Friday, March 6, 2020

আলেকজান্ডার আর নাগা সন্ন্যাসী গোষ্ঠীর এক রহস্যাবৃত কাহিনী-প্রথম পর্ব

লেখাটির জন্য প্রচুর খোঁজাখুঁজি করতে হয়েছে।নানান জায়গা থেকে মণি মুক্তো আহরণ করে আমার এই একত্রিত করার প্রয়াস।অনেক জায়গায় অপ্রাসঙ্গিক মনে হওয়ার কারণে অনেক তথ্য বাদ দিয়েছি।কোনো পাঠকের ইচ্ছা হলে মূল সূত্রগুলো থেকে দেখে নিতে পারেন।কোথাও অসঙ্গতি মনে হলে ধরিয়ে দেবেন,আমি কৃতজ্ঞ চিত্তে সংশোধন করবো।
আলেকজান্ডার লোকটি বেশ রহস্যময়।আরো রহস্যময় হয়েছে বেশ কিছু মিথ এবং লোকগাথার সমাহারে। বস্তুত: সেই সময়ে প্রাচ্যের আর পাশ্চাত্যের নতুন করে এক যোগাযোগের সূত্র হয়ে উঠেছিল এই লোকটি। আগেও যোগাযোগ সূত্র থাকলেও তা কোনো বর্ননা নিয়ে ছিল না ফলে আজকের পৃথিবী সেই সময়ের তার সহযাত্রী গ্রিক লিপিকার বা পরবর্তীতে অন্যদের সূত্রে এই সংযোগ আর নানান কাহিনীর বর্ণনা পেয়েছে।আজ বলবো অবিভক্ত ভারতে আলেকজান্ডারের সাথে একদল সর্বত্যাগী নাগা মানে বস্ত্রহীন এক দল সন্ন্যাসীর আলাপ বা সেই সম্পর্কিত কিছু কাহিনী।আমরা কেউ জানি না তা কতটা সত্য তবে বিষয়টা একটু অন্য কিছু জানার মতো করে পড়লে খুশি হবো।
পৃথিবীতে সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য অনেক মানুষ তাদের নিজেদের কীর্তি রাখার কাজ করে গেলেও এখনো এই লোকটিকে একটা আলাদা স্থান দেওয়া হয় এই বিষয়ে।পররাজ্য গ্রাসের এই কুকীর্তি যুগে যুগে মানুষ করেছে তাই মহান না হলেও লোকটি এই অল্প বয়েসে যে কাজ করেছে সেই হিসেবে বিস্ময়ের প্রকাশ করা যায় বৈকি।এই লোকটি তার বাবার স্বপ্ন বা এক অর্থে গ্রিকদের জাতীয় অভিমান এবং প্রতিশোধের কামনায় এই জয় যাত্রায় বেরিয়েছিল পারস্য সাম্রাজ্য কে পরাজিত আর এদের চূড়ান্ত শিক্ষা দেওয়ার বাসনায়।অতঃপর স্বপ্ন সাকার হয়।আলেকজান্ডার পারস্য সাম্রাজ্যের দখল আর এই অঞ্চলের প্রাচীন নানান ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক উপাদান বা লিখিত সব ইতিহাসের সর্বনাশ করে এক পর্যায়ে ঢুকেছিল আজকের বিভক্ত ভারতের পশ্চিমে মানে আফগানিস্তান দখল করে বর্তমান পাকিস্তানের মুলতানের দিকে।আলেকজান্ডার ছিল তৎকালীন গ্রিসের এক বিখ্যাত দার্শনিক এবং চিন্তাবিদ এরিস্টটল এর শিষ্য।অনেক ক্ষেত্রেই এই মানুষটির ভাবনা বা মনোন আলেকজান্ডার কে প্রভাবিত করেছিল।এই কারণেই আলেকজান্ডার নানান জায়গায় সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছে ওই অঞ্চলের নানান চিন্তাবিদ বা এই ধরণের পন্ডিত বা একটু আলাদা মানুষদের সাথে।এই পর্যায়ে সেই সময়ের আলেকজান্ডার আজকের পাকিস্তানের টাকসিলা বা প্রাচীন তক্ষশীলায় ভারতের এক অসামান্য জ্ঞানার্জনের তীর্থস্থলের বিষয়ে জানতে পারে।এইখানেই তার সাথে কিছু উপরের বলা সেই একদল নগ্ন সন্ন্যাসীর স্বাক্ষাৎ হয়।প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো এই তক্ষশিলা নগরীর কাছেই রাজা পুরু সর্বশক্তি দিয়ে বাঁধা দিয়েছিল,এই বিষয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যায় এই সন্নাসীদের সাথে স্বাক্ষাতের সময়ে ,একটি প্রশ্নের উত্তরের উপরে।
আলেকজান্ডারের আক্রমনের সময় মানে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতক থেকে পরবর্তী ছয়টি শতকে বহু পাশ্চাত্যের বিশেষত গ্রিক পর্যটক এবং পন্ডিত এই দিকে এসেছে।এই বিবরণ নানান লেখকের ভাষ্যে লিখিত হয়েছে।এর মধ্যে সব থেকে বেশি স্বীকৃত তিনটি হলো ১. ওনিসিক্রিটাস(Onesicritus) মানে আলেকজান্ডারের সহযাত্রী যথারীতি তার মূল লেখা হারিয়ে গেলেও পরবর্তিতে একই লেখার সুত্রে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য আরো এক লিপিকার স্ট্যার্বো ২.মেগাস্থিনিস ,বিখ্যাত গ্রিক পর্যটক যে সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের সময়ে সেলুকাসের(পারস্যের দিকের ছেড়ে যাওয়া গ্রিক দখলের অংশের রাজা বা আলেকজান্ডারের প্রতিনিধি সেনাপতি)সময়ে তার পাঠানো রাজ্ প্রতিনিধি হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেছিলেন আর ৩. বার্ডেসান বলে প্রথম খ্রিস্টাব্দের খ্রিস্টান পন্ডিত এবং শিক্ষক যিনি সিরিয়াতে ভারতীয় প্রতিনিধির কোনো একজনের সাথে স্বাক্ষাতের ভিত্তিতে এই বিষয়ে বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছিলেন।সব থেকে প্রাচীন বা সব থেকে স্বীকৃত যা কিছুই হয়ে থাক, তা কতটা সত্যি বা সঠিক ছিল তার সন্দেহ থেকেই যায়।নানান লেখায় বিশেষত এই ওনিসিক্রিটাস এর নিজের ভাষ্যমতে তার তিন জন অনুবাদক লেগেছিল এই ভারতীয় সাধুদের সাথে আলাপ করতে সুতরাং বিকৃতি শুরুতেই হতে পারে এবং হওয়াটা যথেষ্ট যুক্তিগ্রাহ্য।এরপরেও নানান পরিবর্ধন বা পরিবর্তন হয়েছে যেমন হয় অন্য সব ক্ষেত্রে।যাই হয়ে থাক ,মূল বিষয়ে এই তিনজনের বক্তব্য মোটামুটি একই হওয়ায় একটা স্বদর্থক বিষয় পাওয়া যায় ,তা হলো, এই স্বাক্ষাৎ বা মত বিনিময়ের মূল বিষয়গুলো একই থাকায় বিষয়ের কোনো নিদারুন পরিবর্তন হয় নি।
গ্রিক বর্ণনায় উঠে এসেছে কৃচ্ছ সাধন করা একদল বনবাসী সন্ন্যাসীর কথা যাদের কাছে জাগতিক কোনো কিছুই কাম্য ছিল না।এই সন্ন্যাসী গোষ্ঠীর দুটি নাম উঠে এসেছে যার একটি ডানডামিস(এর ভারতীয় মূল নাম উদ্ধার করতে পারি নি)আর অন্যজন কালানুস(যা অধিকাংশ বলেছেন কল্যাণ বলে , তবে এটি তার নাম না এটি ও জানতে পারছি ,এই মানুষটি আসলে যেই তার কাছে আসতো তাকে ওই বাক্য বলতেন ,নিজের ধারণায় মনে হয় তিনি বলতেন 'কল্যাণমস্তু ' বা কল্যাণ হোক , এটিই এদের কাছে এর নাম হয়ে যায়)যাইহোক ,এই প্রথমজন মানে ডানডামিস ছিলেন এই দলটির প্রধান।এই স্বাক্ষাৎ আলেকজান্ডারের সাথেই হয়েছিল না তার প্রতিনিধি এই নিয়ে নানান মত আছে।অনেকেই আবার অনেসিক্রিটাস আসলে এই স্বাক্ষাতের সময় ছিল বলে মত প্রকাশ করেছেন আবার অনেকেই খোদ আলেকজান্ডার এতে ছিল এবং এই ধরণের এক দার্শনিক তর্কযুদ্ধে এদের কাছে পরাজিত হয়েছে এই মতামত ও রেখেছেন।সে যাই হোক , এই লোকগুলো আলেকজান্ডারের কৌতূহলের কারণ হয়েছিল তা ভাবাই যেতে পারে।



সব থেকে গ্রহণযোগ্য মনে হয় এই অনেসিক্রিটাস কে আলেকজান্ডার পাঠিয়েছিল এই সাধুদের তার কাছে নিয়ে আসার জন্য।বলা হয়,এই সাধুর দল বিশেষত এদের প্রধান ডানডামিস আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাকে বলেন যে প্রয়োজন হলে আলেকজান্ডার যেন নিজে আসে যদি সে তাঁদের কথা বা মতবাদ শুনতে আগ্রহী হয়।এই প্রেক্ষিতে দুটো ধারণা প্রচলিত ,একটি হলো অনেসিক্রিটাস নিজেই অতঃপর আলাপ চালায় আর দ্বিতীয় হলো আলেকজান্ডার এদের কথা মেনে নিজেই দেখা করতে আসে।
এই বর্ণনার অক্ষত অংশ পাই পরবর্তীর ভৌগোলিক বিদ্যার পন্ডিত স্ট্রাবোর(Strabo) বর্ণনায়।এই মানুষটি অনেসিক্রিটাস এর আড়াইশো বছর পরে মানে প্রথম খ্রিস্টপূর্ব শতকে তাঁকে সূত্র করে এই কথা গুলো তুলে ধরেন।স্ট্রাবো তাঁর বর্ণনায় এই সন্ন্যাসীদের সমন্ধে অনেসিক্রিটাস এর সূত্র ধরে বলেন যে এই মানুষগুলো নগ্ন থাকতো এবং স্ব-আরোপিত একটি কৃচ্ছ সাধনের পথে নিজেদের জীবন যাপন করতো।একই সাথে এদের জ্ঞানী এবং এই অতি সরল জীবন যাপন যে আলেকজান্ডারের কৌতুহলের কারণ হয়েছিল তাও উঠে আসে তার বর্ণনায়।গ্রিক ভাষায় এদের বর্ণনা করা হয়েছে জিমনোসোফিস্ট(Gymnosophists) যার অর্থ নগ্ন দার্শনিক। খেয়াল করবেন,নগ্নতা কে তাচ্ছিল্য করে না বরং একটা শ্রদ্ধাবোধ জড়িয়ে রয়েছে এই দার্শনিক বা জ্ঞানী কথাটির সাথে।একই সাথে এদের বর্ণনায় বলা হয়েছে এই মানুষগুলো একই জায়গায় দীর্ধ সময় সটান দাঁড়িয়ে থাকতে পারতো নানান ভঙ্গিমায় ,অতি স্বল্পাহারী ,উন্মুক্ত প্রান্তরে বসবাস করতো আর রোগ ব্যাধি হলে আত্মাহুতি দিয়ে জীবনাবসান করতো।এই প্রাণত্যাগ প্রসঙ্গ আসছে একটু পরে ,যাই হোক আলোচ্য এই অনেসিক্রিটাস এর বর্ণনায় জানতে পারা যায় যে প্রথম যখন এদের সাথে দেখা হয় ,তখন ১৫জনের এই দলটি সেই সময়ের মূল শহরের থেকে বেশি কিছু দূরে নানান ভঙ্গিমায় অবস্থান করছিল।নগ্ন এই মানুষগুলো নানান ভঙ্গিতে কেউ দাঁড়িয়ে ,কেউ শুয়ে আবার কেউ বসে ছিল উন্মুক্ত ওই প্রান্তরে।এই বর্ণনায় বলা হয় ওই সময়ে এতটাই সূর্যের তাপ থাকে যে খালি পায়েও চলাচল করার অবস্থা থাকে না আর সেই অবস্থায় এই মানুষগুলো ঠায় একই অবস্থানে ছিল সন্ধ্যা পর্যন্ত।প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো আলাপের জায়গা আবার অনেকের মতে তক্ষশীলার কাছের কোনো বনাঞ্চলে হয়েছেও বলা হয়।
এক পর্যায়ে অনেসিক্রিটাস আলাপ করতে যান কালানাস বা ওই কল্যাণের সাথে।এক্ষেত্রে তাঁকে সটান প্রত্যাখ্যান করে কালানাস বলেন যে আগে তাঁর মতো নগ্ন হয়ে এসে আলাপ করুক।একই সাথে অনেসিক্রিটাস এর জাঁকজমক বা ঐশ্বর্যের কারণে তাকে তাচ্ছিল্য ও করে এবং এই গুলো মানুষের অধঃপতনের কারণ বলে তার সাথে কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানায়।এই পর্যায়ে সব থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ বা এদের প্রধান দন্ডমিস তার সাথে আলাপ করতে রাজি হয়।অনেসিক্রিটাস এর মতে এই প্রধান সাধু তাকে বলে আত্মার থেকে সকল সুখ আর দুঃখ কে দূরে সরিয়ে রাখার কথা।আরো বলেন তিনি গ্রিক গোষ্ঠীকে সবল মননের একটি গোষ্ঠী ভাবলেও তাদের প্রকৃতির থেকে উপাচার বা আনুষ্ঠানিকতা কে বেশি প্রাধান্য দেওয়াকে সমর্থন করেন না।আরো বলেন যে যদি গ্রিক গোষ্ঠী প্রকৃতিকে প্রাধান্য দিতো তবে তাঁরা ও একই ভাবে এই কৃচ্ছসাধন আর সরল জীবনের পথে চলে যেতো।অনেসিক্রিটাস এর মতে এই মানুষগুলো এই কষ্টকর জীবন বেছে নিয়ে পরিধানের কাপড় ত্যাগ করে ,সৌখিন বা দামি খাওয়ার ফেলে ,কোনো প্রচলিত বসবাসের জায়গাতে না থেকে স্রেফ প্রকৃতির মধ্যে প্রকৃতিকে অধ্যয়ন করতেন।প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ওষধি ও নির্নয় করতেন এই গোষ্ঠী।এরা শহরে বা জনপদে এসে মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় খাদ্য ভিক্ষা করতো যা অধিবাসীরা সাগ্রহে দিয়ে দিতো। এই পর্যায়ে এই মানুষগুলো ধনী নির্ধন সবার সাথেই আলাপ বা কথা বলতো নানান বিষয়ে।একই ভাবে আরো এক জায়গায় দেখতে পাই ,আলেকজান্ডার নিজেই এই দণ্ডমিস এর সাথে স্বাক্ষাৎ করে তাঁকে তার সহযাত্রী হতে অনুরোধ করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।তিনি আলেকজান্ডার কে বলেন যে এই ইহজগতের কোনো কিছুই আলেকজান্ডার তাঁকে দিয়ে প্রলুব্ধ করতে পারবে না।এই পর্যায়ে আলেকজান্ডার উপলব্ধি করে যে এই মানুষটি সত্যিই একজন মুক্ত মানুষ।
যাই হোক, এই ক্ষেত্রে আলেকজান্ডার নিজেই হোক বা তার প্রতিনিধি , প্রথম ওই লোকটি মানে কালানুস বা কল্যাণ কে রাজি করাতে পারে তাদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য।এই রাজি হওয়ার জন্য তাঁর গোষ্ঠীর মধ্যে যথেষ্ট নিন্দিত হয় এই কালানুস।সে যাই হোক,এই লোকগুলো বা সন্ন্যাসী গোষ্ঠী জঙ্গলের নানান ফল মূল ইত্যাদি প্রাকৃতিক বস্তুতে ক্ষিধে মিটাতো আর পান করতো স্রেফ জল।এইভাবেই ঘুরে বেড়ানো এই গোষ্ঠী রাতে গাছের তলায় রাত কাটাতো।একই সাথে ,ওনিসিক্রিটাস বা আলেকজান্ডারকে এই দণ্ডানিস্ এও বলে যে আলেকজান্ডার নাকি ঈশ্বরের সন্তান ,তবে কেন সে এই রাজ্ ঐশর্যে রয়েছে? তাঁর এই কথা সরাসরি বা ওনিসিক্রিটাস এর মাধ্যমে আলেকজান্ডারের কাছে গেলেও তাতে সে রেগে যায় নি।বোধকরি আগের গ্রিক দার্শনিক গুরুদের সাহচর্যে বিষয়টি আত্মস্থ করতে পারে এই আলেকজান্ডার।আরো একটি মজার কাহিনীর বর্ণনা হয়েছে প্রাসঙ্গিক সব লেখকের লেখায়।বলা হয় আলেকজান্ডার এই দশজন নগ্ন সন্ন্যাসীকে ডেকে নিয়েছিল বা বন্দি করে নয়টি প্রশ্নর উত্তর দিতে বলে।খারাপ উত্তর হলে সেই সন্ন্যাসীকে হত্যা করা হবে এই শর্ত ও আরোপ করা হয়।এই উত্তরের যাচাই করতে আবার নাকি এদেরই মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষটিকে বিচারক করেছিল সে।একই এই ভাষ্য বর্ণনা হয়েছে স্ট্রাবো বা পরবর্তীতে খ্রিস্টান ওই পন্ডিতের ভাষ্যে তবে মৃত্যুদণ্ডের বিষয় বাদে।যাই হোক, এই প্রশ্নগুলো মোটামুটি প্রায় একই দেখে পাঠকের কাছে এইগুলো তুলে ধরলাম উত্তর সমেত।
১. কার সংখ্যা বেশি জীবিতের না মৃতের ?
- জীবিতের কারণ মৃতের কোনো অস্তিত্ব নেই।
২. সমুদ্র না স্থল কোন জায়গায় সব থেকে বড় জন্তু আছে ?
- এই পৃথিবীতে,কারণ সমুদ্র এর একটি অংশ
৩. সব থেকে ধূর্ত জন্তু /প্রাণী কি ?
-সেটি যাকে মানুষ খুঁজে পায় নি
৪. তাঁরা (সন্ন্যাসীরা) কি ভাবে তাদের অঞ্চলের রাজাকে বুঝাতে স্বক্ষম হন আলেকজান্ডার কে প্রতিরোধ করতে ?
-এই বলে যে রাজা এতে জীবিত বা মৃত যাই হোক পরিণতি হবে মহান
৫. বড় কোনটি , দিন না রাত ?
- দিন ,অন্ততঃ একটি কারণ শুরু হয়েছে(এই সৃষ্টি)দিন দিয়েই
৬. একজন মানুষ কি ভাবে শ্রদ্ধা/ভালোবাসার জন হতে পারে ?
-ভীতি প্রদর্শনের ছাড়া শক্তিশালী হলে
৭. একজন মানুষ কি করে ঈশ্বর/দেবতা হতে পারে ?
-মানুষের অসাধ্য যা তা করে
৮. কে শক্তিশালী , জীবন না মৃত্যু ?
-জীবন কারণ এটি অনেক বেশি দুঃখ কষ্ট কে ধারণ করে।
আরো একটি লিপিকার অবশ্য এর উত্তরের বাখ্যায় ওই সন্নাসীরা সূর্যের ওঠা আর ডুবে যাওয়ার উদাহরণের রূপক কে ব্যবহারের কথা বলেছে বলে,ওই ভাষ্যে বলা হয় সূর্য ওঠার সময়ে তার প্রখর তেজ আর ডুবে যাওয়ার সময় স্তিমিত অবস্থা প্রমান করে যে জীবন অনেক বেশি শক্তিশালী।
৯. একজন মানুষের কতদিন জীবিত থাকা উচিৎ ?
-যতদিন তার জন্য মৃত্যু অধিকতর ভালো পথ না মনে হয়
শেষের এই উত্তরের পরে আলেকজান্ডার নাকি ওই বিচারক বয়োজ্যেষ্ঠ লোকটি কে জিজ্ঞাসা করে সব থেকে বাজে উত্তর কোনটি। এতে ওই বিচারক মানুষটি অতীব জটিল ভাবে উত্তর দিয়েছিল প্রত্যেকটি উত্তর অন্যটির থেকে খারাপ ফলে কোনো নির্দিষ্ট একটি সব থেকে খারাপ না। এতে আলেকজান্ডার বা তার প্রতিনিধি আর কোনো উচ্চবাচ্চ্য করে নি। এক লিপিকারের মতে উল্টে উপহার ইত্যাদি দিয়ে এদের ফেরৎ পাঠায় আলেকজান্ডার।
এই নয়টি প্রশ্ন আর উত্তরের সমাহারের মধ্যে চার নম্বরেরটি একটু খেয়াল করে।রাজা পুরুর একজন সামান্য জনপদের রাজা হয়েও আলেকজান্ডারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে যাওয়া মনে আসছে কি ? নির্মোহ ভাবে ভাবলে,এই নগ্ন সন্ন্যাসীদের রাজকীয় কাজ কর্মে বা সিদ্ধান্তে একটা ভূমিকার প্রকাশ কিন্তু পাওয়া যায় এর থেকে!
এই পর্যায়ে শেষ ধাপে আমরা যা পাই তা হলো একদম আগে বলা ওই কালানুস বা কল্যাণ এর কথা। এই মানুষটি রাজি হয়েছিল আলেকজান্ডারের সাথে আবার পারস্য দিয়ে ফেরার পথে সহযাত্রী হতে।
এর পরের পর্বে থাকবে পারস্যে এই কালানাস এর কি গতি হলো এবং এই নগ্ন সন্নাসীর বা এই গোষ্ঠির মানুষেরা ঠিক কোন পথের অনুসারী ছিল তাই নিয়ে একটি আলোচনা।নানান বিশেষজ্ঞরা কেউ এদের হিন্দু ব্রাহ্মন গোষ্ঠীর ,কেউ বৌদ্ধ ধর্মের আবার কেউ জৈন ধর্মের মতাবলম্বী ভেবেছেন।নানান সূত্রে পাওয়া কাহিনী ধরে খোঁজার চেষ্টা করবো এই মানুষগুলো ঠিক কারা ছিলেন।ততক্ষন একটু বিরতি।

