Thursday, May 21, 2020

শ্রীকৃষ্ণ কে?

আমার প্রাণ প্রিয় ভ্রাতা পশ্চিম বঙ্গের শ্রী জয় বিশ্বাসের লেখা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমার এই লেখা।
শ্রীকৃষ্ণ কি সাধারণ মানব?

শ্রীকৃষ্ণ কি ভক্তের উপাস্য?

শ্রীকৃষ্ণ কি পরমাত্মা?

শ্রীকৃষ্ণ কি পরমেশ্বর??

বেদান্তবাদীদের দৃষ্টিতে শ্রীকৃষ্ণ বিষয়ক এরূপ প্রশ্নের উত্তর।

*ওঁ নমঃ ভগবতে বাসুদেবায়*

সনাতন ধর্মের এক কেন্দ্রীয় চরিত্র শ্রীকৃষ্ণ।

সনাতন ধর্মের এমন কোন আচার্য্য, পন্ডিত, মহাপুরুষ, যোগী, সসম্প্রদায়, মতবাদ কিংবা সাধারণ ব্যাক্তিবর্গ নেই যারা শ্রীকৃষ্ণ নিয়ে মন্তব্য করেন নি। প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ দৃষ্টিতে শ্রীকৃষ্ণ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র তার কৃষ্ণ চরিত্র গ্রন্থে শ্রীকৃষ্ণ এর এক শুদ্ধ চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন।

যেহেতু সকল সম্প্রদায় এবং ব্যাক্তিবর্গ শ্রীকৃষ্ণ নিয়ে মন্তব্য করেছেন সেহেতু শ্রীকৃষ্ণ যে এক বিশেষ চরিত্র এবং চর্চার বিষয় ইহাতে সন্দেহ নাই। আমি বেদান্তবাদী দৃষ্টিকোণ হতে শ্রীকৃষ্ণ কে বর্ণনা করার প্রয়াস করছি।

আচার্য্য শ্রীমৎ শংকরাচার্য শ্রীকৃষ্ণ নিয়ে একাধিক স্ত্রোত্র রচনা করেছেন। সেই স্ত্রোত্র এর দ্বারা শুরু করছি।

অচ্চ্যুতং কেশবং রামনারায়ণং

কৃষ্ণদামোদরং বাসুদেবং হরিম্।।

শ্রীধরং মাধবং গোপিকাবল্লভং

জানকীনায়কং রামচন্দ্রং ভজে।।

অচ্চ্যুতং কেশবং সত্যভামাধবং

মাধবং শ্রীধরং রাধিকারাধিতম্।।

ইন্দিরামন্দিরং চেতসা সুন্দরং

দেবকীনন্দনং নন্দজং সন্ধধে।।

বিষ্ণবে জিষ্ণবে শংখিনে চক্রিণে

রুক্মীণিরাগীনে জানকীজানয়ে।।

বল্লবীবল্লভায়ার্চিতায়াত্মনে

কংসবিদ্ধংসিনে বংশিনে তে নমঃ।।

কৃষ্ণগোবিন্দ হে রামনারায়ণ

শ্রীপতে বাসুদেবজিতশ্রীনিধে।।

অচ্চ্যুতানংত হে মাধবাধোক্ষজ

দ্বারকানায়ক দ্রৌপদীরক্ষক।।

(অচ্চ্যুতাষ্টকম -আদি শংকরাচার্য স্ত্রোত্রম্)।

ব্রহ্ম নির্গুণ এবং সগুণ এই কথা শাস্ত্র সিদ্ধ। সেহেতু সগুণ ব্রহ্ম বিশেষ কোন যোগীর মধ্যে প্রকট হয়ে জগৎ কল্যাণ নিমিত্তে অবশ্যই অবতীর্ণ হতে পারেন। তার সৃষ্টি, তার কার্য, তার লীলা তিনি চাইলে যা খুশি করতে পারেন।

ব্রহ্মসূত্র ২-১-৩৩ বলছে –

লোকবত্তু, লীলাকৈবল্যম্।

অর্থাৎ ব্রহ্মের সৃষ্টি কার্যাদি তাঁহার লীলা মাত্র যাঁহা সাধারণ লৌকিক দৃষ্টান্তেও দেখা যায়।

গীতা ৪/৬ বলা হচ্ছে

অজোহপি সন্নব্যয়াত্মা ভূতনামীশ্বরোহপি সন্।

প্রকৃতিং স্বামধিষ্ঠায় সম্ভবাম্যাত্মমায়য়া।।

অর্থাৎ আমি জন্মরহিত, অবিনশ্বর এবং সর্বভূতের ঈশ্বর হইয়াও নিজ প্রকৃতিতে অধিষ্ঠান করিয়া আত্মমায়ায় আবির্ভূত হই।

ব্রহ্মসূত্র ১-২-২৯

অভিব্যক্তেরিত্যাশ্মরথ্যঃ

অর্থাৎ আশ্মরথ্য মুনি বলেন, পরমাত্মা অসীম হলেও ভক্তের প্রতি কৃপা পরবশ হয়ে বিশেষ বিশেষ রূপে প্রকাশিত হন।

গীতা ৪/৭-৮ বলা হচ্ছে

যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।

অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্।।

পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।

ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।

অতঃপর গীতা ৪র্থ অধ্যায়ের ৯ম ও ১০ম শ্লোকে এমনও বলা হচ্ছে,

“হে অর্জুন, আমার এই দিব্য জন্ম ও কর্ম যিনি তত্ত্বতঃ জানেন, তিনি দেহত্যাগ করিয়া পুনর্বার আর জন্মপ্রাপ্ত হন না। একাগ্রচিত্তে আমার শরণাপন্ন হইয়া, আমার জন্মকর্মের তত্ত্বালোচনা রূপ জ্ঞানময় তপস্যা দ্বারা পবিত্র হইয়া অনেকে আমার পরমানন্দে চিরস্থিতি লাভ করিয়াছেন।”

★শ্রুতি এই মায়াবী শক্তিসমূহের সাহায্যে জগৎ শাসন করা এবং একই রূপ ভাবে সেই তত্ত্ব জানায় অমৃতলাভ এর কথা স্বীকার করেন৷ শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ ৩-১ দ্রষ্টব্য।

বৃহদারণ্যক উপনিষদঃ ১-৪-(৫-৬) নং শ্লোক

সোহবেদহং বাব সৃষ্টিরস্ম্যহং হীদং সর্বমসৃক্ষীতি ততঃ সৃষ্টির ভবৎ সৃষ্ট্যাং হাস্যৈতস্যাং ভবতি য এবং বেদ।।

অর্থঃ তিনি অবগত হইলেন, “আমিই সৃষ্টিরূপে বিদ্যমান; কারণ আমিই এই সমস্ত সৃজন করিয়াছি”। সেই জন্যই তাঁহার নাম হইল সৃষ্টি। যিনি এই সৃষ্টিকে জানেন তিনিও সৃষ্টা।

আর শ্রীকৃষ্ণ অবশ্যই সমগ্র সৃষ্টিকে জানতেন। এবং তিনি জানতেন বলেই সৃষ্টি বিষয়ক সমস্ত জ্ঞান ব্যাক্ত করেছেন।

কিন্তু শ্রুতিতে ঈশ্বর জন্ম রহিত বলে উল্লেখিত হয়েছে কিন্তু গীতায় আবার জন্মপ্রাপ্ত হওয়া বিরুদ্ধ আচরণ নয় কি?

আচার্য্য শংকর তার গীতা ভাষ্য ৪-৬-১ এ বলেছেন,

“শংকরভাষ্যঃ ‘অজঃ অপি’ জন্মরহিতঃ অপি ‘সন্’ তথা ‘অব্যয়াত্মা’ অক্ষীণজ্ঞানশক্তিস্বভাবঃ অপি সন্ তথা ‘ভূতানাং’ ব্ৰহ্মাদিস্তম্বপর্যন্তানাম্ ‘ঈশ্বরঃ’ ঈশনশীলঃ ‘অপি সন্, প্রকৃতিং স্বাং’ মম বৈষ্ণবীং মায়াং ত্রিগুণাত্মিকাং যস্যা বশে সর্বং জগৎ বর্ততে যয়া মোহিতং সৎ স্বম্ আত্মানং বাসুদেবং ন জানাতি, তাং প্ৰকৃতিং স্বাম্ ‘অধিষ্ঠায়’ বশীকৃত্য ‘সস্তবামি’ দেহবান্ ইব ভৰামি জাত ইব ‘আত্মমায়য়া’ আত্মানো মায়য়া ন পরমার্থতো লোকবৎ।। (৬/১)

ভাষ্যানুবাদঃ আমি অজ অর্থাৎ জন্মরহিত হয়েও, অব্যয়াত্মা অক্ষীণজ্ঞানশক্তি-স্বভাব হয়েও এবং ব্রহ্মা থেকে তৃণ পর্যন্ত ভূত সকলের ঈশ্বর অর্থাৎ নিয়ামক হয়েও স্বীয়া প্রকৃতি অর্থাৎ আমার ত্ৰিগুণাত্মিকা বৈষ্ণবী মায়া, যাঁর বশে সমস্ত জগৎ বর্তমান, যার দ্বারা মোহিত হয়ে লোকে নিজের আত্মা বাসুদেবকে জানতে পারে না, সেই নিজ প্রকৃতিতে অধিষ্ঠিত হয়ে অর্থাৎ তাঁকে বশীভূত করে সম্ভাবিত হই অর্থাৎ আত্মমায়ার দ্বারা যেন লোকবৎ দেহ ধারণ
করে জন্ম গ্রহণ করি, কিন্তু পরমার্থতঃ নয় ।

ভাষ্যবিবৃতিঃ “মম বৈষ্ণবীং মায়া” এখানে স্বীয় শক্তির অভেদ সম্বন্ধে শ্রীকৃষ্ণ নিজের অবতরণের কথা বলছেন, কারণ সদসদাত্মিকা
অনির্বচনীয়া মহামায়াই ব্ৰহ্মাশ্রয়ে সব করেন ও হন, পরন্ত ব্ৰহ্ম ত্ৰিকালে অচ্যুত ভাবেই অবস্থান করেন। আবার শ্রীরামকৃষ্ণদেব ঐ অভেদ সম্বন্ধেই বলেছেন, “বেদে যাকে ব্ৰহ্ম বলেছে, আমি তাঁকেই ‘মা’ বলে উপাসনা করি।”

এখন অনেকেই আছেন যারা অবতারবাদ স্বীকার করেন না। সেহেতু তাদের ক্ষেত্রেও শ্রীকৃষ্ণ বেদান্তমতে পূজনীয় হতে পারেন এমন কিছু প্রমাণ দিচ্ছি।

মহর্ষি ব্যাস তার ব্রহ্মসূত্রের ১-১-৩০ নং সূত্রে বলেছেন-

শাস্ত্রদৃষ্ট্যা তূপদেশো বামদেববৎ

অর্থাৎ ইন্দ্রের উপদেশ এখানে বামদেব ঋষি বলেছিলেন। এইরূপ বলা শাস্ত্রসম্মত হয়েছে ব্রহ্মজ্ঞান লাভের দ্বারা।

ঋষি বামদেব ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করার পর বলেছিলেন, “আমিই ছিলাম মনু, এবং আমিই ছিলাম আদিত্য”- ইত্যাদি। এই উক্তিতে শ্রুতির দ্বারা সমর্থন করা হচ্ছে। কারণ শ্রুতিতে বলা আছে,

“দেবগণের মধ্যে যিনিই ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করেছিলেন তিনিই ব্রহ্ম হয়ে গেলেন। ”

বৃহদারণ্যক উপনিষদঃ ১-৪-১০

অহং ব্রহ্মাস্মীতি। তস্মাৎ তৎ সর্বমভবৎ তদ্ যো যো দেবানাং প্রত্যবুধ্যত স এব তদভবৎ তথর্ষীণাং তথা মনুষ্যাণাং তদ্ধৈতৎ পশ্যন্নৃষির্বামদেবঃ প্রতিপেদেহহং মনুরভবং সূর্যশ্চেতি।

মুণ্ডক উপনিষদ ৩-২-৯

স যো হ বৈ তৎ পরমং ব্রহ্ম বেদ

ব্রহ্মৈব ভবতি

অর্থাৎ যে কেহ সেই পরব্রহ্মকে জানেন, তিনি ব্রহ্মই হয়ে থাকেন।

যেহেতু শ্রুতি ব্রহ্মজ্ঞানবিৎকে ব্রহ্মই আখ্যায়িত করেছেন। আর শ্রীকৃষ্ণ ব্রহ্মজ্ঞানী ছিলেন না এমন কথা কেউ বলেন নাই। কারণ ব্রহ্মজ্ঞানী ব্যাতীত কেউই গীতার ন্যায় ব্রহ্মশাস্ত্র মুখনিঃসৃত করতে পারবে না।

★অনেকেই মনে করেন গীতা জ্ঞান শ্রীকৃষ্ণ যোগযুক্ত হয়ে বলেছেন। গীতার শেষ অধ্যায়েও সঞ্জয় শ্রীকৃষ্ণকে যোগেশ্বর সম্বোধন করেছেন। এখন

যোগ+ ঈশ্বর = যোগেশ্বর

যদি বলে হয় যোগী ঈশ্বরে যুক্ত কিংবা যোগ যুক্ত ঈশ্বর অথবা ঈশ্বর যোগীর সাথে যোগে যুক্ত উভয় ভাবেই যোগেশ্বর কথাটি সিদ্ধ। কোন সাধারণ মানব চাইলেই এরূপ যুক্ত হতে পারেন না। কেবল ব্রহ্মজ্ঞ বা সিদ্ধ যোগীর দ্বারা এরূপ যুক্ত হওয়া সম্ভব। সেহেতু শ্রীকৃষ্ণ যে ব্রহ্মজ্ঞ ছিলেন এতে কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়। আর এরূপ ব্রহ্মজ্ঞকে শ্রুতি ব্রহ্ম বলে আখ্যায়িত করেছে। সেহেতু শ্রীকৃষ্ণ অবশ্যই সকলের পূজনীয় এবং আরাধ্যও বটে।

অর্জুনও শ্রীকৃষ্ণকে যোগেশ্বর হিসেবে সম্বোধন করেছিলেন। তাই কেউ যদি যোগেশ্বর হিসেবেও শ্রীকৃষ্ণকে মান্য করে তাতেও দোষ নাই।

গীতা ১১/৪

মন্যসে যদি তচ্ছক্যং ময়া দ্রষ্টুমিতি প্রভো।

যোগেশ্বর ততো মে ত্বং দর্শয়াত্মানমব্যয়ম্।।

অর্থাৎ হে প্রভো, যদি তুমি মনে কর যে আমি সেই রূপ দর্শনের যোগ্য, তাহলে হে যোগেশ্বর, আমাকে তোমার সেই অক্ষয় আত্মরূপ প্রদর্শন করাও।

উল্লেখ্য যে কোন সিদ্ধ যোগী তার আত্মরূপ এর দ্বারা এরূপ বিশ্বরূপ দেখাতেও সক্ষম। কারণ ব্রহ্মনির্বাণপ্রাপ্ত যোগী স্বয়ং ব্রহ্মই হয়ে যান।

এবার আসি পরমাত্মা প্রসংগে। শ্রীকৃষ্ণকে পরমাত্মা সম্বোধন করা যাবে কিনা?

