Monday, June 1, 2020

মহাভারতে উল্লেখিত রাজ্যগুলির বর্তমান অবস্থান।



[মানচিত্রটি মহাভারত সময়কালের পরবর্তী সময়ের। তবে এর সাথে তখনকার বেশ মিল পাওয়া যায়। ]

১. কুরুরাষ্ট্র

মহাভারতের সবচেয়ে নামকরা রাজ্য। গুরুত্বের হিসেবে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এই রাজ্যকে কেন্দ্র করে কাহিনী আবর্তিত হয়েছে।

বর্তমান ভারতের দিল্লী, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের কিছু অংশ এবং উত্তর প্রদেশের পশ্চিম অংশ নিয়ে কুরু রাষ্ট্র ছিল।

কুরুরাষ্ট্রের রাজধানী হস্তিনাপুর বর্তমান উত্তর প্রদেশের মীরাটের কাছেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়। ↓↓↓↓↓




২. পাঞ্চাল প্রদেশ

দ্রোণাচার্যকে শিষ্যরা গুরু দক্ষিণা দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পাঞ্চাল অখণ্ড ছিল। এরপর যুদ্ধজয়ের পর অখণ্ড পাঞ্চাল উত্তর পাঞ্চাল এবং দক্ষিণ পাঞ্চাল হিসেবে দুই প্রদেশে বিভক্ত হয়।

দ্রুপদকে তার মিত্র দ্রোণ দক্ষিণ পাঞ্চাল শাসন করার সুযোগ দেন। যার রাজধানী হয় কাম্পিল্য নগরী। অন্যদিকে দ্রোণ পুত্র অশ্বত্থামা উত্তর পাঞ্চালের রাজা হন। রাজধানী হয় আহিছাত্র।

পাঞ্চাল প্রদেশের উত্তরে হিমালয় এবং দুইটি অংশই বর্তমান ভারতের উত্তর প্রদেশের অন্তর্গত।

তৎকালীন কাম্পিল্য নগরী বর্তমান ফারুখাবাদ জেলার অংশবিশেষ। অন্যদিকে আহিছাত্র বর্তমান রামনগর জেলার অন্তর্গত। ↓↓↓↓↓

৩. গান্ধার

'শকুনি মামা' এই বাগধারাটির সাথে যার নাম জড়িয়ে তিনি ছিলেন গান্ধারের রাজকুমার (পরবর্তীতে রাজা). শত ভ্রাতার একমাত্র ভগ্নি গান্ধারী এই রাজ্যের রাজকুমারী।

কাবুল নদী (আফগানিস্তান ও পাকিস্তান) এবং পাকিস্তানের অন্তর্গত সোয়াত নদীর অববাহিকায় অবস্থিত এক সমৃদ্ধ রাজ্য। এর রাজধানী তক্ষশীলা বর্তমান রাওয়ালপিন্ডি। তৎকালীন পুরো গান্ধার বর্তমান পেশওয়ার প্রভিন্স, খাইবার পাখতুনখোয়া এর দক্ষিণে এবং পাঞ্জাবের উত্তরে অবস্থিত ছিল। তখন রাজ্যটি ছিল পূর্ব-পশ্চিমে বিরাজমান অন্যদিকে বর্তমান পাকিস্তানের রাজ্যগুলো উত্তর-দক্ষিণ বরাবর। ↓↓↓↓↓

৪. সুরসেন রাজ্য

শ্রীকৃষ্ণের জন্ম এই রাজ্যে।

সুরসেনের রাজধানী ছিল মথুরা। শহরটি বর্তমানে উত্তর প্রদেশে একই নামে বিরাজমান। পুরো রাজ্যটি উত্তর প্রদেশের অংশবিশেষ। ↓↓↓↓↓


৫. মৎস্যদেশ

অজ্ঞাতবাসের সময় পঞ্চপান্ডব ও দ্রৌপদী এই রাজ্যে অবস্থান করে। তৎকালীন রাজা বিরাট।

তৎকালীন মৎস্যদেশ অনেকটা বাবুইপাখির বাসার মতো বা নরওয়ের মানচিত্রের মতো ছিল বলে ধারণা করা হয়। এর পূর্বে বর্তমান সুরসেন রাজ্য ও কান্ডব বন ছিল। মৎস্যদেশ বর্তমান জয়পুরের অতি সন্নিকটে ছিল। এর উত্তরের অংশ বর্তমান দক্ষিণ হরিয়ানার অংশ। এর রাজধানী বিরাট নগরী বর্তমানে বিরাট হিসেবে পরিচিত। ↓↓↓↓↓


৬. কুন্তিভোজ

কর্ণ, যুধিষ্ঠির, ভীম এবং অর্জুনের মামাবাড়ি।এর উত্তরে তৎকালীন মৎস্যদেশ, দক্ষিণে অবন্তী এবং পশ্চিমে মালাবা (Malava) অবস্থিত ছিল। বর্তমান রাজস্থানে কুন্তিভোজ রাজ্য অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়। ↓↓↓↓↓


৭. কাশী

সেনাবিন্দুর তিন কন্যা অম্বা, অম্বিকা আর অম্বালিকা মহাভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। এরা কাশীর রাজকন্যা।

কাশীর রাজধানী ছিল কাশীপুর। যা বর্তমানে বারাণসী নামে সমধিক পরিচিত। এটি গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। কাশী রাজ্যটি উত্তর প্রদেশের অন্তর্গত। ↓↓↓↓↓


৮. অঙ্গ রাজ্য

গুরুকুল থেকে ফিরে কৌরব আর পাণ্ডবদের শিক্ষা প্রদর্শনীর প্রাক্কালে সূর্য পুত্র কর্ণকে এই রাজ্যের রাজা ঘোষণা করা হয়।

তৎকালীন রাজধানী ছিল চম্পাপুরী। বর্তমানে অঙ্গ দক্ষিণ-পশ্চিম বিহার, ঝাড়খন্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের কিছুটা অঞ্চলজুড়ে ছিল। ↓↓↓↓↓


৯. মগধ

জরাসন্ধের রাজ্য মগধ। রাজধানী ছিল রাজগীর।

বর্তমানে শহরটি পাটনার অন্তর্গত। আর পুরো রাজ্যটা বিহারের অন্তর্গত। ↓↓↓↓↓


১০. বিদর্ভ

শ্রীকৃষ্ণের স্ত্রী রুক্মিণী বিদর্ভের রাজকন্যা ছিলেন।

বিদর্ভ বর্তমান মহারাষ্ট্রের উত্তরপূর্ব নাগপুর ও অমরাবতী অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল। বর্তমান মধ্যপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানার সাথে তৎকালীন বিদর্ভের সীমানা সংযোগ ছিল। ↓↓↓↓↓


১১. চেদি রাজ্য

রাজসূয় যজ্ঞে যুধিষ্ঠিরের বিজয় হলে পাণ্ডবদের রাজধানী ইন্দ্রপ্রস্থে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে শ্রীকৃষ্ণকে বিশেষ সম্মান দিতে গেলে যে প্রদেশের রাজা এর তুচ্ছাত্মক বিরোধিতা করে শ্রীকৃষ্ণের সুদর্শন চক্রে প্রাণ হারান; তিনিই চেদিরাজ শিশুপাল।

তৎকালীন চেদি রাজ্যের কিছু অংশ বর্তমান উত্তর প্রদেশ এবং বাকি অংশ মধ্যপ্রদেশে পড়েছে।

চেদি রাজ্যের রাজধানী শুক্তিমতী (Suktimati) বর্তমান উত্তর প্রদেশের Banda এর নিকটবর্তী শহর ছিল। ↓↓↓↓↓


১২. মদ্র দেশ (Madra Kingdom)

মহারাজ পান্ডুর দ্বিতীয় স্ত্রী মাদ্রী এই রাজ্যের রাজকুমারী ছিলেন। রাজা ছিলেন সল্য।

মদ্রদেশের রাজধানী ছিল Sagala, যা বর্তমান পাকিস্তানের পাঞ্জাবের শিয়ালকোট শহর। বর্তমান কাশ্মীরের পশ্চিম প্রান্ত থেকে রাজ্যটি পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত ছিল বলে ধারণা করা হয়।


১৩. নিষাদ রাজ্য

কঠিন গুরুদক্ষিণার সাথে যার নামটি জড়িয়ে; সেই একলব্য এই প্রদেশের রাজকুমার। একলব্য নিষাদপুত্র হিসেবেই পরিচিত; যদিও তিনি ছিলেন শ্রীকৃষ্ণের কাকা দেবশ্রবের পুত্র। নিষাদরা মূলত ইন্দো-আর্য আদিবাসী।

নিষাদের অবস্থান ছিল দক্ষিণ পাঞ্চালের দক্ষিণ-পশ্চিমে। বর্তমান রাজেস্থানে এর অবস্থান।

↓↓↓↓↓


এছাড়াও ইন্দ্রপ্রস্থ: বর্তমানে এর অবস্থান নতুন দিল্লিতে এবং দ্বারকা: বর্তমানে শহরটি গুজরাটের নিকটে আরব সাগরে নিমজ্জিত।

সোর্সঃ

source: 1. List of 30 Places Mentioned in Mahabharata

2. Cities of Mahabharata in the present time

3. 11 Important Places of Modern India Associated with the Epic Mahabharata

photo credit: google

মহাভারত ও রামায়ণের বিষয়ে কিছু অজানা ও চিত্তাকর্ষক তথ্য কী?

রাম-সীতা সঙ্গী লক্ষ্মণ, ভরত, শত্রুঘ্ন , হনুমান ও অঙ্গদ

রামায়নের কিছু অজানা তথ্যঃ

  • রাজা দশরথ ও রানি কৌশল্যার এক কন্যা সন্তান ছিলেন । নাম শান্তা। তিনি রাম-লক্ষ্মণ-ভরত-শত্রুঘ্নের চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। কৌশল্যার বোন তাঁকে দত্তক নেন।
  • চোদ্দো বছরের বনবাসে লক্ষ্মণ একদিনও ঘুমোননি। বনবাসে যাওয়ার আগে তিনি নিদ্রাদেবীর কাছে বর চেয়েছিলেন যাতে এই ১৪ বছরে তাঁর ঘুম না আসে। নিদ্রাদেবী বর মঞ্জুর করেন কিন্তু এর পরিবর্তে লক্ষ্ণণের স্ত্রী উর্মিলাকে ১৪ বছর ঘুমোতে হয়। এই কারণে, লক্ষ্মণের নাম হয় ‘গুড়াকেশ’, যার অর্থ ‘যিনি ঘুমকে জয় করতে সক্ষম’।
  • রামায়ন ও মহাভারতের সময়কাল পৃথক হলেও এদের মধ্যে কিছু যোগ সাদৃশ্য দেখা যায়।
    • বলা হয় রামায়ণের লক্ষ্মণই হলেন মহাভারতের বলরাম। রামায়ণে ছোট ভাই হিসেবে সারাজীবনই তাঁকে আদেশ পালন করে যেতে হয়। তাই পরবর্তী দ্বাপর যুগে বিষ্ণু অবতার কৃষ্ণের বড়ভাই হিসেবে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর অগ্রজ হওয়ার ইচ্ছেপূরণ হয়। রামের আগেই মারা গিয়েছিলেন লক্ষ্মণ। যমরাজকে দেওয়া রামের একটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই তিনি নিজে সরযূনদীর তীরে গিয়ে প্রাণত্যাগ করেন।
    • রামায়ণের বালি পুত্র অঙ্গদ মহাভারতের জরা নামক ব্যাধ যিনি দ্বাপর যুগে শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যুর কারণ হয়েছিলেন।
    • রামের এক বোন ছিল -

      আমরা জানি , রামেরা চার ভাই। কিন্তু রামেদের এক অগ্রজ বোন ছিলেন। তিনি কৌশল্যা নন্দিনী শান্তা। অতএব তিনি রামের সহদরা ।