তথ্যসূত্র (এক প্রস্থ)
১. নিরস , একদম বিষয়ের উপরে
https://grbs.library.duke.edu/article/viewFile/1451/1541;The?fbclid=IwAR1TJH2Vrzl-pkc-vCijJ7NQ1BAY0is959qULuFlAA8Xd32WwnrTX1MqWSQ

৩. গল্পর ছলে বলা,অনেকটাই সত্য তবে কল্পনার আশ্রয়ের অংশ অনেকটাই বেশি ,পড়ে দেখতে পারেন

৪. একটি সোনার খনি তবে আহরণ করার কায়দা জানা চাই ,এতে ব্যবহৃত তথ্যসূত্র গুলো ও এক একটি রত্নের আকর

৫ যারা সহজ পাচ্য কিছু চাইছেন তারা এটি দেখতে পারেন,আংশিক অসত্য থাকলেও সুখপাঠ্য


Tuesday, February 18, 2020

আপনারা যারা ইস্কনকে সহ্য করতে পারেন না তাঁদের জন্য একটি লেখা ইস্কন প্রায় বলে থাকে । সেই হাস্যকর দাবীর খন্ডন

যারা অনলাইনে নিয়মিত এরা দেখে থাকবেন অনেক মুসলিম পেজে একটা হিন্দু বিদ্বেষী পোস্ট খুব ঘুরে বেড়ায় । হিন্দু ভায়েরা মন খারাপ করবেন না। আমি শুধু জানতে চাই..... (https://www.facebook.com/biswahinduporishad/posts/906298112741835)

যারা দেখেন নাই দেখে নিন। ঠিক একি ভাবে হিন্দুদের মাঝে আরও বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য ইস্কনের কৃৈষ্ণবরা পাগলের প্রলাপের মতন একটি পোষ্ট ভাইরাসের মতন ছড়িয়ে যাচ্ছেন। যাতে মানুষের মাঝে ইস্কন নিয়ে কোন সন্দেহ না থাকে। আর এরা এদের নোংরা ধর্ম ব্যাবসা আরও দ্বিগুণ গতিতে ছড়াতে পারে। যারা দেখেন নাই দেখে নিন

(https://www.facebook.com/UnitedHinduBengali/posts/480507685407083:0)

বলা বাহুল্য ফেসবুকে যত হিন্দু পেজ দেখেন তাঁর ৮০-৯০% পেজ ইস্কনের হয়ে কাজ করে থাকে। এর মাঝে সবথেকে বড় ইস্কনী পেজ হল United Hindu concern নামে এই পেজটি।
যাইহোক এদের এসব ছ্যাব্লামির উচিৎ দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেবার তাগিত অনুভব করলাম। আমাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন Bijaydhari Mrtyunjay Karna আমরা ২ জন মিলে এই পোস্ট তৈরি করেছি। যে যেভাবে পারেন কপি করেন। কারন আমাদের উদ্দেশ্য নিজেদের নাম ফাটানো নয়। আসুরিক সচেতনতা তৈরি করা। তাই আমাদের কোন কপিরাইট নেই। অনুমুতি ছাড়াই কপি করেন।

যেসব হিন্দু ইসকনকে সহ্য করতে পারে না
তাদের উদ্দেশ্যে লেখা:-

1. আপনি পারবেন পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে মিথি
নগরীতে নগর কীর্তন করতে?

উত্তরঃ প্রথমত কীর্তন কোন শাস্ত্রীয় কাজ না। আর যদি করা না করা হয়ে থাকে
তাহলে বলবো টাকা বা ডলার দিলে অসামা বিন লাদেনও পাকিস্তানে আস্তানা গাড়তে পারে।

2. পারবেন পাকিস্তানে ভক্তিবেদান্ত ট্রাস্ট, ইসকন
মন্দির গড়তে?

উত্তরঃ ইসকন কোন মন্দির না। যেখানে পরমেশ্বর শিবের অপমান হয় তা অসুরদের আস্তানা। তাই মন্দির বলে মন্দিরকে অপমান করার কোন মানে হয় না। আর ডলার থাকলে ইস্কন কেন? অনেক টেররিষ্ট অরগানাইজেসন বানানো যায়। আপনারা নিজেদের দেখেই বুঝে নিন।

3. ইরানে রথযাত্রা করতে পারবেন?

উত্তরঃ টাকা থাকলে কেন নয়?

4. যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে পারবেন রথযাত্রা,
জন্মাষ্টমী পালন করতে?

উত্তরঃ প্রাসদের লোভ দেখিয়ে সবই সম্ভব। যেমন আফ্রিকা তে খ্রিষ্টানরা বাইবেল বিলাচ্ছে। আর ঐখানে রথযাত্রা আর জন্মাষ্টমি পালন হয় মানে এই নয় এইখানে অন্যনায় পূজা হয়। ঐসব জায়গায় লাষ্ট কবে কালী পূজা বা দুর্গা পূজা হয়েছে? জানাবেন কিন্তু !

5. ইসলামী রাজতন্ত্র সৌদি আরবে পারবেন বাদশা
আব্দুল্লাহ'কে বেদ উপহার দিতে?

উত্তরঃ কোন ইস্কনী ছাগল এই কাজ করলো ছবি সহ প্রমান দিন। ইস্কন বেদ অস্বীকার করে। বেদ মানলে অশাস্ত্রীয় হরে কৃষ্ণ নাম আর কাল্পনিক রাধার পূজা করতো না।

6. অতীতের হিন্দু দেশ আজারবাইজানে পুনরায়
বৈদিক সনাতন ধর্ম প্রচার করতে?

উত্তরঃ আজারবাইজান হিন্দু দেশ ছিল প্রমান দিন ফ্রবু। আর হ্যাঁ সনাতন বৈদিক ধর্ম হল পঞ্চমতের পূজা আর তাঁর সম্মান। ইস্কন কাল্পনিক রাধার উপাসনা আর কৃষ্ণ নামক অবতারকে ঈশ্বর মানে যা মটেও বৈদিক নয়। তাই ফালতু প্যান প্যান বন্ধ করেন।

7. সাহস আছে ইসরাইলের তেল আবিবে নামহট্ট
মন্দির ও নগর কীর্তন করতে?

উত্তরঃ কেন নয়? ইসরাইল একটি উদার রাষ্ট্র। সেখানে আপনি আপনি হিন্দু ধর্মের নাম করে ইস্কন যা অপকর্ম করে যাচ্ছে তা টের পেলে তখন সাহসটা আপনাদের উপর ভারী হয়ে পড়তে পারে ফ্রবু। নামহট্ট মন্দির নামে কোন কিছু প্রাচীন ত্রেতা যুগ বা দ্বাপর যুগে ছিল কিনা দেখান তো? রেফারেন্স সহ । এসব অশাস্ত্রীয় ফালতু কাজ কারবার আপনাদের দ্বারাই সম্ভব। কীর্তন নিয়ে আগেই বলেছি। তাই এই নিয়ে খামাকা কথা বলছি না।

8. হরিনাম ছড়াতে পারবেন বানিজ্যিক রাজধানী
দুবাইয়ে?

উত্তরঃ হরিনাম না। অশাস্ত্রীয় হরে কৃষ্ণ নাম যার শাস্ত্রগত কোন ভিত্তি নেই।
শুধু যা করছেন তা টাকার জোরে। আপনাদের শাস্ত্রগত কোন ভিত্তি নেই।

9. বাহারাইনে পারবেন মন্দির তৈরী ও রাজপথে
কীর্তন করতে?

উত্তরঃমন্দির বানিয়ে আমরা যাগ যজ্ঞ করবো। রাস্তায় বগল তুলে নাচার কাম বাঁদরের। আমাদের মতন আর্যদের না।

10. কুয়েতে পারবেন রথযাত্রা র্যালি করতে?

উত্তরঃ আগেই এরকম ফালতু প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। তাই খামাকা একি ত্যানা পেচ্যানো বন্ধ করেন।

11. মিসরে পারবেন নামহট্ট মন্দির করার প্রস্তাব
করতে?
উত্তরঃনামহট্ট মন্দির নামে কোন কিছু প্রাচীন ত্রেতা যুগ বা দ্বাপর যুগে ছিল কিনা দেখান তো? রেফারেন্স সহ । এসব অশাস্ত্রীয় ফালতু কাজ কারবার আপনাদের দ্বারাই সম্ভব। কীর্তন নিয়ে আগেই বলেছি। তাই এই নিয়ে খামাকা কথা বলছি না।

12. সুদানে পারবেন জন্মাষ্টমী করতে?

উত্তরঃএরকম ভুগি চুগি মার্কা উত্তর আগেই দেয়া হয়েছে। শুধু দেশের নাম চেঞ্জ করে একি কথা আর কত?

১৩. আরব জাহানে গীতার আলো ছড়িয়ে দিতে ?

উত্তরঃউহু! গীতার আলো না। আপনারা গীতার অপব্যাখ্যা ছড়াচ্ছেন। আপনাদের মতে গীতা কৃষ্ণ আমি বলতে নিজেকে বলছেন। যা একদম ভুয়া কথা আর তা মহাভারত পড়লেই দেখা যায় যে উনি আমি বলতে নিজেকে বুঝান নাই। তাই নিজেদের ব্যাবসার জন্য আপনারা গীতাকে ব্যাবহার করছেন মাত্র।

১৪. কমুনিস্ট রাশিয়ায় প্রচন্ড বরফ উফেখা করে রথ
যাত্রা করতে ?

উত্তরঃএরকম ভুগি চুগি মার্কা উত্তর আগেই দেয়া হয়েছে। শুধু দেশের নাম চেঞ্জ করে একি কথা আর কত?

১৫ ঘানার রাজপথে হরিনাম করতে ?

উত্তরঃবার বার একি ভুল। হরি নাম না। বলেন অশাস্ত্রীয় হরে কৃষ্ণ নাম। যার সাথে শ্রী হরির কোন সম্পর্ক নেই।

১৫. পারবেন সাদা-কালো -বাদামী-হলুদ বর্ণ বা
জাতিভেদ ভুলে মানুষ হিসেবে সকলকে একই
প্লাটফর্মে দাড় করাতে ?

উত্তরঃহা হা হা হা এটা সবথেকে আত্মঘাতী ছিল ফ্রবু! আপনাদের পুরান পাপী, মহা বদ ফ্রবুফাদ নিজেই বর্নবাদী ছিল প্রমান চান?
এই নিন মিলিয়ে দেখে নিন।

Prabhupada: Sudra is to be controlled only. They are never given to be freedom. Just like in America. The blacks were slaves. They were under control. And since you have given them equal rights they are disturbing, most disturbing, always creating a fearful situation, uncultured and drunkards. What training they have got? They have got equal right. That is best, to keep them under control as slaves but give them sufficient food, sufficient cloth, not more than that. Then they will be satisfied.

Room Conversation, October 5, 1975, Mauritius ‒

Prabhupada: So here, this man was cheating. Because here it is said: nrpa-linga-dharam. He was dressed like a king. Just like king is very gorgeously dressed. But his bodily feature, he was a black man. The black man means sudra.

Room Conversation, January 21, 1977, Bhuvanesvara ‒

Ramesvara: That’s the trend, then, everywhere, because unemployment is increasing.

Prabhupada: And especially in your country it will be dangerous because these blacks, if they don’t get employment, they will create havoc, these blacks. And they are not civilized. They want money, and if they don’t get money, then they will create havoc.
শুধু তাই না। নারী বিদ্বেষী অনেক অনেক কথা বা কমেন্ট এই বরাহ তার সারাজীবনে করে গেছে। প্রমান লাগলে ববেন কিন্তু ফ্রবু! তাই আর যাইহোক এই একজাতি বা সম-অধিকারের বুলি আপনার নোংরা পাপী মুখে মানায় না।

না , আপনি পারবেন না। এসব একমাত্র ইসকনই করতে
পারে।

উত্তরঃ কেন পারবো না? আমার আপনার পকেটে এরকম হিপ্পি পথভ্রষ্ট সাদাদের টাকা ভরে দিন। রিটার্ন অন ইনভেষ্টমেন্ট হিসাবে আপনি আমিও আমাদের নাম প্রচার করবো। টাকা সব পারে ফ্রবু! প্রমান আপনারা নিজে।

ইসকনকে পছন্দ করেন না ঠিক আছে।
কিন্তু দয়া করে তাঁদের নামে অপপ্রচার করবেন না।

উত্তরঃকোন অপ-প্রচার না। যা সত্যি তাই বলা হয়েছে।

সারা পৃথিবীর মানুষের মাথায় গোবর পুরা না।

উত্তরঃ হ্যাঁ । একদম ঠিক । তাই এখনও অনেক হিন্দু আছে যারা ইস্কন দেখতে পারে না।

ইস্কনের অনেক বিদেশী গুরু উচ্চ শিক্ষিত,
পিএইচডি ডিগ্রী ধারী। অনেক হিন্দু গুরু আমেরিকা
বা বৃটেনের সংসদে বক্তৃতা দেয়ার জন্য
আমন্ত্রিত হন।

উত্তরঃ বিল গেটস সহ অনেক ব্যাবসায়ীও অনেক জায়গায় বক্তৃতা দেন। এরমানে কি এই উনারা হিন্দু ধর্মের পন্ডিত? ভুগি চুগি মার্কা কথা বলার কিছু লিমিট থাকে। শিক্ষিত মানেই সচেতন না ফ্রবু! আমি ডাক্তার মানেই এই নয় যে আমি রসায়ন বুঝবো বা ফার্মেসি বিদ্যা জানবো। এরা উচ্চ শিক্ষিত হতে পারে। কিন্তু ধর্ম জানে না। যে দিন জানবে সেদিন আপনাদের ইস্কন ধসে পড়বে।

পারলে যুক্তি দিয়ে তাদের মুখেমুখি হন !
ধন্যবাদ

কেন? নিজেদের মুরদ নেই? যুক্তি দিয়েই বলেছি যা এতক্ষন বললাম। পাড়লে খন্ডান।

হর হর মহাদেব !