উপদ্রষ্টানুমন্তা চ ভর্তা ভোক্তা মহেশ্বরঃ।

পরমাত্মেতি চাপ্যুক্তো দেহেহস্মিন্ পুরুষঃ পরঃ।। (গীতা ১৩/২২)

অর্থাৎ এই দেহে যে পরম পুরুষ আছেন, তিনি উপদ্রষ্টা, অনুমন্তা, ভর্তা, ভোক্তা, মহেশ্বর ও পরমাত্মা বলেও উক্ত হন।

ব্ররহদারণ্যক ৪-৪-৫ বলছে-

অয়মাত্মা ব্রহ্ম (আত্মাই ব্রহ্ম)

এছাড়াও মহর্ষি ব্যাস তার ব্রহ্মসূত্রে বলেছেন জীব আত্মাকে যথার্থরূপে জানলে তিনি পরমাত্মাই হন।

আত্মা, প্রকরণাৎ (ব্রহ্ম সূত্র ৪-৪-৩)

তিনি পরমাত্মা, কারণ ইহা প্রকরণ এর আলোচ্য বিষয় হতে বুঝা যায়।

অবিভাগেন, দৃষ্টত্বাৎ (ব্রহ্ম সূত্র ৪-৪-৪)

মুক্ত অবস্থায় জীব ব্রহ্মের সহিত অভিন্নভাবে বর্তমান থাকে। অর্থাৎ মুক্ত জীব ও পরমাত্মা একই। কারণ শাস্ত্রে আছে তত্ত্বমসি। ব্রহ্মবিদ্ ব্রহ্মই হয়ে যান৷ অর্থাৎ যিনি পরমাত্মাকে জানেন তিনিই পরমাত্মা। এই অবস্থায় পরমাত্মার ন্যায় মুক্ত পুরুষ সর্বভুতে সমদর্শী হন। এবং সমস্ত ব্রহ্মান্ড নিজের হতে অভেদ দর্শন করেন।

পরম পুরুষ শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী মুক্তি লাভ এর পর বলেছিন-

আমার জন্ম নেই, মৃত্যুও নেই। আমি নিত্য, শুদ্ধ, মুক্ত। আমিই গীতায় বর্ণিত পরমাত্মা।

সেহেতু শ্রীকৃষ্ণ আত্মতত্ত্ব অবগত ছিলেন এবং তিনিই পরমাত্মা ইহাতে সন্দেহ নাই। কারণ এরূপ পুরুষ ও পরমাত্মাতে কোন ভেদ দর্শিত হয় না।

আত্মানং চেদ্ বিজানীয়াদয়মস্মীতি পূরুষঃ

কেহ পরমাত্মাকে ‘আমিই ইনি (পরমাত্মা)’ এই রূপে জানেন। (বৃঃউপঃ ৪-৪-১২)

যিনি এইভাবে নিজেকে পরমাত্মা জানেন তিনি বিশ্বের কর্তা; কারণ তিনিই সকলের কর্তা, সকলেই তাঁহার আত্মা এবং তিনিই সকলের আত্মা। (বৃঃউপঃ ৪-৪-১৩)

গীতা ১১/৪১-৪৪ অর্জুন বলছেন-

তোমার এই বিশ্বরূপ এবং ঐশ্বর্যমহিমা না জেনে তোমাকে সখা ভেবে অজ্ঞানবশতঃ বা প্রণয়বশতঃ “হে কৃষ্ণ, হে যাদব, হে সখা”, এইরূপ তোমায় বলেছি; হে অচ্যুত, আহার, বিহার, শয়ন ও উপবেশনকালে একা অথবা বন্ধুজনসমক্ষে পরিহাসচ্ছলে তোমার কত অমর্যাদা করেছি; অচিন্ত্যপ্রভাব তুমি, তোমার নিকট তজ্জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

হে অমিতপ্রভাব, তুমি এই চরাচর সমস্ত লোকের পিতা, তুমি পূজ্য, গুরু ও গুরু হতে গুরুতর; ত্রিজগতে তোমার তুল্য কেহ নাই, তোমা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ থাকবে কি প্রকারে?

হে দেব, পূর্বোক্তরূপে আমি অপরাধী, সেই হেতু দণ্ডবৎ প্রণাম পূর্বক তোমার প্রসাদ প্রার্থনা করছি। সকলের বন্দনীয় ঈশ্বর তুমি; পিতা যেমন পুত্রের, সখা যেমন সখার, প্রিয় যেমন প্রিয়ার অপরাধ ক্ষমা করেন, তুমিও তদ্রুপ আমার অপরাধ ক্ষমা কর।

★এক এক করে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর বেদান্ত সিদ্ধান্ত সিদ্ধ হওয়ায় আমি শ্রীকৃষ্ণকে উপাস্য রূপে মান্য করছি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে ভক্ত অবশ্যই ভজনা করতে পারেন। শ্রীকৃষ্ণ তথা পরমাত্মার প্রতি শরণাগতিই জীবের পরমগতি। সমস্ত কিছু শ্রীকৃষ্ণে বা গোবিন্দে সমর্পণ করে কর্ম করাই প্রকৃত ভক্তের চিত্ত শুদ্ধির অন্যতম উপায়। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এর প্রকৃতি পরিচয় দেহধারী কৃষ্ণ নয়। কারণ যিনি মুক্ত ও পারমার্থিক সত্য তিনি কোন দেহের অধীন নন। পরমাত্মাকে দেহধারী মনে করে সেই দেহরূপ কৃষ্ণকে একমাত্র ঈশ্বর বা কারণ মনে করা বেদান্ত সম্মত নয়।

কারণ শ্রীকৃষ্ণ নিজেই গীতায় বলেছেন –

অব্যক্তং ব্যাক্তিমাপন্নং মন্যস্তে মামবুদ্ধয়ঃ।

পরং ভাবমজানস্তো মমাব্যয়মনুত্তমম্।। (গীতা ৭/২৪)

অর্থাৎ অল্পবুদ্ধি ব্যাক্তিগণ আমার নিত্য, অব্যাক্ত, সর্বোৎকৃষ্ট পরম স্বরূপ না জানায় অব্যাক্ত আমাকে প্রাকৃত মনুষ্যবৎ ব্যাক্তিভাবাপন্ন মনে করে।

বেদান্ত ইহাই স্বীকার করে যে ব্রহ্ম এর নির্গুণ ও অব্যাক্ত অবস্থা নিত্য। কোন মনুষ্য দেহধারীকে বেদান্ত মায়া দ্বারা আখ্যায়িত করেন। সেহেতু শ্রীকৃষ্ণ এর মনুষ্য দেহের নয় বরং সেই নির্গুণ পরমাত্মাকে চৈতন্য রূপে আরাধনা করাই বুদ্ধিমান এর কাজ। যারা কৃষ্ণকে দেহধারী মনে করে সেই মায়াময় দেহেরূপ এর ভজনা করে তারা মুর্খ এবং পরমেশ্বর এর পরম ভাব তাদের জ্ঞাত হয় না।

ওঁ গোবিন্দায় নমঃ

ভজ গোবিন্দং ভজ গোবিন্দং, গোবিন্দং ভজ মূঢ়্মতে।

সম্প্রাপ্তে সন্নিহিতকালে মরণে, নাহি নাহি রক্ষতি ডুকৃঞকরণে

Tuesday, April 7, 2020

আলেকজান্ডার আর নাগা সন্ন্যাসী গোষ্ঠীর এক রহস্যাবৃত কাহিনী-দ্বিতীয় বা শেষ পর্ব

প্রথম পর্বের লিঙ্কঃ https://avijitprataproy.blogspot.com/2020/03/blog-post.html

পারস্যে ফেরার পরে বছর দুয়ের মধ্যেই কালানাস ক্রমশ অসুস্থ হয়ে যায়। আলেকজান্ডার কে সে বোঝাতে স্বক্ষম হয় যে তার আত্মাহুতি দেওয়ার সময় এসে গিয়েছে। এক পর্যায়ে অসুস্থ এই মানুষটি তার জন্য সজ্জিত চিতায় উঠে তাতে  আগুন দিতে বলে। বিস্ময়ের সাথে আলেকজান্ডার আর তার সেনাদল দেখে লোকটি একটিও সাড়া শব্দ ছাড়া এই আগুনে পুড়ে মারা যায়।এই  বর্ণনার তিনটি ব্যক্তির মাধ্যমে বর্ণিত হলেও একটি জায়গা তিনজনেই বলছে  যা হলো অদ্ভুত ভাবে লোকটি তার যা কিছু উপহার বা প্রাপ্তি ছিল সব কিছুই আশেপাশের মানুষ বা ততদিনে পরিচিত গ্রিক গোষ্ঠির কাছে দিয়ে গিয়েছিল।আলেকজান্ডার বা তার সেনা একটা সার্বিক সমারোহের মতো আয়োজন করে এবং হাতি বা অন্য সামরিক বাহিনীর শেষ অভিবাদন সহ লোকটিকে এই চিতার আগুনে আত্মহত্যা করার বিষয়টি সম্মান জানায়।এতে কি প্রমান হয়? এই প্রমান হয় যে আলোচিত মানুষ মানে কালানাস বা কল্যাণ আখ্যা দেওয়া লোকটি কোনো বস্তুগত লোভে আলেকজান্ডারের সাথে যায় নি। একই সাথে  বছরের সাহচর্যের পরেও তাঁর প্রতি আলেকজান্ডার বা তার দলের সম্ভ্রম বা ভালোবাসার অভাব হয় নি।
একটু অন্য ভাবে ভাবলে কালানাস/কল্যাণ এর এই যাওয়া নিজের ইচ্ছায় না আলেকজান্ডারের জোর করে একটি এই অঞ্চলের কোনো নমুনা নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তা আজ আর জানার কোনো উপায় নেই।যাই হোক ,এই আত্মাহুতির আগে এই কালানাস/কল্যাণ আলেকজান্ডার বা ওনিসিক্রিটাস কে জানায় যে আগুন এতো সর্বগ্রাসী আর মানুষের পক্ষে জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতি করে সেই আগুন কে তাঁরা ভয় পায় না ,প্রয়োজনে এতেই আত্মবিসর্জন দেয় তাঁরা।এই জায়গাটি কিন্তু মাথায় রাখবেন।
স্ট্র্যাবো পক্ষান্তরে একই ভাবে আবার কালানাস এর নিন্দা করেছে আলেকজান্ডারের বশীভূত হয়ে নিজের সত্বা বিসর্জন দেওয়ার জন্য। মত যাই হয়ে থাক,একটা জিনিস দেখতে পাচ্ছি ,তা হলো মোটের উপরে একটা সার্বিক শ্রদ্ধাবোধ জন্মেছিল এই ভারতীয় সন্ন্যাসী বা দার্শনিকদের উপরে। লক্ষণীয় হলো একই ভাবে গ্রিক দার্শনিক বা চিন্তাবিদের দল একই ধরণের একটি সরল জীবন যাপন বা জ্ঞানের সন্ধানে থাকতেন। এই ভারতীয় সন্ন্যাসীদের বিষয়ে এদের বক্তব্য ,এরা অতি সরল একটি জীবন যাপন করতো ,কোনো সম্পত্তির অধিকারী হতো না।নিরামিষ খাওয়া বা অতি সীমিত খাওয়া আর জ্যোতির্বিদ্যা থেকে দর্শন এবং প্রাকৃতিক নানান বিষয়ে অনুসন্ধান বা জ্ঞানের আহরণ আর একটি পরম্পরায় বজায় রেখে তা ছড়িয়ে দিতো নিজ গোষ্ঠীর মধ্যে।
একই ভাবে আরো একটি জায়গায় দেখতে পাই , কোনো মানুষ এক পর্যায়ে যদি এই ধরণের জীবন বেছে নিতে চাইতো তবে নিজের গ্রাম প্রধান বা অঞ্চলের রাজা বা প্রধানের কাছে তার বাসনা প্রকাশ করলে ওই মানুষটির পরিবার বা তার সম্পত্তির রক্ষার জন্য আঞ্চলিক একটি ব্যবস্থা ছিল।তার স্ত্রী সন্তানের দায়িত্ব নিতো ওই আঞ্চলিক প্রধান। গ্রিক এই লিপিকাররা  বা চিন্তাবিদরা ভারতীয় এই জনগোষ্ঠীর আর এই বিশেষ সন্ন্যাসীদের আত্মা আর শরীরের সম্পর্ক আলাদা এবং আত্মা অবিনশ্বর এই ধারণা সম্বন্ধেও মত প্রকাশ করেছেন।



সমসাময়িক হিসেবে মেগাস্থিনিসের চোখে এই সন্ন্যাসীদের মূল্যায়ন

আলেকজান্ডার বা তার প্রতিনিধির সহচর না হলেও তার প্রধান এবং এই অঞ্চলে আলেকজান্ডারের দখল করা সাম্রাজ্যের একাংশের প্রধান সেলুকাসের প্রতিষ্ঠিত সেলুসিডিও রাজত্বের প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েক বছরের মধ্যেই তার আগমন।এই লোকটি অনেক বছর ভারতে মানে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সময়ে ছিল এবং অনেকের জানা আছে যে ইন্ডিকা বলে একটি ভ্রমণ বৃত্তান্ত বা ভারত সমন্ধে নিজের যা কিছু দেখা তাই নিয়ে লেখে। একটা বড় সময় ধরে তার এই থাকা এবং এই নগ্ন সন্ন্যাসীদের বা ভারতীয় সমাজের উপরে নিজের জানার প্রকাশ অনেকটাই এই বিষয়টা পরিষ্কার করে। আগেও যেমন বলেছি , দ্বিতীয় খ্রিস্টাব্দের সময়ে ভারতীয় এক রাজ্ প্রতিনিধির থেকে সিরিয়ায় এক খ্রিস্টান পন্ডিত এবং লিপিকার Bardesanes এই ভারত এবং এই সন্ন্যাসীদের সমন্ধে যা শুনেছেন তা লিপিবদ্ধ করেন। একই ভাবে তার মূল লেখা না পেলেও তার প্রতিলিপি পাওয়া যায় অন্য এক লিপিকার পোরফিরি (Porphyry)র কারণে।এতে বার্ডেসনেস এই গোষ্ঠীকে দুটো ভাগে ভাগ করেছেন ১.ব্রাহ্মন ২.শ্রমণ। অদ্ভুত বিষয় হলো এই সামান্য ব্যবস্থায়  আত্মাহুতির একটা আচার বজায় ছিল।এর জন্য পারিপার্শিক কোনো বাঁধা আসতো না বরং বাকিরা স্বানন্দে এই আত্মহননে যাওয়া মানুষদের শুভেচ্ছা জানাতো পরবর্তী মানে মৃত্যুর পরের অধ্যায়ে যাওয়ার জন্য।এই বর্ণনার সূত্রে একটা জিনিস পাওয়া যাচ্ছে ,যা হলো ওই সন্ন্যাসী গোষ্ঠী বা তাদের একজনের করা আত্মহত্যার বর্ণনা অলীক না।
তার মতে এই ব্রাহ্মনদের আবার দুটো ভাগ ছিল, একটি পাহাড়ে থাকতো আর অন্যটি গঙ্গার তীরের আশেপাশে। দুই দিকের দুই ভাগই নিরামিষ ভোজন এবং পুরো সময় পুজো ,গাঁথা গেয়ে বা প্রার্থনা করে কাটাতো। অতি দীনহীন ভাবে পর্ণকুঠিরে বসবাস করতো দুই পক্ষই।আর শ্রমণ গোষ্ঠীর বর্ণনা অনেকটাই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর সাথে সম্পর্ক যুক্ত বলে মনে করা যেতে পারে।মেগাস্থিনিসের লেখার প্রতিলিপি করা গ্র্যাটোর ভাষ্য অনুসারে আবার ওই সময়ে ভারতে সাতটি বর্ণে বিভাজিত ছিল।এর প্রথম দুটি আমাদের আলোচনার সেই সন্ন্যাসী গোষ্ঠীর দুটি ভাগ মানে ব্রাহ্মন এবং শ্রমণ।এদের আবার উপদেশ বা পরামর্শ যদি পরপর তিনটি ভুল প্রমান হয় তবে তাঁরা স্বেচ্ছায় বাকি জীবন মৌন হয়ে যায় নিজেকে শাস্তি দিতে।দুটি গোষ্ঠীই নানান ধর্মীয় আচার,আহুতি বা ঈশ্বরের  কাছে উৎসর্গের কাজ করতো। এরা আবার রাজার অথবা ক্ষমতাসীনের পরামর্শদাতা ও ছিল।এই নিভৃতচারী গোষ্ঠীর একাংশ আবার নানান বর্ণের থেকেও আসতে পারতো।এই জায়গায় বেশ অবাক লাগছে কারণ ,বংশানুক্রমিক প্রথার যে কথা আমরা শুনি তা হয়তো ওই সময়ে আরোপিত হয় নি।

প্রসঙ্গত নানান ঐতিহাসিকদের বনণায় এই শ্রমণ আর ব্রাহ্মন গোষ্ঠী কে এক ভেবে ফেলা তাঁরা মেগাস্থিনিসের একটি ভ্রান্তি বলে বর্ণনা করেছেন। একই  সাতটি বিভাজন কেও তার জানার ভুলের কারণে হয়েছে বলে ধরেছেন। সে যাই হোক , এই ক্ষেত্রে আবার ও পাচ্ছি যে এক শ্রেণী মানে ব্রাহ্মন গোষ্ঠীর মধ্যে পারিবারিক ভাবে একই ধাঁচের অন্য ব্রাহ্মন পন্ডিতের থেকে নিজেদের সন্তানের শিক্ষা লাভের একটি প্রথা ছিল।এরা অতীব কঠিন একটি ব্রহ্মচর্য পালন করতো ৩৭ বছর!আর এর পরে আবার সংসারে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন ,একাধিক বিয়ে এবং সন্তানাদি লাভ করার অধিকারী ছিল। এই সময়ে রেশম বা অন্য কাপড় গায়ে দেওয়া , মাংস খাওয়া মানে যে পশু কৃষকের চাষের কাজে না লাগে তা খাওয়ার অধিকারী ছিল(এই জায়গা থেকেই সম্ভবত গরু বা ষাঁড় খাওয়া বন্ধ হয়),একই সাথে এদের বহু বিবাহের প্রথা ও পাওয়া যায়।
এই ব্রাহ্মনদের দর্শন সমন্ধে মেগাস্থিনিস বলছে যে এদের কাছে মানুষের জীবন স্রেফ মাতৃগর্ভে থাকা কোনো প্রাণীর মতো।প্রকৃত সুখ আর সত্যিকারের জীবন হলো মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে।একই সাথে পুর্নজন্ম এবং তার প্রস্তুতি রাখা ও একটি বিশ্বাস ছিল।এদের মতে কোনো কিছুই স্রেফ ভালো বা খারাপ হয় না।কারণ একই খারাপ হয়তো অন্য কারোর জন্য ভালো।একই সাথে তাঁরা মনে করতো এই বিশ্ব সংসার সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তা একদিন নষ্ট হয়ে যাবে।পাঁচটি উপাদানে সব কিছু গঠিত যার পঞ্চমটি স্বর্গীয় বা ঐশ্বরিক রূপের প্রকাশের উপাদান। পক্ষান্তরে শ্রমণদের এক ভাগ বনে বসবাস করতো আর অন্য ভাগ জনপদে ভিক্ষা করে দিন কাটাতো।এদের মধ্যে মহিলা শ্রমণ থাকলেও তাঁরা কেউ বৈবাহিক সম্পর্ক রাখতো না।

প্রশ্ন হলো,এই লোকগুলো মানে এই নগ্ন সন্নাসিরা তা হলে কোন ধর্মের ছিল?