      দশরথের মিত্র রাজা লোমপাদ শান্তাকে দত্তক নিয়েছিলেন। এই শান্তার সাথে ঋষ্যশৃঙ্গ মুনির বিবাহ হয়েছিল , যিনি পুত্রকামেষ্টি যজ্ঞ করেছিলেন যার ফলে রামাদির জন্ম হয়েছিল।

    • কাক ভূষন্ডী -আমরা বাগধারায় কাক ভূষন্ডী কথাটি দীর্ঘজীবি অর্থে ব্যবহার করি। কিন্তু বাস্তবে এই ভূষন্ডী কাক শুধু দীর্ঘজীবি নয়, চিরঞ্জীব এবং ত্রিকালদর্শী।ভূষন্ডী একজন ত্রিকালজ্ঞ মুনি ছিলেন। লোমস মুনির অভিশাপে তিনি কাক হয়ে যান । কিন্তু তারপরও তার জ্ঞানসকল লোপ পেয়ে যায়নি । তিনি রাম-রাবণের যুদ্ধ দেখেছেন আবার মহাভারতের যুদ্ধও দেখেছেন।

  • রাম মারা যাওয়ার আগে কোশল সাম্রাজ্যটি দু’ভাগে ভাগ করে যান। শোনা যায় লব-কে তিনি শ্রাবস্তীর রাজা হিসেবে অভিষিক্ত করে যান এবং কুশ-কে দিয়ে যান কুশাবতী নগর। বিন্ধ্য পর্বতের পাদদেশে নাকি ছিল এই নগর। শোনা যায় কাশী এবং মৌর্য রাজবংশ নাকি কুশেরই বংশধর। লব কিন্তু শ্রাবস্তীর রাজা হয়ে থেমে থাকেননি। প্রচলিত মত, তিনি ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে তাঁর রাজ্য বিস্তার করেন এবং লাভাপুরী নামের একটি শহর প্রতিষ্ঠা করেন। এই লাভাপুরীই হল এখনকার পাকিস্তানের ‘লাহোর’ এই লবেরই আর এক নাম ‘লোহ’। লাহোর ফোর্টের ভিতরে তাঁর নামে একটি মন্দিরও রয়েছে। আবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ‘লাওস’ এবং থাইল্যান্ডের একটি শহর ‘লবপুরী’ তাঁরই নামাঙ্কিত। রাজস্থানের মেবার রাজবংশ লবেরই বংশধর বলে ধারণা। এছাড়া রাজস্থানের বেশ কিছু গোষ্ঠী রয়েছে যারা নিজেদের লবের বংশধর বলে দাবি করেন।
  • সীতার জন্মবৃত্তান্ত রহস্যঃ জনক রাজা ভূমিকর্ষণের সময় লাঙলের ফলায় এক শিশুকন্যাকে ধরিত্রীর বুক থেকে উদ্ধার করেন। সংস্কৃতে 'লাঙলের কর্ষণরেখা'কে সীতা বলা হয়।তাই এই কন্যার নামকরণ করেন "সীতা"। কিন্তু সীতার জন্মবৃত্তান্ত সম্পর্কীয় বিভিন্ন কাহিনী শোনা যায়।
    • "অদ্ভুত রামায়ণ" থেকে জানা যায়, সীতা নাকি রাবণ ও মন্দোদরীর কন্যা। তাঁর জন্মের আগে গণকরা জনিয়েছিলেন, তিনি নাকি রাবণের ধ্বংসের কারণ হবেন। তাই রাবণ তাঁকে পরিত্যাগ করেন।
    • 'রামায়ণ’-এর কিছু অন্য লেখা থেকে জানা যায় , রাবণ নাকি প্রকৃত সীতাকে হরণ করেননি। যাকে রাবণ হরণ করেছিলেন, সে মায়াসীতা। দেবী পার্বতী আসল সীতাকে লুকিয়ে রেখেছিলেন এবং রাম-রাবণের যুদ্ধের পরে আসল সীতা প্রকট হন। মায়াসীতাই নাকি পরে দ্রৌপদী হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন।
    • 'আনন্দ রামায়ণ’ নামক গ্রন্থে বলা হয়েছে, রাজা পদ্মাক্ষের কন্যা পদ্মাই নাকি পরবর্তী জন্মে সীতা হন। রাবণ পদ্মার শ্লীলতাহানি করতে চাইলে তিনি আগুনে আত্মঘাতী হন। পরজন্মে তিনিই সীতা রূপে অবতীর্ণা হন এবং রাবণের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ান।
    • আর একটি প্রচলিত ধারণা এই সীতা পূর্বজন্মে ছিলেন বেদবতী নামে এক পুণ্যবতী নারী। রাবণ তাঁকে কামনা করলে তিনি রাবণকে অভিশাপ দেন যে, তিনি পরবর্তী জন্মে রাবণকে হত্যা করবেন।
  • রাবণ সম্পর্কিত কয়েকটি তথ্যঃ মৃত্যুপথযাত্রী রাবণের কাছে রামের আদেশে লক্ষ্মণ জ্ঞান অর্জনের জন্য গেলেও, প্রথমে রাবণ কোনও কথা বলেন নি। লক্ষ্মণ ফিরে গিয়ে রামচন্দ্রকে তা জানালে, রামচন্দ্র তাঁকে বলেন, রাবণের পায়ের কাছে গিয়ে দাঁড়াতে। কারণ, তিনি তখন রাবণের শিষ্য। তাই গুরুর প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁর পায়ের কাছেই দাঁড়ানো উচিত লক্ষ্মণের। লক্ষ্মণ পায়ের কাছে গিয়ে দাঁড়ালে রাবণ তাঁকে "রাজধর্ম" বিষয়ে মুল্যবান জ্ঞান প্রদান করেন। যেমন -
    • নিজের সারথী, দ্বাররক্ষক, রাঁধুনি ও সহোদরের সঙ্গে কখনও শত্রূতা করতে নেই। তাঁরা যে কোনও সময়ে ক্ষতি করতে পারে।
    • সব সময় জেতা মানেই যে নিজেকে জয়ী মনে করবে, তা যেন না হয়।
    • যে মন্ত্রী সব সময়েই রাজার খুঁত ধরে, তাঁকে সব ক্ষেত্রেই বিশ্বাস করা উচিত।
    • কোনও শত্রুকেই ছোট বা ক্ষমতাহীন মনে করা উচিত নয়।
    • যে রাজা বা শাসক প্রসিদ্ধি পেতে চায়, তাঁদের লোভ নিবারণ করতে শিখতেই হবে।
    • কারোর উপকার করার সুযোগ এলে, রাজা হিসেবে তা ততক্ষণাৎ করা উচিত।
  • রাবণ ছিলেন এক অসামান্য বীণাবাদক। তিনি নিজেই তাঁর বীণার নকশা করেছিলেন। তিনি ‘শিব তাণ্ডব’ স্তোত্রেরও রচয়িতা।
  • রাবণ ছিলেন এক দক্ষ চিকিৎসক। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে তাঁর বিশেষ ব্যুৎপত্তি ছিল। ‘নাড়ি পরীক্ষা’, ‘অর্ক শাস্ত্র’, ‘অর্ক পরীক্ষা’ প্রভৃতি বিখ্যাত আয়ুর্বেদ শাস্ত্রগ্রন্থ রাবণ কর্তৃক লিখিত বলে প্রচলিত। ক্ষত চিকিৎসায় তাঁর অবদানের কথা আজও আয়ুর্বেদ স্বীকার করে। জ্যোতির্বিদ্যায় রাবণের বিশেষ দখল ছিল। একথা রামায়ণে বার বার উল্লিখিত হয়েছে যে, তিনি নাকি গ্রহতারকাদের নির্দেশ দিতেও পারতেন। তিনি গ্রহতারকার ভবিষ্যৎ অবস্থান অনর্গল বলে যেতে পারতেন।
  • শূর্পনখা বিধবা - বনচারিণী শূর্পনখা বিধবা ছিলেন। রাবণ তার স্বামী দৈত্য বিদ্যুৎজিহ্বাকে বধ করেছিলেন। শূর্পনখা দুঃখিতা হলে রাবণ তাকে দন্ডকারণ্যে যথেচ্ছ বিচরণের বর দেন। ( বাল্মীকি রামায়ণ , উত্তর কান্ড , সর্গ ৪৬)