Saturday, February 15, 2020

মহাশিব রাত্রির পূজা পদ্ধতি

আজকাল অনেকেই দেখি সারাদিন উপোস করে যেকোন মন্দিরে গিয়ে ডাব আর জল দিয়ে শিবরাত্রীতে মন্দিরের শিবলিঙ্গে স্নান করিয়ে সমগ্র আয়োজন শেষ করে থাকেন। যা একদম ভুল ব্যাপার। সমগ্র সনাতন ধর্মে শুধুমাত্র এই একটি রাতকেই মহা পূন্যময় রাত আর এই পূজাকেই মহা বলে বিশেষায়িত করা হয়েছে। কারন , এই রাতেই প্রভু পরম প্রেমময় হয়ে ভক্তের সকল মনঃকামনা পূর্ণ করেন।  এই রাতে প্রভুকে ৪ প্রহরে পূজা দেবার নিয়ম। যেমনটা শিব বা লিঙ্গ পুরাণে বর্ণিত রয়েছে। এই ৪ প্রহরের মাঝে মাঝে বিভিন্ন বৈদিক ঋষিকৃত স্তব স্তোত্রাদি পাঠে রাতটি অতিবাহিত করতে হয় এবং পরেরদিন সকালে পারণের মাধ্যমে উপোস ভাংতে হয়।
অনেকেই বলেন শুধু ভাল স্বামীর আশায়ই শিব পূজা করতে হয় যা একদম সঠিক নয়। অনেকেই দেখি শিবকে বৈষ্ণব ভেবে ইস্কন সহ অন্যান্য আসুরিক সম্প্রদায়ের সাথে তাদের মতানুযায়ী শিবরাত্রী করেন। এতে মহাদেব পরমেশ্বর শিবের চরম অপমান করাই হয়ে থাকে।
যাইহোক, আর কথা না বাড়িয়ে আসুন জেনে নেই কিভাবে এই মহাশিব রাত্রীর পূজা করতে হবে।
প্রথমে জানবো অর্ঘ্য কি।
অর্ঘ্যঃ ছোট কুশীতে বেলপাতা, লাল ফুল (জবা না) , তিল, আতপ চাল, লাল চন্দন আর জলই হলো অর্ঘ্য।
যদি এতগুলো পাওয়া না যায়, তাহলে শুধু জল আর আতপ চাল হলেই হবে।
মন্ত্র পাঠ করে কুশীর জল শিবের মাথায় দিতে হবে।
প্রতি প্রহরেই অর্ঘ দিয়েই প্রতিবার নিচের মন্ত্র পড়ে এদের পুজা করতে হবে 





পূজা মানে প্রতি মন্ত্রে একটি ফুল নিয়ে মন্ত্র পড়ে পড়ে কোন পাত্রে বা তামার পাত্রে এই ফুল গুলো রেখে দিতে হবে । 

ওঁ এতে গন্ধে পুষ্পে ওঁ গৌর্যৈ নম
ওঁ এতে গন্ধে পুষ্পে গন পতয়ে নমো
ওঁ এতে গন্ধে পুষ্পে ব্রম্যাদষ্ট্য অষ্টমুর্তি গনেভ্য নমো
ওঁ এতে গন্ধে পুষ্পে অষ্টমুর্তিগনেভ্য নমো

ওঁ এতে গন্ধে পুষ্পে ওঁ বৃষভায় নমো
ওঁ এতে গন্ধে পুষ্পে ওঁ নন্দিকায় নমো
ওঁ এতে গন্ধে পুষ্পে শিবাদি সপরিবারায় সবাহনায় নমো


১ম প্রহরে স্নান

দুধ দিয়ে স্নান করাবেন


মন্ত্র: ওঁ হৌং ঈশানায় নমো: 
ওঁ ইদং স্নানীয় দুগ্ধং ওঁ হৌং ঈশানায় নমো 

অর্ঘ্য মন্ত্র : ওঁ শিবরাত্রি ব্রতং দেব পুজাজপ পরায়ণ:। করোমি বিধিবদ্দত্তং গৃহানার্ঘং মহেশ্বর।। এষোহর্ঘ্য ওঁ হৌং ঈশানায় নমো: 


২য় প্রহর

দই দিয়ে স্নান।

মন্ত্র: ওঁ হৌং অঘোরায় নম।এতৎ স্নানীয় দধনা ওঁ নমো শিবায় নমো।।


অর্ঘ্য মন্ত্রঃ ওঁ নমো শিবায় শান্তায় সর্বপাপহরায় চ। শিবরাত্রৌ দদামর্ঘ্যং প্রসীদ উময়া সহ।এষোহর্ঘ্য ওঁ হৌং অঘোরায় নমো।।


৩য় প্রহর

ঘৃত (ঘি) দিয়ে স্নান

ইদং স্নানীয় ঘৃতং ওঁ হৌং বামদেবায় নমো

অর্ঘ্য মন্ত্রঃ ওঁ দুঃখ দারিদ্র্য শোকেন দগ্ধোহহং পার্বতীপ্রিয়।শিবরাত্রৌ দদামর্ঘ্যং উমাকান্ত গৃহাণা মে। এষোহর্ঘ্য ওঁ বামদেবায় নমো



৪র্থ প্রহর

মধু দিয়ে স্নান করাবেন।

মন্ত্রঃ ইদং স্নানীয় মধুঃ ওঁ হৌং সদ্যোজাতায় নমো।।

অর্ঘমন্ত্রঃ ওঁ ময়া কৃতান্যনেকানি পাপানি হর-শংকর।শিবরাত্রৌ দদামর্ঘ্যং উমাকান্ত গৃহাণা মে।

এষোহর্ঘ্য ওঁ হৌং সদ্যোজাতায় নমোঃ।।

এছাড়াও ৪ প্রহরে আর কি কি দেয়া যায় তা নিম্নে দেয়া হল। 

প্রথম প্রহরঃ দুধ,দই,ঘি,মধু,শর্করা,গন্ধাদি,জলধারা,
আতপ,চাল,তিল,
পুষ্প,পদ্মপুষ্প,করবীপুষ্প,ধূপ,দ্বীপ,নৈবেদ্য,পক্কান্ন, শ্রীফল যুক্ত অর্ঘ্য,তাম্বুল।

দ্বিতীয় প্রহরঃ
চন্দন,তন্ডুল,যব,পুষ্প,পদ্মপুষ্প,লাড্ডু,বীজপূর ফল দ্বারা অর্ঘ্য,ধূপ,দীপ,পায়েস,
তাম্বুল।

তৃতীয় প্রহরঃ চন্দন,তন্ডুল,গম,মন্দারপুষ্প,ধূপ,দীপ,পিঠানানাবিধ শাক,নৈবেদ্য,কর্পূর দ্বারা আরত্রি ,দাড়িম্বযুক্ত অর্ঘ্য দান।

চতুর্থ প্রহরঃ চন্দন,তন্ডুল,মাষকলাই,মুগ,প্রিয়ঙ্গু,কদলী দ্বারা অর্ঘ্য।

প্রতি প্রহরে শঙ্খীপুষ্প,চম্পকপুষ্প,
জাতিপুষ্প, পঞ্চামৃত ইত্যাদি অর্পন করিবে। 
প্রতি প্রহরে জপ পূর্ব প্রহর অপেক্ষা দ্বিগুন হবে। প্রতি প্রহরে স্তোত্র, গীত,বাদ্য,নিত্য এবং নানা প্রকার গান করিবে।

রেফারেন্সঃশিবপুরাণ,জ্ঞানসংহিতা,অধ্যায়৭২।

Thursday, February 6, 2020

বৈষ্ণব মতবাদের ফাঁদে সমগ্র বাঙ্গালি হিন্দু সমাজ :


যিনি নারীর মুখ দেখেন না এবং নারীকে কোনোভাবেই ডাকেন না, চৈতন্যদেবের মতে তিনিই প্রকৃত বৈষ্ণব বা বৈরাগী। এই বিশ্বাস থেকেই চৈতন্যদেব তার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী ও মাকে পরিত্যাগ করেছিলো এবং এক বৃদ্ধা নারীর মুখ দেখা ও তাকে ডাকার অপরাধে চৈতন্যদেব, তার শিষ্য ছোট হরিদাসকে বর্জন করেছিলো ; এরপর এক বছর আশে পাশে ঘোরাঘুরি করার পরও চৈতন্যদেব তাকে ক্ষমা না করায় ছোট হরিদাস জলে ডুবে আত্মহত্যা করেছিলো এবং এই সংবাদ যখন চৈতন্যদেবের নিকট আসে, তখন চৈতন্যদেব বলেছিলো- ইহাই প্রকৃতি সম্ভাষণের প্রায়শ্চিত্ত।
এই সেই চৈতন্যদেব, যার জীবনাদর্শ মানলে পরিবার, সমাজ, সংসার, রাষ্ট্রের ধ্বংস অনিবার্য। কারণ, গার্হস্থ্য ধর্ম- যেটা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি, সেটা চৈতন্যদেবের বৈষ্ণব মতবাদে নেই। বৈষ্ণব মতবাদের মূল কথা হলো সংসার পরিত্যাগ করে মাধুকরী অর্থাৎ ভিক্ষার দ্বারা জীবিকা অর্জন; বৈষ্ণব মতবাদে বিয়ে শাদী, সংসার, সন্তানের জন্মদান বলে কিছু নেই।
চৈতন্যদেবের জন্ম ১৪৮৬ সালে, সমাজ সংসারে তার প্রভাব শুরু হয় মোটামুটি ১৫০০ সালের পর থেকে। হরিনাম প্রচারের নাম করে ২৪ বছর বয়সে চৈতন্যদেব, তার সদ্য বিবাহিতা দ্বিতীয় স্ত্রী বিষ্ণু প্রিয়া এবং মাকে পরিত্যাগ করে সংসার ছেড়ে চলে যান। অথচ হরিনাম প্রচারের জন্য সংসার পরিত্যাগ করতে হবে, এমন কথা সনাতন ধর্মের কোথাও বলা নেই। সনাতন ধর্মের প্রধান পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ, তিনিও কখনো এমন কথা কোথাও বলেন নি বা নিজে কখনো সংসার থেকে পালিয়ে বেড়ান নি, তাহলে চৈতন্যদেব কার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্ত্রী ও মায়ের প্রতি উত্তর দা্য়িত্বকে অবহেলা বা অবজ্ঞা করে সংসার ত্যাগ করেছিলেন ?
যা হোক, বাঙ্গালি হিন্দু সমাজের খুব কম হিন্দুই এটা জানে যে- প্রচলিত মতে বৈষ্ণব ধর্ম, যাকে আমি বলি কৃৈষ্ণব মতবাদ, সেটা সনাতন ধর্ম থেকে আলাদা। মুহম্মদের অনুসারীদের যেমন বলে মুসলমান, তেমনি চৈতন্যদেবের অনুসারীদেরকে বলে বৈষ্ণব বা বৈরাগী। এই বৈষ্ণব বা বৈরাগীদের কালচার, সনাতনী হিন্দুদের থেকে অনেকটা আলাদা; যেমন বৈরাগীরা কেউ মারা গেলে তাকে সনাতনী হিন্দুদের মতন পোড়ায় না, তাকে মাটিতে পুঁতে রাখে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় শ্রাদ্ধ করে না, দেয় চৈতন্যের নামে মহাপ্রভুর ভোগ। সনাতনী হিন্দুদের সাথে বৈষ্ণব সমাজের কালচারে এই দুটিই মূলত প্রধান পার্থক্য, কিন্তু এছাড়াও আরও কিছু সূক্ষ্ম ব্যাপার আছে যেটা বৈষ্ণব বা সনাতনী কেউ খুব একটা খেয়াল করে না। যেমন- বৈষ্ণব মতবাদে মূর্তিপূজা বলে কিছু নেই, কিন্তু বর্তমানে সব বৈষ্ণব ই সনাতনী সমাজের সাথে মিলে মূর্তিপূজা করে। বৈষ্ণবদের আরাধ্য চৈতন্যদেব এবং তার কয়েকজন পারিষদ যারা পঞ্চতত্ত্ব নামে খ্যাত, বৈষ্ণবরা মূলত এদেরই পূজা প্রা্র্থনা করে। বৈষ্ণব সমাজ, সনাতনী হিন্দু সমাজ থেকে আলাদা হতে পারে নি মূলত শ্রীকৃষ্ণের জন্য; কারণ, চৈতন্যদেবের আরাধ্য যেমন ছিলেন শ্রীকৃষ্ণ, তেমনি সনাতনী সমাজের আরাধ্যও শ্রীকৃষ্ণ।
হিন্দু সমাজে বৈষ্ণবরা আধিপত্য বিস্তার করেছে তাদের গুরুগিরি ব্যবসার মাধ্যমে। এই বৈষ্ণব গুরুদের প্রায় সবাই বিবাহিত, তাদের সংসার আছে, ছেলে মেয়ে আছে, যেটা চৈতন্যদেবের আদর্শের সম্পূর্ণ বিরোধী, তারপরও এরা নিজেদের বৈষ্ণব বলে দাবী করে এবং বৈষ্ণব মতবাদ সমাজে প্রচার করে!
চৈতন্যদেব- স্ত্রী ও সংসার পরিত্যাগ করেছিলেন, তিনি কোনো ছেলে মেয়েরও জন্ম দেন নি। তার কারণ তিনি
কাম অর্থাৎ যৌনতায় বিশ্বাস করতেন না। এজন্য তিনি উত্তেজক খাদ্য পরিহার করে নিরামিষ খাবার খেতেন। এই সূত্র ধরে চৈতন্য অনুসারীরা প্রচার করে যে কৃষ্ণভক্ত হতে হলে নিরামিষ খাবার খেতে হবে, এর জন্য তারা গীতার অপব্যাখ্যা করে বলে যে সাত্ত্বিক মানে নিরামিষ খাবার । কিন্তু গীতায় সাত্ত্বিক বলতে নিরামিষকে বোঝানো হয় নি, বরং গীতার ৯/২৭ নং শ্লোকে খাবার দাবারের ব্যাপারে চুড়ান্ত স্বাধীনতা দিয়ে বলা হয়েছে যে, “তোমরা যা কিছু আহার করো তা আমাকে নিবেদন করে আহার করো।” কিন্তু বৈষ্ণব সমাজ মানুষকে নিরামিষ খাওয়াতে বদ্ধ পরিকর।
আগেই বলেছি- তিনিই বৈষ্ণব, যিনি নারীর মুখ দেখেন না বা নারীকে ডাকেন না। নারী ছাড়া কোনো পরিবার গড়ে উঠে না, আর পরিবার ছাড়া সমাজ রচিত হয় না; এই সূত্রে পৃথিবীতে বৈষ্ণব সমাজ বলে আদৌ কিছু নেই। তাই জন্ম সূত্রে কারো বৈষ্ণব বা বৈরাগী হওয়ার সুযোগ নেই, যেহেতু তার পিতা মাতা বিয়ে করার অপরাধে বৈষ্ণব নয়। কিন্তু চৈতন্যদেবের অনুসারী বা ভক্তরা দেদারসে বিয়ে করছে, সন্তানের জন্ম দিচ্ছে, সংসার করছে, বিভিন্ন রকম মূর্তির পূজা করছে, যা সম্পূর্ণ সনাতনী কালচার- আর নিজেদেরকে ভাবছে বৈষ্ণব, এটা আসলে ভণ্ডামীর চুড়ান্ত রূপ।
অন্যদিকে সনাতনী হিন্দু সমাজের অনেকেই ছেলে মেয়ের মুখের ভাত বা অন্নপ্রাশন উপলক্ষ্যে, পিতা মাতার মৃত্যুতে বা অনেক সময় শখ বা খেয়ালের বশেও চৈতন্যের নামে মহাপ্রভুর ভোগ দিয়ে মানুষকে খাওয়ায়, আবার অনেক সময় অনেকে বছরে দু একবার বাড়িতে কীর্তনও দেয়, আর কীর্তনীয়ারা গিয়ে শুরু করে পঞ্চতত্ত্বের পূজা আর গাইতে শুরু করে- জয় গুরু গৌরাঙ্গ, জয় গুরু গৌরাঙ্গ, জয় গুরু গৌরাঙ্গ, জয় জয়; যেখানে শুধু গৌরাঙ্গ বা চৈতন্যেরই আরাধনা, শ্রীকৃষ্ণের কোনো কথাই নেই।