নানান প্রাচীন উপাদান বা বই থেকে দেখতে পাই ওই সময়ে একাধারে বৈদিক ধর্মের থেকে পারসিক এমনকি বৌদ্ধ জৈন ইত্যাদি নানান মতের মানুষ একই সাথে বসবাস করেছেন এই ভারত ভূমিতে(অবিভক্ত) আর এছাড়া এদের অনেকের আচার আচরণ প্রায় একই একটি ধারার থেকে আসার কারণে সমস্যা হয় ঠিক কোন মতের ছিলেন এই সন্নাসীরা তা বুঝতে।এক্ষেত্রে একটু অন্য ভাবে ভাবা যেতে পারে।মানে ইংরেজিতে যাকে বলে প্রসেস অফ এলিমিনেশন মানে একটি করে সম্ভাবনা ধরে তার যৌক্তিক বস্তু কে বিশ্লেষন করে দেখলে আশা করা যায় একটি সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব।
প্রথমেই বাদ দিতে হয় পারসিক ধর্মের কাউকে কারণ এই দুই দিকের সখ্যতা বা পুরু এবং এই অঞ্চলের অন্য রাজাদের সাথে তৎকালীন রাজা ধ্রুবেশ দ্বিতীয় বা দরাযুস দ্বিতীয়ের যোগ থাকলেও এই ধর্মের কোনো জায়গায় এই ধরনের নগ্ন ভাবে চলাচল,প্রকৃতির সাথে থাকা আর সব থেকে বড় উপাস্যর মূল উপাদান অগ্নিতে কোনো আত্মহননের স্থান ছিল না।এক্ষেত্রে তাই বাদ দিলাম পারসিক ধর্মের মানুষদের।
এরপরে ভাবি,এরা কি জৈন ধর্মের মানুষ ছিলেন? তারাও তো প্রায় নগ্ন হয়ে চলাফেরা করতেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই তো একই ভাবধারা দেখতে পাই,তবে ? না,এই সম্প্রদায়কে বাতিল করার কারণ হলো আর যাই করুক এরা আগুনে আত্মাহুতি দেবেন না বা তাকে কোনো ধর্মীয় অনুমোদন দেবে না।তাদের এই আত্মহননের প্রথা থাকলেও তা হতো প্রাযপ্রবেশন বা উপোষ করে মারা যাওয়া।এছাড়া আরো সমস্যা আছে,তাদের সেই সময়ের সমাজে স্বীকৃতি সে ভাবে আসে নি ওই সময়ে ফলে রাজানুগ্রহ পাওয়া বা তাদের পরামর্শ শোনার কোনো সম্ভাবনা হয়ে ওঠে নি।আবার মনে করুন সেই আগের পর্বের চার নম্বর প্রশ্নের কথা, রাজাকে সংঘর্ষে যেতে বা বাধা দিতে যে পথের কথা বলা হয়েছে তা মোটেই অহিংস কিছু না আর তা এই ধর্মের সাথে মিশছে না,সুতরাং এটি ও বাতিল করলাম।
তৃতীয় আরো জোরালো একটি সম্ভাবনা আছে , এরা কি বৌদ্ধ শ্রমণ ? তাতে একটা সমস্যা আছে , বৌদ্ধ শ্রমণরা শ্রদ্ধা বা সমাজে জায়গা পেলেও এদের ওই প্রায় নগ্ন থাকা অথবা ওই ধরনের একটা জীবন যাপন তো ছিল না।এ ছাড়া এদের পরিব্রাজক হয়ে যাওয়ার বাধা তো সে ভাবে ছিল না।তাহলে আলোচিত ওই দ্বিতীয় সন্নাসী মানে কথিত কালানাস বা কল্যাণ বলে উল্লেখিত মানুষটির আলেকজান্ডারের সাথে যাওয়ার বিষয়ে আপত্তি ঠিক কেন ছিল ? একই ভাবে যুদ্ধে যাওয়ার উপদেশ দেওয়া ও তো বৌদ্ধদের আচরণের সাথে মিলছে না।একই সাথে মেগাস্থিনিসের ইন্ডিকার যে টুকু অংশ পাওয়া গিয়েছে তার ভাষ্য অনুযায়ী দেখতে পাই এই সময়ের শ্রমণ গোষ্ঠী কে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছেন তিনি।একটি বনবাসী আর অন্য অংশ গ্রামের বা মানুষের সাথে থেকে নানান ভাবে সহযোগিতা আর মাধুকরী করে বেড়ানোর কথা বলেছেন।এবার সেই মেগাস্থিনিসের ইন্ডিকার স্মরনাপন্ন আবার হওয়া যাক।
এই লেখাতে মেগাস্থিনিস সেই কালানাস এর গুরু বা ওই গোষ্ঠির সব থেকে বয়স্ক মানুষটি মানে দন্ডানাস বা মান্দানাস এর প্রশংসা করেছেন এই বলে যে জাগতিক সব বৈভবের লোভ সে উড়িয়ে দিয়ে আলেকজান্ডার কে বা তার প্রতিনিধিকে বলে যে আলেকজান্ডারের থেকে তার চাওয়ার কিছু নেই , একটি মজার কথা আসছে,যা আছে তার ইংরেজি ভাষ্য কে বাংলা করলে দেখা যায় এই মানুষটি বলছেন “ বলে দাও তোমাদের আলেকজান্ডারকে যে এই ব্রাহ্মণ বিলাস ব্যসন বা জাগতিক কোনো মোহে আকর্ষিত না “ , হুম এখন কথা হচ্ছে,এটি যদি মেগাস্থিনিসের ভুল ভাবনা হয়ে থাকে?অথবা অসত্য বলে থাকে? সে ক্ষেত্রে এই দন্ডানাস বা মন্দানাস এর সাথে আলাপের অন্য অংশ গুলোও সঙ্গতি ছাড়া হয়।দেখতে পাই.এই মানুষটির ভাবনা ছিল,আলেকজান্ডার তাকে হত্যা করতে পারে তবে তার আত্মা এই দেহ ছেড়ে চলে যাবে ইশ্বর বা পরমাত্মার কাছে জীর্ণ বস্ত্র ছেড়ে যাওয়ার মতো করে আর তাতে তার কিছুই আসে যায় না।আরো বলছে যে এই মৃত্যুর পরে তার হিতাহিত বা ধর্মাধর্মের বিচার করবে সেই ইশ্বর সুতরাং তার কোনো কিছু পাওয়ার নেই এই ইহজগতে।এই ধরনের ভাবনা মানে ইশ্বর বা বিচারের ক্ষেত্র তো বৌদ্ধ ধর্ম দেয় না !
আরো একটু যদি এই ইন্ডিকা থেকে আগে পিছে দেখা যায় তবে দেখবেন এই কল্যাণ বা কালানাস কে গোষ্ঠী ছেড়ে যাওয়ার জন্য নিন্দা বা ঘৃনা করার সঙ্গে সেই সময়ের ওই ম্লেচ্ছ বা যবন ভূমির একটা বিভাজন ও পাবেন যা পরবর্তিতে সংস্কারের মতো হয়েছিল একদম সম্প্রতির হিন্দু গোষ্ঠির সাগর পেরিয়ে বিলেতে যাওয়ার বিষয়ে।এবার যদি ওই আগুনে আত্মাহুতির প্রসঙ্গ ভাবেন তবে দেখবেন একটি চরম প্রায়শ্চিত্য পাবেন হিন্দু ধর্মে যাকে বলে তুষানলে প্রবেশ করে নিজেকে শেষ করা আর একই ভাবে ঔজ্জ্বল্য পেয়েছিল অনেক সদ্য প্রয়াত স্বামীর সাথে সহমরণে যাওয়া মহিলার সতী হওয়া তে।

এই ধারা আমরা দেখেছি পরবর্তী নানান সময়ে,অনেক সময়ে হয়তো পরবর্তী বর্ণাশ্রমের ধার না ধরে নানান বর্ণের মানুষ সন্নাসী হয়েছে তাতে ধারা কিন্তু একই রয়ে গিয়েছে।এরা ব্যক্তি মোক্ষকে মাথায় রেখে অসংসারী হয় আর একটি স্ব-আরোপিত কৃচ্ছসাধনের পথে জীবন কে চালনা করে।

উপরের এই বিশ্লেষন একান্ত আমার নিজের আর তাতে যা কিছু পড়েছি তার একটি তথ্যসূত্র আগেও দিয়েছিলাম।এবার সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছি মেগাস্থিনিসের ইন্ডিকা বইয়ের ইংরেজিতে রূপান্তর আর সটিকা আরো একটি বই।পাঠক যদি অন্য কোনো বাখ্যা যুক্তি সহকারে দেন তবে কৃতজ্ঞ চিত্তে গ্রহন করবো ।

সবাইকে ধন্যবাদ !

তশ্যসুত্র :
১. টিকা যুক্ত এই বইটি পাবেন এই সুত্রে গিয়ে https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.172447/page/n1/mode/2up
২. অসাধারণ আরো একটি একই ধরনের বই পাবেন এই সুত্রে
https://archive.org/details/AncientIndiaAsDescribedByMegasthenesAndArrianByMccrindleJ.W/page/n121/mode/2up
৩. একটু অন্য ভাবে লেখা এইই বিষয়ে এই লেখাটি পাবেন এই জায়গায়
https://scholarworks.wm.edu/cgi/viewcontent.cgi?article=1371&context=honorstheses
৪. আরো পাবেন এই সুত্রে https://www.livius.org/sources/content/strabo-of-amasia/alexander-and-the-brahmans/



Monday, April 6, 2020

মহাভারত নিয়ে বিস্তারিত

শাস্ত্রজ্ঞরা বলে থাকেন মহাভারত তিন বার লেখা হয়েছিল। একবার ৮৮০০ শ্লোকে, একবার ২৪০০০ হাজার শ্লোকে আর একবার ১ লাখ শ্লোকে। মূলত এই কারণে মহাভারতকে ‘শতসাহস্রী সংহিতা’ বলা হয়। আবার অনেকেই মনে করেন প্রাচীন মহাভারতের শব্দশৈলীর সাথে বর্তমান মহাভারত খুবই সহজ প্রকৃতির। অবশ্য এই কথাটি মহাভারতও স্বিকার করে। বিভিন্ন গবেষকদের মতে মহাভারত প্রথমে ‘‘জয়া’’ নামে ছিল। এবং এই ‘‘জয়া’’ গ্রন্থটিই ৮৮০০ শ্লোকের ছিল। তারপর জয়া থেকে সৃষ্টি হলো ‘‘ভারত সংহিতা’’। সেই সময়েই ৮৮০০ শ্লোক থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৪০০০ শ্লোকে রূপান্তর হয়। এর বহুপর ভারত সংহিতা যখন ‘‘মহাভারত’’ এ পরিবর্তিত হয় তখন এর শ্লোক সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১ লক্ষতে পৌঁছায়।



পণ্ডিতদের মধ্যে অনেকেই বলে থাকেন বেদব্যাস ১৮ টি পুরাণ লিখেছিলেন পরে মহাভারত রচনা করেছিলেন।
কথাটি ঠিক নয়, কারণ বেদব্যাসের বাবা বিষ্ণুপুরান লিখেছিলেন আর ছেলে ভাগবত পুরাণ রচনা করেছিলেন। মাঝখানে বেদব্যাস লিখেছেন বায়ুপুরাণ। এছাড়া অন্য গুলো আদৌ বেদব্যাস ছিলে ছিলেন কিনা সন্দেহ রয়েছে। কারণ ভাষা এবং রচনাশৈলীতে অনেক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। এমনকি একই ঘটনার মাঝেও আছে ভিন্নতা। অনেকেই বলে থাকেন এগুলো রূপক। কিন্তু এখানে একটি প্রশ্ন থেকে যায়। যদি রূপকই হয় তাহলে বেদব্যাস আরো অনেক চরিত্র কেন নির্মান করলেন না? একই চরিত্র দিয়ে একই বিষয় সমূহের বিভিন্ন পুরাণে বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ কেন হবে ?



খ্রীষ্টপূর্ব ২ শতক থেকে ষোড়শ শতক অবধি পুরাণের গল্প আর মহাভারতের গল্প একাকার হয়ে দেশের মানুষের মুখে মুখে ফিরত। আমরা জানি মূল মহাভারতে ১৮টি পর্ব আছে কিন্তু সংস্কৃত মহাভারতে ১৮ পর্ব ছাড়াও বেদব্যাস মহাভারত ও হরিবংশকে ১০০ ছোট ছোট পর্বে ভাগ করেছিলেন। হরিবংশে ২টি এবং মহাভারতে আটানব্বইটি । প্রথমটির নাম অনুক্রমণিকাপর্ব দ্বিতীয়টির নাম পর্বসংগ্ররপর্ব। এই দুটি পর্ব পড়লে মনে হবে মহাভারত অন্তত পাঁচবার সংস্কার হয়েছে। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কতৃপক্ষ ৯৮৫ সালের কাশীরাম দাসের মহাভারতের পুঁথিটি হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয়কে দেখার জন্য বলেন, তখন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয় সেই পুঁথি থেকে প্রথম কাশীদাসী মহাভারত ছাপার ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুর করেন। ১৩৩৫ সালে শ্রীযুক্ত বিমলাচরণ লাহার অর্থানুকুল্যে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় কাশীদাসী মহাভারত প্রকাশ পায়, দাম ছিল চার টাকা। যদিও ১৯৩২ সালে পূর্ণ চন্দ্র শীল একটি কাশীদাসী মহাভারত প্রকাশ করেছিলেন। তারও দাম ছিল সাড়ে চার টাকা।