মহাভারতের কিছু অজানা তথ্যঃ

  • অর্জুন এবং নাগ রাজকন্যা উলুপীর পুত্র ইরাবান পিতা অর্জুনের বিজয়কে সুনিশ্চিত করতে নিজেকে মা কালীর কাছে উৎসর্গ করেছিলেন। মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল, তিনি বিবাহ করবেন। এমন এক কন্যা পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়ে, যিনি ভাবী স্বামীর অবধারিত মৃত্যুর কথা জেনেও তাঁকে বিবাহ করতে ইচ্ছুক। এমন পরিস্থিতিতে কৃষ্ণ মোহিনী রূপ ধারন করেন এবং ইরাবানকে বিবাহ করেন। ইরাবানের মৃত্যুর পরে কৃষ্ণ একদিনের বৈধব্যও পালন করেছিলেন।
  • যুদ্ধের চতুর্দশতম দিনে ভীম ও অর্জুন জয়দ্রথ বধে উদ্যোগী হন। সূর্যাস্তের আগে অর্জুন জয়দ্রথকে বধ করার সংকল্প করেন। এমন সময়ে দুর্যোধন তাঁর ভাই বিকর্ণকে পাঠান ভীমের উপরে নজর রাখার জন্য। বিকর্ণ ধর্মপথ ত্যাগ করতে রাজি ছিলেন না। তা ছাড়া তিনি জানতেন, যথা কৃষ্ণ তথা জয়। তিনি পাণ্ডবদের সমর্থন করলেও কৌরব পক্ষ ত্যাগ করে পারেননি। দ্রৌপদীর অপমানের সময়ে বিকর্ণই একমাত্র প্রতিবাদ করেছিলেন। কিন্তু বিকর্ণের অনুরোধেই ভীম তাঁর সঙ্গে গদাযুদ্ধে অবতীর্ণ হন। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভীম বিকর্ণকে বধ করেন। কারণ তিনি ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রদের নিশ্চিহ্ন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন।
  • দুর্যোধনের স্ত্রী ভানুমতী ছিলেন শ্রীকৃষ্ণের অনুসারী।
  • সহদেব জ্যোতিষশাস্ত্রে পণ্ডিত ছিলেন। কিন্তু অভিশাপবশত সোজাসুজি ভবিষ্যৎ বলা তাঁর বারণ থাকায় কৃষ্ণের নির্দেশে তিনি প্রশ্নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ব্যক্ত করতেন।
  • কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে সমস্ত রাজারা কোনও না কোনও পক্ষে যোগদান করেন । একমাত্র ব্যতিক্রম উদুপির রাজা । তিনি যোগদান করেননি, পরিবর্তে দুপক্ষের সেনাকেই রোজ খাবার সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দেন। রোজ রাতে তিনি শ্রীকৃষ্ণকে এক বাটি করে বাদাম 
  • ধনুক দ্বারা যে বান অর্জুন নিক্ষেপ করতো সেটার প্রায় ১ কিমি প্রতি সেকেন্ড গতি পেত।
  • মহাভারত যুদ্ধের সময় অর্জুনের বয়স ছিল ৮৯ বছর। অবাক হবার কিছু নেই - তখন কার দিনে মানুষের গড় আয়ু ছিল প্রায় ১৬০-১৭০ বয়স। ৮৯ বছর বয়সী তখন কার হলো এখন কার ৪৫ । মহাভারতের যুদ্ধের পর মানুষের গড় আয়ু কমতে শুরু করে। একবিংশ শতাব্দীতে এখন আবার মানুষের গড় আয়ু বাড়তে শুরু করেছে।
  • মহাভারতের যুদ্ধে ভীমসেন প্রধান অস্ত্র হিসেবে ধনুর্বান ব্যবহার করেছিল , গদা নয়।
  • দ্রোণাচার্য যুদ্ধে একটা বল্লম ব্যবহার করতো যার ওজন ছিল প্রায় ১২০ কেজি। আর এই বল্লম এক আঘাতেই ১০০০ কেজি এক পাথরকে ভেঙে ফেলতে পারত।
  • মহাভারতের সমাজ সেই সময় খুবই মুক্ত ছিল। এখনকার মতো গোড়ামি, বৈষম্য, কুসংস্কার ইত্যাদি কিছুই ছিল না। সেই সমাজ ছিল খুবই যৌন মুক্ত সমাজ। যৌনতা ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। তখনকার কোনো মানুষ যদি আমাদের আজকের সমাজকে দেখে , সত্যিই খুব অবাক হবে দেখে।
  • মহাভারতের সময় শিক্ষা ব্যবস্থা খুবই উন্নত ছিল। খুন, ছিনতাই, রাহাজানি, ধর্ষণ, ইত্যাদি অপরাধ এখনকার সমাজের তুলনায় অনেক অনেক কম ছিল - প্রায় ৯০ শতাংশ কম। আসলে শিক্ষা ব্যবস্থা যত খারাপ হবে, অপরাধের পরিসংখ্যান ততো বাড়বে।
  • মহাভারতের সমাজে বিবাহিতদের মধ্যে একটা অভ্যাস খুব প্রচলিত ছিল। কোনো পুরুষ সঙ্গমের আগে তার স্ত্রীর নাভির ওপর হাত রেখে বলতো ' প্রসিদ্ধ জগৎ - জননী ' । এই কাজটা করে এই অর্থ বোঝানো হতো যে স্বামী তার স্ত্রী কে বলছে ' প্রসিদ্ধ তুমি হে জগতের মাতা, তোমার মাধ্যমে আমি নিজেকে প্রকাশ করছি ' ।
  • মহাভারতের দিনে উভয় স্ত্রী এবং পুরুষ শারীরিক গঠনের দিক দিয়ে এখনকার স্ত্রী , পুরুষদের চেয়ে অধিকতর সুন্দর ছিল।
  • মহাভারতের সময় অর্থনৈতিক কাঠামো খুবই ভালো এবং উন্নত ছিল। এরম বলা যায় যে প্রায় সকল মানুষের খাওয়া পরার কোনো সমস্যা ছিল না। অভুক্ত, গৃহহীন, ভিখারী – এসবের প্রশ্নই ওঠে না।
  • আমরা মহাভারত সম্বন্ধে যা বই পত্র দেখি তার প্রায় সবই ভুলে ভরা। আসল তথ্য সম্পূর্ণ ভাবে কেউ তুলে ধরে না।
  • মহাভারতে বেশ্যা দের প্রচলন ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে বেশ্যা দের সম্বন্ধে যে ধারণা, সেই ধারণা তখন ছিল না। বেশ্যা বলতে তখন বোঝানো হতো যারা রাজকীয় ভাবে রাজাদের মনোরঞ্জন করতো— সেটা নাচ - গান, জলকেলি, কিম্বা যৌন ক্রীড়া ( অবাক হওয়ার কিছু নেই, তখনকার দিনে এটা একটা সাধারণ জিনিস হিসাবেই গ্রহণ করা হতো ) । এটা বলা প্রযোজ্য যে তখনকার সমাজে বেশ্যা দের প্রতি সম্মান আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই ছিল, তাদের কে আলাদা মনে করে একঘরে করা হতো না এখনকার মত।
  • মহাভারতের সময় সমস্ত মানুষকেই অনেক পরিশ্রম করতে হতো কারণ তখন প্রযুক্তি এতো উন্নত হয়নি। কিন্তু সমাজে শান্তি ছিল।
  • একজন পুরুষের গড় উচ্চতা ছিল ৬ ফিট। এবং একজন নারী ৫.৫ ফিট।
  • ভোগ দিতেন। সকালে উঠে গুনে দেখতেন কটি বাদাম কৃষ্ণ ভক্ষন করেছেন। যদি দেখতেন দশটি বাদাম তাহলে বুঝতেন সেদিন দশ হাজার সৈন্যের মৃত্যু হবে। সেই হিসাবে খাবার সরবরাহ করার নির্দেশ দিতেন।
  • চন্দ্রদেব সোমের পুত্র "বরচস" অভিমন্যু রূপে জন্মগ্রহন করেন। কিন্তু চন্দ্রদেব তাঁর প্রানপ্রিয় পুত্রের বিয়োগে কাতর হওয়ায় শুধুমাত্র ১৬ বছরের জন্য তাঁকে পৃথিবীতে প্রেরণের অনুমতি দেন। তাই মাত্র ১৬ বছর বয়েসে অভিমন্যু বীরগতি প্রাপ্ত হন।
  • অর্জুন ও কর্ণের শত্রুতার সুত্রপাত দেবলোকে । একদিন ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর মতবিরোধের সময় ব্রহ্মার স্বেদ থেকে 'শ্বেতজ' ও বিষ্ণুর স্বেদ থেকে 'রক্তজ' নামে দুই অসুর জন্ম নেয়। শ্বেতজ সহস্র কবচ বিশিষ্ট ও রক্তজ সহস্র হস্ত বিশিষ্ট ছিল। এদের মধ্যে তুমুল লড়াই শুরু হলে বিষ্ণু বুঝতে পারেন রক্তজের মৃত্যু নিশ্চিত। বিষ্ণু ব্রহ্মদেবকে জানান যদি এই লড়াই না থামে তবে সৃষ্টির ধ্বংস অনিবার্য। এই পরিস্থিতিতে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরের নির্দেশানুসারে অমিমাংসিত লড়াই থেমে যায় এবং স্থির হয় এই লড়াই তাদের পরের জন্মে মীমাংসা লাভ করবে। পরজন্মে শ্বেতজ "কর্ণ" ও রক্তজ "অর্জুন" রূপে জন্মগ্রহন করেন। 
  • নিষাদ রাজপুত্র একলব্য কৃষ্ণের সম্পর্কিত ভাই ছিলেন। একলব্যের পিতা দেবশ্রবা সম্পর্কে কুন্তী ও বাসুদেবের ভাই হতেন। কৃষ্ণের হাতে তাঁর মৃত্যু ঘটলেও মৃত্যুর ঘটনাকাল নিয়ে মতবিরোধ আছে।
  • বিশ্বরূপ শুধু কৃষ্ণ না। অনেকেই দেখিয়েছেন। মহাভারতে শিব প্রথম কৃষ্ণকে উনার নিজের বিশ্বরূপ দেখিয়েছিলেন। এই নিয়ে আমার লেখা পূর্বের ব্লগ আছে। 
  • অর্জুনের গান্ডিবের ওজন ছিল প্রায় ৩০০ কেজি।
  • ধনুক দ্বারা যে বান অর্জুন নিক্ষেপ করতো সেটার প্রায় ১ কিমি প্রতি সেকেন্ড গতি পেত।
  • মহাভারত যুদ্ধের সময় অর্জুনের বয়স ছিল ৮৯ বছর। অবাক হবার কিছু নেই - তখন কার দিনে মানুষের গড় আয়ু ছিল প্রায় ১৬০-১৭০ বয়স। ৮৯ বছর বয়সী তখন কার হলো এখন কার ৪৫ । মহাভারতের যুদ্ধের পর মানুষের গড় আয়ু কমতে শুরু করে। একবিংশ শতাব্দীতে এখন আবার মানুষের গড় আয়ু বাড়তে শুরু করেছে।
  • মহাভারতের যুদ্ধে ভীমসেন প্রধান অস্ত্র হিসেবে ধনুর্বান ব্যবহার করেছিল , গদা নয়।
  • দ্রোণাচার্য যুদ্ধে একটা বল্লম ব্যবহার করতো যার ওজন ছিল প্রায় ১২০ কেজি। আর এই বল্লম এক আঘাতেই ১০০০ কেজি এক পাথরকে ভেঙে ফেলতে পারত।
  • মহাভারতের সমাজ সেই সময় খুবই মুক্ত ছিল। এখনকার মতো গোড়ামি, বৈষম্য, কুসংস্কার ইত্যাদি কিছুই ছিল না। সেই সমাজ ছিল খুবই যৌন মুক্ত সমাজ। যৌনতা ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। তখনকার কোনো মানুষ যদি আমাদের আজকের সমাজকে দেখে , সত্যিই খুব অবাক হবে দেখে।
  • মহাভারতের সময় শিক্ষা ব্যবস্থা খুবই উন্নত ছিল। খুন, ছিনতাই, রাহাজানি, ধর্ষণ, ইত্যাদি অপরাধ এখনকার সমাজের তুলনায় অনেক অনেক কম ছিল - প্রায় ৯০ শতাংশ কম। আসলে শিক্ষা ব্যবস্থা যত খারাপ হবে, অপরাধের পরিসংখ্যান ততো বাড়বে।
  • মহাভারতের সমাজে বিবাহিতদের মধ্যে একটা অভ্যাস খুব প্রচলিত ছিল। কোনো পুরুষ সঙ্গমের আগে তার স্ত্রীর নাভির ওপর হাত রেখে বলতো ' প্রসিদ্ধ জগৎ - জননী ' । এই কাজটা করে এই অর্থ বোঝানো হতো যে স্বামী তার স্ত্রী কে বলছে ' প্রসিদ্ধ তুমি হে জগতের মাতা, তোমার মাধ্যমে আমি নিজেকে প্রকাশ করছি ' ।
  • মহাভারতের দিনে উভয় স্ত্রী এবং পুরুষ শারীরিক গঠনের দিক দিয়ে এখনকার স্ত্রী , পুরুষদের চেয়ে অধিকতর সুন্দর ছিল।
  • মহাভারতের সময় অর্থনৈতিক কাঠামো খুবই ভালো এবং উন্নত ছিল। এরম বলা যায় যে প্রায় সকল মানুষের খাওয়া পরার কোনো সমস্যা ছিল না। অভুক্ত, গৃহহীন, ভিখারী – এসবের প্রশ্নই ওঠে না।
  • আমরা মহাভারত সম্বন্ধে যা বই পত্র দেখি তার প্রায় সবই ভুলে ভরা। আসল তথ্য সম্পূর্ণ ভাবে কেউ তুলে ধরে না।
  • মহাভারতে বেশ্যা দের প্রচলন ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে বেশ্যা দের সম্বন্ধে যে ধারণা, সেই ধারণা তখন ছিল না। বেশ্যা বলতে তখন বোঝানো হতো যারা রাজকীয় ভাবে রাজাদের মনোরঞ্জন করতো— সেটা নাচ - গান, জলকেলি, কিম্বা যৌন ক্রীড়া ( অবাক হওয়ার কিছু নেই, তখনকার দিনে এটা একটা সাধারণ জিনিস হিসাবেই গ্রহণ করা হতো ) । এটা বলা প্রযোজ্য যে তখনকার সমাজে বেশ্যা দের প্রতি সম্মান আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই ছিল, তাদের কে আলাদা মনে করে একঘরে করা হতো না এখনকার মত।
  • তখনকার মানুষ অনেক মুক্তমনা ছিল এখনকার তুলনায়।
  • মহাভারতের সময় সমস্ত মানুষকেই অনেক পরিশ্রম করতে হতো কারণ তখন প্রযুক্তি এতো উন্নত হয়নি। কিন্তু সমাজে শান্তি ছিল।
  • একজন পুরুষের গড় উচ্চতা ছিল ৬ ফিট। এবং একজন নারী ৫.৫ ফিট।
  • দুর্যোধনের বাস্তবিক নাম -দুর্যোধনের আসল নাম ছিল সুযোধন । সবাই তাকে দুষ্কৃতীর জন্য দুর্যোধন বললেও যুধিষ্ঠির কিন্তু তাকে সর্বদা সুযোধন বলেই ডাকতেন।

  • দুর্যোধনের কন্যা লক্ষ্মনাকে শ্রীকৃষ্ণের পুত্র শাম্ব বিবাহ করেছিলেন। সেজন্য দুর্যোধন আর কৃষ্ণ একে অপরের বৈবাহিক অর্থাৎ বেয়াই।