এই ভাবে সনাতনী হিন্দু সমাজ, বৈষ্ণব মতবাদের ফাঁদে পড়ে নিজেদের অজ্ঞাতেই চর্চা করছে বৈষ্ণব মতবাদের, যেখানে প্রধান চৈতন্যদেব, শ্রীকৃষ্ণ নয়। এছাড়াও বৈষ্ণবদের মিথ্যা প্রচারে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই প্রায় সকল হিন্দুই বিশ্বাস করে যে চৈতন্যদেব হলেন মহাপ্রভু। কিন্তু বাস্তবে মহাপ্রভু হলেন শ্রীকৃষ্ণ। এভাবে বৈষ্ণবরা সনাতনী হিন্দু সমাজকে আস্তে আস্তে বৈষ্ণব মতবাদে প্রায় কনভার্ট করে ফেলেছে। বৈষ্ণব মতবাদের এই ফাঁদে পড়ে আবার প্রায় সকল হিন্দু এটা বিশ্বাস করে যে চৈতন্যদেব হলেন কলিযুগের অবতার বা ভগবান এবং এর ফলে দ্বাপর যুগের অবতার শ্রীকৃষ্ণকে তারা ফলো করে না, ফলে বৈষ্ণব সমাজের কারণে সনাতনী হিন্দু সমাজ আস্তে আস্তে শ্রীকৃষ্ণ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, যা হিন্দু সমাজের সর্বনাশকে ডেকে আনছে; কারণ, আগেই বলেছি চৈতন্যদেব বা বৈষ্ণব মতবাদেক ফলো করলে আস্তে আস্তে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র ধ্বংস হতে বাধ্য, অন্যদিকে শ্রীকৃষ্ণের আদর্শের মাধ্যমে যে কোনো ব্যক্তি আত্মরক্ষা করে টিকে থাকতে এবং বাড়তে সক্ষম, যা সমাজ রক্ষার মূল ভিত্তি।
চৈতন্যদেবকে মহান করে তোলার জন্য বৈষ্ণবদের আরেকটি মিথ্যা প্রচার হলো চৈতন্যদেব কলিযুগের অবতার বা ভগবান, কলিহত জীবকে উদ্ধার করার জন্য তিনি এই ধরাধামে এসেছিলেন। আমরা যেহেতু কলিযুগের মানুষ, এবং যখন কোনো হিন্দু, চৈতন্যদেবের এই কলিযুগের অবতার বা ভগবান তত্ত্বে বিশ্বাস করে, তখন সে আর শ্রীকৃষ্ণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না, যেহেতু শ্রীকৃষ্ণ জন্ম নিয়েছিলেন দ্বাপর যুগে; এইভাবে তথ্য সন্ত্রাস করে এবং শ্রীকৃষ্ণের পাশে রাধাকে দাঁড় করিয়ে, শ্রীকৃষ্ণের চরিত্র সম্পর্কে নানা প্রশ্ন তোলার সুযোগ দিয়ে, বৈষ্ণবরা, যার মধ্যে আধুনিক ইসকনও অন্তর্ভূক্ত, এরা সনাতন হিন্দু সমাজের ফোকাস শ্রীকৃষ্ণের উপর থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে চৈতন্যদেবের উপর নিবদ্ধ করছে এবং হিন্দুসমাজের সুদূরপ্রসারী ক্ষতি করছে; কারণ, আগেই বলেছি বৈষ্ণব মতবাদ আসলে হিন্দু সমাজের ধ্বংসের পথ।
যা হোক, বিভিন্ন কারণে বিভিন্নভাবে চৈতন্যদেবের বৈষ্ণব মতবাদ সনাতনী হিন্দু সমাজে ঢুকে পড়ার ফলে সনাতনী হিন্দুরা যেমন বৈষ্ণব কালচারকে পালন করছে, তেমনিভাবে বৈষ্ণব নামধারীরাও চৈতন্যদেবের নামে মহাপ্রভুর ভোগ দেওয়া এবং মৃত্যুর পর লাশ না পোড়ানো ছাড়া আর অন্য সকল ক্ষেত্রে সনাতনী কালচার পালন করছে। এর ফলে হিন্দু সমাজের সবাই যেমন এক দিক থেকে বৈষ্ণব, তেমনি বৈষ্ণব সমাজেরও কেউ বৈষ্ণব নয়, সবাই সনাতনী হিন্দু। মূলত চৈতন্যদেবের বৈষ্ণব মতবাদ, সনাতনী হিন্দু সমাজে ছড়িয়ে পড়ার ফলে, বৈষ্ণব ও সনাতনী মিলে একটা জগাখিচুড়িতে পরিণত হয়েছে, ফলে এখানে আর কারোরই কোনো বিশুদ্ধতা নেই।
বাস্তবতার কারণে- শুধু বৈষ্ণবরা নয়, পৃথিবীর সকল মানুষ সনাতনী কালচার পালন করে বা পালন করতে বাধ্য, কিন্তু হিন্দু সমাজে বৈষ্ণবদের ধর্মীয় আধিপত্যের কারণে প্রায় সকল হিন্দু চৈতন্যদেবকে কলিযুগের অবতার বা ভগবান মনে করে এবং নিজেদের মুক্তি বা উদ্ধারের জন্য চৈতন্যের শরণাপন্ন হয়ে তার নামে কারণে অকারণে ভোগ দেয় এই মনে করে যে তারা ধর্মপালন করছ। কিন্তু বাস্তবে চৈতন্যদেবকে অবতার বা ভগবান মনে ক’রে, যিনি কৃষ্ণ তিনিই চৈতন্য এই মিথ্যা থিয়োরিতে বিশ্বাস ক’রে, শুধু বৈষ্ণবরাই নয়, সমগ্র হিন্দু সমাজ এক ভীষণ পাপ করছে এবং এটা তারা করছে বৈষ্ণব মতবাদের ফাঁদে পড়ে। সমগ্র হিন্দু সমাজকে যতক্ষণ এই বৈষ্ণব মতবাদের ফাঁদ সম্পর্কে সচেতন করা না যাবে বা তাদেরকে এই বৈষ্ণব মতবাদ থেকে রক্ষা করা না যাবে, ততক্ষণ হিন্দু সমাজের অধঃপতন কেউ ঠেকাতে পারবে না।
জন্মসূত্রে যে সব অবৈষ্ণব, বৈষ্ণবদের মিথ্যা প্রচারে বিশ্বাস করে চৈতন্যদেবকে কলিযুগের অবতার বা ভগবান মনে করে এবং নিজের আত্মার মুক্তি বা উদ্ধারের জন্য সারাক্ষণ চৈতন্য ভজনায় রত থাকে, তাদের ক্ষেত্রে একটা মজার ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়, আর তা হলো- সারাজীবন এরা বৈষ্ণব সেজে থাকার পরও নামের শেষে দাস বা মহন্ত লাগায় না এবং মৃত্যুর পর তাদেরকে না পুড়িয়ে সমাধিস্থ করে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে যায় না। এই ধরণের ব্যক্তিদেরকে যদি বলা হয় যে- আপনি তো সারাক্ষণ চৈতন্য বা গৌরাঙ্গ ভজনায় মেতে থাকেন, তো আপনি কি বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহণ করেছেন বা বৈরাগী হয়েছেন বা মারা যাওয়ার পর কি আপনাকে দাহ না করে সমাধিস্থ করা হবে ?
তখন দেখবেন এদের আসল রূপ, বলবে- বৈরাগী হবো কেনো বা বৈরাগীদরে মতো আমাকে সমাধিস্থ করা হবে কেনো ? এরা আসলে জানেই না যে বৈষ্ণব মতবাদ এবং সনাতন ধর্ম প্রকৃতপক্ষে আলাদা দুটো ব্যাপার। শ্রীকৃষ্ণকে ছেড়ে বা শ্রীকৃষ্ণকে পাশে রেখে যখন কেউ চৈতন্যদেবকে তার উদ্ধারকর্তা হিসেবে ধরে নিয়ে চৈতন্যদেবের ভজনা শুরু করে, তখন সে আর সনাতনী থাকে না, হয়ে যায় বৈষ্ণব; খুব কম হিন্দুই এই তত্ত্ব জানে, আর এটাই আসলে বৈষ্ণব মতবাদের ফাঁদ, যে মতবাদের ফাঁদে পড়ে প্রায় সকল হিন্দু কম বেশি বৈষ্ণব মতবাদের চর্চা করে চলেছে এবং এর ফলে দু চার জন সনাতনী হিন্দু বৈষ্ণব মতবাদকে গ্রহন করে নিজেদের নামের পাশে দাস/মহন্তও লাগাচ্ছে, এই ঘটনা ঘটেছে আমার পাশের গ্রামেই এবং আমার থানার পাশের থানার একটি ঋষি/মাটিয়াল অধ্যুষিত গ্রামের সবাই বৈষ্ণব মতবাদ গ্রহণ করে বৈরাগী হয়ে গেছে, তারা এখন এত উচ্চ মাত্রার বৈরাগী যে সবার হাতে অন্ন এবং জল খান না এবং বৈরাগী ছাড়া অন্য কারো সাথে নিজেদের ছেলে মেয়ের বিয়ে পর্যন্ত দেন না।
কাগজে কলমে এইভাবে বৈষ্ণব হওয়ার হার যদিও খুবই কম, কিন্তু যারা ইসকনে সক্রিয়ভাবে যোগ দিচ্ছে, তাদের নামের পাশে তো দাস লাগানো বাধ্যতামূলক; এই ভাবে বৈষ্ণব মতবাদ, আস্তে আস্তে সমগ্র হিন্দু সমাজকে গিলে খাওয়ার চেষ্টা করছে এবং কারণে অকারণে সব হিন্দুকে নিরামিষ খেতে উদ্বুদ্ধ করে বা বাধ্য করে, তাদের কাম ক্রোধ কমিয়ে, গার্হস্থ্য ধর্মের প্রতি তাদেরকে উদাসীন বা বিরাগী করছে, এর ফলে আস্তে আস্তে সমগ্র হিন্দু সমাজ জনসংখ্যা হারিয়ে বিলুপ্তির পথে এগিয়ে চলেছে এবং শক্তি হারিয়ে অসুর জাতের সাথে লড়াইয়ে টিকতে না পেরে জন্মভূমি ত্যাগেও বাধ্য হচ্ছে। আর এর সবই ঘটছে সনাতনী হিন্দু সমা্জের উপর বৈষ্ণব মতবাদের অশুভ প্রভাবের ফলে। গত ৪/৫শ বছর ধরে বৈষ্ণব মতবাদ এইভাবে সনাতনী সমাজের ক্ষতি করে চলেছে, তাই এখনই যদি এ সম্পর্কে সকল হিন্দু সচেতন না হয় এবং বৈষ্ণব মতবাদকে যদি রুখতে না পারে, বৈষ্ণব মতবাদের ফাঁদে পড়ে সমগ্র সনাতনী হিন্দু সমাজ বিলুপ্ত হতে বাধ্য।

Tuesday, February 4, 2020

কৃষ্ণ মহাদেবকে যুদ্ধে হারিয়েছিলেন ! কৃৈষ্ণবদের এই দাবীর খন্ডন।

ইস্কনি কৃৈষ্ণব আর বৈষ্ণবরা প্রায়ই ভাগবতে কৃষ্ণ আর মহাদেবের যুদ্ধের রেফারেন্স দিয়ে বলে, মহাদেবকে কৃষ্ণ হারিয়েছিল তার কৃষ্ণই শিবাপেক্ষা অধিক শক্তিশালী।
আসলে ওরা জানে না এর উত্তর মহাভারতেই দাওয়া আছে। মহাভারতে গুরু দ্রোণ আর পিতামহ ভীষ্ম যখন উভয় পক্ষের যোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনা করেন তখন বলেন, "কৃষ্ণার্জুন দ্বৈতকে শুধুমাত্র শিবই হারাতে পারে।" যদিও কর্ণ এবং দুর্যোধন এর বিরোধিতা করে।
কিন্তু জানেন কি শিব কুরুক্ষেত্রে কৃষ্ণার্জুন এর (একই সাথে পক্ষে এবং) বিপক্ষে যুদ্ধকরেন। হ্যা, অশ্বত্থামার কথা বলছি। তিনি শিব তথা রুদ্রের অবতার ছিলেন। তার সম্পর্কেও ভীষ্ম পিতামহ বলেন তার মত যোদ্ধা উভয় পক্ষের কেউই নেই। কিন্তু তিনি নিজের প্রাণের মোহ ত্যাগ করতে পারেন না, যদি তিনি তা ত্যাগ করতে পারেন তবে তাকে আটকে পারবে না।
আশ্চর্য হতে পারেন, অশ্বত্থামা যুদ্ধে ছিলেন তবুও কেন পাণ্ডবরা জয়ী হলো? এর উত্তরটা মনে রাখুন এর উত্তরেই বৈষ্ণবদের প্রশ্নের জবাব আছে।
কুরুক্ষেত্রে কৃষ্ণার্জুনের বিপক্ষে বিভিন্ন দৈবাস্ত্র প্রয়োগ করেও আশ্বত্থামা অবাক হলেন যে তার বাণ থেকে নির্গত কোন দৈবাস্ত্রই তাদের স্পর্শ করছে না, কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। এদেখে তিনি বুঝতে পারলেন যে কৃষ্ণার্জুন দ্বৈত সাধারণ কেউ নয়। তিনি তার রথ ঘুরিয়ে সরস্বতী নদীর তীরে নিয়ে বেদব্যাসকে প্রশ্ন করলে ভগবান তাকে তার রহস্য উন্মোচন করেন।
বেদব্যাস বলেন, "কৃষ্ণার্জুন আগের জন্মে নর-নারায়ণ ঋষি ছিলেন। তারা মহাশিব ভক্ত ছিলেন। তারা ঘোর তপস্যা করে শিবের থেকে বর লাভ করেন। ভগবান শিব তাদের বরদেন যে তারা সর্বদাই যুদ্ধে বিজয়ী হবেন, এমনকি শিবের সাথে যুদ্ধ করলেও তারাই জয়ী হবে। অশ্বত্থামা নিজে রুদ্রাবতার, তাই তার হাতের কোন দৈবাস্ত্র কৃষ্ণার্জনের কোন ক্ষতি করে না।"
বুঝলেন তো কার বলে কৃষ্ণ জগতজয়ী, আর তার ভক্তরা করে বেড়ায় শিবনিন্দা। প্রমাণ নিম্নে বর্ণিত একদম রেফারেন্স সহ।




অর্জুন উবাচঃ
_____________
"সংগ্রামে ন্যহনম শত্রুন্সুরুঘইরবিমলৈরহম।
অগ্রতো লক্ষ্যয়ে যান্তম পুরুষম পাবকপ্রভম।। ৪
জ্বলন্তম শূলমুদ্যম্য যা দিশম প্রতিপদ্যতে।
তস্যা দিশি বিদির‍্যান্তে শত্রভো মে মহামুনে।। ৫
তেন ভগ্নানরিসর্বন্মদ্ভগনান্মন্যতে জনহ্।
তেন ভগ্নানি সৈন্যানি প্রস্থতো নুব্রজাম্যহম।। ৬
ভগবমস্তন্মমাচাক্ষব কো বৈ স পুরুষোত্তমঃ।
শূলপাণির্ময়া দ্রষ্টস্তেজসা সূর্য্যসন্নিভিঃ।। ৭
ন পদ্ভয়া স্প্রশতে ভূমি না চ শূলম বিভুঞ্চতি।
শূলাচ্ছূলসহস্রানি নিষ্পেতুসতস্য তেজসা।।"৮
~ মহাভারত (৭/২০২ঃ৪-৮)
অনুবাদঃ
__________
" হে মহামুনি, যুদ্ধের সময় একদিন লক্ষ্য করলাম যে আমার রথের অগ্রে এক উগ্র অগ্নি সদৃশ পুরুষ বিচরণ করছেন,তাঁর হাতে জ্বলন্ত শূল, মনে হচ্ছিলো যেন সূর্য্য ও অগ্নির সকল তেজ তাঁর শরীরেই পুঞ্জীভূত হয়েছে। আমার অস্ত্রসমূহের অনেক পূর্বে গিয়েই তিনি আমার শত্রুদের বধ করে রাখছিলেন। আমার অস্ত্রগুলো কেবল শত্রুদের মৃত শরীরে আঘাত করছিল। সেই পুরুষের পদতল ভূমি স্পর্শ করছিল না। হে ঋষি, আমাকে বলুন উগ্রতেজস্বী সেই পুরুষোত্তম কে ছিলেন?"
মহর্ষি বেদব্যাস পরবর্তী ২ শ্লোকে অর্জুনের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বলছেনঃ
ব্যাস উবাচঃ
_____________
"শূলপাণিমহাকর্ষণ তেজসা সূর্য্যসন্নিবাহঃ।
প্রজাপতিনা প্রথমম তৈজসম,পুরুষম প্রভুম।
ভুবনাম ভূর্ভূবম দেবম সর্বলোকেশ্বরম প্রভুম।। ৯
ঈশানাম বরদাম পার্থ দ্রষ্টবানসি শঙ্করম।
তম গচ্ছ শরণম দেবার্মম বরদম ভূবনেশ্বরম।।" ১০
~ মহাভারত (৭/২০২:৯-১০)
অনুবাদঃ
___________
"বৎস ! তুমি শূলহস্তা যে তেজস্বী পুরুষকে দেখেছ তিনি ভগবান শঙ্কর, যার থেকে প্রজাপতিগণের সৃষ্টি হয়েছিলো। ইনি ত্রিভুবনকে ধারণ করেন তাই সর্বলোকের ঈশ্বর ও প্রভু।তাই এনাকে ঈশানও বলা হয়।হে পার্থ তুমি সেই অভীষ্ট বর প্রদানকারী ভগবান ভুবনেশ্বরের শরণাপন্ন হও।"
বস্তুতঃ যজুর্বেদের শ্রীরুদ্রমের নিম্নোক্ত মন্ত্রেই ভগবান রুদ্রদেবকে এই বলে স্তুতি করা হয়েছে যে তিনি তাঁর ভক্তদের সকল শত্রুদের পূর্বেই বধ করে রাখেন।
"নমো অগ্রেবধায় চ, দূরে বধায় চ।।"
~ যজুর্বেদ (৪/৫/৮)।
অনুবাদ ;
"সেই রুদ্রদেবকে নমষ্কার যিনি ভক্তের আগে গিয়ে শত্রুকে সংহার করেন এবং দূরে থেকে শত্রুর মনোবল হরণ করেন।।"

Sunday, February 2, 2020

ভাগবত পুরান এর কিছু তথ্য

শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ এটা কবে রচিত? এটা কি কৃষ্ণদৈপরায়ণ ব্যাসদেব রচনা করেছেন? এরস্কন্ধ, অধ্যায় ও শ্লোক সংখ্যকত?


উত্তর- বেশীর ভাগ হিন্দুরাই বলবে এটা কৃষ্ণদৈপরায়নব্যাসদেব রচনা করেছেন মহাভারতেরযুগে এবং এতে শ্লোক সংখ্যা১৮হাজার। প্রমাণ হিসেবে তারা ঐগ্রন্থের একটি শ্লোক দেখিয়েপ্রমাণের চেষ্টা করবে। শ্লোকটাএকটু দেখেনি-


"অষ্টাদশ শ্রী ভাগবত মিষ্যতে" শ্রীমদ্ভাগবত ১২।১৩।৯.

