Saturday, April 18, 2026

।। বৈষ্ণব শাস্ত্রে পশুবলির প্রাধান্য ।।


সর্বপ্রথম দেখি বৈষ্ণবদের প্রধান শাস্ত্র ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ কি বলে বলি নিয়ে :-

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ :-

বিষ্ণু বলছেন,

‘নর বলিদানে সহস্রবর্ষ, মহিষ বলিদানে শত বর্ষ, ছাগ বলিদানে দশ বর্ষ, মেষ পক্ষী হরিণ ও কুষ্মাণ্ড বলিদানে একবর্ষ......... ভগবতী দুর্গাদেবী বলিদাতা পূজকের প্রতি প্রসন্না হয়ে থাকেন।’ (ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ প্রকৃতি খণ্ড ৬৪/৯২-৯৩-৯৪)

হে নারদ, আষাঢ়ী সংক্রান্তিতে যে ব্যক্তি ভক্তি পরায়ণ হয়ে যত্ন সহকারে মনসাদেবীর আবাহন করিয়া তাঁহার পূজা করে ও যে ব্যক্তি পঞ্চমীতে সেই দেবীর উদ্দেশ্য বলি প্রদান করে সেই সেই ব্যক্তি ধনবান্, পুত্রবান্ ও কীর্তিমান্ হয়।’ (ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ প্রকৃতি খণ্ড ৪৬/৮-৯)

তারপরে ব্রহ্মা ও বিষ্ণু তুষ্ট হয়ে তাঁর প্রতি শুভজনক আশীর্বাদ প্রয়োগ করলে ভগবান শঙ্কর পবিত্র ও সুস্নাত হয়ে তাদের উপদেশে ভক্তিযোগে পার্দ্য, অর্ঘ্য, আচমনীয়, নানা উপহার, পুষ্প, চন্দন, বিধিধ নৈবদ্য, ছাগ, মেষ, মহিষ ও গণ্ডাদি বলিদান, বস্ত্র, অলঙ্কার, মাল্য, পায়স, পিষ্টক, মধু, সুধা ও নানা সুপক্ব ফল দ্বারা মহাসমারোহে সেই মঙ্গল চণ্ডিকাদেবীর পূজা করেন।’ (ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ প্রকৃতি খণ্ড ৪৪/১৭)

এইবার দেখি বিষ্ণুপুরাণ কি বলছে;

বিষ্ণু পুরাণ–

ভগবতীর উদ্দেশ্যে ‘সুরা, মাংস, ভক্ষ্য ও ভোজ্য দ্বারা সদায় তুমি প্রসন্ন হয়ে মনুষ্যগণের অশেষ প্রার্থিত বিষয় প্রদান করিবে।’ (বিষ্ণুপুরাণ ৫/১/৮৬)

এইবার চলুন দেখি মহাপুরাণ ভাগবত কি বলে;

ভাগবত পুরাণ–

‘মহারাজ! আপনি অত্যন্ত বিচক্ষণ ব্যক্তি, সুতরাং এ কথা আপনার অজ্ঞাত নয় যে, যজ্ঞে দীক্ষিত হওয়ার পর কেবলমাত্র শাস্ত্র বিহিত যজ্ঞ পশু ভিন্ন অন্য কাউকে বধ করা উচিত নয়।’ (ভাগবত পুরাণ ৪র্থ স্কন্দ ১৯/২৭)

কর্মবিশেষে সুরার আঘ্রাণ আহার বলিয়া বিহিত, কিন্তু পান অবৈধ; এইরূপ দেব উদ্দেশ্যেই পশুবধ বৈধ বলিয়া উল্লেখিত, কিন্তু বৃথা হিংসার বিধি নাই।’ (ভাগবত পুরাণ একাদশ স্কন্দের পঞ্চম অধ্যায়ের দ্রষ্টব্য)

নারদ দেখিলেন ‘শ্রীকৃষ্ণ যদুশ্রেষ্ঠগণে বেষ্টিত হইয়া কোথাও বা সিন্ধুদেশীয় অশ্বে আরোহণ করিয়া মৃগয়া করিতে করিতে যজ্ঞিয় পশুসকল সংহার করতেছেন।’ (ভাগবত পুরাণ দশম স্কন্দ ৬৯/৩৫)

গরুড় পুরাণ কি বলছে ?

গরুড় পুরাণ :–

‘ওঁ জয় ত্বং কলভূতেশে ইত্যাদি মন্ত্রে সিংহবাহিনী মহিষমর্দিনী দেবীর বলিপ্রদান করিয়া পূজা সমাপন করিবে। (গরুড় পুরাণ পূর্ব খন্ড/৩৮/১৮)

কূর্ম পুরাণ কি বলছে ? 