  • দুর্যোধনের বিবাহ -

    দুর্যোধন যেখানে বিবাহ করতে যেতেন সেখানেই কৃষ্ণ অথবা পাণ্ডব হাজির হতেন । আর রাজকন্যাদের বিবাহ করে যেতেন।

    প্রথমে দ্রৌপদীর স্বয়ংবর । সেখানে অর্জুন জিতলেন। রাজকুমারী ভদ্রার স্বয়ংবরে গেলেন ,সেখানে কৃষ্ণের গলায় মালা পড়ল। সুভদ্রার সাথে বলরাম দুর্যোধনের বিয়ে ঠিক করলেন । কিন্তু বিবাহ সভায় গণেশ গেল উল্টে ! সুভদ্রা কৃষ্ণের সমর্থনে বিয়ে করলেন অর্জুনকে। বেচারা দুর্যোধন। শেষকালে একে কন্যা হরণ করে বিবাহ করতে হল। হরণ করলেন রাজকুমারী ভানুমতিকে। এ কাজেও সাহায্য নিতে হল মিত্র অঙ্গরাজ কর্ণের ।

  • অভিমন্যুর স্বল্পায়ু -

    আমরা অনেকেই দুঃখী যে , সপ্ত রথীর আক্রমণে ১৬ বছরের অভিমন্যুকে বেঘোরে প্রাণটা দিতে হল। কিন্তু বেচারার আয়ু এতটুকুই ছিল।

    অভিমন্যু বাস্তবে ছিলেন চন্দ্র দেবের শাপিত পুত্র। ওর অভিশাপ ছিল ওকে মানুষ হয়ে পৃথিবীতে জন্ম নিতে হবে। কিন্তু তার মাতা জানালেন , অধিককাল তিনি পুত্রছাড়া থাকতে পারবেন না। তাই শুধুমাত্র ১৬ বছরের জন্য পুত্রকে পৃথিবীতে পাঠাতে সম্মত হলেন।

    তথ্য - Abhimanyu - Wikipedia


    ফুটনোট

রাম-এর বাবার নাম দশরথ। দশরথ-এর বাবার নাম কী?

দশরথের পিতার নাম ছিল অজ। মহারাজ 'অজ' সূর্যবংশের 38 তম রাজা ছিলেন। তার পিতা মহারাজ রঘু, যার নমে বংশের নাম রঘুবংশ হয়। অজ এর পত্নি ইন্দুমতী বিদর্ভ রাজকুমারী ছিলেন। ইন্দুমতী তার পূর্বজন্মে 'হরিনি' নামক এক অপ্সরা ছিলো। হরিনি দেবরাজ ইন্দ্রের আদেশে 'মহর্ষি তৃণবিন্দুর' তপস্যা ভঙ্গ করে, যার ফল স স্বরূপ মহর্ষি তৃণবিন্দু তাকে পৃথিবীতে এক নস্বর নারী রূপে জন্ম নেওয়ার অভিশাপ দেন। সে এই অপরাধের জন্যে ক্ষমাপ্রার্থী হলে মহর্ষি বলেন "যেদিন আকাশ থেকে এক ফুলের মালা তার গলায় পড়বে সেদিন সেই মুহূর্তে সে শাপমুক্ত হবে।" এরপর হরিনি বিদর্ভ রাজকুমারী রূপে জন্ম গ্রহণ করে এবং যথা সময়ে তার স্বয়ংবর রচিত হলে সে মহারাজ অজ কে পতি রূপে বরণ করে। এর এক বছর পর দশরথের জন্ম হয়। দশরথের যখন মাত্র আট মাস বয়স তখন একদিন দেবর্ষি নারদ অযোধ্যার উপর আকাশপথে যাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ তার হাত থেকে একটি ফুলের মালা পরে যায় যেটা রানী ইন্দুমতির গলাতেই পরে। সেই মুহূর্তে রানী ইন্দুমতি শপমুক্ত হয় এবং তার দিব্য অপ্সরা রূপে স্বর্গে চলে যায়। মহারাজ অজও তখন পত্নীর বিরহ সহ্য না করতে পেরে সরযূ নদীতে প্রাণ ত্যাগ করেন।

বিশ্বের ১০ টি অমীমাংসিত রহস্য





প্রকৃতির ধর্মই হচ্ছে রহস্য সৃষ্টি করা। বিজ্ঞান প্রযুক্তির কল্যাণে এমন অনেক রহস্যের দ্বার জনসম্মুখে উন্মোচিত হলেও কিছু রহস্যের আজ অব্দি কোন সমাধান পাওয়া যায়নি। দেখি তো সেই অনুম্মোচিত রহস্যের মাঝে উল্লেখযোগ্য ছয়টি রহস্য কি কি!

১। নাজকা রেখা
দক্ষিণ পেরুতে অবস্থিত নাজকা ও পালপা শহরের মাঝখানে প্রায় ৮০ কি.মি. এলাকাজুড়ে এক দীর্ঘ আর রহস্যময় রেখা বিস্তৃত যা মানুষের নিকট ‘নাজকা রেখা’ অথবা Nazca/Nasca lines নামে পরিচিত। ধারণা করা হয় নাজকা সভ্যতার বাসিন্দারা খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ অব্দ থেকে ৫০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই রেখাগুলো তৈরি করেন। এর মাঝে ১০০টির অধিক রেখা পুরোপুরি জ্যামিতিক রেখার সাদৃশ এবং আরো ৭০টির মত রেখা দ্বারা ফুল, পাখি, বাঁদর, মাকড়সা, মানুষের মাথা সহ বিভিন্ন প্রাণীর চিত্র আঁকা রয়েছে। এর মাঝে বৃহত্তম রেখাচিত্রটি প্রায় ২০০মিটার লম্বা। ১৯২৭ সালে, তোরিবিও মেহিয়া সিসপে নামক এক প্রত্নতাত্তিক ‘ফুটহিল’ পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে এই লাইন সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন। উল্লেখ্য যে, এই বিশালাকৃতির কারণে এই রেখাগুলো শুধুমাত্র আকাশপথ এবং ফুটহিল পাহাড়ের উপর থেকেই পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।

এই রেখাঙ্কনের কারণ আবিষ্কার করতে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অনেক মতবাদ। অনেকের মতে সৃষ্টিকর্তাকে আকৃষ্ট করার জন্যই এই বিশালাকার রেখার সৃষ্টি। অনেকে মনে করেন যে, ঐ যুগে মানুষ ভিনগ্রহী প্রানীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করত এবং এই রেখাগুলোর আঁকার কারণ হচ্ছে যাতে করে তারা এই রেখাগুলো দেখে পৃথিবীতে নেমে আসতে পারে। অনেকে আবার বলেন, নাজকাই পৃথিবীর সর্বপ্রাচীন রানওয়ে, কেননা এর মাঝে অনেক রেখা রানওয়েতে অঙ্কিত রেখার সাদৃশ্যপূর্ণ। অনেক রকমের মতবাদ থাকলেও এখন পর্যন্ত কেউ এই নাজকা রেখা অঙ্কনের আসল কারণ উদঘাটন করতে না পারার কারণে রেখাগুলো আজও রহস্য হয়েই রয়ে গেছে।

২। হারানো শহর আটলান্টিস
দার্শনিক প্লেটোর ডায়ালগ ‘টাইমাউস (Timeaus)– এ উল্লেখিত ‘পিলার অফ হার্কিউলিস’-এর সামনে অবস্থিত আটলান্টিস ছিল দশম মিলেনিয়ামের(আজ থেকে প্রায় ১০০০০ বছর আগে) বিশ্বের সর্বশক্তিমান শহর। নৌশক্তির দ্বারা ইউরোপের বেশিরভাগ স্থান জয়ের পর ‘এথেন্স’-এর নিকট পরাজিত হয়ে এই শহর একরাতের মাঝে সমুদ্রে ডুবে যায়! তবে অনেকেই মনে করেন প্লেটো পৌরাণিক কল্পকাহিনী এবং যুদ্ধের কাহিনী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই রহস্য তৈরি করেছেন যার কোনো সত্যতা নেই কিন্তু।

৩। স্টোনহেঞ্জ
কম্পিউটারে উইন্ডোস এক্সপি ব্যবহারকারীদের মাঝে কমবেশি সকলেই স্টোনহেঞ্জের সাথে পরিচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ারের অ্যামাসবারির নিকটে অবস্থিত এই স্তম্ভটি, খ্রীষ্টপূর্ব ২০০০-৩০০০ অব্দের মাঝে, নিওলিথিক ও ব্রোঞ্জযুগে প্রতিষ্ঠিত। এতে বৃত্তাকারে বিশালাকৃতির বেশকিছু দণ্ডায়মান পাথর রয়েছে এবং এগুলোর চতুর্দিকে মাটির বাঁধ রয়েছে। এ বাঁধের ভেতর চতুর্দিকে বেষ্টন করে আছে ৫৬টি মৃত্তিকা গহ্বর।। পাথরগুলোর মধ্যে আরও দুই সারি গর্ত বেস্টন করে আছে। পাথরগুলোর গঠনের মধ্যে আছে দুইটি বৃত্তাকার এবং দুইটি ঘোড়ার খুরের নলের আকারবিশিষ্ট পাথরের সারি। এ ছাড়াও এতে কতগুলো পৃথক পাথর রয়েছে যা পূজার বেদীর পাথর কিংবা বধ্যভূমির পাথর হিসেবে পরিচিত। নিখুঁত এবং জটিল গঠনের এই স্তম্ভটি কে বা কারা প্রতিষ্ঠা করেছে, এর প্রতিষ্ঠার পেছনের কারণ কি, তা এই বিংশ শতাব্দীতেও রহস্যই রয়ে গেছে।

এতে পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা দেখা যাওয়ায়, সংকেতটি সবাইকে অবাক করে দিয়েছিল।

৪। রোয়ানোক কলোনি
ষোড়শ শতাব্দীর শেষের দিকে, রাণী এলিজাবেথ উত্তর আমেরিকায় ইংরেজদের স্থায়ী বন্দোবস্ত করার উদ্দেশ্যে রোয়ানোক আইল্যান্ড (বর্তমানে যা উত্তর ক্যারোলিনার একটি অংশ)- এ ‘রোয়ানোক কলোনি (Roanoke Colony)’ স্থাপন করেন। এই কলোনির কাহিনীও অনেকটা আটলান্টিসের মতই। অ্যাংলো-স্প্যানিশ যুদ্ধের পর এই কলোনির বাসিন্দারা হঠাৎ করেই অদৃশ্য হয়ে যায়, যার কারণে একে ‘দ্যা লস্ট কলোনি’ নাম দেয়া হয়। বিংশ শতাব্দীতে এসেও সেই কলোনির বাসিন্দাদের সাথে কি হয়েছিল, কীভাবে হয়েছিল, তাদের এভাবে হঠাৎ করে হারিয়ে যাওয়ার কারণ কি, কিচ্ছু জানা সম্ভব হয়নি। এ কারণেই, রোয়ানোক কলোনি এখনও মানুষের নিকট রহস্যই রয়ে গেছে।

৫। ওয়াও! সংকেত
ওয়াও! সংকেত (Wow! Signal) একটি ন্যারোব্যান্ড বেতার সংকেত। ১৯৭৭ সালের ১৫ই আগস্টে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির বিগ এয়ার নামক রেডিও টেলিস্কোপে এই সংকেত ধরা পড়ে। পরবর্তীতে, জ্যোতির্বিজ্ঞানী জেরি আর. এহম্যান সংকেতটি বিশ্লেষন করতে গিয়ে অভিভূত হয়ে এর কম্পিউটার প্রিন্টআউটের পাশে ‘Wow!’ লিখেন যা থেকে এই সংকেতের নামকরণ করা হয়। সাধারণত, সৌরজগতের ভিতর থেকে এই ধরনের সংকেত আসার কথা নয়। এতে পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা দেখা যাওয়ায়, সংকেতটি সবাইকে অবাক করে দিয়েছিল। এটি ৭২ সেকেন্ড ধরে বিরাজমান ছিল কিন্তু এরপর এই সংকেতটি আর পাওয়া যায়নি।