অর্থাৎ ভাগবতে মোট ১৮০০০শ্লোক আছে।

এবার আমার কথাগুলো মনোযোগদিয়ে পড়ুন, আশা করি অনেক নতুনতথ্য পাবেন।




এর শ্লোক সংখ্যা কখনোই ১৮০০০ নয়, কেননা গণনা করলে এতে মাহাত্মসহ মোট ১৪৭৬৪টা শ্লোক (প্রায়) পাওয়া যায়। মানে এই গ্রন্থে ভেজাল আছে এটা ১০০ ভাগ নিশ্চত।এখন বলতে পারে যে আমার কথাটাযে ঠিক তার প্রমাণ কি??? কথাটা অযোক্তিক নয়, তাই আপনাদেরজন্য প্রমাণ উপস্থাপন করলাম।যারা যাচাই করতে চান তারা রামকৃষ্ণমিশন থেকে গীতাপ্রেস এর শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ কিনে যাচাই করে নিবেন-মোট স্কন্ধ ১২টা।মোট অধ্যায় ৩৩৫টা,মাহাত্য সহ মোট অধ্যায় ৩৪৫টা। মোট শ্লোক সংখ্যা ১৪০৬১টা,মাহাত্য সহ মোট শ্লোক ১৪৭৬৪টা।অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন কোনস্কন্ধে কতটা অধ্যায় ও শ্লোকআছে ??? তাই সেটাও দিলাম আপনাদের জানার জন্য-
১ম স্কন্ধে ১৯টি অধ্যায় ও ৮০৯টাশ্লোক আছে।
২য় স্কন্ধে ১০টি অধ্যায় ও ৩৯১টাশ্লোক আছে।

৩য় স্কন্ধে ৩৩টি অধ্যায় ও ১৩১৭টাশ্লোক আছে।
৪র্থ স্কন্ধে ৩১টি অধ্যায় ও১৪৪৫টা শ্লোক আছে।
৫ম স্কন্ধে ২৬টি অধ্যায় ও ৬৬৮টাশ্লোক আছে।
৬ষ্ঠ স্কন্ধে ১৯টি অধ্যায় ও ৮৫১টাশ্লোক আছে।
৭ম স্কন্ধে ১৫টি অধ্যায় ও ৭৫০টাশ্লোক আছে।
৮ম স্কন্ধে ২৪টি অধ্যায় ও ৯৩১টাশ্লোক আছে।
৯ম স্কন্ধে ২৪টি অধ্যায় ও ৯৬৪টাশ্লোক আছে।
১০ম স্কন্ধে ৯০টি অধ্যায় ও৩৯৪৮টা শ্লোক আছে।
১১দশ স্কন্ধে ৩১টি অধ্যায় ও১৩৬৭টা শ্লোক আছে।
১২দশ স্কন্ধে ১৩টি অধ্যায় ও৫৬৬টা শ্লোক আছে।

মানে মাহাত্ম বাদে অধ্যায়৩৩৫টা ও শ্লোক ১৪০৬১টা। শুরুতে মাহাত্ম্যমে অধ্যায় আছে ৬টিও শ্লোক আছে প্রায় ৫০৪টা। শেষের মাহাত্ম্যমে অধ্যায় আছে ৪টিও শ্লোক আছে প্রায় ১৯৯টা।মানে মাহাত্ম্যমসহ অধ্যায় প্রায়৩৪৫টা ও মাহাত্ম্যমসহ শ্লোকআছে প্রায় ১৪৭৬৪টা।মানে এই গ্রন্থ পুরোটাই ভেজালে পরিপূর্ণ। আর এটা কোনসনাতন ধর্মের শাস্ত্রই না । এবং শ্রী ব্যাস রচিত না।

কাজেই এইসব নব্য কৃৈষ্ণবদের রচিত গ্রন্থ থেকে সাবধান থাকবেন।
হর হর মহাদেব। 

Thursday, January 23, 2020

সামুদ্রিক শাস্ত্রে আমাদের হাতের আঙুল

প্রবাদে আছে, চোখ নাকি মনের আয়না! কিন্তু অনেকেরই জানা নেই, হাতের গড়ন দেখেও একজন মানুষ সম্বন্ধে অনেক কিছু জানা যায়।বৃদ্ধাঙ্গুল ছাড়া বাকি চারটে আঙুল, তর্জনী, মধ্যমা, অনামিকা আর কনিষ্ঠা - প্রত্যেকটি একেকটি গ্রহের প্রতিনিধি। এই আঙুলের আকার-প্রকারের বিভিন্নতা মানুষের চরিত্রেও ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
আঙুলের গড়ন দেখে মানুষ চেনার আগে জেনে নিন, কোন আঙুল কোন গ্রহের প্রতিনিধি। তর্জনী - গুরু বা বৃহস্পতি, মধ্যমা - শনি, অনামিকা - রবি বা সূর্য আর কনিষ্ঠা - বুধ গ্রহের প্রতীক।

★ তর্জনী -- এই আঙুল মানুষের উচ্চাকাঙ্খা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা আর 'অহম'-এর প্রতীক। এর সাহায্যে কে, কতটা ভাগ্যবান এবং কাজে উন্নতি করবে তা-ও জানা যায়। তর্জনী সাধারণত উচ্চতায় মধ্যমা-র মধ্যভাগ-কে ছুঁয়ে থাকে। কারও আঙুল এর থেকে সামান্য লম্বা হলে বলা হয়, তার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। আর তার বৃহস্পতি গ্রহ খুবই শক্তিশালী। আঙুল ছোটো হলে অন্যের দেখানো পথে চলতে কিংবা একা কাজ করতে ভালোবাসে সেই মানুষটি। তর্জনী স্বাভাবিকের থেকে বেশি বড়ো হলে সব বিষয়ে অবহেলা ও ঔদ্ধত্য বেড়ে যায়। আর ছোটো হলে এই বৈশিষ্ট্যগুলোই আর থাকে না। তর্জনী বাঁকা যার, সে খুব চালাক, স্বার্থপর আর খল প্রকৃতির। এই আঙুলের ঠিক নীচেই বৃহস্পতির অবস্থান। গ্রহটি হাতে পূর্ণভাবে বিকশিত (উঁচু) হলে মানুষের মধ্যে নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা, নীতিপরায়ণতা ও আত্মাভিমান দেখা যায়। বেশি উঁচু হলে অহঙ্কারী, রাগী, ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে ওঠে। নীচস্থ হলে বৃহস্পতির কোনও মৌলিক গুণ ব্যক্তির মধ্যে দেখা যায় না।
★ মধ্যমা -- এই আঙুলের নীচে শনি গ্রহের অবস্থান। এটি সত্য, ন্যায়পরায়ণ, নিয়মানুবর্তিতার প্রতীক। অন্যান্য আঙুলের চাইতে তুলনায় একটু বেশি বড়ো হলে ব্যক্তিটি দায়িত্ববান, গভীর ব্যক্তিত্বশালী এবং উচ্চাকাঙ্খী হবে। আঙুলের উচ্চতা বেশি হওয়া মানে একাকীত্ব পছন্দ। এবং অনেক সময় বাজে কাজেও জড়িয়ে পড়তে পারে। উচ্চতায় ছোটো হলে অলস প্রকৃতির হয়। মধ্যমার প্রথম ভাগ লম্বা হলে আধ্যাত্মবাদের প্রতি আগ্রহ থাকবে। আঙুলের মধ্য ভাগ লম্বা হলে রসায়ন, লোহা সহ নানা ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যবসায়-র সঙ্গে যুক্ত থাকবে। তৃতীয় ভাগ লম্বা হলে সেই ব্যক্তি চালাক, স্বার্থপর হয়। খারাপ কাজের সঙ্গে ষুক্ত থাকে। আঙুলের নীচে স্থিত শনিগ্রহের অবস্থান উঁচুতে হলে সেই মানুষ জ্ঞানী হয়। বিচারশক্তির ক্ষমতা প্রবল থাকে এবং ইন্দ্রিয় নিজের বশে থাকে।
★ অনামিকা -- এই আঙুল রবি-র ধারক। এটি আমাদের যশ লাভ, বুদ্ধি ও সৃষ্টিশীল কাজ করতে সাহায্য করে। তর্জনী-র থেকে অনামিকা লম্বা হলে সেই ব্যক্তির যে কোনও বিষয়ে ঝুঁকি নেওয়ার অদ্ভূত ক্ষমতা থাকে। এছাড়া, ফ্যাশন বা ছবির জগতে কাজ করার আগ্রহ দেখা যায়। লম্বায় ছোটো হলে সব অবস্থাতেই সে সন্তুষ্ট। যশ লাভের খুব ইচ্ছাও তার থাকে না। যদিও তর্জনী থেকে অনামিকা লম্বায় ছোটো খুব কমই দেখা যায়। অনামিকার নীচে অবস্থিত রবি গ্রহ পূর্ণ মাত্রায় (উঁচু) থাকলে সব কাজেই সাফল্য, যশ, প্রতিষ্ঠা আসে। ব্যক্তিটি পরিশ্রমী হয় এবং ব্যবসায় উন্নতি করে। ধার্মিক হলেও ধর্মান্ধ হয় না। নিজের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল থাকে। এরা যেমন চট করে রেগে যায় তেমনি আবার খুব তাড়াতড়ি শান্তও হয়।
★ কনিষ্ঠা -- বুধ গ্রহের ধারক এই আঙুল। এর মাধ্যমে ব্যক্তির বাকপটুতা, জ্ঞান, বুদ্ধি ও চাতুর্য বোঝা যায়। কণিষ্ঠা অনামিকার প্রথম ভাগের সমান এর উচ্চতা হলে যে কোনও বিষয়েই ব্যক্তির অভিব্যক্তি কম প্রকাশ পায়। ভাবনা এবং কথায় নিজের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ছেলেমানুষী স্বভাবে এর আরও একটি বৈশিষ্ট্য। আর লম্বা হলে আই কিউ তীক্ষ্ণ হয়। খুব ভালো লেখক ও সুবক্তা হয়। কনিষ্ঠা-র নীচু ভাগ চওড়া মানেই খুব বিলাসী।
এছাড়াও, হাতের আঙুলগুলি থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তির মনের ইচ্ছা, আয়ু সম্বন্ধেও জানা যায়। যেমন, যে কোনও আঙুলের অগ্রভাগ দেখে সেই ব্যক্তির ইচ্ছাশক্তি, দ্বিতীয় ভাগ তর্ক করার ক্ষমতা জানা যায়। আঙুলগুলি টান টান সোজা মানেই মানুষটি প্রচণ্ড কঠোর ও জেদি হবেই। এই ধরনের মানুষ অত্যন্ত বিশ্বাসী হলেও কঠোর ও জেদি স্বভাবে জন্য বেশি বন্ধু থাকে না।
আবার হাতের আঙুল খুব নরম মানেই সেই ব্যক্তি অত্যন্ত খরুচে। তবে সহজে এই লোককে বিশ্বাস না করাই ভালো। জেদি হওয়ায় এদের বন্ধুর সংখ্যা কম। নরম মানসিকতার জন্য অনেকেই বন্ধুত্বের আগ্রহ দেখায়। যদিও এরা কঠিন কাজ বা দায়িত্ব নিতে পারে না। বোহেমিয়ন স্বভাবের জন্য এরা নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনাও নিতে পারে না।
হাত মেলে ধরার সময় যাদের সব আঙুল ৬০ ডিগ্রি-র কোণে খোলা যায় না তারা জ্ঞানী ও কর্ম নিপুণ হয়। যাদের ৯০ ডিগ্রি কোণ পর্যন্তু খোলে তারা অনায়েসে ঝুঁকি নিতে পারে। ১২০ডিগ্রি কোণের আঙুলধারীরা সব সময় অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে অভ্যস্ত। আঙুলের গঠন কোমর-এর মতো হলে সেই ব্যক্তি তর্কে পারদর্শী হলেও শারীরিক সুস্থতা কম থাকে।
আঙুলের ডগা ছুঁচালো হলে প্রখর বুদ্ধিমান হবে। আঙুল আগা-গোড়া চওড়া হলে প্রচণ্ড জেদি হবে। আঙুলের ডগা চৌকো হলে বাজে কাজে জড়িয়ে জেলে যাওয়ারও অসম্ভব নয়। যদিও এরা খুবই বাস্তব মেনে থাকে।

Tuesday, January 7, 2020

মন্ত্র' গুণে দাম্পত্য সুখ

ঝগড়া, মান-অভিমান ছাড়া আবার স্বামী-স্ত্রী-র সম্পর্ক হয় নাকি! তা বলে কোনও জিনিসটাই তো বেশি ভালো নয়। এমন অনেক দম্পতি আছেন, যাঁরা মানসিক শান্তি বিসর্জন দিয়ে কেবল লোকলজ্জা বা সমাজের ভয়ে দীর্ঘদিন এক ছাদের তলায় বাস করে যাচ্ছেন। এটা একেবারেই কাম্য নয়। রোজের দাম্পত্য-কলহ এড়িয়ে বৈবাহিক সম্পর্ককে সুখী করার জন্য এমন কিছু মন্ত্র রয়েছে যা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উপকার মেলে।
-
রোজ যাঁদের মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকে তাঁরা সূর্য ওঠার আগে স্নান সেরে প্রতিষ্ঠিত শিব মন্দিরে গিয়ে মন্ত্র জপ করতে করতে শিব লিঙ্গে নিয়মিত জল ঢালুন। মন্ত্রটি হল -----
-
'ওং নমঃ সম্ভবায় চ ময়ো ভবায় চ নমঃ।
শংকরায় চ ময়স্করায় চ নমঃ শিবায় চ শিবতরায় চ।।'
-
এবং প্রতি সোমবার ভোরে স্নান সেরে 'ওঁ সোমেশ্বরায় নমঃ' মন্ত্র জপ করতে করতে শিবলিঙ্গের মাথায় দুধ মিশ্রিত জল ঢাললেও উপকার পাওয়া যাওয়া। জল ঢালার পর মন্দিরে বসে রুদ্রাক্ষের জপমালা নিয়ে দেবাদিদেব মহাদেবের স্মরণ নিন। পাঁচটি নারকেল শিবমূর্তির সামনে রেখে জপ করুন-- 'ওঁ শ্রী বর প্রদায় শ্রী নমঃ' মন্ত্র। স্ফটিক বা রুদ্রাক্ষের জপমালা হাতে নিয়ে এই মন্ত্র মোট পাঁচ মালা (জপের সময় জপমালার সমস্ত রুদ্রাক্ষ গুণতে হবে। পুরোটা একবার গোণা হলে এক মালা গোণা হল। জপ শেষে নারকেল দেবতার উদ্দেশ্য নিবেদন করুন। (এক মালা = ১০৮ বার)
-
আবার অনেকের মধ্যে ঝগড়া-ঝাঁটি তেমন না হলেও মতের মিল হয় না কখনও। সকালে স্নান সেরে দেবী দুর্গার ছবির সামনে প্রদীপ, ধূপ আর ফুল দিন। এরপর নীচে বলা মন্ত্র ১০৮ বার জপ করুন। ভক্তি ভরে নিয়ম মানলে ২১ দিনের মধ্যে সুফল পাওয়া সম্ভব।
-
মন্ত্র -----
'ধাং ধীং ধুং ধূর্জটে পত্নী
বাং বীং বূং বাগধীশ্বরী।
ক্রাং ক্রীং ক্রূং কালিকা দেবী
শাং শীং শূং মেং শুভং কুরু।।
-
দুঃখ-দারিদ্র্যে জর্জরিত? বা পারিবারিক কলহ রাতের ঘুম কেড়েছে? অর্থের কারণে রোজের দাম্পত্য-কলহ বৈবাহিক সম্পর্ককে কলুষিত করছে? তা হলে এই দুর্গা মন্ত্র জপ করলে সমস্ত বিপত্তি দূর হবে। পরিবারে সুখের বাস হবে।
-
দারিদ্রতা এবং দুঃখ ইত্যাদি দূর করতে মন্ত্র ------
-
দুর্গে স্মৃতা হরসি ভীতিমশেষজন্তোঃ
স্বস্থৈঃ স্মৃতা মতিমতীব শুভাং দদাসি।
দারিদ্র্যদুঃখভয়হারিণি কা ত্বদন্যা সর্বোপকারকরণায় সদার্দ্রচিত্তা।।
-
***প্রত্যেক দিন শ্রী শ্রী চণ্ডীর 'কুঞ্জিকা স্তোত্রম্' পাঠ করতে ভুলবেন না যেন।

Sunday, December 22, 2019

শৈব পবিত্রতা

ভারতের বিভিন্ন ধর্মীয়পন্থার ভিতরে শৈব ধর্মের ইতিহাস অতি প্রাচীন ।।
এই কথা বেদ সমূহের রচনাক্রম,বয়স আর কোন বেদে কোন দেবতাকে মুখ্য করা হয়েছিল তার থেকেই সম্যক নির্ণয় করা যায়। শৈব দর্শনের মতে শিব সমগ্র জগতের মূল,উনিই জগতের কারণ, কর্তা   এবং বীর্যোৎপাদনের অধিকারী । পরম বীর্যপুরুষ যেইজন সেইজনই শিব।ঋগবেদোক্ত পরম ব্রহ্ম, অলক নিরঞ্জনই শিব ।



শিবই বিশাল চৈতন্যের আধার আর সমগ্র চরা--
চরের 'নাথ'।। ঋগ্বেদের দেবতা ব্রহ্মা রজোগুণা-
-ন্বিত এবং যথাক্রমে সাম এবং যজুর্বেদের দেবতা শিব-বিষ্ণু সত্বগুনধারী এবং প্রকৃত্যাতীত পরম পুরুষ।গণ ধর্মে উপাস্য পরম পুরুষ হিসাবে শিব এবং বিষ্ণুর প্রাধান্যতাই বেশী। রুদ্রদেবতার আর এক নাম শিব। রুদ্র  সংহারকারী ।ব্রহ্ম বৈবর্তপুরাণে উনাকে কালাগ্নি রুদ্র বলা হয়েছে ।কালাগ্নিরুদ্র একাদশ
রুদ্রের মধ্যে  একজন।উনিই ত্বমোগুণান্বিত এবং সৃষ্টি সংহারকারী।প্রকৃতই শিব পরম পুরুষ এবং
পরম ব্রহ্মে শুভ্র,শুদ্ধ এক সাকার রূপ মাত্র ।। তিনিই সর্ব্ব ব্যাপ্ত এবং সর্ব্ব শক্তিমান,"যত্র জীব তত্র শিব" । সুতরাং শিব আর বিষ্ণুর মধ্যে কোন
গুণগত পার্থক্য নাই।।

শিব কহে  শুন শুন  পার্বতী সুন্দরী ।
জিজ্ঞাসিলে যাহা তাহা কহিব বিস্তারি ।।
আমাতে বিষ্ণুতে ভেদ নাহিকো কখন।
যেই আমি   সেই বিষ্ণু   স্বরূপ বচন ।। আমাতে বিষ্ণুতে ভেদ কভু না করিবে।
কর্তব্য   হইবে তবে জানিবে এ ভবে।।
অভেদে বিষ্ণুর সহ   করিয়া বিচার   ।
আমারে  পূজিবে সদা সংসার মাঝার।।
                            (শিব পুরাণ, আত্মবোধ খন্ড)

Tuesday, December 10, 2019

অদ্বৈতবাদে জগৎ মিথ্যা বলতে কি বুঝিয়েছে?