Friday, March 6, 2020

আলেকজান্ডার আর নাগা সন্ন্যাসী গোষ্ঠীর এক রহস্যাবৃত কাহিনী-প্রথম পর্ব

লেখাটির জন্য প্রচুর খোঁজাখুঁজি করতে হয়েছে।নানান জায়গা থেকে মণি মুক্তো আহরণ করে আমার এই একত্রিত করার প্রয়াস।অনেক জায়গায় অপ্রাসঙ্গিক মনে হওয়ার কারণে অনেক তথ্য বাদ দিয়েছি।কোনো পাঠকের ইচ্ছা হলে মূল সূত্রগুলো থেকে দেখে নিতে পারেন।কোথাও অসঙ্গতি মনে হলে ধরিয়ে দেবেন,আমি কৃতজ্ঞ চিত্তে সংশোধন করবো।
আলেকজান্ডার লোকটি বেশ রহস্যময়।আরো রহস্যময় হয়েছে বেশ কিছু মিথ এবং লোকগাথার সমাহারে। বস্তুত: সেই সময়ে প্রাচ্যের আর পাশ্চাত্যের নতুন করে এক যোগাযোগের সূত্র হয়ে উঠেছিল এই লোকটি। আগেও যোগাযোগ সূত্র থাকলেও তা কোনো বর্ননা নিয়ে ছিল না ফলে আজকের পৃথিবী সেই সময়ের তার সহযাত্রী গ্রিক লিপিকার বা পরবর্তীতে অন্যদের সূত্রে এই সংযোগ আর নানান কাহিনীর বর্ণনা পেয়েছে।আজ বলবো অবিভক্ত ভারতে আলেকজান্ডারের সাথে একদল সর্বত্যাগী নাগা মানে বস্ত্রহীন এক দল সন্ন্যাসীর আলাপ বা সেই সম্পর্কিত কিছু কাহিনী।আমরা কেউ জানি না তা কতটা সত্য তবে বিষয়টা একটু অন্য কিছু জানার মতো করে পড়লে খুশি হবো।
পৃথিবীতে সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য অনেক মানুষ তাদের নিজেদের কীর্তি রাখার কাজ করে গেলেও এখনো এই লোকটিকে একটা আলাদা স্থান দেওয়া হয় এই বিষয়ে।পররাজ্য গ্রাসের এই কুকীর্তি যুগে যুগে মানুষ করেছে তাই মহান না হলেও লোকটি এই অল্প বয়েসে যে কাজ করেছে সেই হিসেবে বিস্ময়ের প্রকাশ করা যায় বৈকি।এই লোকটি তার বাবার স্বপ্ন বা এক অর্থে গ্রিকদের জাতীয় অভিমান এবং প্রতিশোধের কামনায় এই জয় যাত্রায় বেরিয়েছিল পারস্য সাম্রাজ্য কে পরাজিত আর এদের চূড়ান্ত শিক্ষা দেওয়ার বাসনায়।অতঃপর স্বপ্ন সাকার হয়।আলেকজান্ডার পারস্য সাম্রাজ্যের দখল আর এই অঞ্চলের প্রাচীন নানান ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক উপাদান বা লিখিত সব ইতিহাসের সর্বনাশ করে এক পর্যায়ে ঢুকেছিল আজকের বিভক্ত ভারতের পশ্চিমে মানে আফগানিস্তান দখল করে বর্তমান পাকিস্তানের মুলতানের দিকে।আলেকজান্ডার ছিল তৎকালীন গ্রিসের এক বিখ্যাত দার্শনিক এবং চিন্তাবিদ এরিস্টটল এর শিষ্য।অনেক ক্ষেত্রেই এই মানুষটির ভাবনা বা মনোন আলেকজান্ডার কে প্রভাবিত করেছিল।এই কারণেই আলেকজান্ডার নানান জায়গায় সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছে ওই অঞ্চলের নানান চিন্তাবিদ বা এই ধরণের পন্ডিত বা একটু আলাদা মানুষদের সাথে।এই পর্যায়ে সেই সময়ের আলেকজান্ডার আজকের পাকিস্তানের টাকসিলা বা প্রাচীন তক্ষশীলায় ভারতের এক অসামান্য জ্ঞানার্জনের তীর্থস্থলের বিষয়ে জানতে পারে।এইখানেই তার সাথে কিছু উপরের বলা সেই একদল নগ্ন সন্ন্যাসীর স্বাক্ষাৎ হয়।প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো এই তক্ষশিলা নগরীর কাছেই রাজা পুরু সর্বশক্তি দিয়ে বাঁধা দিয়েছিল,এই বিষয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যায় এই সন্নাসীদের সাথে স্বাক্ষাতের সময়ে ,একটি প্রশ্নের উত্তরের উপরে।
আলেকজান্ডারের আক্রমনের সময় মানে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতক থেকে পরবর্তী ছয়টি শতকে বহু পাশ্চাত্যের বিশেষত গ্রিক পর্যটক এবং পন্ডিত এই দিকে এসেছে।এই বিবরণ নানান লেখকের ভাষ্যে লিখিত হয়েছে।এর মধ্যে সব থেকে বেশি স্বীকৃত তিনটি হলো ১. ওনিসিক্রিটাস(Onesicritus) মানে আলেকজান্ডারের সহযাত্রী যথারীতি তার মূল লেখা হারিয়ে গেলেও পরবর্তিতে একই লেখার সুত্রে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য আরো এক লিপিকার স্ট্যার্বো ২.মেগাস্থিনিস ,বিখ্যাত গ্রিক পর্যটক যে সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের সময়ে সেলুকাসের(পারস্যের দিকের ছেড়ে যাওয়া গ্রিক দখলের অংশের রাজা বা আলেকজান্ডারের প্রতিনিধি সেনাপতি)সময়ে তার পাঠানো রাজ্ প্রতিনিধি হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেছিলেন আর ৩. বার্ডেসান বলে প্রথম খ্রিস্টাব্দের খ্রিস্টান পন্ডিত এবং শিক্ষক যিনি সিরিয়াতে ভারতীয় প্রতিনিধির কোনো একজনের সাথে স্বাক্ষাতের ভিত্তিতে এই বিষয়ে বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছিলেন।সব থেকে প্রাচীন বা সব থেকে স্বীকৃত যা কিছুই হয়ে থাক, তা কতটা সত্যি বা সঠিক ছিল তার সন্দেহ থেকেই যায়।নানান লেখায় বিশেষত এই ওনিসিক্রিটাস এর নিজের ভাষ্যমতে তার তিন জন অনুবাদক লেগেছিল এই ভারতীয় সাধুদের সাথে আলাপ করতে সুতরাং বিকৃতি শুরুতেই হতে পারে এবং হওয়াটা যথেষ্ট যুক্তিগ্রাহ্য।এরপরেও নানান পরিবর্ধন বা পরিবর্তন হয়েছে যেমন হয় অন্য সব ক্ষেত্রে।যাই হয়ে থাক ,মূল বিষয়ে এই তিনজনের বক্তব্য মোটামুটি একই হওয়ায় একটা স্বদর্থক বিষয় পাওয়া যায় ,তা হলো, এই স্বাক্ষাৎ বা মত বিনিময়ের মূল বিষয়গুলো একই থাকায় বিষয়ের কোনো নিদারুন পরিবর্তন হয় নি।
গ্রিক বর্ণনায় উঠে এসেছে কৃচ্ছ সাধন করা একদল বনবাসী সন্ন্যাসীর কথা যাদের কাছে জাগতিক কোনো কিছুই কাম্য ছিল না।এই সন্ন্যাসী গোষ্ঠীর দুটি নাম উঠে এসেছে যার একটি ডানডামিস(এর ভারতীয় মূল নাম উদ্ধার করতে পারি নি)আর অন্যজন কালানুস(যা অধিকাংশ বলেছেন কল্যাণ বলে , তবে এটি তার নাম না এটি ও জানতে পারছি ,এই মানুষটি আসলে যেই তার কাছে আসতো তাকে ওই বাক্য বলতেন ,নিজের ধারণায় মনে হয় তিনি বলতেন 'কল্যাণমস্তু ' বা কল্যাণ হোক , এটিই এদের কাছে এর নাম হয়ে যায়)যাইহোক ,এই প্রথমজন মানে ডানডামিস ছিলেন এই দলটির প্রধান।এই স্বাক্ষাৎ আলেকজান্ডারের সাথেই হয়েছিল না তার প্রতিনিধি এই নিয়ে নানান মত আছে।অনেকেই আবার অনেসিক্রিটাস আসলে এই স্বাক্ষাতের সময় ছিল বলে মত প্রকাশ করেছেন আবার অনেকেই খোদ আলেকজান্ডার এতে ছিল এবং এই ধরণের এক দার্শনিক তর্কযুদ্ধে এদের কাছে পরাজিত হয়েছে এই মতামত ও রেখেছেন।সে যাই হোক , এই লোকগুলো আলেকজান্ডারের কৌতূহলের কারণ হয়েছিল তা ভাবাই যেতে পারে।



সব থেকে গ্রহণযোগ্য মনে হয় এই অনেসিক্রিটাস কে আলেকজান্ডার পাঠিয়েছিল এই সাধুদের তার কাছে নিয়ে আসার জন্য।বলা হয়,এই সাধুর দল বিশেষত এদের প্রধান ডানডামিস আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাকে বলেন যে প্রয়োজন হলে আলেকজান্ডার যেন নিজে আসে যদি সে তাঁদের কথা বা মতবাদ শুনতে আগ্রহী হয়।এই প্রেক্ষিতে দুটো ধারণা প্রচলিত ,একটি হলো অনেসিক্রিটাস নিজেই অতঃপর আলাপ চালায় আর দ্বিতীয় হলো আলেকজান্ডার এদের কথা মেনে নিজেই দেখা করতে আসে।
এই বর্ণনার অক্ষত অংশ পাই পরবর্তীর ভৌগোলিক বিদ্যার পন্ডিত স্ট্রাবোর(Strabo) বর্ণনায়।এই মানুষটি অনেসিক্রিটাস এর আড়াইশো বছর পরে মানে প্রথম খ্রিস্টপূর্ব শতকে তাঁকে সূত্র করে এই কথা গুলো তুলে ধরেন।স্ট্রাবো তাঁর বর্ণনায় এই সন্ন্যাসীদের সমন্ধে অনেসিক্রিটাস এর সূত্র ধরে বলেন যে এই মানুষগুলো নগ্ন থাকতো এবং স্ব-আরোপিত একটি কৃচ্ছ সাধনের পথে নিজেদের জীবন যাপন করতো।একই সাথে এদের জ্ঞানী এবং এই অতি সরল জীবন যাপন যে আলেকজান্ডারের কৌতুহলের কারণ হয়েছিল তাও উঠে আসে তার বর্ণনায়।গ্রিক ভাষায় এদের বর্ণনা করা হয়েছে জিমনোসোফিস্ট(Gymnosophists) যার অর্থ নগ্ন দার্শনিক। খেয়াল করবেন,নগ্নতা কে তাচ্ছিল্য করে না বরং একটা শ্রদ্ধাবোধ জড়িয়ে রয়েছে এই দার্শনিক বা জ্ঞানী কথাটির সাথে।একই সাথে এদের বর্ণনায় বলা হয়েছে এই মানুষগুলো একই জায়গায় দীর্ধ সময় সটান দাঁড়িয়ে থাকতে পারতো নানান ভঙ্গিমায় ,অতি স্বল্পাহারী ,উন্মুক্ত প্রান্তরে বসবাস করতো আর রোগ ব্যাধি হলে আত্মাহুতি দিয়ে জীবনাবসান করতো।এই প্রাণত্যাগ প্রসঙ্গ আসছে একটু পরে ,যাই হোক আলোচ্য এই অনেসিক্রিটাস এর বর্ণনায় জানতে পারা যায় যে প্রথম যখন এদের সাথে দেখা হয় ,তখন ১৫জনের এই দলটি সেই সময়ের মূল শহরের থেকে বেশি কিছু দূরে নানান ভঙ্গিমায় অবস্থান করছিল।নগ্ন এই মানুষগুলো নানান ভঙ্গিতে কেউ দাঁড়িয়ে ,কেউ শুয়ে আবার কেউ বসে ছিল উন্মুক্ত ওই প্রান্তরে।এই বর্ণনায় বলা হয় ওই সময়ে এতটাই সূর্যের তাপ থাকে যে খালি পায়েও চলাচল করার অবস্থা থাকে না আর সেই অবস্থায় এই মানুষগুলো ঠায় একই অবস্থানে ছিল সন্ধ্যা পর্যন্ত।প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো আলাপের জায়গা আবার অনেকের মতে তক্ষশীলার কাছের কোনো বনাঞ্চলে হয়েছেও বলা হয়।
এক পর্যায়ে অনেসিক্রিটাস আলাপ করতে যান কালানাস বা ওই কল্যাণের সাথে।এক্ষেত্রে তাঁকে সটান প্রত্যাখ্যান করে কালানাস বলেন যে আগে তাঁর মতো নগ্ন হয়ে এসে আলাপ করুক।একই সাথে অনেসিক্রিটাস এর জাঁকজমক বা ঐশ্বর্যের কারণে তাকে তাচ্ছিল্য ও করে এবং এই গুলো মানুষের অধঃপতনের কারণ বলে তার সাথে কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানায়।এই পর্যায়ে সব থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ বা এদের প্রধান দন্ডমিস তার সাথে আলাপ করতে রাজি হয়।অনেসিক্রিটাস এর মতে এই প্রধান সাধু তাকে বলে আত্মার থেকে সকল সুখ আর দুঃখ কে দূরে সরিয়ে রাখার কথা।আরো বলেন তিনি গ্রিক গোষ্ঠীকে সবল মননের একটি গোষ্ঠী ভাবলেও তাদের প্রকৃতির থেকে উপাচার বা আনুষ্ঠানিকতা কে বেশি প্রাধান্য দেওয়াকে সমর্থন করেন না।আরো বলেন যে যদি গ্রিক গোষ্ঠী প্রকৃতিকে প্রাধান্য দিতো তবে তাঁরা ও একই ভাবে এই কৃচ্ছসাধন আর সরল জীবনের পথে চলে যেতো।অনেসিক্রিটাস এর মতে এই মানুষগুলো এই কষ্টকর জীবন বেছে নিয়ে পরিধানের কাপড় ত্যাগ করে ,সৌখিন বা দামি খাওয়ার ফেলে ,কোনো প্রচলিত বসবাসের জায়গাতে না থেকে স্রেফ প্রকৃতির মধ্যে প্রকৃতিকে অধ্যয়ন করতেন।প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ওষধি ও নির্নয় করতেন এই গোষ্ঠী।এরা শহরে বা জনপদে এসে মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় খাদ্য ভিক্ষা করতো যা অধিবাসীরা সাগ্রহে দিয়ে দিতো। এই পর্যায়ে এই মানুষগুলো ধনী নির্ধন সবার সাথেই আলাপ বা কথা বলতো নানান বিষয়ে।একই ভাবে আরো এক জায়গায় দেখতে পাই ,আলেকজান্ডার নিজেই এই দণ্ডমিস এর সাথে স্বাক্ষাৎ করে তাঁকে তার সহযাত্রী হতে অনুরোধ করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।তিনি আলেকজান্ডার কে বলেন যে এই ইহজগতের কোনো কিছুই আলেকজান্ডার তাঁকে দিয়ে প্রলুব্ধ করতে পারবে না।এই পর্যায়ে আলেকজান্ডার উপলব্ধি করে যে এই মানুষটি সত্যিই একজন মুক্ত মানুষ।
যাই হোক, এই ক্ষেত্রে আলেকজান্ডার নিজেই হোক বা তার প্রতিনিধি , প্রথম ওই লোকটি মানে কালানুস বা কল্যাণ কে রাজি করাতে পারে তাদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য।এই রাজি হওয়ার জন্য তাঁর গোষ্ঠীর মধ্যে যথেষ্ট নিন্দিত হয় এই কালানুস।সে যাই হোক,এই লোকগুলো বা সন্ন্যাসী গোষ্ঠী জঙ্গলের নানান ফল মূল ইত্যাদি প্রাকৃতিক বস্তুতে ক্ষিধে মিটাতো আর পান করতো স্রেফ জল।এইভাবেই ঘুরে বেড়ানো এই গোষ্ঠী রাতে গাছের তলায় রাত কাটাতো।একই সাথে ,ওনিসিক্রিটাস বা আলেকজান্ডারকে এই দণ্ডানিস্ এও বলে যে আলেকজান্ডার নাকি ঈশ্বরের সন্তান ,তবে কেন সে এই রাজ্ ঐশর্যে রয়েছে? তাঁর এই কথা সরাসরি বা ওনিসিক্রিটাস এর মাধ্যমে আলেকজান্ডারের কাছে গেলেও তাতে সে রেগে যায় নি।বোধকরি আগের গ্রিক দার্শনিক গুরুদের সাহচর্যে বিষয়টি আত্মস্থ করতে পারে এই আলেকজান্ডার।আরো একটি মজার কাহিনীর বর্ণনা হয়েছে প্রাসঙ্গিক সব লেখকের লেখায়।বলা হয় আলেকজান্ডার এই দশজন নগ্ন সন্ন্যাসীকে ডেকে নিয়েছিল বা বন্দি করে নয়টি প্রশ্নর উত্তর দিতে বলে।খারাপ উত্তর হলে সেই সন্ন্যাসীকে হত্যা করা হবে এই শর্ত ও আরোপ করা হয়।এই উত্তরের যাচাই করতে আবার নাকি এদেরই মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষটিকে বিচারক করেছিল সে।একই এই ভাষ্য বর্ণনা হয়েছে স্ট্রাবো বা পরবর্তীতে খ্রিস্টান ওই পন্ডিতের ভাষ্যে তবে মৃত্যুদণ্ডের বিষয় বাদে।যাই হোক, এই প্রশ্নগুলো মোটামুটি প্রায় একই দেখে পাঠকের কাছে এইগুলো তুলে ধরলাম উত্তর সমেত।
১. কার সংখ্যা বেশি জীবিতের না মৃতের ?
- জীবিতের কারণ মৃতের কোনো অস্তিত্ব নেই।
২. সমুদ্র না স্থল কোন জায়গায় সব থেকে বড় জন্তু আছে ?
- এই পৃথিবীতে,কারণ সমুদ্র এর একটি অংশ
৩. সব থেকে ধূর্ত জন্তু /প্রাণী কি ?
-সেটি যাকে মানুষ খুঁজে পায় নি
৪. তাঁরা (সন্ন্যাসীরা) কি ভাবে তাদের অঞ্চলের রাজাকে বুঝাতে স্বক্ষম হন আলেকজান্ডার কে প্রতিরোধ করতে ?
-এই বলে যে রাজা এতে জীবিত বা মৃত যাই হোক পরিণতি হবে মহান
৫. বড় কোনটি , দিন না রাত ?
- দিন ,অন্ততঃ একটি কারণ শুরু হয়েছে(এই সৃষ্টি)দিন দিয়েই
৬. একজন মানুষ কি ভাবে শ্রদ্ধা/ভালোবাসার জন হতে পারে ?
-ভীতি প্রদর্শনের ছাড়া শক্তিশালী হলে
৭. একজন মানুষ কি করে ঈশ্বর/দেবতা হতে পারে ?
-মানুষের অসাধ্য যা তা করে
৮. কে শক্তিশালী , জীবন না মৃত্যু ?
-জীবন কারণ এটি অনেক বেশি দুঃখ কষ্ট কে ধারণ করে।
আরো একটি লিপিকার অবশ্য এর উত্তরের বাখ্যায় ওই সন্নাসীরা সূর্যের ওঠা আর ডুবে যাওয়ার উদাহরণের রূপক কে ব্যবহারের কথা বলেছে বলে,ওই ভাষ্যে বলা হয় সূর্য ওঠার সময়ে তার প্রখর তেজ আর ডুবে যাওয়ার সময় স্তিমিত অবস্থা প্রমান করে যে জীবন অনেক বেশি শক্তিশালী।
৯. একজন মানুষের কতদিন জীবিত থাকা উচিৎ ?
-যতদিন তার জন্য মৃত্যু অধিকতর ভালো পথ না মনে হয়
শেষের এই উত্তরের পরে আলেকজান্ডার নাকি ওই বিচারক বয়োজ্যেষ্ঠ লোকটি কে জিজ্ঞাসা করে সব থেকে বাজে উত্তর কোনটি। এতে ওই বিচারক মানুষটি অতীব জটিল ভাবে উত্তর দিয়েছিল প্রত্যেকটি উত্তর অন্যটির থেকে খারাপ ফলে কোনো নির্দিষ্ট একটি সব থেকে খারাপ না। এতে আলেকজান্ডার বা তার প্রতিনিধি আর কোনো উচ্চবাচ্চ্য করে নি। এক লিপিকারের মতে উল্টে উপহার ইত্যাদি দিয়ে এদের ফেরৎ পাঠায় আলেকজান্ডার।
এই নয়টি প্রশ্ন আর উত্তরের সমাহারের মধ্যে চার নম্বরেরটি একটু খেয়াল করে।রাজা পুরুর একজন সামান্য জনপদের রাজা হয়েও আলেকজান্ডারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে যাওয়া মনে আসছে কি ? নির্মোহ ভাবে ভাবলে,এই নগ্ন সন্ন্যাসীদের রাজকীয় কাজ কর্মে বা সিদ্ধান্তে একটা ভূমিকার প্রকাশ কিন্তু পাওয়া যায় এর থেকে!
এই পর্যায়ে শেষ ধাপে আমরা যা পাই তা হলো একদম আগে বলা ওই কালানুস বা কল্যাণ এর কথা। এই মানুষটি রাজি হয়েছিল আলেকজান্ডারের সাথে আবার পারস্য দিয়ে ফেরার পথে সহযাত্রী হতে।
এর পরের পর্বে থাকবে পারস্যে এই কালানাস এর কি গতি হলো এবং এই নগ্ন সন্নাসীর বা এই গোষ্ঠির মানুষেরা ঠিক কোন পথের অনুসারী ছিল তাই নিয়ে একটি আলোচনা।নানান বিশেষজ্ঞরা কেউ এদের হিন্দু ব্রাহ্মন গোষ্ঠীর ,কেউ বৌদ্ধ ধর্মের আবার কেউ জৈন ধর্মের মতাবলম্বী ভেবেছেন।নানান সূত্রে পাওয়া কাহিনী ধরে খোঁজার চেষ্টা করবো এই মানুষগুলো ঠিক কারা ছিলেন।ততক্ষন একটু বিরতি।