৬। রঙ্গোরঙ্গো
১৫তম শতাব্দীর প্রথম দিকে সম্পূর্ণ অজানা এক ভাষায় লিখিত ভয়নিচ পান্ডুলিপি (Voynich Manuscript) হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় পান্ডুলিপি। উইলফ্রিড ভয়নিচ নামক এক বই ব্যবসায়ী এবং পান্ডুলিপি সংগ্রাহক ১৯১২ সালে এটি সংগ্রহ করেন। ভয়নিচের নামানুসারেই এই পান্ডুলিপির নামকরন করা হয়। কিছু পাতা হারানো গেলেও, এর বর্তমান সংস্করণে প্রায় ২৩৪টি পাতা রয়েছে যার অধিকাংশই চিত্রালংকরণের সাথে গঠিত। পান্ডুলিপিটির অনেক বর্ণনাতে সে সময়ের ভেষজ পান্ডুলিপি, গাছপালার চিত্রালংকরণ এবং তাদের সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কিত তথ্য রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ এই পান্ডুলিপির আসল অর্থ উদঘাটন করতে পারেনি।

এরকম আরো এক রহস্যময় গ্লিফ পাওয়া যায় রাপা নুই (ইংরেজীতে ইস্টার এবং স্প্যানিশে ইস্লা দে পাস্কুয়া) দ্বীপে। ‘রঙ্গোরঙ্গো’ নামক এই গ্লিফটি রাপা নুই দ্বীপের আরেক রহস্য ‘মোয়াই’ সম্পর্কে লিখিত বলে ধারনা করা হলেও এখন পর্যন্ত তা পাঠোদ্ধার সম্ভব হয়নি। মোয়াই হচ্ছে, রাপা নুইদ্বীপে সংকুচিত আগ্নেয় শিলায় খোদাইকৃত অনেকগুলো আবক্ষ মূর্তি। প্রত্যেকটি মূর্তি একেকটি আস্ত শিলা হতে খোদাই করা হয়েছে, প্রত্যেকটি মূর্তির ওজন ২০ টন এবং উচ্চতা ২০ ফুট। এ পর্যন্ত ৮৮৭টি মোয়াই সম্পর্কে জানা গেছে, কিন্তু বর্তমানে ৩৯৪ টি মোয়াই দেখা যায়।

৭। ফ্রেডরিক ভ্যালেন্টিস
সেসনা ১৮২ মডেলের একটি বিমান নিয়ে ১৯৭৮ সালে ২০ বছর বয়সী এই পাইলট নিখোঁজ হয়ে যান। তিনি সে সময় তার সামনে চারটি উজ্জ্বল সবুজ আলো দেখতে পাচ্ছিলেন। এটি ছিলো রেডিওতে দেওয়া তার সর্বশেষ বক্তব্য। তিনি বলেছিলেন আলোটি তার চেয়ে এক হাজার ফুট উপরে ছিলো। তিনি বলেছিলেন আলোটি তার দিকে এগিয়ে আসছে। তবে সেটা কোন বিমান ছিলো না, এই বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছিলেন। এরপর আর কোন খোঁজ পাওয়া যায় নি। এটিই ছিলো তার শেষ কথা। বিমান নিয়ে তার হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ইতিহাসে এক অন্যতম রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে।

৮। এরডস্টাল
এরডস্টাল হলো ইউরোপের সরু আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল, যার সন্ধান পেয়ে সকলেই বিস্মিত। সাতশো’রও বেশি টানেলের সন্ধান পাওয়া গেছে, শুধুমাত্র জার্মানির বাভারিয়াতেই। টানেলগুলো এত সংকীর্ণ, যাদের উচ্চতা শুনলে মনে জাগবে বিস্ময়। টানেলগুলো উচ্চতায় এক থেকে দেড় মিটার উঁচু এবং চওড়া এক মিটারের মতো। এই টানেলগুলো কে বা কারা কী উদ্যেশ্যে তৈরি করেছিলো তা জানা যায় নি।

কোন পন্ডিতেরা বলে থাকেন, এই টানেলগুলো কোন ধর্মীয় কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছিলো, আবার কারো কারো মতে টানেলগুলো পালানোর পর আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই টানেলগুলো তৈরির পেছনের আসল রহস্য উদ্ধার হয় নি। এছাড়া টানেলগুলো অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে রহস্যজনকভাবে তৈরি করা হয়েছিলো। টানেলগুলোর ভিতরে ঢোকার মুখগুলোও ছিলো, কোনটা শহর থেকে দূরে, কোনটা বা গোরস্থানের ভেতরে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই টানেলগুলোর ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ পুরাতাত্ত্বিক কিছু পাওয়া যায় নি। এই টানেলগুলো পৃথিবীতে অন্যতম অমীমাংসিত রহস্য।

৯। ফুট বিচ ইন ব্রিটিশ কলাম্বিয়া
সমুদ্রের পানিতে পুরো শরীর ভিজবে ব্যাপারটি খুব স্বাভাবিক। এমনকি আমরা যারা সমুদ্রে বেড়াতে গিয়েছি কিংবা সমুদ্রের ব্যাপারে জেনেছি আমরা জানি সমুদ্রের পানিতে শরীর ভিজবেই। কিন্তু কলাম্বিয়ার একটি সমুদ্র রয়েছে যেখানে সমুদ্রের পানিতে পা সবসময় ভাসমান থাকে। ব্যাপারটি অদ্ভুত শোনালেও সত্য যে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ওই সমুদ্রে পা পানিতে ডুবে যায় না। সবসময় ভাসমান অবস্থায় থাকে। কেন এরকম হয় সে রহস্য আজ অব্দি রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে।

১০। ডিবি কুপার
ডিবি কুপার একটি বোয়িং হাইজ্যাক করেন এবং তিনি প্লেন থেকে লাফ দেবার জন্য মনস্থির করেন. তিনি প্লেন থেকে লাফ দেন, সাথে প্যারাসুট নিয়ে। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এবং ইউএস এভিয়েশনের ইতিহাসে এটি একমাত্র সমাধানহীন ঘটনা, যা কিনা ইতিহাসের পাতায় একটি রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে।

Wednesday, May 27, 2020

মহাভারতে কি শুধু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বিশ্বরূপ দেখিয়েছেন?

মনে রাখতে হবে বিশ্বরূপ কোন ব্যাক্তি বিশেষ দেখান না । ইহা ব্রহ্মের বিশালতা বোঝাতে ব্যাবহৃত করা হয়।
মনে রাখতে হবে শুধু মহাভারত ছাড়াও পুরো সনাতন শাস্ত্রে অনেকেই বিশ্বরূপ দেখিয়েছেন। দধীচি শ্রীবিষ্ণুকে দেখিয়েছেন, কৃষ্ণ অর্জুনকে, পরমেশ্বর শিব রাম এবং কৃষ্ণ ২ কেই দেখিয়েছেন।
সনাতন ধর্মের মাঝে মধ্যযুগীয় কিছু বিভেদকারী যারা পশ্চিমা মদতে সনাতন সমাজে শুধু বিভেদ ছড়িয়ে যাচ্ছে তাঁদের দাবী, একলা ঈশ্বর কৃষ্ণ আর সব দাস। কারন উনি ছাড়া নাকি আর কেউ বিশ্বরূপ দেখায় নাই। যা সম্পূর্ণ রূপে একটা ভ্রান্ত এবং মূর্খতার প্রমান আসুন দেখে নেই মহাভারত থেকে পরমেশ্বর ভগবান শিব কিভাবে উনার প্রিয় ভক্ত শ্রীকৃষ্ণকে বিশ্বরূপ দেখিয়েছিলেন।

 মহাভারতে পরমেশ্বর দেবাদিদেব মহাদেব শিবের বিশ্বরূপঃ-

মহাভারতের ভীষ্মপর্বে অর্জুনকে শ্রীকৃষ্ণ বিশ্বরূপ দেখিয়েছিলেন- একথা আমরা সবাই জানি কিন্তু এদিকে অনুশাসন পর্বে পাওয়া যায় যে শ্রীকৃষ্ণকে পরমেশ্বর পরমব্রহ্ম ভগবান মহাদেব বিশ্বরূপ দেখিয়েছিলেন, যা স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ যুধিষ্ঠিরের কাছে বর্ণনা করেন। রুক্মিনীর অনুরোধে শ্রীকৃষ্ণ পুত্র লাভ করার জন্য মহাদেবের তপস্যা করেছিলেন। তার পূর্বে উপমন্যুর নিকট দীক্ষা গ্রহন করেছিলেন। এই সকল বিষয় হরিদাসসিদ্ধান্তবগীশ অনুবাদিত মহাভারত (বাংলা সংস্করণে যেটি সর্ববৃহৎ মহাভারত) থেকে রেফারেন্স সহ হুবুহু নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

শ্রী কৃষ্ণ যুধিষ্ঠিরের কাছে বর্ণনা করতে লাগলেন,
ভারত নন্দন (যুধিষ্ঠির) মহর্ষি উপমন্যু এইভাবে মহাদেবের বিষয়ে কথা বলিতেছিলেন, তাহাতে আমাদের আটদিন যেন মূহুর্ত কালের ন্যায় অতীত হইয়া গেল। অষ্টম দিনে ব্রাহ্মণ উপমন্যু যথাবিধানে আমাকে দীক্ষিত করলেন এবং দণ্ডধারণ, মস্তকমুণ্ডন, কুশাসনোপবেশন, কৌপীনপরিধান, ঘৃতস্নান ও মেখলাবন্ধন করাইলেন। (মহা: অনুশাসন পর্ব, ১৩/৩৭৬-৩৭৭)

ভারতনন্দন! ফলমাত্র ভোজন করিয়া এক মাস, জল মাত্র পান করিয়া দুই মাস এবং বায়ু মাত্র গ্রহন করিয়া তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চমমাস অতিবাহিত করিয়া একপদে দাঁড়াইয়া, ঊর্দ্ধবাহু ও সতর্ক হইয়া আকাশে সহস্র সূর্য্যের তেজ দেখিতে পাইলাম। (মহা: অনুশাসন পর্ব, ১৩/৩৭৮-৩৭৯)

পাণ্ডুওনন্দন! সেই তেজের মধ্যবর্তী ইন্দ্রধনুতে পরিবেষ্টিতাঙ্গ, গাবাক্ষতুল্য, বিদ্যুন্মালা যুক্ত, নীলপর্ব্বতসদৃশ, বকপংক্তিদ্বাবাহি যেন আকাশবশোভা জনক একটা তেজঃপুঞ্জ দেখিতে পাইলাম।
(মহা: অনুশাসন পর্ব, ১৩/৩৮০)

“তপস্যা, তেজ ও কান্তিদ্বারা উজ্জ্বলা ভার্য্যা পার্ব্বতীর সহিত মহাতেজা ভগবান মহাদেব সেই তেজঃপুঞ্জের মধ্যে অবস্থান করিতেছিলেন।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৩৮১)

“চন্দ্রের সহিত সন্ধ্যাবাগবঞ্জিত, মেঘস্থিত সূর্য্যের ন্যায় পার্ব্বতীর ভগবান মহাদেব সেই তেজঃপুঞ্জের মধ্যে শোভা পাইতেছিলেন।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৩৮২)

“কুন্তিনন্দন! দেবগনের অবলম্বন ও পীড়ানাশক মহাদেবকে আমি দেখিতে পাইলাম, তৎকালে আমার দেহ রোমাঞ্চিত ও বিস্ময়ে নয়নযুগল উৎফুল্ল হইল।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৩৮৩)

“বর্ষাকাল অতীত হইলে মানুষ যেমন পরিবেশমধ্যবর্ত্তী পূর্ণচন্দ্র দর্শন করে, আমিও সেইরূপ মহাদেবকে দর্শন করিলাম। তৎকালে তাঁহার মস্তকে কিবীট ও জটা, হস্তে গদা, শূল, দণ্ড, পিনাক ধনু ও বজ্র, বাহুতে কেষুব, কণ্ঠদেশে সর্পের ন্যায় যজ্ঞোপবীত, বক্ষে গুলফদেশপর্য্যন্তপাতিনী একবর্ণ দিব্যমালা এবং সুন্দর দন্ত তিনি ধারণ করিতেছিলেন।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৩৮৪-৩৮৫

