্বারা রচিত গ্রন্থ নয় বরং শ্রীমদ্ভাগবতের আর্বিভাবের ইতিহাস আরোও অনেক পুরোনো।
তাহলে বোঝাই যাচ্ছে আসল ইতিহাস পর্যালোচনা করলে পুরাণাদি শাস্ত্র তথা স্মৃতিগুলো যে অক্ষত এবং ভুল নয় তা বোঝা যায়। কিন্তু মুর্খের চোখ, যত না পড়ে দোষারোপ করতে পারে ততই এঁদের সুবিধা হয়।
তো আসুন একটু বৃহদারন্যক উপনিষদ ভাষ্যে ৬/ ৪/ ১৮ যে গরুর মাংস খাবার কথা বলা হচ্ছে সেই বিষয়ে পর্যালচনা করা যাক।
যদি আমরা আমাদের সবথেকে অথেন্টিক (বিশ্বাসযোগ্য) পাব্লিকেশন গীতাপ্রেসের বৃহদারন্যক উপনিষদ ভাষ্যে ৬/ ৪/ ১৮ এর দিকে তাকাই তাহলে কি দেখতে পাই? নিম্নের স্ক্রীনশট দেখুন। যারা হিন্দি বোঝেন তাঁরা সহজেই ধরতে পারবেন।
এই দুই স্ক্রীনশট পর্যালোচনা করছি।
শ্লোকের মূল অনুবাদঃ
যিনি চান তার পুত্র প্রখ্যাত পন্ডিত, বিদ্যানদের সভায় নির্ভয়ে প্রবেশকারী তথা শ্রবনমুখী বানী বলার যোগ্য, সম্পূর্ণ বেদের সাধ্যায় করে এবং পুরো শতবছর জিবিত থাকে, সেই পুরুষ এবং তার পত্নী ঔষধীর শাঁস এবং চাউল রান্না করে তাতে ঘি মিশিয়ে খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে। এর দ্বারা উক্ত যোগ্যবান পুত্র জন্ম দিতে সমর্থ হয়।
ঋষভ নামক ঔষধির (ফলের শাঁস) খাওয়ার নিয়ম আছে বা রয়েছে।
মূল শংকর ভাষ্যঃ বিবিধং গীতো বিগীতোঃ প্রখ্যাত ইত্তর্থঃ।
ভাষ্যানুবাদঃ নানা প্রকারে যার মহত্ব গীত হয় তাঁকেই বিগীত বলা হয়। বিগীত অর্থ্যাত প্রখ্যাত। সমিতিঙ্গম - বিদ্যান্দের সভায় যেতে পারে এমন নির্ভীক। " সমিতিঙ্গমঃ" - অর্থ হল বিদ্যান অথবা পন্ডিত এই জন্য করা হয় নি। কারণ মন্ত্রে পাণ্ডিত্যের পৃথকভাবে গ্রহণ হয় এমনটা দেখা যায়। শুশ্রুশিতা- অর্থ শুনতে প্রিয় বা শ্রুতিমধুর রমণীয় বাণীর বক্তা , অর্থ্যাত সংস্কারযুক্ত স্বার্থক বানীর বক্তা । ঔষধি অথবা ফলের শাঁসকে মাংস বলা হয় । এর সাথে মিশ্রিত ভাত কে এখানে " মাংসৌদন" বলা হয়েছে। এই ঔষধীর শাঁসকে নিয়মের জন্য বলা হচ্ছে- উক্ষ্যার শাঁসের সাথে। গর্ভাদানের সমর্থ ষাঁড়কে উক্ষ্যা বলা হয়। ষাড়ের সমান শক্তিশালী হওয়ায় ঔষধী বিশেষের নামও উক্ষ্যা। সেটারই শাঁস এখানে অভিষ্ঠ আছে। পূর্বোক্ত ষাঁড় হতেও অধিক শক্তিশালী হলে তাঁকে ঋষভ বলা হয়ে থাকে। তার সমান শক্তিশালী ঔষধি বিশেষের নামও ঋষভ। তারই শাঁস এখানে " আরষভ" বুঝতে হবে।
গীতাপ্রেসের ভাষ্য বিবৃতিঃ উক্ষ্যা শব্দের অভিধানে ২ প্রকার অর্থ পাওয়া যায়। কলকাতা হয়ে প্রকাশিত বাচসপত্ত নামক বৃহৎ সংস্কৃত অভিধানে এইটিকে অষ্টবর্গান্তরগত ঋষভ নামক ঔষধির পর্যায়ে মানা হয়েছে। " ঋষভ ঔষধি চ " । প্রসিদ্ধ ইংরেজ বিদ্বান মনিয়র উলিমসন তার নিজের বৃহৎ সংস্কৃত - ইংরেজী কোষ অভিধানে " সোম " নামক বৃক্ষের পর্যায়ে মেনেছেন।
" ঋষভ" নামক ঔষধির আয়ুর্বেদে অত্যন্ত প্রাচীন এবং প্রামানিক গ্রন্থ শুশ্রুত সংহিতাএর শুত্রস্থান নামক প্রথম খন্ডের ৩৮তম অধ্যায়ে ৩৭ প্রকার দ্রব্যগণের অন্তর্গত বলে উক্ত ঋষভ শব্দের উল্লেখ আছে। ভাবপ্রকাশ নামক প্রশিদ্ধ সংগ্রহ গ্রন্থে এর বর্ণন এইধরণের আছে-
জীবক এবং ঋষভক (ঋষভ) নামের ঔষধি হিমালয়ের শিখরে উৎপন্ন হয়। এর জড় বা শিকড় রসুনের মতন হয়ে থাকে। গাছের ছোট ছোট পাতা হয় । এর মধ্যে ঋষভ ষাঁড়ের শিংএর আকৃতির মতন হয়। এর জন্য এই ঔষধির নাম ঋষভ।