তথ্যসূত্র (এক প্রস্থ)
১. নিরস , একদম বিষয়ের উপরে
https://grbs.library.duke.edu/article/viewFile/1451/1541;The?fbclid=IwAR1TJH2Vrzl-pkc-vCijJ7NQ1BAY0is959qULuFlAA8Xd32WwnrTX1MqWSQ

৩. গল্পর ছলে বলা,অনেকটাই সত্য তবে কল্পনার আশ্রয়ের অংশ অনেকটাই বেশি ,পড়ে দেখতে পারেন

৪. একটি সোনার খনি তবে আহরণ করার কায়দা জানা চাই ,এতে ব্যবহৃত তথ্যসূত্র গুলো ও এক একটি রত্নের আকর

৫ যারা সহজ পাচ্য কিছু চাইছেন তারা এটি দেখতে পারেন,আংশিক অসত্য থাকলেও সুখপাঠ্য


Tuesday, February 18, 2020

আপনারা যারা ইস্কনকে সহ্য করতে পারেন না তাঁদের জন্য একটি লেখা ইস্কন প্রায় বলে থাকে । সেই হাস্যকর দাবীর খন্ডন

যারা অনলাইনে নিয়মিত এরা দেখে থাকবেন অনেক মুসলিম পেজে একটা হিন্দু বিদ্বেষী পোস্ট খুব ঘুরে বেড়ায় । হিন্দু ভায়েরা মন খারাপ করবেন না। আমি শুধু জানতে চাই..... (https://www.facebook.com/biswahinduporishad/posts/906298112741835)

যারা দেখেন নাই দেখে নিন। ঠিক একি ভাবে হিন্দুদের মাঝে আরও বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য ইস্কনের কৃৈষ্ণবরা পাগলের প্রলাপের মতন একটি পোষ্ট ভাইরাসের মতন ছড়িয়ে যাচ্ছেন। যাতে মানুষের মাঝে ইস্কন নিয়ে কোন সন্দেহ না থাকে। আর এরা এদের নোংরা ধর্ম ব্যাবসা আরও দ্বিগুণ গতিতে ছড়াতে পারে। যারা দেখেন নাই দেখে নিন

(https://www.facebook.com/UnitedHinduBengali/posts/480507685407083:0)

বলা বাহুল্য ফেসবুকে যত হিন্দু পেজ দেখেন তাঁর ৮০-৯০% পেজ ইস্কনের হয়ে কাজ করে থাকে। এর মাঝে সবথেকে বড় ইস্কনী পেজ হল United Hindu concern নামে এই পেজটি।
যাইহোক এদের এসব ছ্যাব্লামির উচিৎ দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেবার তাগিত অনুভব করলাম। আমাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন Bijaydhari Mrtyunjay Karna আমরা ২ জন মিলে এই পোস্ট তৈরি করেছি। যে যেভাবে পারেন কপি করেন। কারন আমাদের উদ্দেশ্য নিজেদের নাম ফাটানো নয়। আসুরিক সচেতনতা তৈরি করা। তাই আমাদের কোন কপিরাইট নেই। অনুমুতি ছাড়াই কপি করেন।

যেসব হিন্দু ইসকনকে সহ্য করতে পারে না
তাদের উদ্দেশ্যে লেখা:-

1. আপনি পারবেন পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে মিথি
নগরীতে নগর কীর্তন করতে?

উত্তরঃ প্রথমত কীর্তন কোন শাস্ত্রীয় কাজ না। আর যদি করা না করা হয়ে থাকে
তাহলে বলবো টাকা বা ডলার দিলে অসামা বিন লাদেনও পাকিস্তানে আস্তানা গাড়তে পারে।

2. পারবেন পাকিস্তানে ভক্তিবেদান্ত ট্রাস্ট, ইসকন
মন্দির গড়তে?

উত্তরঃ ইসকন কোন মন্দির না। যেখানে পরমেশ্বর শিবের অপমান হয় তা অসুরদের আস্তানা। তাই মন্দির বলে মন্দিরকে অপমান করার কোন মানে হয় না। আর ডলার থাকলে ইস্কন কেন? অনেক টেররিষ্ট অরগানাইজেসন বানানো যায়। আপনারা নিজেদের দেখেই বুঝে নিন।

3. ইরানে রথযাত্রা করতে পারবেন?

উত্তরঃ টাকা থাকলে কেন নয়?

4. যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে পারবেন রথযাত্রা,
জন্মাষ্টমী পালন করতে?

উত্তরঃ প্রাসদের লোভ দেখিয়ে সবই সম্ভব। যেমন আফ্রিকা তে খ্রিষ্টানরা বাইবেল বিলাচ্ছে। আর ঐখানে রথযাত্রা আর জন্মাষ্টমি পালন হয় মানে এই নয় এইখানে অন্যনায় পূজা হয়। ঐসব জায়গায় লাষ্ট কবে কালী পূজা বা দুর্গা পূজা হয়েছে? জানাবেন কিন্তু !

5. ইসলামী রাজতন্ত্র সৌদি আরবে পারবেন বাদশা
আব্দুল্লাহ'কে বেদ উপহার দিতে?

উত্তরঃ কোন ইস্কনী ছাগল এই কাজ করলো ছবি সহ প্রমান দিন। ইস্কন বেদ অস্বীকার করে। বেদ মানলে অশাস্ত্রীয় হরে কৃষ্ণ নাম আর কাল্পনিক রাধার পূজা করতো না।

6. অতীতের হিন্দু দেশ আজারবাইজানে পুনরায়
বৈদিক সনাতন ধর্ম প্রচার করতে?

উত্তরঃ আজারবাইজান হিন্দু দেশ ছিল প্রমান দিন ফ্রবু। আর হ্যাঁ সনাতন বৈদিক ধর্ম হল পঞ্চমতের পূজা আর তাঁর সম্মান। ইস্কন কাল্পনিক রাধার উপাসনা আর কৃষ্ণ নামক অবতারকে ঈশ্বর মানে যা মটেও বৈদিক নয়। তাই ফালতু প্যান প্যান বন্ধ করেন।

7. সাহস আছে ইসরাইলের তেল আবিবে নামহট্ট
মন্দির ও নগর কীর্তন করতে?

উত্তরঃ কেন নয়? ইসরাইল একটি উদার রাষ্ট্র। সেখানে আপনি আপনি হিন্দু ধর্মের নাম করে ইস্কন যা অপকর্ম করে যাচ্ছে তা টের পেলে তখন সাহসটা আপনাদের উপর ভারী হয়ে পড়তে পারে ফ্রবু। নামহট্ট মন্দির নামে কোন কিছু প্রাচীন ত্রেতা যুগ বা দ্বাপর যুগে ছিল কিনা দেখান তো? রেফারেন্স সহ । এসব অশাস্ত্রীয় ফালতু কাজ কারবার আপনাদের দ্বারাই সম্ভব। কীর্তন নিয়ে আগেই বলেছি। তাই এই নিয়ে খামাকা কথা বলছি না।

8. হরিনাম ছড়াতে পারবেন বানিজ্যিক রাজধানী
দুবাইয়ে?

উত্তরঃ হরিনাম না। অশাস্ত্রীয় হরে কৃষ্ণ নাম যার শাস্ত্রগত কোন ভিত্তি নেই।
শুধু যা করছেন তা টাকার জোরে। আপনাদের শাস্ত্রগত কোন ভিত্তি নেই।

9. বাহারাইনে পারবেন মন্দির তৈরী ও রাজপথে
কীর্তন করতে?

উত্তরঃমন্দির বানিয়ে আমরা যাগ যজ্ঞ করবো। রাস্তায় বগল তুলে নাচার কাম বাঁদরের। আমাদের মতন আর্যদের না।

10. কুয়েতে পারবেন রথযাত্রা র্যালি করতে?

উত্তরঃ আগেই এরকম ফালতু প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। তাই খামাকা একি ত্যানা পেচ্যানো বন্ধ করেন।

11. মিসরে পারবেন নামহট্ট মন্দির করার প্রস্তাব
করতে?
উত্তরঃনামহট্ট মন্দির নামে কোন কিছু প্রাচীন ত্রেতা যুগ বা দ্বাপর যুগে ছিল কিনা দেখান তো? রেফারেন্স সহ । এসব অশাস্ত্রীয় ফালতু কাজ কারবার আপনাদের দ্বারাই সম্ভব। কীর্তন নিয়ে আগেই বলেছি। তাই এই নিয়ে খামাকা কথা বলছি না।

12. সুদানে পারবেন জন্মাষ্টমী করতে?

উত্তরঃএরকম ভুগি চুগি মার্কা উত্তর আগেই দেয়া হয়েছে। শুধু দেশের নাম চেঞ্জ করে একি কথা আর কত?

১৩. আরব জাহানে গীতার আলো ছড়িয়ে দিতে ?

উত্তরঃউহু! গীতার আলো না। আপনারা গীতার অপব্যাখ্যা ছড়াচ্ছেন। আপনাদের মতে গীতা কৃষ্ণ আমি বলতে নিজেকে বলছেন। যা একদম ভুয়া কথা আর তা মহাভারত পড়লেই দেখা যায় যে উনি আমি বলতে নিজেকে বুঝান নাই। তাই নিজেদের ব্যাবসার জন্য আপনারা গীতাকে ব্যাবহার করছেন মাত্র।

১৪. কমুনিস্ট রাশিয়ায় প্রচন্ড বরফ উফেখা করে রথ
যাত্রা করতে ?

উত্তরঃএরকম ভুগি চুগি মার্কা উত্তর আগেই দেয়া হয়েছে। শুধু দেশের নাম চেঞ্জ করে একি কথা আর কত?

১৫ ঘানার রাজপথে হরিনাম করতে ?

উত্তরঃবার বার একি ভুল। হরি নাম না। বলেন অশাস্ত্রীয় হরে কৃষ্ণ নাম। যার সাথে শ্রী হরির কোন সম্পর্ক নেই।

১৫. পারবেন সাদা-কালো -বাদামী-হলুদ বর্ণ বা
জাতিভেদ ভুলে মানুষ হিসেবে সকলকে একই
প্লাটফর্মে দাড় করাতে ?

উত্তরঃহা হা হা হা এটা সবথেকে আত্মঘাতী ছিল ফ্রবু! আপনাদের পুরান পাপী, মহা বদ ফ্রবুফাদ নিজেই বর্নবাদী ছিল প্রমান চান?
এই নিন মিলিয়ে দেখে নিন।

Prabhupada: Sudra is to be controlled only. They are never given to be freedom. Just like in America. The blacks were slaves. They were under control. And since you have given them equal rights they are disturbing, most disturbing, always creating a fearful situation, uncultured and drunkards. What training they have got? They have got equal right. That is best, to keep them under control as slaves but give them sufficient food, sufficient cloth, not more than that. Then they will be satisfied.

Room Conversation, October 5, 1975, Mauritius ‒

Prabhupada: So here, this man was cheating. Because here it is said: nrpa-linga-dharam. He was dressed like a king. Just like king is very gorgeously dressed. But his bodily feature, he was a black man. The black man means sudra.

Room Conversation, January 21, 1977, Bhuvanesvara ‒

Ramesvara: That’s the trend, then, everywhere, because unemployment is increasing.

Prabhupada: And especially in your country it will be dangerous because these blacks, if they don’t get employment, they will create havoc, these blacks. And they are not civilized. They want money, and if they don’t get money, then they will create havoc.
শুধু তাই না। নারী বিদ্বেষী অনেক অনেক কথা বা কমেন্ট এই বরাহ তার সারাজীবনে করে গেছে। প্রমান লাগলে ববেন কিন্তু ফ্রবু! তাই আর যাইহোক এই একজাতি বা সম-অধিকারের বুলি আপনার নোংরা পাপী মুখে মানায় না।

না , আপনি পারবেন না। এসব একমাত্র ইসকনই করতে
পারে।

উত্তরঃ কেন পারবো না? আমার আপনার পকেটে এরকম হিপ্পি পথভ্রষ্ট সাদাদের টাকা ভরে দিন। রিটার্ন অন ইনভেষ্টমেন্ট হিসাবে আপনি আমিও আমাদের নাম প্রচার করবো। টাকা সব পারে ফ্রবু! প্রমান আপনারা নিজে।

ইসকনকে পছন্দ করেন না ঠিক আছে।
কিন্তু দয়া করে তাঁদের নামে অপপ্রচার করবেন না।

উত্তরঃকোন অপ-প্রচার না। যা সত্যি তাই বলা হয়েছে।

সারা পৃথিবীর মানুষের মাথায় গোবর পুরা না।

উত্তরঃ হ্যাঁ । একদম ঠিক । তাই এখনও অনেক হিন্দু আছে যারা ইস্কন দেখতে পারে না।

ইস্কনের অনেক বিদেশী গুরু উচ্চ শিক্ষিত,
পিএইচডি ডিগ্রী ধারী। অনেক হিন্দু গুরু আমেরিকা
বা বৃটেনের সংসদে বক্তৃতা দেয়ার জন্য
আমন্ত্রিত হন।

উত্তরঃ বিল গেটস সহ অনেক ব্যাবসায়ীও অনেক জায়গায় বক্তৃতা দেন। এরমানে কি এই উনারা হিন্দু ধর্মের পন্ডিত? ভুগি চুগি মার্কা কথা বলার কিছু লিমিট থাকে। শিক্ষিত মানেই সচেতন না ফ্রবু! আমি ডাক্তার মানেই এই নয় যে আমি রসায়ন বুঝবো বা ফার্মেসি বিদ্যা জানবো। এরা উচ্চ শিক্ষিত হতে পারে। কিন্তু ধর্ম জানে না। যে দিন জানবে সেদিন আপনাদের ইস্কন ধসে পড়বে।

পারলে যুক্তি দিয়ে তাদের মুখেমুখি হন !
ধন্যবাদ

কেন? নিজেদের মুরদ নেই? যুক্তি দিয়েই বলেছি যা এতক্ষন বললাম। পাড়লে খন্ডান।

হর হর মহাদেব !