আজ একটা গুরুতর বিষয়ে আলোচনা করব।
অনেকে এই একটা ধারণা পোষণ করে আসতেছেন যে,ভগবান শঙ্করাচার্যের অদ্বৈতবাদে জগৎ অসত্য,মিথ্যা বলে উড়ে দেওয়া হয়েছে।এই যে আমরা নগ-নদাদিসঙ্কুল বিচিত্র জগৎ দেখতেছি;এই যে আমরা প্রতি নিয়ত সুখ-দুঃখ হর্য-বিষাদাদি অনুভব করতেছি,--এ সকলই মায়াময়,অসত্য,অলীক।সকলই ভ্রান্ত-প্রতীতি মাত্র।একমাত্র ব্রহ্মই সত্য,আর সবই অসত্য।অনেকের চিত্তে,পাষাণে অঙ্কিত রেখার ন্যায়,এই সংস্কারটা,এই ধারণাটা,বদ্ধমূল হয়ে পড়েছে।শঙ্করাচার্য নাকি,তাঁর অদ্বৈতবাদে তাই শিক্ষা দিয়ে গিয়েছেন!এখন আমরা এই কথাটা ঠিক কিনা,প্রকৃতই শঙ্কর এই জগৎটাকে অলীক,মায়াময়,অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন কিনা,--তাই পরীক্ষা করে দেখতে অগ্রসর হব।শঙ্করাচার্য্য স্পষ্টবাক্যে,অনেক স্থানে জগৎকে অসত্য,মিথ্যা,অসার,মায়াময় বলে নির্দ্দেশ করেছেন,দেখতে পাওয়া যায়।কিন্তু তিনি কি ভাবে এই শব্দ গুলির ব্যবহার করেছেন,তা পরীক্ষা করে দেখা নিতান্তই আবশ্যক।