কূর্মপুরাণ–

‘যজ্ঞের হতাবেশিষ্ট এই সকল প্রাণী মাংস ভক্ষণ করিতে পারে।’ (কূর্মপুরাণ উপরিভাগ ১৭/৪০)

বরাহপুরাণ কি বলছে ? 

বরাহপুরাণ–

বরাহরূপী বিষ্ণু বলছেন,

‘মৃগমাংস, ছাগমাংস ও শসমাংস আমার অতীব সুখজনক। অতএব এ সমস্তই আমাকে নিবেদন করিবে। বিস্তৃত যজ্ঞে ছাগ ও অন্যান্য পশু প্রদান করিয়া বেদপারদর্শী ব্রাহ্মণে সমর্পণ করিলে আমি তাহার অংশভাগী হইয়া থাকি।’ (বরাহপুরাণ ১২০তম অধ্যায়)

মহাভারতেও কিন্তু বলির প্রাধান্য আছে :-

শান্তনু রাজার সময়ে ‘তখন দেবতা, ঋষি ও পিতৃলোকের অর্চনার জন্যই প্রাণী বধ হইতো; কিন্তু অধর্ম অনুসারে কোন প্রাণীই বধ হইত না।’ (মহাভারত আদি পর্ব ৯৪/১৭)

হরিবংশ পুরাণ–

‘মহিষাদি যে সকল পশুর মাংস আমরা ব্যবহার করিয়া থাকি, সেই সকল পশু বলিদান করা যাক। এখন সমস্ত গোপসমাজ সমবেত হইয়া গিরিযজ্ঞের অনুষ্ঠানে প্রবৃত্ত হউন।’ (হরিবংশ পুরাণ)

‘সর্বদা মহিষরক্ত প্রিয়ে......... আপনাকে নমস্কার’ (মহাভারত ভীষ্মপর্ব ২৩/৮)

আমন্ত্রিতন্ত্রঃ যঃ শ্রাদ্ধে দৈবে বা মাংসসমুৎসৃজেৎ ।

যাবন্তি পশুরোমাণি ট্যাবতো নরকান্‌ ব্রজেৎ ।।

( কূর্মপুরাণ... উপরিভাগ...সপ্তদশ অধ্যায়... ৪১)

অর্থাৎ- যে ব্যাক্তি শ্রাদ্ধে নিমন্ত্রিত বা দৈবকর্মে নিযুক্ত হয়ে মাংস না খায়- সে ঐ পশুর শরীরে যত লোম আছে তত বছর নরক ভোগ করে।

লক্ষ্য করুন মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ণ বেদব্যাস ঋষি সঙ্কীর্ণমনা ছিলেন না। পুরাণে আমাদের মাংস খাবারও অধিকার দিয়ে গেছেন। 

অজগর যাকে গ্রাস করেছে সে যেমন অন্যকে রক্ষা করতে পারে না, তেমনি কাল, কর্ম ও ত্রিগুণের অধীন পাঞ্চভৌতিক এই দেহের পক্ষে অন্য কাউকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। ভগবানই সকলের উপযুক্ত জীবিকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। হাতযুক্ত মানুষ হাত নেই এমন প্রাণীদের খায়, পা যুক্ত পশুরা পা নেই এমন খাদ্য অর্থাৎ ঘাস-লতাপাতা খায়। এভাবে বড় প্রাণীরা ছোট প্রাণীদের হত্যা করে। জীবই জীবের জীবিকা - এই নিয়ম। এ জগৎ ভগবানই। তিনিই সর্বজীবের আত্মা, অথচ অদ্বিতীয়, ঐভাবে স্বপ্রকাশ। তিনিই অন্তরস্থ, তিনিই বহিঃস্থ। এক ঈশ্বরকে মায়া প্রভাবে দেব,মানুষ প্রভৃতি ভিন্ন ভিন্ন রূপে উপস্থিত দেখ।"

( শ্রীমদ্ভাগবত: প্রথম স্কন্ধ, ১৩ অধ্যায়, ৪৫-৪৯ নম্বর শ্লোক )

কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যাক। যে বিষয়গুলো মানুষের মনে সর্বদাই ঘুরপাক খায় তার সঠিক শাস্ত্রীয় উত্তর।

১। সনাতন ধর্মে কি পশুহিংসা বৈধ করা হয়েছে? উত্তর: হ্যাঁ।  ‘পিতৃকাৰ্য, দেবপূজা ও অতিথিসৎকারে পশুহিংসা করিতে পারিবে। মনু বলিয়াছেন; মধুপর্ক, য...

Popular Posts