“তৎকালে মহাদেব সকল দিকে প্রথমগনে পরিবেষ্টিত হওয়ায় শরৎকালে পরিবেশমধ্যবর্ত্তী সূর্যের ন্যায় তিনি অত্যন্ত দুর্দ্দর্শনীয় ছিলেন। আর একাদশ রূদ্রস্থানে একাদশশত রুদ্র তাঁহাকে পরিবেষ্টন করিয়াছিলেন এবং তিনি দয়া প্রকাশে শুভকর্ম্মী ও ভত্তাকৃষ্টচিত্ত ছিলেন। এই অবস্থায় আমি মহাদেবের স্তব করিলাম।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৩৮৬-৩৮৭)

“আদিত্যগণ, বসুগন৷ সাধ্যগন, বিশ্বদেবগ ও অশ্বিনীকুমারদ্বয় ব্রহ্মবিষয়া স্তুতিদ্বারা সেই মহাদেবকে স্তব করিতেছিলেন”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৩৮৮)

“আদিতিনন্দন ইন্দ্র ও ভগবান বিষ্ণু এবং ব্রহ্মা বথন্তব নামক সামবেদাংশ মহাদেবের নিকট পাঠ করিতেছিলেন।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৩৮৯)

“রাজা (যুধিষ্ঠির)! বহুতব প্রধান যোগী, পুত্রগনের সহিত ব্রহ্মর্ষিগ, দেবর্ষিগন পৃথিবী, আকাশ, নক্ষত্রগন, গ্রহগন, মাস, পক্ষ, ঋতু, রাত্রি, বৎসর, ক্ষণ, মুহুর্ত, নিমেষ, যুগসমূহ, বহুতল অলৌকিক বিদ্যা ও সত্ত্বাদিগুনজ্ঞ লোকেরা, যোগশক্তিদাতা জগৎপিতা ও জগদগুরু মহাদেবকে নমস্কার করিতেছিলেন৷”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৩৯০-৩৯২)

“রাজা যুধিষ্ঠির! সনৎকুমার, বেদ, ইতিহাস, মরীচি, অঙ্গিরা, অত্রি, পুলস্ত্য, পুলহ, ক্রত, সপ্ত, মনু, চন্দ্র, অথর্ব্বা, বৃহস্পতি, ভৃগু, দক্ষ, কশ্যপ, বসিষ্ঠ, কাশ্যচ্ছন্দ, দীক্ষা, যজ্ঞ, দক্ষিণা, অগ্নি, হবি ও যজ্ঞোপকরণ দ্রব্য, সমস্ত প্রজাপালক, নদী, সর্প, বৃক্ষ, সমস্ত দেব মাতা, দেবপত্নী, দেবকন্যা, সহস্র সহস্র, অযুত অযুত ও অর্বুদ অর্বুদ মুনি, পর্বত, সমুদ্র ও দিকসকল শান্তমূর্তি প্রভু মহাদেবকে নমস্কার করিতেছিলেন।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৩৯৩-৩৯৭)

“গান ও বাদ্য সুনিপুণ গন্ধর্ব্ব ও অপ্সরারা দিব্যতালে ও অদ্ভুতভাবে গান করিতে লাগিল এবং মহাদেবের স্তব করতে থাকিল।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৩৯৮)

“মহারাজ (যুধিষ্ঠির)! বিদ্যাধর, দানব, গুহ্যক ও রাক্ষসগন এবং সমস্ত স্থাবর ও জঙ্গম প্রাণিগন বাক্য মন ও কর্মদারা মহাদেবকে নমস্কার করিতে লাগিল।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৩৯৯)

“ভারতনন্দন (যুধিষ্ঠির)! তৎকালে দেবেশ্বর মহাদেব আমার সম্মুখে অবস্থিত ছিলেন। মহাদেব আমার সম্মুখে অবস্থিত দেখিয়া, ব্রহ্মা ও ইন্দ্রপ্রভৃতির সহিত সমগ্র জগৎ আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করিল, কিন্তু তখন মহাদেবের প্রতি দৃষ্টিপাত করিতে আমার শক্তি হইলো না।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪০০-৪০১)

“তাহার পর মহাদেব আমাকে বলিলেন,
কৃষ্ণ! তুমি আমাকে দর্শন কর এবং তোমার অভিলাষ বল, তুমি শত শত ও সহস্র সহস্র ভাবে আমার আরাধনা করিয়াছ। ত্রিভুবনে তোমার তুল্য অন্যকেহ আমার প্রিয় নাই।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪০২)

“এই সময়ে আমি (কৃষ্ণ) মস্তকদ্বারা মহাদেবকে প্রণাম করিলে, উমাদেবী সন্তুষ্ট হইলেন। তদনস্তর আমি (কৃষ্ণ) ব্রহ্মাদিদেবগনস্তুত মহাদেবকে বলিতে লাগিলাম..
নিত্য জগৎকারণ (মহাদেব) আপনাকে নমস্কার। ঋষিরা আপনাকে ব্রহ্মারও অধীশ্বর বলেন এবং সাধু পুরুষেরা আপনার তপ, সত্ত্ব, রজ, তম ও সত্য, বলিয়া থাকেন।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪০৩-৪০৪)

“আপনি ব্রহ্মা, রুদ্র, বরুণ, অগ্নি, মনু, শিব, ধাতা, বিধাতা, ও হষ্টা এবং আপনি সর্ব্বদর্শী প্রভু। স্থাবর ও জঙ্গম সমস্ত প্রাণী আপনা হইতে জন্মিয়াছে, এবং আপনিই এই সমগ্র সচরাচর ত্রিভুবন সৃষ্টি করিয়াছেন।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪০৫-৪০৬)


যে সমস্ত ইন্দ্রিয়, যে সমস্ত মন, যে সমস্ত বায়ু, যে সপ্ত অগ্নি, যে সকল দেবর্ষি ও যে সমস্ত দেবতা আছেন, ঋষিরা আপনাকে সে সমস্ত হইতেই প্রধান বলেন।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪০৭)

“ভগবান (মহাদেব)! বেদ, যজ্ঞ, সোমরস, দক্ষিণা, অগ্নি, হবি, এবং যা কিছু যজ্ঞের উপকরণ, সে সমস্তই আপনি, এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪০৮)

“মহাদেব! যজ্ঞ, দান, অধ্যয়ন, ব্রত, যে সকল নিয়ম এবং যে লজ্জা, কীর্ত্তি, শ্রী, দ্যুতি, তুষ্টি ও সিদ্ধি অছে, সে সমস্তি আপনাতে অর্পণ করা উচিত।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪০৯)

“ভগবান! মহাদেব! কাম, ক্রোধ, ভয়, লোভ, মত্ততা, স্তব্ধতা, মাৎসর্য্য, মনের পীড়া ও দেহের রোগ এ সমস্তই আপনার মূর্তি।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪১০)

“প্রকৃতি, বিকৃতি, হেতু, জগতের কারণ, অবিনশ্বর, মূল প্রকৃতি, মননের পরম কারণ, তত্ত্ববোধ ও চিবন্তন ঐশ্বর্য এই সমস্তই আপনি।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪১১)

“অস্পষ্ট চিম্ময়, পাবন, অচিন্তনীয়, সূর্য্যের ন্যায় মহাতেজা, সমস্ত পর্দার্থের আদি এবং জীবাত্মা আপনি।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪১২)

“পরমব্রহ্ম, বুদ্ধি, ব্রহ্মা, বিশ্বব্যাপী শম্ভু, স্বয়ম্ভূ, ভ্রান্তি, প্রমা, প্রত্যক্ষ, চৈতন্য, প্রতিজ্ঞা, যশ, ধৈর্য ও স্মৃতি এই সকল আপনি।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪১৩)

“জ্ঞানীরা এই সকল পর্য্যায় শব্দদ্বরা আপনাকে পরমাত্মা বলিয়া মনেকরেন এনং ব্রাহ্মণ বেদপাঠপূর্বক আপনাকে জানিয়া মোহকে দূরীভূত করেন।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪১৪)

“ঋষিস্তুত আপনি, সমস্ত প্রাণীর হৃদয়স্থিত জীবাত্মা। জগতে সকল দিকেই আপনার হস্ত ও পদ, সকল দিকেই চক্ষু, মস্তক, ও মুখ, এবং সকল দিকেই আপনার কর্ম্ম বহিয়াছে। আর আপনি সমস্ত ব্যাপিয়া অবস্থান করিতেছেন। বিশেষতঃ জীবাত্মার স্পন্দনাদি কর্য্যের ফল জীবনও আপনিই।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪১৫-৪১৬)

“মহাদেব! আপনি আলোক, শিখা, সাংখ্যপ্রসিদ্ধ পুরুষ, সমস্ত প্রাণীর হৃদয়স্থিত জীবাত্মা, অণিমা, লঘিমা ও প্রাপ্তিশালী জগতের ঈশ্বর, পরমাত্মা, অবিনশ্বর।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪১৭)

“মহাদেব! যাহাদের বুদ্ধি ও মন আপনাতে থাকে এবং যে সকল লোক আপনার শরণাপন্ন ও আশ্রিত, আর ধ্যানী, যোগী, অধ্যবসায়ী ও জিতেন্দ্রিয় হয়, তাহারাই ধন্য।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪১৮)

“মহাদেব! যিনি আপনাকে হৃদয়স্থিত, জীবাত্মা, প্রভু, পুরাণপুরুষ, মূর্ত্তিমান পরব্রহ্ম ও জ্ঞানীগনের পরম গতি বলিয়া নিশ্চিত ভাবে জানেন, সেই জ্ঞানীলোক লৌকিক বুদ্ধি অতিক্রম করিয়া থাকেন।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪১৯)

“যিনি যোগাবলম্বনে থাকেন, তিনি আপনাতেই প্রবেশ করেন।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪২০)

“পৃথানন্দন (যুধিষ্ঠির)! জগতের পীড়ানাশক মহাদেবের প্রতি আমি (কৃষ্ণ) এইরূপ বলিলে, তখন স্থাবরজঙ্গমাত্মক সমগ্র জগত সিংহনাদ করিয়া উঠিল।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪২১)

“সেই সময়ে, দেবগন, মহর্ষিগন, ব্রাহ্মণগন, অসুরগন, নাগগন, পিশাচগন, পিতৃগন, পক্ষিগন, রাক্ষসগন ও সমস্ত ভূতগন মহাদেবকে নমস্কার করিলেন।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪২২)

“ক্রমে ক্রমে আমার (কৃষ্ণের) মস্তকে স্বর্গীয় সুগন্ধি পুষ্পরাশি নিপতিত হইতে লাগিল এবং অত্যন্ত সুখজনক বায়ু বহিতে থাকিল।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪২৩)

“তখন জগতের হিতকারী ভগবান মহাদেব, পার্ব্বতীদেবী আমার (কৃষ্ণ) ও ইন্দ্রের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া স্বয়ং আমাকে বলিলেন।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪২৪)

“(মহাদেব বললেন) শত্রুহস্তা কৃষ্ণ! সকলেই আমার প্রতি তোমার পরমভক্তির বিষয় জানেন। তুমি এখন নিজের মঙ্গল বিধান কর। তোমার উপরে আমার পরম প্রীতি জন্মিয়াছে।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪২৫)

“সাধুশ্রেষ্ঠ কৃষ্ণ! তুমি আটটী বর প্রার্থনা কর। আমি তাহা তোমাকে দান করিব। অতএব যদুবংশশ্রেষ্ঠ! অতি দুর্লভ যে সকল বর তুমি ইচ্ছা কর, তাহা বল।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৩/৪২৬)

“কৃষ্ণ বলিলেন- তাহার পর আমি অত্যন্ত আনন্দ লাভ করিয়া ভূতলে নিপতিত হইয়া মস্তকদ্বারা প্রণাম করিয়া, তেজোরাশির মধ্যবর্ত্তী ভগবান মহাদেবকে বলিলাম-
ধর্ম্মানুষ্ঠানে দৃঢ়তা, যুদ্ধে শত্রুসংহার, উত্তম যশ, উৎকৃষ্ট বল, যোগানুষ্ঠানে প্রীতি, আপনার সান্নিধ্য এবং দশসহস্র পুত্র আমি বরণ করি।”
(মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৪/১-২)

[এইখানে আরো কিছু বর চান কৃষ্ণ এবং সেগুলো প্রদানের পর মহাদেব ও মহাদেবী অন্তর্নিহিত হইলেন]
সনাতন সমাজকে অনুরোধ এই বিভেদকামী পশ্চিমা মদতপুষ্ট অসুরদের বর্জন করুন এবং সনাতন সমাজকে আশু ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুন।
নমস্কার।
হর হর মহাদেব। 

Thursday, May 21, 2020

শ্রীকৃষ্ণ কে?