Saturday, February 15, 2020

মহাশিব রাত্রির পূজা পদ্ধতি

আজকাল অনেকেই দেখি সারাদিন উপোস করে যেকোন মন্দিরে গিয়ে ডাব আর জল দিয়ে শিবরাত্রীতে মন্দিরের শিবলিঙ্গে স্নান করিয়ে সমগ্র আয়োজন শেষ করে থাকেন। যা একদম ভুল ব্যাপার। সমগ্র সনাতন ধর্মে শুধুমাত্র এই একটি রাতকেই মহা পূন্যময় রাত আর এই পূজাকেই মহা বলে বিশেষায়িত করা হয়েছে। কারন , এই রাতেই প্রভু পরম প্রেমময় হয়ে ভক্তের সকল মনঃকামনা পূর্ণ করেন।  এই রাতে প্রভুকে ৪ প্রহরে পূজা দেবার নিয়ম। যেমনটা শিব বা লিঙ্গ পুরাণে বর্ণিত রয়েছে। এই ৪ প্রহরের মাঝে মাঝে বিভিন্ন বৈদিক ঋষিকৃত স্তব স্তোত্রাদি পাঠে রাতটি অতিবাহিত করতে হয় এবং পরেরদিন সকালে পারণের মাধ্যমে উপোস ভাংতে হয়।
অনেকেই বলেন শুধু ভাল স্বামীর আশায়ই শিব পূজা করতে হয় যা একদম সঠিক নয়। অনেকেই দেখি শিবকে বৈষ্ণব ভেবে ইস্কন সহ অন্যান্য আসুরিক সম্প্রদায়ের সাথে তাদের মতানুযায়ী শিবরাত্রী করেন। এতে মহাদেব পরমেশ্বর শিবের চরম অপমান করাই হয়ে থাকে।
যাইহোক, আর কথা না বাড়িয়ে আসুন জেনে নেই কিভাবে এই মহাশিব রাত্রীর পূজা করতে হবে।
প্রথমে জানবো অর্ঘ্য কি।
অর্ঘ্যঃ ছোট কুশীতে বেলপাতা, লাল ফুল (জবা না) , তিল, আতপ চাল, লাল চন্দন আর জলই হলো অর্ঘ্য।
যদি এতগুলো পাওয়া না যায়, তাহলে শুধু জল আর আতপ চাল হলেই হবে।
মন্ত্র পাঠ করে কুশীর জল শিবের মাথায় দিতে হবে।
প্রতি প্রহরেই অর্ঘ দিয়েই প্রতিবার নিচের মন্ত্র পড়ে এদের পুজা করতে হবে 





পূজা মানে প্রতি মন্ত্রে একটি ফুল নিয়ে মন্ত্র পড়ে পড়ে কোন পাত্রে বা তামার পাত্রে এই ফুল গুলো রেখে দিতে হবে । 

ওঁ এতে গন্ধে পুষ্পে ওঁ গৌর্যৈ নম
ওঁ এতে গন্ধে পুষ্পে গন পতয়ে নমো
ওঁ এতে গন্ধে পুষ্পে ব্রম্যাদষ্ট্য অষ্টমুর্তি গনেভ্য নমো
ওঁ এতে গন্ধে পুষ্পে অষ্টমুর্তিগনেভ্য নমো

ওঁ এতে গন্ধে পুষ্পে ওঁ বৃষভায় নমো
ওঁ এতে গন্ধে পুষ্পে ওঁ নন্দিকায় নমো
ওঁ এতে গন্ধে পুষ্পে শিবাদি সপরিবারায় সবাহনায় নমো


১ম প্রহরে স্নান

দুধ দিয়ে স্নান করাবেন


মন্ত্র: ওঁ হৌং ঈশানায় নমো: 
ওঁ ইদং স্নানীয় দুগ্ধং ওঁ হৌং ঈশানায় নমো 

অর্ঘ্য মন্ত্র : ওঁ শিবরাত্রি ব্রতং দেব পুজাজপ পরায়ণ:। করোমি বিধিবদ্দত্তং গৃহানার্ঘং মহেশ্বর।। এষোহর্ঘ্য ওঁ হৌং ঈশানায় নমো: 


২য় প্রহর

দই দিয়ে স্নান।

মন্ত্র: ওঁ হৌং অঘোরায় নম।এতৎ স্নানীয় দধনা ওঁ নমো শিবায় নমো।।


অর্ঘ্য মন্ত্রঃ ওঁ নমো শিবায় শান্তায় সর্বপাপহরায় চ। শিবরাত্রৌ দদামর্ঘ্যং প্রসীদ উময়া সহ।এষোহর্ঘ্য ওঁ হৌং অঘোরায় নমো।।


৩য় প্রহর

ঘৃত (ঘি) দিয়ে স্নান

ইদং স্নানীয় ঘৃতং ওঁ হৌং বামদেবায় নমো

অর্ঘ্য মন্ত্রঃ ওঁ দুঃখ দারিদ্র্য শোকেন দগ্ধোহহং পার্বতীপ্রিয়।শিবরাত্রৌ দদামর্ঘ্যং উমাকান্ত গৃহাণা মে। এষোহর্ঘ্য ওঁ বামদেবায় নমো



৪র্থ প্রহর

মধু দিয়ে স্নান করাবেন।

মন্ত্রঃ ইদং স্নানীয় মধুঃ ওঁ হৌং সদ্যোজাতায় নমো।।

অর্ঘমন্ত্রঃ ওঁ ময়া কৃতান্যনেকানি পাপানি হর-শংকর।শিবরাত্রৌ দদামর্ঘ্যং উমাকান্ত গৃহাণা মে।

এষোহর্ঘ্য ওঁ হৌং সদ্যোজাতায় নমোঃ।।

এছাড়াও ৪ প্রহরে আর কি কি দেয়া যায় তা নিম্নে দেয়া হল। 

প্রথম প্রহরঃ দুধ,দই,ঘি,মধু,শর্করা,গন্ধাদি,জলধারা,
আতপ,চাল,তিল,
পুষ্প,পদ্মপুষ্প,করবীপুষ্প,ধূপ,দ্বীপ,নৈবেদ্য,পক্কান্ন, শ্রীফল যুক্ত অর্ঘ্য,তাম্বুল।

দ্বিতীয় প্রহরঃ
চন্দন,তন্ডুল,যব,পুষ্প,পদ্মপুষ্প,লাড্ডু,বীজপূর ফল দ্বারা অর্ঘ্য,ধূপ,দীপ,পায়েস,
তাম্বুল।

তৃতীয় প্রহরঃ চন্দন,তন্ডুল,গম,মন্দারপুষ্প,ধূপ,দীপ,পিঠানানাবিধ শাক,নৈবেদ্য,কর্পূর দ্বারা আরত্রি ,দাড়িম্বযুক্ত অর্ঘ্য দান।

চতুর্থ প্রহরঃ চন্দন,তন্ডুল,মাষকলাই,মুগ,প্রিয়ঙ্গু,কদলী দ্বারা অর্ঘ্য।

প্রতি প্রহরে শঙ্খীপুষ্প,চম্পকপুষ্প,
জাতিপুষ্প, পঞ্চামৃত ইত্যাদি অর্পন করিবে। 
প্রতি প্রহরে জপ পূর্ব প্রহর অপেক্ষা দ্বিগুন হবে। প্রতি প্রহরে স্তোত্র, গীত,বাদ্য,নিত্য এবং নানা প্রকার গান করিবে।

রেফারেন্সঃশিবপুরাণ,জ্ঞানসংহিতা,অধ্যায়৭২।

Thursday, February 6, 2020

বৈষ্ণব মতবাদের ফাঁদে সমগ্র বাঙ্গালি হিন্দু সমাজ :


যিনি নারীর মুখ দেখেন না এবং নারীকে কোনোভাবেই ডাকেন না, চৈতন্যদেবের মতে তিনিই প্রকৃত বৈষ্ণব বা বৈরাগী। এই বিশ্বাস থেকেই চৈতন্যদেব তার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী ও মাকে পরিত্যাগ করেছিলো এবং এক বৃদ্ধা নারীর মুখ দেখা ও তাকে ডাকার অপরাধে চৈতন্যদেব, তার শিষ্য ছোট হরিদাসকে বর্জন করেছিলো ; এরপর এক বছর আশে পাশে ঘোরাঘুরি করার পরও চৈতন্যদেব তাকে ক্ষমা না করায় ছোট হরিদাস জলে ডুবে আত্মহত্যা করেছিলো এবং এই সংবাদ যখন চৈতন্যদেবের নিকট আসে, তখন চৈতন্যদেব বলেছিলো- ইহাই প্রকৃতি সম্ভাষণের প্রায়শ্চিত্ত।
এই সেই চৈতন্যদেব, যার জীবনাদর্শ মানলে পরিবার, সমাজ, সংসার, রাষ্ট্রের ধ্বংস অনিবার্য। কারণ, গার্হস্থ্য ধর্ম- যেটা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি, সেটা চৈতন্যদেবের বৈষ্ণব মতবাদে নেই। বৈষ্ণব মতবাদের মূল কথা হলো সংসার পরিত্যাগ করে মাধুকরী অর্থাৎ ভিক্ষার দ্বারা জীবিকা অর্জন; বৈষ্ণব মতবাদে বিয়ে শাদী, সংসার, সন্তানের জন্মদান বলে কিছু নেই।
চৈতন্যদেবের জন্ম ১৪৮৬ সালে, সমাজ সংসারে তার প্রভাব শুরু হয় মোটামুটি ১৫০০ সালের পর থেকে। হরিনাম প্রচারের নাম করে ২৪ বছর বয়সে চৈতন্যদেব, তার সদ্য বিবাহিতা দ্বিতীয় স্ত্রী বিষ্ণু প্রিয়া এবং মাকে পরিত্যাগ করে সংসার ছেড়ে চলে যান। অথচ হরিনাম প্রচারের জন্য সংসার পরিত্যাগ করতে হবে, এমন কথা সনাতন ধর্মের কোথাও বলা নেই। সনাতন ধর্মের প্রধান পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ, তিনিও কখনো এমন কথা কোথাও বলেন নি বা নিজে কখনো সংসার থেকে পালিয়ে বেড়ান নি, তাহলে চৈতন্যদেব কার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্ত্রী ও মায়ের প্রতি উত্তর দা্য়িত্বকে অবহেলা বা অবজ্ঞা করে সংসার ত্যাগ করেছিলেন ?
যা হোক, বাঙ্গালি হিন্দু সমাজের খুব কম হিন্দুই এটা জানে যে- প্রচলিত মতে বৈষ্ণব ধর্ম, যাকে আমি বলি কৃৈষ্ণব মতবাদ, সেটা সনাতন ধর্ম থেকে আলাদা। মুহম্মদের অনুসারীদের যেমন বলে মুসলমান, তেমনি চৈতন্যদেবের অনুসারীদেরকে বলে বৈষ্ণব বা বৈরাগী। এই বৈষ্ণব বা বৈরাগীদের কালচার, সনাতনী হিন্দুদের থেকে অনেকটা আলাদা; যেমন বৈরাগীরা কেউ মারা গেলে তাকে সনাতনী হিন্দুদের মতন পোড়ায় না, তাকে মাটিতে পুঁতে রাখে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় শ্রাদ্ধ করে না, দেয় চৈতন্যের নামে মহাপ্রভুর ভোগ। সনাতনী হিন্দুদের সাথে বৈষ্ণব সমাজের কালচারে এই দুটিই মূলত প্রধান পার্থক্য, কিন্তু এছাড়াও আরও কিছু সূক্ষ্ম ব্যাপার আছে যেটা বৈষ্ণব বা সনাতনী কেউ খুব একটা খেয়াল করে না। যেমন- বৈষ্ণব মতবাদে মূর্তিপূজা বলে কিছু নেই, কিন্তু বর্তমানে সব বৈষ্ণব ই সনাতনী সমাজের সাথে মিলে মূর্তিপূজা করে। বৈষ্ণবদের আরাধ্য চৈতন্যদেব এবং তার কয়েকজন পারিষদ যারা পঞ্চতত্ত্ব নামে খ্যাত, বৈষ্ণবরা মূলত এদেরই পূজা প্রা্র্থনা করে। বৈষ্ণব সমাজ, সনাতনী হিন্দু সমাজ থেকে আলাদা হতে পারে নি মূলত শ্রীকৃষ্ণের জন্য; কারণ, চৈতন্যদেবের আরাধ্য যেমন ছিলেন শ্রীকৃষ্ণ, তেমনি সনাতনী সমাজের আরাধ্যও শ্রীকৃষ্ণ।
হিন্দু সমাজে বৈষ্ণবরা আধিপত্য বিস্তার করেছে তাদের গুরুগিরি ব্যবসার মাধ্যমে। এই বৈষ্ণব গুরুদের প্রায় সবাই বিবাহিত, তাদের সংসার আছে, ছেলে মেয়ে আছে, যেটা চৈতন্যদেবের আদর্শের সম্পূর্ণ বিরোধী, তারপরও এরা নিজেদের বৈষ্ণব বলে দাবী করে এবং বৈষ্ণব মতবাদ সমাজে প্রচার করে!
চৈতন্যদেব- স্ত্রী ও সংসার পরিত্যাগ করেছিলেন, তিনি কোনো ছেলে মেয়েরও জন্ম দেন নি। তার কারণ তিনি
কাম অর্থাৎ যৌনতায় বিশ্বাস করতেন না। এজন্য তিনি উত্তেজক খাদ্য পরিহার করে নিরামিষ খাবার খেতেন। এই সূত্র ধরে চৈতন্য অনুসারীরা প্রচার করে যে কৃষ্ণভক্ত হতে হলে নিরামিষ খাবার খেতে হবে, এর জন্য তারা গীতার অপব্যাখ্যা করে বলে যে সাত্ত্বিক মানে নিরামিষ খাবার । কিন্তু গীতায় সাত্ত্বিক বলতে নিরামিষকে বোঝানো হয় নি, বরং গীতার ৯/২৭ নং শ্লোকে খাবার দাবারের ব্যাপারে চুড়ান্ত স্বাধীনতা দিয়ে বলা হয়েছে যে, “তোমরা যা কিছু আহার করো তা আমাকে নিবেদন করে আহার করো।” কিন্তু বৈষ্ণব সমাজ মানুষকে নিরামিষ খাওয়াতে বদ্ধ পরিকর।
আগেই বলেছি- তিনিই বৈষ্ণব, যিনি নারীর মুখ দেখেন না বা নারীকে ডাকেন না। নারী ছাড়া কোনো পরিবার গড়ে উঠে না, আর পরিবার ছাড়া সমাজ রচিত হয় না; এই সূত্রে পৃথিবীতে বৈষ্ণব সমাজ বলে আদৌ কিছু নেই। তাই জন্ম সূত্রে কারো বৈষ্ণব বা বৈরাগী হওয়ার সুযোগ নেই, যেহেতু তার পিতা মাতা বিয়ে করার অপরাধে বৈষ্ণব নয়। কিন্তু চৈতন্যদেবের অনুসারী বা ভক্তরা দেদারসে বিয়ে করছে, সন্তানের জন্ম দিচ্ছে, সংসার করছে, বিভিন্ন রকম মূর্তির পূজা করছে, যা সম্পূর্ণ সনাতনী কালচার- আর নিজেদেরকে ভাবছে বৈষ্ণব, এটা আসলে ভণ্ডামীর চুড়ান্ত রূপ।
অন্যদিকে সনাতনী হিন্দু সমাজের অনেকেই ছেলে মেয়ের মুখের ভাত বা অন্নপ্রাশন উপলক্ষ্যে, পিতা মাতার মৃত্যুতে বা অনেক সময় শখ বা খেয়ালের বশেও চৈতন্যের নামে মহাপ্রভুর ভোগ দিয়ে মানুষকে খাওয়ায়, আবার অনেক সময় অনেকে বছরে দু একবার বাড়িতে কীর্তনও দেয়, আর কীর্তনীয়ারা গিয়ে শুরু করে পঞ্চতত্ত্বের পূজা আর গাইতে শুরু করে- জয় গুরু গৌরাঙ্গ, জয় গুরু গৌরাঙ্গ, জয় গুরু গৌরাঙ্গ, জয় জয়; যেখানে শুধু গৌরাঙ্গ বা চৈতন্যেরই আরাধনা, শ্রীকৃষ্ণের কোনো কথাই নেই।