এর দ্বিতীয় নাম " বৃষভ", বীর , বিষানী ব্রাহ্ম ইত্যাদি। জীবক এবং বৃষভ ২ টাই শক্তিবর্ধক । শীত, বীর্য এবং কফ মধুর পিত্ত এবং দাহের প্রশমনকারী তথা কাশী এবং বাথ রোগের নাশকারী। ঋষভকে প্রশিদ্ধ অষ্টবর্গ নামক ঔষধীয়তে গন্য করা হয়। ভাবপ্রকাশকারী বলেন,
আরও বিস্তারিত জানার জন্য পুজ্যপাদ জগতগুরু নিশ্চলানন্দ সরস্বতীর এই ভিডিওটি দেখার আমন্ত্রন রইলো।
তাহলে এইখানে প্রমাণিত হল যে এই চক্রান্তকারীরা সনাতন ধর্মের শাস্ত্র তথা মহান আচার্য্যদের নিন্দা করে সহজ সরল হিন্দুদের বিভ্রান্ত করতেই মুলত এইসব বলে থাকে। আসলে এইখানে অল্প শাস্ত্র অধ্যয়ন করে নিজেদের বিশাল কিছু ভেবে বসা এইসব ষড়যন্ত্রকারীরা মূলত কিছুই জানে না এবং শাস্ত্রের নিগুঢ় তত্ত্ব উপলব্ধি করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যার্থ। তাই এদের থেকে সবার সাবধান থাকার বিকল্প নেই।
এবার আসি বিষ্ণু
পুরাণে। যা অতি প্রাচীন পুরাণগুলির মাঝে অন্যতম। তো এই পুরাণের পঞ্চম অংশের ৩৮ তম অধ্যায়ের
১নং এবং ৫ নং শ্লোক দেখুন।
অর্জ্জুনোহপি তদান্বিষ্য কৃষ্ণরামকলেবরে।
সংস্কারং লম্ভয়ামাস তথা ন্যেষামনুক্রমাৎ ॥ ১
অষ্টৌ মহিষ কথিতা রুক্মিনীপ্রমুখাস্তু যাঃ
উপগৃহ হরের্দেহং বিবিশুস্তা হতাশনম। ২.
সরলার্থঃ শ্রীপরাশর কহিলেন অর্জ্জুন, কৃষ্ণ ও রামের কলেবরদ্বয় এবং অনন্য প্রধান প্রধান যাদবগণের দেহ সকল অন্বেষণ করিয়া সংস্কার করাইলেন। রুক্মিণী -প্রমুখা কৃষ্ণের যে আটটী মহিষী কথিত হইয়াছেন, তাঁহারা সকলেই হরির দেহ আলিঙ্গন করিয়া অগ্নিতে প্রবেশ করিলেন। .
ততোহর্জ্জুনঃ প্রেতকার্য্যং কৃত্বা তেষাৎ .যথাবধি।
নিশ্চক্রাম জনং সর্ব্বং গৃহীত্বা বজ্রমেব চ॥ ৫
সরলার্থঃ অনন্তর অজ্জুন যথাবিধি প্রেতকার্যা-সমাপনান্তে বজ্র ও অন্যান্য কৃষ্ণমহিষী” 'প্রভৃতিকে লইয়া দ্বারকা হইতে নিশক্রান্ত হইলেন।
তাহলে দেখলেন
কিভাবে অর্জুন কতৃক ভগবান কৃষ্ণের স্থুল শরীরকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করা হল। এখন প্রশ্ন
হল ভগবানের তো জন্ম মৃত্যু কিছুই হয় না। তাহলে এই কৃষ্ণ কি ভগবান নন বা ঈশ্বর নন? (যেহেতু
অনেকেই ভগবান কে ঈশ্বর সাদৃশ মনে করেন)
উত্তর হল, সূর্য্যের
উদয় অস্ত কিছুই হয় না কিন্তু মানুষ তা দেখছে যে সূর্য উঠছে আর অস্ত যাচ্ছে। তেমনি আত্মার
বিনাশ নেই। যেহেতু শ্রীকৃষ্ণ একজন যোগী ছিলেন এবং পরমাত্মার জ্ঞান উনার ছিল তাই উনি
ভগবান অবশ্যই। কিন্তু সেই উপাধি আমরা দিচ্ছি শুধু উনার আত্মাকে। উনার পঞ্চভূতের শরীরকে
নয়। শ্রীকৃষ্ণ(আত্মা বলা হচ্ছে) নিজেই বলেছেন আমি অজ (জন্ম রহিত) অব্যয় ( মৃত্যু রহিত)
আবার ভাগবতেও বলা হচ্ছে উনার পিতা মাতা নেই। মানে উনি সেই চিন্ময় পরমাত্মা যিনি ইহ-জগতের
মায়ার উর্ধ্বে। কিন্তু যখন তিনি জড় শরীরে আসেন
তখন তিনি প্রকৃতি আশ্রয় করে প্রকট হন। আর এই কথা গীতাতেই আছে। তাই অবতার অতি মানব কিছু
এমনটা নয়। অবতারেরা সব কিছুর অধীনে থেকেই লীলা করেন। তাই তাঁদের সাধারণ মানুষ ভাবা
যাবে না অবশ্যই। তিনি লোকশিক্ষার জন্য দেহ ধারণ করেন আর জীব জগতকে ধর্ম শিক্ষা দিয়ে
থাকেন।