আমার প্রাণ প্রিয় ভ্রাতা পশ্চিম বঙ্গের শ্রী জয় বিশ্বাসের লেখা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমার এই লেখা।
শ্রীকৃষ্ণ কি সাধারণ মানব?

শ্রীকৃষ্ণ কি ভক্তের উপাস্য?

শ্রীকৃষ্ণ কি পরমাত্মা?

শ্রীকৃষ্ণ কি পরমেশ্বর??

বেদান্তবাদীদের দৃষ্টিতে শ্রীকৃষ্ণ বিষয়ক এরূপ প্রশ্নের উত্তর।

*ওঁ নমঃ ভগবতে বাসুদেবায়*

সনাতন ধর্মের এক কেন্দ্রীয় চরিত্র শ্রীকৃষ্ণ।

সনাতন ধর্মের এমন কোন আচার্য্য, পন্ডিত, মহাপুরুষ, যোগী, সসম্প্রদায়, মতবাদ কিংবা সাধারণ ব্যাক্তিবর্গ নেই যারা শ্রীকৃষ্ণ নিয়ে মন্তব্য করেন নি। প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ দৃষ্টিতে শ্রীকৃষ্ণ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র তার কৃষ্ণ চরিত্র গ্রন্থে শ্রীকৃষ্ণ এর এক শুদ্ধ চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন।

যেহেতু সকল সম্প্রদায় এবং ব্যাক্তিবর্গ শ্রীকৃষ্ণ নিয়ে মন্তব্য করেছেন সেহেতু শ্রীকৃষ্ণ যে এক বিশেষ চরিত্র এবং চর্চার বিষয় ইহাতে সন্দেহ নাই। আমি বেদান্তবাদী দৃষ্টিকোণ হতে শ্রীকৃষ্ণ কে বর্ণনা করার প্রয়াস করছি।

আচার্য্য শ্রীমৎ শংকরাচার্য শ্রীকৃষ্ণ নিয়ে একাধিক স্ত্রোত্র রচনা করেছেন। সেই স্ত্রোত্র এর দ্বারা শুরু করছি।

অচ্চ্যুতং কেশবং রামনারায়ণং

কৃষ্ণদামোদরং বাসুদেবং হরিম্।।

শ্রীধরং মাধবং গোপিকাবল্লভং

জানকীনায়কং রামচন্দ্রং ভজে।।

অচ্চ্যুতং কেশবং সত্যভামাধবং

মাধবং শ্রীধরং রাধিকারাধিতম্।।

ইন্দিরামন্দিরং চেতসা সুন্দরং

দেবকীনন্দনং নন্দজং সন্ধধে।।

বিষ্ণবে জিষ্ণবে শংখিনে চক্রিণে

রুক্মীণিরাগীনে জানকীজানয়ে।।

বল্লবীবল্লভায়ার্চিতায়াত্মনে

কংসবিদ্ধংসিনে বংশিনে তে নমঃ।।

কৃষ্ণগোবিন্দ হে রামনারায়ণ

শ্রীপতে বাসুদেবজিতশ্রীনিধে।।

অচ্চ্যুতানংত হে মাধবাধোক্ষজ

দ্বারকানায়ক দ্রৌপদীরক্ষক।।

(অচ্চ্যুতাষ্টকম -আদি শংকরাচার্য স্ত্রোত্রম্)।

ব্রহ্ম নির্গুণ এবং সগুণ এই কথা শাস্ত্র সিদ্ধ। সেহেতু সগুণ ব্রহ্ম বিশেষ কোন যোগীর মধ্যে প্রকট হয়ে জগৎ কল্যাণ নিমিত্তে অবশ্যই অবতীর্ণ হতে পারেন। তার সৃষ্টি, তার কার্য, তার লীলা তিনি চাইলে যা খুশি করতে পারেন।

ব্রহ্মসূত্র ২-১-৩৩ বলছে –

লোকবত্তু, লীলাকৈবল্যম্।

অর্থাৎ ব্রহ্মের সৃষ্টি কার্যাদি তাঁহার লীলা মাত্র যাঁহা সাধারণ লৌকিক দৃষ্টান্তেও দেখা যায়।

গীতা ৪/৬ বলা হচ্ছে

অজোহপি সন্নব্যয়াত্মা ভূতনামীশ্বরোহপি সন্।

প্রকৃতিং স্বামধিষ্ঠায় সম্ভবাম্যাত্মমায়য়া।।

অর্থাৎ আমি জন্মরহিত, অবিনশ্বর এবং সর্বভূতের ঈশ্বর হইয়াও নিজ প্রকৃতিতে অধিষ্ঠান করিয়া আত্মমায়ায় আবির্ভূত হই।

ব্রহ্মসূত্র ১-২-২৯

অভিব্যক্তেরিত্যাশ্মরথ্যঃ

অর্থাৎ আশ্মরথ্য মুনি বলেন, পরমাত্মা অসীম হলেও ভক্তের প্রতি কৃপা পরবশ হয়ে বিশেষ বিশেষ রূপে প্রকাশিত হন।

গীতা ৪/৭-৮ বলা হচ্ছে

যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।

অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্।।

পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।

ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।

অতঃপর গীতা ৪র্থ অধ্যায়ের ৯ম ও ১০ম শ্লোকে এমনও বলা হচ্ছে,

“হে অর্জুন, আমার এই দিব্য জন্ম ও কর্ম যিনি তত্ত্বতঃ জানেন, তিনি দেহত্যাগ করিয়া পুনর্বার আর জন্মপ্রাপ্ত হন না। একাগ্রচিত্তে আমার শরণাপন্ন হইয়া, আমার জন্মকর্মের তত্ত্বালোচনা রূপ জ্ঞানময় তপস্যা দ্বারা পবিত্র হইয়া অনেকে আমার পরমানন্দে চিরস্থিতি লাভ করিয়াছেন।”

★শ্রুতি এই মায়াবী শক্তিসমূহের সাহায্যে জগৎ শাসন করা এবং একই রূপ ভাবে সেই তত্ত্ব জানায় অমৃতলাভ এর কথা স্বীকার করেন৷ শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ ৩-১ দ্রষ্টব্য।

বৃহদারণ্যক উপনিষদঃ ১-৪-(৫-৬) নং শ্লোক

সোহবেদহং বাব সৃষ্টিরস্ম্যহং হীদং সর্বমসৃক্ষীতি ততঃ সৃষ্টির ভবৎ সৃষ্ট্যাং হাস্যৈতস্যাং ভবতি য এবং বেদ।।

অর্থঃ তিনি অবগত হইলেন, “আমিই সৃষ্টিরূপে বিদ্যমান; কারণ আমিই এই সমস্ত সৃজন করিয়াছি”। সেই জন্যই তাঁহার নাম হইল সৃষ্টি। যিনি এই সৃষ্টিকে জানেন তিনিও সৃষ্টা।

আর শ্রীকৃষ্ণ অবশ্যই সমগ্র সৃষ্টিকে জানতেন। এবং তিনি জানতেন বলেই সৃষ্টি বিষয়ক সমস্ত জ্ঞান ব্যাক্ত করেছেন।

কিন্তু শ্রুতিতে ঈশ্বর জন্ম রহিত বলে উল্লেখিত হয়েছে কিন্তু গীতায় আবার জন্মপ্রাপ্ত হওয়া বিরুদ্ধ আচরণ নয় কি?

আচার্য্য শংকর তার গীতা ভাষ্য ৪-৬-১ এ বলেছেন,

“শংকরভাষ্যঃ ‘অজঃ অপি’ জন্মরহিতঃ অপি ‘সন্’ তথা ‘অব্যয়াত্মা’ অক্ষীণজ্ঞানশক্তিস্বভাবঃ অপি সন্ তথা ‘ভূতানাং’ ব্ৰহ্মাদিস্তম্বপর্যন্তানাম্ ‘ঈশ্বরঃ’ ঈশনশীলঃ ‘অপি সন্, প্রকৃতিং স্বাং’ মম বৈষ্ণবীং মায়াং ত্রিগুণাত্মিকাং যস্যা বশে সর্বং জগৎ বর্ততে যয়া মোহিতং সৎ স্বম্ আত্মানং বাসুদেবং ন জানাতি, তাং প্ৰকৃতিং স্বাম্ ‘অধিষ্ঠায়’ বশীকৃত্য ‘সস্তবামি’ দেহবান্ ইব ভৰামি জাত ইব ‘আত্মমায়য়া’ আত্মানো মায়য়া ন পরমার্থতো লোকবৎ।। (৬/১)

ভাষ্যানুবাদঃ আমি অজ অর্থাৎ জন্মরহিত হয়েও, অব্যয়াত্মা অক্ষীণজ্ঞানশক্তি-স্বভাব হয়েও এবং ব্রহ্মা থেকে তৃণ পর্যন্ত ভূত সকলের ঈশ্বর অর্থাৎ নিয়ামক হয়েও স্বীয়া প্রকৃতি অর্থাৎ আমার ত্ৰিগুণাত্মিকা বৈষ্ণবী মায়া, যাঁর বশে সমস্ত জগৎ বর্তমান, যার দ্বারা মোহিত হয়ে লোকে নিজের আত্মা বাসুদেবকে জানতে পারে না, সেই নিজ প্রকৃতিতে অধিষ্ঠিত হয়ে অর্থাৎ তাঁকে বশীভূত করে সম্ভাবিত হই অর্থাৎ আত্মমায়ার দ্বারা যেন লোকবৎ দেহ ধারণ
করে জন্ম গ্রহণ করি, কিন্তু পরমার্থতঃ নয় ।

ভাষ্যবিবৃতিঃ “মম বৈষ্ণবীং মায়া” এখানে স্বীয় শক্তির অভেদ সম্বন্ধে শ্রীকৃষ্ণ নিজের অবতরণের কথা বলছেন, কারণ সদসদাত্মিকা
অনির্বচনীয়া মহামায়াই ব্ৰহ্মাশ্রয়ে সব করেন ও হন, পরন্ত ব্ৰহ্ম ত্ৰিকালে অচ্যুত ভাবেই অবস্থান করেন। আবার শ্রীরামকৃষ্ণদেব ঐ অভেদ সম্বন্ধেই বলেছেন, “বেদে যাকে ব্ৰহ্ম বলেছে, আমি তাঁকেই ‘মা’ বলে উপাসনা করি।”

এখন অনেকেই আছেন যারা অবতারবাদ স্বীকার করেন না। সেহেতু তাদের ক্ষেত্রেও শ্রীকৃষ্ণ বেদান্তমতে পূজনীয় হতে পারেন এমন কিছু প্রমাণ দিচ্ছি।

মহর্ষি ব্যাস তার ব্রহ্মসূত্রের ১-১-৩০ নং সূত্রে বলেছেন-

শাস্ত্রদৃষ্ট্যা তূপদেশো বামদেববৎ

অর্থাৎ ইন্দ্রের উপদেশ এখানে বামদেব ঋষি বলেছিলেন। এইরূপ বলা শাস্ত্রসম্মত হয়েছে ব্রহ্মজ্ঞান লাভের দ্বারা।