(১) কিন্তু এই বিষয়টির পরীক্ষা পূর্ব্বে,আমরা একটি তত্ত্ব পাঠকবর্গের মনে জাগিয়ে দিতে ইচ্ছা করি।দর্শনশাস্ত্রে "কার্য্য ও কারণ" শব্দটি পুনঃ পুনঃ ব্যবহৃত হয়েছে।বস্তু বা জীব হতে "অভিব্যক্ত ধর্ম বা বিকারগুলি,এক অবস্থা হতে অবস্থান্তর ধারণ করে থাকে।বিকারগুলির প্রকৃতি এই প্রকার।পূর্ববর্তী অবস্থা বিনষ্ট হলে,পরবর্তী অবস্থায় পরিণত হয়।এই পূর্ববর্তী অবস্থাকে কারণ শব্দে নির্দেশ করা যায়।জড় বিজ্ঞান ও মনো-বিজ্ঞান এই অর্থেই 'কারণ' শব্দটিকে ব্যবহার করে থাকে।শঙ্করাচার্য অতি স্পষ্ট কথায় আমাদেরকে বলে দিয়েছেন যে,তিনি তাঁর ভাষ্যে কোথাও এরুপ অর্থে 'কারণ' শব্দের ব্যবহার করবেন না।বস্তুই বল,আর জীব বল,বা ব্রহ্মই বল,--সকলেরই এক একটা 'স্বভাব' বা 'স্বরুপ' আছে।এই স্বভাব হতেই কতকগুলি ধর্ম বা গুণ বা ক্রিয়ার অভিব্যক্তি হয়ে থাকে।অবশ্য এই ধর্ম বা গুণগুলি পুনঃপুন রুপান্তর ধারণ করে;এক অবস্থা হতে অপর অবস্থা গ্রহণ করে।পূর্ব্বাবস্থা বিনষ্ট হয়ে,বর্তমানাবস্থায় আসে।শঙ্কর বলেছেন যে যে স্বরুপ হতে ঐ সকল ধর্ম্ম বা গুণ উৎপন্ন হচ্ছে;সেই স্বরুপটি সকল অবস্থানন্তরের মধ্যেই আপনার স্বরুপ,আপন একত্ব বজায় রাখে।পূর্ব্বাবস্থা নাশের সঙ্গে,ঐ স্বরুপটা বিনষ্ট হয় না।পূর্ব্বাবস্থার মধ্যেও ঐ স্বরুপটা অনুগত ছিল:আবার বর্তমানাবস্থার মধ্যেও সেই স্বরুপটাই অনুগত রয়েছে।শঙ্কর বলে দিয়েছেন যে,তিনি এই স্বরুপটাকেই 'কারণ' শব্দে নির্দ্দেশ করবেন।এই 'কারণের' যত অবস্থান্তরই হোক না কেন,তা কোন অবস্থান্তরের মধ্যেই নিজকে হারায় না;তার স্বাতন্ত্র্য ও একত্ব(identity) ঠিক থাকে।তিনি এই স্বরুপ বা স্বভাবটাকেই 'কারণ' বলবেন।এই নিয়ম স্থির করে নিয়ে,শঙ্করাচার্য্য এই কারণ এবং তা হতে অভিব্যক্ত কার্য্য বা বিকার বা ধর্মগুলির মধ্যে সম্বন্ধ কিরুপ তার আলোচনা করেছেন।আমরা দেখতে পাই,তিনি এই সম্বন্ধটা বুঝাবার জন্য বেদান্তদর্শনের একটা সমগ্র 'পাদ' ব্যয়িত করেছেন।এত পরিশ্রম তিনি কেন করলেন?এই বিকারগুলি,ধর্মগুলি,ক্রিয়া ও গুণগুলি যদি তাঁর মতে মিথ্যা,অলীক,অসত্যই হয়;তা হলে একটা অলীক বস্তুর সম্বন্ধই বা কিরুপে হবে এবং সেই তথা-কথিত সম্বন্ধ নির্ণয়ের জন্য তিনি শ্রমই বা কেন করতে গেলেন?তিনি নিজেই এই মন্তব্য প্রকাশ করেছেন যে,---
"দুইটা বস্তুই যদি অলীক হয়,তা হলে সেই দুই অলীক বস্তুর মধ্যে পরস্পর কোন সম্বন্ধ হতে পারে না।আবার যদি,একটা অলীক বস্তু;আর,অপরটি সত্য বস্তু;---এরুপ হয়;তা হলেও উভয়ের সম্বন্ধ হতে পারে না।পরস্পর সম্বন্ধ হতে হলেই,দুইটা বস্তু আবশ্যক; এবং এই দুইটা বস্তুই সত্য হওয়া চাই।
(২) আমরা এই জগৎটাকেই সর্ব্বদা আমাদের ইন্দ্রিয়-পথে বিস্তারিত দেখতে পাই।অসংখ্য নাম-রুপাত্মক বিকার নিয়েই এই জগৎ।এই বিকারগুলোকে আমরা দেশে ও কালে অভিব্যক্ত দেখতে পাই।বিকারগুলো সর্ব্বদা পূর্ব্ববর্ত্তী একটা অবস্থা ত্যাগ করে,পরবর্তী অপর একটা অস্থানন্তর গ্রহণ করতেছে,দেখতে পাই।এইরুপে তারা পরস্পর কার্য্য-কারণ-সূত্রে আবদ্ধ হয়ে ক্রিয়া করে।সুতরাং আমরা এই নামরুপাত্মক জগৎকে,এই বিকার-গুলিকে স্বাধীন,স্বয়ংসিদ্ধ বস্তু বলেই বিবেচনা করি।কিন্তু এই জগৎ যখন দেশে ও কালে অভিব্যক্ত,তখন তা অবশ্যই এমন একটা বস্তুর বিকাশ,যে বস্তুটি দেশ ও কালের অতীত।জগৎটা যখন আমাদের সম্মুখে অভিব্যক্ত দেখতেছি।তখন তা অবশ্যই এমন একটা বস্তুর বিকাশ,যে বস্তুটি দেশ ও কালের অতীত।জগৎটা যখন আমাদের সম্মুখে অভিব্যক্ত দেখতেছি,তখন তা অবশ্যই কোন বস্তু হতে অভিব্যক্ত হয়েছে।তা 'শূন্য'হতে আসে নাই।--এই প্রকাণ্ড কথাটা আমরা একেবারে ভুলে যাই।এই কথাটা ভুলে গিয়ে আমরা জগৎটাকে একটা স্বতন্ত্র বস্তু,স্বাধীন বস্তু,স্বতঃসিদ্ধ বস্তু বলেই গ্রহণ করি।আমরা মনে করে থাকি যে,জগতের বিকারগুলি অনন্তদেশে ও অনন্তকালে বিস্তৃত রয়েছে এবং এই প্রকারেই পরস্পর কার্য্য-কারণ-শৃঙ্খলে বদ্ধ হয়ে ক্রিয়া করে চলেছে।শঙ্করাচার্য আমাদেরকে বলে গিয়েছেন যে জগৎকে যদি এইরুপ স্বাধীন,স্বতন্ত্র,স্বয়ংসিদ্ধ বস্তু বলে গ্রহণ কর,তা হলে তুমি প্রকাণ্ড ভুল করলে।এ প্রকার স্বাধীন জগৎ 'অসত্য','মিথ্যা'।এ জগৎ ব্রহ্মবস্তু হতে অভিব্যক্ত।ব্রহ্ম এই জগতের কারণ।যিনি দেশ,কালাতীত,এই জগৎ তাঁরই দেশ-কালে বিকাশ।এই জগৎ তাঁর স্বরুপের অভিব্যক্তি সুতরাং এই জগৎ,তা হতে স্বতন্ত্র হয়ে তাঁকে ছেড়ে স্বাধীন-ভাবে থাকতে পারে না।
এই কথাগুলো শিবাবতার ভগবান শঙ্করাচার্য্য কি প্রকারে বলে দিয়েছেন,নিম্নে আমরা তা প্রদর্শন করতেছি।তা হতে পাঠক দেখতে পাবেন যে ভাষ্যকার এই জগৎকে,নামরুপাত্মক বিকারগুলোকে,কিভাবে 'অসত্য' 'মিথ্যা' বলে নির্দ্দেশ করেছেন।
(১)জগতের নাম-রুপাত্মক বিকারগুলো আপনা আপনি আসে নাই।সুতরাং এই বিকার-গুলিও যে স্বয়ংসিদ্ধ,স্বাধীন 'বস্তু' তা হতে পারে না।যেখানেই কোন বিকার দেখবে সেখানেই দেখবে ঐ বিকার কোন বস্তুর বা জীবেরই বিকার।--কোন বস্তু বা জীবের স্বরুপ হতেই তা অভিব্যক্ত।সুতরাং তা কোন বস্তুবিশেষ হতে বা কোন জীব-বিশেষ হতে অভিব্যক্ত গুণ বা ধর্ম।তা হলেই,তুমি ঐ বিকার-গুলিই যে স্বতঃসিদ্ধ,স্বাধীন,বস্তু,তা বলবে কিরুপে?যেটি প্রকৃত বস্তু,তা হতেই অভিব্যক্ত হয়েছে এবং তাকেই আশ্রয় করে রয়েছে।
(২)যে বস্তু বা জীবের স্বরুপ হতে ঐ গুণ বা বিকার-গুলি অভিব্যক্ত হয়েছে,তাকে ছাড়িয়া,তা হতে 'বিভক্ত' হয়ে তা হতে স্বতন্ত্র হয়ে তা থাকতে পারে না।
(৩)বিকারগুলো যখন কোন বস্তু বা জীবের 'স্বরুপ' হতে অভিব্যক্ত,তখন তাদের নিজের কোন স্বতন্ত্র স্বরুপ থাকতে পারে না।এই জন্যই বিকারগুলি নিয়ত চঞ্চল,অস্থির,পুনঃপুন রুপান্তর প্রাপ্ত হয়।তারা যে বস্তু বা জীবের ধর্ম্ম বা গুণ,তারাই স্বরুপের পরিচয় প্রদান করে থাকে।কাজেই,সেই স্বরুপটাকে বাদ দিয়ে সেগুলোকে বুঝা যায় না।সুতরাং সেগুলোকে সেই স্বরুপ হতে 'স্বতন্ত্র' বস্তু বলবে কি প্রকারে?
এই প্রকারে শঙ্করাচার্য্য,এই জগৎকে বা এই জগতে অভিব্যক্ত বিকারগুলোকে,স্বতন্ত্র,স্বাধীন,স্বয়ংসিদ্ধ বস্তু বলে গ্রহণ করতে পারেন নাই।এই জগৎ যাঁর অভিব্যক্তি,তা হতে এই জগৎকে স্বতন্ত্র করে নেওয়া যায় না।"মরুভুমি হতে স্বতন্ত্র করে নিয়ে কি মরীচিকাকে ভাবতে পারা যায়"?তাই,এ জগৎ ব্রহ্ম হতে স্বতন্ত্র বস্তু না।
(৪)এই সকল আলোচনা হতে বুঝতে পারা যাচ্ছে যিনি দেশ,কালাতীত ব্রহ্ম,---এ জগৎ তাঁর 'কার্য্য'।শঙ্কর এই কারণ ও কার্য্যের সম্বন্ধকে "অনন্য"শব্দে নির্দ্দেশ করেছেন।জগৎ যখন ব্রহ্ম হতে 'স্বতন্ত্র' হয়ে থাকতে পারে না,তখন জগৎ নিশ্চয়ই ব্রহ্ম হতে 'স্বতন্ত্র' বা অন্য কোন স্বাধীন স্বয়ংসিদ্ধ বস্তু হতে পারতেছে না।এই জন্যই এই জগৎ--ব্রহ্ম হতে 'অনন্য'।শঙ্করের সিদ্ধান্ত এই যে,এই জগৎটা-ব্রহ্ম হতে অভিব্যক্ত।জগৎ--ব্রহ্মেরই অবস্থাবিশেষ,রুপান্তর।এজগৎ--তাঁরই স্বরুপের পরিচয় দিবে বলে অভিব্যক্ত হয়েছে।সুতরাং জগৎ ব্রহ্ম অপেক্ষা একটা একান্ত স্বতন্ত্র বস্তু,ভিন্ন বস্তু হবে কি প্রকারে?সুতরাং জগৎকে স্বতন্ত্র,স্বাধীন,স্বয়ংসিদ্ধ বস্তু বলে মনে করলে ভুল হলো।তা হতে স্বতন্ত্র করে নিলে,এই জগৎ মিথ্যা হলো,অসত্য হলো।এই রুপেই ভাষ্যকার সর্ব্বত্র জগৎকে মিথ্যা বলেছেন।এইজন্যই শঙ্কর বলেছেন।
"কার্য্যস্য কারণাত্মত্বং নতু কারণস্য কার্যাত্মত্বং"--কার্য্য,তার কারণের অভিব্যক্তিমাত্র এবং সেই কারণটি--কার্য্যের মধ্যে আপন স্বরুপের স্বাতন্ত্র‍্য ঠিক রাখে।
(৫)শঙ্করাচার্য্য এইভাবে কারণ ও কার্য্যের সম্বন্ধ নির্ণয় করেছেন।পাশ্চাত্য পণ্ডিতগণ এই "অনন্য"শব্দটিকে "identical" শব্দ দ্বারা অনুবাদ করেছেন।আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে,এই অনুবাদ অত্যন্ত অসঙ্গত ও ভ্রমপূর্ণ অনুবাদ।এই অনুবাদ গ্রহণ করলে,কার্য্য ও কারণ এক হয়ে উঠে।ব্রহ্ম ও জগৎ এক হয়ে উঠে।মূলে এই ভ্রম করাতেই পাশ্চাত্য পণ্ডিতগণ,শঙ্করের অদ্বৈতবাদকে Pantheism বলে বুঝেছেন।জগৎগুরু বারংবার বলে দিয়েছেন যে,'কারণ ও কার্য্য' তার সম্বন্ধ বুঝতে দুইটা কথা মনে করে রাখতে হবে।যদি 'কারণ ও তার কার্য্যকে--'এক'ই বস্তু বল--উভয়কে "identical" বল,-তা হলে,কারণ ও কার্য্য এই শব্দ দুইটির ভেদ উঠে যায়।পাশ্চাত্য পণ্ডিতেরা আজ যে ভুল করতেছেন,শঙ্করের টীকাকারগণও বহুশতাব্দী পূর্ব্বে এই আশঙ্কা করেছিলেন।কি জানি যদি লোকে,কার্য্য ও কারণকে identical বা এক বলেই মনে করে,এই আশঙ্কায় টীকাকারও বলে দিয়েছিলেন যে,
"কারণাৎ পৃথক-সত্তা-শূন্যত্বং সাধ্যতে,
ন ঐক্যাভিপ্রায়েণ"
"কার্য্য বা বিকার গুলি তাদের 'কারণ' হতে স্বতন্ত্র না।" শঙ্কর বলে দিয়েছেন যে কার্য্য ও কারণের সম্বন্ধ বুঝতে হলে এই একটা অংশ মনে রাখতে হবে।আবার,আর একটা অংশও মনে রাখতে হবে;সেই অংশটা এই "কারণ,তার কার্য্যগুলি হতে স্বতন্ত্র"।"কার্য্য গুলি কারণ হতে স্বতন্ত্র না"।এই দুটি কথা একত্র মনে রাখতে হবে।এমন স্পষ্ট কথা বলাতেও কেমন করে বড় বড় পাশ্চাত্ত্য পণ্ডিতেরা--কারণ ও কার্য্যের সম্বন্ধকে "identical" বলে ব্যাখা করলেন তা আমরা বুঝতে নিতান্তই অসমর্থ।শঙ্করের এই সিদ্ধান্তটা মনে রাখলে বেদান্তের সর্ব্বত্র ব্যবহৃত "সর্ব্বং খলিদ্বং ব্রহ্ম""ব্রহ্মবৈদং সর্ব্বং" "ইদং সর্ব্বং যদয়মাত্মা,""আত্মৈব ইদং সর্ব্বং" এই সকল বাক্যের অর্থ,এই এই সকল কথার প্রকৃত অভিপ্রায়,--অনায়াসে বুঝতে পারব।
যেখানেই বেদান্তে "সর্ব্বং খল্বিদং ব্রহ্ম" এই প্রকারের উক্তি আছে,ভাষ্যকার সেখানেই বলে দিয়েছেন যে,এই প্রকার উক্তির তা অর্থ না যে,ব্রহ্মই এ বিশ্ব বা জগৎ;ব্রহ্মে ও জগতে কোন ভেদ নাই।এ সকল উক্তির অর্থ এই যে,--
(১)কার্য্য বা বিকারগুলি কারণ হতে স্বতন্ত্র না ও স্বতন্ত্র হয়ে থাকতে পারে না।
আর--
(২)কারণটি কিন্তু,তার কার্য্য হতে স্বতন্ত্র,ভিন্ন।কার্য্যাকার ধারণ করলেও কারণটি আপন স্বাতন্ত্র্য হারায় না;কোন স্বতন্ত্র বস্তু হয়ে উঠে না।সকল বিকারের মধ্যে,সকল অবস্থান্তরের মধ্যে,কারণের একত্ব ঠিক থাকে।তবেই পাঠক দেখুন--ভগবান শঙ্করের মতে ঐ সকল উক্তির সেই অর্থ পাওয়া যাচ্ছে যে এই জগৎ ব্রহ্মেরই অবস্থান্তর,আকার-বিশেষ,রপান্তর মাত্র;তা ব্রহ্ম হতে কোন স্বতন্ত্র স্বাধীন বস্তু না।কিন্তু এই জগদাকার ধারণ করাতেও,এই জগতের মধ্যে ব্রহ্ম,আপন স্বাতন্ত্র্য ও একত্ব হারান নাই;কেননা তিনি জগৎ হতে স্বতন্ত্র।ভাষ্যকার বলেছেন যে, যারা ব্রহ্ম ও জগৎকে এক মনে করে তারা অবিদ্যাচ্ছন্ন।অবিদ্যাচ্ছন্ন লোকেরাই পরমাত্মার স্বাতন্ত্র্য ভুলে গিয়ে পরমাত্মা ও জগৎকে এক বা identical বস্তু বলে মনে করে।ভগবান কেন এ সকল লোকলে "অবিদ্যাচ্ছন্ন" বললেন এখন আমরা তাই দেখব।
(৬)অনেকের মুখে এরুপ একটা কথা সর্ব্বদাই শুনতে পাওয়া যায় যে,ভগবান শঙ্করাচার্য্য তাঁর ভাষ্যে আমাদের জাগরিতাবস্থাকে 'স্বপ্নাবস্থার' সঙ্গে তুলনা করলেন,উভয় অবস্থা তুল্য বলে নির্দ্দেশ করেছেন।সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যে তাঁর মতে এ জগৎটা অসত্য,মিথ্যা,অলীক।তারা বলেন এই যে জাগরিতকালে বৃক্ষ,লতা,মনুষ্য,পশু প্রভৃতি বস্তুর আমরা প্রত্যক্ষ করে থাকি,এবং শব্দ স্পর্শ সুখ দুঃখাদির জ্ঞান লাভ করে থাকি।স্বপ্ন দর্শনকালে আমরা,এই জাগরিত কালের মত কত বস্তু প্রত্যক্ষ করি।এবং কত বিষয়ের জ্ঞান আমাদের হয়ে থাকে।তাঁরা বলেন যে,ভগবান এই দুই কালের অনুভূত বস্তুগুলি ও তদ্বিষয়ক জ্ঞানকে তুল্য বলে মীমাংসা করেছেন।কিন্তু তা কারোই অবিদিত নাই যে,স্বপ্ন-দৃষ্ট বস্তুগুলি অসত্য-মিথ্যা।তা হলেই দাঁড়াইতেছে যে,শঙ্কর মতে জাগরিতকালের বস্তুগুলিও তবে অসত্য মিথ্যা হচ্ছে।অনেকের নিকট এই কথাটা শুনতে পাওয়া যায়।আমরা পাঠকবর্গের সম্মুখে এ বিষয়ে ভগবান কি মীমাংসা করেছেন তা উপস্থিত করতেছি।পাঠক দেখতে পাবেন যে,এই তুলনায় বৃক্ষ,লতাদি বস্তুকে অলীক বলে উড়ে দেবার কোন কথা বলা হয় নাই
লোকে,ভাল করে শঙ্করের মন্তব্যগুলো তলিয়ে দেখে না।উপর উপর দেখেই একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়!তাই এই প্রকার ধারণা প্রচলিত হয়ে পড়েছে।বৃহদারণ্যকে "অজাতশত্রু ও বালাকির" উপাখ্যানে জাগবিতাবস্থা ও স্বপ্নাবস্থার বিস্তৃত বিবরণ আছে।শঙ্করাচার্য্য এই উভয় অবস্থার তুলনা করে যা মীমাংসা করেছেন তাতে তিনি জগৎকে যে অর্থে মিথ্যা,অসত্য বলেছেন তা আপনারা সুস্পষ্ট বুঝতে পারবেন।তিনি বলছেন--স্বপ্নে,আমি রাজা হয়ে সিংহাসনে উপবিস্ট হয়ে আছি;সম্মুখ দাস দাসী প্রভৃতি পরিজনবর্গ আমার সেবা করতেছে;আমি নানারুপ সুখদুঃখাদি অনুভব করতেছি;--এই প্রকার বোধ করে থাকি।এস্থলে প্রশ্ন এই যে,স্বপ্নদর্শনকালে এই যে আত্মা,আপনাকে রাজা বলে বোধ করে পরিজনাদি দ্বারা পরিবৃত দেখতে পায়;সুখদুঃখাদি অনুভব করতে থাকে--এই সকল সুখ দুঃখাদি নানা ধর্মবিশিষ্ট বলেই ত তখন আত্মাকে বুঝা যায়।তবে কি আত্মার তাই স্বরুপ?অথবা,এই সকল সুখদুঃখাদি ধর্ম্ম বা অবস্থা হতে আত্মার একটি 'স্বতন্ত্র' স্বরুপ আছে?শঙ্কর বলেছেন যে কেউ কেউ মনে করেন যে,এই সকল অবস্থা বিশিষ্ট যে সেইত আত্মা রাজা বলে বোধ,দাস দাসী প্রভৃতির দর্শন,সুখ দুঃখাদির অনুভব এই সকল ধর্ম্ম বিশিষ্ট সেই ত আত্মা।এ সকল ছাড়া আবার আত্মার একটা স্বতন্ত্র স্বরুপ কোথায়?এগুলো নিয়েই তো আত্মা।ভগবান এই কথার উত্তরে সিদ্ধান্ত করেছেন যে 'না এই সকল সুখ দুঃখাদি বিবিধ ধর্ম,কখনই আত্মার স্বরুপ হতে পারে না।এই সকল দাস-দাসী প্রভৃতি পরিজন,রাজ্য ধনাদি বস্তু,সুখ দুঃখাদি বিবিধ ধর্ম কখনই আত্মার স্বরুপ হতে পারে না।স্বপ্নে এই সকল বস্তুর যে জ্ঞান হয়,এই সকল বস্তু ও বস্তুর বোধকে যদি আত্মার স্বরুপ বলে মনে কর;তা হলে আমরা বলব যে আত্মার স্বরুপ ভাবে এ সকল বস্তু সত্তা নাই তারা আত্মার উপরে মিথ্যা আরোপিত হয়ে থাকে মাত্র।আত্মার যেটি প্রকৃত স্বরুপ তা এই সকল বস্তু ও বস্তুর বোধ হতে স্বতন্ত্র।জাগরিতকালের বস্তু ও বস্তুর বোধ সম্বন্ধেও তাই বুঝতে হবে।তারও আত্মার স্বরুপ না।আত্মার স্বরুপ যেটা তা ঐ সকল ধর্ম্ম বা অবস্থান্তরের মধ্যেও আপন সাতন্ত্র‍্য ঠিক রাখে।পাঠক শঙ্করের এই সকল কথা হতে দেখছেন যে,শঙ্কর জাগরিতাবস্থায় দৃষ্ট বা অনুভূত বস্তু বা বস্তুর জ্ঞানকেই 'মিথ্যা' বা অবিদ্যমান বলতেছেন না।স্বপ্ন দৃষ্ট বস্তু বা বস্তুর বোধকেও তিনি অসত্য মিথ্যা বলতেছেন না।এস্থলে আর একটা বিষয় লক্ষ্য করা কর্তব্য।আত্মার স্বরুপটি যে ঐ সকল সুখ-দুঃখাদি বিবিধ ধর্ম্ম বা অবস্থা হতে স্বতন্ত্র;তারাই যে আত্মার স্বরুপ না,তা বলতে গিয়ে ভগবান শঙ্কর তিনটি সুন্দর যুক্তি দিয়েছেন।যুক্তি কয়েকটি এই--
(ক) "ব্যভিচারদর্শনাৎ"।--স্বপ্নে আত্মায় যে সকল ধর্ম উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠেছে;সেগুলোকে আত্মার স্বরুপ বলা যায় না।কেননা, তারা পরিবর্তিত হয়,রুপান্তরিত হয়।স্বপ্নে তাদের যে আকার,যে রুপ দেখতেছ জেগে উঠলে আর সেরুপ,সে আকার থাকবে না।কিন্তু যেটা যার স্বভাব বা স্বরুপ তা পরিবর্তন করা যায় না।সুতরাং তাদেরকে আত্মার স্বরুপ বলতে পার না।
(খ)দৃশ্যত্বাৎ:--ঐ সকল সুখ দুঃখাদি ধর্মকে আত্মা স্বপ্নে নিজের বিষয় রুপে object দৃশ্যরুপে,অনুভব করে থাকে।দৃশ্য বস্তু হতে তা 'দ্রষ্টা' অবশ্যই স্বতন্ত্র।সুতরাং তাদেরকে আত্মার স্বরুপ বলতে পার না।
(গ) বস্তুন্তর সম্বন্ধ জনিতত্বাচ্চ:--ঐ সকল ধর্ম বা বিকার যে আত্মাতে উদ্রিক্ত হয়েছে তা অন্য বস্তুর সহিত সংসর্গের ফলে কারণান্তর যোগে।যা অন্য কোন কারণের সর্ম্পলে আসায় উৎপন্ন হয় ,তাতো অনিত্য সেই কারণটি চলে গেলে আর তাও থাকবে না।সুতরাং ঐ ধর্ম-গুলিকে আত্মার স্বরুপ বলতে পারা যায় না।আমাদের জাগরিত কালেও,বিষয়ে ইন্দ্রিয়যোগে যে সকল ধর্ম্ম বা ক্রিয়া উদ্রিক্ত হয়,সেগুলিও এই সকল হেতুতে আত্মার স্বরুপ হতে পারে না।
শঙ্কর স্বপ্নদৃষ্ট বস্তুগুলিকে বা জাগ্রত দৃষ্ট বস্তুগুলিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন নাই।আত্মার যেটি প্রকৃত স্বরুপ সেটা সকল ধর্ম বা গুণ হতে স্বতন্ত্র।যারা অবিদ্যাচ্ছন্ন তারাই ঐ ধর্ম্ম বা গুণ গুলিকে আত্মার উপরে "আরোপিত" করে নিয়ে এবং তাদেরকে আত্মার স্বরুপ বলে মনে করে।কারণান্তর যোগে আত্মায় যে সকল ধর্ম্ম বা ক্রিয়া বা গুণ উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠে সে সকলের মধ্যে আত্মার একত্ব ও স্বাতন্ত্র‍্য পরিস্ফুট থাকে।তা ভুলে অবিদ্যাচ্ছন্ন লোকেরা সেগুলোকে আত্মার স্বরুপ বলে মনে করর।তাকেই বেদান্তে "অধ্যারোপ" বলে।তা মিথ্যা,অসত্য।সর্ব্বত্র ভাষ্যকার এই ভাবেই ধর্ম্মগুলিকে মিথ্যা,অসত্য বলেছেন।
(৬) কার্য্য ও কারণের সম্বন্ধ নির্ণয় করতে গিয়ে শঙ্করাচার্য্য বলে দিয়েছেন যে প্রত্যেক বস্তু বা জীবের একটি স্বতঃসিদ্ধ 'স্বরুপ';এবং তার একটি 'সম্বন্ধি রুপ' আছে।যখন একটা বস্তু বা জীবের,অপর একটা বস্তুর সহিত বা অবস্থার সহিত বা কোন ব্যক্তির সহিত সম্বন্ধ হয়,সেইটাই তার সম্বন্ধি রুপ।অপর কারও সাথে সম্পর্ক হলেই যে তদযোগে বস্তুর বা ব্যক্তির স্বরুপটা একটা স্বতন্ত্র বস্তু হয়ে উঠে তা না।ঐ স্বরুপটির কোন হানি হয়।সুতরাং প্রত্যেক বস্তু বা জীব অপর কারোও সাথে সর্ম্পকে আসলেও তার আপন স্বরুপটি ঠিকই থেকে যায়।
শঙ্করাচার্য্য এই মূল্যবান তত্ত্বটি এরকম ভাবে বলেছেন
**রেখা বা বিন্দু ত একি রকম।কিন্তু স্থানের ভেদে,স্থানের সম্বন্ধে পড়ে--ঐ একই রেখাকে কখন লোকে একশ,কখন এক সহস্র শব্দে নির্দ্দেশ করে থাকে।
অতএব এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারা যাচ্ছে যে ব্রহ্ম আপন স্বরুপ পরিত্যাগ করে,এই নাম -রুপাদি বিকারের সর্ম্পকে ,একটা স্বতন্ত্র বস্তু হয়ে উঠেন নাই।নাম রুপাদি বিকারগুলি,ব্রহ্ম হতেই অভিব্যক্ত হয়েছে।কিন্তু তাদের সর্ম্পকে তাঁর স্বরুপের কোন হানি হয় নাই।
নামরুপাদি বিকারের মধ্যে,সকল পরিবর্তনের মধ্যে-ব্রহ্মের স্বরুপটি ঠিকই থাকছে।তাঁর স্বরুপের একত্ব ও স্বাতন্ত্র‍্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছেযদি মনে কর আর নাম-রুপাদি সর্ম্পকে এসে তার স্বরুপ অন্যরুপ হয়ে উঠল এও মনে কর তবেই ভুল করলে।
যদি মনে কর যে,এই জগৎটা যখন অভিব্যক্ত হল তখন,ব্রহ্ম আপন স্বরুপ ত্যাগ করে এই জগৎ নামক একটা স্বতন্ত্র বস্তু হয়ে উঠলেন তাও ভুল করলে এই প্রকার জগৎ অসত্য,মিথ্যা।
অবিদ্যাচ্ছন্ন লোকেরাই এই জগৎকে ব্রহ্মের উপর আরোপিত করে তাঁর স্বাতন্ত্র‍্য ভুলে মনে এই জগৎ একটা স্বতন্ত্র বস্তু।প্রকৃত কথা এই যে অপর কারও সাথে সর্ম্পক হলেও স্বরুপ ঠিকই আছে।ব্রহ্মের স্বরুপ হতেই নাম-রুপাদি বিকারগুলো অভিব্যক্ত হয়েছে তাই বলে ব্রহ্ম আপন স্বরুপ হারিয়ে একটা স্বতন্ত্র বস্তু হয়ে উঠল না।
শঙ্করাচার্য এই প্রকার জগৎকে অসত্য,মিথ্যা বলে নির্দ্দেশ করেছেন।এত নির্দ্দেশ স্বত্তেও লোকে জগৎগুরুকে বুঝতে পারে নাই।
(৮) শঙ্কর ভাষ্যে অনেকস্থলে কতক শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।অনেকে এই শব্দগুলি দেখে মন করে শঙ্করে যেন জগৎকে ও জগতের বিকারগুলিকে অলীক বলে উড়ে দিয়েছেন।এই শব্দগুলি পরীক্ষা করে দেখা অবশ্যই প্রয়োজন।
শঙ্কর কি অর্থে এই শব্দগুলির ব্যবহার করেছেন তা তিনি নিজেই সে সকল স্থানে বলে দিয়েছেন।যে ব্যক্তি যে শব্দ বা যে কথাকে নিজে যে অর্থ ব্যবহার করেন,সেই শব্দের ও সেই কথার সেই অর্থটিই গ্রহণ করা কর্তব্য তা না করে নিজের মনোমত অর্থ করা উচিত না।আমরা এখন শঙ্করের ব্যবহৃত শব্দগুলির উল্লেখ করতেছি।এই সকল শব্দদ্বারা শঙ্কর এই জগৎটাকে উড়িয়ে দিয়েছেন কিনা একটু বিচার করে দেখবেন
(a) শঙ্কর ভাষ্যে অনেক স্থলে দেখতে পাই যে এই জগৎ অবিদ্যাকল্পিত;নামরুপগুলি অবিদ্যা প্রত্যুপস্থাপিত,নামরুপাদির ভেদ অবিদ্যাকল্পিত,নাম-রুপাদি উপাধির পরিচ্ছেদ অবিদ্যাত্মক।এই প্রকার উক্তি আছে।এই অবিদ্যাকল্পিত কথাটার ব্যবহার দেখেই অনেকে এই জগৎকে অলীক বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। কিন্তু শঙ্করের অভিপ্রায় তা না।
কি অর্থে শঙ্কর,অবিদ্যা শব্দ ব্যবহার করেছেন?
বিষয়েন্দ্রিয় যোগে আত্মায় কতগুলি গুণ,ধর্ম বা বিকারে অভিব্যক্তি হয়ে থাকে এবং এই সকল গুণ বা ধর্মের মধ্যে আত্মার যেটি স্বরুপ সেটি অবিকৃত থেকে তার স্বাতন্ত্র্য ও একত্ব পরিস্ফুট থাকে।এই ধর্ম বা বিকার গুলি আত্মায় 'জ্ঞেয়' রুপেই অনুভূত হয়ে থাকে।স্বরুপটি স্বতন্ত্র বলে আত্মা তাদের জ্ঞাতা।কিন্তু সেই ধর্ম বা বিকারগুলি আত্মার উপরে অধ্যারোপিত করে সেই স্বাতন্ত্র‍্য টাকে বিলুপ্ত করে ঐ ধর্ম বা বিকারগুলিকেই আত্মা বলে ধরে নেওয়া হয় তখন সেটার নাম অবিদ্যা।অবিদ্যার প্রভাবে আমরা এইরুপ মনে করি।
Paul Deussen প্রভৃতি ইউরোপীয় পাশ্চাত্ত্য পণ্ডিতরা শঙ্করের এই অবিদ্যা শব্দের অর্থ ভুলে, মিথ্যা অর্থ Unreal অর্থ করেছেন।যা একদম ভুল।
অবিদ্যার প্রভাবে আমরা ব্রহ্মের স্বাতন্ত্র‍্যটা ভুলে যাই।ভুলে যায় যে ব্রহ্ম এ জগৎ হতে স্বতন্ত্র।এই নাম-রুপাদি বিকারের মধ্যেও সকল পরিবর্তনের মধ্যেও তিনি স্বতন্ত্রই রয়েছেন।
শঙ্কর বলেন যে অবিদ্যার কাণ্ডই এইরুপ।জগৎটা যখন ব্রহ্ম হতে অভিব্যক্ত হল।তখন আমাদের মনে হয় যেন এই অভিব্যক্ত জগতের যোগে ব্রহ্ম--একটা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র বস্তু হয়ে উঠলেন।অন্য বস্তুর যোগে তিনিও যেন অন্য হয়ে উঠলে ।একটা ভিন্ন বস্তু হয়ে উঠলেন।আমরা মনে করি যে তাঁর স্বরুপটি মরে গিয়ে একটা সর্ম্পূণ নতুন বস্তু (এই জগৎটা) যেন উপস্থিত হল।এরুপ আমাদের দৃষ্টি কেবল বিকারগুলোতেও আবদ্ধ হয়ে পড়ে।ব্রহ্ম হতে যেন স্বতন্ত্র বস্তু বলে মনে হতে থাকে।এই প্রকারে তিনি যেন প্রত্যেক বিকারের একটা একটা স্বতন্ত্র নানারুপে দেখা দিল।শঙ্কর সেটাকেই অবিদ্যার কল্পনা মিথ্যাজ্ঞান বলে নির্দ্দেশ করেছে।।
এই জগৎ স্বতন্ত্র স্বাধীন বস্তু হতে পারে না।ব্রহ্মকে ছেড়ে তা হতে স্বতন্ত্র হয়ে থাকতে গেলে জগতের বিকারগুলি ধুলিচূর্ণবৎ খসে পড়বে।তা হলে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে শঙ্কর কিভাবে জগৎকে অসত্য মিথ্যা বললেন।তিনি কোথাও এই জগৎকে,জগতের বিকারগুলিকে উড়ে দেন নাই।
এ সকলের অর্থ এই যে জগতের কোন বস্তুই প্রকৃত পক্ষে ব্রহ্ম হতে স্বতন্ত্র না।কোন বস্তুকেই ব্রহ্ম হতে স্বতন্ত্র করে নেওয়া যায় না।ব্রহ্ম হতে স্বতন্ত্র হতে গেলেই তাঁকে ছেড়ে থাকতে গেলে জগৎ চূর্ণ হয়ে পড়বে।
অবিদ্যার টা বুঝলাম আরো একটি শব্দ আছে তা হলো নেতি নেতি শব্দ।কোথাও বা নানাত্ব নাই বলা হয়েছে।যে ব্যক্তি ব্রহ্মকে নানাত্বকে দেখে অনেককে দেখে সে মৃত্যু হতেও মৃত্যুকে প্রাপ্ত হয়।এ কথা বলাও আছে।অনেকে মনে করে শঙ্করাচার্য্য এই নানাত্বপূর্ণ জগৎটাকে উড়িয়ে দিয়েছেন।
বেদান্তে ব্যবহৃত নেতি নেতি শব্দের তাৎপর্য্য নির্ণয় করতে গিয়ে বলতেছেন যে জগতে সূক্ষ্ম ও স্থুলাকারে যে সকল গুণ,ধর্ম বা ক্রিয়াদি অভিব্যক্ত হয়েছে সেইগুলি নিয়ে ত সংসার।শব্দ স্পর্শ রুপ রসাদি বাহ্য বিষয় এবং ইন্দ্রিয় মন প্রাণ প্রভৃতি আন্তর শক্তি এইগুলি দ্বারাই ত জগতের তাবৎ বস্তু নির্ম্মিত।সুতরাং যাকে ব্রহ্ম বলতেছ তারাই ত সেই ব্রহ্মের রুপ বা আকার।এ সকল ছাড়া আবার ব্রহ্ম কোথায়?শঙ্কর বলতেছেন যে এই প্রকারে ব্রহ্মের স্বতন্ত্রতা ভুলে যদি ব্রহ্মকে এই সকল গুণ বা ধর্মবিশিষ্ট বলে মনে করা হয় তাহলে ভুল হল।বেদান্তে নেতি নেতি শব্দদ্বারা ব্রহ্মের এই প্রকার আকার নিষিদ্ধ হয়েছে।জগতে অভিব্যক্ত সর্ব্বপ্রকার গুণ বা ধর্ম হতে ব্রহ্ম স্বতন্ত্র;তিনি এই সকল গুণ বা ধর্ম বিশিষ্ট না।সকল প্রকার গুণ বা ধর্ম মধ্যে তাঁর স্বাতন্ত্র‍্য ও একত্ব ঠিক রয়েছে।সুতরাং তাঁকে এই সকল ধর্ম বিশিষ্ট মনে করা যেতে পারে না।শঙ্কর এই কথা আমাদেরকে বলে দিয়েছেন।তাহলে আপনারা আবারও দেখলেন নেতি নেতি শব্দদ্বারা জগতের কোন বস্তুকে উড়ে দেওয়া হয় নাই।নানাত্ব নাই বলতে ভগবান বুঝিয়েছেন যে একটা বস্তুকে যুগপৎ 'এক' অথচ 'অনেক' বলতে পারা যায় না।যা অনেক বা নানা হয়েছে যা নানা আকারে আকারিত নানা ধর্ম বিশিষ্ট তা আবার একত্ব থাকল কোথায়?সুতরাং ব্রহ্মকে এই জগদাকার বিশিষ্ট,জগদাকারধারী একটা স্বতন্ত্র বস্তু বলতে পারা যায় না।কেন না তিনি ত আপন স্বাতন্ত্র্য হারিয়ে এই জগদাকার ধারণ করেন নাই।এই জগতের মধ্যেও তাঁর স্বরুপের স্বাতন্ত্র‍্য ও একত্ব ঠিক আছে।এই প্রকারে শঙ্করাচার্য্য ব্রহ্মে নানাত্ব নাই বলেছেন।আপনারা আশা করি বুঝতে পারলেন নানাত্ব শব্দ দিয়েও জগতের কোন বস্তুকেই উড়িয়ে দেওয়া হয় নাই।
বিশেষ প্রতিষেধ বা বিশেষ নিরাকরণ বেদান্তে আরো একটা শব্দ আছে এখানে ব্রহ্মে কোন প্রকার গুণ,ধর্ম্ম,ক্রিয়া,জাতি বা ভেদ নাই।ব্রহ্ম সর্ব্বপ্রকার বিশেষত্ব-বর্জ্জিত।এ নিষেধ দেখে অনেকে মনে করে জগতে নাম-রুপাদি সকল বিশেষ বস্তুই উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।শঙ্কর বলেছেন অবিদ্যাচ্ছন্ন লোকেরা ব্রহ্মের স্বাতন্ত্র‍্য ও একত্ব ভুলে তাঁকে এই সকল শক্তি গুণাদি বিশিষ্ট বলেই মনে করে।"বিশেষ নিরাকরণ" শব্দ দ্বারা ব্রহ্মকে জগদাকার বিশিষ্ট মনে করাটাই নিষিদ্ধ হয়েছে জগৎ বা জগতের বস্তুগুলি নিষিদ্ধ করেন নাই।অনেকে জীবাত্মাকেও দেহেন্দ্রিয়াদি ধর্ম বিশিষ্ট বলে মনে করে সর্ব্বত্র তাই নিষিদ্ধ হয়েছে।
আরো সহজ কথায় মানে বাচ্চা লেভেলে যদি বলতে চাই শঙ্কর কোথাও জগৎকে অলীক বলে উড়িয়ে দেন নাই।
শঙ্করের জগৎ মিথ্যা বলতে ব্রহ্মের মতো সৎ ও না আবার আকাশকুসুমের মতো অসৎ ও না।তাই মিথ্যা বলতে অনির্বচনীয় বুঝিয়েছেন।