এই ভাবে সনাতনী হিন্দু সমাজ, বৈষ্ণব মতবাদের ফাঁদে পড়ে নিজেদের অজ্ঞাতেই চর্চা করছে বৈষ্ণব মতবাদের, যেখানে প্রধান চৈতন্যদেব, শ্রীকৃষ্ণ নয়। এছাড়াও বৈষ্ণবদের মিথ্যা প্রচারে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই প্রায় সকল হিন্দুই বিশ্বাস করে যে চৈতন্যদেব হলেন মহাপ্রভু। কিন্তু বাস্তবে মহাপ্রভু হলেন শ্রীকৃষ্ণ। এভাবে বৈষ্ণবরা সনাতনী হিন্দু সমাজকে আস্তে আস্তে বৈষ্ণব মতবাদে প্রায় কনভার্ট করে ফেলেছে। বৈষ্ণব মতবাদের এই ফাঁদে পড়ে আবার প্রায় সকল হিন্দু এটা বিশ্বাস করে যে চৈতন্যদেব হলেন কলিযুগের অবতার বা ভগবান এবং এর ফলে দ্বাপর যুগের অবতার শ্রীকৃষ্ণকে তারা ফলো করে না, ফলে বৈষ্ণব সমাজের কারণে সনাতনী হিন্দু সমাজ আস্তে আস্তে শ্রীকৃষ্ণ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, যা হিন্দু সমাজের সর্বনাশকে ডেকে আনছে; কারণ, আগেই বলেছি চৈতন্যদেব বা বৈষ্ণব মতবাদেক ফলো করলে আস্তে আস্তে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র ধ্বংস হতে বাধ্য, অন্যদিকে শ্রীকৃষ্ণের আদর্শের মাধ্যমে যে কোনো ব্যক্তি আত্মরক্ষা করে টিকে থাকতে এবং বাড়তে সক্ষম, যা সমাজ রক্ষার মূল ভিত্তি।
চৈতন্যদেবকে মহান করে তোলার জন্য বৈষ্ণবদের আরেকটি মিথ্যা প্রচার হলো চৈতন্যদেব কলিযুগের অবতার বা ভগবান, কলিহত জীবকে উদ্ধার করার জন্য তিনি এই ধরাধামে এসেছিলেন। আমরা যেহেতু কলিযুগের মানুষ, এবং যখন কোনো হিন্দু, চৈতন্যদেবের এই কলিযুগের অবতার বা ভগবান তত্ত্বে বিশ্বাস করে, তখন সে আর শ্রীকৃষ্ণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না, যেহেতু শ্রীকৃষ্ণ জন্ম নিয়েছিলেন দ্বাপর যুগে; এইভাবে তথ্য সন্ত্রাস করে এবং শ্রীকৃষ্ণের পাশে রাধাকে দাঁড় করিয়ে, শ্রীকৃষ্ণের চরিত্র সম্পর্কে নানা প্রশ্ন তোলার সুযোগ দিয়ে, বৈষ্ণবরা, যার মধ্যে আধুনিক ইসকনও অন্তর্ভূক্ত, এরা সনাতন হিন্দু সমাজের ফোকাস শ্রীকৃষ্ণের উপর থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে চৈতন্যদেবের উপর নিবদ্ধ করছে এবং হিন্দুসমাজের সুদূরপ্রসারী ক্ষতি করছে; কারণ, আগেই বলেছি বৈষ্ণব মতবাদ আসলে হিন্দু সমাজের ধ্বংসের পথ।
যা হোক, বিভিন্ন কারণে বিভিন্নভাবে চৈতন্যদেবের বৈষ্ণব মতবাদ সনাতনী হিন্দু সমাজে ঢুকে পড়ার ফলে সনাতনী হিন্দুরা যেমন বৈষ্ণব কালচারকে পালন করছে, তেমনিভাবে বৈষ্ণব নামধারীরাও চৈতন্যদেবের নামে মহাপ্রভুর ভোগ দেওয়া এবং মৃত্যুর পর লাশ না পোড়ানো ছাড়া আর অন্য সকল ক্ষেত্রে সনাতনী কালচার পালন করছে। এর ফলে হিন্দু সমাজের সবাই যেমন এক দিক থেকে বৈষ্ণব, তেমনি বৈষ্ণব সমাজেরও কেউ বৈষ্ণব নয়, সবাই সনাতনী হিন্দু। মূলত চৈতন্যদেবের বৈষ্ণব মতবাদ, সনাতনী হিন্দু সমাজে ছড়িয়ে পড়ার ফলে, বৈষ্ণব ও সনাতনী মিলে একটা জগাখিচুড়িতে পরিণত হয়েছে, ফলে এখানে আর কারোরই কোনো বিশুদ্ধতা নেই।
বাস্তবতার কারণে- শুধু বৈষ্ণবরা নয়, পৃথিবীর সকল মানুষ সনাতনী কালচার পালন করে বা পালন করতে বাধ্য, কিন্তু হিন্দু সমাজে বৈষ্ণবদের ধর্মীয় আধিপত্যের কারণে প্রায় সকল হিন্দু চৈতন্যদেবকে কলিযুগের অবতার বা ভগবান মনে করে এবং নিজেদের মুক্তি বা উদ্ধারের জন্য চৈতন্যের শরণাপন্ন হয়ে তার নামে কারণে অকারণে ভোগ দেয় এই মনে করে যে তারা ধর্মপালন করছ। কিন্তু বাস্তবে চৈতন্যদেবকে অবতার বা ভগবান মনে ক’রে, যিনি কৃষ্ণ তিনিই চৈতন্য এই মিথ্যা থিয়োরিতে বিশ্বাস ক’রে, শুধু বৈষ্ণবরাই নয়, সমগ্র হিন্দু সমাজ এক ভীষণ পাপ করছে এবং এটা তারা করছে বৈষ্ণব মতবাদের ফাঁদে পড়ে। সমগ্র হিন্দু সমাজকে যতক্ষণ এই বৈষ্ণব মতবাদের ফাঁদ সম্পর্কে সচেতন করা না যাবে বা তাদেরকে এই বৈষ্ণব মতবাদ থেকে রক্ষা করা না যাবে, ততক্ষণ হিন্দু সমাজের অধঃপতন কেউ ঠেকাতে পারবে না।
জন্মসূত্রে যে সব অবৈষ্ণব, বৈষ্ণবদের মিথ্যা প্রচারে বিশ্বাস করে চৈতন্যদেবকে কলিযুগের অবতার বা ভগবান মনে করে এবং নিজের আত্মার মুক্তি বা উদ্ধারের জন্য সারাক্ষণ চৈতন্য ভজনায় রত থাকে, তাদের ক্ষেত্রে একটা মজার ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়, আর তা হলো- সারাজীবন এরা বৈষ্ণব সেজে থাকার পরও নামের শেষে দাস বা মহন্ত লাগায় না এবং মৃত্যুর পর তাদেরকে না পুড়িয়ে সমাধিস্থ করে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে যায় না। এই ধরণের ব্যক্তিদেরকে যদি বলা হয় যে- আপনি তো সারাক্ষণ চৈতন্য বা গৌরাঙ্গ ভজনায় মেতে থাকেন, তো আপনি কি বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহণ করেছেন বা বৈরাগী হয়েছেন বা মারা যাওয়ার পর কি আপনাকে দাহ না করে সমাধিস্থ করা হবে ?
তখন দেখবেন এদের আসল রূপ, বলবে- বৈরাগী হবো কেনো বা বৈরাগীদরে মতো আমাকে সমাধিস্থ করা হবে কেনো ? এরা আসলে জানেই না যে বৈষ্ণব মতবাদ এবং সনাতন ধর্ম প্রকৃতপক্ষে আলাদা দুটো ব্যাপার। শ্রীকৃষ্ণকে ছেড়ে বা শ্রীকৃষ্ণকে পাশে রেখে যখন কেউ চৈতন্যদেবকে তার উদ্ধারকর্তা হিসেবে ধরে নিয়ে চৈতন্যদেবের ভজনা শুরু করে, তখন সে আর সনাতনী থাকে না, হয়ে যায় বৈষ্ণব; খুব কম হিন্দুই এই তত্ত্ব জানে, আর এটাই আসলে বৈষ্ণব মতবাদের ফাঁদ, যে মতবাদের ফাঁদে পড়ে প্রায় সকল হিন্দু কম বেশি বৈষ্ণব মতবাদের চর্চা করে চলেছে এবং এর ফলে দু চার জন সনাতনী হিন্দু বৈষ্ণব মতবাদকে গ্রহন করে নিজেদের নামের পাশে দাস/মহন্তও লাগাচ্ছে, এই ঘটনা ঘটেছে আমার পাশের গ্রামেই এবং আমার থানার পাশের থানার একটি ঋষি/মাটিয়াল অধ্যুষিত গ্রামের সবাই বৈষ্ণব মতবাদ গ্রহণ করে বৈরাগী হয়ে গেছে, তারা এখন এত উচ্চ মাত্রার বৈরাগী যে সবার হাতে অন্ন এবং জল খান না এবং বৈরাগী ছাড়া অন্য কারো সাথে নিজেদের ছেলে মেয়ের বিয়ে পর্যন্ত দেন না।
কাগজে কলমে এইভাবে বৈষ্ণব হওয়ার হার যদিও খুবই কম, কিন্তু যারা ইসকনে সক্রিয়ভাবে যোগ দিচ্ছে, তাদের নামের পাশে তো দাস লাগানো বাধ্যতামূলক; এই ভাবে বৈষ্ণব মতবাদ, আস্তে আস্তে সমগ্র হিন্দু সমাজকে গিলে খাওয়ার চেষ্টা করছে এবং কারণে অকারণে সব হিন্দুকে নিরামিষ খেতে উদ্বুদ্ধ করে বা বাধ্য করে, তাদের কাম ক্রোধ কমিয়ে, গার্হস্থ্য ধর্মের প্রতি তাদেরকে উদাসীন বা বিরাগী করছে, এর ফলে আস্তে আস্তে সমগ্র হিন্দু সমাজ জনসংখ্যা হারিয়ে বিলুপ্তির পথে এগিয়ে চলেছে এবং শক্তি হারিয়ে অসুর জাতের সাথে লড়াইয়ে টিকতে না পেরে জন্মভূমি ত্যাগেও বাধ্য হচ্ছে। আর এর সবই ঘটছে সনাতনী হিন্দু সমা্জের উপর বৈষ্ণব মতবাদের অশুভ প্রভাবের ফলে। গত ৪/৫শ বছর ধরে বৈষ্ণব মতবাদ এইভাবে সনাতনী সমাজের ক্ষতি করে চলেছে, তাই এখনই যদি এ সম্পর্কে সকল হিন্দু সচেতন না হয় এবং বৈষ্ণব মতবাদকে যদি রুখতে না পারে, বৈষ্ণব মতবাদের ফাঁদে পড়ে সমগ্র সনাতনী হিন্দু সমাজ বিলুপ্ত হতে বাধ্য।

Tuesday, February 4, 2020

কৃষ্ণ মহাদেবকে যুদ্ধে হারিয়েছিলেন ! কৃৈষ্ণবদের এই দাবীর খন্ডন।

ইস্কনি কৃৈষ্ণব আর বৈষ্ণবরা প্রায়ই ভাগবতে কৃষ্ণ আর মহাদেবের যুদ্ধের রেফারেন্স দিয়ে বলে, মহাদেবকে কৃষ্ণ হারিয়েছিল তার কৃষ্ণই শিবাপেক্ষা অধিক শক্তিশালী।
আসলে ওরা জানে না এর উত্তর মহাভারতেই দাওয়া আছে। মহাভারতে গুরু দ্রোণ আর পিতামহ ভীষ্ম যখন উভয় পক্ষের যোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনা করেন তখন বলেন, "কৃষ্ণার্জুন দ্বৈতকে শুধুমাত্র শিবই হারাতে পারে।" যদিও কর্ণ এবং দুর্যোধন এর বিরোধিতা করে।
কিন্তু জানেন কি শিব কুরুক্ষেত্রে কৃষ্ণার্জুন এর (একই সাথে পক্ষে এবং) বিপক্ষে যুদ্ধকরেন। হ্যা, অশ্বত্থামার কথা বলছি। তিনি শিব তথা রুদ্রের অবতার ছিলেন। তার সম্পর্কেও ভীষ্ম পিতামহ বলেন তার মত যোদ্ধা উভয় পক্ষের কেউই নেই। কিন্তু তিনি নিজের প্রাণের মোহ ত্যাগ করতে পারেন না, যদি তিনি তা ত্যাগ করতে পারেন তবে তাকে আটকে পারবে না।
আশ্চর্য হতে পারেন, অশ্বত্থামা যুদ্ধে ছিলেন তবুও কেন পাণ্ডবরা জয়ী হলো? এর উত্তরটা মনে রাখুন এর উত্তরেই বৈষ্ণবদের প্রশ্নের জবাব আছে।
কুরুক্ষেত্রে কৃষ্ণার্জুনের বিপক্ষে বিভিন্ন দৈবাস্ত্র প্রয়োগ করেও আশ্বত্থামা অবাক হলেন যে তার বাণ থেকে নির্গত কোন দৈবাস্ত্রই তাদের স্পর্শ করছে না, কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। এদেখে তিনি বুঝতে পারলেন যে কৃষ্ণার্জুন দ্বৈত সাধারণ কেউ নয়। তিনি তার রথ ঘুরিয়ে সরস্বতী নদীর তীরে নিয়ে বেদব্যাসকে প্রশ্ন করলে ভগবান তাকে তার রহস্য উন্মোচন করেন।
বেদব্যাস বলেন, "কৃষ্ণার্জুন আগের জন্মে নর-নারায়ণ ঋষি ছিলেন। তারা মহাশিব ভক্ত ছিলেন। তারা ঘোর তপস্যা করে শিবের থেকে বর লাভ করেন। ভগবান শিব তাদের বরদেন যে তারা সর্বদাই যুদ্ধে বিজয়ী হবেন, এমনকি শিবের সাথে যুদ্ধ করলেও তারাই জয়ী হবে। অশ্বত্থামা নিজে রুদ্রাবতার, তাই তার হাতের কোন দৈবাস্ত্র কৃষ্ণার্জনের কোন ক্ষতি করে না।"
বুঝলেন তো কার বলে কৃষ্ণ জগতজয়ী, আর তার ভক্তরা করে বেড়ায় শিবনিন্দা। প্রমাণ নিম্নে বর্ণিত একদম রেফারেন্স সহ।




অর্জুন উবাচঃ
_____________
"সংগ্রামে ন্যহনম শত্রুন্সুরুঘইরবিমলৈরহম।
অগ্রতো লক্ষ্যয়ে যান্তম পুরুষম পাবকপ্রভম।। ৪
জ্বলন্তম শূলমুদ্যম্য যা দিশম প্রতিপদ্যতে।
তস্যা দিশি বিদির‍্যান্তে শত্রভো মে মহামুনে।। ৫
তেন ভগ্নানরিসর্বন্মদ্ভগনান্মন্যতে জনহ্।
তেন ভগ্নানি সৈন্যানি প্রস্থতো নুব্রজাম্যহম।। ৬
ভগবমস্তন্মমাচাক্ষব কো বৈ স পুরুষোত্তমঃ।
শূলপাণির্ময়া দ্রষ্টস্তেজসা সূর্য্যসন্নিভিঃ।। ৭
ন পদ্ভয়া স্প্রশতে ভূমি না চ শূলম বিভুঞ্চতি।
শূলাচ্ছূলসহস্রানি নিষ্পেতুসতস্য তেজসা।।"৮
~ মহাভারত (৭/২০২ঃ৪-৮)
অনুবাদঃ
__________
" হে মহামুনি, যুদ্ধের সময় একদিন লক্ষ্য করলাম যে আমার রথের অগ্রে এক উগ্র অগ্নি সদৃশ পুরুষ বিচরণ করছেন,তাঁর হাতে জ্বলন্ত শূল, মনে হচ্ছিলো যেন সূর্য্য ও অগ্নির সকল তেজ তাঁর শরীরেই পুঞ্জীভূত হয়েছে। আমার অস্ত্রসমূহের অনেক পূর্বে গিয়েই তিনি আমার শত্রুদের বধ করে রাখছিলেন। আমার অস্ত্রগুলো কেবল শত্রুদের মৃত শরীরে আঘাত করছিল। সেই পুরুষের পদতল ভূমি স্পর্শ করছিল না। হে ঋষি, আমাকে বলুন উগ্রতেজস্বী সেই পুরুষোত্তম কে ছিলেন?"
মহর্ষি বেদব্যাস পরবর্তী ২ শ্লোকে অর্জুনের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বলছেনঃ
ব্যাস উবাচঃ
_____________
"শূলপাণিমহাকর্ষণ তেজসা সূর্য্যসন্নিবাহঃ।
প্রজাপতিনা প্রথমম তৈজসম,পুরুষম প্রভুম।
ভুবনাম ভূর্ভূবম দেবম সর্বলোকেশ্বরম প্রভুম।। ৯
ঈশানাম বরদাম পার্থ দ্রষ্টবানসি শঙ্করম।
তম গচ্ছ শরণম দেবার্মম বরদম ভূবনেশ্বরম।।" ১০
~ মহাভারত (৭/২০২:৯-১০)
অনুবাদঃ
___________
"বৎস ! তুমি শূলহস্তা যে তেজস্বী পুরুষকে দেখেছ তিনি ভগবান শঙ্কর, যার থেকে প্রজাপতিগণের সৃষ্টি হয়েছিলো। ইনি ত্রিভুবনকে ধারণ করেন তাই সর্বলোকের ঈশ্বর ও প্রভু।তাই এনাকে ঈশানও বলা হয়।হে পার্থ তুমি সেই অভীষ্ট বর প্রদানকারী ভগবান ভুবনেশ্বরের শরণাপন্ন হও।"
বস্তুতঃ যজুর্বেদের শ্রীরুদ্রমের নিম্নোক্ত মন্ত্রেই ভগবান রুদ্রদেবকে এই বলে স্তুতি করা হয়েছে যে তিনি তাঁর ভক্তদের সকল শত্রুদের পূর্বেই বধ করে রাখেন।
"নমো অগ্রেবধায় চ, দূরে বধায় চ।।"
~ যজুর্বেদ (৪/৫/৮)।
অনুবাদ ;
"সেই রুদ্রদেবকে নমষ্কার যিনি ভক্তের আগে গিয়ে শত্রুকে সংহার করেন এবং দূরে থেকে শত্রুর মনোবল হরণ করেন।।"

Sunday, February 2, 2020

ভাগবত পুরান এর কিছু তথ্য

শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ এটা কবে রচিত? এটা কি কৃষ্ণদৈপরায়ণ ব্যাসদেব রচনা করেছেন? এরস্কন্ধ, অধ্যায় ও শ্লোক সংখ্যকত?


উত্তর- বেশীর ভাগ হিন্দুরাই বলবে এটা কৃষ্ণদৈপরায়নব্যাসদেব রচনা করেছেন মহাভারতেরযুগে এবং এতে শ্লোক সংখ্যা১৮হাজার। প্রমাণ হিসেবে তারা ঐগ্রন্থের একটি শ্লোক দেখিয়েপ্রমাণের চেষ্টা করবে। শ্লোকটাএকটু দেখেনি-


"অষ্টাদশ শ্রী ভাগবত মিষ্যতে" শ্রীমদ্ভাগবত ১২।১৩।৯.