ঋষি বামদেব ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করার পর বলেছিলেন, “আমিই ছিলাম মনু, এবং আমিই ছিলাম আদিত্য”- ইত্যাদি। এই উক্তিতে শ্রুতির দ্বারা সমর্থন করা হচ্ছে। কারণ শ্রুতিতে বলা আছে,

“দেবগণের মধ্যে যিনিই ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করেছিলেন তিনিই ব্রহ্ম হয়ে গেলেন। ”

বৃহদারণ্যক উপনিষদঃ ১-৪-১০

অহং ব্রহ্মাস্মীতি। তস্মাৎ তৎ সর্বমভবৎ তদ্ যো যো দেবানাং প্রত্যবুধ্যত স এব তদভবৎ তথর্ষীণাং তথা মনুষ্যাণাং তদ্ধৈতৎ পশ্যন্নৃষির্বামদেবঃ প্রতিপেদেহহং মনুরভবং সূর্যশ্চেতি।

মুণ্ডক উপনিষদ ৩-২-৯

স যো হ বৈ তৎ পরমং ব্রহ্ম বেদ

ব্রহ্মৈব ভবতি

অর্থাৎ যে কেহ সেই পরব্রহ্মকে জানেন, তিনি ব্রহ্মই হয়ে থাকেন।

যেহেতু শ্রুতি ব্রহ্মজ্ঞানবিৎকে ব্রহ্মই আখ্যায়িত করেছেন। আর শ্রীকৃষ্ণ ব্রহ্মজ্ঞানী ছিলেন না এমন কথা কেউ বলেন নাই। কারণ ব্রহ্মজ্ঞানী ব্যাতীত কেউই গীতার ন্যায় ব্রহ্মশাস্ত্র মুখনিঃসৃত করতে পারবে না।

★অনেকেই মনে করেন গীতা জ্ঞান শ্রীকৃষ্ণ যোগযুক্ত হয়ে বলেছেন। গীতার শেষ অধ্যায়েও সঞ্জয় শ্রীকৃষ্ণকে যোগেশ্বর সম্বোধন করেছেন। এখন

যোগ+ ঈশ্বর = যোগেশ্বর

যদি বলে হয় যোগী ঈশ্বরে যুক্ত কিংবা যোগ যুক্ত ঈশ্বর অথবা ঈশ্বর যোগীর সাথে যোগে যুক্ত উভয় ভাবেই যোগেশ্বর কথাটি সিদ্ধ। কোন সাধারণ মানব চাইলেই এরূপ যুক্ত হতে পারেন না। কেবল ব্রহ্মজ্ঞ বা সিদ্ধ যোগীর দ্বারা এরূপ যুক্ত হওয়া সম্ভব। সেহেতু শ্রীকৃষ্ণ যে ব্রহ্মজ্ঞ ছিলেন এতে কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়। আর এরূপ ব্রহ্মজ্ঞকে শ্রুতি ব্রহ্ম বলে আখ্যায়িত করেছে। সেহেতু শ্রীকৃষ্ণ অবশ্যই সকলের পূজনীয় এবং আরাধ্যও বটে।

অর্জুনও শ্রীকৃষ্ণকে যোগেশ্বর হিসেবে সম্বোধন করেছিলেন। তাই কেউ যদি যোগেশ্বর হিসেবেও শ্রীকৃষ্ণকে মান্য করে তাতেও দোষ নাই।

গীতা ১১/৪

মন্যসে যদি তচ্ছক্যং ময়া দ্রষ্টুমিতি প্রভো।

যোগেশ্বর ততো মে ত্বং দর্শয়াত্মানমব্যয়ম্।।

অর্থাৎ হে প্রভো, যদি তুমি মনে কর যে আমি সেই রূপ দর্শনের যোগ্য, তাহলে হে যোগেশ্বর, আমাকে তোমার সেই অক্ষয় আত্মরূপ প্রদর্শন করাও।

উল্লেখ্য যে কোন সিদ্ধ যোগী তার আত্মরূপ এর দ্বারা এরূপ বিশ্বরূপ দেখাতেও সক্ষম। কারণ ব্রহ্মনির্বাণপ্রাপ্ত যোগী স্বয়ং ব্রহ্মই হয়ে যান।

এবার আসি পরমাত্মা প্রসংগে। শ্রীকৃষ্ণকে পরমাত্মা সম্বোধন করা যাবে কিনা?

উপদ্রষ্টানুমন্তা চ ভর্তা ভোক্তা মহেশ্বরঃ।

পরমাত্মেতি চাপ্যুক্তো দেহেহস্মিন্ পুরুষঃ পরঃ।। (গীতা ১৩/২২)

অর্থাৎ এই দেহে যে পরম পুরুষ আছেন, তিনি উপদ্রষ্টা, অনুমন্তা, ভর্তা, ভোক্তা, মহেশ্বর ও পরমাত্মা বলেও উক্ত হন।

ব্ররহদারণ্যক ৪-৪-৫ বলছে-

অয়মাত্মা ব্রহ্ম (আত্মাই ব্রহ্ম)

এছাড়াও মহর্ষি ব্যাস তার ব্রহ্মসূত্রে বলেছেন জীব আত্মাকে যথার্থরূপে জানলে তিনি পরমাত্মাই হন।

আত্মা, প্রকরণাৎ (ব্রহ্ম সূত্র ৪-৪-৩)

তিনি পরমাত্মা, কারণ ইহা প্রকরণ এর আলোচ্য বিষয় হতে বুঝা যায়।

অবিভাগেন, দৃষ্টত্বাৎ (ব্রহ্ম সূত্র ৪-৪-৪)

মুক্ত অবস্থায় জীব ব্রহ্মের সহিত অভিন্নভাবে বর্তমান থাকে। অর্থাৎ মুক্ত জীব ও পরমাত্মা একই। কারণ শাস্ত্রে আছে তত্ত্বমসি। ব্রহ্মবিদ্ ব্রহ্মই হয়ে যান৷ অর্থাৎ যিনি পরমাত্মাকে জানেন তিনিই পরমাত্মা। এই অবস্থায় পরমাত্মার ন্যায় মুক্ত পুরুষ সর্বভুতে সমদর্শী হন। এবং সমস্ত ব্রহ্মান্ড নিজের হতে অভেদ দর্শন করেন।

পরম পুরুষ শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী মুক্তি লাভ এর পর বলেছিন-

আমার জন্ম নেই, মৃত্যুও নেই। আমি নিত্য, শুদ্ধ, মুক্ত। আমিই গীতায় বর্ণিত পরমাত্মা।

সেহেতু শ্রীকৃষ্ণ আত্মতত্ত্ব অবগত ছিলেন এবং তিনিই পরমাত্মা ইহাতে সন্দেহ নাই। কারণ এরূপ পুরুষ ও পরমাত্মাতে কোন ভেদ দর্শিত হয় না।

আত্মানং চেদ্ বিজানীয়াদয়মস্মীতি পূরুষঃ

কেহ পরমাত্মাকে ‘আমিই ইনি (পরমাত্মা)’ এই রূপে জানেন। (বৃঃউপঃ ৪-৪-১২)

যিনি এইভাবে নিজেকে পরমাত্মা জানেন তিনি বিশ্বের কর্তা; কারণ তিনিই সকলের কর্তা, সকলেই তাঁহার আত্মা এবং তিনিই সকলের আত্মা। (বৃঃউপঃ ৪-৪-১৩)

গীতা ১১/৪১-৪৪ অর্জুন বলছেন-

তোমার এই বিশ্বরূপ এবং ঐশ্বর্যমহিমা না জেনে তোমাকে সখা ভেবে অজ্ঞানবশতঃ বা প্রণয়বশতঃ “হে কৃষ্ণ, হে যাদব, হে সখা”, এইরূপ তোমায় বলেছি; হে অচ্যুত, আহার, বিহার, শয়ন ও উপবেশনকালে একা অথবা বন্ধুজনসমক্ষে পরিহাসচ্ছলে তোমার কত অমর্যাদা করেছি; অচিন্ত্যপ্রভাব তুমি, তোমার নিকট তজ্জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

হে অমিতপ্রভাব, তুমি এই চরাচর সমস্ত লোকের পিতা, তুমি পূজ্য, গুরু ও গুরু হতে গুরুতর; ত্রিজগতে তোমার তুল্য কেহ নাই, তোমা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ থাকবে কি প্রকারে?

হে দেব, পূর্বোক্তরূপে আমি অপরাধী, সেই হেতু দণ্ডবৎ প্রণাম পূর্বক তোমার প্রসাদ প্রার্থনা করছি। সকলের বন্দনীয় ঈশ্বর তুমি; পিতা যেমন পুত্রের, সখা যেমন সখার, প্রিয় যেমন প্রিয়ার অপরাধ ক্ষমা করেন, তুমিও তদ্রুপ আমার অপরাধ ক্ষমা কর।

★এক এক করে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর বেদান্ত সিদ্ধান্ত সিদ্ধ হওয়ায় আমি শ্রীকৃষ্ণকে উপাস্য রূপে মান্য করছি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে ভক্ত অবশ্যই ভজনা করতে পারেন। শ্রীকৃষ্ণ তথা পরমাত্মার প্রতি শরণাগতিই জীবের পরমগতি। সমস্ত কিছু শ্রীকৃষ্ণে বা গোবিন্দে সমর্পণ করে কর্ম করাই প্রকৃত ভক্তের চিত্ত শুদ্ধির অন্যতম উপায়। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এর প্রকৃতি পরিচয় দেহধারী কৃষ্ণ নয়। কারণ যিনি মুক্ত ও পারমার্থিক সত্য তিনি কোন দেহের অধীন নন। পরমাত্মাকে দেহধারী মনে করে সেই দেহরূপ কৃষ্ণকে একমাত্র ঈশ্বর বা কারণ মনে করা বেদান্ত সম্মত নয়।

কারণ শ্রীকৃষ্ণ নিজেই গীতায় বলেছেন –

অব্যক্তং ব্যাক্তিমাপন্নং মন্যস্তে মামবুদ্ধয়ঃ।

পরং ভাবমজানস্তো মমাব্যয়মনুত্তমম্।। (গীতা ৭/২৪)

অর্থাৎ অল্পবুদ্ধি ব্যাক্তিগণ আমার নিত্য, অব্যাক্ত, সর্বোৎকৃষ্ট পরম স্বরূপ না জানায় অব্যাক্ত আমাকে প্রাকৃত মনুষ্যবৎ ব্যাক্তিভাবাপন্ন মনে করে।

বেদান্ত ইহাই স্বীকার করে যে ব্রহ্ম এর নির্গুণ ও অব্যাক্ত অবস্থা নিত্য। কোন মনুষ্য দেহধারীকে বেদান্ত মায়া দ্বারা আখ্যায়িত করেন। সেহেতু শ্রীকৃষ্ণ এর মনুষ্য দেহের নয় বরং সেই নির্গুণ পরমাত্মাকে চৈতন্য রূপে আরাধনা করাই বুদ্ধিমান এর কাজ। যারা কৃষ্ণকে দেহধারী মনে করে সেই মায়াময় দেহেরূপ এর ভজনা করে তারা মুর্খ এবং পরমেশ্বর এর পরম ভাব তাদের জ্ঞাত হয় না।

ওঁ গোবিন্দায় নমঃ

ভজ গোবিন্দং ভজ গোবিন্দং, গোবিন্দং ভজ মূঢ়্মতে।

সম্প্রাপ্তে সন্নিহিতকালে মরণে, নাহি নাহি রক্ষতি ডুকৃঞকরণে

'অচিন্ত্যভেদাভেদ' পদের কতিপয় যৌক্তিক অসঙ্গতি বিংশ শতাব্দীর অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি পর্যালোচনা

  ভূমিকা গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনের কেন্দ্রীয় মতবাদ হলো 'অচিন্ত্যভেদাভেদ'। শ্রীচৈতন্যের ভাবধারা থেকে উদ্ভূত এই দার্শনিক অবস্থানটি ঈশ্...

Popular Posts