হিন্দু সমাজে পদবী প্রচলন

হিন্দুধর্ম অতি প্রাচীন বলেই বিভিন্ন সময় এর পথ পরিক্রমায় বিচিত্র পরিবর্তন সাধিত হয়েছে যা বাস্তবক্ষেত্রের ধর্মীয় নিয়ম নীতির সাথে কোন সামঞ্জস্যতা নেই। সনাতনী হিন্দু সমাজে  তথাকথিত পদবী প্রচলন হওয়ায় পর থেকে বর্ণভেদের চেয়ে আরও অধিকতর ভেদাভেদ বিভিন্ন পদবী ভেদের লোকরাই সৃষ্টি করতে শুরু করে। পদবী ব্যবহারের ঐতিহাসিক প্রমাণ ও তথ্য --- ১৫১০ খ্রীস্টাব্দে আনন্দ ভট্ট রচিত 'বল্লাল চরিত' যা ১৯০৪ খ্রীস্টাব্দে এশিয়াটিক সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া কর্তৃক পুস্তক আকারে প্রকাশিত হয়। এই বল্লাল চরিত পুস্তকে হিন্দু সমাজে পদবী প্রচলন সর্ম্পকে বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ করা আছে। উক্ত গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে গৌড়ের বৈদ্য বংশীয় রাজা বল্লাল সেন (১১৫৮-১১৭৯) নিজ সহধর্মিনী থাকা অবস্থায় অধিক বয়সে পদ্মিনী নাম্মী এক সুন্দরী ডোম নর্তকীকে বিবাহ করেন। এতে দেশজুড়ে রাজার সুনাম নষ্ট হয় এবং এ কুকীর্তি নিয়ে প্রজারা সমালোচনা শুরু করে দেন। রাজা এ কলংক থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য রাজ্য মধ্যে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের প্রজাদের এক সম্মিলিত ভোজ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু প্রায় সকল হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা উপস্থিত থাকলেও নমঃশূদ্র পারশব বিপ্রগণ এই ভোজ অনুষ্ঠানে যোগদানে বিরত থাকেন। অর্থাৎ রাজার এ কুকীর্তিকে সমর্থন করে ভোজ সভায় অংশ নেন নি। নমঃশূদ্র বংশের কিছু পরিচয় এখানে বিশ্লেষণ করে দেখা যাক। মহামুনি কশ্যপের পুত্র ছিল নমস্। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে ব্রহ্মজ্ঞ মুনিবর নমস্ এর পত্নী (ব্রহ্মার মানসপুত্র রুচির কন্যা) সুলোচনা গর্ভজাত পুত্র কীর্তিবান ও উরুবান নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের পিতা। মুনিবর নমস্ সাধনায় সিদ্ধিলাভ করে তিনটি বরও লাভ করেছিলেন ।
এগুলো হচ্ছে --- 1> তার পুত্রগণ বেদাচার ব্রাহ্মণাচার অধিকারী হবে এবং পরবর্তীতে হোমযজ্ঞ ও পূর্জাচনায় অধিকারী হয়ে ব্রাহ্মণত্ব অর্জন করবে।
2> তাঁর বংশ তাঁরই নামে খ্যাত হবে। পুত্রদ্বয় শূদ্রাকে বিয়ে করায় নমস্ নামের সাথে শূদ্র যোগ হয়ে নমঃশূদ্র নামে খ্যাত হবে।
3> তাঁর বংশধরদের চরিত্রগুন ও কীর্তি গৌরবে তাঁর নামের মহিমা ক্রমোজ্জ্বল হবে।
নমঃশূদ্র সম্প্রদায় বল্লাল সেনের পদবীভেদ করার আগে কুলীন ব্রাহ্মণ ও জ্ঞানী ছিলেন। যেহেতু নমঃশূদ্ররা বল্লাল সেনের ভোজসভার অংশ গ্রহণ করেন নি, সেহেতু রাজা তাঁদের ব্যবহারে অত্যন্ত ক্ষুদ্ধ হন এবং নিজেকে অপমানিত বোধ করেন। রাজার আদেশে সকল নমঃশূদ্র লোকদের চাকুরীচ্যুত করা হলো এবং এমনকি নতুন নিয়োগও বন্ধ করে দেয়া হলো। শুধু তাই নয় তাঁদের যজ্ঞসূত্র ছিন্ন করে চন্ডাল বলে গালাগাল দিয়ে নগর বন্দর থেকে উৎখাত করা হল। অনন্যোপায় হয়ে এই নমঃশূদ্ররা সেদিন পাহাড়, বনাঞ্চলে পালিয়ে আত্মরক্ষা করে অনেকটা নিভৃত জীবনযাত্রা শুরু করলেন এবং প্রকৃতি নির্ভর বৃত্তি অবলম্বন করেন। অন্যদিকে রাজার আয়োজিত উক্তভোজ  অনুষ্ঠানে যোগদানকারী সম্প্রদায়ভুক্তরা নমঃশূদ্রগণের প্রতি রাজার এই ব্যবহারে উৎসাহিত হয়ে নিজেদের নিম্ন সামাজিক মর্যাদা ঢাকবার চেষ্টায় তাঁদের প্রতি অধিক মাত্রায় দুর্ব্যবহার শুরু করে। তারা রাজার সকল কর্মকে নির্বিচারে সমর্থন করে রাজার অনুগ্রহ লাভ করতে যত্নবান হয়।  রাজাও এসব সম্প্রদায়কে সাহায্য করেন এবং অনেক সম্প্রদায়কে কৌলিন্য তথা পদবী দান করেন।
বল্লাল সেনের আগে পাল রাজাদের আমলে বাংলাতে বৌদ্ধ এবং লোকায়েত অনেক ধর্মই ছিল-যার মধ্যে তান্ত্রিক, কালীভক্ত এবং নানান স্থানীয় 'যোগী' সংস্কৃতিই পাওয়া যাবে। বৌদ্ধ ছিল রাজধর্ম। কিন্ত কোন জাতিভেদ পাওয়া ছিল না।




বল্লাল সেনের (1160–1179) আগে বাংলায় বৈদিক ধর্মের কোনও অস্তিত্ব ছিল না। কোন ব্রাহ্মনই ছিল না বাংলায়।
বল্লালসেন সেন রাজবংশের দ্বিতীয় রাজা। ১১৬০ খ্রিষ্টাব্দে সেন রাজবংশের প্রথম রাজা বিজয়সেন (১০৯৭-১১৬০ খ্রিষ্টাব্দ)-এর মৃত্যুর পর বল্লালসেন সিংহাসনে আরোহণ করেন। রাজলাভের পর তিনি রাজ্য বিস্তারের পরিবর্তে অভ্যন্তরীণ সংস্কারকার্যে অধিকতর মনোনিবেশ করেন। তিনি পিতার মতোই ‘অরিরাজনিশঙ্ক শঙ্কর’ এবং অন্যান্য সম্রাটসুলভ উপাধি গ্রহণ করেন। তিনি চালুক্যরাজ দ্বিতীয় জগদেকমল্লের কন্যা রামাদেবীকে বিবাহ করে সেনবংশের সম্মান ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করেন। বল্লালসেনের রাজত্বকালের ইতিহাস পুনর্গঠন করার জন্য কয়েকটি মূল্যবান উপকরণ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে যথাক্রমে ‘নৈহাটি তাম্রশাসন’ ও ‘সানোখার মূর্তিলিপি’, বল্লালসেন কর্তৃক রচিত ‘দানসাগর’ ও ‘অদ্ভুতসাগর’ ছাড়াও বল্লাল চরিত নামে দু’খানি গ্রন্থ আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রথমটি বল্লাল সেনের অনুরোধে তাঁর শিক্ষক (গোপাল ভট্ট) ১৩০০ শকাব্দে দুই খণ্ডে রচনা করেন এবং বল্লাল চরিতের তৃতীয় খণ্ড নবদ্বীপাধিপতির আদেশে গোপালভট্টের বংশধর আনন্দভট্ট ১৫০০ শকাব্দে রচনা করেন। উপরোক্ত বইগুলি সমসাময়িক।
সেন রাজারা এসে প্রথমে বাংলার সব প্রজাদের শুদ্র বানালেন! কনৌজ থেকে ব্রাহ্মন ধরে এনে তাদের দিয়ে বাংলায় ব্রাহ্মন্য ধর্ম, বৈদিক মতে পূজা অর্চনা চালু করলেন। ব্রাহ্মনদের বংশ বৃদ্ধি করতে এদেরকে অনেকগুলি গ্রাম দিলেন। কুলীন ব্রাহ্মনদের অসংখ্য বিবাহে উৎসাহ দেওয়া হল যাতে ব্রাহ্মনদের বংশ বৃদ্ধি হয়। এরাই আজকের তথাকথিত 'ব্রাহ্মণ'। এক অদ্ভুত হিন্দু যুগের সুচনা হল বাংলায়। কিছু ব্রাহ্মণ, বাকী সবাই শুদ্র, বাংলাতে আজো ক্ষত্রিয় বৈশ্য নেই। বাংলার ব্যবসায়ী শ্রেনী সাহারাও শুদ্র আবার ঘোষ-বোসের মতন রাজকরনিক শ্রেনীও শুদ্র!! ...... বাংলার জনগন তখন এই বহিরাগত ব্রাহ্মন আর সেনদের প্রতি বেজায় বিক্ষুব্ধ। ফলে মাত্র দুহাজার সৈন্য নিয়ে বখতিয়ার খিলজি যখন নবদ্বীপ আক্রমন করলেন (১২০২), লক্ষন সেনের পালানো ছাড়া আর কোন পথ ছিল না। এর পরবর্তীকালে বাংলায় লোকজন দলে দলে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে থাকে ব্রাহ্মন্য ধর্মের প্রতি ঘৃণায় আবার চতুর ইসলামিক ফকিরদের শঠতা ও জংগী ইসলামিক শাসকের দমনপীড়নে। হজরত শাহ জালালের (১৩০৬) মতন সুফীদের প্রচারে আকৃষ্ট হয়ে বাঙালী দলে দলে ইসলাম গ্রহন করতে থাকে চোদ্দশ শতক পর্যন্ত।

'অচিন্ত্যভেদাভেদ' পদের কতিপয় যৌক্তিক অসঙ্গতি বিংশ শতাব্দীর অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি পর্যালোচনা

  ভূমিকা গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনের কেন্দ্রীয় মতবাদ হলো 'অচিন্ত্যভেদাভেদ'। শ্রীচৈতন্যের ভাবধারা থেকে উদ্ভূত এই দার্শনিক অবস্থানটি ঈশ্...

Popular Posts