অর্থাৎ ভাগবতে মোট ১৮০০০শ্লোক আছে।

এবার আমার কথাগুলো মনোযোগদিয়ে পড়ুন, আশা করি অনেক নতুনতথ্য পাবেন।




এর শ্লোক সংখ্যা কখনোই ১৮০০০ নয়, কেননা গণনা করলে এতে মাহাত্মসহ মোট ১৪৭৬৪টা শ্লোক (প্রায়) পাওয়া যায়। মানে এই গ্রন্থে ভেজাল আছে এটা ১০০ ভাগ নিশ্চত।এখন বলতে পারে যে আমার কথাটাযে ঠিক তার প্রমাণ কি??? কথাটা অযোক্তিক নয়, তাই আপনাদেরজন্য প্রমাণ উপস্থাপন করলাম।যারা যাচাই করতে চান তারা রামকৃষ্ণমিশন থেকে গীতাপ্রেস এর শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ কিনে যাচাই করে নিবেন-মোট স্কন্ধ ১২টা।মোট অধ্যায় ৩৩৫টা,মাহাত্য সহ মোট অধ্যায় ৩৪৫টা। মোট শ্লোক সংখ্যা ১৪০৬১টা,মাহাত্য সহ মোট শ্লোক ১৪৭৬৪টা।অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন কোনস্কন্ধে কতটা অধ্যায় ও শ্লোকআছে ??? তাই সেটাও দিলাম আপনাদের জানার জন্য-
১ম স্কন্ধে ১৯টি অধ্যায় ও ৮০৯টাশ্লোক আছে।
২য় স্কন্ধে ১০টি অধ্যায় ও ৩৯১টাশ্লোক আছে।

৩য় স্কন্ধে ৩৩টি অধ্যায় ও ১৩১৭টাশ্লোক আছে।
৪র্থ স্কন্ধে ৩১টি অধ্যায় ও১৪৪৫টা শ্লোক আছে।
৫ম স্কন্ধে ২৬টি অধ্যায় ও ৬৬৮টাশ্লোক আছে।
৬ষ্ঠ স্কন্ধে ১৯টি অধ্যায় ও ৮৫১টাশ্লোক আছে।
৭ম স্কন্ধে ১৫টি অধ্যায় ও ৭৫০টাশ্লোক আছে।
৮ম স্কন্ধে ২৪টি অধ্যায় ও ৯৩১টাশ্লোক আছে।
৯ম স্কন্ধে ২৪টি অধ্যায় ও ৯৬৪টাশ্লোক আছে।
১০ম স্কন্ধে ৯০টি অধ্যায় ও৩৯৪৮টা শ্লোক আছে।
১১দশ স্কন্ধে ৩১টি অধ্যায় ও১৩৬৭টা শ্লোক আছে।
১২দশ স্কন্ধে ১৩টি অধ্যায় ও৫৬৬টা শ্লোক আছে।

মানে মাহাত্ম বাদে অধ্যায়৩৩৫টা ও শ্লোক ১৪০৬১টা। শুরুতে মাহাত্ম্যমে অধ্যায় আছে ৬টিও শ্লোক আছে প্রায় ৫০৪টা। শেষের মাহাত্ম্যমে অধ্যায় আছে ৪টিও শ্লোক আছে প্রায় ১৯৯টা।মানে মাহাত্ম্যমসহ অধ্যায় প্রায়৩৪৫টা ও মাহাত্ম্যমসহ শ্লোকআছে প্রায় ১৪৭৬৪টা।মানে এই গ্রন্থ পুরোটাই ভেজালে পরিপূর্ণ। আর এটা কোনসনাতন ধর্মের শাস্ত্রই না । এবং শ্রী ব্যাস রচিত না।

কাজেই এইসব নব্য কৃৈষ্ণবদের রচিত গ্রন্থ থেকে সাবধান থাকবেন।
হর হর মহাদেব। 

Thursday, January 23, 2020

সামুদ্রিক শাস্ত্রে আমাদের হাতের আঙুল

প্রবাদে আছে, চোখ নাকি মনের আয়না! কিন্তু অনেকেরই জানা নেই, হাতের গড়ন দেখেও একজন মানুষ সম্বন্ধে অনেক কিছু জানা যায়।বৃদ্ধাঙ্গুল ছাড়া বাকি চারটে আঙুল, তর্জনী, মধ্যমা, অনামিকা আর কনিষ্ঠা - প্রত্যেকটি একেকটি গ্রহের প্রতিনিধি। এই আঙুলের আকার-প্রকারের বিভিন্নতা মানুষের চরিত্রেও ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
আঙুলের গড়ন দেখে মানুষ চেনার আগে জেনে নিন, কোন আঙুল কোন গ্রহের প্রতিনিধি। তর্জনী - গুরু বা বৃহস্পতি, মধ্যমা - শনি, অনামিকা - রবি বা সূর্য আর কনিষ্ঠা - বুধ গ্রহের প্রতীক।

★ তর্জনী -- এই আঙুল মানুষের উচ্চাকাঙ্খা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা আর 'অহম'-এর প্রতীক। এর সাহায্যে কে, কতটা ভাগ্যবান এবং কাজে উন্নতি করবে তা-ও জানা যায়। তর্জনী সাধারণত উচ্চতায় মধ্যমা-র মধ্যভাগ-কে ছুঁয়ে থাকে। কারও আঙুল এর থেকে সামান্য লম্বা হলে বলা হয়, তার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। আর তার বৃহস্পতি গ্রহ খুবই শক্তিশালী। আঙুল ছোটো হলে অন্যের দেখানো পথে চলতে কিংবা একা কাজ করতে ভালোবাসে সেই মানুষটি। তর্জনী স্বাভাবিকের থেকে বেশি বড়ো হলে সব বিষয়ে অবহেলা ও ঔদ্ধত্য বেড়ে যায়। আর ছোটো হলে এই বৈশিষ্ট্যগুলোই আর থাকে না। তর্জনী বাঁকা যার, সে খুব চালাক, স্বার্থপর আর খল প্রকৃতির। এই আঙুলের ঠিক নীচেই বৃহস্পতির অবস্থান। গ্রহটি হাতে পূর্ণভাবে বিকশিত (উঁচু) হলে মানুষের মধ্যে নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা, নীতিপরায়ণতা ও আত্মাভিমান দেখা যায়। বেশি উঁচু হলে অহঙ্কারী, রাগী, ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে ওঠে। নীচস্থ হলে বৃহস্পতির কোনও মৌলিক গুণ ব্যক্তির মধ্যে দেখা যায় না।
★ মধ্যমা -- এই আঙুলের নীচে শনি গ্রহের অবস্থান। এটি সত্য, ন্যায়পরায়ণ, নিয়মানুবর্তিতার প্রতীক। অন্যান্য আঙুলের চাইতে তুলনায় একটু বেশি বড়ো হলে ব্যক্তিটি দায়িত্ববান, গভীর ব্যক্তিত্বশালী এবং উচ্চাকাঙ্খী হবে। আঙুলের উচ্চতা বেশি হওয়া মানে একাকীত্ব পছন্দ। এবং অনেক সময় বাজে কাজেও জড়িয়ে পড়তে পারে। উচ্চতায় ছোটো হলে অলস প্রকৃতির হয়। মধ্যমার প্রথম ভাগ লম্বা হলে আধ্যাত্মবাদের প্রতি আগ্রহ থাকবে। আঙুলের মধ্য ভাগ লম্বা হলে রসায়ন, লোহা সহ নানা ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যবসায়-র সঙ্গে যুক্ত থাকবে। তৃতীয় ভাগ লম্বা হলে সেই ব্যক্তি চালাক, স্বার্থপর হয়। খারাপ কাজের সঙ্গে ষুক্ত থাকে। আঙুলের নীচে স্থিত শনিগ্রহের অবস্থান উঁচুতে হলে সেই মানুষ জ্ঞানী হয়। বিচারশক্তির ক্ষমতা প্রবল থাকে এবং ইন্দ্রিয় নিজের বশে থাকে।
★ অনামিকা -- এই আঙুল রবি-র ধারক। এটি আমাদের যশ লাভ, বুদ্ধি ও সৃষ্টিশীল কাজ করতে সাহায্য করে। তর্জনী-র থেকে অনামিকা লম্বা হলে সেই ব্যক্তির যে কোনও বিষয়ে ঝুঁকি নেওয়ার অদ্ভূত ক্ষমতা থাকে। এছাড়া, ফ্যাশন বা ছবির জগতে কাজ করার আগ্রহ দেখা যায়। লম্বায় ছোটো হলে সব অবস্থাতেই সে সন্তুষ্ট। যশ লাভের খুব ইচ্ছাও তার থাকে না। যদিও তর্জনী থেকে অনামিকা লম্বায় ছোটো খুব কমই দেখা যায়। অনামিকার নীচে অবস্থিত রবি গ্রহ পূর্ণ মাত্রায় (উঁচু) থাকলে সব কাজেই সাফল্য, যশ, প্রতিষ্ঠা আসে। ব্যক্তিটি পরিশ্রমী হয় এবং ব্যবসায় উন্নতি করে। ধার্মিক হলেও ধর্মান্ধ হয় না। নিজের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল থাকে। এরা যেমন চট করে রেগে যায় তেমনি আবার খুব তাড়াতড়ি শান্তও হয়।
★ কনিষ্ঠা -- বুধ গ্রহের ধারক এই আঙুল। এর মাধ্যমে ব্যক্তির বাকপটুতা, জ্ঞান, বুদ্ধি ও চাতুর্য বোঝা যায়। কণিষ্ঠা অনামিকার প্রথম ভাগের সমান এর উচ্চতা হলে যে কোনও বিষয়েই ব্যক্তির অভিব্যক্তি কম প্রকাশ পায়। ভাবনা এবং কথায় নিজের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ছেলেমানুষী স্বভাবে এর আরও একটি বৈশিষ্ট্য। আর লম্বা হলে আই কিউ তীক্ষ্ণ হয়। খুব ভালো লেখক ও সুবক্তা হয়। কনিষ্ঠা-র নীচু ভাগ চওড়া মানেই খুব বিলাসী।
এছাড়াও, হাতের আঙুলগুলি থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তির মনের ইচ্ছা, আয়ু সম্বন্ধেও জানা যায়। যেমন, যে কোনও আঙুলের অগ্রভাগ দেখে সেই ব্যক্তির ইচ্ছাশক্তি, দ্বিতীয় ভাগ তর্ক করার ক্ষমতা জানা যায়। আঙুলগুলি টান টান সোজা মানেই মানুষটি প্রচণ্ড কঠোর ও জেদি হবেই। এই ধরনের মানুষ অত্যন্ত বিশ্বাসী হলেও কঠোর ও জেদি স্বভাবে জন্য বেশি বন্ধু থাকে না।
আবার হাতের আঙুল খুব নরম মানেই সেই ব্যক্তি অত্যন্ত খরুচে। তবে সহজে এই লোককে বিশ্বাস না করাই ভালো। জেদি হওয়ায় এদের বন্ধুর সংখ্যা কম। নরম মানসিকতার জন্য অনেকেই বন্ধুত্বের আগ্রহ দেখায়। যদিও এরা কঠিন কাজ বা দায়িত্ব নিতে পারে না। বোহেমিয়ন স্বভাবের জন্য এরা নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনাও নিতে পারে না।
হাত মেলে ধরার সময় যাদের সব আঙুল ৬০ ডিগ্রি-র কোণে খোলা যায় না তারা জ্ঞানী ও কর্ম নিপুণ হয়। যাদের ৯০ ডিগ্রি কোণ পর্যন্তু খোলে তারা অনায়েসে ঝুঁকি নিতে পারে। ১২০ডিগ্রি কোণের আঙুলধারীরা সব সময় অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে অভ্যস্ত। আঙুলের গঠন কোমর-এর মতো হলে সেই ব্যক্তি তর্কে পারদর্শী হলেও শারীরিক সুস্থতা কম থাকে।
আঙুলের ডগা ছুঁচালো হলে প্রখর বুদ্ধিমান হবে। আঙুল আগা-গোড়া চওড়া হলে প্রচণ্ড জেদি হবে। আঙুলের ডগা চৌকো হলে বাজে কাজে জড়িয়ে জেলে যাওয়ারও অসম্ভব নয়। যদিও এরা খুবই বাস্তব মেনে থাকে।

Tuesday, January 7, 2020

মন্ত্র' গুণে দাম্পত্য সুখ

ঝগড়া, মান-অভিমান ছাড়া আবার স্বামী-স্ত্রী-র সম্পর্ক হয় নাকি! তা বলে কোনও জিনিসটাই তো বেশি ভালো নয়। এমন অনেক দম্পতি আছেন, যাঁরা মানসিক শান্তি বিসর্জন দিয়ে কেবল লোকলজ্জা বা সমাজের ভয়ে দীর্ঘদিন এক ছাদের তলায় বাস করে যাচ্ছেন। এটা একেবারেই কাম্য নয়। রোজের দাম্পত্য-কলহ এড়িয়ে বৈবাহিক সম্পর্ককে সুখী করার জন্য এমন কিছু মন্ত্র রয়েছে যা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উপকার মেলে।
-
রোজ যাঁদের মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকে তাঁরা সূর্য ওঠার আগে স্নান সেরে প্রতিষ্ঠিত শিব মন্দিরে গিয়ে মন্ত্র জপ করতে করতে শিব লিঙ্গে নিয়মিত জল ঢালুন। মন্ত্রটি হল -----
-
'ওং নমঃ সম্ভবায় চ ময়ো ভবায় চ নমঃ।
শংকরায় চ ময়স্করায় চ নমঃ শিবায় চ শিবতরায় চ।।'
-
এবং প্রতি সোমবার ভোরে স্নান সেরে 'ওঁ সোমেশ্বরায় নমঃ' মন্ত্র জপ করতে করতে শিবলিঙ্গের মাথায় দুধ মিশ্রিত জল ঢাললেও উপকার পাওয়া যাওয়া। জল ঢালার পর মন্দিরে বসে রুদ্রাক্ষের জপমালা নিয়ে দেবাদিদেব মহাদেবের স্মরণ নিন। পাঁচটি নারকেল শিবমূর্তির সামনে রেখে জপ করুন-- 'ওঁ শ্রী বর প্রদায় শ্রী নমঃ' মন্ত্র। স্ফটিক বা রুদ্রাক্ষের জপমালা হাতে নিয়ে এই মন্ত্র মোট পাঁচ মালা (জপের সময় জপমালার সমস্ত রুদ্রাক্ষ গুণতে হবে। পুরোটা একবার গোণা হলে এক মালা গোণা হল। জপ শেষে নারকেল দেবতার উদ্দেশ্য নিবেদন করুন। (এক মালা = ১০৮ বার)
-
আবার অনেকের মধ্যে ঝগড়া-ঝাঁটি তেমন না হলেও মতের মিল হয় না কখনও। সকালে স্নান সেরে দেবী দুর্গার ছবির সামনে প্রদীপ, ধূপ আর ফুল দিন। এরপর নীচে বলা মন্ত্র ১০৮ বার জপ করুন। ভক্তি ভরে নিয়ম মানলে ২১ দিনের মধ্যে সুফল পাওয়া সম্ভব।
-
মন্ত্র -----
'ধাং ধীং ধুং ধূর্জটে পত্নী
বাং বীং বূং বাগধীশ্বরী।
ক্রাং ক্রীং ক্রূং কালিকা দেবী
শাং শীং শূং মেং শুভং কুরু।।
-
দুঃখ-দারিদ্র্যে জর্জরিত? বা পারিবারিক কলহ রাতের ঘুম কেড়েছে? অর্থের কারণে রোজের দাম্পত্য-কলহ বৈবাহিক সম্পর্ককে কলুষিত করছে? তা হলে এই দুর্গা মন্ত্র জপ করলে সমস্ত বিপত্তি দূর হবে। পরিবারে সুখের বাস হবে।
-
দারিদ্রতা এবং দুঃখ ইত্যাদি দূর করতে মন্ত্র ------
-
দুর্গে স্মৃতা হরসি ভীতিমশেষজন্তোঃ
স্বস্থৈঃ স্মৃতা মতিমতীব শুভাং দদাসি।
দারিদ্র্যদুঃখভয়হারিণি কা ত্বদন্যা সর্বোপকারকরণায় সদার্দ্রচিত্তা।।
-
***প্রত্যেক দিন শ্রী শ্রী চণ্ডীর 'কুঞ্জিকা স্তোত্রম্' পাঠ করতে ভুলবেন না যেন।

'অচিন্ত্যভেদাভেদ' পদের কতিপয় যৌক্তিক অসঙ্গতি বিংশ শতাব্দীর অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি পর্যালোচনা

  ভূমিকা গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনের কেন্দ্রীয় মতবাদ হলো 'অচিন্ত্যভেদাভেদ'। শ্রীচৈতন্যের ভাবধারা থেকে উদ্ভূত এই দার্শনিক অবস্থানটি ঈশ্...

Popular Posts